বাংলাদেশ

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েও একসঙ্গে কুরআনের হাফেজ হলেন ১০০ শিক্ষার্থী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১২:৫০
একসঙ্গে কুরআনের হাফেজ হলেন ১০০ শিক্ষার্থী I ছবি: সংগৃহীত
একসঙ্গে কুরআনের হাফেজ হলেন ১০০ শিক্ষার্থী I ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ডব্লিউআইএস) ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (জিআইএস) ‘হিফজ ও এ লেভেল সমাবর্তন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে এবার ১০০ জন শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআনের হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে ‘এ’ লেভেলে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা ৫ জন শিক্ষার্থীকেও এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা পদক, সনদ ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

 

প্রতিষ্ঠান দুটির দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী হিফজুল কুরআন বিভাগে অধ্যয়নরত। মূলত আধুনিক ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার সঙ্গে আদর্শ ইসলামিক শিক্ষার এক অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা একটি স্বতন্ত্র ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করে আসছে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল পর্বের সূচনা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা ইসলামিক নাশিদ, নাট্য পরিবেশনা, আবৃত্তি এবং দেশাত্মবোধক পরিবেশনার মাধ্যমে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করে, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

 

এই জমকালো আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। তিনি তাঁর বক্তব্যে আধুনিক জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ার ওপর জোর দেন। সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ.এফ.এম. খালিদ হোসাইন।

 

তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে কুরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলনের মাধ্যমেই হিফজের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি হাফেজদের দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার দিকনির্দেশনা দেন।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নূরউদ্দীন অপু, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, পিয়ারসন এডএক্সেল এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ জোগান। তারা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে প্রতিষ্ঠান দুটির সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠান দুটির অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ জামান সহিহ হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে হাফেজে কুরআনের পিতা-মাতার পরকালীন মর্যাদার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাবর্তন কেবল শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সূচনা। সনদ ও পদক প্রদানকালে সন্তানদের এমন অভাবনীয় সাফল্যে অনেক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এই দিনটিকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন।

 

সবশেষে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল কাদের উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ভবিষ্যতে এই সমন্বিত ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
১৮৫টি দেশে ভ্রমণের মাইলফলক অর্জন করেছেন বাংলাদেশি অভিযাত্রী নাজমুন নাহার। ছবি: সংগৃহীত
১৮৫ দেশে ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করলেন বাংলাদেশি অভিযাত্রী নাজমুন নাহার, গড়লেন অনন্য রেকর্ড

