সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে একটি নতুন বিল এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়ম সীমিত ও ডিভি লটারিতে বড় পরিবর্তন চেয়ে সিনেটে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে একটি বিল এনেছেন আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলটি পাস হলে ডিভি লটারি বন্ধ হবে, মার্কিন নাগরিকদের মা-বাবাসহ কয়েকটি পারিবারিক ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ডের সুযোগ শেষ হবে এবং চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড দেওয়ার নিয়ম বদলে পয়েন্ট পদ্ধতি চালু হবে। বিলটি এখনো আইন হয়নি; বর্তমান আবেদনকারীদের নিয়মেও এ কারণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।   ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামের প্রস্তাবে মার্কিন নাগরিকের মা-বাবাকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্য ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ ক্যাটাগরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে অন্তত ২১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক তাঁর মা-বাবার জন্য আবেদন করতে পারেন। বিলটি কয়েকটি পারিবারিক পছন্দভিত্তিক ক্যাটাগরিও বাতিল করতে চায়। তবে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানের জন্য আবেদনের পথ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।   প্রস্তাবটি শুধু ভবিষ্যতের আবেদনেই সীমিত নয়। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাতিলের প্রস্তাব থাকা ক্যাটাগরিগুলোতে বিচারাধীন আবেদন অনুমোদন করা যাবে না। বিল কার্যকর হওয়ার আগে অনুমোদিত আবেদন থেকে কতজন ভিসা পাবেন, তার ওপরও একটি অন্তর্বর্তী সীমা রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে আইন হলে ইতিমধ্যে আবেদন করা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।   চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের প্রচলিত ক্যাটাগরিগুলোর জায়গায় পয়েন্ট পদ্ধতি আনার প্রস্তাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রস্তাব, বয়স, ইংরেজিতে দক্ষতা, বেতন ও শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে এবং তাঁকে অন্তত ১৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। প্রস্তাবিত বেতনের শর্তও পূরণ করতে হবে।   বিলে চাকরির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসার বার্ষিক প্রাথমিক সংখ্যা এক লাখ ৯২ হাজার রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে বিলের নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী সেই সংখ্যা কমতে পারে। ডিভি লটারির মাধ্যমে ভিসা দেওয়াও বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে।   টিউবারভিলের সিনেট বিলের আগে এপ্রিলে প্রতিনিধি পরিষদে একই উদ্দেশ্যে একটি বিল এনেছিলেন আলাবামার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ব্যারি মুর। সিনেটের প্রস্তাবে কিছু শর্ত ও কার্যকরের সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। কোনো পরিবর্তন কার্যকর হতে হলে বিলকে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া পেরোতে হবে। তত দিন গ্রিন কার্ড বা ডিভি লটারির নিয়ম বদলে গেছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১০:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ও ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ার প্রতীকী ছবি
আমেরিকান নাগরিকত্বের আবেদনেই বড় সুবিধা, ফি দিতে হবে না যাদের

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য ফি ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বা ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, কিছু সামরিক সদস্য ও যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্য ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন করার সময় নির্ধারিত ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। বর্তমানে এন-৪০০ ন্যাচারালাইজেশন আবেদনের সাধারণ ফি ৭৬০ ডলার।   প্রথমত, যারা সক্রিয়ভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত এবং অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন, তাদের এন-৪০০ আবেদনের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। এই ক্ষেত্রে আইনের অধীনেই ফি মওকুফ হয়ে যায় এবং আলাদাভাবে ফি মওকুফের আবেদন করার প্রয়োজন নেই।   দ্বিতীয়ত, যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের আবেদন ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। শান্তিকালীন সময়ে বা নির্ধারিত শত্রুতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সম্মানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। এ জন্য সামরিক বা নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের প্রমাণ হিসেবে এন-৪২৬ ফরম জমা দিতে হয়।   ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সামরিক শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার কিছু সাধারণ শর্তেও ছাড় থাকতে পারে। যেমন, নির্ধারিত শত্রুতার সময় সম্মানের সঙ্গে সামরিক দায়িত্ব পালনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের আবেদনের আগে সাধারণ আবাসন বা যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিক উপস্থিতির কিছু শর্ত প্রযোজ্য নাও হতে পারে।   তবে সামরিক সদস্যদের জন্য নির্ধারিত এই ফি ছাড়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ফি মওকুফের জন্য ব্যবহৃত আই-৯১২ ফরম জমা দেওয়া উচিত নয়। কারণ সামরিক আইনের অধীনে যোগ্য হলে ফি ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রযোজ্য হয়।   সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের জন্যও আর্থিক সংকটের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন ফি কমানোর বা পুরোপুরি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আই-৯১২ ফরম জমা দিতে হয়। যাদের পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের মধ্যে, যারা নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা পান অথবা যারা গুরুতর আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তারা পুরো ফি মওকুফের জন্য আবেদন করতে পারেন।   এ ছাড়া পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের বেশি কিন্তু ৪০০ শতাংশের মধ্যে হলে কাগজে আবেদন করার ক্ষেত্রে ৩৮০ ডলারের কমানো ফি প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ যোগ্যতা ও আয়ের ভিত্তিতে কিছু আবেদনকারীকে পুরো ফি না দিয়ে কম ফিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগও রয়েছে।   তবে এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে সামরিক সদস্যদের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে হবে। নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৫:৩৪
আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব
আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে বিনা পরোয়ানায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) গ্রেপ্তার কমানো এবং নির্দোষ অভিবাসীদের অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক দলের ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যালেক্স প্যাডিলা যৌথভাবে ‘ইমিগ্রেশন ওয়ারেন্ট রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি প্রস্তাব করেছেন।   আইসিই যাতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অথবা বর্ণবাদের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রাখতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা অনেক অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিককেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, যা এই বিল প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।   প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবশ্যই তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রশাসনিক পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং আটকের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। পরোয়ানার পাশাপাশি আটকের পর কবে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরা দিতে হবে, তা-ও আটকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।   বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন শুনানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, আটকে রাখা প্রতিটি অনাগরিকের হেফাজতের বিষয়টি প্রতি ৬০ দিন পরপর কোনো ইমিগ্রেশন বা মার্কিন জেলা বিচারককে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে বিনা বিচারে কেউ দীর্ঘদিন আইসিই হেফাজতে না থাকেন। সিনেটর প্যাডিলা বলেন, এই আইনটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধ হবে।   তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি সহজে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা এই বিলের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, ‘জননিরাপত্তার জন্য আসন্ন বিপদ’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের যে সুযোগ আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে রাখা হয়েছে, তা অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন তারা।   টেক্সাস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইসেস-এর সহ-প্রধান নির্বাহী ফয়সাল আল-জুবুরি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ সিভিল বা দেওয়ানি অপরাধের জন্য কাউকে আটকে রাখা এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা কতটা যৌক্তিক। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মৌলিক সাংবিধানিক সুরক্ষার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৬:৫
