বাংলাদেশ

একই সময়ে নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শামীম ওসমান, প্রবাসী মহলে চলছে নানা আলোচনা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৭:২৬
ছবি: নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শামীম ওসমান (সংগৃহীত)
ছবি: নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শামীম ওসমান (সংগৃহীত)

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একই সময়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের উপস্থিতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো বৈঠক বা যোগাযোগ হয়েছে—এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।  

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৫ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করে নিউইয়র্কে পৌঁছান জাতিসংঘের পঞ্চম United Nations Chiefs of Police Summit (UNCOPS-V)-এ অংশ নিতে। ৭ ও ৮ জুলাই জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশপ্রধান এবং জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠকের সূচি রয়েছে। সফরটি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।  

 

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে দেখা যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রবাসী বাংলা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

 

একই সময়ে দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিউইয়র্কে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও জল্পনা দেখা গেলেও, কোনো বৈঠক বা যোগাযোগের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিংবা শামীম ওসমানের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন বিএনপির শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে নিখোঁজ হওয়ার পর ভারতের মেঘালয়ে তাকে পাওয়া যায় এবং সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি বাংলাদেশে ফেরেন। এ বছরের সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র সফরটি সম্পূর্ণ সরকারি কর্মসূচির অংশ।  

 

অন্যদিকে, শামীম ওসমান ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়েও বাংলাদেশে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।  

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিউইয়র্কে অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। তবে এ মুহূর্তে তাদের মধ্যে কোনো সাক্ষাৎ বা যোগাযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় এ ধরনের দাবি বা জল্পনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে কেবল সমাপতন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
ছবি: নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শামীম ওসমান (সংগৃহীত)
একই সময়ে নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শামীম ওসমান, প্রবাসী মহলে চলছে নানা আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একই সময়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের উপস্থিতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো বৈঠক বা যোগাযোগ হয়েছে—এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।     সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৫ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করে নিউইয়র্কে পৌঁছান জাতিসংঘের পঞ্চম United Nations Chiefs of Police Summit (UNCOPS-V)-এ অংশ নিতে। ৭ ও ৮ জুলাই জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশপ্রধান এবং জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠকের সূচি রয়েছে। সফরটি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।     অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে দেখা যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রবাসী বাংলা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।   একই সময়ে দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিউইয়র্কে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও জল্পনা দেখা গেলেও, কোনো বৈঠক বা যোগাযোগের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিংবা শামীম ওসমানের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।     সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন বিএনপির শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে নিখোঁজ হওয়ার পর ভারতের মেঘালয়ে তাকে পাওয়া যায় এবং সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি বাংলাদেশে ফেরেন। এ বছরের সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র সফরটি সম্পূর্ণ সরকারি কর্মসূচির অংশ।     অন্যদিকে, শামীম ওসমান ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়েও বাংলাদেশে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।     রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিউইয়র্কে অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। তবে এ মুহূর্তে তাদের মধ্যে কোনো সাক্ষাৎ বা যোগাযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় এ ধরনের দাবি বা জল্পনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে কেবল সমাপতন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৭:২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে নিহত ১, টানা বৃষ্টিতে ঝুঁকি বাড়ছে

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে নিহত ১, টানা বৃষ্টিতে ঝুঁকি বাড়ছে

