ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি চুক্তি অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক সাক্ষী হতে সুইজারল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই সফরের স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতিমধ্যে ইলেকট্রনিক উপায়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ও কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে এই চুক্তিটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফরটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক কয়েক স্তরের প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সমর্থন ও সহযোগিতা সর্বদা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারক অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে আরোপিত তাদের নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সহযোগীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্যালেস অব ভার্সাইয়ে মোমবাতির আলোয় নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। সেই বিশেষ মুহূর্তে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং উপস্থিত অন্যান্য বিশ্বনেতারা তালি দিয়ে এই চুক্তিকে স্বাগত জানান। প্রাসাদ থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘এইমাত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করলাম।’’
অন্যদিকে এই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান প্রশাসনও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির মূল দলিলটি দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
সূত্র: এএফপি এবং ডন
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন পাকিস্তানের ২৪ বছর বয়সী মেধাবী তরুণী লাইবা ইজাজ। সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় এক ব্যক্তির হাতে বিপুল অর্থ তুলে দিয়েছিল তাঁর পরিবার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কাগজপত্র, স্কলারশিপের চিঠি থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট পর্যন্ত সবই ছিল জাল। প্রতারণার বিষয়টি জানার মাত্র তিন দিন পর গত ৯ অক্টোবর ইসলামাবাদে নিজ বাড়ির কাছে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় লাইবাকে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ঘটনার বিস্তারিত। লাইবা ইসলামাবাদের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে গোল্ড মেডেল অর্জন করেছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি স্কুলে বিজ্ঞান পড়াতেন এবং শিশুদের প্রাইভেট টিউশন দিতেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। লাইবার বাবা মুহাম্মদ ইজাজ ইসলামাবাদে একটি দুগ্ধজাত পণ্যের দোকান পরিচালনা করেন। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে তিনি নিজের জমি ও পরিবারের গয়না বিক্রি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মুহাম্মদ নোমান নামের এক ব্যক্তি হার্ভার্ডে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে কয়েক ধাপে অর্থ নেন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বাবদ ২২ লাখ পাকিস্তানি রুপি এবং পরে ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরির কথা বলে ৭২ লাখ রুপি দাবি করেন তিনি। নোমান নিজেকে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি পরিচয়পত্রও দেখান। এরপর লাইবার পরিবারের হাতে হার্ভার্ডের ভর্তির চিঠি, স্কলারশিপের কাগজ, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ডকুমেন্ট এবং বোস্টনগামী বিমানের টিকিট তুলে দেন। অক্টোবরের শুরুতে নোমানের আচরণে সন্দেহ হলে পরিবারটি কাগজপত্র যাচাই করে। একজন ট্রাভেল এজেন্ট ও আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, সব নথিই জাল। ৬ অক্টোবর প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন লাইবা। এর তিন দিন পর, ৯ অক্টোবর, বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ময়নাতদন্তের তথ্য আত্মহত্যার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করলেও পরিবার তা মানতে নারাজ। লাইবার বাবা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পেছনে নোমানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। ১১ অক্টোবর নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ২০ অক্টোবর পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, সহযোগীরা তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনারও তদন্ত চলছে। পরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি লাইবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৫০ লাখের বেশি পাকিস্তানি রুপি পরিবারের হাতে তুলে দেন।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কোনো এজেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না। লাইবার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের ঘটনা নয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে প্রতারণার ঝুঁকিও সামনে এনেছে। মেয়েকে হারিয়ে বাবা মুহাম্মদ ইজাজ এখনো বিচার ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮ স্কুলে সাইবার হামলা, ডার্ক ওয়েবে ৩ লাখ ২০ হাজার ফাইল
ব্রিটিশ পাসপোর্ট আবেদন ও নবায়নে পরিচয় নিশ্চিতের দুই বছরের শর্ত, যা জানা জরুরি
