সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চাকরি

অভিজ্ঞতা কম থাকলেও নিউইয়র্কে চাকরি খোঁজার কয়েকটি সরকারি সুযোগ রয়েছে
অভিজ্ঞতা ছাড়াও নিউ ইয়র্কে চাকরি খোঁজার সাতটি পথ, জেনে নিন

নিউইয়র্কে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়। সিটি সরকারের চাকরির পোর্টাল, নিয়োগ মেলা, বিনামূল্যের ক্যারিয়ার সহায়তা ও প্রশিক্ষণের মতো বেশ কিছু পথ রয়েছে। তবে কোথাও অংশ নিলেই সরাসরি চাকরি মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি পদের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা করে দেখে আবেদন করতে হবে।   চাকরি খোঁজার প্রথম জায়গা হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি সরকারের চাকরির পোর্টাল। সেখানে প্রতিটি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের ধরন, অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা এবং আবেদন করার নিয়ম দেওয়া থাকে। শুধু চাকরির নাম দেখে আবেদন না করে ‘মিনিমাম কোয়ালিফিকেশনস’ বা ন্যূনতম যোগ্যতার অংশটি আগে ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।   দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার খবর নিয়মিত দেখা। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএস প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথমবার পরীক্ষায় আবেদনকারীদের জন্য পরীক্ষার ফি মওকুফের সুযোগ চালু হয়েছে। তবে এই সুবিধা সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় নয়, তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নিয়ম দেখে নিতে হবে।   তৃতীয় পথ হলো জবস এনওয়াইসি হায়ারিং হল। এসব আয়োজনে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতারা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। কিছু ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানস্থলেই ইন্টারভিউ নেওয়া হতে পারে। তবে ইন্টারভিউ বা চাকরি কোনোটিই নিশ্চিত নয়। সিটির তালিকায় ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একটি হায়ারিং হলের তথ্য রয়েছে। তবে ওই সরকারি পাতায় অনুষ্ঠানের শিরোনামে কুইন্স উল্লেখ থাকলেও ঠিকানায় স্টেটেন আইল্যান্ড দেওয়া হয়েছে। তাই যাওয়ার আগে সিটির সর্বশেষ ঘোষণায় অনুষ্ঠানস্থল নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।   চতুর্থ পথ হলো ওয়ার্কফোর্স ওয়ান ক্যারিয়ার সেন্টার। চাকরি খোঁজা, রিজিউমে তৈরি বা ঠিকঠাক করা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে এখানে বিনামূল্যে সহায়তা পাওয়া যায়। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ করে রিজিউমে কীভাবে সাজাতে হবে বা ইন্টারভিউতে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে এই সেবা কাজে আসতে পারে।   পঞ্চম পথ ইনডিভিজুয়াল ট্রেনিং গ্রান্ট। যোগ্য প্রার্থীরা নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের টিউশন, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার ফি এবং বইয়ের খরচে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গ্রান্টের সংখ্যা সীমিত এবং আবেদন করলেই অনুমোদন নিশ্চিত নয়। কোথাও ১ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ ডলারের ভাউচারের কথা বলা হলেও, এই পরিমাণ সবার জন্য নির্ধারিত—এমন তথ্য সিটির নির্দেশনায় নেই। একইভাবে কোনো কোর্স শেষ করলেই সেটিকে চাকরির অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা হবে, এমনও কোনো সাধারণ নিয়ম নেই।   ষষ্ঠত, এমটিএ ও ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সিটি ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরির বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখা যেতে পারে। পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন বা অফিসের মতো বিভিন্ন ধরনের পদে সুযোগ আসতে পারে। তবে প্রতিটি চাকরির যোগ্যতা আলাদা। সব এন্ট্রি-লেভেল পদে অভিজ্ঞতা লাগবে না, আবার শুধু একটি সেফটি সার্টিফিকেট থাকলেই সব পদে আবেদন করা যাবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়।   সপ্তম পথ হলো প্রতিবন্ধী যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সিটির ৫৫-এ কর্মসূচি। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু সিভিল সার্ভিস পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে। তবে শুধু এই কর্মসূচির আওতায় পড়লেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রার্থীর প্রতিবন্ধিতার যোগ্যতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষা, দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার শর্তও পূরণ করতে হয়।   চাকরি খোঁজার আগে নিজের একটি হালনাগাদ রিজিউমে তৈরি করে রাখা সবচেয়ে ভালো। এরপর নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন কয়েকটি পদ বেছে নিয়ে নিয়মিত আবেদন করা যেতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো পোস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা আগের নিয়োগ মেলার তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।   কারণ চাকরির সংখ্যা, আবেদনের সময়সীমা, যোগ্যতা এবং নিয়োগের নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই ‘অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি চাকরি’, ‘নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিলেই চাকরি’ কিংবা ‘মেলায় গেলেই নিয়োগ’—এ ধরনের দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না ধরে সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।   নিউইয়র্কে নতুনদের জন্য চাকরি পাওয়া সহজ নাও হতে পারে, কিন্তু সঠিক জায়গায় খোঁজ করলে সুযোগ পাওয়া সম্ভব। সরকারি চাকরির পোর্টাল নিয়মিত দেখা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার খবর রাখা, ক্যারিয়ার সেন্টারের সহায়তা নেওয়া এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগানো—চাকরি খোঁজার শুরুতে এসব পদক্ষেপই সবচেয়ে বেশি কাজে আসতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৮:৪০
নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ছাড়াই বিভিন্ন খাতের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আয়োজিত জব ফেয়ার বা নিয়োগ মেলা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নতুনদের জন্য ৭ চাকরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই আবেদন

নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও বিভিন্ন খাতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী, হোম হেলথ এইড, খুচরা বিক্রি ও গ্রাহকসেবা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ট্যাক্সি ও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন, রেস্টুরেন্ট এবং দাপ্তরিক কাজের মতো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যায়। তবে এসব চাকরি নিশ্চিত নয় এবং পদভেদে কাজের অনুমতি, প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ও নিয়োগকর্তার শর্ত পূরণ করতে হয়।   নতুন অভিবাসীদের জন্য নিরাপত্তাকর্মীর কাজ একটি সম্ভাব্য প্রবেশপর্যায়ের পেশা। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিবন্ধনের আগে ৮ ঘণ্টার প্রি-অ্যাসাইনমেন্ট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টও দিতে হয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে আরও ১৬ ঘণ্টার অন-দ্য-জব প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তীতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীর প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।   হোম কেয়ার খাতেও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হোম হেলথ এইড হিসেবে কাজ করতে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কমপক্ষে ৭৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়। পার্সোনাল কেয়ার এইডের জন্যও অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বয়স্ক, অসুস্থ বা দৈনন্দিন কাজে সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের বাড়িতে গিয়ে এসব কর্মী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকেন।   দোকান, সুপারমার্কেট, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খুচরা বিক্রি এবং গ্রাহকসেবার কাজেও চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি সবসময় প্রয়োজন হয় না। এসব পদের যোগ্যতা সাধারণত নিয়োগকর্তা নির্ধারণ করেন। বাংলাভাষী গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এমন কিছু কর্মক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা কাজে লাগতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভাষা জানলেই চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন কোনো সরকারি নিশ্চয়তা নেই।   নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতেও বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে। নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের মূলধনী পরিকল্পনার আকার প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার। এতে রেললাইন, স্টেশন, সংকেত ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো আধুনিকায়নের জন্য বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ থাকলেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি পদের জন্য আলাদা যোগ্যতা ও নিয়োগের শর্ত থাকে।   ট্যাক্সি ও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজেও ডিগ্রির বদলে নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশনের লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীদের নির্ধারিত ড্রাইভার শিক্ষা কোর্স, যাত্রী সহায়তা ও হুইলচেয়ার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা এবং ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ড্রাগ টেস্টসহ আরও কিছু যাচাই প্রক্রিয়াও রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না করলে শুধু গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলেই ট্যাক্সি বা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজে যোগ দেওয়া যায় না।   রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও হোটেলেও রান্নাঘর, খাবার প্রস্তুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশন ও হাউসকিপিংসহ বিভিন্ন প্রবেশপর্যায়ের পদ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭ ডলার। তবে টিপস পাওয়া কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে মজুরি হিসাবের আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। খাদ্যসেবা খাতে কাজের ধরন অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সনদের প্রয়োজনীয়তাও থাকতে পারে।   অফিস সহকারী, দাপ্তরিক কাজ এবং কিছু সরকারি চাকরিও ডিগ্রিবিহীন প্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে। তবে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিটি পদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির ৫৫-এ কর্মসূচিকেও নতুন অভিবাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ সুযোগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এই কর্মসূচি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য।   নিউইয়র্ক সিটির জবস্ এনওয়াইসি কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চাকরি মেলা ও নিয়োগ আয়োজনও করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুযোগও দেওয়া হয়। তবে কোনো চাকরি মেলা বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সরকারি তথ্য থেকে সময়, স্থান, যোগ্যতা এবং নিবন্ধনের নিয়ম যাচাই করা জরুরি।   চাকরি খোঁজার সময় প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার কথা বলে কেউ বড় অঙ্কের টাকা চাইলে আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা সরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ বা সরকারি চাকরির নামে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও একাধিক খাতে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স, অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং নিয়োগকর্তার নির্ধারিত যোগ্যতার ওপর। তাই নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট পদের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম দেখে আবেদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৯:৫৯
হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি ছাড়াই নিউইয়র্কের কিছু স্কুলে স্কুল এইড পদে আবেদনের সুযোগ
নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলে ডিপ্লোমা ছাড়াই চাকরির সুযোগ, চলছে নিয়োগ

নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে স্কুল এইড পদে নতুন নিয়োগ চলছে, আর কিছু পদের জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন স্কুল এইড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে।   সিএসবি নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে দেখা গেছে, অন্তত কয়েকটি স্কুল এইড পদের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন নেই। উদাহরণ হিসেবে ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে।   স্কুল এইডদের কাজ মূলত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন স্কুল কার্যক্রমে সহায়তা করা। এর মধ্যে হলওয়ে, স্টাডি হল, লাঞ্চরুম ও স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের তদারকি, স্কুলে আসা ও ছুটির সময় সহায়তা, স্কুলবাসে আসা শিক্ষার্থীদের দেখভাল এবং লাঞ্চ পরিবেশনে সহযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইনভেন্টরি সংরক্ষণ এবং কিছু সাধারণ দাপ্তরিক কাজও করতে হতে পারে।   অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতার ভালো রেকর্ড থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ১০ পাউন্ড ওজনের জিনিস তোলার সামর্থ্যও প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্কুলে দ্বিভাষিক প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হতে পারে।   কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার থেকে শুক্রবার কাজের কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা কাজের সম্ভাবনা রয়েছে। বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট কালেকটিভ বার্গেনিং এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী। তবে পদগুলো চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।   নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকলেও পদ পূরণ হয়ে গেলে আবেদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় আছে কি না যাচাই করা জরুরি।   নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের বর্তমান চাকরির তালিকাতেও ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাধিক স্কুল এইড পদ দেখা যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ব্রঙ্কস ও কুইন্সের বিভিন্ন স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। একই তালিকায় স্কুল এইডকে আলাদা চাকরির ক্যাটাগরি হিসেবে দেখানো হয়েছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি স্কুলভেদে যাচাই করা। ডিপ্লোমা বা জিইডি না থাকলেও কোনো কোনো স্কুল এইড পদে আবেদন করা সম্ভব হলেও, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত একই নয়। তাই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সর্বশেষ অফিসিয়াল পোস্টিং দেখে যোগ্যতা, কর্মঘণ্টা, আবেদন পদ্ধতি এবং পদটি এখনও খালি আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৭:৪২
নিউইয়র্ক কর্মীদের পাওনা নিয়ে ১৩১.৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় ডোরড্যাশের স্বীকারোক্তি
‘আমরাই ভুল করেছি’: নিউইয়র্ক কর্মীদের পাওনা নিয়ে ১৩১.৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় ডোরড্যাশের স্বীকারোক্তি

নিউইয়র্ক সিটির ডেলিভারি কর্মীদের পেমেন্ট সংক্রান্ত তদন্ত নিষ্পত্তি করতে ১৩১.৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় রাজি হয়েছে ডোরড্যাশ। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশনের তদন্তে কর্মীদের পেমেন্ট কম দেওয়া বা দেরিতে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এই সমঝোতা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   সমঝোতার আওতায় ডোরড্যাশকে প্রায় ২৬৪ হাজার ডেলিভারি কর্মীর জন্য মোট প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৩ মিলিয়ন ডলার এমন একটি বিরোধ নিষ্পত্তিতে যাবে, যেখানে অ্যাপে লগইন থাকা অবস্থায় কর্মীদের সময়ের পারিশ্রমিক কীভাবে হিসাব করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আরও প্রায় ১২.৩ মিলিয়ন ডলার কম বা দেরিতে দেওয়া পেমেন্টের বিষয়টি নিষ্পত্তিতে ব্যবহার হবে।   এ ছাড়া ডোরড্যাশ নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশনকে ১৬.৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেবে। শহর কর্তৃপক্ষের তদন্তটি মূলত ২০২৩ সালে কার্যকর হওয়া ডেলিভারি কর্মীদের ন্যূনতম পেমেন্ট সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে কোম্পানিটির কার্যক্রম কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, তা নিয়ে পরিচালিত হয়।   নিউইয়র্ক সিটির তদন্তে প্রায় ২০৯ হাজার ডেলিভারি কর্মীর কম বা দেরিতে পেমেন্ট পাওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডোরড্যাশ অবশ্য জানিয়েছে, পেমেন্টের সমস্যাগুলো ইচ্ছাকৃত ছিল না। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির জটিল পেমেন্ট নিয়ম বাস্তবায়নের সময় শহরের সীমানা পেরিয়ে ডেলিভারি, একাধিক অর্ডার একসঙ্গে সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ভুল হয়েছে।   নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের পেমেন্ট নিয়ে ডোরড্যাশসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন আইনি ও নিয়ন্ত্রক বিরোধ হয়েছে। ২০২৫ সালে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গেও ডোরড্যাশ ১৬.৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। সেই মামলায় ডেলিভারি কর্মীদের টিপস সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি ছিল।   নতুন সমঝোতার অংশ হিসেবে ডোরড্যাশকে নিয়ম মেনে চলার জন্য অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করতে হবে। কোম্পানিটি একটি কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নিয়মিত অভ্যন্তরীণ রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে।   নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের জন্য ২০২৩ সালের ন্যূনতম পেমেন্ট আইন চালুর পর অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে নিয়ম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন সমঝোতার ফলে তদন্তে উঠে আসা পেমেন্ট সংক্রান্ত বিরোধের একটি বড় অংশ নিষ্পত্তির পথে যাচ্ছে। ডোরড্যাশ জানিয়েছে, সমঝোতার পুরো অর্থের জন্য তারা আগেই আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ করেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১১:১৮
নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মাথায় চাকরিচ্যুত। ছবি: সংগৃহীত
'চাকরিটা আমার দরকার ছিল’, নিউইয়র্কে 'হাইজিন সমস্যা’ দেখিয়ে নতুন চাকরিতে বরখাস্ত যুবক

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী ক্রিস স্মলস দাবি করেছেন, প্রায় সাড়ে নয় মাস বেকার থাকার পর পাওয়া নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে তাকে জানানো হয়, কোম্পানি তার বিরুদ্ধে ‘হাইজিন ইস্যু’ বা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সমস্যা দেখেছে। তবে স্মলস এই কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, চাকরির আগের রাতে তিনি গোসল করেছিলেন, নতুন পোলো শার্ট পরে অফিসে গিয়েছিলেন এবং নিজেকে ভালোভাবেই প্রস্তুত করেছিলেন।    স্মলসের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় বেকার থাকার পর একটি টেম্প এজেন্সির মাধ্যমে তিনি একটি এআই প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পান। সেখানে তার দায়িত্ব ছিল ‘পিপল অপস’ বিভাগে কাজ করা। নতুন চাকরিটি নিয়ে তিনি আশাবাদী ছিলেন। প্রথম দিন অফিসে গিয়ে সুপারভাইজারের কাছ থেকে কর্মস্থল ঘুরে দেখেন এবং পরে আরেক কর্মীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন।   কয়েক ঘণ্টা অনবোর্ডিং ও প্রশিক্ষণের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। স্মলসকে স্বাভাবিক সময়ের আগেই লাঞ্চে যেতে বলা হয়। অফিস থেকে বের হওয়ার আগেই টেম্প এজেন্সি থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার কাজের অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করা হয়েছে এবং এর কারণ হিসেবে ‘হাইজিন ইস্যু’ উল্লেখ করেছে কোম্পানি। স্মলসের দাবি, তাকে ঠিক কী ধরনের পরিচ্ছন্নতার সমস্যা পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে কোম্পানি বা এজেন্সির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।    এ ঘটনায় আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন স্মলস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চাকরিতে যাওয়ার আগে গোসল করার পাশাপাশি দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস করেছিলেন এবং নতুন পোলো শার্ট পরেছিলেন। পরে নিজের পরিচিত কয়েকজনের কাছেও জানতে চান, তার শরীর বা পোশাক থেকে কোনো অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে কি না। তারা এমন কোনো সমস্যা টের পাননি বলে তাকে জানান। স্মলস আরও বলেন, তার প্যান্টে হয়তো লিন্ট রোলার ব্যবহার করা দরকার ছিল, তবে এ ছাড়া নিজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তিনি কোনো সমস্যা দেখছেন না।    চাকরি হারানোর কারণ জানতে না পেরে স্মলস নিজের প্রথম দিনের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়েও ভাবতে শুরু করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন কী ঘটেছিল যার কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা ঘটনার ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ‘হাইজিন ইস্যু’ আসলে কী ছিল, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।    ঘটনাটি স্মলস রেডিটে নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রকাশ করার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়। সেখানে কেউ তার প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন, আবার কেউ ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে নিজেদের ধারণা প্রকাশ করেছেন। তবে এসব মন্তব্যের কোনোটি কোম্পানির সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ হিসেবে নিশ্চিত নয়। স্মলস নিজেও বলেছেন, তিনি এখনো ঘটনার কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাননি। কয়েক মাস ধরে চাকরি খোঁজার পর পাওয়া সুযোগটি প্রথম দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে হতাশ করেছে।    সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্মলস ওই আড়াই ঘণ্টার কাজের জন্য পারিশ্রমিক পেয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি টেম্প এজেন্সির পক্ষ থেকে তাকে নতুন কোনো কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্মলসের দাবি এবং কোম্পানির কথিত ‘হাইজিন ইস্যু’ এখনো তার ব্যক্তিগত বর্ণনার ওপরই নির্ভর করছে। কোম্পানির নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৯:২৯
ক্যালিফোর্নিয়ায় কমেছে নতুন চাকরির সুযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা

ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। চাকরির সুযোগের হার বলতে মাসের শেষ কর্মদিবসে বিদ্যমান খালি পদকে মোট কর্মী ও খালি পদের সমষ্টির শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেওএলটিএস জরিপে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ এবং কর্মী ছাঁটাইসহ শ্রমবাজারের বিভিন্ন সূচক পরিমাপ করা হয়।  ক্যালিফোর্নিয়ার এই হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২১ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ২০২৩ সালে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হারটি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।  ২০২৫ সালের অক্টোবরেও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৬ লাখ ৬৪ হাজার চাকরির সুযোগ ছিল। তবে ওই মাসে রাজ্যটির চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।  তবে চাকরির সুযোগ কম থাকা মানেই নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট চাকরির সুযোগ ছিল প্রায় ৭২ লাখ ৭১ হাজার এবং জাতীয় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে নিয়োগের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ছাঁটাই ও চাকরিচ্যুতির হার ছিল ১ শতাংশ।  সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের আরেকটি চিত্রও দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রম বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন সামান্য কমে ২ লাখ ৬ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগের গতি কিছুটা বাড়লেও রাজ্যভেদে চাকরির সুযোগের চিত্র এক নয়।  ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন কর্মীদের জন্য তাই শুধু মোট চাকরির সংখ্যা নয়, কোন খাতে নিয়োগ বাড়ছে, কোন এলাকায় সুযোগ বেশি এবং নিয়োগের প্রবণতা কীভাবে বদলাচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাকরির সুযোগের হার কম থাকলে একটি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পেশা, দক্ষতা ও স্থানীয় শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিকভাবে চাকরির সুযোগ এখনো কয়েক মিলিয়নের পর্যায়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মহামারির পরের উচ্চ চাকরির সুযোগের সময়ের তুলনায় নিয়োগের বাজার অনেক বেশি স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনামূলক কম চাকরির সুযোগের হার রাজ্যটির চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:২৫
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের মধ্যে ক্যারিয়ারে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের ক্যারিয়ার ভাবনায় পরিবর্তন, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন পথে