বাংলাদেশি অভিযাত্রী ও ভ্রমণকন্যা নাজমুন নাহার ১৮৫টি দেশ ভ্রমণের মাইলফলক অর্জন করেছেন। গত ৭ আগস্ট ভুটান সফরের মধ্য দিয়ে ১৮৫তম দেশে পা রাখেন তিনি। তার এই অর্জনকে বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ বছরের দীর্ঘ ভ্রমণযাত্রায় নাজমুন নাহার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা বহন ও উত্তোলন করেছেন। পাহাড়, দুর্গম পর্বত, মরুভূমি, সাগর, মহাসাগর, দ্বীপ এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাসহ ১ হাজার ২৯৪টিরও বেশি স্থানে তিনি বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন।   তার এই দীর্ঘ যাত্রা অবশ্য সবসময় সহজ ছিল না। দুর্গম সীমান্ত, দীর্ঘ সড়কপথ এবং নানা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে একক ভ্রমণ করেছেন তিনি। বিশেষ করে বিশ্বের স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর মধ্যে সড়কপথে ভ্রমণকে নিজের অভিযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেছেন নাজমুন। ২০০০ সালে ভারতের একটি আন্তর্জাতিক অ্যাডভেঞ্চার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তার বিশ্বভ্রমণের শুরু। এরপর ধীরে ধীরে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছুটে চলেছেন তিনি। ভ্রমণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরাকে নিজের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন নাজমুন।   ২০১৮ সালের ১ জুন জিম্বাবুয়ে সফরের মাধ্যমে ১০০টি দেশ ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এরপর ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে সফরে তার ভ্রমণ করা দেশের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫০-এ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভানুয়াতু সফরের মাধ্যমে তা ১৭৫-এ পৌঁছায়। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামাস সফরে ১৮৪টি দেশে ভ্রমণ সম্পন্ন করেন তিনি। সর্বশেষ ভুটান সফরের মাধ্যমে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫-তে।   বিশ্বভ্রমণের সময় নাজমুন নাহার শুধু পর্যটন বা ব্যক্তিগত অভিযাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও দেশের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। এ জন্য বিশ্বের শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি। তার ভ্রমণযাত্রার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শান্তি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শিশুবিবাহ বন্ধের বার্তাও। ‘যুদ্ধ নয়, শুধু শান্তি’, ‘পৃথিবীকে রক্ষা করুন’ এবং ‘শিশুবিবাহ বন্ধ করুন’ - এসব বার্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রচার চালিয়েছেন তিনি।   তরুণদের অনুপ্রেরণা দেওয়াও নাজমুন নাহারের কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক। সাহস, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, মানবিক মূল্যবোধ ও নিজের লক্ষ্য পূরণের দৃঢ়তা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কথা বলেছেন তিনি। টেডএক্সের মঞ্চেও বক্তব্য দিয়েছেন এই বাংলাদেশি অভিযাত্রী। ভ্রমণের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন নাজমুন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘সাফার ফর পিস’-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সহায়তা এবং শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।   দীর্ঘ ভ্রমণ ও মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ৭০টির বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন নাজমুন নাহার। এর মধ্যে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া ‘পিস টর্চ বেয়ারার অ্যাওয়ার্ড’ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠান থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে জাম্বিয়া সরকার তাকে ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ উপাধিতে সম্মানিত করে। ২০২৩ সালে সেন্ট লুসিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ জে পিয়েরে তাকে ‘ব্রেভ গার্ল’ উপাধিতে ভূষিত করেন।   নাজমুন নাহারের ১৮৪টি দেশ ভ্রমণের মাইলফলকও এর আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামাস সফরের মাধ্যমে ১৮৪টি দেশ ভ্রমণ সম্পন্ন করার পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাকে সম্মাননা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের পতাকা ১৮৪টি দেশে বহন করার জন্য তাকে ‘ফ্ল্যাগ লরিয়েট অব ন্যাশনাল প্রাইড’ উপাধিতে সম্মানিত করে।   নাজমুনের ভ্রমণযাত্রার বিশেষত্ব হলো, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা। ১৮৫টি দেশে পৌঁছানোর মাধ্যমে তার এই দীর্ঘ অভিযাত্রা বাংলাদেশের নাম ও পতাকাকে বিশ্বের আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরেছে।   ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮৫তম দেশের মাইলফলক অর্জনের পরও নাজমুন নাহারের ভ্রমণযাত্রা থেমে নেই। বিশ্বকে কাছ থেকে দেখা, বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরা এবং শান্তি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তার এই অভিযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২৩:৪১
অসহায় প্রবাসী জামাল। ছবি:সংগৃহীত

অসুস্থ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী, সেই সৌদি ফেরত জামাল মারা গেছেন

দুইদিন ধরে  হাঁটতে পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চু্প্পু

দুইদিন ধরে হাঁটতে পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চু্প্পু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান।ছবি: ঠিকানা নিউজের ভিডিও থেকে
‘খেলা নয়, এবার যুদ্ধ হবে’: শামীম ওসমান