জাপানে সামরিক প্রশিক্ষণের সময় মার্কিন নৌ সেনার মৃত্যু, তদন্ত শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পরও ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন কিংবা তেহরানের পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কের অবসান হবে বলে যারা আশা করছেন, তাঁরা মারাত্মক ভুল করছেন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলা হলে আরও বড় পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর খামেনির এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়। ইরানে ১৯৭৯ সালের মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে। ইরান এই দিনটিকে মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পালন করে থাকে। বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পরিবর্তনের ফলে ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের আচরণ বদলে যাবে বলে আশা করার সুযোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। তিনি মনে করেন, মার্কিন চাপের মুখে সামান্য ছাড় দিলেও ওয়াশিংটন আরও বেশি দাবি উত্থাপন করবে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করার পরিবর্তে প্রতিরোধের নীতি বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক আগ্রাসন চালালে সংঘাতের পরিধি আগের তুলনায় অনেক বড় হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের পদক্ষেপকে তিনি মার্কিন আধিপত্য মোকাবিলার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে অপ্রতিরোধ্য হিসেবে দেখার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ শুরু হয়। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুদ্ধের সময় আহত হওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বুধবারের বক্তব্যটিও ভিডিও কিংবা সরাসরি ভাষণের পরিবর্তে লিখিত বিবৃতি হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলাফলকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন দেশটির অন্য কর্মকর্তারা। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কিংবা বিবেকের তাড়নায় মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের উচিত নির্বাচনের এই বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নতুন করে সামরিক সংঘাতের পথে না যাওয়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নিজের প্রশাসনের সামরিক অবস্থানের পক্ষেই যুক্তি দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের ফলে কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: আল জাজিরা
জাপানে কান্নার জন্য ভাড়া করা যায় সুদর্শন তরুণ, চোখের পানিও মুছে দেন তাঁরা
স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রি করায় কুয়েতে ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
৩ লাখ ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার, মুক্ত স্পেনের বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলাম
ফ্রান্সের ব্লাড ব্যাংক ও রক্তসংগ্রহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার খবর সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশটির রক্তসংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমে রক্তের সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের হামলা স্বাস্থ্য খাতের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রক্তসংগ্রহ, রক্তের মজুত এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পৌঁছে দেওয়ার কাজে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। এসব ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ বা সাইবার হামলার ঘটনা ঘটলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে জরুরি অস্ত্রোপচার, দুর্ঘটনায় আহত রোগী এবং নিয়মিত রক্ত প্রয়োজন হয় এমন রোগীদের চিকিৎসায় এর প্রভাব পড়তে পারে। ফ্রান্সে রক্তদান ও রক্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সরকারি সংস্থা ফ্রেঞ্চ ব্লাড এস্টাবলিশমেন্ট বা ইএফএস। দেশজুড়ে সংগৃহীত রক্তের ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষা ও হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে সংস্থাটির। ফলে এই খাতের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাইবার অপরাধীরা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রবেশ করে সংবেদনশীল তথ্য চুরি, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এনক্রিপ্ট কিংবা সেবা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। র্যানসমওয়্যার হামলার ক্ষেত্রে অনেক সময় চুরি করা তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। তবে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ঘটনায় ঠিক কতটি ব্লাড ব্যাংক আক্রান্ত হয়েছে, কোনো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়েছে কি না কিংবা রক্ত সরবরাহে কতটা বিঘ্ন ঘটেছে, তা নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা রোগীদের ওপর প্রভাব নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যসেবা খাতে এ ধরনের সাইবার হামলা ঠেকাতে নিরাপদ ডেটা সংরক্ষণ, নিয়মিত ব্যাকআপ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় সেবা চালু রাখার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সের এই ঘটনা হাসপাতাল ও রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।
স্পেনে ৬৯ জন নিহতের ট্রেন দুর্ঘটনার পর পদত্যাগ করলেন পরিবহনমন্ত্রী
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়, ‘বিপজ্জনক বর্জ্য’ উল্লেখ করে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করল ইরান