সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ভারতে এবার ‘জেন আলফার’ আন্দোলন

Unknown প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২৩:৪৩
ভারতে ‘জেন আলফার’ আন্দোলন
ভারতে ‘জেন আলফার’ আন্দোলন

ভারতের বিহার রাজ্যের একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার দাবিতে প্রায় ৪ কিলোমিটার হেঁটে মহকুমা প্রশাসকের (এসডিএম) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে। ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয় ছেড়ে প্রশাসনিক কার্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই একে ‘জেন আলফার আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিহারের গয়া জেলার টিকারি মহকুমার সিমুয়ারা মিডল স্কুলের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে টিকারি সাব-ডিভিশনাল অফিসে যান। পরে তারা এসডিএম কার্যালয়ের সামনে বসে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দাবি জানান। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, টয়লেট অস্বাস্থ্যকর, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত ফ্যান ও বিদ্যুৎ সুবিধার অভাব রয়েছে। এছাড়া মিড-ডে মিলের নিম্নমান, সময়মতো স্কুল ইউনিফর্ম না পাওয়া এবং পাঠদানের অনুকূল পরিবেশের অভাব নিয়েও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে।

ঘটনার পর টিকারির এসডিএম প্রবীণ কুন্দন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে সহকারী জেলা সরবরাহ কর্মকর্তা চন্দন কুমার, নির্বাহী কর্মকর্তা রণজিৎ সিং এবং ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা যোগেন্দ্র পাসওয়ানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় এসডিএম মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি ফিরে এসে তিনজন ছাত্রীসহ ছয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কথা বলেন। এরপর প্রধান শিক্ষককে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করা হয়।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তার এক দিনের বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের বিভিন্ন ঘটনা সামনে এসেছে। এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেখা গেলেও, বিদ্যালয়ের মৌলিক সুযোগ-সুবিধার দাবিতে স্কুল থেকে হেঁটে প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভের এ ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ভারতের পাঞ্জাবে হিন্দু ধর্মীয় গুরুকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত
ধর্মগুরুকে ফাঁসাতে তোশকের নিচে মাদক রাখলেন পুলিশ কর্মকর্তা, ক্যামেরায় ধরা পড়ে বরখাস্ত

ভারতের পাঞ্জাবে এক হিন্দু ধর্মীয় গুরুকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়ির বিছানার তোশকের নিচে হেরোইন রাখার অভিযোগে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা সুখদেব সিং। ঘরের ভেতরে থাকা গোপন ক্যামেরার ফুটেজে তাঁকে তল্লাশির আগে তোশকের নিচে একটি প্যাকেট রাখতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। পরে পুলিশ একই স্থান থেকে প্রায় ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের দাবি করে ধর্মীয় গুরু মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে গ্রেপ্তার করেছিল। ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে বিশেষ তদন্ত দলও গঠন করেছে পুলিশ।   সোমবার (২ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার খান্না শহরে। অভিযুক্ত সুখদেব সিং খান্না পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখায় সহকারী উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার ধর্মীয় গুরু মহন্ত কাশ্মীর গিরির বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ সাজানোর অভিযোগ ওঠে। পরদিন রোববার রাতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। খান্নার সিনিয়র পুলিশ সুপার ড. দর্পণ আহলুওয়ালিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত মহন্ত কাশ্মীর গিরির গাড়িচালক গুরজন্ত সিং ওরফে জান্তাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। পুলিশের দাবি, গুরজন্তের কাছ থেকে সাড়ে সাত গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় মহন্ত কাশ্মীর গিরির নাম উঠে আসে বলে জানায় পুলিশ। এই তথ্যের ভিত্তিতে খান্না সদর থানায় নথিভুক্ত মামলার তদন্তে মহন্তের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের আনুষ্ঠানিক তল্লাশি দল পৌঁছানোর আগেই সাদা পোশাকে মহন্তের বাড়িতে প্রবেশ করেন এএসআই সুখদেব সিং। তিনি বাড়ির একটি কক্ষে গিয়ে বিছানার তোশকের নিচে একটি প্যাকেট রেখে বেরিয়ে আসেন। তবে ওই কক্ষে একটি গোপন ক্যামেরা বসানো ছিল। সেখানে তাঁর প্রবেশ এবং তোশকের নিচে কিছু রাখার দৃশ্য ধারণ হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   এর কিছুক্ষণ পর মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে আসে পুলিশের একটি দল। ওই দলে ছিলেন খান্না সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজয়পাল সিং, সিটি-২ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারবিন্দর কুমার বেদি এবং অন্য পুলিশ সদস্যরা। তল্লাশির সময় বিছানার তোশক সরিয়ে সেখান থেকে একটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ দাবি করে, প্যাকেটটিতে প্রায় ৩০ গ্রাম হেরোইন রয়েছে। এই উদ্ধারের ভিত্তিতে মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।   তবে পুলিশের এই অভিযানের পরই ঘটনায় নতুন মোড় আসে। মহন্তের বাড়ির গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের তল্লাশির আগে সাদা পোশাকের এক ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে তোশকের নিচে একটি প্যাকেট রাখছেন। পরে ঠিক সেই স্থান থেকেই মাদক উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ। এই দৃশ্য সামনে আসায় উদ্ধার করা মাদকের উৎস এবং তল্লাশির স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় ভিডিও ফুটেজটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ঘটনায় পুলিশের এক সদস্যের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে সংশ্লিষ্ট মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন সিনিয়র পুলিশ সুপার দর্পণ আহলুওয়ালিয়া। একই সঙ্গে অভিযুক্ত এএসআই সুখদেব সিংয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।   দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সিনিয়র পুলিশ সুপার দর্পণ আহলুওয়ালিয়া নিশ্চিত করেছেন, এএসআই সুখদেব সিংকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তে শুধু সুখদেব সিংয়ের ভূমিকা নয়, তল্লাশিতে অংশ নেওয়া অন্য পুলিশ সদস্যদের সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হবে।   এই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে গোপন ক্যামেরার ফুটেজ এবং পুলিশের মাদক উদ্ধারের দাবি। ভিডিওতে একটি প্যাকেট রাখতে দেখা যাওয়ার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও সেটিতে কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পরে পুলিশ যে প্যাকেট থেকে হেরোইন উদ্ধারের দাবি করেছে, সেটির সঙ্গে ভিডিওতে দেখা প্যাকেটের সম্পর্কও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। ফলে অভিযোগের সত্যতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ তদন্ত দলের অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ।   এদিকে ঘটনাটি নিয়ে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিরোমণি আকালি দলের নেতা সুখবীর সিং বাদল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, একজন নাগরিককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর জন্য পুলিশের সদস্যের এমন কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে পাঞ্জাবের ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।   অন্যদিকে পাঞ্জাব সরকারের মন্ত্রী বরিন্দর কুমার গোয়েল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও পুলিশ প্রশাসন তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণের কথা জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিশেষ তদন্ত দলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।   মহন্ত কাশ্মীর গিরি পাঞ্জাবের শিবসেনার একটি অংশের সঙ্গে যুক্ত একজন স্থানীয় নেতা। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মাদক, প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে আগের মামলাগুলো বর্তমান ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করে না। একইভাবে বর্তমান মাদক মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অর্থ তাঁর বিরুদ্ধে অতীতের সব অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া নয়।   এদিকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা সুখদেব সিংয়ের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তাঁর ফৌজদারি অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সাময়িক বরখাস্ত মূলত প্রশাসনিক ব্যবস্থা। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী বিভাগীয় কিংবা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।   পাঞ্জাবের খান্নায় এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে ঘরের ভেতরে থাকা গোপন ক্যামেরার ফুটেজ। পুলিশের তল্লাশির আগেই একজন কর্মকর্তাকে তোশকের নিচে প্যাকেট রাখতে দেখা যাওয়ার অভিযোগে মাদক উদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এখন বিশেষ তদন্ত দলের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হতে পারে, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল এবং এতে অন্য কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত ছিলেন কি না।   সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৭:১২
স্বামী হারানো বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসিত হয়েছেন সিলেটি বংশোদ্ভূত সাহেদা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ, পুরস্কারের জন্য মনোনীত সিলেটি সাহেদা