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনের ফি থেকে নির্দিষ্ট ৭ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় আবেদন ফি নেই ৭ ক্যাটাগরির, কারা পাবেন এই সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করার সময় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭ ধরনের আবেদনকারী এই ফি-মওকুফের আওতায় পড়তে পারেন। তবে এই সুবিধা সব ভিসা আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য নয় এবং নিজে থেকেই কার্যকরও হয় না।   প্রথমত, A, G, C-2, C-3, NATO ও কূটনৈতিক ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। এসব ভিসা মূলত কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ন্যাটোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি কাজে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।   দ্বিতীয়ত, J ভিসায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া আবেদনকারীদের আবেদন ফি মওকুফ করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ছাড় নির্দিষ্ট সরকারি অর্থায়ন ও প্রোগ্রাম সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত।   তৃতীয় ক্যাটাগরিতে রয়েছেন এমন আবেদনকারীরা, যাদের মেশিন-রিডেবল ভিসা নতুন করে প্রতিস্থাপন বা পুনরায় ইস্যু করতে হচ্ছে আবেদনকারীর কোনো ভুল ছাড়াই। যেমন, আগের ভিসাটি সঠিকভাবে পাসপোর্টে সংযুক্ত না হলে নির্দিষ্ট শর্তে নতুন ভিসা ইস্যুর জন্য আবেদন ফি নেওয়া হয় না।   চতুর্থত, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ফি থেকে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা এই সুবিধা পেতে পারেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ স্বীকৃত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কোনো পর্যবেক্ষক মিশনের সদস্য ও কর্মী এবং তাদের নিকট পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। বিষয়টি ভিসা সার্ভিসেসের নির্ধারণের ওপর নির্ভর করে।   পঞ্চম ক্যাটাগরিতে রয়েছেন দাতব্য বা মানবিক সেবা দিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী ব্যক্তিরা, তবে তাদের ক্ষেত্রে ফি ছাড় প্রযোজ্য হবে কি না, তা ভিসা সার্ভিসেস নির্ধারণ করে।   ষষ্ঠত, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মীরা সরকারি দায়িত্বে বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করলে তাদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন প্রসেসিং ফি দিতে হয় না।   সপ্তম ক্যাটাগরিতে রয়েছেন কর্তব্যরত অবস্থায় নি হত বা গুরুতর আহ ত মার্কিন সরকারি কর্মীর নিকট পরিবারের সদস্যরা। কর্মস্থলে মৃ ত্যুবরণ করা সরকারি কর্মীর জানাজা বা দাফনে অংশ নিতে যাওয়া বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানরা নির্দিষ্ট শর্তে ফি ছাড় পেতে পারেন। একইভাবে দায়িত্ব পালনের সময় গুরুতর আহত সরকারি কর্মীকে জরুরি চিকিৎসা বা সুস্থ হওয়ার সময়ে দেখতে যাওয়া নিকট পরিবারের সদস্যরাও এই ছাড়ের আওতায় পড়তে পারেন।   তবে সাধারণ পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষার্থী বা অধিকাংশ কর্মসংক্রান্ত ভিসার আবেদনকারীদের জন্য এই ফি-মওকুফ প্রযোজ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সাধারণ নন-পিটিশনভিত্তিক ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন প্রসেসিং ফি ১৮৫ ডলার; আর কিছু পিটিশনভিত্তিক ভিসায় ফি আরও বেশি।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন ফি মওকুফ আর ভিসা ইস্যু ফি এক বিষয় নয়। কোনো আবেদনকারী ফি-মওকুফের যোগ্য হলেও তার জাতীয়তা বা ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা রেসিপ্রোসিটি বা ইস্যুয়েন্স ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের ভিসার ধরন, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও প্রযোজ্য ছাড়ের শর্ত যাচাই করা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৬:১১
পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন আয়সীমা প্রকাশ করেছে ইউএসসিআইএস
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নতুন আয়সীমা, যা জানাল ইউএসসিআইএস

পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনকে গ্রিন কার্ডে আনতে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন আয়সীমা প্রকাশ করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টের ক্ষেত্রে স্পনসরকে সাধারণত পরিবারের আকার অনুযায়ী ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় দেখাতে হয়।   ৪৮টি কনটিগুয়াস স্টেট, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া, পুয়ের্তো রিকো, ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস, গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসে ২০২৬ সালের হিসাবে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের জন্য ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪১ হাজার ২৫০ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের জন্য ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার আয় দেখাতে হবে।   ছয় সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৫৫ হাজার ৪৫০ ডলার, সাত সদস্যের জন্য ৬২ হাজার ৫৫০ ডলার এবং আট সদস্যের জন্য ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার। আটজনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার যোগ করতে হবে।   হাওয়াইয়ের ক্ষেত্রে আয়সীমা তুলনামূলক বেশি। সেখানে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ৩১ হাজার ১১৩ ডলার, তিন সদস্যের জন্য ৩৯ হাজার ২৭৫ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪৭ হাজার ৪৩৮ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের জন্য ৫৫ হাজার ৬০০ ডলার। আট সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন ৮০ হাজার ৮৮ ডলার। এরপর প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৮ হাজার ১৬৩ ডলার করে যোগ হবে।   স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলেও সব ক্ষেত্রে আবেদন শেষ হয়ে যায় না। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন জয়েন্ট স্পনসর যুক্ত করা যেতে পারে, পরিবারের অন্য সদস্যের যোগ্য আয় ফর্ম আই-৮৬৪এ-এর মাধ্যমে হিসাব করা যেতে পারে অথবা নির্দিষ্ট যোগ্য সম্পদ ব্যবহার করে আয়ের ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে।   ফর্ম আই-৮৬৪ মূলত এমন একটি আর্থিক অঙ্গীকার, যার মাধ্যমে স্পনসর যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জানান যে তিনি স্পনসর করা অভিবাসীকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে সক্ষম। কিছু ক্ষেত্রে স্পনসর করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা নিলে সেই সুবিধার খরচ ফেরত দেওয়ার দায়ও স্পনসরের ওপর আসতে পারে।   তবে সামরিক বাহিনীর কিছু স্পনসরের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সক্রিয় দায়িত্বে থাকা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী বা কোস্ট গার্ডের সদস্য যদি নিজের স্বামী/স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্পনসর করেন, তাহলে সাধারণ ১২৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ ফেডারেল দারিদ্র্যসীমা প্রযোজ্য হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৬:৬
ভিসা জালিয়াতি ও অপব্যবহারের অভিযোগ জানাতে নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ভিসা জালিয়াতি ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ, অভিযোগ জানাতে নতুন ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্রের