মায়ের ওপর ধ’র্ষণের অভিযোগ I ছবি: সংগৃহীত

মায়ের ওপর ধ’র্ষণের অভিযোগ, প্রতিশোধে যুবককে গলা কে’টে হ’ত্যা করলো ৪ ভাই

জুলাইয়ে আসছে না নতুন পে-স্কেলের গেজেট
জুলাইয়ে আসছে না নতুন পে-স্কেলের গেজেট

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) সংক্রান্ত গেজেট চলতি জুলাই মাসে প্রকাশ হচ্ছে না। যদিও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন কাঠামো কার্যকরের কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে যাচ্ছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং বিদ্যমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই গেজেট প্রকাশ করতে চায় সরকার। এসব কারণেই নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারি হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।   তবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই ধরা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   এদিকে গেজেট প্রকাশে দেরি হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কত হবে, কোন ধাপে বৃদ্ধি কার্যকর হবে, ভাতা কবে যুক্ত হবে কিংবা অবসর-সুবিধায় কী পরিবর্তন আসবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।   বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতা। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল চালুর সময় বেশিরভাগ কাজ হাতে-কলমে করা হলেও এখন সরকারি বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ সব আর্থিক কার্যক্রম ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, “আগের মতো হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ এখন আর নেই। একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর করলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের চাপ বাড়বে এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে।”   তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।   সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ তাদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়ন শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। ডিজিটাল ব্যবস্থায় ধাপে ধাপে এই সুবিধা সমন্বয়ের সুযোগ সীমিত থাকায় ভবিষ্যৎ প্রাপ্যতা নিয়ে তাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এ পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেক প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা হোক। এরপর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের আশঙ্কাও কমে আসবে।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি বর্তমানে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। তাই বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ৪:৫৩
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর I ছবি: সংগৃহীত

৫ জনের জাল ভিসা ধরা পড়তেই বিমানবন্দর থেকে উধাও বাকি ৭১ যাত্রী

TAREQ RAHMAN

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভাতা ও উপবৃত্তির আবেদন শুরু ১ আগস্ট, অনলাইনে করতে হবে আবেদন

ভাতা ও উপবৃত্তির আবেদন শুরু ১ আগস্ট, অনলাইনে করতে হবে আবেদন

একসঙ্গে কুরআনের হাফেজ হলেন ১০০ শিক্ষার্থী I ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েও একসঙ্গে কুরআনের হাফেজ হলেন ১০০ শিক্ষার্থী

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ডব্লিউআইএস) ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (জিআইএস) ‘হিফজ ও এ লেভেল সমাবর্তন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে এবার ১০০ জন শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআনের হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে ‘এ’ লেভেলে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা ৫ জন শিক্ষার্থীকেও এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা পদক, সনদ ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়।   প্রতিষ্ঠান দুটির দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী হিফজুল কুরআন বিভাগে অধ্যয়নরত। মূলত আধুনিক ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার সঙ্গে আদর্শ ইসলামিক শিক্ষার এক অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা একটি স্বতন্ত্র ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করে আসছে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল পর্বের সূচনা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা ইসলামিক নাশিদ, নাট্য পরিবেশনা, আবৃত্তি এবং দেশাত্মবোধক পরিবেশনার মাধ্যমে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করে, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।   এই জমকালো আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। তিনি তাঁর বক্তব্যে আধুনিক জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ার ওপর জোর দেন। সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ.এফ.এম. খালিদ হোসাইন।   তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে কুরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলনের মাধ্যমেই হিফজের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি হাফেজদের দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার দিকনির্দেশনা দেন।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নূরউদ্দীন অপু, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, পিয়ারসন এডএক্সেল এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ জোগান। তারা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে প্রতিষ্ঠান দুটির সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।   স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠান দুটির অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ জামান সহিহ হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে হাফেজে কুরআনের পিতা-মাতার পরকালীন মর্যাদার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাবর্তন কেবল শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সূচনা। সনদ ও পদক প্রদানকালে সন্তানদের এমন অভাবনীয় সাফল্যে অনেক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এই দিনটিকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন।   সবশেষে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল কাদের উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ভবিষ্যতে এই সমন্বিত ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১২:৫০
বাংলাদেশ থেকে সংগৃহীত

কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী, তিন সন্তান রেখে মুয়াজ্জিনের সাথে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

অভিযোক্ত মাদ্রাসা সুপারের ছবি আমেরিকা বাংলা

প্রতিবন্ধী শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসা সুপার গ্রেপ্তার

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসাথে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেওয়া তরুণী মা চাঁদনী বেগম ও তাঁর পরিবার | ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, চার নবজাতকের মৃত্যু

0 Comments