- প্রচ্ছদ
- রাজনীতি
রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের কাছে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, খাবার থেকে শুরু করে বাড়ি কেনার খরচ, দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাপ অনুভব করছেন অনেক আমেরিকান। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ভোটারদের বড় বিবেচনা হয়ে উঠেছে কে কীভাবে জীবনযাত্রার খরচ সামলানোর পরিকল্পনা দিচ্ছেন। রয়টার্স ও ইপসসের আগস্টের এক জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসতে দেখা যায়। ৯৫১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে ৩৬ শতাংশ মনে করেন, জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পরিকল্পনা তুলনামূলক ভালো। রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা রেখেছেন ২৮ শতাংশ। তবে ৩৭ শতাংশ ভোটার কোনো দলকেই এগিয়ে রাখেননি অথবা নিশ্চিত কোনো মত দেননি। এই উদ্বেগের পেছনে বড় কারণ মূল্যস্ফীতি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। একই সময়ে খাবারের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এনার্জির দাম ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করছে জ্বালানি। আগস্টে শুধু এক মাসেই গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। আর এক বছর আগের তুলনায় গ্যাসোলিনের মূল্যসূচক বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে যেসব অঙ্গরাজ্যে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা বেশি, সেখানে পাম্পের বাড়তি খরচ সরাসরি পারিবারিক বাজেটে প্রভাব ফেলছে। মিশিগানের ৩১ বছর বয়সী ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস্ট ও হাইস্কুল ফুটবল কোচ জ্যাক ওয়েনের অভিজ্ঞতাও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিশিগানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে দুই থেকে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানো অস্বাভাবিক নয়। তাই গ্যাসের দাম তাঁর মতো ভোটারদের কাছে শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, বরং প্রতিদিনের খরচের বিষয়। প্রার্থীরা গ্যাসের দাম কমানোর বিষয়ে কী পরিকল্পনা দিচ্ছেন, সেটিও তাঁর ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু গ্যাস নয়, বিদ্যুতের বিল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে দ্রুত বাড়তে থাকা এআই ডেটা সেন্টার ভবিষ্যতে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুতের খরচে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন রাজনৈতিক আলোচনাতেও জায়গা পাচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রার্থীরা বড় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত খরচ এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। আবাসন খাতেও স্বস্তি নেই। বাড়ির দাম ও মর্টগেজ রেটের চাপ নতুন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন করে তুলেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা প্রায় সাড়ে ১২ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এর পেছনে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, ব্যয়বহুল মর্টগেজ এবং চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে দুই প্রধান প্রার্থীও আবাসনের খরচ নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা সামনে এনেছেন। রিপাবলিকান মাইক রজার্স ডাউন পেমেন্ট সহায়তা, বাড়ি কেনার খরচ কমানো এবং নতুন বাড়ি নির্মাণে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলছেন। ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ স্থানীয় বিধিনিষেধ সহজ করে বাড়ি নির্মাণ বাড়ানো, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে রেন্ট নির্ধারণে বিধিনিষেধ এবং ডাউন পেমেন্ট সহায়তা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্যারিফও নির্বাচনী অর্থনীতির আলোচনায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আরোপিত বিভিন্ন ট্যারিফ আমদানিনির্ভর ব্যবসার খরচে প্রভাব ফেলেছে। মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স কানাডার ওপর কিছু ট্যারিফের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর যুক্তি, সীমান্তের দুই পাশের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক খাবার ও বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়াতে পারে। তাঁর ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনও ট্যারিফের বিরোধিতা করছেন। তবে অর্থনীতির চিত্র পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে ছিল। কিন্তু চাকরি থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ রয়ে গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিয়োগের গতি কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির একটি অংশ খেয়ে ফেলছে। ফলে অর্থনীতির সামগ্রিক সূচক এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে অর্থনীতি শুধু কর্মসংস্থান বা শেয়ারবাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। গ্যাস স্টেশনে কত ডলার দিতে হচ্ছে, মাস শেষে বিদ্যুতের বিল কত আসছে, গ্রোসারির খরচ কতটা বেড়েছে এবং একটি বাড়ি কেনা কতটা নাগালের মধ্যে আছে, এসব দৈনন্দিন হিসাবই অনেক ভোটারের কাছে অর্থনীতির বাস্তব চেহারা। আগামী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটের ৩৫টি আসন ভোটের মুখোমুখি হচ্ছে। তাই জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা দুই দলের প্রচারেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন দল বা প্রার্থীকে বেছে নেবেন, তা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও ওই দুই ব্যক্তি নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশ অমান্য করার কারণেই তাঁদের বি রু দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য শুক্রবারও নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। এরপর তাঁদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের একজন শুক্রবার রাতে এবং অন্যজন শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রস্থান নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্য এক নয়। এর আগে ইরানকে বহিষ্কারের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘে দেশটির মিশন জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিউইয়র্ক ছেড়েছে। আনাদোলুর ১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ইরানি মিশনের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রতিনিধিদলের সফরের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল। তবে ইরানি মিশনের ওই বক্তব্য ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের আগের প্রস্থান নিয়ে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র যে দুই সদস্যকে নিয়ে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাঁদের বিষয়টি সেই আগের ঘটনার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁদের প্রতিনিধিদলকে কঠোর বিধিনিষেধসহ ভিসা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর নিউইয়র্ক ছেড়ে যান। তবে আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার জন্য সেখানে থেকে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এসব আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, চলমান সং ঘা তের অবসান এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর মতো বিষয় উঠে এসেছিল বলে জানা গেছে। এদিকে, এই ঘটনাকে জাতিসংঘ থেকে ইরানের সদস্যপদ বাতিল কিংবা দেশটির স্থায়ী মিশন বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ এবং সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের দেশত্যাগের বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিশাল সীমান্ত প্রাচীর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি এই আদেশ দেন। এর ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বড় একটি প্রকল্প আপাতত আইনি বাধার মুখে পড়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আওতায় টেক্সাসের দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু ইস্পাতের প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক, নতুন রাস্তা এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের কথা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো বাড়িয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানো এবং নজরদারি জোরদার করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষ এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করে। স্থানীয় জমির মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবেশবাদী সংগঠন, রুইডোসার একটি ঐতিহাসিক গির্জার সমর্থক এবং নদীপথে পর্যটকদের নিয়ে কাজ করা রিভার গাইডরা মামলায় একত্র হন। মামলাকারীদের অভিযোগ, বিগ বেন্ড অঞ্চলের প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি এমনিতেই সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। সেখানে ব্যাপক আকারে প্রাচীর ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করলে স্থানীয় পরিবেশ, বন্যপ্রাণী এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাদের আরও অভিযোগ, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে ট্রাম্প প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পরিবেশ, সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নিয়ম ও প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়েছে। এসব পদক্ষেপ আইনসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শুক্রবারের রায়ে বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি বলেন, মামলাকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অন্তত একটিতে তাদের পক্ষে রায় পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এই পর্যায়ে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে বাদী পক্ষ গুরুতর ও পরে পূরণ করা সম্ভব নয়—এমন ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আদালত জনস্বার্থ এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিয়েছে। ফলে মূল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজে সাময়িকভাবে বিরতি থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের কিছু এলাকাও পড়বে। এর আগে পার্কের ভেতরে বুলডোজার দিয়ে জমি পরিষ্কারের কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই সমালোচনা আসে। পরে প্রশাসন সেখানে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে টেক্সাসে এর আগেও জমির মালিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি আদালতের আদেশের পরও প্রকল্পটির পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা নিজেদের মূল্যায়নের ওপর আস্থাশীল। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে মামলাকারী পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটির লায়েকেন জর্ডাল আদালতের সিদ্ধান্তকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আপাতত বুলডোজারগুলোকে সরে যেতে হবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে বিগ বেন্ড, টেক্সাস এবং মার্কিন সংবিধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ন্যাশনাল পার্কস কনজারভেশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টিয়ারনান সিটেনফেল্ডও আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বিগ বেন্ড এলাকায় ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত না করে বিকল্প সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। আদালতের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত রায় নয়। মূল মামলায় সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা আইনগতভাবে বৈধ কি না, পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সুরক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং প্রকল্পটি কীভাবে এগোবে—এসব বিষয় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অ ভি যা নের কারণ নিয়ে নতুন দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরলেও এবার ট্রাম্প বলেছেন, যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র আঘাত হেনেছিল, সেগুলোতে পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ‘মা দ ক’ উৎপাদনের কাজও চলছিল। বৃহস্পতিবার ওকলাহোমার ডুরান্টে এক নির্বাচনী সমাবেশে ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প এই নতুন দাবি করেন। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান ইরানের ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছিল। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মিসৌরি থেকে উড়ে যাওয়া মার্কিন বি-২ বিমান গভীর রাতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলে। এরপর তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনা শুধু পারমাণবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল না, সেখানে ‘মা দ কের কারখানা’ও ছিল। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান একই সঙ্গে পারমাণবিক কার্যক্রম এবং ‘মা দ ক’ উৎপাদনের কাজ করছিল। তিনি ওই স্থাপনাগুলোকে ‘মা দ কের কারখানা’ ও পারমাণবিক কারখানা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেগুলোতে ব্যাপকভাবে আঘাত হানা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের কোন স্থাপনায় কী ধরনের ‘মা দ ক’ উৎপাদন করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর নতুন বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালের ওই সামরিক অ ভি যা নের লক্ষ্যবস্তুগুলো একই সঙ্গে পারমাণবিক ও ‘মা দ ক’ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ছিল—এমন দাবি। এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের প্রকাশ্য ব্যাখ্যায় পারমাণবিক কর্মসূচিই প্রধান বিষয় ছিল। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারেও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অ স্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যে তাই ইরান অ ভি যা নের পক্ষে তাঁর ব্যাখ্যায় আরেকটি বিষয় যুক্ত হলো। ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সময় যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এবার সেই একই স্থাপনাগুলোকে ‘মা দ কের কারখানা’ বলছেন ট্রাম্প। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো। একই সময়ে তাঁর প্রশাসন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। ১ অক্টোবর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের রেল, গাড়ি, উৎপাদন ও ইস্পাত খাতের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অ স্ত্র ও অ স্ত্রের উপাদান সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশের সংঘাত, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং তেল সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ট্রাম্পের নতুন ব্যাখ্যাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে দেশটির সঙ্গে চুক্তি না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান নিয়ে সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই নেওয়া হবে এবং বিষয়টি ‘একভাবে না একভাবে’ শেষ হবে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি পথ—ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া। ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কীভাবে আলোচনা করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, চুক্তি না হলে তাদের ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে বুধবার ইরানি কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশের মধ্যে মূল মতপার্থক্যের একটি বড় বিষয় হলো চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও মন্ত্রিসভার কাছে তুলে ধরেছেন বলে সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে তার সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালাবে এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় থাকবে। তার ভাষায়, সম্ভাব্য চুক্তি অবশ্যই দুই পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য বা ‘উইন-উইন’ ভিত্তির হতে হবে। ইরানের অর্থনীতিও দীর্ঘ যুদ্ধের চাপে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দর এক ডলারের বিপরীতে ২৫ লাখেরও বেশি রিয়ালে নেমে যায়, যা নতুন রেকর্ড। এর মাত্র ২৭ দিন আগে, ২ সেপ্টেম্বর, প্রতি ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর প্রায় ২২ লাখে নেমেছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন পক্ষ দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথ খুঁজছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন শর্ত উঠে আসছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ১ অক্টোবর সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, কূটনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও আলোচনার কেন্দ্রেই রয়েছে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের অর্থে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুলে ধরে তৈরি কয়েকটি বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ২ কোটি ডলার সরকারি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনপ্রণেতা ও নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন, কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি অর্থ এ ধরনের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা আইনসঙ্গত কি না। বিজ্ঞাপনগুলো গত সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, কেবল