ভিসা জালিয়াতি, অপব্যবহার ও অভিবাসন আইনের অন্যান্য লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সাধারণ মানুষ এই পোর্টালের মাধ্যমে সন্দেহজনক ভিসা জালিয়াতি বা অপব্যবহারের তথ্য জানাতে পারবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে চালু করা পোর্টালটির লক্ষ্য হলো ভিসা সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা, যা প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ভিত্তি হতে পারে। দপ্তর জানিয়েছে, জমা দেওয়া প্রতিটি অভিযোগ পর্যালোচনা করা হবে এবং মার্কিন আইন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অভিযোগ জানানোর সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, তত ভালো। নাম, যোগাযোগের তথ্যসহ বিস্তারিত তথ্য দিলে তদন্তকারীদের প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে যোগাযোগ করা সহজ হবে। তবে চাইলে পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশনায় এই পোর্টাল চালু করা হয়েছে। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতি বা অপব্যবহারের প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।   নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন থেকে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও সরাসরি সংগ্রহ করা হবে।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জন্ম পর্যটন বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে এক নাইজেরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনাও সামনে এসেছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি ও ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ চুরির অভিযোগ রয়েছে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, লেজিট ডট এনজি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৫:৫০
আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও
আইসিইর আটকের ভয়ে পালাতে গিয়ে নিহত অভিবাসী চালকের পরিবারের আহাজারি

মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে আইসিইর গাড়ি থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। ৩৬ বছর বয়সী মারিও ছিলেন তিন সন্তানের বাবা। যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণকাজ করে উপার্জনের অর্থ তিনি গুয়াতেমালায় থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে পাঠাতেন বলে পরিবার জানিয়েছে।   মারিওর স্ত্রী মাসাদোনিয়া জানিয়েছেন, স্বামী প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। কিন্তু গত রোববার সকালে তার নিয়মিত ফোনটি আসেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি সন্তানদের জানান, কেন তাদের বাবা ফোন করছেন না, তা তিনি জানেন না। পরে তারা জানতে পারেন, মারিও গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। স্ত্রী বলেন, মারিও সন্তানদের নিয়ে সবসময় চিন্তা করতেন এবং তাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মারিওর ১৩ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং ৭ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তিনি গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ করছিলেন এবং উপার্জনের অর্থ নিয়মিত পরিবারকে পাঠাতেন। এখন তার মরদেহ গুয়াতেমালায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে পরিবার।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে হল স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় আইসিই এজেন্টরা মারিওর গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ বলছে, চালক সেখান থেকে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যান। প্রায় এক মাইল দূরে ম্যাককেনড্রিক স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় গাড়িটি একটি গাছে ধাক্কা দেয় এবং আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আইসিইর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগের কোনো পূর্বজ্ঞান বা সম্পৃক্ততা ছিল না। ফেডারেল এজেন্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় তদন্তকারীদের সীমাবদ্ধতা থাকায় পুলিশ প্রধান জোসেফ ট্রিগ মিশিগান স্টেট পুলিশকে তদন্তে যুক্ত করার অনুরোধ করেন। গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   নিহত ব্যক্তিকে গুয়াতেমালার নাগরিক মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজ হিসেবে শনাক্ত করেছেন গুয়াতেমালার শিকাগো কনসাল জেনারেল রোজারিও ওভান্দো। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারিও গুয়াতেমালার সান মার্কোস শহরের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছিলেন।   এদিকে ঘটনার পর গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি তুলেছেন। তবে আইসিইর থামানোর চেষ্টা এবং পরবর্তী দুর্ঘটনার মধ্যে আইনগত দায় বা চূড়ান্ত কারণ এখনো তদন্তাধীন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   মারিওর স্ত্রী এখন স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে একা হয়ে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ গুয়াতেমালায় নিয়ে গিয়ে স্বজনদের কাছে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাস্থলের কাছে তাকে স্মরণ করে একটি ভিজিল বা স্মরণসভা আয়োজনের কথাও জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   সূত্র: ফক্স ১৭, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৫:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ভিসায় ১ অক্টোবর থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই
১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ভিসায় বাধ্যতামূলক সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও তিনটি ভিসা শ্রেণি যুক্ত হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে আই, টিএন ও টিডি ভিসার আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা যাচাই আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।   নতুন নিয়মের আওতায় আই ভিসা হলো বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য, আর টিএন ভিসা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য। টিডি ভিসা মূলত টিএন ভিসাধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের মতো নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবহৃত হয়।   পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আই, টিএন ও টিডি ভিসার সব আবেদনকারীকে নিজেদের সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংস ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভিসা কর্মকর্তারা আবেদনকারীর অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারবেন।   এর আগে থেকেই বেশ কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন উপস্থিতি যাচাই চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক ও সরকারি ভিসার কিছু শ্রেণি, এফ ও এম শিক্ষার্থী ভিসা, এইচ-১বি ও সংশ্লিষ্ট কিছু ভিসা, জে-১ ও জে-২ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা, কে-১, কে-২ ও কে-৩ ভিসা, কিউ, আর-১ ও আর-২ এবং এস, টি ও ইউ শ্রেণির ভিসা।   পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর বিষয়ে যত ধরনের তথ্য পাওয়া যায়, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন বা জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন—এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করা।   দপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রতিটি ভিসা আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারী যে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তার শর্ত মেনে চলার প্রকৃত ইচ্ছা রয়েছে কি না এবং তিনি ওই ভিসার যোগ্যতা যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।   ২০২৬ সালের মার্চেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বেশ কয়েকটি নতুন ভিসা শ্রেণিতে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছিল। তখন সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপনীয়তা সেটিংস ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৮:৩৭
ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের গ্রিন কার্ডে ৮ শর্ত জানাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের গ্রিন কার্ড, পূরণ করতে হবে যে ৮ শর্ত

ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পেতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় পছন্দ বা ইবি-৩ ক্যাটাগরির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য আবেদনকারীরা ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিয়ে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর প্রথমে সঠিকভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। তাকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিদর্শিত ও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া, অথবা প্যারোল করা হয়ে থাকতে হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।   এ ছাড়া আবেদনকারীকে অভিবাসী ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে এবং ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার সময় ও ইউএসসিআইএসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়—দুই সময়েই তার জন্য অভিবাসী ভিসা অবিলম্বে পাওয়ার মতো অবস্থায় থাকতে হবে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, যে নিয়োগকর্তা আবেদনকারীর জন্য ফর্ম আই-১৪০ জমা দিয়েছেন, তার দেওয়া চাকরির অফারটি তখনও বহাল থাকতে হবে এবং আই-৪৮৫ অনুমোদিত হলে আবেদনকারীকে সেই চাকরি গ্রহণের ইচ্ছা থাকতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য তাকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে অথবা অগ্রহণযোগ্যতার কোনো শর্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েইভার বা আইনি সুবিধার জন্য যোগ্য হতে হবে।   সবশেষে, ইউএসসিআইএসকে আবেদনকারীর পক্ষে গ্রিন কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত সব শর্ত পূরণ করলেও আবেদনটি অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।   চাকরি পরিবর্তন করলে কী হবে? ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আই-১৪০ অনুমোদনের পর চাকরি পরিবর্তন করলেই আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যান না। ফর্ম আই-৪৮৫ অন্তত ১৮০ দিন মুলতবি থাকার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। নতুন চাকরিটি আগের চাকরির মতো বা একই ধরনের পেশাগত শ্রেণিতে হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে চাকরি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ইবি-৩সহ কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে চাকরির অফার ও সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনকারীদের ফর্ম আই-৪৮৫, আই-১৪০ এবং প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টসহ সব নথি সঠিকভাবে জমা দেওয়া এবং নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৭:৫০
পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের ৫ ক্যাটাগরি
গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র

পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন আত্মীয় যোগ্য হতে পারেন, তা স্পষ্ট করেছে দেশটির ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। ফ্যামিলি-স্পনসর্ড প্রেফারেন্স প্রোগ্রামের আওতায় মার্কিন নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট কিছু আত্মীয় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এসব ক্যাটাগরিতে বার্ষিক ভিসা সংখ্যার সীমা রয়েছে।   এই ব্যবস্থায় মোট পাঁচটি প্রধান ক্যাটাগরি রয়েছে—এফ১, এফ২এ, এফ২বি, এফ৩ এবং এফ৪। কোন ক্যাটাগরি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের সদস্যের সম্পর্ক এবং স্পনসর মার্কিন নাগরিক নাকি গ্রিন কার্ডধারী, তার ওপর।   এফ১: ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন, যদি তাদের স্পনসর মার্কিন নাগরিক হন।   এফ২এ: যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এই ক্যাটাগরির জন্য বিবেচিত হন।   এফ২বি: গ্রিন কার্ডধারীর ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন।   এফ৩: মার্কিন নাগরিকের বিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন। তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতার অধীনে সন্তানরাও সংশ্লিষ্ট পারিবারিক ইমিগ্রেশন সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   এফ৪: অন্তত ২১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। যোগ্যতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভাই বা বোনের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের জন্যও ডেরিভেটিভ সুবিধা থাকতে পারে।   তবে এসব ক্যাটাগরিতে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর প্রেফারেন্স ক্যাটাগরি ও অগ্রাধিকার তারিখের ওপর ভিসা পাওয়ার সময় নির্ভর করে। ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে যোগ্য আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিয়ে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন।   এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজেদের পারিবারিক সম্পর্ক অনুযায়ী সঠিক ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এফ১, এফ২এ, এফ২বি, এফ৩ ও এফ৪—প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও ভিসা-সংক্রান্ত অপেক্ষার নিয়ম রয়েছে।    

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৭:৫
চাকরির অফার ছাড়াই গ্রিন কার্ডের সুযোগ, রয়েছে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
গ্রিন কার্ড পেতে চাকরির অফার বাধ্যতামূলক নয়, যে ৩ শর্ত জানাল ইউএসসিআইএস

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির অফার বা নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি সুযোগ রয়েছে বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য। ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ নামের এই প্রক্রিয়াটি ইবি-২ ইমিগ্রেশন শ্রেণির আওতায় পড়ে। এর মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা নিজেরাই আবেদন করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চাকরির অফার ও পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশনের শর্ত মওকুফের আবেদন করতে পারেন।   তবে এনআইডব্লিউর জন্য আবেদন করলেই সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। প্রথমে আবেদনকারীকে ইবি-২ শ্রেণির মৌলিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ তাকে অ্যাডভান্সড ডিগ্রিধারী পেশাজীবী হতে হবে অথবা বিজ্ঞান, শিল্পকলা কিংবা ব্যবসায় অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। এই প্রাথমিক যোগ্যতা পূরণ না হলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বিবেচনাই করা হয় না।   ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, ইবি-২ যোগ্যতা প্রমাণের পর এনআইডব্লিউ পেতে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, আবেদনকারীর প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব এবং জাতীয় গুরুত্ব থাকতে হবে। অর্থাৎ শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, ওই কাজের সম্ভাব্য প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে।   দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে প্রস্তাবিত কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম অবস্থানে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে তার শিক্ষা, দক্ষতা, জ্ঞান, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আগের সাফল্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং কাজটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে করা অগ্রগতি বিবেচনা করতে পারে ইউএসসিআইএস।   তৃতীয়ত, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চাকরির অফার এবং সংশ্লিষ্ট লেবার সার্টিফিকেশনের শর্ত মওকুফ করা লাভজনক হবে—এটি প্রমাণ করতে হবে। ইউএসসিআইএসের মূল্যায়নে আবেদনকারীর কাজ, যোগ্যতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার সম্ভাব্য অবদানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে।   অর্থাৎ এনআইডব্লিউর ক্ষেত্রে তিনটি শর্তই পূরণ করা প্রয়োজন। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে এবং আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় প্রমাণের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হয়।   চাকরির অফারের শর্ত মওকুফ হলেও আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয়। এনআইডব্লিউ আবেদনের ক্ষেত্রে লেবার সার্টিফিকেশনের কিছু আবেদনকারী-সংক্রান্ত অংশ জমা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে, যদিও নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ওই সার্টিফিকেশনের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন থাকে না।   এই পথটি বিশেষ করে গবেষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো কাজ করতে চান যার সম্ভাব্য গুরুত্ব বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যারা নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই নিজেদের পেশাগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চান।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:৫১
ফ্লোরিডার উপকূলে নৌযান থেকে ১৩ চীনা নাগরিকসহ ২২ জন আ টক
সাগরপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা, ফ্লোরিডার উপকূলে ১৩ চীনা নাগরিকসহ ২২ জন আ টক

সাগরপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ফ্লোরিডার উপকূলের কাছে একটি নৌকা থেকে ১৩ জন চীনা নাগরিকসহ ২২ জনকে আ টক করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি ও কোস্ট গার্ড। এ সময় নৌকাটি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কিউবার এক নাগরিককেও আ টক করা হয়েছে।   মঙ্গলবার ফ্লোরিডার কী লার্গোর কাছে অ্যাঞ্জেলফিশ ক্রিক এলাকায় ২৭ ফুটের একটি নৌযান শনাক্ত করে সিবিপির এয়ার অ্যান্ড মেরিন অপারেশনসের একটি বিমান। পরে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় নৌযানটি থামানো হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই আ টক করা সম্ভব হয়েছে।   আ টক ২২ জনের মধ্যে ১৩ জন চীনের নাগরিক, আটজন ইকুয়েডরের এবং একজন ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। নৌযানটি জব্দ করা হয়েছে এবং আ টক ব্যক্তিদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইউএস কোস্ট গার্ডের কাটার ‘পাবলো ভ্যালেন্ট’-এ নেওয়া হয়।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যারিবীয় সাগরের এই ধরনের সমুদ্রপথ ব্যবহার করে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের স্থল সীমান্তপথে বেশি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সিবিপির এয়ার অ্যান্ড মেরিন অপারেশনসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক আন্দ্রেস ব্লাঙ্কো বলেন, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার ভাষ্য, এই অভিযান মানব পা চারকারী চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত তৎপরতার উদাহরণ।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমুদ্রপথে এ ধরনের যাত্রায় প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে। আ টক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।   ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের কর্মকাণ্ড নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:২৯
আইসিই অভিযানের ভিডিও করা মার্কিন কিশোর লুইস ওচোয়া
আইসিই অভিযানের ভিডিও করা মার্কিন কিশোরের মা মেক্সিকোতে ফেরত

টেক্সাসের আলামোতে আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে ১৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ছেলে আটকের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার মা তেরেসা ওচোয়া ব্রিসেনোকে আটক করে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়। পরে একই দিন তাকে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশের আওতায় মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস জানিয়েছে।   তেরেসার ছেলে লুইস ওচোয়া ১৭ বছর বয়সী একজন মার্কিন নাগরিক। ১১ সেপ্টেম্বর আলামোতে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অভিযান দেখার সময় তিনি ও তার এক বন্ধু সেটি ভিডিও করছিলেন। পরে দুই কিশোরকেই আটক করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই কিশোরকে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন।   লুইসের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও তার বন্ধু ইউএস মেরিন কোরে যোগদানের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অভিযান দেখতে পেয়ে তারা গাড়ি থামিয়ে ভিডিও করতে শুরু করেন। ভিডিওতে কর্মকর্তাদের একজনকে একটি গাড়ির কাছে যেতে এবং পরে কিশোরদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়াতে দেখা যায়। লুইসের দাবি, তাকে পেপার স্প্রে করা হয় এবং আটকের সময় তার কবজিতে আঘাত লাগে।   তবে ঘটনাটি নিয়ে ফেডারেল সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। ডিএইচএস দুই কিশোরকে ‘অ্যান্টি-আইসিই অ্যাজিটেটর’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, তারা কর্মকর্তাদের গাড়ির কাছে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করেছিল। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন কিশোর সরকারি গাড়ির জানালায় বারবার আঘাত করার পর তাকে আটক করতে গেলে সে প্রতিরোধ করে। ঘটনাটিতে দুই আইসিই কর্মকর্তা সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা নেন বলেও ডিএইচএস দাবি করেছে।   পরে দুই কিশোর আলামো পুলিশ ডিপার্টমেন্টে অভিযোগ করে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি ডিএইচএসের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, কিশোরদের আইনজীবী জানিয়েছেন, কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।   এরপর তেরেসা ছেলের আটকের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলেন। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে আলামোর কাছে একটি রেস্টুরেন্টে কাজে যাওয়ার সময় আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। তার আইনজীবী কার্লোস গার্সিয়ার বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সকাল প্রায় ৬টার দিকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার গাড়ির জানালার কাচ ভাঙা হয়েছিল বলেও আইনজীবী দাবি করেছেন।   তেরেসার গ্রেপ্তার ও দ্রুত মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় তার পরিবার ও অধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তার ছেলে লুইস দাবি করেছে, আটকের পর তার মা তাকে জানিয়েছিলেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। তবে আইসিই এ দাবির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি।   অন্যদিকে, ডিএইচএস বলেছে, তেরেসাকে একটি ‘টার্গেটেড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তেরেসা ২০০৫ সালে অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ২০২৫ সালে তাকে মেক্সিকোতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি আবার অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ কার্যকর করে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়।   তেরেসার গ্রেপ্তারের ফলে তার চার সন্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। এদিকে, কয়েক দিন আগে আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে লুইসের আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন কিশোরদের আটকের ঘটনা, তাদের পরিবারের ওপর এর প্রভাব এবং তেরেসাকে দ্রুত মেক্সিকোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:২০
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের সুযোগ
বিদেশিদের জন্য গ্রিন কার্ডের সুযোগ, চাকরির ক্ষেত্রে যেসব যোগ্যতা দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য রয়েছে একাধিক পথ। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বা ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য প্রধানত তিনটি অগ্রাধিকার ক্যাটাগরি রয়েছে—ইবি-১, ইবি-২ ও ইবি-৩। এসব ক্যাটাগরিতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা থাকা পেশাজীবী থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।   প্রথম ক্যাটাগরি ইবি-১ মূলত নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী ব্যক্তিদের জন্য। বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব থাকা ব্যক্তিরা এই শ্রেণিতে আবেদন করতে পারেন। পাশাপাশি অসামান্য অধ্যাপক ও গবেষক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট পর্যায়ের ব্যবস্থাপক ও নির্বাহীরাও এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়তে পারেন।   দ্বিতীয় ক্যাটাগরি ইবি-২-এর আওতায় রয়েছে উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিজ্ঞান, শিল্প বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতা থাকা ব্যক্তিরা। এই শ্রেণিতে জাতীয় স্বার্থে কাজ করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারা কিছু আবেদনকারী ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ-এর জন্যও বিবেচিত হতে পারেন। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে প্রচলিত নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপের প্রয়োজনীয়তা থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   তৃতীয় ক্যাটাগরি ইবি-৩ তুলনামূলকভাবে আরও বিস্তৃত। এতে অন্তত দুই বছরের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা থাকা দক্ষ কর্মীরা যেমন অন্তর্ভুক্ত, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রিধারী পেশাজীবীরাও আবেদন করতে পারেন। দুই বছরের কম প্রশিক্ষণ বা প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা থাকা কিছু কর্মীকেও এই ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হয়। তবে এই শ্রেণির ক্ষেত্রে ভিসার বার্ষিক সীমার কারণে অনেক সময় অপেক্ষার মেয়াদ দীর্ঘ হতে পারে।   তবে এসব ক্যাটাগরির কোনো একটির আওতায় পড়লেই সরাসরি গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি শ্রেণির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও প্রমাণের প্রয়োজন হয়। কোথাও শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, আবার কোথাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জন ও আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতির প্রমাণ দিতে হয়।   