লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের
লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই কৌশলগত পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিবৃতিতে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে পূর্ববর্তী সমঝোতা হয়েছিল, ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ সেই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চুক্তি ভঙ্গের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তেহরান স্পষ্ট করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে কেবল প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরান আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। মূলত প্রতিপক্ষকে তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করতেই এই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে ইরানের এই ঘোষণার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফলে এই পথ দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের এই আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত এই উত্তেজক পরিস্থিতির দিকে বিভিন্ন দেশ, পরাশক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক ৩৩ বছর বয়সী নারীর পাকস্থলী থেকে ১৪টি কলম, পাঁচটি কাঠের চামচ ও একটি মোমবাতিসহ মোট ২০টি অস্বাভাবিক বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। ৫ সেপ্টেম্বর পালানাডু জেলার নারসারাওপেটের মাতাশ্রী প্রাইভেট হাসপাতালে তীব্র বুকব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় পাকস্থলীতে এসব বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে সেগুলো বের করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পাকস্থলীর ভেতরে একাধিক অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পান চিকিৎসকরা। এরপর ডা. পি. রামচন্দ্র রেড্ডির নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারকারী দল ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে একে একে বস্তুগুলো বের করে আনে। উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল ১৪টি বলপয়েন্ট কলম, পাঁচটি ছোট কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি। সবচেয়ে বড় কলমটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। একটি কলমের ঢাকনাও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেটি পাকস্থলীর ভেতরে আঘাত বা ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বস্তু কীভাবে ওই নারীর পাকস্থলীতে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধান সার্জন ডা. রামচন্দ্র রেড্ডিও জানিয়েছেন, এতগুলো বস্তু তিনি কীভাবে গিলে ফেলেছেন, তা চিকিৎসকদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত কারণও চিকিৎসকরা প্রকাশ করেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর বাবা দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তার নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তার স্বামী দুই মাস আগে তাকে তালাক দিয়েছেন। এসব তথ্য পরিবারের বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এর সঙ্গে পাকস্থলীতে বস্তু থাকার সরাসরি কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে খাবার নয় এমন বস্তু খাওয়ার প্রবণতার একটি পরিচিত নাম পিকা। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই নারীর ক্ষেত্রে পিকা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি। non-food objects গিলে ফেলা গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ধারালো বা লম্বা বস্তু হলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের ঝুঁকি থাকে। সূত্র : রয়টার্স
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ঐতিহাসিক চুক্তি, স্বাক্ষর জাতিসংঘে
কানাডায় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিনের ইসলাম গ্রহণের গল্প ফের আলোচনায়
সিমেন্টের বদলে মানুষের মল ব্যবহার, ৪২% বেশি শক্তিশালী কংক্রিট বানালেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর অন্তত দুটি ইউরোপীয় শোধনাগারকে আগামী মাসে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ না করার কথা জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরামকো। ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় শোধনাগারগুলো সাধারণত মাসিক সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকা চুক্তির আওতায় সৌদি তেল কিনে থাকে। তবে আরামকো তাদের জানিয়েছে যে, আগামী মাসের পরিকল্পিত সরবরাহগুলো আর হচ্ছে না। তিনটি পাম্পিং স্টেশনে হামলার কারণে পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং বিঘ্নিত হওয়ায় এর আগেই ইউরোপীয় গ্রাহকদের সরবরাহ বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করেছিল সৌদি আরব। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ইউরোপীয় শোধনাগারগুলো এখন তেলের বিকল্প উৎস খুঁজছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, পোল্যান্ডের অরলেন বাতিল হওয়া সৌদি আমদানির ঘাটতি মেটাতে নর্থ সি বা উত্তর সাগর থেকে অপরিশোধিত তেল কিনেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি আংশিকভাবে এবং ছয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে আরামকো। লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওমানের সোহার বন্দরে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানিও বাড়িয়েছে কোম্পানিটি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং ইয়েমেনে হুথি বাহিনীর সাথে চলমান লড়াইয়ের কারণে চলতি মাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহারের বিকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জি-৭ জোটের একটি বৈঠক ডাকার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। তিনি জানান, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের ফল নয়, বরং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিণতি। সাধারণ পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য বিদ্যমান পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করার আশ্বাস দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, করদাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের আগে এই সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের দিকেই সবার বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
জার্মানি যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা
পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদে বো মা হা ম লা, নি হত অন্তত ১৬
পর কীয়ার অভিযোগে প্রেমিক যুগলকে ১০০ বেত্রা ঘাত, ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে নারী
মালাবিতে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া এক ব্রিটিশ নারীকে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজন অপহরণকারীদের গু লি বি নি ময়ে চারজন নি হ ত হয়েছেন। এ সময় দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা গু লি বি দ্ধ হয়েছেন। পুলিশ জানায়, ৪৭ বছর বয়সী নুসরাত ওসমানকে বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ব্লানটায়ারের উপকণ্ঠে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের গু লি বি নি ময় হয়। পুলিশ বলছে, তাদের কাছে একটি এ কে-৪৭ রাইফেল ও একটি পি স্তল ছিল। মালাবি পুলিশ সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানায়, গু লি বি দ্ধ চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে আঘাতের কারণে তারা মা রা যান। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কীভাবে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করেছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। অভিযানে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ নোয়েল কায়িরা গু লি বি দ্ধ হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা স্থিতিশীল। উদ্ধারের পর নুসরাতকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়। পরে তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেখানে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নুসরাতের ছোট ভাই শোবি জিওয়া ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান-কে দেওয়া বক্তব্যে মালাবি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অভিযানে গু লি বি দ্ধ পুলিশ কর্মকর্তা নোয়েল কায়িরাকে পরিবারের ‘হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। নুসরাত যুক্তরাজ্যের লেস্টারের বাসিন্দা। কয়েক বছর ধরে তিনি মালাবিতে বসবাস করছেন এবং একটি অডিট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ব্লানটায়ারের মাউন্ট প্লিজ্যান্ট এলাকায় নুসরাতকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। তিনি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার গাড়ির পথ রোধ করে তাকে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর তাকে খুঁজে বের করতে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। নুসরাতকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রে প্তার ও দো ষী সাব্যস্ত করার মতো তথ্যের জন্য ৩ কোটি মালাবিয়ান কোয়াচা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি তদন্তকারীদের কাছেও রহস্য তৈরি করেছিল। কারণ নুসরাত নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো মুক্তিপণের দাবি বা অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারও নিরাপদে ফিরে আসার আশায় আবেগঘন আবেদন জানিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস জানিয়েছিল, মালাবিতে এক ব্রিটিশ নাগরিক অপহরণের খবর তারা জানে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। নুসরাতকে উদ্ধারের পর পুরো ঘটনার পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে মালাবি পুলিশ। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্কে কানাডায় ৯০ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়ছে উদ্বেগ
ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতে গিয়ে বিরল মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত, দুবাইয়ের ৭ বছরের আমেয়ার মৃত্যু