আন্তর্জাতিক

একই দিনে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দুই কৌশলগত বোমারু বিমান, বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১১:২
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

বিশ্বের দুই শীর্ষ সামরিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জন্য সোমবার (১৫ জুন) ছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার দিন। এদিন সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ঘটনায় দেশ দুটি তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী কৌশলগত বোমারু বিমান হারিয়েছে।

 

যদিও দেশ দুটির এই দুর্ঘটনার মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগসূত্র নেই, তবে একই দিনে পরাশক্তিদ্বয়ের এমন অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় আন্তর্জাতিক সামরিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানটি ভূপাতিত হয়।

 

আছড়ে পড়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বিমানে থাকা আটজন আরোহীর কেউই প্রাণে বাঁচতে পারেননি।

 

অন্যদিকে, ঠিক একই দিনে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত ইরকুতস্ক এলাকায় রুশ বাহিনীর একটি টু-২২এম৩ কৌশলগত বোমারু বিমান আকাশ থেকে বিধ্বস্ত হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইট ছিল।

 

তবে মার্কিন দুর্ঘটনার মতো এখানে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বিমানটিতে থাকা চার সদস্যের ক্রু দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে নিরাপদে ইজেক্ট করতে বা প্যারাসুটের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

 

রুশ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়াকেই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। মস্কো আরও নিশ্চিত করেছে যে, উড্ডয়নরত অবস্থায় বিধ্বস্ত হওয়া ওই বিমানটিতে কোনো ধরনের যুদ্ধাস্ত্র ছিল না।

 

সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিকোণ থেকে, একই দিনে বিশ্বের প্রধান দুই সামরিক শক্তির এমন কৌশলগত বোমারু বিমান হারানো অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে এমন ঘটনা সম্পূর্ণ কাকতালীয় হলেও, এটি বিশ্বজুড়ে সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ | ছবি: সংগৃহীত
‘নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে যান’, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফর এবং কলকাতার রেড রোডে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চরম বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন রাজ্যটির শীর্ষ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রেড রোডে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে চলে যান।" তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গসহ পুরো ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।   আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার মূল অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কলকাতার রেড রোডের এই বিশেষ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। যোগ দিবসের এই বৃহৎ প্রস্তুতি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে রেড রোড টানা সাত দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। গত রবিবার রাত ১০টা থেকে আগামী ২১ জুন (রবিবার) পর্যন্ত এই রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল স্থগিত থাকবে এবং ইতিমধ্যে সেখানে মঞ্চ তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।   সপ্তাহজুড়ে এই ভিভিআইপি কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জবাব দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসলে সব রাস্তাই বন্ধ থাকে, তিনি যেখানেই যাবেন সেখানেই বন্ধ হবে। যেখানে যান চলাচল তুলনামূলক কম (রেড রোড), সেখানেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অন্য কোনো রাস্তায় করলে আরও বেশি সমস্যা হতো।   তবে মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ঈদের নামাজের জন্য রেড রোড ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আসে। বিষয়টি উঠতেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত উগ্র মনোভাব ব্যক্ত করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "ওনারা কোন হরি-দাস-পাল যে তাদের জন্য রাস্তা আটকাতে হবে? প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়—এটা ঠিকই আছে। প্রধানমন্ত্রী বছরে একবারই আসছেন।"   বিজেপির এই প্রবীণ নেতা আরও যোগ করে বলেন, "১০৭ বছর ধরে তো (নামাজ) চলেছে, এখন একবার বন্ধ করে দেওয়াতে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? যান বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যান, সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না। এখানে এসব আর চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে। এগুলো বন্ধ করার জন্যই লোকে সরকার পাল্টেছে। আর এগুলো বন্ধ হবেই।" পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পর এই ধরনের ধর্মীয় আচার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়ে তার দেওয়া এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১১:৫৪
ছবি: ফাইল ফটো

ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি: সংগৃহীত

২ বছরে ৬৩ হাজার শিক্ষার্থীকে ভুল রেজাল্ট দেওয়ায় IELTS কর্তৃপক্ষকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে 'কাকরোচ জনতা পার্টি'

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
একই দিনে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দুই কৌশলগত বোমারু বিমান, বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