বিশেষ করে ইবি-৩ ক্যাটাগরির অনেক আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চাকরির অফার এবং নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় শ্রমসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ও থাকতে পারে। ফলে শুধু কোনো নির্দিষ্ট পেশায় কাজ করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া যাবে—বিষয়টি এমন নয়।   কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের সুযোগ তাই শুধু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, গবেষক বা বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পেশাজীবী, দক্ষ কর্মী এবং কিছু ক্ষেত্রে কম অভিজ্ঞতার কর্মীরাও এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন। তবে আবেদনকারীর যোগ্যতা, চাকরির ধরন, নিয়োগকর্তার ভূমিকা এবং ভিসা প্রাপ্যতার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে।   যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের জন্য তাই ইবি-১, ইবি-২ ও ইবি-৩—এই তিন ক্যাটাগরির পার্থক্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অর্জনের সঙ্গে কোন ক্যাটাগরির শর্ত মেলে, তা যাচাই করেই আবেদন প্রক্রিয়ায় এগোতে হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:৪৭
ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে একটি নৌকা থেকে সন্দেহভাজনদের নামিয়ে দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে নামিয়ে পালিয়ে গেল নৌকা

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বন্দরে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের নামিয়ে দেওয়ার পর তাদের বহনকারী নৌকা নিয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা একদল অভিবাসীকে একটি নৌকায় করে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে আনা হয়। পরে তাদের একটি বন্দরে নামিয়ে দিয়ে নৌকাটি সেখান থেকে চলে যায়। ঘটনাটিকে কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে সমুদ্রপথে অভিবাসী আনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনা হিসেবে দেখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল দিয়ে নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা নতুন নয়। চলতি বছরও ইউএস কোস্ট গার্ড দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল থেকে একাধিক সন্দেহভাজন অভিবাসীকে আটক করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর সান দিয়েগোর প্রায় ২১ মাইল পশ্চিমে একটি পাঙ্গা-ধরনের নৌকা থেকে ১৬ জনকে আটক করে কোস্ট গার্ড। তাদের পরে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর সান্তা বারবারা আইল্যান্ডের প্রায় তিন মাইল দক্ষিণে ২৪ জন সন্দেহভাজন অভিবাসীকে একটি নৌকা থেকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড তাদের নিউপোর্ট হারবারে নিয়ে যায় এবং সেখানে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করে।    কোস্ট গার্ডের সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ছোট নৌকা ব্যবহার করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর চ্যানেল আইল্যান্ডস হারবার থেকে প্রায় ৮৮ মাইল দূরে একটি ৩০ ফুটের নৌকা থেকে ৩৭ জন সন্দেহভাজন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। নৌকাটিতে জ্বালানি, খাবার ও পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং সেটি দুই দিন ধরে ভাসছিল। পরে ৩৭ জনকেই বর্ডার প্যাট্রোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    নতুন ঘটনাটির ক্ষেত্রে ঠিক কতজনকে বন্দরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জাতীয়তা কী এবং নৌকাটি কোথা থেকে এসেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   তবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রপথে সন্দেহজনক নৌযান শনাক্ত হলে তারা ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী অভিবাসন ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১১:২৭
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের ৫ রাউন্ড গু লি তে গুরুতর আহত ব্যক্তি, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টের গু লি তে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছুক্ষণ আগে শহরের উত্তরাংশে এই গো লা গু লি র ঘটনা ঘটে। অস্টিন-ট্রাভিস কাউন্টির ইএমএস প্রধান রবার্ট লাকরিৎজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই ব্যক্তির শরীরে একটি গু লি লেগেছে এবং তার অবস্থা গুরুতর। তবে অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন নিশ্চিত করেছেন যে, আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হলেও আপাতত তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।   এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন অস্টিনের পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস। তবে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন অস্টিন ডিস্ট্রিক্ট ৭-এর সিটি কাউন্সিল সদস্য মাইক সিগেল। তিনি অভিযোগ করেন, আইসিই কর্মকর্তা প্রথমে নিজের গাড়ি দিয়ে ওই ব্যক্তির গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেন এবং এরপর গাড়ি থেকে নেমে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গু লি চালান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছে একটি ফ্লাইওভারের নিচে পার্ক করা গাঢ় নীল রঙের একটি টয়োটা করোলা গাড়ির যাত্রীর দিকের দরজায় ব্যাপক ক্ষতি ও অন্তত দুটি গু লি র ছিদ্র দেখা গেছে।   এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ এবং আইন ভঙ্গকারী আইসিই কর্মকর্তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানান। মেয়র ওয়াটসনও এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তে স্থানীয় কর্মকর্তাদের যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইসিই-এর নিজস্ব তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং আসলে কী ঘটেছিল তা জানার অধিকার অস্টিনবাসীর আছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক মাত্রায় অভিবাসী বি তা ড় ন কর্মসূচির মধ্যেই এই গো লা গু লি র ঘটনা ঘটল। এর আগেও গত জুলাইয়ে হিউস্টনে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো এবং মেইনে জোহান সেবাস্তিয়ান নামে এক কলম্বিয়ান যুবক আইসিই কর্মকর্তাদের গু লি তে হতাহত হন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, পরপর এসব ঘটনা অভিবাসন নীতি ও কেন্দ্রীয় এজেন্টদের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে চলমান আইনি ও মানবিক বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৯:২
টেক্সাসের আলামো এলাকায় আইসিইর অভিযান দেখতে গিয়ে দুই কিশোরকে আটকের অভিযোগ উঠেছে
আইসিইর অ ভি যা নের ভিডিও করছিল দুই কিশোর, এরপর আ টকের অ ভি যোগ

টেক্সাসে আইসিইর একটি অ ভি যা নের ভিডিও করছিল দুই ১৭ বছর বয়সী কিশোর। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে থামার পর তাদের আ টক করা হয় এবং একজনকে মাটিতে ফেলে হা ত ক ড়া পরানো হয়। আরেক কিশোরকে আইসিইর এক কর্মকর্তা আ ঘা ত করেন বলেও ভিডিওতে দেখা গেছে। দুই কিশোরের পরিবারের দাবি, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং মেরিনসে যোগ দেওয়ার জন্য রি ক্রু টিং অফিসে যাওয়ার পথে ঘটনাটি ঘটে।   ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের আলামো এলাকায়। লুইস ওচোয়া নামে এক কিশোরের ভাষ্য, তারা রাস্তার পাশে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অ ভি যা ন দেখতে পেয়ে সেটি ভিডিও করার জন্য গাড়ি থামিয়েছিল। এরপর কর্মকর্তারা তাদের গাড়ির দিকে এগিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন কিশোরকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মাটিতে ফেলে হা ত ক ড়া পরাতে দেখা যায়।   ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে থাকা আরেক কিশোর নেমে আসার পর এক আইসিই কর্মকর্তা তাকে কয়েকবার আ ঘা ত করছেন। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘সে অ প্রা প্ত ব য় স্ক।’ পরে ওই কিশোরকেও মাটিতে ধরে রাখা হয় এবং হা ত ক ড়া পরানো হয়।   লুইস ওচোয়া অ ভি যোগ করেছেন, তাকে ম রি চের স্প্রে দেওয়া হয় এবং মাটিতে ফেলে আ টক করা হয়। তার দাবি, এ সময় তার কবজিতে আ ঘা ত লাগে। ওচোয়ার মা তেরেসা ওচোয়া জানান, ছেলের সঙ্গে প্রায় আট ঘণ্টা যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। তার ভাষ্য, ছেলে অ প্রা প্ত ব য় স্ক হওয়ায় ঘটনাটি পরিবারের জন্য আরও উদ্বেগের ছিল।   দুই কিশোরের পরিবার জানিয়েছে, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তারা মেরিনসে যোগ দেওয়ার জন্য একটি রি ক্রু টিং অফিসে যাচ্ছিল। পথে আইসিইর অ ভি যা ন দেখতে পেয়ে তারা সেখানে থেমে ভিডিও করছিল।   