মানবদেহে প্রথম পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেল রাশিয়ার ক্যানসার টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’
রাশিয়ায় তৈরি ত্বক ক্যানসারের টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’ (Neoncovac) মানবদেহে প্রয়োগের পর অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গের দেওয়া তথ্যমতে, এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার শরীরে টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সফলভাবে তৈরি হয়েছে। ক্যানসার নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে উদ্ভাবিত দুটি ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ বা পার্সোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ্যাডভান্সড মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক (mRNA) ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ অন্যতম।
সেই অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দেহে প্রথমবারের মতো নিওনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগীর ইমিউন রেসপন্স অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোধ করছেন। তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও দশজন রোগীর জন্য কাস্টমাইজড মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রথাগতভাবে শুধু রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে এই পদ্ধতিটি রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকর ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়।
এই প্রক্রিয়ায় রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই নির্দিষ্ট রোগীর জন্য কাস্টমাইজড ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরও প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের পথ ধরে বর্তমানে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreপর্তুগালে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে রাজধানী লিসবন এবং বন্দরনগরী পোর্তোতে বিক্ষোভকারীদের অস্থায়ী তাঁবু সরাতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। বিক্ষোভকারীদের একটি সংগঠনের দাবি, অভিযানে ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ১৩ সদস্য আহত হয়েছেন। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও উচ্ছেদসংক্রান্ত সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার ভোর সাড়ে চারটার দিকে লিসবনের রোসিও স্কয়ার এবং পোর্তোর দম জোয়াও প্রথম স্কয়ারে অভিযান চালায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে কুকুরও ছিল। অভিযানের সময় বিক্ষোভকারীদের স্থাপন করা তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি ব্যবহার করে। পর্তুগিজ পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লিসবন থেকে ছয়জন এবং পোর্তো থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের নির্দেশ মেনে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিক্ষোভকারী কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বোতল ও রং ছুড়ে মারেন। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের ১৩ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আটজনকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। পোর্তোতে বিক্ষোভকারীদের ওপর নজরদারিতে থাকা সাধারণ পোশাকের তিন পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করার পর তাঁদের ওপর হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত বা আদালতে বিচারিক নিষ্পত্তির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিক্ষোভকারী সংগঠন আকাম্পাদা লিসবোয়ার দাবি, পুলিশের অভিযানে ৩০ জনের বেশি আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করা মানুষের ওপর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে পুলিশ। এর প্রতিবাদে রোববার বিকেলে লিসবনে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ নিজেদের অভিযানকে আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্যে আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং সংঘর্ষের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে পার্থক্য রয়েছে। ফলে বিক্ষোভকারীদের দাবি করা সব আহতের সংখ্যা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। এর আগে শনিবার রাতে লিসবন ও পোর্তোতে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দুই শহরের গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে তাঁবু স্থাপন করে অবস্থান শুরু করেন। তাঁদের দাবি, আবাসন খাতে সরকারের পরিকল্পিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সাধারণ ভাড়াটিয়াদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। পর্তুগালে বাড়িভাড়া ও বাসস্থানের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী লিসবনসহ বড় শহরগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাসস্থান পাওয়া অনেক মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছেন বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা। বর্তমান মধ্যডানপন্থী সংখ্যালঘু সরকারের দুটি পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন আন্দোলনকারীরা। এর একটি হলো ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের নিয়ম শিথিল করা। অন্যটি নতুন ভাড়ার চুক্তিতে বাড়িভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা। বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, এসব পরিবর্তনের ফলে বাড়ির মালিকেরা সহজে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করতে পারবেন এবং নতুন চুক্তিতে বাড়িভাড়া আরও বাড়তে পারে। তবে সরকারের পরিকল্পনার ফলে বাস্তবে বাড়িভাড়া কতটা বাড়বে কিংবা কত পরিবার উচ্ছেদের মুখে পড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত পরিসংখ্যান প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। তাই আবাসন খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কাকে আন্দোলনকারীদের উদ্বেগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর চূড়ান্ত আইনগত অবস্থাও পৃথকভাবে মূল্যায়নের বিষয়। এদিকে স্পেনের আবাসন আন্দোলন থেকেও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন পর্তুগালের বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবেশী দেশটির রাজধানী মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁবু স্থাপন করে বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। পর্তুগালের লিসবন ও পোর্তোতেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিকবার অস্থায়ী অবস্থান কর্মসূচি নেওয়া হয়। পুলিশ এর আগেও এসব তাঁবু সরিয়ে দিয়েছে। রোববারের অভিযানের পর পর্তুগালের আবাসন সংকট নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে সরকার আবাসন খাতের নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা ও সাশ্রয়ী বাসস্থানের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা আন্দোলনের নতুন পর্যায় হিসেবে সামনে এসেছে। পর্তুগালে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও আবাসন ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা লিসবন বা পোর্তোর মতো শহরে ভাড়াবাসায় বসবাস করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভাড়া ও উচ্ছেদসংক্রান্ত নিয়মের পরিবর্তন প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো সব ভাড়াটিয়ার ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর হবে, এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। সব মিলিয়ে বাড়িভাড়া ও আবাসননীতি নিয়ে বিরোধের মধ্যে পর্তুগালের দুই প্রধান শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। ১৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং পুলিশের ১৩ সদস্য আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা আরও বেশি মানুষের আহত হওয়ার অভিযোগ করেছেন। নতুন বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় আবাসন সংকট নিয়ে দেশটিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র: এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস (এএফপি)