চ্যানেল এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পের বক্তব্য, তার প্রশাসনের নীতির প্রশংসা এবং দেশপ্রেমমূলক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পকে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়। পাশাপাশি পর্দায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় কর কমানো, দেশটির উৎপাদন ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশকে সমর্থনের মতো বার্তা দেখানো হয়। আরেকটি প্রায় এক মিনিটের বিজ্ঞাপনে রাতে মাউন্ট রাশমোরের দৃশ্যের সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া তার বক্তব্যের অংশও রয়েছে। তৃতীয় বিজ্ঞাপনটি ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার একটি বিজ্ঞাপনের সঙ্গে প্রায় একই ধরনের। সাদা-কালো ফুটেজে ট্রাম্পকে একটি করিডোর দিয়ে হাঁটতে দেখা যায় এবং তার কণ্ঠে ‘চূড়ান্ত লড়াই’ ও বৈশ্বিক রাজনীতির বিভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা শোনা যায়। বিজ্ঞাপনের শেষে লেখা রয়েছে—‘পেইড ফর বাই দ্য ইউএস গভর্নমেন্ট’, অর্থাৎ বিজ্ঞাপনটির অর্থ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। হাউস ডেমোক্র্যাটদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থ থেকে ২ কোটি ডলার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য সরানো হয়। পরদিন ‘ন্যাশনাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন’ নামে একই পরিমাণের একটি চুক্তি মেরিল্যান্ডভিত্তিক এলএমডি এজেন্সিকে দেওয়া হয়। অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি বিজ্ঞাপনে গত সাত দিনে ২৫ লাখ ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। তবে প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে ও ক্রিস মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে বিজ্ঞাপনের অর্থ ও চুক্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তাদের বক্তব্য, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জন্য বরাদ্দ করা অর্থ রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা সরকারি অর্থ ব্যবহারের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে এ নিয়ে শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই প্রশ্ন ওঠেনি। রিপাবলিকান সিনেটর ও সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও বলেছেন, এ ধরনের বিজ্ঞাপনের অর্থ করদাতাদের অর্থ থেকে দেওয়া উচিত নয়। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস আবার ট্রাম্পের বিজ্ঞাপনগুলোর সঙ্গে হাঙ্গেরির সাবেক নেতা ভিক্টর অরবানের ব্যবহৃত বিজ্ঞাপনের তুলনা করেছেন। বিজ্ঞাপনগুলো আইনসঙ্গত কি না, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। কয়েকজন আইন ও নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ ব্যবহার করে সরকারি প্রচার বা রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের ওপর থাকা বিধিনিষেধের সঙ্গে বিজ্ঞাপনগুলো সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে সরকারি অর্থে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি—এমন সিদ্ধান্তও এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সরকারি জবাবদিহি সংস্থা জিএওর ব্যাখ্যায় সরকারি প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা গোপন করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান বিজ্ঞাপনগুলোতে সরকারি অর্থে প্রচারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস বিজ্ঞাপনগুলোকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছে না। প্রশাসনের ভাষ্য, এগুলো ‘পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট’ বা জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন, যার উদ্দেশ্য দেশপ্রেম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসার বার্তা তুলে ধরা। প্রশাসন অতীতের বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের উদাহরণও দিয়েছে। তবে সমালোচক ও কিছু বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, আগের অনেক সরকারি বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে নির্দিষ্ট সরকারি কর্মসূচি বা সেবা সম্পর্কে জানানো। বর্তমান বিজ্ঞাপনগুলোর ক্ষেত্রে সেই উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় বলে তারা মনে করছেন। নির্বাচনের আগে সরকারি অর্থে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার হওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। বিজ্ঞাপনগুলো সরকারি জনসচেতনতামূলক প্রচারের সীমার মধ্যে রয়েছে, নাকি রাজনৈতিক প্রচারণার পর্যায়ে পড়ছে—এ নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।
কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার পর ইরাকে নগদ মার্কিন ডলারের নিয়মিত চালান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে বাগদাদ। ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানিয়েছেন, নতুন একটি নগদ ডলারের চালান আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে পৌঁছাবে। তবে চালানটির পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। ইরাকি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই এই সমঝোতা হয়েছে। গত জুলাইয়ে ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ট্রেজারি সেক্রেটারিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আল-জাইদি। অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক জোরদার করা ছিল ওই সফরের অন্যতম প্রধান বিষয়। নতুন সমঝোতার লক্ষ্য ইরাকের বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানো এবং স্থানীয় বাজারে ডলারের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা। একই সঙ্গে ডলার কোথায় যাচ্ছে এবং কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাগদাদ। ইরাকি সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ঠেকানো, ডলার বিতরণে নজরদারি বাড়ানো এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে ধীরে ধীরে ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশটি। কেন বন্ধ হয়েছিল ডলারের চালান গত এপ্রিলে ইরাকে নগদ ডলার পাঠানোর নিয়মিত প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি নগদ চালানও আটকে দেওয়া হয়েছিল। ইরান-সমর্থিত স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং অবৈধ আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডলার ইরান ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কাছে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল ওয়াশিংটনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। তবে জুলাইয়ের শুরুতেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। রয়টার্স নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানিয়েছিল, কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে নগদ ডলারের বিমান চালান আবার শুরু করেছে। সে সময় হোয়াইট হাউস, পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে তথ্যটি যাচাই করতে পারেনি। এ কারণে এখনকার ঘোষণাকে একেবারে প্রথমবার ‘ডলার পাঠানো আবার শুরু’ বলা পুরোপুরি সঠিক হবে না। বরং সর্বশেষ সমঝোতা ইরাকে নিয়মিত ও অব্যাহত নগদ ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার নতুন ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরাকের জন্য মার্কিন ডলার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন ইরাক এখনো বড় পরিসরে নগদনির্ভর অর্থনীতি। দেশটির তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাবে রাখা হয়। সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ ডলার ইরাকে পাঠানো হয়। ডলারের সরবরাহ কমে গেলে ইরাকের অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিপরীতে দিনারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব পণ্যের দামেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের প্রবাহ বাড়ার প্রত্যাশার মধ্যে ইরাকি দিনারের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হওয়ার খবরও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় তাই একদিকে ইরাকের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে ডলার যেন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে না পৌঁছায়, সে জন্য আর্থিক নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক দিনের দিকে। ইরাকি সরকার বলছে, নতুন নগদ ডলারের চালান শিগগিরই পৌঁছাবে। তবে কত অর্থ আসছে এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবধানে চালান পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সংঘাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র পথ। তাঁর এই বক্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর। ইরান সম্প্রতি প্রস্তাব