তবে ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি দুই কিশোরকে আইসিই কর্মকর্তাদের কাজে বা ধা দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ডিএইচএসের দাবি, তাদের একজন আইসিইর গাড়ির জানালায় বারবার আ ঘা ত করেছিলেন এবং কর্মকর্তাদের থামার নির্দেশ উপেক্ষা করেছিলেন।   ডিএইচএসের ভাষ্য, পরে ওই কিশোরকে আ টক করতে গেলে তিনি মৌখিক ও শারীরিকভাবে প্র তি রোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব ল প্র য়োগ করেছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, ঘটনায় দুই আইসিই কর্মকর্তা সামান্য আ হ ত হন এবং তাদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   অন্যদিকে কিশোরদের পক্ষ থেকে ডিএইচএসের এসব অ ভি যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। তাদের পরিবারের বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা দৃশ্য নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিওর পুরো প্রেক্ষাপট এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।   ঘটনার পর দুই কিশোর আলামো পুলিশের কাছে অ ভি যোগ করেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএইচএসের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আইসিইর অ ভি যা নের সময় দুই কিশোরের আ টক এবং তাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য এখন তদন্তের আওতায় এসেছ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৬:২২
অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে আপত্তির সুযোগ দিতে হবে: মার্কিন আদালত
অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে আপত্তির সুযোগ দিতে হবে: মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে দ্রুত পাঠানোর নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা এসেছে। বোস্টনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছে, কোনো অভিবাসীকে এমন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে তাকে কার্যকরভাবে জানাতে হবে এবং সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে।   গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশকে বেআইনি বলে বহাল রেখেছে। মামলাটি মূলত এমন অভিবাসীদের নিয়ে, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু সরকার তাদের সেই আদেশে উল্লেখ করা হয়নি এমন দেশে পাঠাতে চায়।   সহজভাবে বললে, কোনো ব্যক্তিকে তার নিজের দেশে পাঠানো সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাকে গ্রহণে রাজি অন্য দেশে পাঠাতে পারে। এটিই সাধারণভাবে ‘তৃতীয় দেশে পাঠানো’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নতুন রায়ের মূল প্রশ্ন হচ্ছে—সেই ব্যক্তিকে কোথায় পাঠানো হবে তা আগে না জানিয়ে এবং সম্ভাব্য বিপদের কথা জানানোর যথেষ্ট সুযোগ না দিয়ে সরকার দ্রুত তাকে পাঠিয়ে দিতে পারবে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা থাকতে হবে।   মামলাটি ২০২৫ সালের মার্চে চারজন অ-নাগরিকের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের নতুন নীতিতে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ থাকা ব্যক্তিদের এমন দেশে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যেসব দেশের নাম তাদের আগের অপসারণ আদেশে ছিল না। একই সঙ্গে সেই দেশে গেলে নিপীড়ন বা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগও দেওয়া হচ্ছিল না বলে তারা অভিযোগ করেন।   এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তৃতীয় দেশে পাঠানো নিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, কোনো গ্রহণকারী দেশ কূটনৈতিকভাবে নিশ্চয়তা দিলে যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিদের সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতন করা হবে না, সেই নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করার সুযোগ ছিল ওই নীতিতে। পরবর্তী সময়ে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আরও একটি নির্দেশনা দিয়ে নীতিটির প্রয়োগ স্পষ্ট করে।   কিন্তু অভিবাসীদের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, একটি দেশের সাধারণ কূটনৈতিক নিশ্চয়তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। কারণ একজন ব্যক্তির জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক মতামত কিংবা নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে কোনো দেশে আলাদা ঝুঁকি থাকতে পারে। একইভাবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্যাতনের ব্যক্তিগত আশঙ্কাও থাকতে পারে। মার্কিন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন দেশে কাউকে পাঠানোর ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের অধীনেও নির্যাতনের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে এমন দেশে কাউকে পাঠানো নিয়ে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের নথিতে এই দুই ধরনের আশঙ্কার ভিত্তিতে করা দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   আপিল আদালতের বিচারক সেথ আফ্রামে রায়ের ব্যাখ্যায় মূল সমস্যাটি তুলে ধরেছেন। আদালতের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হবে তা আগে জানানো না হলে সেই দেশে নিপীড়নের আশঙ্কার ভিত্তিতে অপসারণের বিরোধিতা করার অধিকার বাস্তবে খুব কমই কার্যকর থাকে। তাই গন্তব্য সম্পর্কে আগাম কার্যকর নোটিশ এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রয়োজন।   এর আগে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল জেলা আদালতও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। সেই আদালত বলেছিল, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে গন্তব্য জানাতে হবে এবং সেই দেশে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে তা জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। পরে বিষয়টি আপিল আদালতে যায়।   মামলাটি এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্তও পৌঁছেছিল। আগের একটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ আদালত জেলা আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছিল। এরপর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা আদালত সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাকে বেআইনি ঘোষণা করে। সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরকার প্রথম সার্কিট আপিল আদালতে যায়।   ১৮ সেপ্টেম্বরের রায়ে আপিল আদালত জেলা আদালতের সব যুক্তি অবশ্য বহাল রাখেনি। তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সরকারকে প্রথমে অভিবাসীর মনোনীত দেশ বা নাগরিকত্বের দেশে পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে—এ সংক্রান্ত জেলা আদালতের দুটি ঘোষণামূলক সিদ্ধান্ত মামলাকারীদের আইনি অবস্থানসংক্রান্ত কারণে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ কার্যকর নোটিশ এবং নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কার ভিত্তিতে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বহাল রেখেছে আপিল আদালত।   আদালত স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ২০২৫ সালের মার্চ ও জুলাইয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাও প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে বেআইনি হিসেবে বাতিল করার জেলা আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। অর্থাৎ সরকার তৃতীয় দেশে পাঠানোর ক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি; বরং ওই ক্ষমতা প্রয়োগের সময় নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৫:৩৩
সরকারি সুবিধা নিলে গ্রিন কার্ডে পড়তে পারে প্রভাব
