সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
রিসিপশনিস্ট থেকে বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান! বাংলাদেশি আলামিনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প
রিসিপশনিস্ট থেকে বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান! বাংলাদেশি আলামিনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

নিউইয়র্কে চিকিৎসকের চেম্বারে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতে গিয়ে রোগীর তথ্য ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাপনার জটিলতা দেখেছিলেন আলামিন উদ্দিন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সহপ্রতিষ্ঠাতা ওয়ালিদ আসিফকে নিয়ে গড়ে তোলেন স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নেক্সহেলথ। ২০২২ সালে নতুন বিনিয়োগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন পৌঁছায় ১০০ কোটি ডলারে।   আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশনের ২০২২ সালের ৩ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেক্সহেলথ সে সময় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসক ও রোগীর ডিজিটাল যোগাযোগ সহজ করা এবং ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সংযোগ তৈরিতে কাজ করে। এর সেবার মধ্যে রয়েছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, নিরাপদ বার্তা আদানপ্রদান ও অনলাইনে বিল পরিশোধ।    নেক্সহেলথের নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রি-মেড প্রোগ্রামে পড়ার সময় মেডিকেল রিসেপশনিস্টের কাজ করেন আলামিন। তখন তিনি দেখেন, রোগী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক কাজ ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা চিকিৎসকদের চেম্বারের কার্যক্রমে বাধা তৈরি করছে। রোগী, চিকিৎসক ও সফটওয়্যার নির্মাতাদের মধ্যে সংযোগ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে নেক্সহেলথ প্রতিষ্ঠিত হয়।   প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ‘সিনক্রোনাইজার এপিআই’। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড ব্যবস্থার তথ্যের সঙ্গে সফটওয়্যারের সংযোগ তৈরি করে। এর ফলে নতুন স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি সেবাকে চিকিৎসকের চেম্বারে ব্যবহৃত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সহজ হয়।   ২০২২ সালের সিরিজ সি বিনিয়োগপর্বে নেতৃত্ব দেয় বাকলি ভেঞ্চারস। ওই সময়ের ঘোষণায় নেক্সহেলথ জানায়, তারা ছয় কোটি ৮০ লাখ রোগীর রেকর্ড ব্যবস্থাপনা করছে। এটি সেই বিনিয়োগ ঘোষণার সময়কার পরিসংখ্যান, ২০২৬ সালের হালনাগাদ হিসাব নয়। একইভাবে ১০০ কোটি ডলারের মূল্যায়নও ২০২২ সালের বিনিয়োগপর্বের তথ্য।    উদ্যোক্তা হিসেবে আলামিন ও ওয়ালিদের প্রস্তুতির একটি অংশ শুরু হয়েছিল কলেজজীবনেই। নিউইয়র্ক ইনোভেশন কর্পসের বিবরণ অনুযায়ী, সিটি কলেজে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সময় তাঁরা ২০১৪ সালে জাহ্‌ন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সিটির ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের প্রথম সামাজিক উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে চিকিৎসক ও রোগীর অভিজ্ঞতা ডিজিটাল করার প্রাথমিক ধারণা নিয়ে কাজ করেন।   ওই প্রতিষ্ঠান নেক্সহেলথকে সিটির ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত প্রথম ইউনিকর্ন হিসেবে উল্লেখ করেছে। বেসরকারি স্টার্টআপের মূল্যায়ন অন্তত ১০০ কোটি ডলার হলে তাকে সাধারণভাবে ইউনিকর্ন বলা হয়।    এর আগেই ২০১৮ সালে ফোর্বসের স্বাস্থ্য খাতের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ তালিকায় স্থান পান দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা। ফোর্বসের পরিচিতিতে তাঁদের উদ্যোগকে রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কাগজপত্র, বিল ও ইন্স্যুরেন্সসংক্রান্ত কাজ সহজ করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরা হয়।    নেক্সহেলথের যাত্রার কেন্দ্রে ছিল চিকিৎসকের চেম্বারের দৈনন্দিন একটি সমস্যা। রোগীকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাপয়েন্টমেন্ট, যোগাযোগ ও তথ্য ব্যবস্থাপনার কাজ কীভাবে সহজ করা যায়, সেই প্রশ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি গড়ে উঠেছে। কোম্পানির ঘোষিত লক্ষ্য, রোগী, চিকিৎসক ও সফটওয়্যার নির্মাতাদের সংযোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ সহজ করা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:২৮
ইরানের প্রযুক্তিগত উন্নয়নই শত্রুর  হা মলা ঠেকানোর অন্যতম হাতিয়ার, বললেন পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রযুক্তিগত উন্নয়নই শত্রুর হা মলা ঠেকানোর অন্যতম হাতিয়ার, বললেন পেজেশকিয়ান

ইরানকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এমন এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যাতে কোনো শত্রু দেশটিতে হামলার সাহস না পায়। সম্প্রতি তেহরানের কাছে ইসলামশাহর শহরে বেশ কয়েকটি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।   আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনসহ উন্নত প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে ইরানের সাম্প্রতিক অর্জনগুলো মূলত দেশের শক্তিশালী মানবসম্পদ ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। তবে তিনি মনে করেন, কেবল বর্তমান অর্জনেই আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই; বরং দেশের ভবিষ্যৎ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আরও অনেক দূর যেতে হবে।   রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, দেশের বর্তমান অবস্থার চেয়ে আরও অনেক ভালো করার সুযোগ রয়েছে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে এবং উন্নত প্রযুক্তিতে অগ্রগতি ধরে রাখতে যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।   প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যে মূলত জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও যুগোপযোগী শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। দেশের মানবসম্পদ ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই ইরান তার কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:২২
মায়ের ভিসা প্রত্যাখ্যান, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে ব্রিটিশ শিশুর সফর অনিশ্চিত
মায়ের ভিসা প্রত্যাখ্যান, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে ব্রিটিশ শিশুর সফর অনিশ্চিত

মায়ের ভিজিটর ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় থাইল্যান্ডে থাকা পাঁচ মাসের ব্রিটিশ শিশু উইলিয়াম ক্রসের যুক্তরাজ্যে পারিবারিক সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বড়দিনে অসুস্থ প্রপিতামহের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের পরিকল্পনা ছিল।   ১৭ অক্টোবর গার্ডিয়ান জানায়, শিশুটির বাবা ম্যাথিউ ক্রস ব্রিটিশ এবং মা খিন থান্ট জিন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। হোম অফিস তাঁর আয় ও সফর শেষে ফেরার প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়নি।   পরিবার নতুন আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোম অফিস জানিয়েছে, প্রতিটি আবেদন অভিবাসন বিধি ও জমা দেওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচিত হয়। প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি শিশুটির নয়, তার মায়ের ভিসার আবেদনের বিষয়ে।    যুক্তরাজ্যের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড ভিজিটর ভিসার আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে তিনি অনুমোদিত উদ্দেশ্যে সাময়িক সফরে যাচ্ছেন এবং সফর শেষে দেশ ছাড়বেন। নিজের ও নির্ভরশীলদের যাতায়াত, থাকা এবং অন্যান্য যুক্তিসংগত খরচ বহনের ব্যবস্থাও দেখাতে হয়।   আবেদনের সহায়ক নথি নিয়ে সরকারি নির্দেশনায় ব্যক্তিগত ও আর্থিক পরিস্থিতির প্রমাণ দেওয়ার কথা রয়েছে। অন্য কেউ খরচ বহন করলে সেই সহায়তার ধরন এবং সহায়তাকারীর সামর্থ্যের প্রমাণও প্রাসঙ্গিক। ফলে যুক্তরাজ্যে স্বজনের আমন্ত্রণ থাকলেও ভিসার অন্যান্য শর্ত পূরণের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:৯
আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন
আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন

গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় নিজে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারালে কী ধরনের চিকিৎসা চান, তা আগে থেকে লিখে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই লিখিত নির্দেশনাকে বলা হয় লিভিং উইল। পাশাপাশি নিজের হয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিশ্বস্ত কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। তবে লিভিং উইল এবং সেই প্রতিনিধি নিয়োগের নথি এক নয়।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি সময়ে পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন জায়গায় থাকতে পারেন, চিকিৎসা নিয়েও তাঁদের মত আলাদা হতে পারে। নিজের ইচ্ছা আগে থেকে জানিয়ে রাখলে চিকিৎসক ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।   লিভিং উইলে মূলত চিকিৎসা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ইচ্ছা লেখা থাকে। যেমন, কোন পরিস্থিতিতে ভেন্টিলেটর, কৃত্রিমভাবে খাবার ও পানি দেওয়া কিংবা জীবন দীর্ঘায়িত করার চিকিৎসা চান। এটি মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টনের সাধারণ উইল থেকে আলাদা।   নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, লিভিং উইলের জন্য নির্দিষ্ট একটিমাত্র বাধ্যতামূলক ফর্ম নেই। রাজ্যটিতে এ বিষয়ে পৃথক আইন না থাকলেও সর্বোচ্চ আদালত রোগীর ইচ্ছার স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হিসেবে লিভিং উইলকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাই কোন পরিস্থিতিতে কী চিকিৎসা চান, তা পরিষ্কারভাবে লেখা গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যদিকে, হেলথ কেয়ার প্রক্সি হলো এমন একটি নথি, যার মাধ্যমে নিজের হয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একজন হেলথ কেয়ার এজেন্ট নিয়োগ করা যায়। শুধু লিভিং উইলে কারও নাম লিখলেই নিউইয়র্কে তাঁকে এই আইনি দায়িত্ব দেওয়া হয় না। আর্থিক বিষয় পরিচালনার সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নিও হেলথ কেয়ার প্রক্সির বিকল্প নয়।    নিউইয়র্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এমন ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি হেলথ কেয়ার প্রক্সি করতে পারেন। এতে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী প্রয়োজন। নিযুক্ত এজেন্ট বা বিকল্প এজেন্ট সাক্ষী হতে পারবেন না। এই নথির জন্য আইনজীবী বা নোটারি বাধ্যতামূলক নয়।   চিকিৎসক যখন নির্ধারণ করেন যে রোগী নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, তখন এজেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব শুরু হয়। রোগী সক্ষমতা ফিরে পেলে আবার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এজেন্টকে রোগীর ইচ্ছা, মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করতে হয়।   বিশেষ করে ফিডিং টিউব বা শিরার মাধ্যমে খাবার ও পানি দেওয়ার বিষয়ে নিজের ইচ্ছা এজেন্টকে জানানো জরুরি। নিউইয়র্কের নিয়ম অনুযায়ী, এ বিষয়ে রোগীর ইচ্ছা জানা না থাকলে এজেন্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। হেলথ কেয়ার প্রক্সি এজেন্টকে রোগীর আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দেয় না।   নথির কপি এজেন্ট, বিকল্প এজেন্ট ও চিকিৎসকের কাছে রাখা উচিত। বাড়িতেও এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখান থেকে প্রয়োজনের সময় সহজে পাওয়া যায়। হাসপাতালে ভর্তি বা অস্ত্রোপচারের সময় সঙ্গে কপি রাখার পরামর্শ দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর।    লিভিং উইলের সঙ্গে ডিএনআর বা ডু নট রিসাসিটেট নির্দেশনাকেও এক করে দেখা ঠিক নয়। ডিএনআর মূলত হৃদ্‌যন্ত্র বা শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হলে সিপিআর না দেওয়ার মেডিকেল অর্ডার। এর অর্থ সব চিকিৎসা, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ বা আরাম দেওয়ার সেবা বন্ধ করা নয়। লিভিং উইলে নিজের ইচ্ছা লিখে রাখা এবং কার্যকর ডিএনআর অর্ডার তৈরি করা পৃথক প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যেও ডিএনআরকে সিপিআরসংক্রান্ত নির্দেশনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।    হেলথ কেয়ার প্রক্সি না থাকলেই হাসপাতাল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, এমন ধারণাও সঠিক নয়। নিউইয়র্কে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে আগে থেকে প্রতিনিধি বেছে রাখলে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকে।   সরকারি দপ্তরের বিনামূল্যের ফর্ম ব্যবহার করা যায়। আইনজীবীর সহায়তা নিলে ফি সেবার ধরন অনুযায়ী বদলাবে। লিভিং উইল স্বাক্ষরের সময় দুজন সাক্ষী রাখার পরামর্শ দিয়েছে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর। অন্য রাজ্যে ব্যবহার করতে হলে সেখানকার সাক্ষী ও নোটারির নিয়মও যাচাই করা প্রয়োজন।   এসব নথি করার অর্থ চিকিৎসা প্রত্যাখ্যান করা নয়। কোন চিকিৎসা চান এবং কোন পরিস্থিতিতে চান না, দুটিই জানানো যায়। নিয়ম রাজ্যভেদে আলাদা হওয়ায় নিজের রাজ্যের নির্দেশনা অনুসরণ এবং চিকিৎসার সম্ভাব্য ফল নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করাই প্রস্তুতির মূল অংশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:১
হামজা মোহাম্মদ
যুক্তরাজ্যে ব্যাংককর্মী সেজে প্রবীণ নারীদের কার্ড হাতিয়ে নেয়ায় হামজা মোহাম্মদের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যে ব্যাংককর্মী পরিচয়ে দুই প্রবীণ নারীর কার্ড ও পিন সংগ্রহ করে ৫ হাজার ২২২ পাউন্ডের ক্ষতি করার ঘটনায় হামজা মোহাম্মদকে তিন বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। লেস্টারের ৩০ বছর বয়সী এই বাসিন্দাকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়ারউইক ক্রাউন কোর্টে সাজা দেওয়া হয়। থেমস ভ্যালি পুলিশ মামলার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ১৬ অক্টোবর।    পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হামজা বাকিংহামশায়ারের হাই উইকম্ব ও অক্সফোর্ডে বসবাসকারী আশি বছরের বেশি বয়সী দুই নারীকে তাঁদের ল্যান্ডফোনে কল করেন। নিজেকে তাঁদের ব্যাংকের কর্মী পরিচয় দিয়ে বলেন, ব্যাংক হিসাবের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। অর্থ সুরক্ষিত রাখতে কার্ডগুলো সংগ্রহ করা প্রয়োজন বলে তাঁদের বিশ্বাস করান এবং কথোপকথনের সময় পিনসহ গোপন তথ্য জেনে নেন।   এরপর কার্ড সংগ্রহ করতে লেস্টার থেকে দুই নারীর বাড়িতে যান হামজা। পুলিশ বলছে, ফেরার পথে কার্ডগুলো ব্যবহার করে এটিএম থেকে টাকা তোলা ও দামি পণ্য কেনা হয়। কার্ড বাতিল হওয়ার পর এসব লেনদেন বন্ধ হয়। দুই নারীর মোট আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় ৫ হাজার ২২২ পাউন্ড।    তদন্তের পর ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই হামজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০২৬ সালের ২৬ জুন। পরে মিথ্যা পরিচয়ে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের দুটি অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তদন্ত কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট ব্যারন বলেন, এ ধরনের অপরাধে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আত্মবিশ্বাসেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে।    হামজার মামলাটি যুক্তরাজ্যে পরিচিত ‘কুরিয়ার প্রতারণা’র একটি উদাহরণ। সিটি অব লন্ডন পুলিশের হিসাবে, ২০২৫ সালে এ ধরনের প্রতারণার ১ হাজার ৮৯১টি অভিযোগ জমা পড়ে এবং নথিভুক্ত আর্থিক ক্ষতি ২ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড ছাড়ায়। প্রবীণ ব্যক্তিরা এ অপরাধের বিশেষ লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।    পুলিশ ও জাতীয় প্রতারণা অভিযোগ সেবা রিপোর্ট ফ্রড জানিয়েছে, ব্যাংক বা পুলিশ কার্ড ও নগদ অর্থ নিতে বাড়িতে কুরিয়ার পাঠায় না এবং ফোনে পিন জানতে চায় না। কেউ ইতিমধ্যে কার্ড বা ব্যাংকের তথ্য দিয়ে থাকলে দ্রুত ব্যাংকে যোগাযোগ করে কার্ড বাতিল করতে হবে। সন্দেহজনক কলের পর একই ল্যান্ডফোন ব্যবহার করে ব্যাংকে ফোন দেওয়ার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করা বা অন্য ফোন ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রতারণার অভিযোগ রিপোর্ট ফ্রডের ওয়েবসাইটে⁠  অথবা ০৩০০ ১২৩ ২০৪০ নম্বরে জানানো যায়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৭:৫১
কানাডায় অভিবাসী গ্রহণ আবার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি
কানাডায় অভিবাসী গ্রহণ আবার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি

কয়েক বছর ধরে অভিবাসী ও অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর পর কানাডা ভবিষ্যতে আবার জনসংখ্যা ‘নিয়ন্ত্রিতভাবে’ বাড়াতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক সাক্ষাৎকারে এ সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে অভিবাসী গ্রহণের নতুন সংখ্যা বা পরিবর্তনের সময় তিনি ঘোষণা করেননি।    গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাক্ষাৎকারে কার্নি বলেন, আগের তুলনায় অভিবাসনব্যবস্থা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার পর আবাসন এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে আবার নিয়ন্ত্রিত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুরু করা যায়।    কানাডা সরকার চলতি শরতে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের নতুন অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে কার্যকর পরিকল্পনায় প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে। নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা, অর্থাৎ মূলত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের আগমনের লক্ষ্য ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর ৩ লাখ ৭০ হাজার। নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়েছে বলা যাবে না।    অভিবাসন নিয়ে নতুন আলোচনার পেছনে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া। স্ট্যাটিসটিকস কানাডার হিসাবে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৮০ হাজার, মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকার ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই হার ৫ শতাংশের নিচে নামাতে চায়।    তবে সংখ্যা আবার বাড়ানো উচিত কি না, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সি ডি হাও ইনস্টিটিউটের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা কাউন্সিল ২০২৭ সালের পর স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য ধাপে ধাপে কমানোর সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মিকাল স্কুটেরুড নিউজউইককে বলেছেন, সরকার সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তার বাস্তব প্রভাব ২০২৯ সালের আগে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি তাঁর মূল্যায়ন, সরকারের ঘোষিত সময়সূচি নয়।    বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আপাতত মূল বিষয় হলো, কার্নির বক্তব্যে নতুন ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ ঘোষণা করা হয়নি। কোন শ্রেণিতে কতজনকে নেওয়া হবে, তা জানতে নতুন সরকারি পরিকল্পনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৭:১৮
আশ্রয় আবেদন অভিভাবকহীন শিশু
২৪ ঘণ্টারও কম নোটিশে অভিবাসী শিশুদের আশ্রয় সাক্ষাৎকার, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবক ছাড়া আসা অভিবাসী শিশুদের আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ছয়টি আইনি সহায়তা সংস্থা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো শিশুকে আশ্রয় সাক্ষাৎকারের জন্য ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এতে আইনজীবীর সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়া এবং আবেদনের পক্ষে প্রমাণ জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল জেলা আদালতের সাউদার্ন ডিভিশনে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছে অ্যামিকা সেন্টার ফর ইমিগ্র্যান্ট রাইটস, দ্য ডোর ও ফ্লোরেন্স ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটস প্রজেক্টসহ ছয়টি সংস্থা। মামলায় মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস এবং বিচার বিভাগের অভিবাসন আদালত পরিচালনাকারী সংস্থা ইওআইআরের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।    আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আগে শিশুদের আশ্রয় সাক্ষাৎকারের নোটিশ সাধারণত অন্তত ২১ দিন আগে দেওয়া হতো। বাদীদের দাবি, সেপ্টেম্বর থেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই সময় কয়েক দিনে নেমেছে, কখনো ২৪ ঘণ্টারও কম। গত ১ আগস্টের পর থেকে তাদের শিশু মক্কেলদের জন্য ৬০০টির বেশি সাক্ষাৎকারের নোটিশ এসেছে। একাধিক সাক্ষাৎকার একই সময়ে নির্ধারিত হওয়ায় আইনজীবীদের উপস্থিতি নিয়েও সমস্যা হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আটক থাকা অভিভাবকহীন শিশুদের দ্রুত আশ্রয় আবেদন জমা দিতে বলা হচ্ছে। বাদীদের দাবি, ইওআইআর অভিবাসন বিচারকদের ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আটক শিশুদের মামলাগুলো শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাগুলোর ভাষায়, এসব পদক্ষেপ শিশুদের জন্য নির্ধারিত আইনি সুরক্ষাকে দুর্বল করে প্রক্রিয়াটিকে ‘দেশছাড়ার আদেশ দেওয়ার অ্যাসেম্বলি লাইনে’ পরিণত করছে। এটি বাদীপক্ষের অভিযোগ; আদালত এখনো তার সত্যতা নির্ধারণ করেননি।    অভিযোগপত্রে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত এক শিশুর ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরদিন তাঁর আশ্রয় সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়; সাক্ষাৎকার চলাকালে শিশুটি অসুস্থতা প্রকাশ করার পর তা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এ ঘটনার বিবরণও মামলার বাদীদের দেওয়া।    মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে তিনি মন্তব্য করবেন না। তবে তাঁর ভাষ্য, আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অভিবাসী অনুরোধ না করলে স্বল্প নোটিশে শুনানি নির্ধারণ করা যায় না এবং সব মামলা প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হয়। আশ্রয় সাক্ষাৎকার এবং অভিবাসন আদালতের শুনানি আলাদা প্রক্রিয়া; বাদীপক্ষের অভিযোগে দুটিই রয়েছে।   বিচার বিভাগের জুলাইয়ে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে অভিভাবকহীন শিশুদের ১৬ হাজার ৫৬০টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ৯ হাজার ৯০৬টি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। দীর্ঘদিনের এই জট কমাতে মামলার গতি বাড়ানো এবং শিশুদের প্রস্তুতির যথেষ্ট সুযোগ নিশ্চিত করা যায় কি না, সেই প্রশ্নই এখন আদালতের সামনে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৭:৩
গাজায় ইনসুলিন-সংকট
গাজায় ইনসুলিন-সংকট, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের জীবনঝুঁকির সতর্কতা

গাজায় ইনসুলিন ও রক্তে শর্করা পরীক্ষার সরঞ্জামের ঘাটতিতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, ওষুধের সংকট ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় নিয়মিত চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল রোগীরা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়ছেন।    মন্ত্রণালয়ের ১১ অক্টোবরের হিসাবে গাজায় প্রায় ৭১ হাজার ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগী, যাঁদের বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত ইনসুলিন প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ ওষুধের ঘাটতির মুখে রয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।    মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, তাদের ও জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সহায়তা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ৮১ শতাংশ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। এতে নিয়মিত পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও রোগীদের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের সুযোগ কমেছে।    গাজায় পণ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। নির্ধারিত তাপমাত্রায় ইনসুলিন সংরক্ষণের ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।    আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনও গত ৪ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গাজায় ইনসুলিন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। সংস্থাটি বলেছে, ইনসুলিন পেন, গ্লুকোমিটার, পরীক্ষার স্ট্রিপ ও সিরিঞ্জের অভাবে নিরাপদে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কঠিন হচ্ছে। অবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা না পেলে রোগীদের ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসসহ গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।    ওষুধ ও পরীক্ষার সরঞ্জাম বাধাহীনভাবে পৌঁছানোর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সংরক্ষণ ও বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ফেডারেশন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৬:৪৫
আটক ইসরায়েলি-মেক্সিকান ‘দ্য ব্যাংকার’
দুবাইয়ে ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় কলম্বিয়ায় আটক ইসরায়েলি-মেক্সিকান ‘দ্য ব্যাংকার’