বিশ্বের দুই শীর্ষ সামরিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জন্য সোমবার (১৫ জুন) ছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার দিন। এদিন সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ঘটনায় দেশ দুটি তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী কৌশলগত বোমারু বিমান হারিয়েছে।   যদিও দেশ দুটির এই দুর্ঘটনার মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগসূত্র নেই, তবে একই দিনে পরাশক্তিদ্বয়ের এমন অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় আন্তর্জাতিক সামরিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানটি ভূপাতিত হয়।   আছড়ে পড়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বিমানে থাকা আটজন আরোহীর কেউই প্রাণে বাঁচতে পারেননি।   অন্যদিকে, ঠিক একই দিনে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত ইরকুতস্ক এলাকায় রুশ বাহিনীর একটি টু-২২এম৩ কৌশলগত বোমারু বিমান আকাশ থেকে বিধ্বস্ত হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইট ছিল।   তবে মার্কিন দুর্ঘটনার মতো এখানে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বিমানটিতে থাকা চার সদস্যের ক্রু দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে নিরাপদে ইজেক্ট করতে বা প্যারাসুটের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।   রুশ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়াকেই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। মস্কো আরও নিশ্চিত করেছে যে, উড্ডয়নরত অবস্থায় বিধ্বস্ত হওয়া ওই বিমানটিতে কোনো ধরনের যুদ্ধাস্ত্র ছিল না।   সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিকোণ থেকে, একই দিনে বিশ্বের প্রধান দুই সামরিক শক্তির এমন কৌশলগত বোমারু বিমান হারানো অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে এমন ঘটনা সম্পূর্ণ কাকতালীয় হলেও, এটি বিশ্বজুড়ে সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১১:২
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কায় ভারতে সাময়িকভাবে টেলিগ্রাম ব্লক

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে মুসলিম নারীদের টার্গেট করে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অশ্লীল কনটেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

নিখোঁজ ছেলের খোঁজে ৫০ বছর লড়াই করা আর্জেন্টিনার মানবাধিকার কর্মী তাতি আলমেইদার মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
ইতালির কাছে দেশের বড় ব্যাংক বিক্রি করবে না জার্মানি

ইতালীয় ব্যাংক ইউনিক্রেডিটের পক্ষ থেকে জার্মানির কমার্সব্যাংক কিনে নেওয়ার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মান সরকার। মঙ্গলবার জার্মানির অর্থ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ইউনিক্রেডিটের দেওয়া প্রস্তাবিত মূল্য অত্যন্ত কম এবং তাদের শেয়ার কেনার আগ্রাসী পদ্ধতি নিয়ে বার্লিনের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। কমার্সব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য দুই ব্যাংকের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা লড়াইয়ের পর অবশেষে জার্মানি এই চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল। এর ফলে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাংক স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমর্থন পেল।   ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে জার্মানির সরকারের কাছে কমার্সব্যাংকের প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে। শুরু থেকেই জার্মান সরকার ইউনিক্রেডিটের এই একীভূতকরণের বা জোরপূর্বক ব্যাংক ক্রয়ের প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। জার্মানির অর্থ সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইউনিক্রেডিটের এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তারা কমার্সব্যাংকের বর্তমান শেয়ার বাজারের মূল্যের ওপর উপযুক্ত বা আকর্ষণীয় কোনো প্রিমিয়াম বা বাড়তি মূল্য দেওয়ার প্রস্তাব করেনি।   জার্মান সরকারের এই ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা তাদের কমার্সব্যাংকের সুপারভাইজরি বোর্ডে একাধিক আসন নিশ্চিত করে, যা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। অর্থ সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, তারা কমার্সব্যাংকের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার পক্ষেই সম্পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। জার্মানির মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা 'মিতেলস্ট্যান্ড' কোম্পানিগুলোর অর্থায়নে এবং দেশটির প্রধান আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কমার্সব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।   এরই মধ্যে কমার্সব্যাংকের কর্মীদের একটি পরিষদের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতে ফ্রাঙ্কফুর্টের সরকারি আইনজীবীরা বাজার কারসাজির একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। ইউনিক্রেডিট কর্তৃক বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে কমার্সব্যাংকের শেয়ার কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত রোববার এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। ইউনিক্রেডিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা এই তদন্তের বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছে। আইনি জটিলতার এই পরিস্থিতির মধ্যে ইউনিক্রেডিট এবং কমার্সব্যাংকের শেয়ারের মূল্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।   মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর কমার্সব্যাংকের শেয়ারের দাম ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে কমার্সব্যাংকের শেয়ার ৩৬.৫৩ ইউরোতে লেনদেন হচ্ছে, অন্যদিকে ইউনিক্রেডিটের শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৬.৯৭ ইউরোতে। ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাব অনুযায়ী, কমার্সব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ইউনিক্রেডিটের ০.৪৮৫টি নতুন শেয়ার দেওয়ার কথা, যা হিসাব করলে কমার্সব্যাংকের প্রতি শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৩৭.৩৩ ইউরো। শেয়ারের এই ওঠানামার কারণে ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাবটি বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশ অনাকর্ষণীয় হয়ে পড়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:২৬
ফাইল ছবি

ফ্রান্সসহ ইউরোপে নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

রশি ছাড়াই পাহাড়ে চড়তে গিয়ে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যানের’ মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই: ২৫ বছর বয়সী তরুণের মৃত্যুতে উঠে এলো নীরব এক সংকট

0 Comments