আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত, ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১৪:৪৪
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

 

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার ওমান সাগরে ইরানি তেলবাহী প্যালাউ-ফ্ল্যাগযুক্ত জাহাজ এম/টি সেটেবেলো চলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন কক্ষে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে আগুন ধরে যায় এবং বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পরে তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বারবার নির্দেশ অমান্য করার কারণে ওই জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এ ধরনের হামলা বন্ধ হওয়া উচিত।” ঘটনার পর নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়।

 

এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

 

ভারতের শ্রমিক সংগঠনগুলো এবং রাজনৈতিক মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুতে সরকারকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

 

ভারতের সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস বলেছে, বিদেশি সামরিক অভিযানে ভারতীয় শ্রমিকদের মৃত্যুতে সরকারকে স্পষ্ট ও দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।

 

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের শেষ মুহূর্ত সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এক নাবিকের বাবা বলেন, তার সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

 

ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় সমুদ্র শ্রমিক সরবরাহকারী দেশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির তিন লাখেরও বেশি নাবিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জাহাজে কাজ করেন, যার বড় অংশই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলাচল করে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছে।

 

ভারতের বিরোধী দলগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।

 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারত কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবিঃ এ পি
ইসরাইলি বসতি এলাকার জমি বিক্রির অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি ১০০ ব্রিটিশ আইনপ্রণেতার

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি বিতর্কিত আবাসন প্রদর্শনী বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন দেশটির শতাধিক আইনপ্রণেতা। তাদের অভিযোগ, "গ্রেট ইসরায়েলি রিয়েল এস্টেট ইভেন্ট" নামের এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ইসরায়েলি বসতির জমি ও সম্পত্তি বিক্রির প্রচার করা হবে।   এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপারের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৬৫ জন সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্যরা স্বাক্ষর করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে নির্মিত এসব সম্পত্তি বিক্রি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।   এই যৌথ চিঠির মূল উদ্যোক্তা লেবার পার্টির সংসদ সদস্য অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার এবং ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অর্থবহ পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।   ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং পশ্চিম তীর ও গাজায় চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করার এখনই সময়। নীতিনির্ধারকদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ হিসেবে স্বীকৃত আবাসন প্রকল্পের বাণিজ্যিক প্রচার লন্ডনের মাটিতে হতে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   মানবাধিকার সংস্থা ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীও এই প্রদর্শনীর তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে এটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি, তবে আইনপ্রণেতাদের এই জোরালো অবস্থান ঋষি সুনাকের পরবর্তী লেবার সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১৫:৫৬
ছবিঃ লকহিড মার্টিন

ন্যাটো মিশন থেকে বিমান ও নৌবাহিনীর বড় অংশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের

ছবি: সংগৃহীত

স্কটল্যান্ডের নির্বাচনে ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনলাইন হস্তক্ষেপের অভিযোগ

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইরান যুদ্ধে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত, ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন

ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে মার্কিন কূটনীতিকের মৃত্যু, তদন্তে এক থাই নারী গ্রেপ্তাত

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তদন্তে এক থাই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।   মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে জানা যায়, ইয়াঙ্গুনে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত ওই অজ্ঞাত পরিচয়ের কূটনীতিককে দুই সপ্তাহ আগে সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল থেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।   স্থানীয় কূটনৈতিক মহলের কয়েকজন ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি দূতাবাসের কাছাকাছি অবস্থিত এবং এটি বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক অতিথিদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি আবাসিক হোটেল।   তারা আরও জানান, ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় থাই নাগরিক এক নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক নারীকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।   তবে এখনো পর্যন্ত নিহত মার্কিন কূটনীতিক এবং আটক নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১৩:৫৬
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাক করে এবার খোদ বিশ্বকাপ ফুটবলে হামলার হুমকি দিল ইরানের হ্যাকার গ্রুপ

ছবি: সংগৃহীত

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাম্প থেকে তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে ৪ মার্কিন বিমান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা

ছবি: সংগৃহীত
সীমান্ত হত্যা কমাতে দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের বৈঠক সম্পন্ন

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত হত্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা এবং অবৈধ, অসতর্ক ও জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার বন্ধের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে সমাপ্ত হওয়া চার দিনব্যাপী মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনে এসব বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আজ শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   নয়াদিল্লির বিএসএফ সদর দপ্তরে গত ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই ৫৭তম দ্বিবার্ষিক ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধি দলের পক্ষে মূল নেতৃত্বে ছিলেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বিএসএফ জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও অন্যান্য চোরাচালান রোধসহ মানব পাচার এবং অবৈধ সীমান্ত পারাপারের মতো সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেছে।   এ ছাড়া দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ এবং সীমান্ত এলাকার উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর—উভয় দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২২১৬ কিলোমিটার) অংশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দেশই সীমান্তে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে তাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দুই পক্ষই সমন্বিত যৌথ টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি, রিয়েল-টাইম (তাৎক্ষণিক) তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রচেষ্টা আরও গতিশীল করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা ও আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সীমান্ত এলাকার জনগণকে সচেতন করতে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেয় উভয় পক্ষ।   বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে সামগ্রিক বৈঠকটিকে অত্যন্ত আন্তরিক, ইতিবাচক এবং দূরদর্শী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সম্মেলন শেষে সব সিদ্ধান্ত সন্তোষজনক হলেও, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। আলোচনার চূড়ান্ত দিনে যৌথ কার্যবিবরণী স্বাক্ষরের পর ঐতিহ্যগতভাবে দুই বাহিনীর মহাপরিচালকদের যে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে, তা এবার কোনো অজ্ঞাত কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী নভেম্বর মাসে এই দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত সম্মেলনের পরবর্তী পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার জন্য ভারতীয় বিএসএফ প্রতিনিধি দলটি ঢাকা সফর করবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৫:৮
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূলের ১৯ সাংসদের দল ছাড়ার আভাসে বড় সংকটে মমতা

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ শেষের দাবি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

সামরিক ড্রোন পাঠানোর দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

0 Comments