লন্ডনে পড়াশোনার কথা বলে ভারতে ফিরে আসার পর পুনেতে মুগ্ধা দেশমুখের মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে পড়তে গিয়ে গোপনে দেশে ফেরেন তরুণী, ভাড়া বাসায় মিলল মরদেহ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বর্ণের দরপতনে গয়না ও কয়েন কেনার আগ্রহ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে স্বর্ণের দাম কমতেই কেনাকাটার হিড়িক, গয়না ও কয়েনে বাড়ছে আগ্রহ

২০২৭ সালের জন্য রেকর্ড ৬১৪.৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগের রেকর্ড! দক্ষিণ কোরিয়ার ৬১৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে ২০২৭ সালের জন্য রেকর্ড ৬১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সোমবার (২ নভেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং পার্লামেন্টে এই বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামরিক স্বনির্ভরতা অর্জনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেট চলতি বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছেন, ভবিষ্যতের শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার সক্ষমতা শক্তিশালী করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সমাজের বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছে দেওয়াও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।   প্রস্তাবিত বাজেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ডেটা সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রকল্পে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পকে এগিয়ে নিতে চায় সিউল। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এই খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।   প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি তরুণ জনগোষ্ঠী, নতুন শিল্প এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য ১২১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফিউচার রেসপন্স ফান্ড নামে এই তহবিলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নতুন শিল্প খাতের উন্নয়নে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রতিরক্ষা খাতেও উল্লেখযোগ্য ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী বছরের জন্য প্রতিরক্ষা বাজেট ৮ দশমিক ২ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৫৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট লি জানিয়েছেন, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভরতা অর্জন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।   দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য কোরিয়া হেরাল্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট লি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ও কেএফ-২১ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সামরিক ব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন সামরিক অভিযানের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দ্রুত দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।   বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুদ্ধকালীন অপারেশনাল কন্ট্রোল হস্তান্তরের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। নতুন বাজেট প্রস্তাবের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা সামনে এনেছে।   অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও দক্ষিণ কোরিয়া ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব কোরিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তবে রেকর্ড বাজেট প্রস্তাব নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধিতাও দেখা দিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির আইনপ্রণেতারা সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের ফলে জাতীয় ঋণের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।   বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেও প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, আগামী ২ ডিসেম্বরের মধ্যে পার্লামেন্টে বাজেট অনুমোদনের সময়সীমা রয়েছে।   প্রস্তাবিত বাজেট এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। পার্লামেন্টে আলোচনার পর বরাদ্দের পরিমাণ ও বিভিন্ন খাতের ব্যয়ে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সরকারের প্রস্তাব থেকে স্পষ্ট, আগামী অর্থবছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৪:১৯
দূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধের প্রথম দিনে দিল্লিতে ১,৫৩৯টি যানবাহনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে দূষণ রোধে গাড়ি প্রবেশে বিধিনিষেধ, একদিনেই ৬৮ লাখ রুপি জরিমানা

ব্রিটেনের অভিবাসন নিয়মে বড় পরিবর্তন

ব্রিটেনের অভিবাসন নিয়মে বড় পরিবর্তনঃ স্পনসর লাইসেন্স ও শিক্ষার্থীদের অর্থের শর্তে নতুন নির্দেশনা

পুরস্কার নিতে যাওয়ার সময় স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় কেমব্রিজের বিজ্ঞানী ড. শাহবাজি নিহত

পুরস্কার নিতে যাওয়ার সময় স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় কেমব্রিজের বিজ্ঞানী ড. শাহবাজি নিহত

১৮৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাপানের ইয়ামাগুচি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন রিওইচি মিতা
বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, ইসলাম গ্রহণ করে জাপানি ভাষায় কুরআন অনুবাদ কিরে ইতিহাস গড়েন উমর মিতা