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের মধ্যে ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা তথ্যপ্রযুক্তির মতো দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় পেশার পাশাপাশি আইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স, ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মতো ক্ষেত্রও তরুণদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিউনিটির কয়েকটি পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতায়ও দেখা যাচ্ছে, পড়াশোনা বা কর্মজীবনের মাঝপথে অনেকে নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুন করে সাজাচ্ছেন।   টেক্সাসের বাংলাদেশি কমিউনিটির এক তরুণীর গল্প তার একটি উদাহরণ। মিডল স্কুল থেকেই তিনি হেলথ কেয়ার ও মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। হাই স্কুল পেরিয়ে কলেজেও সেই লক্ষ্য ধরে পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি কলেজ শেষ করার পরও অবশ্য সেই দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি হেলথ কেয়ারের পরিবর্তে আইন পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ল স্কুলে ভর্তির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন।   অর্থাৎ যে ক্যারিয়ারের জন্য একজন শিক্ষার্থী কৈশোর থেকে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়েছেন, কলেজ শেষ করার পর নিজের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে সেই পথ পরিবর্তন করতেও দ্বিধা করছেন না।   জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ধরনের একটি পরিবর্তন। এক বাংলাদেশি পরিবারের তরুণীর শুরু থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ ছিল। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আইটি ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং প্রযুক্তি খাতে কাজের ধরন পরিবর্তনের কারণে এখন তিনি নিজের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাচ্ছেন।   আইটি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তিনি একই প্রযুক্তি খাতের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করছেন। অর্থাৎ তার ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি আইটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, বরং আইটির ভেতরেই ভবিষ্যৎমুখী একটি নতুন বিশেষায়িত ক্ষেত্র বেছে নেওয়া।   এই পরিবর্তনের পেছনে শুধু ব্যক্তিগত আগ্রহ নয়, দ্রুত বদলে যাওয়া চাকরির বাজারও ভূমিকা রাখছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৫ সালের ফিউচার অব জবস রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাকরির বাজারে প্রযুক্তিগত দক্ষতার গুরুত্ব দ্রুত বাড়বে। এআই ও বিগ ডেটা, নেটওয়ার্ক ও সাইবার সিকিউরিটি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা দক্ষতার মধ্যে রাখা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বিগ ডেটা স্পেশালিস্ট, ফিনটেক ইঞ্জিনিয়ার, এআই ও মেশিন লার্নিং স্পেশালিস্ট এবং সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকায় রাখা হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের সর্বশেষ হিসাবও দেখাচ্ছে, এআই প্রযুক্তির কারণে আইটি খাতের সব চাকরি কমে যাচ্ছে এমন নয়। বরং কিছু পেশায় কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ডেটা সায়েন্টিস্টের চাকরি ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সফটওয়্যার ডেভেলপারের চাকরি ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।    তবে প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে কিছু প্রচলিত কাজের ধরন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে প্রশ্নটি এখন শুধু আইটি পড়বে কি না, তা নয়; বরং আইটির কোন শাখায় গেলে ভবিষ্যতে বেশি সুযোগ তৈরি হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এই পরিবর্তন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে আইটি পেশায় কাজ করা কিছু বাংলাদেশি-আমেরিকান পেশাজীবীও চাকরির বাজারের পরিবর্তনের মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। তাদের কেউ নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন, কেউ আইটির অন্য শাখায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, আবার কেউ চাকরির পরিবর্তে ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।   জর্জিয়ার এমনই এক তরুণ বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবী, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, দীর্ঘদিন আইটি খাতে কাজ করার পর এখন নতুন ব্যবসা শুরু করছেন। তার কাছে প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তন এবং চাকরির অনিশ্চয়তা আইটি ক্যারিয়ারকে আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে। ফলে চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজের ব্যবসা দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।   বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির আকারও দ্রুত বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের শুধু বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার।    অর্থাৎ কমিউনিটির একটি বড় অংশ এখন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম। তাদের ক্যারিয়ার পছন্দ আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পেশাগত পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশি পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা আইটি পেশার বাইরে নতুন প্রজন্ম কতটা যাচ্ছে?   একজন তরুণী হেলথ কেয়ার থেকে আইন পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আরেকজন আইটি থেকে এআইভিত্তিক ক্যারিয়ারের দিকে এগোচ্ছেন। অন্যদিকে একজন অভিজ্ঞ আইটি পেশাজীবী চাকরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন।   এই তিনটি ঘটনা হয়তো পুরো কমিউনিটির চিত্র নয়। কিন্তু এগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন প্রজন্ম এখন শুধু বাবা-মায়ের পছন্দের পেশা নয়, বরং নিজের আগ্রহ, ভবিষ্যতের চাকরির বাজার, প্রযুক্তির পরিবর্তন, আয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বিবেচনা করে ক্যারিয়ার বেছে নিতে চাইছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তাই ক্যারিয়ার নিয়ে পুরনো প্রশ্নটি হয়তো ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। প্রশ্নটি আর শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নাকি আইটি—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং কোন পেশায় ভবিষ্যতের সুযোগ বেশি, কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়বে এবং সন্তানের নিজের আগ্রহ কোথায়—সেটিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   আর সেই পরিবর্তনের গল্পই হয়তো আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নতুন ক্যারিয়ার মানচিত্র তৈরি করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১২:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সরকারি চাকরির যোগ্যতার নিয়ম ফেডারেল ও স্টেট ভেদে ভিন্ন হয়। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড থাকলেই ফেডারেল চাকরি নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরির ৩ কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরি করতে চান এমন গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফেডারেল, স্টেট ও স্থানীয় সরকারের চাকরির যোগ্যতার নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল সরকারের বেশিরভাগ চাকরিতে মার্কিন নাগরিকত্ব প্রয়োজন হলেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই গ্রিন কার্ড থাকলেই সব ধরনের সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।   যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট বা সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফেডারেল সরকারের চাকরিতে কাজ করতে হলে আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক বা জাতীয় হতে হয়। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশ ১১৯৩৫ অনুযায়ী মার্কিন নাগরিক বা জাতীয় ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায় না।   তবে ফেডারেল সরকারের সব চাকরিকে একই নিয়মে দেখা যাবে না। সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরি মূলত প্রতিযোগিতামূলক চাকরি, বিশেষ নিয়োগের আওতাভুক্ত চাকরি এবং জ্যেষ্ঠ নির্বাহী চাকরি - এই তিন ধরনের কাঠামোর মধ্যে পড়ে। বিশেষ নিয়োগের আওতাভুক্ত কিছু পদে নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে ভিন্ন যোগ্যতা থাকতে পারে। তাই প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   ফেডারেল চাকরির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কেন্দ্রীয় চাকরির ওয়েবসাইট ইউএসএজবস ব্যবহার করা হয়। সেখানে প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত কোনো পদে সাধারণত মার্কিন নাগরিক বা জাতীয়রা আবেদন করতে পারেন। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে অ-মার্কিন নাগরিকদের জন্যও ব্যতিক্রম থাকতে পারে।   এ কারণে গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য প্রথম ধাপ হলো শুধু সরকারি চাকরি খোঁজা নয়, বরং নির্দিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর যোগ্যতার শর্ত দেখা। কোনো পদে মার্কিন নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক হলে গ্রিন কার্ড থাকলেও সেই পদে আবেদন করা যাবে না।   তবে সুযোগ শুধু ফেডারেল সরকারের চাকরিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্টেট ও স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগের যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট স্টেট, কাউন্টি, সিটি বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই গ্রিন কার্ডধারী কোনো ব্যক্তি স্টেট বা স্থানীয় সরকারের নির্দিষ্ট পদে আবেদন করতে পারবেন কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের ওপর নির্ভর করবে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু কাজের অনুমতি থাকলেই সব সরকারি পদে আবেদন করার অধিকার তৈরি হয় না। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের শর্ত, নিয়োগের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট পদের অন্যান্য যোগ্যতা আলাদাভাবে পূরণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় নিয়োগের শ্রেণির আওতায় না পড়লে আবেদন গ্রহণ নাও করা হতে পারে।   ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার সময় জীবনবৃত্তান্তের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন প্রক্রিয়া উল্লেখ থাকে। পদভেদে জীবনবৃত্তান্ত, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ, কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য এবং অন্যান্য নথি জমা দিতে হতে পারে। কিছু পদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই বা নিরাপত্তা ছাড়পত্রও প্রয়োজন হতে পারে।   তাই গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সহজ নিয়ম হলো, ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রথমে নাগরিকত্বের শর্ত যাচাই করা। এরপর বিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেই অংশটি দেখা এবং সবশেষে সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের তথ্য মিলিয়ে আবেদন করা। স্টেট, কাউন্টি, সিটি বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রিন কার্ড থাকলেই সরকারি চাকরি করা যায় না - এমন কথা যেমন সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়, তেমনি গ্রিন কার্ড থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যায় - এটিও সঠিক নয়। চাকরির স্তর, নিয়োগের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট যোগ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ০:৪৩
নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ে ক্যারিয়ারের সুযোগ
নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং-কোডিংয়ে চাকরির সুযোগ কতটা, কীভাবে এই চাকরিতে প্রবেশ করবেন?

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের মধ্যে মেডিকেল বিলিং ও কোডিং পেশা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে এই খাতে কাজ শুরু করার সুযোগ থাকায় বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের কাছে পেশাটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মেডিকেল কোডিংয়ের কাজে রোগীর চিকিৎসা, পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্য নির্দিষ্ট কোডে রূপান্তর করা হয়। আর মেডিকেল বিলিংয়ের সঙ্গে যুক্তরা রোগীর বীমা যাচাই, চিকিৎসা ব্যয়ের দাবি তৈরি ও পাঠানো, অর্থ পরিশোধের হিসাব এবং বীমা কোম্পানির কাছে আটকে থাকা দাবির বিষয়ে কাজ করেন। হাসপাতাল, চিকিৎসকের কার্যালয়, ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এসব কর্মীর প্রয়োজন হয়। এই পেশায় প্রশিক্ষণ শেষ করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্সের ধরন অনুযায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের পেশাগত সংগঠন এএপিসির তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ের যৌথ প্রশিক্ষণ এক বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। তাদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রায় আট মাসে শেষ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক মেডিকেল কোডিং একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, তাদের পেশাদার মেডিকেল কোডার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মেয়াদ পাঁচ মাস। অনলাইনেও এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কোর্সের টিউশন ফি ২ হাজার ৭০০ ডলার। তবে বই ও জাতীয় পরীক্ষার ফি আলাদা। নিউইয়র্কের সিটি কলেজেও মেডিকেল বিলিং ও কোডিংয়ের অনলাইন প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। সেখানে মোট ১৭৫ ঘণ্টার সরাসরি ক্লাস নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮৫ ঘণ্টায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিলিং, বীমা দাবি ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শেখানো হয়। বাকি ৯০ ঘণ্টায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন কোড ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই কোর্সটি পেশাগত সার্টিফিকেশন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও তৈরি করা হয়েছে। নিউইয়র্কের আশপাশে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল বিলিং ও কোডিং শেখার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ব্রঙ্কসের লেহম্যান কলেজ, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কলেজ অব স্ট্যাটেন আইল্যান্ড এবং নিউইয়র্ক মেডিকেল কোডিং একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোথাও অনলাইনে, আবার কোথাও সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু কোর্স শেষ করলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পেশাগত সার্টিফিকেশন অর্জন, কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিলিং ও কোডিংয়ের বাস্তব জ্ঞান চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর কেউ কেউ কয়েক মাসের মধ্যেই এন্ট্রি-লেভেল বা প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে চাকরি পাওয়ার নির্দিষ্ট সময় ব্যক্তি, দক্ষতা ও চাকরির বাজারের ওপর নির্ভর করে। বেতনের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ও সার্টিফিকেশনের পার্থক্য রয়েছে। এএপিসির ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে মেডিকেল কোডার, বিলার, নিরীক্ষকসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যম বার্ষিক আয় ৭৪ হাজার ৪২৬ ডলার। তবে শূন্য থেকে এক বছরের অভিজ্ঞতায় গড় আয় প্রায় ৪৯ হাজার ৫২৪ ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য ও চিকিৎসা নথি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৫১ হাজার ১৪০ ডলার। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই ধরনের চাকরির সংখ্যা ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। অর্থাৎ, নিউইয়র্কে মেডিকেল বিলিং ও কোডিংকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রবেশের একটি সম্ভাব্য ক্যারিয়ার পথ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রাথমিক চাকরির জন্য প্রস্তুত হওয়া সম্ভব হলেও ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ পেতে প্রশিক্ষণের মান, পেশাগত সার্টিফিকেশন, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে প্রশিক্ষণের মেয়াদ, খরচ, সার্টিফিকেশন প্রস্তুতি এবং চাকরির সহায়তা সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৭:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন সম্ভাবনা—বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ, বদলাচ্ছে কাজের ধরন
আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ লাখ নতুন চাকরি, সবচেয়ে বেশি সুযোগ স্বাস্থ্যসেবায়

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ৫৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে সব খাতে চাকরির প্রবৃদ্ধি সমান হবে না। স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি, প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সেবার মতো কিছু খাতে নিয়োগ বাড়লেও প্রশাসনিক ও বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেশায় চাকরি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের এই পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি আসবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। স্বাস্থ্যসেবায় ২২ লাখ নতুন চাকরি আগামী দশকে সবচেয়ে বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। এ খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ। খাতটির কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদাও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে নার্স প্র্যাকটিশনারের চাকরি পেশাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হতে পারে নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরিতে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় আরও রয়েছে সোলার ফটোভোলটাইক ইনস্টলার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, উইন্ড টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান এবং মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজার। মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের কর্মসংস্থান ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। এআই ও ডেটা সেন্টারে ইউটিলিটি খাতে নিয়োগ প্রবৃদ্ধির হারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ইউটিলিটি খাত। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ খাতে কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে খাতটির আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় নতুন চাকরি হবে প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০টি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে এই কর্মসংস্থান বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চাকরি ১৫৩ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রযুক্তি খাতেও বাড়বে চাকরি এআই-এর বিস্তারে প্রযুক্তি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা খাত ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে এবং প্রায় ৯ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। এআই-ভিত্তিক সিস্টেম, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি পরামর্শক সেবার চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হবে। ডেটা সায়েন্টিস্টদের কর্মসংস্থান প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এআই-এর চাপে কমবে কিছু চাকরি সব পেশায় অবশ্য চাকরি বাড়বে না। এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তা-সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান কমতে পারে। এই খাতে চাকরি প্রায় ৪ শতাংশ বা ৭ লাখ ৫২ হাজার ১০০টি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে ই-কমার্সের বিস্তার এবং ব্যবসায় এআই ব্যবহারের কারণে বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট পেশাতেও কর্মসংস্থান ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। ফলে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমে যেতে পারে। বিশেষ করে শিল্প, নকশা, বিনোদন, ক্রীড়া ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কিছু চাকরিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিক চাকরির প্রবৃদ্ধি হবে ধীর সব মিলিয়ে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মসংস্থান ১৭ কোটি ৬ লাখ থেকে বেড়ে ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ৫৯ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার হবে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের দশকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী দশকের মার্কিন চাকরির বাজারে তাই শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, চাকরির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, এআই, প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোই এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৬:১৩
নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে শত শত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি! সেপ্টেম্বরে শত শত পদে নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন প্রবাসী বাঙালিরাও

নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে শত শত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসন, আইন ও অন্যান্য বিভাগে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য স্টেটের অফিসিয়াল জব পোর্টালে একাধিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।   স্টেটজবস নিউইয়র্কের বর্তমান তালিকায় অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, নার্স, সোশ্যাল ওয়ার্কার, আইটি স্পেশালিস্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনিশিয়ান, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাটর্নি, ডেটা অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন ধরনের পদ দেখা যাচ্ছে। অনেক পদের আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই, আবার কিছু পদের ডেডলাইন অক্টোবর বা নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।   উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনে আইটি স্পেশালিস্ট, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পদ এবং অন্যান্য স্টেট এজেন্সিতে অফিস ও পেশাদার পর্যায়ের চাকরির বিজ্ঞপ্তি রয়েছে।   তবে সেপ্টেম্বর মাসে ঠিক ৮০০টি নতুন পদে নিয়োগ হবে এমন নির্দিষ্ট সংখ্যা অফিসিয়াল স্টেটজবস তালিকায় নিশ্চিত করা যায়নি। চাকরির সংখ্যা ও পদের তালিকা নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই আবেদনকারীদের প্রতিটি পদের যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল এবং আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু সরকারি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হয়। আবার কিছু পদে সরাসরি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। স্টেটের সিভিল সার্ভিস বিভাগও সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী কয়েক মাসের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে।   আগ্রহীরা নিউইয়র্ক স্টেটের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টালে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদ খুঁজে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি এবং যোগ্যতার শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১১:৫২
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বস্তিতে ট্রাম্প
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বস্তিতে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে আগস্ট মাসে শক্তিশালী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে নতুন করে ১ লাখ ৬২ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।   অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেশ আশাব্যঞ্জক। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন ইতিবাচক তথ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে, কারণ ভোটারদের কাছে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   প্রতিবেদনে আগের দুই মাসের কর্মসংস্থানের তথ্যেও বড় সংশোধন আনা হয়েছে। জুন ও জুলাই মাসের কর্মসংস্থানের হিসাব সম্মিলিতভাবে ৫৫ হাজার বাড়ানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে দেশটির শ্রমবাজার একটি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। আগস্ট মাসে বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও বার খাতে ৫৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে।   গ্রীষ্মের ছুটির পর সরকারি স্কুলগুলোতে পুনরায় নিয়োগ শুরু হওয়ায় শিক্ষা খাতেও ৪২ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতে যুক্ত হয়েছে আরও ১৩ হাজার নতুন চাকরি।   তবে কর্মসংস্থানের এই ইতিবাচক খবরের পর শেয়ারবাজারে কিছুটা দরপতন দেখা গেছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারী এবং বিশ্লেষকদের নজর চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণী বৈঠকের দিকে। শ্রমবাজারের এই চাঙ্গা অবস্থা ফেডারেল রিজার্ভের জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে, কারণ বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করছে।   জুলাইয়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়াঙ্কের মতে, শ্রমবাজার পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ওঠার এই লক্ষণ সাধারণ শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্বস্তিদায়ক হলেও, চাহিদার পাশাপাশি সরবরাহজনিত ধাক্কার কারণে এটি ফেডের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৯:৩৯
এনভিডিয়া, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেনারেল মোটরস ও এটিঅ্যান্ডটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে
কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই ৬ অঙ্কের বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে নতুন ক্যারিয়ারের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ভালো বেতনের চাকরি করতে চার বছরের কলেজ ডিগ্রি সবসময় প্রয়োজন নয় বলে জানিয়েছেন লো’জের প্রধান নির্বাহী মারভিন এলিসন। তার মতে, দক্ষ পেশার অনেক চাকরিতে বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয় করা সম্ভব। প্লাম্বিং, ইলেকট্রিকের কাজ, ওয়েল্ডিং ও এইচভিএসির মতো পেশায় ভালো ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। এসব পেশাকে জনপ্রিয় করতেই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে লো’জ ফাউন্ডেশন।   লো’জ ফাউন্ডেশন ‘বিল্ডিং ফিউচার্স স্কিলড ট্রেডস কোয়ালিশন’ নামে একটি নতুন জোট গঠন করেছে। এর লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষকে দক্ষ পেশার জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুত করা।প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এসব কর্মীকে চাকরির সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশজুড়ে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এলিসন বলেন, চার বছরের কলেজ ডিগ্রিই সফল ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র পথ—এই ধারণা বদলানো দরকার। তার মতে, দক্ষ পেশার অনেক চাকরিই ভালো বেতন ও স্থায়ী ক্যারিয়ারের সুযোগ দিতে পারে। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা থাকা কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাই তরুণদের এসব পেশার দিকেও আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। লো’জ ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার দক্ষ কর্মী প্রশিক্ষণের জন্য ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে দেশটির দক্ষ কর্মীর ঘাটতির তুলনায় এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণেই বিভিন্ন বড় কোম্পানিকে যুক্ত করে নতুন জোট তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করা হবে। এনভিডিয়া, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেনারেল মোটরস ও এটিঅ্যান্ডটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার সনদ দেওয়ার কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করবে। কমিউনিটি কলেজ ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও এর আওতায় থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীদের উপযুক্ত চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতেও সহায়তা করা হবে। নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে এলিসন বলেন, তার বাবা হাইস্কুলও শেষ করতে পারেননি। তিনি সাত ভাইবোনের মধ্যে মাঝের সন্তান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। পরবর্তীতে তিনি দুটি ফরচুন ৫০০ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে সফল হওয়ার জন্য শুধু প্রচলিত শিক্ষার পথ অনুসরণ করা জরুরি নয়। এলিসন আরও সতর্ক করে বলেন, দক্ষ কর্মীর ঘাটতি সমাধান করা না গেলে মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তার হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২১ লাখ দক্ষ কর্মীর পদ খালি থাকতে পারে। এই ঘাটতির কারণে দেশটির অর্থনীতিতে বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। তাই দক্ষ পেশায় প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে কম থাকলেও দীর্ঘ সময় চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বৃদ্ধি! চাকরি না পেয়ে হতাশ লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার ছিলেন। মোট বেকার মানুষের প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের মধ্যে ছিলেন।   বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শুরুর দিক থেকে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেকার থাকা মানুষের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কোনো অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নেই। অতীতে এত বড়সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় বেকার থাকলে সাধারণত বেকারত্বের হারও বেশি থাকত এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকত বা সেখান থেকে বের হওয়ার পর্যায়ে থাকত।   ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা জেরেমি স্পিগেলের অভিজ্ঞতা এই দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের একটি উদাহরণ। ২০২৪ সালে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের চাকরি হারানোর পর তিনি নতুন কাজের সন্ধান শুরু করেন। দুই দশকের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই বছর ধরে তিনি চাকরি খুঁজছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না পাওয়ার কারণে এখন তিনি নিজেকেও প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন।   স্পিগেল জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তার মনে হয়েছে, হয়তো সমস্যাটি তার নিজের মধ্যেই রয়েছে। তার পরিবারের একজন সদস্য পর্যন্ত প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করেছেন সেখানে কারও সঙ্গে তার কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না। চাকরি খোঁজার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি কখনো কখনো সামাজিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে চলেন।   দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের কারণ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে দায়ী করছেন, কেউ বয়সভিত্তিক বৈষম্যের কথা বলছেন। আবার কেউ এমন চাকরির বিজ্ঞাপনের বিষয়টি সামনে আনছেন, যেগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে নিয়োগের উদ্যোগ নেই। তবে এসব বিষয়কে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের নিশ্চিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।   ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ওফার শ্যারোন দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তার মতে, চাকরিপ্রার্থীরা যখন দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার পেছনে কোনো স্পষ্ট বাহ্যিক কারণ খুঁজে পান না, তখন তারা নিজেদের মধ্যেই সমস্যার কারণ খুঁজতে শুরু করেন। এতে আত্মদোষারোপ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খোঁজার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে।   ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা জন ম্যাককার্টিও দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০২২ সালে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরি হারানোর পর তিনি ১৮ মাস ধরে নতুন কাজ খুঁজেছেন। পরে তিনি পেশা পরিবর্তন করে কারিগরি কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে একটি খুচরা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।   ম্যাককার্টি জানান, কয়েকটি চাকরির ক্ষেত্রে তিনি প্রাথমিক ফোন ও কারিগরি সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ভিডিও সাক্ষাৎকারের পর তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। একের পর এক প্রত্যাখ্যানের পর তার মনে হয়েছে, বয়স হয়তো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে তিনি নিজেই নিশ্চিত নন, বয়সকে কারণ হিসেবে ভাবাটা বাস্তবতা নাকি দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার একটি উপায়।   ওফার শ্যারোন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য আশা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘমেয়াদি চাকরিসন্ধান একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কিন্তু সমস্যার কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সেই আশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।   তবে দীর্ঘ সময় চাকরি খোঁজার পর কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত কাজে ফিরতে পারছেন। কিন্তু নতুন চাকরি পেলেও অনেকের ক্ষেত্রে আগের কর্মজীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরি গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ কাজ খোঁজা পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন।   কিম্বারলি ম্যাকক্লেইন ২০২৪ সালে একটি ছোট অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে উপপরিচালকের চাকরি থেকে পদত্যাগ করার পর দ্রুত নতুন কাজ পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে কোনো চাকরির প্রস্তাব না পাওয়ায় তিনিও নিজের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানের অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ-নিষেধ তালিকায় তিনি আছেন কি না, সেটিও ভাবতে শুরু করেছিলেন।   চাকরি খোঁজা শুরুর প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি একটি কল সেন্টারে পূর্ণকালীন গ্রাহকসেবা পেশায় চাকরি পেয়েছেন ম্যাকক্লেইন। তবে নতুন চাকরিতে তার আয় আগের চাকরির প্রায় অর্ধেক। তারপরও দীর্ঘ সময়ের প্রত্যাখ্যানের পর একটি চাকরির প্রস্তাব পাওয়াকে তিনি স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এখন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, জুলাইয়ে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা আগের মাসের ১৯ লাখ থেকে কিছুটা কমে ১৮ লাখে দাঁড়ালেও দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য।   আগামী দিনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগে আরও আত্মবিশ্বাসী হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আবার অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হলে বর্তমান চাকরির বাজার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা অনেক মানুষকে পেশা পরিবর্তন, কম বেতনের কাজ গ্রহণ অথবা চাকরির সন্ধান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।   সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১:১৩
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে যাওয়া ১০টি পেশার ছয়টিই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের। ছবি: সংগৃহীত