মেডিকেইড-ফুড স্ট্যাম্প নিলেই গ্রিন কার্ডে বাধা, ট্রাম্পের নতুন নিয়ম কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এখন ফুড স্ট্যাম্প, মেডিকেইড, শিক্ষা সহায়তা কিংবা বিনামূল্যে স্কুলের খাবারের মতো সরকারি সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনার সময় প্রভাব ফেলতে পারে।   শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় এসব সুবিধা ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরকারি ব্যয় কমতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন অথবা এসব সুবিধায় নতুন করে আবেদন করা এড়িয়ে যেতে পারেন। DHS বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধা যেন অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো প্রণোদনা তৈরি না করে, সেটিই এই নীতির উদ্দেশ্য। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় এবং দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কসহ ২১টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও কয়েকটি শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবার, বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক—দুই ধরনের সদস্য রয়েছেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। নতুন নীতিটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘পাবলিক চার্জ’ ব্যবস্থার বিস্তৃত সংস্করণ। আগে সাধারণত নগদ সরকারি সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি অর্থায়নে হাসপাতালে থাকার মতো বিষয়গুলো গ্রিন কার্ডের আবেদনে বেশি গুরুত্ব পেত। নতুন নিয়মে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো আরও কিছু সুবিধাও কর্মকর্তাদের বিবেচনার আওতায় এসেছে। তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসীকে নতুন নীতির বাইরে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ২০১৯ সালেও একই ধরনের একটি ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি চালু করেছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে সেটি আটকে যায়। ওই সময় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়া নিয়ে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল এবং সরকারি খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার হারও কমে গিয়েছিল বলে আরবান ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৫:২৫
ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক
ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মেক্সিকো সীমান্তের কাছে একটি ট্রাকের ভেতর থেকে ৩১ অভিবাসীকে আটক করেছে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল। ঘটনাটি ঘটেছে ইম্পেরিয়াল কাউন্টির ওকোটিলো এলাকায়। ট্রাকটিতে গাদাগাদি করে ওই অভিবাসীদের নেওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।   মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম এন প্লাসের তথ্য অনুযায়ী, বর্ডার প্যাট্রোল সদস্যরা ট্রাকটি থেকে ৩১ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। চালক তাদের ওকোটিলো এলাকায় রেখে মেক্সিকোর দিকে পালিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ ওই চালককে আটক করে।   ট্রাকটিকে একটি পরিবর্তিত ইউটিলিটি ট্রাক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বহনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি মানব পাচারের সন্দেহে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে আটক ৩১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাস্থল ওকোটিলো ক্যালিফোর্নিয়ার ইম্পেরিয়াল কাউন্টিতে, মেক্সিকো সীমান্তের কাছের একটি দুর্গম মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত। অঞ্চলটি প্রচণ্ড গরম ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। আগের বছরগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই এলাকায় সীমান্ত পারাপারের সময় অভিবাসীদের উদ্ধার এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে।   বর্ডার প্যাট্রোল সদস্যরা ট্রাকটি পরীক্ষা করার পর ভেতরে থাকা মানুষদের শনাক্ত করেন। তাদের আটকের পর পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তাদের নাগরিকত্ব, বয়স বা তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কোন পথ ব্যবহার করেছিলেন - এসব বিষয়ে প্রকাশ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।   সীমান্তে মানব পাচার ঠেকাতে যানবাহন পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোলের নিয়মিত আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের অংশ। এর আগে টেক্সাসেও ট্রাকের গোপন অংশ থেকে অভিবাসীদের উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার এই ঘটনায় একসঙ্গে ৩১ জনকে একটি পরিবর্তিত ট্রাক থেকে আটকের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে।   সোর্স: নিউইয়র্ক পোস্ট, এন প্লাস

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ২১:৩৯
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আদালতে গেছে নিউইয়র্ক সিটি। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদন মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। মেয়র জোহান মামদানি সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।   ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে করা মামলায় নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে একাধিক স্থানীয় সরকার এই নীতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন বিধির মাধ্যমে ফেডারেল সরকার ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার প্রচলিত ও দীর্ঘদিনের আইনি ব্যাখ্যার সীমা অতিক্রম করেছে।   ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি প্রকাশ করে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বিধির আওতায় নির্দিষ্ট ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় আগের তুলনায় বিস্তৃত পরিসরের সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।   এর মধ্যে আয়ভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা এবং আবাসন সহায়তার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে কোনো অভিবাসী এসব সুবিধার একটি গ্রহণ করলেই তার ভিসা বা গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন বিধান নেই। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।   নিউইয়র্ক সিটির মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যিনি মূলত সরকারের কাছ থেকে নগদ সহায়তার ওপর জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। মামলাকারীদের মতে, সাময়িক, সম্পূরক বা নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধাকে এই ধারণার আওতায় বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ঐতিহাসিক আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, কংগ্রেস অতীতে ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার পরিধি বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে নতুন বিধির মাধ্যমে এর অর্থ ও প্রয়োগের ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।   মেয়র মামদানি বলেন, নতুন নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন সরকারি কর্মসূচি থেকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে, যেগুলো তারা আইন অনুযায়ী পাওয়ার অধিকার রাখে। তার আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা বা আবাসন সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হতে পারে।   মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায় কোনো বোঝা নয়। তারা শহর ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।   নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে শিকাগো ও সিয়াটলসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় সরকার এই আইনি চ্যালেঞ্জে যুক্ত হয়েছে। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, নতুন নীতি কার্যকর হলে বৈধভাবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীরাও প্রয়োজনীয় সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য নতুন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, অভিবাসন আইনে আবেদনকারীদের ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং নতুন বিধি সেই আইনগত কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, অভিবাসীদের নিজেদের আর্থিকভাবে সক্ষম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু একটি সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্য নয়, বরং তার বয়স, স্বাস্থ্য, আয়, সম্পদ, পারিবারিক পরিস্থিতি, চাকরি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করা হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি দীর্ঘদিনের। তবে এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনের সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে এই নীতির পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২২ সালে সেই বিস্তৃত বিধান বাতিল করে তুলনামূলকভাবে সীমিত কাঠামো চালু করে।   নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার আগেই নিউইয়র্কসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকারের করা মামলার কারণে বিষয়টি আবার আদালতের সামনে এসেছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি নির্ধারিত সময়ে কার্যকর হবে কি না এবং এর কতটা অংশ বাস্তবে প্রয়োগ করা যাবে।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসনবিষয়ক কার্যালয় অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তার জন্য শহরের হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ২০:৪৬
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন

আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০