ইসরাইলকে সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করছে সৌদি আরব: হুথি নেতার বিস্ফোরক বক্তব্য
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আনসারুল্লাহর নেতা সাইয়্যেদ আবদুল মালেক আল-হুথি অভিযোগ করেছেন, সৌদি আরব তাদের ‘সর্বশক্তি প্রয়োগ করে’ ইসরাইলকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি এক ভাষণে তিনি আরব বিশ্বের অনেক শাসককে সরাসরি ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর সেবাদাস হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তার দাবি, ইয়েমেন থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরব নিজস্ব আকাশসীমায় প্রতিহত করে তেল আবিবকে সুরক্ষা দিচ্ছে। ইয়েমেন রিয়াদকে আগেই আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ সৌদি আকাশসীমার বাইরে থাকবে, যেন রিয়াদ হামলার কোনো অজুহাত না পায়। তা সত্ত্বেও, সৌদি আরব ইচ্ছাকৃতভাবে ইয়েমেনের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই ভাষণে হুথি নেতা ইরাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের অতীতের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান এবং ইরাকি জনগণ, নিরাপত্তা বাহিনী ও শহীদ পরিবারের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। আল-হুথি বলেন, শত্রুপক্ষ মুসলিম উম্মাহকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠন’ এবং ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ প্রতিষ্ঠার মতো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মূলত ঐশী মূল্যবোধকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে। বর্তমানে শত্রুরা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে বহু আরব সরকার এখন প্রকাশ্যে ইসরাইলপন্থী নীতির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
আনসারুল্লাহ নেতা আরও অভিযোগ করেন, ইরান, লেবানন, ফিলিস্তিনসহ এই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের পথের কাঁটাগুলো চিরতরে সরিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘লোভী শত্রু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা হাজার মাইল দূর থেকে এই অঞ্চলে এসেছে দখলদারিত্ব, হত্যা, লুটপাট, জনগণের স্বাধীনতা হরণ এবং আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে। মার্কিন ও ইসরাইলি এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের অচলাবস্থা কাটাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন নেতানিয়াহু। এরপর বাকি মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন আইজেনকোট। তবে এটি এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা নয়। বরং নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির কয়েকজন নেতা আইজেনকোটকে সরকারে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন। প্রস্তাবের একটি সংস্করণে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু প্রথম দুই বছর ক্ষমতায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে চান। বিশেষ করে ইরানসংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীরা গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব আইজেনকোটের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিকল্প আরেকটি প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী পদ ভাগাভাগির পরিবর্তে আইজেনকোটকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত কোন প্রস্তাবে সম্মত হবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদনে আরও একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কথা উঠে এসেছে। সেখানে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এমন একটি ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যার আওতায় নেতানিয়াহু দুই বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার পর রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলোতে পূর্ণ ক্ষমা পাবেন। তবে প্রেসিডেন্ট হারজগের কার্যালয় এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। কার্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফলাফল হাতে পাওয়ার পর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন প্রেসিডেন্ট। নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পার্লামেন্টের আসনসংখ্যা। ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা আইজেনকোটের বিরোধী জোট, কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নির্বাচনের পর প্রকাশিত ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই। আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের রাজনৈতিক হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তবে প্রস্তাবিত সরকারে কারা অংশ নেবেন, তা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহলের একটি পরিকল্পনায় আইজেনকোটের পাশাপাশি ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচকে সরকারে রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে অতি রক্ষণশীল ইহুদি ধর্মীয় দলগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়ে জোটের বাইরে রাখার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে ক্ষমতা ভাগাভাগির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাধা আইজেনকোটের নিজের অবস্থান। তিনি আগেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কোনো সরকারে যোগ দেবেন না। এমনকি পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্যবস্থাতেও তিনি অংশ নিতে রাজি নন। ২১ অক্টোবর ইসরায়েলি রেডিও ১০৩ এফএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইজেনকোট বলেন, নেতানিয়াহুর অধীনে ক্ষমতা ভাগাভাগির কোনো ব্যবস্থায় তিনি থাকবেন না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন বলেও জানান তিনি। আইজেনকোটের আপত্তির অন্যতম কারণ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঘিরে নেতানিয়াহুর সরকারের ভূমিকা। ওই হামলার সময়কার নিরাপত্তা ব্যর্থতার রাজনৈতিক দায় নেতানিয়াহুর ওপর বর্তায় বলে মনে করেন তিনি। সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট অবশ্য এর আগে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জরুরি সরকারে অংশ নিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর বেনি গ্যান্টজের সঙ্গে তিনি সেই সরকারে যোগ দেন। পরে ২০২৪ সালের জুনে যুদ্ধ পরিচালনা ও যুদ্ধপরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের কারণে তাঁরা সরকার থেকে বেরিয়ে আসেন। নেতানিয়াহুর জন্য নতুন সরকার গঠন করতে না পারার ঝুঁকিও রয়েছে। কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলকে আবার নির্বাচনের দিকে যেতে হতে পারে। অতীতেও দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশটিতে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব রাজনৈতিক আলোচনায় থাকলেও দুই নেতার মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির ঘোষণা আসেনি। আইজেনকোট তাঁর আগের অবস্থান পরিবর্তন করবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত। ফলে প্রথম দুই বছর নেতানিয়াহু এবং পরবর্তী সময়ে আইজেনকোটের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি আপাতত একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে। নতুন সরকার গঠনের আলোচনা কোন দিকে এগোয়, তার ওপর নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ।
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
কুয়েতে নিরাপত্তাকর্মী হত্যায় বাংলাদেশি অভিযুক্ত, ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করল পুলিশ
ইতালির নেপলস বিমানবন্দর এক মাস বন্ধ, বিকল্প বিমানবন্দরে যাত্রীদের ফ্লাইট
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের গুদাম ও সরবরাহ নেটওয়ার্কে বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোবট মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যান্ডি জ্যাসি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রাহকদের অর্ডার দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করতে মূলত তাক সরানো, পণ্য পরিবহন, প্যাকেজ বাছাই এবং অন্যান্য পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে এসব রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যামাজন জানিয়েছে, রোবটের এই ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে তাদের কাজের দক্ষতা যেমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, তেমনি খরচ কমেছে এবং গুদামের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ হয়েছে। সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি আরও জানিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশা করছে ভবিষ্যতে মানুষের একঘেয়ে ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো আরও বেশি মাত্রায় এই রোবটগুলোর ওপর ন্যস্ত করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসেই অ্যামাজন তাদের নেটওয়ার্কে প্রথম ১০ লাখতম রোবট যুক্ত করার মাইলফলক অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। বর্তমান পরিসংখ্যানটি নিশ্চিত করে যে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের অটোমেশন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত রূপান্তরের ধারা শুধু অব্যাহতই রাখেনি, বরং তা আরও সুদৃঢ় করেছে।
ইউক্রেনের জন্য ২১০ কোটি ডলারের ৫০০ প্যাট্রিয়ট মিসাইল অনুমোদন, দ্রুত সরবরাহ চান জেলেনস্কি
ইসরায়েলের নির্বাচনে আসন কমেছে নেতানিয়াহুর, সরকার গঠনের সুযোগ দেখছেন না লাপিদ
ক্লাস চলাকালে বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে স্কুলে তরুণ, দুই ছাত্রীর ওপর হা ম লা
মার্কিন নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একটি বিশাল গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। অন্তত পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে তৈরি এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী যানবাহন আমদানি করেছে দেশটি। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ইসরায়েলি-আমেরিকান ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ২৪০ অ্যানালিটিকস-এর যৌথ অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নেটওয়ার্কের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নামের শুরুতে ‘এমওডি’ (MOD) বা ফারসি ভাষায় ‘ভিওডিজেএ’ (VODJA) লেখা থাকে, যার সাথে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ‘বুনিয়াদ’-এর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই ২০১৩ সালে গঠিত হলেও, নথিপত্রে কৌশলগত কারণে সেগুলোর প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি (ইরানের ইসলামি বিপ্লবের দিন) উল্লেখ করা হয়। এই নেটওয়ার্ক মূলত তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে মধ্যস্থতাকারী এবং বিদেশি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রকেটের কাঁচামাল, বিস্ফোরক এবং দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ আমদানি করে। বিশেষ করে, এমওডি ৩৪৬৪২৮ নামক প্রতিষ্ঠানটি একাই ২৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৪৩৫টি ইভেকো ট্রাক এবং হাজার হাজার টয়োটা পিকআপ, যা পরবর্তীতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান হিসেবে রূপান্তরিত করা সম্ভব। অবাক করা বিষয় হলো, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাত শুরুর পরও চীন ও রাশিয়া থেকে টাইটানিয়াম, নাইট্রোসেলুলোজ ও ডেটোনেটরের মতো সংবেদনশীল সামরিক কাঁচামালের সরবরাহ অব্যাহত ছিল। বিশেষজ্ঞরা ইরানের এই গোপন সরবরাহব্যবস্থাকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বহর পুনর্গঠনের ‘শিল্প-পর্যায়ের উদ্যোগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ইরানের আয়ের উৎস বন্ধ করতে কাজ করছেন এবং এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকির চেষ্টার ওপর কড়া নজর রাখছেন। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা এই বিষয় সম্পর্কে অবগত নয় এবং আঞ্চলিক সংঘাতে তাদের জড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে। তবে ইরান, রাশিয়া এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের নতুন ট্রেন্ড 'বই পড়া', কমছে স্ক্রলিংয়ের আকর্ষণ
যুক্তরাজ্যে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইএস সংশ্লিষ্ট অভিবাসী ব্যক্তিকে ঘিরে প্রতিবেদন