জাপানে ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘদিন আরবি ভাষা ও কুরআন অধ্যয়ন করে ৮০ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনের জাপানি অনুবাদ প্রকাশ করেন উমর মিতা। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত তাঁর অনুবাদটি ছিল একজন জাপানি মুসলিমের করা প্রথম পূর্ণাঙ্গ কুরআন অনুবাদ। বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম নেওয়া রিওইচি মিতা পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করে উমর মিতা নাম ধারণ করেন। জাপানে ইসলামের ইতিহাসে তাঁর এই কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।   ১৮৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাপানের ইয়ামাগুচি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন রিওইচি মিতা। তাঁর পরিবার ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং সামুরাই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। শৈশব থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। ১৯১৬ সালে ইয়ামাগুচি কমার্শিয়াল কলেজ থেকে শিক্ষা শেষ করেন। শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে চীনে যান মিতা। সেখানে রেলওয়ে খাতে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। চীনে অবস্থানকালেই মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, ধর্মীয় অনুশীলন ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে এই আগ্রহ তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে উৎসাহিত করে।   চীনে মুসলিমদের সঙ্গে মেলামেশার অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে। তিনি ইসলামের ইতিহাস, ধর্মীয় শিক্ষা এবং মুসলিম সমাজ সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯২০ সালে জাপানের একটি সাময়িকীতে চীনের ইসলাম নিয়ে একটি প্রবন্ধও লেখেন। ইসলাম সম্পর্কে তাঁর প্রাথমিক অনুসন্ধানের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে এই লেখার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও বাড়ে জাপানি মুসলিম ওমর ইয়ামাওকার জীবন ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর। ইয়ামাওকা ১৯০৯ সালে হজ পালনকারী প্রথম দিকের জাপানি মুসলিমদের একজন হিসেবে পরিচিত। তাঁর অভিজ্ঞতা ও লেখালেখি জাপানে ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   দীর্ঘ সময় ইসলাম নিয়ে অধ্যয়ন ও অনুসন্ধানের পর ১৯৪১ সালে চীনের বেইজিংয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন রিওইচি মিতা। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৮ বছর। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি উমর মিতা নাম ধারণ করেন। জীবনের এই পরিবর্তনের পর ইসলামের শিক্ষা ও ধর্মীয় সাহিত্য নিয়ে তাঁর কাজ আরও বিস্তৃত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে ফিরে তিনি মুসলিম সমাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাপান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন বলে তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।   এ সময় তাঁর সামনে বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন। কুরআনের মূল বক্তব্য যথাযথভাবে বোঝার জন্য তিনি বয়সের বাধা উপেক্ষা করে আরবি শেখার উদ্যোগ নেন। ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সফর করেন এবং ১৯৫৮ সালে পবিত্র হজ পালন করেন। পাকিস্তান ও সৌদি আরবে অবস্থানকালে আরবি ভাষা এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার সুযোগ পান। জাপানে এর আগেও পবিত্র কুরআনের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯২০, ১৯৩৭ ও ১৯৫০ সালে বিভিন্ন অনুবাদ প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। ১৯৫৭ সালে জাপানি পণ্ডিত তোশিহিকো ইজুৎসু আরবি থেকে সরাসরি কুরআনের জাপানি অনুবাদ প্রকাশ করেন। তবে এসব অনুবাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মুসলিম ছিলেন না। ফলে একজন জাপানি মুসলিম হিসেবে উমর মিতার অনুবাদ উদ্যোগ বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব পায়। ১৯৬০ সালের দিকে তিনি কুরআন অনুবাদের কাজে নিবিড়ভাবে মনোযোগ দেন। অনুবাদের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ছিল সাধারণ জাপানি পাঠকের কাছে কুরআনের বক্তব্য সহজবোধ্য করে তোলা। এজন্য শব্দ নির্বাচন, বাক্যগঠন এবং ধর্মীয় পরিভাষার ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন।   