সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েও একসঙ্গে কুরআনের হাফেজ হলেন ১০০ শিক্ষার্থী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১২:৫০
একসঙ্গে কুরআনের হাফেজ হলেন ১০০ শিক্ষার্থী I ছবি: সংগৃহীত
একসঙ্গে কুরআনের হাফেজ হলেন ১০০ শিক্ষার্থী I ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ডব্লিউআইএস) ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (জিআইএস) ‘হিফজ ও এ লেভেল সমাবর্তন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে এবার ১০০ জন শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআনের হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে ‘এ’ লেভেলে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা ৫ জন শিক্ষার্থীকেও এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা পদক, সনদ ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

 

প্রতিষ্ঠান দুটির দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী হিফজুল কুরআন বিভাগে অধ্যয়নরত। মূলত আধুনিক ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার সঙ্গে আদর্শ ইসলামিক শিক্ষার এক অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা একটি স্বতন্ত্র ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করে আসছে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল পর্বের সূচনা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা ইসলামিক নাশিদ, নাট্য পরিবেশনা, আবৃত্তি এবং দেশাত্মবোধক পরিবেশনার মাধ্যমে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করে, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

 

এই জমকালো আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। তিনি তাঁর বক্তব্যে আধুনিক জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ার ওপর জোর দেন। সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ.এফ.এম. খালিদ হোসাইন।

 

তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে কুরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলনের মাধ্যমেই হিফজের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি হাফেজদের দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার দিকনির্দেশনা দেন।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নূরউদ্দীন অপু, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, পিয়ারসন এডএক্সেল এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ জোগান। তারা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে প্রতিষ্ঠান দুটির সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠান দুটির অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ জামান সহিহ হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে হাফেজে কুরআনের পিতা-মাতার পরকালীন মর্যাদার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাবর্তন কেবল শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সূচনা। সনদ ও পদক প্রদানকালে সন্তানদের এমন অভাবনীয় সাফল্যে অনেক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এই দিনটিকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন।

 

সবশেষে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল কাদের উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ভবিষ্যতে এই সমন্বিত ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
এবার অনলাইনে হবে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন! বন্ধ হবে গোপন বিয়ে ও বাল্যবিবাহ?
এবার অনলাইনে হবে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন! বন্ধ হবে গোপন বিয়ে ও বাল্যবিবাহ?

বাংলাদেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার, ৩ অক্টোবর রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। কর্মসূচির বিষয় ছিল অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের সফটওয়্যার ব্যবহারের নিয়ম।    আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজিটাল নিবন্ধন চালু হলে একজন ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা যাবে। একইভাবে তথ্য গোপন করে কেউ একাধিক বিয়ে করার চেষ্টা করলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে সেটিও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।   এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিবাহের তথ্যকে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা। ফলে একজন ব্যক্তির পরিচয় ও বৈবাহিক অবস্থার তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ আরও সহজ হবে।    আইনমন্ত্রী বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে আগে থেকেই বিবাহিত হিসেবে পাওয়া গেলে পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে অননুমোদিত বহুবিবাহ ও তথ্য গোপনের ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।    বাল্যবিবাহ ঠেকানোর ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত হলে বয়স যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে। ফলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।   তবে পুরো দেশজুড়ে ব্যবস্থা চালুর আগে নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর আগে আইন ও বিচার বিভাগের প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নির্বাচিত এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।    সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।    এর আগে সেপ্টেম্বরেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন তথ্যের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বাল্যবিবাহ এবং তথ্য গোপন করে অননুমোদিত বহুবিবাহের সুযোগ কমানো সম্ভব হবে।    তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলেই বাল্যবিবাহ বা বহুবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো দেওয়া হয়নি। এটি মূলত তথ্য যাচাই, নিবন্ধন ও নজরদারি আরও কার্যকর করার একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক তথ্য সংযোগ, সব নিকাহ রেজিস্ট্রারের অংশগ্রহণ এবং আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর।   সবকিছু ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বিয়ের তথ্য গোপন করা কঠিন হতে পারে এবং ভবিষ্যতে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থাও দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে বিয়ে নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতারণা ও কিছু ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৬:৫৩
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কূটনীতিক ত্রিশিতা মওলা