দীর্ঘদিন প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান। নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় শেষে তিনি বলেছেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তির’ সঙ্গে এবার আর খেলা নয়, প্রয়োজনে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হবে।   ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় জনসম্মুখের বাইরে ছিলেন শামীম ওসমান। তবে গত জুলাইয়ে নিউইয়র্কে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার খবর আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও তার নিউইয়র্কে অবস্থান ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।    নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি রেস্তোরাঁয় যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঠিকানা নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামীম ওসমান দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়িত হবে। নেত্রী দেশে ফিরলে নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে ফিরবেন বলে জানান তিনি।   শামীম ওসমান বলেন, শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। নিজের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেত্রী ফিরলে অনুসারীরাও দেশে ফিরবেন।   এরপর বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের বহুল আলোচিত ‘খেলা হবে’ স্লোগানকেও নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।   তার ভাষায়, “খেলা হয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে।” বর্তমান পরিস্থিতিতে যাদের তিনি ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করছেন, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ‘খেলা’ নয়, ‘যুদ্ধ’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বিএনপিকে পুরোপুরি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বলতে রাজি নন বলেও জানান শামীম ওসমান। দলটির মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বিএনপি বর্তমানে ভুল রাজনৈতিক পথে এগোচ্ছে।   সাক্ষাৎকারে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ করেন শামীম ওসমান। তার দাবি, নারায়ণগঞ্জের চারটি স্থানে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ চলছে এবং এর মধ্যে দুটি মহিলা মাদ্রাসাও রয়েছে। কারা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং কী উদ্দেশ্যে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।   বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আঞ্চলিক শক্তিগুলো বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতসহ উপমহাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ দাবিগুলোর পক্ষে সাক্ষাৎকারে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেননি তিনি।   দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। এখন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পাবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই দাবির পক্ষে সাম্প্রতিক কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় জনমত জরিপের তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি।   শামীম ওসমানের এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে আবুল হাসান স্বজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনা, শামীম ওসমানসহ কয়েক ডজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছিল।    চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযোগ থাকা মানেই কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।    একসময় ‘খেলা হবে’ স্লোগানের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসা শামীম ওসমান এবার সেই স্লোগান থেকেই সরে এসে ‘যুদ্ধের’ ভাষা ব্যবহার করলেন। নিউইয়র্ক থেকে দেওয়া তার বক্তব্য একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বার্তা এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের প্রকাশ হিসেবেই সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৪:০
মির্জা ফখরুল ইসলাম ও আমানউল্লাহ আমান। ছবি:সংগৃহীত

“বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলামকে মিস করবো”—আমানউল্লাহ

মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নিলেন তারেক রহমান

মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নিলেন তারেক রহমান

গোলাম রুহানি ও বিপ্লব। ছবি:সংগৃহীত

চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান
ইসলামের ইতিহাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স! ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার পেলেন মারুফ

মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাতে ইতিহাস বিষয়ে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।   শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করে বিশ্বের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেয়েছেন মারুফ। নিজের একাডেমিক আগ্রহ, গবেষণার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাকে বেছে নেন তিনি।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মারুফের এই অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। কারণ প্রচলিত ধারণার বিপরীতে মানবিক বিষয়ে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সুযোগ রয়েছে।   স্নাতক পর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনার পর আরও বিস্তৃত পরিসরে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করার লক্ষ্য থেকেই মাস্টার্সে বিষয়টি বেছে নিয়েছেন মারুফ। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চায় অবদান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   মারুফের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। নিজের একাডেমিক আগ্রহ স্পষ্ট করা, গবেষণার সক্ষমতা তৈরি করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা এবং শক্তিশালী আবেদনপত্র প্রস্তুত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পাওয়ার পর নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাইলে সঠিক প্রস্তুতি, গবেষণামুখী মানসিকতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারেন।   মারুফ হাসানের সাফল্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৬:৫৪
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

সমালোচিত রাস্তার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী যাবেন তাই রং করা হয়েছিল একপাশ, অন্য পাশ মলিন থাকায় সমালোচনা

আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা

‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’ সৌদিতে আগুনে দুই ভাই নিহত

0 Comments