ইরানের শক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ নেই, হুঁশিয়ারি তেহরানের
ইসরায়েলে প্রথম দুই বছর নেতানিয়াহু, পরে ক্ষমতার ভাগ পাবেন আইজেনকোট
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
কুয়েতের আল মুতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ভবনটির ছাদ থেকে নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। পুলিশের দাবি, চাকরি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম কুয়েত টাইমস ও টাইমস কুয়েত জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি ওই নির্মাণাধীন ভবনে আগে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মরদেহ উদ্ধারের এক দিন আগে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে তাঁর জায়গায় নিয়োগ পান নিহত নিরাপত্তাকর্মী। তদন্তকারীদের ধারণা, চাকরি হারানো এবং নতুন কর্মীর সঙ্গে বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে আল মুতলা এলাকার নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় নিরাপত্তা বাহিনী। খবর পেয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা মরদেহের অবস্থান পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক তদন্তে ভবনটির সাবেক নিরাপত্তাকর্মীর বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, সন্দেহভাজন বাংলাদেশি এরই মধ্যে কুয়েতের শার্ক থানায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তাঁর আবাসিক ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আগে থেকেই একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আগেই কুয়েত থেকে দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে এটি তদন্তকারীদের বক্তব্য, আদালতে এখনো অভিযোগের বিচার হয়নি। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের দাবি, তিনি জানিয়েছেন, তাঁর জায়গায় চাকরি পাওয়া নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে বিরোধের পর এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কাঠের একটি বস্তু ও ছুরি দিয়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে আঘাত করার কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরব টাইমসের প্রতিবেদনে নিহত নিরাপত্তাকর্মীকে ইয়েমেনের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক বিবরণে নিহত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশির নামও কুয়েতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আরমান হোসেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তাঁকে মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি। রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছে। মিশনের কর্মকর্তারা দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন। শুক্রবার ও শনিবার কুয়েতে সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মিশন। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের তথ্য ও সংগৃহীত আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানানো হলেও আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কুয়েতের আইন অনুযায়ী হত্যার অভিযোগ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশির ক্ষেত্রেও দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় নিহত নিরাপত্তাকর্মীর পরিবারের বক্তব্য কিংবা অভিযুক্ত বাংলাদেশির আইনজীবীর কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। আপাতত কুয়েতের পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ওই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মামলাটি বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইতালির নেপলস বিমানবন্দর এক মাস বন্ধ, বিকল্প বিমানবন্দরে যাত্রীদের ফ্লাইট
অ্যামাজনের গুদামে ১০ লাখের বেশি রোবট, মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ
ইউক্রেনের জন্য ২১০ কোটি ডলারের ৫০০ প্যাট্রিয়ট মিসাইল অনুমোদন, দ্রুত সরবরাহ চান জেলেনস্কি
ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির। সর্বশেষ ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট ৫৩টি, বিরোধী ‘চেঞ্জ’ বা পরিবর্তন জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ মন্তব্য করেছেন যে, নেতানিয়াহুর সামনে নতুন করে সরকার গঠনের আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াইর লাপিদ নেতানিয়াহুর জোটের পাওয়া ৫৩টি আসনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, শত চেষ্টা করলেও তার পক্ষে এবার সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। বিদায়ী নেসেটে লিকুদ জোটের ৬৮টি আসন থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে লাপিদ বর্তমান ফলাফলকে নেতানিয়াহুর জন্য এক বড় বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ১৯৯৯ সালের পর এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৭৭.৭ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিকে বিরোধী জোটের জন্য ‘পয়েন্টের ভিত্তিতে জয়’ বা সামান্য ব্যবধানের জয় হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে সরকার গঠনের পথ যে বেশ কঠিন, তা স্বীকার করে তিনি সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। লাপিদ জানান, নির্বাচনী প্রচারণার চেয়ে জোট গঠনের আলোচনা সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা ক্যামেরার আড়ালে ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়। এদিকে নতুন সরকার গঠন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ডানপন্থী সরকার টিকিয়ে রাখতে এবং আরব দলগুলোর সমর্থনে সম্ভাব্য ‘বামপন্থী সরকার’ ঠেকাতে কট্টর ডানপন্থী জিউইশ পাওয়ার দলের নেতা ইতামার বেন-গভির এরই মধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে বিকল্প সরকার গঠনের লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার জন্য বিরোধী জোটের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইউনাইটেড আরব লিস্টের (রা’আম) শীর্ষ নেতা মানসুর আব্বাসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। বিরোধী জোট ও আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসন সংখ্যা ৬৭টি, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট। তবে আরব দলগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইসরায়েল বেইতেইনু দলের নেতা আভিগদোর লিবারম্যানের কড়া বিরোধিতাসহ বিরোধী নেতাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নেতানিয়াহু-বিহীন সরকার গঠনের পথে বর্তমানে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্লাস চলাকালে বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে স্কুলে তরুণ, দুই ছাত্রীর ওপর হা ম লা
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের