আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দুবাইয়ের আবাসন খাতে ধস, বিলাসবহুল বাড়ির দাম কমছে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১২:৩৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাইয়ের বিলাসবহুল আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই রিয়েল এস্টেট বাজারে বেচাকেনা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। দুবাই-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যালুস্ট্র্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে আবাসন বিক্রি প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান লেনদেনের এই হার গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।

 

ভ্যালুস্ট্র্যাট-এর আবাসন গবেষণা বিভাগের প্রধান হায়দার তুয়াইমা জানান, বৈশ্বিক মহামারির পর থেকে তৈরি করা বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাজারে এত বড় ধরনের বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে দুবাইয়ের আরেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেইডিন’-এর পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে মাসে দুবাইয়ে মাত্র ২২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামের (৬.১ বিলিয়ন ডলার) সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মাসের তুলনায় এই বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক।

 

দুবাইয়ে গত কয়েক বছর ধরে শূন্য আয়কর নীতির কারণে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের আগমনে আবাসন খাতে এক অভাবনীয় জোয়ার এসেছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিশেষ করে মার্চ মাসে দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন শান্তি চুক্তি হলেও বাজার কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।

 

আবাসন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধস ঠেকাতে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাটের বিক্রেতারা এখন কোটি কোটি টাকা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। অত্যন্ত দামি সম্পত্তি কেনাবেচায় নিয়োজিত এক এজেন্ট জানান, বর্তমানে যে দু-একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম। গত দেড় বছরে দুবাইয়ে বাড়ি কেনা অতি-ধনী ক্রেতাদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ক্রেতারা এখন দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনা থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বিরত থাকছেন।

 

গত ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ লন্ডন, নিউইয়র্ক ও হংকংকে পেছনে ফেলে বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে দুবাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম শহর। কিন্তু ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুবাইয়ের এই অবস্থান এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিব্রাজক অতি-ধনীরা এখন দুবাই ছেড়ে মিলান, লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরের মতো নিরাপদ আন্তর্জাতিক শহরের দিকে ঝুঁকছেন। এই আকস্মিক ধসের কারণে দুবাইয়ে গড়ে ওঠা শত শত ছোট রিয়েল এস্টেট ব্রোকার এজেন্সি এখন ব্যবসা বন্ধ করার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
দুই প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে বিমানের টিকিট তুলে দেন হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপে অসুস্থ দুই প্রবাসীকে দেশে ফেরার টিকিট দিল বাংলাদেশ হাইকমিশন

মালদ্বীপে থাকা গুরুতর অসুস্থ ও মানবিক সংকটে পড়া দুই প্রবাসী বাংলাদেশির নিরাপদ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে পাশে দাঁড়িয়েছে সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে ওই দুই প্রবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট দেওয়া হয়েছে।   গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সহায়তাপ্রাপ্ত দুই প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানের টিকিট তুলে দেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। টিকিট হস্তান্তর করার এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্যাহ।   হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, সহায়তাপ্রাপ্ত দুই প্রবাসীর মধ্যে একজন হলেন কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা নরুল ইসলাম (৫০)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসজনিত যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মালদ্বীপে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া অপর প্রবাসী হলেন একই জেলার মো. আজিজ প্রামাণিক (৫৫), যিনি সম্প্রতি মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হন।   এই দুই প্রবাসী বাংলাদেশির বর্তমান শারীরিক জটিলতা, পারিবারিক আর্থসামাজিক বাস্তবতা এবং সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই বিমান টিকিট প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে এসে যারা এমন সংকটে পড়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোকে রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই প্রসঙ্গে হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিক আমাদের রাষ্ট্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থানরত কোনো নাগরিক অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে তার পাশে দাঁড়ানো হাইকমিশনের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।   তিনি আরও বলেন, প্রবাসী কর্মীরা কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শ্রমনিষ্ঠা, সততা ও সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফলে তাদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুরক্ষিত রাখা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।   হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার সংরক্ষণ, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ ও যেকোনো মানবিক সংকটে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানে হাইকমিশনের এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও পুরোপুরি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২:৪৯
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার | ছবি: সংগৃহীত

পানিকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টায় ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

গণভোটে হেরে গেল অভিবাসন কমানোর প্রস্তাব, স্বস্তিতে সুইজারল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস গড়ছে লন্ডন ম্যারাথন: ২০২৭ সালে হবে দুই দিনব্যাপী, অংশ নেবেন ১ লাখ দৌড়বিদ

ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কালাস | ছবি: সংগৃহীত
পরমাণু চুক্তি হলেই কেবল ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলবে ইইউ

ইরানের ওপর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি তখনই বিবেচনা করা হবে, যখন তেহরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ পরমাণু চুক্তি সম্পন্ন হবে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কালাস। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   কাজা কালাস বলেন, ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূল হলে ইইউ-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা উপযুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। তবে আমরা এখনও সেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।’ বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ৭০০-এরও বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ইউরোপে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দের মতো কঠোর ব্যবস্থা।   এর আগে, ইউরোপের শীর্ষ চার দেশ ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে দুই দেশের একটি ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পরই মূলত ইউরোপের দেশগুলো থেকে এই ইতিবাচক সাড়া আসে।   এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি—এই চার (ই-৪) দেশ গত রোববার জানায়, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের চুক্তি হওয়ার পর ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পরবর্তী পদক্ষেপ ও আচরণের ওপর ভিত্তি করে তারা দেশটির ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত। যৌথ বিবৃতিতে চার দেশের নেতারা আরও বলেছেন, ‘ইরান যেন কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, আমরা সেই লক্ষ্যে আমেরিকা, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ০:৫৩
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত

এবার মমতার দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন, ৮৭৬ কোটি রুপি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে আটকে পড়া বিদেশিদের জরিমানা ছাড়া বৈধ হওয়ার শেষ সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপর নজর রাখছে ইসরায়েল, হামাস ইস্যুতে রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঐতিহাসিক চুক্তিতে ইরানের জয়

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সপরিবারে হত্যা এবং একই দিনে মিনাব শহরের একটি স্কুলে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ১৬৮ জন শিশু শিক্ষার্থীকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রথমে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের হুমকি দেওয়া হলেও, অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা ও ইসরাইলে পাল্টা আঘাত শুরু করে।   যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলারের ব্যয়বহুল রাডার সিস্টেম ইরানের স্বল্প মূল্যের ড্রোনের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে মার্কিন প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে এবং ইরানের শর্ত মেনেই সমঝোতায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক বিজয় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।   যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনার টেবিলে রাখা ১৪ দফার একটি সমঝোতা প্রস্তাবে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই চুক্তির ইলেকট্রনিক সংস্করণে সই করার মাধ্যমে তেহরানের চূড়ান্ত স্বীকৃতি নিশ্চিত করেন।   আজ সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক শহরে এই অন্তর্বর্তী চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে যাচ্ছে, যেখানে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্যে পরবর্তী রূপরেখা নিয়ে দুপক্ষ আলোচনা করবে। এই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। এছাড়া মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশও এই আলোচনায় অংশ নেবে।   অনানুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে আসা চুক্তির খসড়া বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এতে মূলত ইরানের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ অবমুক্ত করা হবে এবং দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার কোটি ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে।   পাশাপাশি, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন খাতের ওপর থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এর বিপরীতে ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন করবে না এবং পরমাণু বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনার বিষয়টি পরবর্তী সময়ের জন্য রাখা হয়েছে। এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ৩ ডলার কমে বর্তমানে ৭৮.৬৪ ডলারে নেমে এসেছে।   এদিকে ইরানের সাথে এই চুক্তি করায় মার্কিন অভ্যন্তরীণ politics বা রাজনীতিতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সমালোচকদের ‘বোকা ও হিংসুক’ আখ্যা দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন শেয়ারবাজার যখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এবং তেলের দাম কমছে, তখন এমন সমালোচনা স্রেফ নির্বুদ্ধিতা।   অন্যদিকে, এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো চাপ বা হুমকিতে তাঁরা নিজেদের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে বিকিয়ে দেননি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে চুক্তি ঘোষণার পর লেবানন ও গাজায় ইসরাইলি সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও হামলা পুরোপুরি থামেনি এবং গতকালও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৮:৫
ছবি: সংগৃহীত

মস্কোয় আগুনের নরক! ইউক্রেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলায় জ্বলছে রাশিয়ার তেল সাম্রাজ্য

ছবি: সংগৃহীত

হিথ্রো বিমানবন্দরের নতুন রানওয়েতে ৩০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি, সরকারি রিপোর্টে সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি স্কুলে বাড়তি ট্যাক্স বসালেও কমেনি শিক্ষার্থী, দাবি ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রীর

0 Comments