দিয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং সংঘাত বন্ধে আলোচনা আবার শুরু করা যাবে। প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়। তবে শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান খুব কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বলেই দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলতে চুক্তি করতে চাইছে। এর জবাবে আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে তেহরান অবগত হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো পায়নি। তাই আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার শর্তগুলো আগের মতোই রয়েছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো ছিল, সেগুলোকেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস দূর না হলে সফল আলোচনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জুনের সমঝোতা স্মারক ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন—তেহরান চায় ওয়াশিংটন নিশ্চিত করুক যে ইরানের সরকার পরিবর্তনের কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করায় জুনের সমঝোতার ওপর আস্থা নষ্ট হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে যায়। সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে ওমান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব পক্ষকে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার ইরানের প্রস্তাবকে ‘অর্ধেক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্পের তা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও দাবি করেছেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে। কারণ ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর এর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে মাঠে নেমেছেন প্রাক্তন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তবে তাঁর এই ফেরা নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে প্রবল অস্বস্তি; অনেক ডেমোক্র্যাট নেতাই চাইছেন তিনি যেন প্রচারণায় অংশ না নেন। সম্প্রতি মিশিগানে বিতর্কিত মার্কিন সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মন জয় করতে গিয়ে নিজের পুরোনো ‘শব্দজট’ (ওয়ার্ড সালাদ) বা অসংলগ্ন বক্তব্যের বৃত্তেই আটকে থাকতে দেখা গেছে তাঁকে। জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফ এবং নেভাডায় অ্যারন ফোর্ডের জন্য কমলা হ্যারিসের প্রচারণার পরিকল্পনা থাকলেও অনেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সরাসরি তাঁকে প্রত্যাখ্যান করছেন। কানসাসে ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট প্রার্থী ও মেগাচার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন তাঁর রাজ্যে হ্যারিসের সফরকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "তাঁকে অসম্মান করছি না, তবে তিনি আমার কোনো উপকারে আসবেন না। আমরা ভিন্ন ঘরানার ডেমোক্র্যাট... আমার রাজ্যে তাঁর আসার দরকার নেই, এতে উল্টো আমারই ক্ষতি হবে।" রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীদের চোখেও হ্যারিসের এই প্রচারণায় প্রভাব ফেলার ক্ষমতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মিডটার্ম নির্বাচন নিয়ে কাজ করা এক ডেমোক্র্যাট কর্মী জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিস ইতিমধ্যেই অনেকের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। অন্যদিকে, এক রিপাবলিকান সূত্রের মতে, শীর্ষ প্রচারক হিসেবে হ্যারিসের গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে এবং তাঁর জনসমর্থন অত্যন্ত হতাশাজনক। ওই সূত্রটি আরও দাবি করে, প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে তিনি এখনও অসংলগ্ন উত্তর দিচ্ছেন; বড়জোর জর্জিয়া বা মিসিসিপির মতো কয়েকটি রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার টানতে তিনি কিছুটা কাজে আসতে পারেন। সম্প্রতি ডেট্রয়েটে মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে কমলা হ্যারিসের বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের গর্ভাবস্থা ও মাতৃকালীন পরিচর্যা নিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে এবং ডেমোক্র্যাট কর্মীদের মধ্যেও হাসির খোরাক জোগায়। একই অনুষ্ঠানে মিশিগানের আকার ও প্রকৃতি নিয়ে তিনি দীর্ঘ এক বক্তৃতা দিলেও সেখানে কোনো সারমর্ম ছিল না। তাঁর এমন আচরণে প্রার্থী এল-সায়েদকেও নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নির্বাচনে হারার পর থেকে কমলা হ্যারিসের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। হার্ভার্ড-হ্যারিসের একটি জরিপ অনুযায়ী, তাঁর পক্ষে সমর্থন রয়েছে মাত্র ৪১ শতাংশ, যেখানে বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৪৮ শতাংশ মানুষ। আলাস্কার সিনেট প্রার্থী মেরি পেলটোলার কাছ থেকে প্রচারণার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর হ্যারিস এখন এমন কয়েকটি নিরাপদ জায়গার সন্ধানে রয়েছেন, যেখানে তাঁর উপস্থিতি অন্তত কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এত কিছুর পরও রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস-এর গড়ে তিনি সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন, যদিও সমালোচকদের মতে এটি কেবল তাঁর পরিচিতির কারণেই টিকে আছে এবং এই সমর্থন খুবই দুর্বল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শনিবারের টেনেসি সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ানের নির্ধারিত সাংবাদিকদল থেকে সিএনএনকে বাদ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর যৌথ টেলিভিশন কাভারেজের দায়িত্বে এবার সিএনএনের থাকার কথা ছিল। তার জায়গায় রাখা হয়েছে রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস নিউজকে। ট্রাম্প টেনেসির নক্সভিলে একটি কলেজ ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের বিমানে জায়গা সীমিত থাকায় নির্ধারিত সাংবাদিকেরা পালা করে সফরে যান এবং তাঁদের সংগ্রহ করা সংবাদ ও ভিডিও অন্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করেন। সিএনএন সেই ব্যবস্থার অংশ হলেও রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস নিউজ যৌথ টেলিভিশন সাংবাদিকদলের সদস্য নয়। এর আগে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনটি সংবাদমাধ্যম আদালতে গেলে এক ফেডারেল বিচারক সাময়িক আদেশে তাঁদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ ফিরিয়ে দেন। তবে ওই আদেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সফর বা যৌথ সাংবাদিকদলের দায়িত্বের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাদের প্রতিবেদনের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে। হোয়াইট হাউসের অবস্থান, সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। এ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার মধ্যেই সিএনএনকে শনিবারের বিমান সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এল।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেই কোনো রিপাবলিকানকে ‘অবিশ্বস্ত’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। উত্তর ক্যারোলাইনার এই সিনেটর বলেন, হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দলের সদস্যদের নীতিগত মতপার্থক্য মেনে নেওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় টিলিস বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি বিষয়ে মতপার্থক্য হলেই কাউকে অবিশ্বস্ত হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ক্ষেত্রে তিনি ৯০ শতাংশের বেশি সময় ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। তবে অন্য রিপাবলিকানদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে সেটি প্রকাশ করার সুযোগ থাকা উচিত বলেও তিনি জানান। টিলিস আরও বলেন, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ‘আনুগত্যের পরীক্ষা’ বা সব বিষয়ে নিখুঁতভাবে একমত হওয়ার প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য সিনেটে নেই; বরং উত্তর ক্যারোলাইনার যেসব মানুষ তাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিত্ব করতেই তিনি সেখানে রয়েছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিষয়টিকেও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন টিলিস। তার মতে, কোনো রিপাবলিকান যদি এই যুদ্ধের বিষয়ে প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাহলে সেটিকে দলীয় অবিশ্বস্ততা হিসেবে দেখা উচিত নয়। টিলিসের এই বক্তব্য তার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক মাসের প্রকাশ্য মতপার্থক্যের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করেছেন এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও টিলিসসহ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর অবস্থান নিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়েও টিলিস ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি ট্রাম্পের শিকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনাকে প্রশ্ন করে বলেন, চীনের মতো দেশের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। টিলিস ২০২৬ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছেন। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে তার প্রকাশ্য সমালোচনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। টিলিসের সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের সঙ্গে সত্য কথা বলাই এক ধরনের আনুগত্য। তার মতে, কোনো বিষয়ে নীতিগতভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করা এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি অবিশ্বস্ত হওয়া—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে ব্যর্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চার সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত ৫০-৪৯ ভোটে প্রস্তাবটি আটকে যায়। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়া চার রিপাবলিকান হলেন মেইনের সুসান কলিন্স, আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি, কেন্টাকির র্যান্ড পল এবং নর্থ ক্যারোলাইনার থম টিলিস। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান একমাত্র সদস্য হিসেবে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাঞ্জেলা আলসোব্রুকস ভোট দেননি। প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা। এতে বলা হয়েছিল, কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা বা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট অনুমোদন না দিলে প্রেসিডেন্টকে ইরানের সরকার বা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে। সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধ বা দখলদারির জন্য ব্যবহৃত বাহিনীও এর আওতায় থাকত। ভোটটি মূলত দলীয় বিভাজনের মধ্যেই হয়েছে। অধিকাংশ রিপাবলিকান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন এবং প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সমর্থন দেন। তবে চার রিপাবলিকানের দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতপার্থক্য থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে থম টিলিস এবার প্রথমবারের মতো এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একই ধরনের ভোটে তিনি এই অবস্থান নেননি। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের মেয়াদ ও এটি শেষ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক মাসে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে একাধিকবার ওয়ার পাওয়ার্স প্রস্তাব আনা হয়েছে। জুনে সিনেট একটি হাউস-পাসড সমান্তরাল প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, যেখানে চার রিপাবলিকান—সুসান কলিন্স, বিল ক্যাসিডি, লিসা মারকাউস্কি ও র্যান্ড পল—ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক ভোটে অবশ্য ক্যাসিডি প্রস্তাবটির পক্ষে ছিলেন না, আর নতুন করে সমর্থন দেন টিলিস। ফলে রিপাবলিকানদের মধ্যে কারা ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ভূমিকা বাড়াতে চান, সেই সমীকরণেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের উচ্চ মূল্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কিছু রিপাবলিকানও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে বৃহস্পতিবারের ভোটে রিপাবলিকানদের বড় অংশ ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পক্ষেই ছিলেন। সিনেটের ভোটটি এমন দিনেই হয়েছে, যেদিন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ, এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় আসেনি, কিন্তু এরই মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা এমন সব রাজ্যে সফর করছেন, যেগুলো পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ নীতিগত অবস্থান তুলে ধরছেন, কেউ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা নিজেদের জাতীয় পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ পান। তারা দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনী রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে। ডেমোক্র্যাট শিবিরে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস, নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার ও ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকারসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এদের কেউই এখন পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। ওকাসিও-কর্টেজ সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি আরও জোরালো করেছেন। তিনি ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাননি। একইভাবে হ্যারিসও এখনো দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। শাপিরো ও বেসিয়ারও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। রিপাবলিকান শিবিরেও ২০২৮ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তার পাশাপাশি সিনেটর টেড ক্রুজ, সিনেটর র্যান্ড পল, ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কট, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর রন ডেসান্টিসের নামও আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্পের পর রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেটিও ২০২৮ সালের দৌড়ের একটি বড় প্রশ্ন। দলটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা কতটা ধরে রাখবে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কীভাবে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করবেন—এ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভ্যান্স ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, অন্যদিকে ক্রুজ ও পলসহ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের আলাদা অবস্থানও তুলে ধরছেন। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্ন হলো, দলটি ২০২৮ সালে কোন রাজনৈতিক বার্তা সামনে আনবে। প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে শুরু করেছেন। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান বদলে যেতে পারে। তাই বর্তমানে আলোচনায় থাকা নামগুলোকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ বার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সের পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ট্রাম্পের বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার এবং ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে অন্তত ৮৯০ বার বাইডেনের নাম এসেছে। প্রায় ২০০টি অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকার এবং ১৯০টি ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করা হয়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, গড়ে দিনে প্রায় তিনবার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। অর্থনীতি নিয়ে তিনি প্রায় ২১০ বার বাইডেনের নাম তুলেছেন। অভিবাসন প্রসঙ্গে ১৬৮ বার এবং পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে ১৩৮ বার সাবেক প্রেসিডেন্টকে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ইস্যুতেও বাইডেনের প্রশাসনের দিকে দায় ঠেলে দিতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বাইডেনের প্রসঙ্গ বারবার এসেছে। সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পণ্যের দাম বাড়ার জন্য বাইডেন ও তার প্রশাসনকে দায়ী করেন ট্রাম্প। অর্থনীতির পাশাপাশি বাড়ির দাম, সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ইস্পাত শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেও বাইডেনের প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি। অভিবাসনও ট্রাম্পের বক্তব্যে বাইডেনের নাম আসার অন্যতম বড় কারণ। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অনিবন্ধিত অভিবাসন বেড়ে যাওয়ার জন্য বাইডেন প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে আসছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে নিজের প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও বি তাড় ন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা হলে তার জবাবেও বাইডেন আমলের নীতির প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি। পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব বিষয়ে অন্তত ১৩৮ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ইরান ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের প্রসঙ্গও রয়েছে। জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে এক দিনেই ১৬ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেন ট্রাম্প, যা এক দিনে তার সর্বোচ্চ। ট্রাম্পের বাইডেনকে বারবার উল্লেখ করার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে বিভিন্ন জরিপেও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আগের প্রশাসনের নীতিকে সামনে আনা ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে কাজ করছে। অন্যদিকে বাইডেনের সাবেক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের বারবার তার পূর্বসূরির নাম উল্লেখ করার সমালোচনা করেছেন। তবে রয়টার্সের পর্যালোচনায় যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো—২০২৬ সালের রাজনৈতিক বক্তব্যে বাইডেন এখনো ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আলোচ্য ব্যক্তি হয়ে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে কট্টর রক্ষণশীল সমর্থকদের মধ্যে তার অনুমোদন কমেছে। নতুন মারকেট ল স্কুলের জরিপে দেখা গেছে, নিজেদের ‘খুবই রক্ষণশীল’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন জুলাইয়ের ৮৪ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে ৭৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে এই গোষ্ঠীর মধ্যে তার অনুমোদন কমেছে ৮ পয়েন্ট। জরিপে দেখা গেছে, একই সময়ে এই গোষ্ঠীর মধ্যে ট্রাম্পকে অনুমোদন না করার হার ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশ হয়েছে। ফলে অনুমোদন ও অননুমোদনের ব্যবধান জুলাইয়ের প্লাস ৬৮ পয়েন্ট থেকে সেপ্টেম্বরে প্লাস ৫২ পয়েন্টে নেমেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে একই ৮ শতাংশ মানুষ মত পরিবর্তন করেছেন। কারণ জুলাই ও সেপ্টেম্বরের জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আলাদা ছিলেন। ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনও সেপ্টেম্বরে ৩৭ শতাংশে নেমেছে। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তার কাজের অনুমোদন দেননি। মারকেটের হিসাবে, তার দ্বিতীয় মেয়াদে এই জরিপে এটি সর্বনিম্ন সামগ্রিক অনুমোদনের হার। জরিপে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। ৩৭ শতাংশ আমেরিকান এটিকে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থনীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বলেছেন ১৬ শতাংশ এবং ইরান যুদ্ধকে বলেছেন ১০ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রতি অনুমোদনও বেশ কম। সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে তার কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থনীতিতে অনুমোদন ছিল ২৮ শতাংশ, গ্যাসের দামে ২০ শতাংশ এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ২৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়েও মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। জরিপে ৬৮ শতাংশ বলেছেন, আগামী ১২ মাসে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। মাত্র ১২ শতাংশ মনে করেন তা কমবে, আর ২০ শতাংশের ধারণা পরিস্থিতি প্রায় একই থাকবে। ট্রাম্পের নীতিগুলো মূল্যস্ফীতি কমাবে কি না, সে বিষয়েও দলীয় সমর্থকদের মধ্যে পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের জরিপে ৭৬ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করতেন ট্রাম্পের নীতিতে মূল্যস্ফীতি কমবে। সেপ্টেম্বরে সেই হার নেমে হয়েছে ৩৭ শতাংশ। তবে কট্টর রক্ষণশীলদের মধ্যে অনুমোদন কমলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহের সব সূচক একই দিকে যায়নি। সেপ্টেম্বরে ৭২ শতাংশ বলেছেন, তারা ভোট দেওয়ার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৬৯ শতাংশ। আবার খুবই বা কিছুটা উৎসাহী—দুই শ্রেণি মিলিয়ে ভোটের আগ্রহ ৭৮ শতাংশ থেকে কমে ৭৪ শতাংশ হয়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে অনুমোদনের ৮ পয়েন্টের পরিবর্তনকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ সেপ্টেম্বরে ‘খুবই রক্ষণশীল’ উত্তরদাতাদের সংখ্যা ছিল মাত্র ১১০ জন। ফলে নমুনাগত ওঠানামার প্রভাব এখানে তুলনামূলক বেশি হতে পারে। একাধিক জরিপে একই প্রবণতা দেখা গেলে তখন বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। মারকেটের জাতীয় জরিপটি ২ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। পুরো জরিপের মার্জিন অব এরর প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। জুলাইয়ের তুলনার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, এটি একই ব্যক্তিদের ওপর করা ধারাবাহিক জরিপ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখ খুলেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির (জেএফকে) পরিবার। ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার চেষ্টা এবং সংস্কারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরেই এই বিরোধ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প-সমর্থিত কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ ভবনটি সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে একটি ফেডারেল আদালত ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ আটকে দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নামে কোনো স্মারক বা নাম সংযোজন করা যাবে না। এরপর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আদালতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে কেনেডি সেন্টারের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ এগোবে না। সংস্কারের জন্য কংগ্রেস প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্পের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন জেএফকের ভাতিজি মারিয়া শ্রাইভার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে তাকে ‘ছোট মনের’ ও ‘আত্মমগ্ন’ বলে মন্তব্য করেন। শ্রাইভারের ভাষ্য, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট একটি সরকারি ভবনের সংস্কার আটকে রাখবেন শুধু সেখানে নিজের নাম যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেএফকের নাতি জ্যাক শ্লসবার্গও ট্রাম্পের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তার দাদার উত্তরাধিকার চাঁদে অভিযান, নাগরিক অধিকার আইন, কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট এবং শিল্পকলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এদিকে জেএফকের পরিবারের আরেক সদস্য কেরি কেনেডি ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করা কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিট্টির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কেনেডি সেন্টার, শিল্পকলা, তার চাচা জন এফ. কেনেডির স্মৃতি এবং আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিট্টি সাহসের সঙ্গে লড়ছেন। বিতর্কের মধ্যে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার কেনেডি সেন্টারে বড় ধরনের পরিবর্তন বা ধ্বংসের আগে ৩০ দিনের নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে নাম পরিবর্তন, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও জেএফকের পরিবারের বিরোধ এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন কার্ডধারীদের মার্কিন কর-বাসিন্দার মর্যাদা শেষ করার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত চার প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সংখ্যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ চার প্রান্তিকে মোট ৫ হাজার ৭৯০ জনের নাম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা হারানো ব্যক্তিদের তালিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রবাসীদের করসংক্রান্ত সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেসের বিশ্লেষণ বলছে, ছয় বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ চার প্রান্তিকের মোট সংখ্যা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ওই সময়ে তালিকায় ১ হাজার ৭৮১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ফলে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মোট নাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪৩টি, যা গত বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে এই তালিকা থেকে ঠিক কতজন ব্যক্তি ওই সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তা সরাসরি বলা যায় না। কারণ ফেডারেল রেজিস্টারে সাধারণত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কখন কোনো ব্যক্তির মর্যাদা পরিবর্তনের তথ্য পেয়েছে, সেই সময়ের ভিত্তিতে নাম প্রকাশ করা হয়। নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা ত্যাগের প্রকৃত তারিখ এর আগে বা পরে হতে পারে। তালিকায় সাবেক মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি কিছু দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন কার্ডধারীও থাকেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের কর-বাসিন্দার মর্যাদা শেষ করেছেন। গ্রিনব্যাকের ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৫০০ জনেরও কম মার্কিন নাগরিকত্ব হারিয়েছেন বা ত্যাগ করেছেন। ওই সময়ে বছরে গড়ে নাম প্রকাশিত হয়েছিল ৪৫২টি। ২০১০ সালে বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক সম্পদ ও হিসাবের ওপর নজরদারি বাড়াতে ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট বা এফএটিসিএ পাস হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এই আইনের আওতায় বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের মার্কিন গ্রাহকদের বিদেশে থাকা আর্থিক সম্পদের তথ্য জানাতে হয়। বিদেশে বসবাসকারী অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য এই করব্যবস্থা ও প্রতিবেদন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা বাড়তি ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম এমন দেশ, যেখানে নাগরিকরা বিদেশে বসবাস করলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের বৈশ্বিক আয়ের ওপর করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকতে হয়। ২০১৪ সালে এফএটিসিএ কার্যকর হওয়ার পর নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যাও দ্রুত বাড়তে থাকে। গ্রিনব্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে এক বছরে ৫ হাজার ৪০৯ জনের নাম প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা কমে ২ হাজার ৭১-এ নেমে আসে। এরপর ২০২০ সালে তা আরও বেড়ে ৬ হাজার ৭০৫ জনে পৌঁছে, যা তখন আধুনিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা ছিল। এরপর সংখ্যায় কিছু ওঠানামা থাকলেও নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। সর্বশেষ চার প্রান্তিকের ৫ হাজার ৭৯০ জনের সংখ্যা সেই ধারাবাহিকতারই নতুন উদাহরণ। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বসবাসকারী কিছু মার্কিন নাগরিক করব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আদর্শগত কারণেও নাগরিকত্ব ছাড়ার কথা জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসন্তোষও কারও কারও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক বৃদ্ধির পেছনে একটি বাস্তব ও সরাসরি কারণ হিসেবে নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি কমে যাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াকরণ ফি ৮০ শতাংশ কমিয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল হয়েছে। ২০১০ সালের আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কোনো ফি ছিল না। পরে ৪৫০ ডলার ফি চালু করা হয়। ২০১৫ সালে তা বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। ফলে ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের খরচ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ছিল। চলতি বছর সেই ফি আবার ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে থাকা কোনো মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে তাকে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি পূরণ, সাক্ষাৎকার এবং আনুষ্ঠানিক শপথের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদন পর্যালোচনা করে নাগরিকত্ব হারানোর সনদ অনুমোদন করলে নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে দিয়েছে, নাগরিকত্ব ত্যাগ একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং সাধারণত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিকত্ব না রাখলে এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি রাষ্ট্রহীনও হয়ে যেতে পারেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের পর সাধারণভাবে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করার অধিকারও থাকে না। করসংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্ব ত্যাগ করলেই আগের সব কর-দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব ত্যাগের আগের সময়ের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তী করের দায়ও প্রযোজ্য হতে পারে। মার্কিন সরকার আরও জানিয়েছে, কর এড়ানোর উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব ত্যাগ করা হয়েছে বলে নির্ধারিত হলে কিছু পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। গ্রিনব্যাকের সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে, সাম্প্রতিক বৃদ্ধিকে শুধু একটি কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। করব্যবস্থার জটিলতা, বিদেশে বসবাসের খরচ, নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি কমে যাওয়া এবং কিছু ব্যক্তির রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত মিলেই এই প্রবণতায় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্য প্রকাশের সময় ও প্রকৃত নাগরিকত্ব ত্যাগের সময়ের মধ্যে পার্থক্য থাকায় সংখ্যাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করাও জরুরি। সূত্র: নিউজউইক, গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতারণা করে হলেও জেতার শপথ নিয়েছেন। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে (আরএনসি) হাজারো সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে হাত তুলে শপথ করানোর সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে জয় পেতে প্রয়োজনে ‘ভীষণভাবে প্রতারণা’ করতে হবে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বৃহস্পতিবার ডালাসে অনুষ্ঠিত আরএনসির সম্মেলনে ট্রাম্প উপস্থিত সমর্থকদের ডান হাত তুলতে বলেন। এরপর তিনি নিজের ভাষায় একটি শপথ পাঠ করান। সেখানে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত না থাকলেও ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা যেভাবে প্রতারণা করে, রিপাবলিকানদেরও সেভাবেই ‘ভীষণভাবে প্রতারণা’ করতে হবে। তবে পুরো বিষয়টি তিনি হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেন। শপথের শুরুতে ট্রাম্প নিজেকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সেরা প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর সমর্থকদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “৩ নভেম্বর আমরা ভোট দিতে যাব, অথবা তার আগেই ভোট দেব।” একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, কেউ চাইলে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিতে পারে। এ সময় উপস্থিত সমর্থকদের কাছ থেকে ব্যাপক দুয়োধ্বনি আসে। পরে তিনি ‘সো হেল্প মি গড’ বলে শপথ শেষ করেন। ভোট না দিলে ‘নরকে যেতে হবে’—এমন মন্তব্যও করেন ট্রাম্প। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি ভোট দিতে ভুল না করার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের প্রতারণা করে হলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতার মন্তব্য এবং সমর্থকদের তাকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থনের শপথ করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে ভিডিওটি লাখের বেশি ভিউ পায়। এ নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ট্রাম্পের বক্তব্যের ধরন নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাট ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ করে আসছেন। বিশেষ করে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তিনি এখনও করে থাকেন। তবে বিভিন্ন পুনর্গণনা, অডিট ও আদালতের সিদ্ধান্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা ওই নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করতে পারে। ডালাসের আমেরিকান এয়ারলাইনস সেন্টারে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী আরএনসির এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনকেন্দ্রিক জাতীয় সম্মেলন। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলের সমর্থকদের চাঙা করাই ছিল সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সম্মেলনে ট্রাম্পের পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। ভ্যান্সের বক্তব্যের সময় সমর্থকদের ‘জেডি ৪৮’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়, যা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ককেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রসহ দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা এতে বক্তব্য দেন।
