মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য স্থল হামলার জন্য বিস্তৃত সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News। শনিবার (২১ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা ইরানে স্থল অভিযান পরিচালনার জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা চেয়েছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি—পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর পক্ষে নন। তবে একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গোপন রাখা হতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিকল্প সব পথই খোলা রাখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-এর নিয়মিত কাজ, যাতে প্রেসিডেন্টের সামনে একাধিক কৌশলগত বিকল্প থাকে। তবে পরিকল্পনা থাকা মানেই তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি অত্যন্ত বিস্তারিত। সম্ভাব্য স্থল হামলার ক্ষেত্রে ইরানি সেনা বা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের আটক করা হলে তাদের কীভাবে পরিচালনা করা হবে, কোথায় রাখা হবে—এসব বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মেরিন সেনা পাঠানো শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা পুরোপুরি ওই অঞ্চলে অবস্থান নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত বিশেষ 'শান্তি বোর্ড' (Peace Board) তীব্র অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এই সংকটের কারণে গাজা উপত্যকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন হাতে নিয়েছিল, তা কার্যত থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রয়টার্সের শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প গাজা নিয়ে যে বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, তার মূল চালিকাশক্তি ছিল এই শান্তি বোর্ড। তবে দাতাগোষ্ঠী এবং মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ অর্থ সহায়তা না পাওয়ায় বর্তমানে বোর্ডটি তহবিল সংকটে ভুগছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এবং অন্যান্য বৈশ্বিক অংশীদারদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বড় একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। মূলত গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কী—এমন রাজনৈতিক জটিলতার কারণে অনেক দেশই বড় অংকের বিনিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করছে। ট্রাম্পের এই 'গাজা পরিকল্পনা'র অন্যতম লক্ষ্য ছিল দ্রুত সময়ের মধ্যে গাজা উপত্যকায় আধুনিক আবাসন, ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং অবকাঠামো নির্মাণ করা। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তহবিলের অভাবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং প্রাথমিক কারিগরি কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত সমাধান চাইলেও আর্থিক বাস্তবতা এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তি বোর্ড যদি শিগগিরই বড় কোনো বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে না পারে, তবে গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা ওই অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এপ্রিলের এই সময়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার মাঝে গাজার এই পুনর্গঠন প্রকল্প ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে অর্থ ছাড় না হলে এই পরিকল্পনা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শাহবাজ শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গর্বের মুহূর্ত। এই তথ্য জানিয়েছে ডন। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, এই সংকটময় সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করে দুই দেশই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে আসতে রাজি হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান অত্যন্ত সতর্কতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে, যা যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়েছে। এ সময় উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর নেতৃত্বাধীন দলের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান) আসিম মুনির-এর অবদানও তুলে ধরেন, যিনি উত্তেজনা কমাতে এবং পক্ষগুলোকে আলোচনায় বসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যদিও আপাতত যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে না এবং দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হবে। উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল শনিবার ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে সেরেনা হোটেল-এ। এরই মধ্যে ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর নেতৃত্বে দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মেলানিয়া ট্রাম্প ও জেফ্রি এপস্টিনের কথিত ঘনিষ্ঠ একটি ছবিকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে ছবিটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শেয়ার করেছেন—এমন দাবিও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে দেশটি। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ওই ছবিটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নেটিজেন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ম্যাক্রোঁর স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে নিয়ে মন্তব্য করায় প্রতিশোধ হিসেবে ম্যাক্রোঁ এই ছবি প্রকাশ করেছেন। তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা ডিজিটালি বিকৃত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪ এক প্রতিবেদনে জানায়, ম্যাক্রোঁ নয়—কিছু ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভুয়া ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশরীয় সাংবাদিক নাবিল ওমরান প্রথমদিকে ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করেন, ‘ম্যাক্রোঁ প্রতিশোধ নিয়েছেন।’ পরে এই দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেও এক্স (সাবেক টুইটার)-এর একটি ব্যঙ্গাত্মক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটিকে ‘ডিজিটালি পরিবর্তিত’ বলে সতর্কবার্তাও যুক্ত করা হয়। এদিকে সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প জানান, জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি কখনো তার কোনো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ভুয়া তথ্য ও বিকৃত ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির প্রবণতা বাড়ছে, যা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।