দুবাইয়ে ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর কলম্বিয়ায় আটক হয়েছেন ইসরায়েলি ও মেক্সিকান নাগরিক মিখায়েল মেজরাহি। ৬১ বছর বয়সী মেজরাহি ‘এল বানকেরো’ বা ‘দ্য ব্যাংকার’ নামেও পরিচিত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বোগোতার এল দোরাদো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করে কলম্বিয়ার পুলিশ।    কলম্বিয়ার পুলিশ ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতারণা, অর্থ পাচার এবং জাল নথি ব্যবহারসংক্রান্ত মামলায় মেজরাহির বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা কার্যকর করতে তাঁকে খোঁজা হচ্ছিল। দুবাইয়ের তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি এমন একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেটি ব্যাংক অব খার্তুমের ৬ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার দিরহাম, প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার, জালিয়াতি করেছে।    তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের বড় বিনিয়োগকারী ও বৈধ বাণিজ্যিক প্রকল্পের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিতেন। ব্যাংক গ্যারান্টি, চুক্তিপত্র ও আর্থিক নথি ব্যবহার করে তাঁরা লেনদেনকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতেন। এসব নথি জাল ছিল বলে অভিযোগ করেছে কলম্বিয়ার পুলিশ।    পুলিশের দাবি, অর্থের একটি অংশ মেজরাহির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবে পাঠানো হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডব্লিউওয়াইবি এজি জেনারেল ট্রেডিংয়ের নাম উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে ভুয়া অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ পাঠিয়ে সময় নেওয়া এবং অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে। এসব বিবরণ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের ভাষ্য; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।    কলম্বিয়ার অপরাধ তদন্ত ও ইন্টারপোল শাখা, ডিজিন, দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিমানবন্দরে অভিযান চালায়। আটকের পর মেজরাহিকে কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, তা নির্ধারণে কূটনৈতিক ও বিচারিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৬:১২
টেক্সাসের মন্দিরে নবরাত্রি উৎসব,
টেক্সাসের মন্দিরে নবরাত্রি উৎসব, প্রার্থনা ও নাচে শত শত মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফ্রিসকো শহরে নবরাত্রি উৎসবের এক সন্ধ্যায় শত শত মানুষ জড়ো হন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে কার্য সিদ্ধি হনুমান মন্দিরে তাঁরা প্রার্থনা, গান ও নাচে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন শিশু, অভিভাবক, প্রবীণ ও কলেজশিক্ষার্থীরা।    ওই রাতে উৎসবের নির্ধারিত রং ছিল কমলা। উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাকে মন্দিরে আসেন অনেক অংশগ্রহণকারী। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রিসকোর এই মন্দিরে নবরাত্রির প্রতিটি রাতের জন্য আলাদা রং ও দেবীর ভিন্ন রূপ নির্ধারিত থাকে।   নবরাত্রি দেবীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে পালিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি পরিবার ও সম্প্রদায়ের সদস্যদের একত্র হওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরারও সুযোগ তৈরি করে এ আয়োজন।   মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ফ্রিসকোতে এ বছরের দেবী নবরাত্রি মহোৎসব চলছে ১১ থেকে ২০ অক্টোবর। সূচিতে সন্ধ্যার পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৫:৫১
মার্কিন দূতাবাস
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের অনুমোদিত অবস্থানের সময়সীমা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে, নির্ধারিত সময়ের বেশি থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং ফৌজদারি মামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীও হতে পারে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।    দূতাবাস জানিয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীর আগের ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারেন। অতীতে নিয়ম লঙ্ঘনের তথ্যও তাঁদের নজরে আসতে পারে। তাই ভ্রমণকারীদের ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।    পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ আর যুক্তরাষ্ট্রে একবার প্রবেশ করে কত দিন থাকার অনুমতি পাওয়া গেছে, তা এক নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবেশের সময় নির্ধারিত সময়সীমা বা আই-৯৪ নথিতে থাকা তথ্য দেখে অবস্থানের শেষ দিন নিশ্চিত করতে হয়।    অনুমোদিত সময় পার হলেই সবার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়, এমন নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অননুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ ও ব্যক্তির পরিস্থিতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর তিন বা দশ বছরের ভিসা অযোগ্যতাও প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৫:২৪
‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, সমালোচনা

মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর জর্জিয়ার ডালটনে নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্টের পদ নিয়ে উপহাস করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, তাঁর রসিকতায় উপস্থিত শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল সীমিত।    ডালটন মিউনিসিপ্যাল এয়ারপোর্টের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সংশয় হলে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই চলে। এতে নাম সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই সংখ্যার পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র দেননি। এরপর ইরানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বক্তব্যের একপর্যায়ে ‘মোহাম্মদ’ নামের কয়েকজনকে ওই পদ নিতে বলার ভঙ্গিও করেন তিনি।    ‘মোহাম্মদ’ মুসলিমদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি নাম। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি শ্রদ্ধা থেকে বহু মুসলিম পরিবার ছেলেসন্তানের এই নাম রাখে।    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে আসছেন মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, তাঁর ভাষা এসব জনগোষ্ঠীকে হেয় করে এবং নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে। তবে শুক্রবারের এই নির্দিষ্ট মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কোনো সংগঠনের পৃথক বিবৃতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৩:৪৮
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সুমি আক্তার
‘বাচ্চা গর্ভে নিয়ে আমি রিটেন পরীক্ষা দিয়েছি, জীবনের রিস্ক নিয়ে ছুটেছি, আমার গেজেটটা দিল না’

৪৫তম বিসিএসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে ১১তম মেধাক্রমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগের গেজেটে নাম আসেনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সুমি আক্তারের। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে সিদ্ধান্তের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও ন্যায়বিচার চেয়েছেন তিনি। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত গেজেটে তাঁর নাম ছিল না।    সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সুমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। এর আগে তিনটি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরে ৪৫তম বিসিএসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস এবং ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পান। দ্বিতীয়টিতে তাঁর মেধাক্রম ৬৭। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে সুমি জানান, বিসিএসের প্রস্তুতিতে তাঁর সাত বছর কেটেছে। গেজেটে নাম না আসায় নিজের কর্মজীবনের পাশাপাশি পরিবারের প্রত্যাশা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। কোনো অভিযোগ থাকলে তার ন্যায্য মূল্যায়ন এবং অন্যায় হয়ে থাকলে প্রতিকার চেয়েছেন তিনি।    সুমির স্বামী এম এ তাহেরও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। চট্টল ভয়েসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ প্রস্তুতি, সংসার ও মাতৃত্বের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সুমি বিসিএসের পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। সুপারিশ পাওয়ার পরও স্ত্রীর নাম গেজেটে না থাকার কারণ জানতে চেয়েছেন তিনি।    তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগেই সুমিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন কারণ নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি পর্যালোচিত প্রতিবেদনগুলোতে। তাঁর স্বামীর রাজনৈতিক পরিচয় এবং নিয়োগের গেজেটে নাম না থাকার বিষয়টি থেকে বাদ পড়ার কারণ নিশ্চিত করা যায় না। সুমি তাঁর বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা ও অভিযোগ থাকলে তা ন্যায্যভাবে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।   

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৩:৩৬
ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মৃত ৬ জনের নাম-পরিচয় প্রকাশ,উদ্ধারকাজ চলছে

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও উদ্ধারকাজ চলছিল। তবে নিহতদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।  জাগো নিউজের বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিমের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।    অন্যদিকে যুগান্তর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্যের বরাতে সাতজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানিয়েছে। একই প্রতিবেদনে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেছেন, ঠিক কতজন পর্যটক মারা গেছেন, তা নিশ্চিত করতে আরও সময় লাগবে। ফলে নিহতের সংখ্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যে অমিল রয়েছে।  ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানো ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। আগুনে রিসোর্টটির প্রায় সম্পূর্ণ অংশ পুড়ে যায়।    উদ্ধারকর্মীরা রিসোর্টের ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহত ছয়জনের নাম ও পরিচয় প্রকাশের দাবির পক্ষে পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনগুলোতে কোনো নিশ্চিত তালিকা নেই।  সূত্র: এশিয়া পোস্ট  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৩:৮
করোনাভাইরাস মহামারির সময় মক্কার পবিত্র কাবা শরিফ ঘিরে এক নারীর একা তাওয়াফ করার একটি ভিডিও
৬ বছর আগে মহামারির সময়ে একাই কাবা তাওয়াফ করেছিলেন এক পরম সৌভাগ্যবান নারী

করোনাভাইরাস মহামারির সময় মক্কার পবিত্র কাবা শরিফ ঘিরে এক নারীর একা তাওয়াফ করার একটি ভিডিও ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়েছিল। ফরাসি ভাষার সংবাদমাধ্যম আলনাস ওই বছরের ১৭ অক্টোবর ভিডিওটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে সেখানে নারীর পরিচয় কিংবা দৃশ্যটি ধারণের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।   প্রতিবেদনে ভিডিওটিকে এক নারীর একা তাওয়াফ করার দৃশ্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে তিনি তখন পুরো মসজিদুল হারামে একমাত্র মুসল্লি ছিলেন কি না কিংবা কী পরিস্থিতিতে এই সুযোগ পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই দৃশ্যটির সঙ্গে বিশেষ অনুমতি বা অন্য কোনো অজানা ঘটনার বিবরণ যুক্ত করার ভিত্তি নেই।  ওই সময় মহামারির কারণে ওমরাহ পালনে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল। কয়েক মাস স্থগিত থাকার পর ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর সীমিত পরিসরে ওমরাহ পুনরায় চালু হয়। প্রথম ধাপে সৌদি আরবে অবস্থানরত নাগরিক ও বিদেশিদের মধ্য থেকে দৈনিক ছয় হাজার মানুষকে ওমরাহ পালনের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তৎকালীন পরিস্থিতি প্রতিবেদনেও এই সীমার উল্লেখ রয়েছে।   ভিডিওটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের ছয় বছর পূর্ণ হলেও প্রকাশের দিনটিকেই ঘটনাটি ধারণের দিন বলা যায় না। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যে কাবা শরিফে নারীর একা তাওয়াফের দৃশ্য হিসেবে এটি ২০২০ সালের অক্টোবরেই প্রচারিত হয়েছিল।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২:৫৩
বিয়ের সাত মাস আগে মারা যান ২৫ বছর বয়সী দিয়েগো হার্নান্দেজ
বিয়ের কয়েক মাস আগে বরের মৃত্যু, ১৬ হাজার ডলার ফেরত দিতে নারাজ বিয়ের ভেন্যু কর্তৃপক্ষ

বিয়ের সাত মাস আগে মারা যান ২৫ বছর বয়সী দিয়েগো হার্নান্দেজ। এরপর অনুষ্ঠান বাতিল করে আগাম পরিশোধ করা প্রায় ১৬ হাজার ডলার ফেরত চান তাঁর বাগ্‌দত্তা। টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি মামলা করলে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে পাল্টা মামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অনুষ্ঠানস্থল পোজি মেডোজ কর্তৃপক্ষ। কেএসএট ইনভেস্টিগেটসের সংগ্রহ করা আদালতের নথিতে এ বিরোধের তথ্য উঠে এসেছে।  কেএসএটির ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেইস কাউন্টির সান মার্কোসের কাছে পোজি মেডোজে আগামী ২০ নভেম্বর তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এপ্রিলের শেষ দিকে দিয়েগোর মৃত্যু হয়। এর আগেই এই জুটি অনুষ্ঠানস্থলের জন্য ১৫ হাজার ৯০৯ ডলার ২৮ সেন্ট পরিশোধ করেছিলেন।   দিয়েগোর মৃত্যুর খবর জানানোর পর পরিবার টাকা ফেরত চায়। তাঁর মা লুসি হার্নান্দেজের ভাষ্য, মে মাসের শুরুতে মালিক জুলি ক্যাম্পবেল ফোনে জানিয়ে দেন, টাকা ফেরত দেওয়া হবে না। জুনের শেষ দিকে দিয়েগোর বাগ্‌দত্তার আইনজীবী টাকা ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। সমাধান না হওয়ায় জুলাইয়ের শেষ দিকে হেইস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেন তিনি। পরে পোজি মেডোজ পাল্টা মামলায় অভিযোগ করে, ওই নারী পরিশোধিত অর্থ ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি চুক্তি অনুযায়ী বাকি অর্থ দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছে।    চুক্তিতে অনুষ্ঠান বাতিল হলে পরিশোধ করা অর্থ ফেরত না দেওয়ার শর্ত রয়েছে। তবে বিয়ের পাত্র বা পাত্রীর মৃত্যু হলে কী হবে, সে বিষয়ে আলাদা কোনো ধারা নেই বলে জানিয়েছে কেএসএটি। মৃত্যুর প্রমাণ দেওয়া নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। পোজি মেডোজের অভিযোগ, পরিবার মৃত্যুর প্রমাণ দেয়নি। বিপরীতে ওই নারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, মামলা করার আগেই তিনি মৃত্যুসনদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীদের কাছ থেকে সাড়া পাননি। কেএসএটি চাইলে তিনি সনদের কপি সরবরাহ করেন। পরে সেটি মামলার নথিতেও যুক্ত হয়।    তবে কেএসএটির পাওয়া ইমেইলে দেখা যায়, ক্যাম্পবেল বুকিং ভবিষ্যতের কোনো তারিখে সরিয়ে নেওয়া কিংবা অন্য ধরনের অনুষ্ঠানে পরিশোধিত অর্থ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। নির্ধারিত তারিখটি অন্য কারও কাছে বুকিং দিতে পারলে আংশিক অর্থ ফেরতের সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। প্রতিবেদনটির জন্য মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও ক্যাম্পবেল সাড়া দেননি।  দিয়েগোর বাগ্‌দত্তা সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে চাননি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর মা লুসি বলেছেন, ছেলেকে হারানোর শোকের মধ্যে এই বিরোধ পরিবারকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২:২৩
কক্সবাজারের ইনানীতে আ গুনে ক্ষতিগ্রস্ত কাঠের রিসোর্ট (ছবি: সংগৃহীত ও সম্পাদিত)
কক্সবাজারের ইনানীতে কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ আ গু ন, চারজনের মৃ ত্যু, নিখোঁজ আরও সাত পর্যটক

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে কাঠের তৈরি একটি রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নি কাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পাটোয়ারটেক সৈকত এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আ গু ন লাগে। এ ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃ ত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আ গু নের পর থেকে সাতজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুড়ে যাওয়া রেস্তোরাঁ থেকে চারজনের ম রদেহ উদ্ধার করেন। আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে উখিয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা সবাই পর্যটক। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আ গু নের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সহায়তায় আ গু ন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। কাঠের তৈরি স্থাপনা হওয়ায় আ গু ন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নি কাণ্ডের পর রিসোর্টটির ভেতরে কয়েকজন পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হয়। এ ঘটনায় সাতজন পর্যটক নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা রিসোর্টের ভেতরে আটকা পড়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আ গু নের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুলা থেকে আ গু নের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেনি। অগ্নি কাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। ইনানী ও পাটোয়ারটেক সৈকত কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটন এলাকা। বিশেষ করে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা থাকায় এ ধরনের অগ্নি কাণ্ডে হতাহতের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কাঠের স্থাপনায় আ গু ন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় পর্যটনকেন্দ্রের রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলোর অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উদ্ধার অভিযান শেষে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থা এবং আ গু ন লাগার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২:১৬
লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে প্রায় ৭১০ কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনার সম্ভাবনা
লক্ষ্মীপুরে ৭১০ কোটি টাকার সুপারি বিক্রি! শ্রমিকেরও বাড়তি আয়

লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে প্রায় ৭১০ কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনার সম্ভাবনা রয়েছে। সুপারি সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। গাছ থেকে সুপারি পাড়ার কাজে কোনো কোনো শ্রমিক দিনে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।    দৈনিক ভোরের খবরের প্রতিবেদনে কৃষি বিভাগের হিসাবের বরাতে বলা হয়েছে, মৌসুমে জেলায় সুপারির সম্ভাব্য বেচাকেনার পরিমাণ প্রায় ৭১০ কোটি টাকা। এটি পুরো মৌসুমের সম্ভাব্য লেনদেনের হিসাব, ইতিমধ্যে বিক্রি হওয়া সুপারির পরিমাণ নয়।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনীসহ স্থানীয় বাজারগুলোতে সুপারি কেনাবেচা চলছে। প্রতি পণ পাকা সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়। প্রতি কাউনের দাম পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা। গাছ থেকে সুপারি পাড়ার জন্য শ্রমিকেরা প্রতিটি গাছে ১০ টাকা মজুরি পান। দিনে ২৫০ থেকে ৩০০টি গাছের সুপারি সংগ্রহ করতে পারলে তাঁদের আয় দাঁড়ায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। তবে এই আয় নির্ভর করে দৈনিক কাজের পরিমাণের ওপর।   জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। উৎপাদিত সুপারির প্রায় ৬০ শতাংশ পানিতে ভিজিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। বাকি অংশ কাঁচা অবস্থায় কিংবা রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়। সুপারি পাড়া ছাড়াও বাছাই, পরিবহন, বিক্রি ও সংরক্ষণের কাজে মৌসুমি কর্মসংস্থান তৈরি হয়। ফলে এই ফসলের বেচাকেনার সঙ্গে বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের আয়ও যুক্ত রয়েছে।  সূত্র: মাছরাঙা টিভি  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১:৫৫
ইয়েমেনের রাজধানী সানার আদালতে একাই হাজির হয়েছিল নুজুদ আলী
প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চাইতে একাই আদালতে হাজির ১০ বছরের নুজুদ

বয়স তখন প্রায় দশ বছর। পরিবারের চাপে বিয়ে হয়েছিল প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে। নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ইয়েমেনের রাজধানী সানার আদালতে একাই হাজির হয়েছিল নুজুদ আলী। বিচারকের কাছে তার আবেদন ছিল, সে বিবাহবিচ্ছেদ চায়। ২০০৮ সালের এ ঘটনা তাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আলোচনায় সামনে নিয়ে আসে।   নুজুদের স্মৃতিকথায় আদালতে যাওয়ার দিন হিসেবে ২০০৮ সালের ২ এপ্রিলের উল্লেখ রয়েছে। প্রকাশক পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউসের প্রকাশিত বইয়ের অংশে উঠে এসেছে বিচারকের সঙ্গে তার কথোপকথন। কী চায় জানতে চাইলে নুজুদ বলেছিল, ‘আমি বিবাহবিচ্ছেদ চাই।’ ওই এপ্রিলেই আদালতের মাধ্যমে বিয়ে থেকে মুক্তি পায় সে। বিয়ের সময় তার বয়স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। কোনো প্রতিবেদনে নয় বছর, আবার কোনো বিবরণে দশ বছর বলা হয়েছে। তবে সব বিবরণেই উঠে এসেছে, শৈশবেই নিজের চেয়ে অনেক বড় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়েছিল পরিবার।   ২০১০ সালে প্রকাশিত আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নুজুদ জানিয়েছিল, বিয়ের পর তাকে স্কুল থেকে সরিয়ে স্বামীর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। পরে সানায় পরিবারের কাছে বেড়াতে আসার সুযোগ পেয়ে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী শাদা নাসের তার পাশে দাঁড়ান এবং বিবাহবিচ্ছেদের আইনি লড়াইয়ে সহায়তা করেন। মামলাটি সংবাদমাধ্যমের নজরে এলে ইয়েমেনের বাল্যবিবাহের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে। নুজুদ ও নাসেরকে ২০০৮ সালে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় স্বীকৃতি দেয় গ্ল্যামার সাময়িকী। নিজের অভিজ্ঞতা পরে নুজুদ তুলে ধরে ‘আই অ্যাম নুজুদ, এজ টেন অ্যান্ড ডিভোর্সড’ নামের স্মৃতিকথায়। ফরাসি সাংবাদিক দেলফিন মিনুইয়ের সহযোগিতায় লেখা বইটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। এতে বিয়ে, নির্যাতন এবং আদালতের আশ্রয় নেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে।   বিবাহবিচ্ছেদের পর নুজুদের সামনে পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ তৈরি হলেও পথটি সহজ ছিল না। আরব নিউজের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে একপর্যায়ে তার স্কুলে পড়া ব্যাহত হয়। পরে প্রকাশকের সহায়তা ও বইয়ের রয়্যালটি দিয়ে আবার শিক্ষায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে সে।   আদালতে জয়ের পরও তার পারিবারিক ও আর্থিক সংকট কাটেনি। ২০১৩ সালে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে নুজুদের অর্থকষ্ট এবং বইয়ের আয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধের কথা উঠে আসে। শৈশবে বিয়ে থেকে মুক্তি পাওয়া তার জীবনে বড় পরিবর্তন আনলেও পরবর্তী নিরাপত্তা ও পড়াশোনা নিশ্চিত করার লড়াই তখনো চলছিল।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১:৪২
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে ইসরায়েল অনেক সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
সৌদি আরবকে অনেক সাহায্য করছে ইসরায়েল, সম্পর্কও স্বাভাবিক হতে পারে: ট্রাম্প

ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে ইসরায়েল অনেক সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে ইসরায়েল কী ধরনের সহায়তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।    টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত কি না, সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি সম্মতি জানান এবং সৌদি আরব সেই সহায়তা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই আলাপে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদ জানান ট্রাম্প। আব্রাহাম চুক্তির আওতায় সেই সম্ভাবনা আবার আলোচনায় এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য ছিল, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।    তবে ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে ইসরায়েল ইতিমধ্যে সরাসরি সহায়তা দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টাইমস অব ইসরায়েলও প্রতিবেদনে এই অস্পষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। ফলে তাঁর বক্তব্যকে নির্দিষ্ট কোনো সামরিক সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।  ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সেপ্টেম্বরে খবর পাওয়া গিয়েছিল। এটি সূত্রনির্ভর তথ্য, ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে এমন কোনো ব্যবস্থার বিস্তারিত জানাননি।    ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। সৌদি আরবকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চললেও রিয়াদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরির শর্ত বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের আশাবাদের পাশাপাশি এই শর্তও দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১:৬