মানবদেহে প্রথম পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেল রাশিয়ার ক্যানসার টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’
রাশিয়ায় তৈরি ত্বক ক্যানসারের টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’ (Neoncovac) মানবদেহে প্রয়োগের পর অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গের দেওয়া তথ্যমতে, এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার শরীরে টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সফলভাবে তৈরি হয়েছে। ক্যানসার নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে উদ্ভাবিত দুটি ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ বা পার্সোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ্যাডভান্সড মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক (mRNA) ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ অন্যতম।
সেই অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দেহে প্রথমবারের মতো নিওনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগীর ইমিউন রেসপন্স অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোধ করছেন। তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও দশজন রোগীর জন্য কাস্টমাইজড মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রথাগতভাবে শুধু রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে এই পদ্ধতিটি রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকর ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়।
এই প্রক্রিয়ায় রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই নির্দিষ্ট রোগীর জন্য কাস্টমাইজড ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরও প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের পথ ধরে বর্তমানে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreরাশিয়ায় তৈরি ত্বক ক্যানসারের টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’ (Neoncovac) মানবদেহে প্রয়োগের পর অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গের দেওয়া তথ্যমতে, এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার শরীরে টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সফলভাবে তৈরি হয়েছে। ক্যানসার নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে উদ্ভাবিত দুটি ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ বা পার্সোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ্যাডভান্সড মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক (mRNA) ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ অন্যতম। সেই অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দেহে প্রথমবারের মতো নিওনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগীর ইমিউন রেসপন্স অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোধ করছেন। তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও দশজন রোগীর জন্য কাস্টমাইজড মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রথাগতভাবে শুধু রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে এই পদ্ধতিটি রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকর ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই নির্দিষ্ট রোগীর জন্য কাস্টমাইজড ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরও প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের পথ ধরে বর্তমানে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্পেনে একদিনে ৬০ হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশ, সীমান্তে জরুরি সেনা মোতায়েন
টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবি: ১৮ জন উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ১৩
সিডনির ‘কোডিং ফেস্ট ২০২৬’-এ সেরা এআই প্রজেক্টের পুরস্কার জিতল বাংলাদেশি গবেষক দল
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রবেশ করা ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক এই সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় স্পেন ও মরক্কো যৌথভাবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। স্পেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করে। পরে তাদের প্রায় অর্ধেক স্বেচ্ছায় অথবা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরক্কোতে ফিরে গেছে। সীমান্তে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও অভিযান জোরদার করেছে। এই নজিরবিহীন অনুপ্রবেশের সময় সীমান্তে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকের মৃত্যু ডুবে যাওয়া এবং পদদলিত হওয়ার ঘটনায় ঘটেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘটনাকে দেশের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্র ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে হাজারো মানুষকে সীমান্তে জড়ো হতে উৎসাহিত করেছে। তিনি দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন। সেউতা ও মেলিয়া উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যা বহু বছর ধরে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান অভিবাসন রুট। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মানুষ উন্নত জীবনের আশায় মরক্কো হয়ে এসব সীমান্ত দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে। সাম্প্রতিক এই সংকট ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
স্পেনের সিউটা সীমান্তে হাজার হাজার অভিবাসীর ভিড়, মর্মান্তিক মৃত্যু বেড়ে ৩৪
ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোট
‘মোদির পা ধুয়ে সেই পানি পান করতে চাই’ বলিউড অভিনেতা সুধেশ বেরির মন্তব্য
ইউরোপের সবচেয়ে বড় সামরিক বিমানটিকে এবার ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল নেভানোর কাজে নামানো হয়েছে। এয়ারবাসের তৈরি 'এ৪০০এম অ্যাটলাস' (A400M Atlas) নামের এই বিমানটি সাধারণত সেনা ও সামরিক যান বহনে ব্যবহৃত হলেও, প্রকৌশলীদের জরুরি পরিবর্তনের পর এটি এখন ২২ টন ধারণক্ষমতার বিশালাকার 'ওয়াটার বোমারু' হিসেবে কাজ করছে। কার্গো হোল্ডে বসানো এই বিশেষ পানির ট্যাংক ব্যবহার করে বিমানটি মাটি থেকে মাত্র ১০০ ফুট ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে উন্মুক্ত র্যাম্পে বসানো পাইপের মাধ্যমে পানি বা রাসায়নিক ফায়ার রিটার্ডেন্ট (অগ্নিনির্বাপক পদার্থ) ফেলতে সক্ষম। ২০২২ সাল থেকে এই অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তির উন্নয়ন কাজ চলছিল। তবে ফ্রান্সে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করায় ফরাসি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে গত সপ্তাহে এর চূড়ান্ত পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম এয়ারবাস বিমানটি বোর্দোর কাছাকাছি অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এই দাবানলকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের 'সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যার কারণে দেশটিতে ইতোমধ্যে তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী গিয়ম ফোরি জানিয়েছেন, অগ্নিনির্বাপণের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা না হলেও, সামরিক বাহিনীতে সহজলভ্য হওয়ায় এই বিমানগুলোকে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজে লাগানো হচ্ছে। সচরাচর ব্যবহৃত হলুদ রঙের ক্যানাডায়ার (Canadair) ওয়াটার বোমারুর চেয়ে এটি তিনগুণ বেশি তরল বহন করতে পারে। মাত্র এক আঘাতেই এটি ৪,৪০০ গ্যালন তরল ফেলতে পারে, যা ১,৩০০ ফুটেরও বেশি দীর্ঘ এলাকা ভিজিয়ে দিতে সক্ষম। ক্যানাডায়ারের মতো এটি হ্রদ বা সমুদ্র থেকে সরাসরি পানি তুলতে না পারলেও, মাটি থেকে ফায়ার রিটার্ডেন্ট লোড করার ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি কার্যকর। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাজে লাগিয়ে কার্গো বিমানের পেছনের র্যাম্প দিয়ে সহজেই এই পানির ট্যাংক প্রবেশ করানো যায় এবং মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই একটি সাধারণ সামরিক বিমানকে অগ্নিনির্বাপক বিমানে রূপান্তর করা সম্ভব। ঘণ্টায় ৫৫০ মাইল বেগে উড়তে সক্ষম এই বিমানটি সাধারণ ক্যানাডায়ার বিমানের চেয়ে অনেক দ্রুতগতি সম্পন্ন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য তৈরি হওয়ায় দুর্গম বা অস্থায়ী রানওয়েতেও এটি সহজেই ওঠানামা করতে পারে। এয়ারবাস জানিয়েছে, দাবানলের কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে কীভাবে বিমান নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সে বিষয়ে তারা আরও পাইলটকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। চলতি বছরেই এই ফায়ারফাইটিং কিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে স্পেনও তাদের সামরিক বহরে থাকা এ৪০০এম বিমানগুলোকে একইভাবে রূপান্তর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আর্জেন্টিনায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, দমকলকর্মীসহ নি হত ৭
হাফপ্যান্ট পরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন সিনেটরের বৈঠক, প্রটোকল নিয়ে আলোচনা