হিথ্রো বিমানবন্দরের নতুন রানওয়েতে ৩০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি, সরকারি রিপোর্টে সতর্কতা
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হিথ্রো বিমানবন্দরে বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় রানওয়ে নির্মাণের ফলে আশেপাশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। সরকারের দ্রুত বিমানবন্দর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ চালু করার পরপরই প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক সরকারি রিপোর্টে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য করা ‘এইকম’ (Aecom) নামক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এক বিশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই হাব বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের ওপর "মারাত্মক নেতিবাচক" প্রভাব পড়বে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন রানওয়ে নির্মাণ এবং তা চালু করার পর শুধু যে ওই এলাকার শব্দদূষণ ও বায়ুর গুণমান খারাপ হবে তা নয়, বরং এটি স্থানীয়দের আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্মুক্ত স্থান এবং যাতায়াতের সুযোগকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর পাশাপাশি হিথ্রো বিমানবন্দরের এই সম্প্রসারণের ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়া, সামাজিক সংহতি দুর্বল হওয়া, শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ল্যান্ডস্কেপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করার সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার মতো গভীর সংকট তৈরি হবে।
অবশ্য এই নতুন নীতিমালার প্রভাব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, তৃতীয় রানওয়েটি নির্মাণ করা হলে দেশে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মতো অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু বড় ধরনের সুবিধা মিলবে। তবে শেষ পর্যন্ত রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে উপসংহার টানা হয়েছে যে, অর্থনৈতিক লাভ হলেও পরিবেশগত এবং সামাজিক দিক বিবেচনা করলে এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে, যা কোনোভাবেই পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
এই বিতর্কিত সম্প্রসারণ প্রকল্পের পেছনে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার পুরো অর্থায়ন করবে বিশ্বের বড় বড় বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা। ৩,৫০০ মিটার দীর্ঘ এই রানওয়েটি তৈরি করতে হলে বিখ্যাত ‘এম২৫’ (M25) মোটরওয়ের একটি অংশ স্থানান্তর করতে হবে এবং প্রায় ৮০০টি ঘরবাড়ি বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের কিনে নিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বছরে প্রায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং এটি বছরে প্রায় ১৫ কোটি যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।
যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস এই প্রকল্পের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এবং তারা আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগেই হিথ্রোর মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করতে বদ্ধপরিকর। এই সম্প্রসারণের ফলে ৬০ হাজারের বেশি ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ৪২ বিলিয়ন পাউন্ডের সুবিধা যোগ হবে। তবে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠন ‘নো থার্ড রানওয়ে কোয়ালিশন’ এই উদ্যোগকে তীব্র সমালোচনা করে একে ‘এক দশকের ধ্বংসযজ্ঞ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের খারাপ দিন আসতে চলেছে। একই সঙ্গে মার্কিন জনগণকে আগাম ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে হিন্দি ও ইংরেজি মিশিয়ে ধ্রুব রাঠি লেখেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের খারাপ দিন আসতে চলেছে। মার্কিন জনগণকে আগাম ধন্যবাদ।’ পোস্টটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ইমোজিও ব্যবহার করেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি লাইভ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে পারে, এমন প্রত্যাশা থেকেই মন্তব্যটি করেছেন রাঠি। যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, আইনসভার সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে আগামী দুই বছর কংগ্রেসে কোন দল কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা সেই অবস্থান বদলানোর চেষ্টা করছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্টের প্রথম দুই বছরের শাসনামল সম্পর্কে ভোটারদের মূল্যায়ন হিসেবেও দেখা হয়। এবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, অভিবাসননীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা করনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উদ্যোগকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। ধ্রুব রাঠি এর আগেও ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। গত ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য উইক সাময়িকীর এক সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত নীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে অবস্থানের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভারতের বাইরের রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও নিয়মিত ভিডিও তৈরি করেন। ভারতের রাজনীতি, সামাজিক সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও প্রকাশ করে পরিচিতি পেয়েছেন ধ্রুব রাঠি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিপুল অনুসারী রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনামূলক ভিডিওর জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। ট্রাম্পকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যও মূলত রাজনৈতিক মতামত এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে ব্যক্তিগত প্রত্যাশার প্রকাশ। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে রিপাবলিকান পার্টি পিছিয়ে পড়লেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে না। বরং প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে তাঁর প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে নতুন রাজনৈতিক বাধা তৈরি হতে পারে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই বোঝা যাবে ধ্রুব রাঠির প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে।
ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহুর নতুন কৌশল, বৈঠকে বিরোধী নেতারা
ইসরায়েলকে মার্কিন অর্থসহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, কার্যকর হবে চলতি বছরের শেষে
সূর্য ও চাঁদ হিন্দুদের, ঈদ পালনে মুসলমানদের অনুমতি নিতে হবে: বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর
ইউরোপের সাতটি দেশে সুপারমার্কেটের ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন দোকানের ফ্রিজারের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে সর্বোচ্চ ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ফলে মাংস, মাছসহ বিপুল পরিমাণ হিমায়িত ও তাজা খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। সোমবার (২ নভেম্বর) বেলজিয়াম, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের বিভিন্ন সুপারমার্কেটে এসব ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে সেটিংস পরিবর্তন করেন। কোথাও শীতলীকরণব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়, আবার কোথাও ফ্রিজারের ভেতরে উষ্ণ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে। এতে রাতের মধ্যে অনেক দোকানের খাবার নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব পণ্য বিক্রি থেকে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। সুইডেনের স্টকহোমে আইসিএ সুপারমার্কেটের একটি শাখার বিক্রয় ব্যবস্থাপক এংলা ইংওয়াল রয়টার্সকে জানান, সোমবার রাত দুইটার দিকে সাইবার হামলাটি ঘটে। সকালে কর্মীরা দোকানে এসে দেখেন, সব ফ্রিজারের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এতে ভেতরে রাখা খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। সুইডেনের আরেক বড় সুপারমার্কেট প্রতিষ্ঠান কুপও তাদের কয়েকটি দোকানে একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে। বেলজিয়ামে ডেলহাইজ, ক্যারেফোর, কোলরাইট ও ইন্টারমার্শের বিভিন্ন শাখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যারেফোর জানিয়েছে, দেশটিতে তাদের ৭০০টি দোকানের মধ্যে ১৫টিতে সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে ডেলহাইজের কয়েক ডজন দোকানের শীতলীকরণব্যবস্থা আক্রান্ত হয়। লুক্সেমবার্গেও প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি শাখায় একই সমস্যা দেখা গেছে। আয়ারল্যান্ডের সুপারমার্কেট প্রতিষ্ঠান সুপারভ্যালুর ১৩টি শাখার ফ্রিজ ও ফ্রিজারের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন মাসগ্রেভ গ্রুপ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব দোকান থেকে হিমায়িত ও ঠান্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ করা খাদ্যপণ্য বিক্রি বন্ধ করা হয়। পরে প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের পর নতুন করে পণ্য সরবরাহ শুরু হয়। নেদারল্যান্ডসে অন্তত ১৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীতলীকরণব্যবস্থায় হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এস্তোনিয়ার সেলভার সুপারমার্কেটের একটি শাখাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে ফিনল্যান্ডের কয়েকটি সুপারমার্কেটে সমস্যার খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। বেলজিয়ামের মন্স শহরে আইকিয়ার একটি দোকানের ফ্রিজারও সাইবার হামলায় আক্রান্ত হয়। এর আগে গত ১২ অক্টোবর ফ্রান্সের কয়েক শ সুপারমার্কেটে একই ধরনের সাইবার হামলা হয়েছিল। সে সময় হ্যাকাররা দূর থেকে ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা পরিবর্তন করায় বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়। কয়েকটি স্থানে অতিরিক্ত তাপের কারণে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে ফ্রান্সের আগের ঘটনার প্রযুক্তিগত মিল থাকলেও একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা এখনো শনাক্ত হয়নি। বেলজিয়ামের ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয় নতুন হামলার তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপারমার্কেটের ফ্রিজ, কারখানার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য শিল্প সরঞ্জাম ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকায় সাইবার হামলার নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্বল পাসওয়ার্ড ও হালনাগাদ না করা সফটওয়্যার ব্যবহার করলে এসব ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের সুযোগ বাড়ে। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টোফ হ্যানসেন বারবার এ ধরনের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায় পরিকল্পিত বিঘ্ন তৈরি হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভোক্তাদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সর্বশেষ সাইবার হামলায় ইউরোপের শতাধিক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মোট আর্থিক ক্ষতির হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কাজ করছেন। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি ।
৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরির দায় নিতে নারাজ উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রকেই উল্টো হুশিয়ারি
ইন্দোনেশিয়ায় যমজ দুই বোনের একজন মুসলিম অন্যজন ক্যাথলিক, ভিন্ন ধর্মেও অটুট ভালোবাসা
ব্রিটেনে বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অপেক্ষা করতে হবে ১০ থেকে ১৫ বছর
সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাচারের চেষ্টার দায়ে এক গাড়িচালককে ৩ হাজার ৮০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে কিং ফাহাদ কজওয়ে সীমান্ত চেকপোস্টে তল্লাশির সময় গাড়ির পেছনের অংশে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ পানি উদ্ধার করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে রিয়াদের একটি কাস্টমস কমিটি চালককে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা ও জব্দ করা পানি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়। সোমবার (২ নভেম্বর) খালিজ টাইমস ও দ্য সিয়াসাত ডেইলির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় পাবলিক প্রসিকিউশনের আনা মামলায় অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় ঘোষণা ছাড়াই বিপুল পরিমাণ জমজমের পানি দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কাস্টমস কর্মকর্তারা কিং ফাহাদ কজওয়ে সীমান্ত চেকপোস্টে গাড়িটি পরীক্ষা করার সময় এর ট্রাঙ্কে লুকানো অবস্থায় পানি পান। কিং ফাহাদ কজওয়ে সৌদি আরব ও বাহরাইনের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন ও পণ্য কাস্টমস তল্লাশির আওতায় থাকে। মামলার শুনানিতে কাস্টমস কমিটি জানায়, সৌদি আরবের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী জমজমের পানি বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম না মেনে এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা আইনত পাচারের অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। এ ঘটনায় জব্দ করা ৩৮০ লিটার জমজমের পানির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার ৮০০ সৌদি রিয়াল। সেই মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে অভিযুক্ত চালককে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা সম্পূর্ণ পানি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলায় পাবলিক প্রসিকিউশন অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ডও চেয়েছিল। তবে কাস্টমস কমিটি সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকায় কমিটি মনে করে, আর্থিক জরিমানা ও জব্দ করা পণ্য বাজেয়াপ্ত করাই যথেষ্ট শাস্তি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর অভিন্ন কাস্টমস আইনের ১৪২, ১৪৪ ও ১৪৫ নম্বর ধারার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সৌদি আরবে জমজমের পানি রপ্তানির বিষয়ে বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্যভান্ডার সৌদিপিডিয়া অনুযায়ী, জমজমের পানি সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে রপ্তানি করা যায় না। তবে হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত করা জমজমের পানির একটি অনুমোদিত বোতল সঙ্গে নিতে পারেন। মক্কার মসজিদুল হারামে অবস্থিত জমজম কূপের পানি মুসলমানদের কাছে বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজ ও ওমরাহ পালন করতে আসা মুসল্লিরা এই পানি পান করেন এবং অনুমোদিত পরিমাণে নিজ দেশে নিয়ে যান। সৌদি কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত পরিমাণে জমজমের পানি বহন এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ পানি রপ্তানি এক বিষয় নয়। ফলে সৌদি আরব থেকে জমজমের পানি নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত কাস্টমস নিয়ম ও পরিবহনসংক্রান্ত শর্ত মেনে চলতে হয়।
"কয়েক মাস যুদ্ধ করি নি" ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা
অরল্যান্ডোতে ভুয়া ইমিগ্রেশন ল ফার্ম করে প্রতারণা এবং সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেলের মামলা