মিশিগানের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে ঘিরে মুসলিম পরিচয় ও তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ তীব্র হলেও সাম্প্রতিক জরিপে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এল-সাইদ জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন। ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সাইদ কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। প্রাইমারিতে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া স্টিভেনসকে অল্প ব্যবধানে হারান। তার এই জয় জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ নির্বাচনের আগে এল-সাইদের প্রচারণার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের বাইরের অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। প্রাইমারি জয়ের পর এল-সাইদকে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণের বড় একটি অংশ তার মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে চলে আসে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে প্রচারে গিয়ে এল-সাইদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাকে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এল-সাইদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসবাদ ও ৯/১১ হামলার নিন্দা করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার সমর্থক হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও রয়েছে। এসব দাবির কিছু ইতোমধ্যে ফ্যাক্টচেকের মুখে পড়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে এল-সাইদের অবস্থানও রিপাবলিকান ও প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। এল-সাইদ ইসরায়েলের গাজা নীতির কঠোর সমালোচক। তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামোয় অর্থ ব্যয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার এই অবস্থানের কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর বিরোধিতারও মুখে পড়েছেন তিনি। তবে এসব আক্রমণের মধ্যেও সাধারণ নির্বাচনের লড়াইয়ে এল-সাইদের অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। একই জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশে ছিলেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন জরিপে ব্যবধান এক নয়। ফক্স নিউজের আগস্টের জরিপে রজার্স ৫১ শতাংশ এবং এল-সাইদ ৪৭ শতাংশে ছিলেন। পরে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এল-সাইদ আবার এগিয়ে যান। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্সের সাম্প্রতিক গড় হিসাবে এল-সাইদ ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থনে রয়েছেন। ফলে মিশিগানের এই লড়াই এখনো টস-আপ বা অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এল-সাইদের প্রচারণায় মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি দীর্ঘদিন মিশিগানে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন। অন্যদিকে, সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। রিপাবলিকান প্রচারণায় এল-সাইদের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান, স্বাস্থ্যনীতি, করনীতি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী অংশের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। মিশিগানের এই নির্বাচন শুধু একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়। ২০২৬ সালের মিডটার্মে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে চাইছে। ফলে এল-সাইদ ও রজার্সের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এল-সাইদ জয়ী হলে শুধু মিশিগান থেকেই একজন নতুন সিনেটর নির্বাচিত হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে নির্বাচনের এখনও প্রায় দুই মাস বাকি এবং জরিপে ব্যবধান খুব বেশি নয়। মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের মনোভাব শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন নতুন এক জরিপে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর জন্য ফোকালডেটার করা জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি সন্তুষ্ট। মে মাস থেকে এ বিষয়ে জরিপ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন হার। আগের মাসের তুলনায়ও ট্রাম্পের অনুমোদন ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের বাড়তে থাকা হতাশা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে তার বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার নেতিবাচক মত দিয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, মার্কিন অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে। আর ৫৭ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান পরিচালনা নিয়ে সমর্থন কমেছে। মাত্র ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান এ বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট কম। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচও বেড়েছে। শুক্রবার ডিজেলের জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫.৮৫ ডলারে পৌঁছায়, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখার বিষয়টি নাকচ করে এটিকে তুলনামূলক ছোট সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও কমিয়ে দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নতুন পাইপলাইন, নৌপথ ও স্থলপথে তেল পরিবহনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি জনসমর্থনও বাড়ছে। গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ২৫ শতাংশ। দুই দলের মধ্যে ৬ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। ফলে নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াই রিপাবলিকানদের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে কোকা-কোলার একটি কারখানায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলাকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ‘স্পষ্ট বার্তা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভ অঞ্চলে টানা অষ্টম দিনের মতো রুশ হামলার সময় ব্রোভারি এলাকার কাছে কোকা-কোলার উৎপাদনকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দিনের হামলায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে কারখানাটিতে কর্মরত কোনো কর্মী আহত হননি বলে জানিয়েছে ইউক্রেনে থাকা আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স। বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ভালোভাবেই জানে যে কোকা-কোলা একটি আমেরিকান প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, কোকা-কোলার মতো একটি প্রতিষ্ঠানে রুশ ড্রোন হামলা চালানোকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বার্তা হিসেবেই দেখা উচিত। জেলেনস্কি আরও বলেন, “কোকা-কোলা এখন তাদের কাছে এমন এক শত্রু হয়ে গেছে যে তারা শাহীদ ড্রোন দিয়ে সেটিতেও হামলা চালাচ্ছে।” হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। হামলার পর ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে কারখানা এলাকায় আগুন নেভাতে জরুরি বিভাগের কর্মীদের কাজ করতে দেখা যায়। কারখানার ওপর ও আশপাশের মাঠের দিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতেও দেখা গেছে। ইউক্রেনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি হান্ডার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এদিকে হামলার পর ইউক্রেনের কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে কোকা-কোলার পণ্য দেশটির বাজার থেকে সাময়িকভাবে উধাও হয়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। একই দিনে ইউক্রেনের আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। ডিনিপ্রো শহরে নোভা পোশতার একটি ডিপো ও শাখায় ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন হামলায় একজন কর্মী নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। নোভা পোশতা এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়া আবারও বেসামরিক সরবরাহ ও লজিস্টিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের একজন সহকর্মীর প্রাণ গেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়াচ্ছে ইউক্রেন। শুক্রবার স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের স্টেরলিতামাকে একটি সামরিক-শিল্প স্থাপনায় হামলা হয়েছে। স্থানীয় রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর দাবি, স্টেরলিতামাক পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল। ওই কারখানায় বিমান জ্বালানিসহ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উৎপাদন করা হয়। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতেও রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় শহর সোচিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের নৌবাহিনী প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাশিয়ার সামুদ্রিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ‘নেফ্রিত’ নামের একটি জাহাজে নৌ-ড্রোন হামলার পরের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার মধ্যে কিয়েভের কাছে একটি মার্কিন কোম্পানির কারখানায় হামলার ঘটনা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া উত্তেজনার বিষয়টিকে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।