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ত্রিশিতা

বন্ধ মিটারে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে বিল ২৯ হাজার! বিপাকে গ্রাহক

বন্ধ মিটারে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে বিল ২৯ হাজার! বিপাকে গ্রাহক

মন্ত্রী-এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব আমাকে দিয়ে শুরু হোক

মন্ত্রী-এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব আমাকে দিয়ে শুরু হোক: হাসনাত আব্দুল্লাহ

বাংলাদেশে থেকে পড়তে আসা মাহফুজ আহমেদের এখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা
বাংলাদেশে থেকে পড়তে আসা মাহফুজ আহমেদের এখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসামাহফুজ আহমেদ গড়ে তুলেছেন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার বার্ষিক রাজস্ব এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। ভার্জিনিয়ার ম্যাকলিনভিত্তিক তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডেক্সিয়ানের ২০২৫ সালের রাজস্ব ছিল ১.১৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১১৪ কোটি ডলার। শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু করা জীবনের পর প্রযুক্তি খাতে চাকরি এবং সেখান থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার দীর্ঘ পথ পেরিয়েছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী।    ভার্জিনিয়া বিজনেসের ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭০টি স্থানে ডেক্সিয়ানের প্রায় ১২ হাজার কর্মী রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি কর্মী সরবরাহ, তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মী ব্যবস্থাপনা সেবা দেয়। তাদের গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে ফরচুন ৫০০ তালিকাভুক্ত দুই শতাধিক কোম্পানি।    মাহফুজের যুক্তরাষ্ট্রের জীবনের শুরু জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকার বাড়ি ছেড়ে তিনি এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসায় সেখানে পড়তে যান। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে কখনো চাকরি করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে তাঁর প্রথম কাজই পরবর্তী প্রযুক্তি পেশার ভিত্তি তৈরি করে। ১৯৯৩ সালে তিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হন।    স্নাতক হওয়ার পরের বছর, ১৯৯৪ সালে মাহফুজ প্রতিষ্ঠা করেন ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমস, সংক্ষেপে ডিসিস। এটিই পরে ডেক্সিয়ান নামে পরিচিত হয়। নর্থরপ গ্রুম্যানে পরামর্শক এবং মবিল অয়েলে জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যবসা গড়ে তোলেন।    নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ওয়াই টু কে বা ২০০০ সাল ঘিরে কম্পিউটারের তারিখসংক্রান্ত ত্রুটির আশঙ্কা প্রযুক্তি খাতে বাড়তি কাজের সুযোগ তৈরি করে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কম্পিউটার ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে শুরু করলে ডিসিস প্রথম বড় গ্রাহকদের পায়। ব্যবসার বিস্তারে এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।    ডেক্সিয়ানের বিবরণ অনুযায়ী, শুরু থেকেই ব্যবসার কৌশল ও উন্নয়নে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ সালে মারুফের সহপ্রতিষ্ঠিত একটি আইটি কর্মী সরবরাহ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরের বছর ডিসিসের সঙ্গে একীভূত হয়। তখন মারুফ আনুষ্ঠানিকভাবে অংশীদার ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।    এরপর সম্প্রসারণ ও অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বাড়ে। ২০২১ সালে ডিসিস ফ্লোরিডাভিত্তিক সিগনেচার কনসালট্যান্টস অধিগ্রহণ করে। দুই প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য অধিগ্রহণ করা ব্যবসার কার্যক্রম একত্র করে ২০২৩ সালে ডেক্সিয়ান ব্র্যান্ড চালু করা হয়।    একই বছরের ৬ জুলাই মারুফকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেয় ডেক্সিয়ান। এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ছিলেন। মাহফুজ প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব ছেড়ে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হন এবং প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত থাকেন।    ভার্জিনিয়া বিজনেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডেক্সিয়ানের রাজস্ব ছিল ১.১৫ বিলিয়ন ডলার। পরের বছরও তা এক বিলিয়ন ডলারের ওপরে থাকে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ওয়াশিংটন বিজনেস জার্নালের ওয়াশিংটন ডিসি অঞ্চলে অশ্বেতাঙ্গ মালিকানাধীন বৃহত্তম কোম্পানির তালিকায় প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষে ছিল।    ব্যবসার পাশাপাশি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রেখেছেন মাহফুজ। ২০২২ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জর্জ মেসনের কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটিংয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদানের অঙ্গীকার করা হয়। এই অর্থে ডিনস টেকনোলজি ইনোভেশন ফান্ড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় দুই ভাইয়ের সাফল্য ও অবদানকে সম্মান জানায়। সেই আয়োজনে তাঁদের ছাত্রজীবনের একটি স্মৃতিও জায়গা পায়। পড়াশোনার খরচ জোগাতে মারুফ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ পরিচর্যার কাজ করতেন। ফেনউইক লাইব্রেরির সামনের গার্বেজ বিন পরিষ্কার করাও ছিল তাঁর দায়িত্ব। ডাইনিং হলেও কাজ করেছেন তিনি।    বহু বছর পর দুই ভাই বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করেন, লাইব্রেরির কাছের একটি গার্বেজ বিন তাঁদের সম্মানে উৎসর্গ করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয় সেই অনুরোধ রাখে। হলুদ রঙের বিনটির পাশে বসানো হয় মারুফের বক্তব্যসংবলিত ফলক। যে ক্যাম্পাসে কাজ করে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছিলেন, সেখানেই তাঁদের ব্যবসায়িক সাফল্যের স্মারক হয়ে আছে ছাত্রজীবনের সেই কাজের স্মৃতি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ০:১৪
রোমানিয়ার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে দেশটির কনস্যুলার প্রতিনিধিদল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনে সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে রোমানিয়ার প্রতিনিধিদল

রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমান ঢাকায় পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের আকাশসীমা পেরিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রূপপুরের ইউরেনিয়ামবাহী বিমান

দন্ত চিকিৎসক ও ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ডা. ওরাকাতুল জান্নাত

শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রীভোগান্তি লাইভে তুলে ধরে ভাইরাল ডা. ওরাকাতুল জান্নাত

জমজমের পানি দিতে দেরি, বিমানের দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
জমজমের পানি দিতে দেরি, বিমানের দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরা ওমরাহযাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে দেরির ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান।   বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বিমানের বিজি ৩৩৮ ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছায়। যাত্রীদের অভিযোগ, বিমানবন্দরে নামার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাঁরা ট্যাগ লাগানো লাগেজ ও জমজমের পানি পাননি। ফ্লাইটে থাকা চার সংসদ সদস্য বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তাঁদেরসহ অন্য যাত্রীদের লাগেজ ও পানি দেওয়া হয়নি।    বিমানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জমজমের পানি বহনকারী কনটেইনার উড়োজাহাজ থেকে নামানো এবং পরবর্তী পরিচালনাপ্রক্রিয়ায় গাফিলতির কারণে তা সময়মতো ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছায়নি। এ ঘটনায় ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান ও ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে তাঁদের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।    বিমান জানিয়েছে, অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য প্রথমে নিজেদের সংরক্ষিত জমজমের পানি বিতরণ করা হয়। পরে কনটেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করে সেখানকার পানিও সরবরাহ করা হয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদারের কথা বলেছে সংস্থাটি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:১৬
সাইবার অপরাধ তদন্তে স্বতন্ত্র ইউনিট চালু,

সাইবার অপরাধ তদন্তে স্বতন্ত্র ইউনিট চালু, জনবল কাঠামোয় ৪ হাজার ৫৯২ পদ

ঢাকার মেট্রোরেল ছবি:সংগৃহীত

মেট্রোরেলের আট প্যাকেজে ৫৮ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার কাজ অনুমোদন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছবি:সংগৃহীত

আকাশসীমার জটিলতা কাটিয়ে আজ ঢাকায় আসছে রূপপুরের নতুন ইউরেনিয়াম চালান

0 Comments