নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় তীব্র ধস, রাজনীতি থেকে বিদায় চাইছেন ৫৯% ইসরাইলি
ইসরাইলের রাজনীতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক চাইছেন, দীর্ঘদিনের এই প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে রাজনীতি থেকে বিদায় নিন। সম্প্রতি দেশটির শীর্ষ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর এক জরিপে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন, নেতানিয়াহুর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং আসন্ন শরতের নির্বাচনে তার আর অংশ নেওয়া ঠিক হবে না। জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষ লিকুদ পার্টির এই নেতার পুনরায় নির্বাচনে লড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। বাকি ৮ শতাংশ মানুষ বিষয়টি নিয়ে কোনো মতামত জানাননি।
নেতানিয়াহুর এই প্রবল চাপের পেছনে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের পাশাপাশি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু এই চুক্তিকে অনেক ইসরাইলি ওয়াশিংটনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি আত্মসমর্পণ এবং লজ্জাজনক চুক্তি, যার ফলে ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি থাকা ৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহুর ওপর তার নিজস্ব সমর্থকদের আস্থা মূলত তলানিতে ঠেকেছে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকে। ওই হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন অপহৃত হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলিরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে। এরপর গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী অভিযানে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ইসরাইল একঘরে হয়ে পড়েছে। এমনকি গাজায় যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা। শুরুতে ইসরাইল আপত্তি জানালেও গত শুক্রবার লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংসতা পুরোপুরি থামেনি। শুক্রবার এক দিনেই দেশটিতে অন্তত ৪৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং শনিবার নতুন করে আরও ১২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই চুক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতাকে সীমিত করে দেবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা, যা দেশটির উত্তরের অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি।
ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়া এই রাজনীতিক পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এবং সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সাল থেকে টানা দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভোটারদের বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন যে, কেবল তিনিই ইসরাইলকে নিরাপদ রাখতে পারেন। তবে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন দেশটির জন্য একটি বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। দেশ-বিদেশে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণের চাপে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের মহারাষ্ট্রের ডোম্বিভলিতে ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। অপরাধলব্ধ আতঙ্ক আর তীব্র অপরাধবোধের জেরে কুখ্যাত এই হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর পুলিশ স্টেশনে গিয়ে নিজেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রভু কারাকাদে। মাতাল অবস্থায় তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনার জেরে সৃষ্ট মুহূর্তের উত্তেজনা কীভাবে একটি প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক ভয়াবহ উদাহরণ। গত ৯ অক্টোবর ডোম্বিভলির মোথাগাঁও এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রভু কারাকাদে ও বিশাল কদম ঘটনার রাতে একসঙ্গে বসে মদ্যপান করছিলেন। মদ্যপানের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধে রূপ নেয়। হঠাৎ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা চরম ক্ষোভের বশে প্রভু বিশালকে উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন। সেই নৃশংস ও প্রচণ্ড মারধরের আঘাতেই ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে প্রাণ হারান বিশাল। বন্ধু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্ক ও দিশেহারা অবস্থায় পড়ে যান প্রভু। কী করবেন বুঝতে না পেরে তিনি তড়িঘড়ি করে সাহায্যের জন্য ছুটে যান তার বাড়ির মালিক সন্দেশ মাত্রের কাছে। এরপর দুজনে মিলে ঠাণ্ডা মাথায় মৃত বিশাল কদমের নিথর দেহটি একটি বস্তাবন্দি করেন এবং গভীর রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে খালের ধারের একটি নির্জন স্থানে মরদেহটি ফেলে দিয়ে আসেন। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রভু ভেবেছিলেন, এই নিখুঁত অপরাধের জাল ভেদ করে কেউ কখনো তার কুকীর্তি টের পাবে না। কিন্তু আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়া গেলেও ঘাতকের মন থেকে অপরাধবোধ মুছে ফেলা যায়নি। শুরু হয় প্রভুর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার ও যন্ত্রণাময় অধ্যায়। খুন করার পর থেকে টানা ২০ দিন তার চোখে এক ফোঁটাও ঘুম আসেনি। রাতের ঘুমে বারবার মৃত বিশাল তার ভয়ংকর প্রেতাত্মার রূপ নিয়ে তাকে তাড়া করতে শুরু করে। প্রতিদিনের এই বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্ন, তীব্র মানসিক অবসাদ এবং বিবেকের দংশনে প্রভুর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকলেও এই মানসিক আতঙ্ক তার সমস্ত হিসাব উল্টে দেয়। শেষ পর্যন্ত টিকতে না পেরে স্বেচ্ছায় থানে পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভু কারাকাদে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ লোপাট ও লাশ গুম করতে সহযোগিতা করার অভিযোগে তার বাড়ির মালিক সন্দেশ মাত্রেকেও গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর দুই অভিযুক্তকে কল্যাণ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর কারণ ছিল কি না এবং বাড়িওয়ালার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
ইরানে হঠাৎ পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার নির্দেশনা প্রচার টেলিভিশনে
ট্রাম্পের খারাপ দিন আসছে, নির্বাচনের দিনে মার্কিনদের ধন্যবাদ দিয়ে ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির মন্তব্য
ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহুর নতুন কৌশল, বৈঠকে বিরোধী নেতারা
ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা চলতি বছরের শেষেই বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে কয়েক মাস আগেই তাঁর সমঝোতা হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর এই নিয়মিত অর্থপ্রদান বন্ধ হয়ে যাবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগে আলোচনা করে তাঁরা নিয়মিত অর্থসহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে আর অর্থ দেওয়া হবে না বলে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে। সেই সহায়তা সামরিক, অর্থনৈতিক নাকি অন্য কোনো ধরনের হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণা মূলত নিয়মিত আর্থিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে, দুই দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত একটি ১০ বছর মেয়াদি সামরিক সহায়তা সমঝোতা কার্যকর রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় করা ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত ইসরায়েলকে মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। এর মধ্যে বছরে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক অর্থায়ন এবং ৫০ কোটি ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য নির্ধারিত। ওই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, নিয়মিত অর্থপ্রদান তার দুই বছর আগেই বন্ধ হতে পারে। তবে বিদ্যমান সমঝোতা ও কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ বরাদ্দের সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্ত কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কংগ্রেসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের নির্ভরতা পুরোপুরি শেষ করতে চান তিনি। তাঁর লক্ষ্য ছিল সহায়তানির্ভর সম্পর্ক থেকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বেশি পারস্পরিক অংশীদারত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া। জুলাই মাসেও ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় একই অবস্থান তুলে ধরেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এদিকে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দুই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক অনুদান বন্ধের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ওই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলকে বিনামূল্যে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে নিজস্ব অর্থে মার্কিন অস্ত্র কেনার ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ট্রাম্পের এই ঘোষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সহায়তা সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ঘোষণাটি কার্যকর করতে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি, প্রশাসনিক নির্দেশনা কিংবা কংগ্রেসের পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকেও নতুন সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদসূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, জেরুজালেম পোস্ট ।
সূর্য ও চাঁদ হিন্দুদের, ঈদ পালনে মুসলমানদের অনুমতি নিতে হবে: বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর
ইউরোপের সাত দেশে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা, বিপুল খাদ্যপণ্য নষ্ট
৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরির দায় নিতে নারাজ উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রকেই উল্টো হুশিয়ারি
একই মায়ের গর্ভে জন্ম, বেড়ে ওঠাও একই পরিবারে। কিন্তু বড় হয়ে ধর্মীয় জীবনে দুই ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার যমজ দুই বোন। একজন ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন, অন্যজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মের সন্ন্যাসিনী। একজন পবিত্র মক্কায় হজ পালন করেছেন, অন্যজন নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন ধর্মীয় সাধনা ও অনাথ শিশুদের সেবায়। ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হলেও তাঁদের পারস্পরিক ভালোবাসা এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রয়েছে। ক্যাথলিক সংবাদ সংস্থা এজেনজিয়া ফিদেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যমজ দুই বোনের বাড়ি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে। দেশটির এই অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং খ্রিষ্টানরা সংখ্যালঘু। এমন একটি সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা দুই বোন নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করছেন। দুই বোনের একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারী। তিনি ইসলামের ধর্মীয় বিধিবিধান অনুসরণ করেন এবং পবিত্র মক্কায় হজ পালন করেছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিশ্বাস তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্য বোন সিস্টার তারসিসিয়ানা এম। তিনি ক্যাথলিক ধর্মীয় সংঘ ‘ডটার্স অব আওয়ার লেডি অব দ্য স্যাক্রেড হার্ট’-এর সদস্য। ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলের মেরাউকে শহরে একটি এতিমখানায় সেবামূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এতিম শিশুদের পরিচর্যায় সময় ব্যয় করেন তিনি। দুই বোনের জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য থাকলেও সেই ভিন্নতা তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেনি। এজেনজিয়া ফিদেসের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁরা একে অপরের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করেন। নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেও পরিবারের সদস্য হিসেবে গভীর ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সম্পর্ক ধরে রেখেছেন। দুজনের কাছে পরিবার এখনো এমন একটি জায়গা, যেখানে তাঁরা নিজেদের বিশ্বাসের পার্থক্য ভুলে নয়, বরং সেই পার্থক্যকে সম্মান করেই একে অপরের কাছে ফিরে আসেন। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে তাঁদের যমজ বোনের সম্পর্ক এবং পারিবারিক বন্ধন সমান গুরুত্ব বহন করে। ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ধর্মের অনুসারী সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠা এমন আরও পরিবার রয়েছে। এজেনজিয়া ফিদেসের একই প্রতিবেদনে পশ্চিম জাভার একটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মা-বাবা কনফুসীয় ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করলেও তাঁদের সন্তানদের পরিবারে ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী রয়েছেন। ধর্মীয় উৎসবের সময় পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান এবং পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। ইন্দোনেশিয়ার যমজ দুই বোনের জীবনেও একই ধরনের পারস্পরিক শ্রদ্ধার চিত্র দেখা যায়। একজনের কাছে ইসলামের ধর্মীয় অনুশাসন গুরুত্বপূর্ণ, অন্যজনের কাছে ক্যাথলিক সন্ন্যাসজীবন ও মানবসেবা। কিন্তু নিজেদের বিশ্বাস অনুসরণের জন্য কাউকে পারিবারিক সম্পর্ক ত্যাগ করতে হয়নি। এই দুই বোনের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে অবশ্য কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মুসলিম বোনের পূর্ণ নাম, তাঁদের বয়স, শৈশবের বিস্তারিত ঘটনা কিংবা কীভাবে দুজন ভিন্ন ধর্মীয় পথ বেছে নিয়েছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নিশ্চিতভাবে জানা যায়, একজন হজ পালন করেছেন, অন্যজন ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী হিসেবে এতিম শিশুদের সেবায় যুক্ত। ধর্মীয় বিশ্বাসের এই পার্থক্য সত্ত্বেও যমজ দুই বোনের ভালোবাসা এবং পারিবারিক সম্পর্ক অটুট রয়েছে। সূত্র: এজেনজিয়া ফিদেস।
ব্রিটেনে বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অপেক্ষা করতে হবে ১০ থেকে ১৫ বছর
অবৈধভাবে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা, চালককে জরিমানা