জাপানি ভাষায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবযুক্ত অনেক শব্দ প্রচলিত থাকলেও কুরআনের ধর্মীয় ধারণা প্রকাশের ক্ষেত্রে সেগুলোর ব্যবহার নিয়ে তিনি সতর্ক ছিলেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ ও পরিচিত জাপানি শব্দ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল অনুবাদের মাধ্যমে ইসলামের মূল বক্তব্য পাঠকের কাছে যথাসম্ভব স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। দীর্ঘ অধ্যবসায়ের পর ১৯৬৮ সালে অনুবাদের পাণ্ডুলিপির কাজ শেষ করেন তিনি। তবে সেখানেই থেমে যাননি। অনুবাদের যথার্থতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী সময়ে পাণ্ডুলিপি সংশোধন ও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেন। ১৯৭০ সালে সংশোধিত পাণ্ডুলিপি মক্কাভিত্তিক মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের কাছে জমা দেওয়া হয়। সেখানে ইসলামি পণ্ডিতদের মাধ্যমে অনুবাদটি পর্যালোচনা করা হয় বলে তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। অবশেষে ১৯৭২ সালে তাঁর অনূদিত পবিত্র কুরআনের জাপানি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। তখন তাঁর বয়স প্রায় ৮০ বছর। অনুবাদ শুরু থেকে প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় ১২ বছরের প্রচেষ্টায় তিনি এমন একটি কাজ সম্পন্ন করেন, যা জাপানি মুসলিমদের ধর্মীয় সাহিত্যচর্চার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়।   এই অনুবাদের মাধ্যমে জাপানি ভাষাভাষী মুসলিম পাঠকদের জন্য একজন স্বদেশি মুসলিম অনুবাদকের কাজ থেকে কুরআনের অর্থ বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে জাপানে ইসলামি সাহিত্য অনুবাদের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়। উমর মিতা শুধু কুরআন অনুবাদের মধ্যেই নিজের কাজ সীমাবদ্ধ রাখেননি। ইসলামি শিক্ষা, সাহাবিদের জীবন ও ইসলামের পরিচিতিমূলক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন। মুসলিম পাঠকদের পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী জাপানি ভাষাভাষীদের জন্যও তাঁর সাহিত্যকর্ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর অনুবাদ পরবর্তী সময়ে সংশোধিত আকারেও প্রকাশিত হয়। ১৯৮২ সালে সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। কুরআন অনুবাদের পাশাপাশি জাপানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা এবং মুসলিম সংগঠনের কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাঁকে দেশটির মুসলিম ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।   ১৯৮৩ সালের ২৯ মে উমর মিতা মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, চীনে ইসলাম সম্পর্কে অনুসন্ধান, মধ্যবয়সে ইসলাম গ্রহণ এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে কুরআন অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন একটি ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিক যাত্রার সাক্ষ্য বহন করে। জাপানে কুরআনের অনুবাদের ইতিহাসে উমর মিতার বিশেষ পরিচয় আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তিনি প্রথম ব্যক্তি নন যিনি জাপানি ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেছিলেন, তবে প্রথম জাপানি মুসলিম অনুবাদক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত।  

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২৩:৪৮
অভিযুক্ত ব্যক্তি সিরাকুজা শহরের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতিবিষয়ক আঞ্চলিক কমিশনে বাংলা ভাষার দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন

ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে ভুল অনুবাদ করে অর্থ আত্মসাৎে বাংলাদেশি দোভাষী আটক

দৈনিক ১ ডলার ২০ সেন্টের শ্রমিক থেকে চীনের শীর্ষ ধনী নারী, ঝৌ ছুনফেইয়ের অবিশ্বাস্য উত্থান

দৈনিক ১ ডলার ২০ সেন্টের শ্রমিক থেকে চীনের শীর্ষ ধনী নারী, ঝৌ ছুনফেইয়ের অবিশ্বাস্য উত্থান

শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে মন্ত্রী-আমলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইথিওপিয়া

শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে মন্ত্রী-আমলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইথিওপিয়া

0 Comments