আগামী দিনের সেরা ১০ চাকরির ৬টিই স্বাস্থ্যসেবায়! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে যে পেশাগুলোর চাহিদা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে এমন ১০টি পেশার ছয়টিই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর নতুন পূর্বাভাসে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে নার্স অনুশীলনকারীর পেশা। আগামী এক দশকে এই পেশায় প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে।   স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির চাহিদা বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যার ব্যাপকতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে আগামী বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে আরও কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।   নার্স অনুশীলনকারীর পাশাপাশি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপকদের চাকরিও দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই পেশায় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। নতুন চাকরির সংখ্যার হিসাবে এটি দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি হতে পারে।   দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের আরও কয়েকটি পেশা রয়েছে। জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বাড়তে থাকায় এসব পেশায় কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।   তালিকায় প্রযুক্তি ও গণিতভিত্তিক দুটি পেশাও রয়েছে। তথ্যবিজ্ঞানী এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীর চাকরি আগামী এক দশকে বাড়তে পারে। বড় পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন এবং তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধিকে এসব পেশায় কর্মসংস্থান বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   তথ্যবিজ্ঞানীর পেশায় ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার ৪০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীর পেশায় প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি নতুন চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এই দুই পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করেছে।   দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকার বাকি দুটি চাকরি পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী এবং বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদের চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং তথ্যকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এসব পেশার প্রয়োজনও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এসব পেশায় শতকরা হারে প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও নতুন চাকরির মোট সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী ও বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদের পেশা মিলিয়ে আগামী এক দশকে ১৫ হাজারের কম নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে।   ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থান প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ১৭ কোটি ৩ লাখ চাকরি থেকে ২০৩৫ সালে তা প্রায় ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের ১০ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।   জনসংখ্যার বয়স বাড়তে থাকায় আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়াও এর একটি কারণ। অনেক বয়স্ক কর্মী অবসরের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছেন এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে তাদের জায়গায় তরুণ কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।   অন্যদিকে খুচরা বাণিজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। খুচরা বাণিজ্যে কর্মসংস্থান শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। তবে কোনো পেশায় কর্মসংস্থান কমার পূর্বাভাস থাকলেও সেখানে চাকরির সুযোগ একেবারে শেষ হয়ে যাবে, এমনটা নয়।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। তারপরও এই পূর্বাভাস থেকে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে কোন পেশাগুলোর কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে, তার একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের পেশাগুলো এই তালিকায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।   সূত্র: সিএনবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ০:৫৫
পেনসিলভেনিয়ায় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয় তথ্য মিলবে জিপ কোডে
পেনসিলভেনিয়ায় নতুন! চাকরি, শিক্ষা ও জরুরি সহায়তার ঠিকানা জেনে নিন

পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, আবাসন ও আইনি সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন সরকারি ও কমিউনিটি সেবা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন আসা পরিবারের জন্য নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে এসব সেবা খুঁজে নেওয়া সহজ।   সবার আগে কাজে লাগতে পারে পেনসিলভেনিয়া ২১১। ২১১ নম্বরে ফোন করে বা নিজের জিপ কোড জানিয়ে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি, শিক্ষা ও অন্যান্য সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সেবাটি বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে।   চাকরির জন্য পেনসিলভেনিয়ার সরকারি ক্যারিয়ারলিংক ব্যবহার করা যেতে পারে। সেখানে চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, চাকরি খোঁজার প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সহায়তা পাওয়া যায়। বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখার ক্লাস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার সুযোগও জিপ কোড অনুযায়ী খুঁজে নেওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিতে নতুন অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতির বিভিন্ন রিসোর্স রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি, বিনামূল্যের খাবার ও অন্যান্য খাদ্য সহায়তা খুঁজে পাওয়া যায়। একইভাবে আবাসন ও বাড়িভাড়ার সহায়তার তথ্যও পাওয়া যায়। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স ও ফটো সেন্টার জিপ কোড দিয়ে খুঁজে নেওয়া যায়। তাই পেনসিলভেনিয়ায় নতুন হলে নিজের জিপ কোড দিয়ে সরকারি ও স্থানীয় সেবাগুলো খুঁজে দেখুন। চাকরি, স্কুল, খাবার, আবাসন বা অন্যান্য সহায়তার জন্য ২১১ এবং ক্যারিয়ারলিংক হতে পারে ভালো শুরু।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৭:৬
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ অফিসার পদে চাকরির পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির পরীক্ষার আবেদন চলছে, কীভাবে করবেন রেজিস্ট্রেশন

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ অফিসার পদে চাকরির পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। যারা নিউইয়র্ক পুলিশের চাকরিতে আগ্রহী, তারা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না।   নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের সিভিল সার্ভিস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন করার পর লিখিত পরীক্ষার সময়সীমা ৫ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। পরীক্ষাটি হবে মাল্টিপুল চয়েস পদ্ধতিতে (চার বা তার অধিক প্রশ্ন থাকবে তার থেকে উত্তর বেছে নিতে হবে)। পরীক্ষায় পাস করতে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।   আবেদন করবেন যেভাবে : পুলিশ অফিসার পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে নিউইয়র্ক সিটির অনলাইন পরীক্ষার আবেদন ব্যবস্থায় একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যাদের আগে অ্যাকাউন্ট নেই, তাদের প্রথমে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একটি সচল ইমেইল দিতে হবে এবং ইমেইলে পাঠানো নির্দেশনা অনুসরণ করে অ্যাকাউন্টটি নিশ্চিত করতে হবে।   এরপর পরীক্ষার তালিকা থেকে পুলিশ অফিসার পরীক্ষার আবেদন নম্বর ৭৩১৩ নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। যেহেতু এই পরীক্ষার আবেদন ফি শূন্য ডলার, তাই ফি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।   আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদন গ্রহণের একটি কনফার্মেশন ইমেইলে পাঠানো হবে। আবেদনকারীরা নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্টের বিজ্ঞপ্তি অংশেও আবেদনের অবস্থা দেখতে পারবেন।   অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হলে নিউইয়র্ক সিটির কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা ও আবেদন কেন্দ্রগুলো থেকেও আবেদন করা যায়। এসব কেন্দ্রে সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকে।   কারা আবেদন করতে পারবেন : পুলিশ অফিসার পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার তারিখের মধ্যে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৭ বছর হতে হবে। তবে চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার সময় বয়স কমপক্ষে ২০ বছর ৬ মাস হতে হবে।   শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে চার বছরের উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ বা সমমানের যোগ্যতার পাশাপাশি ২৪ সেমিস্টার কলেজ ক্রেডিটসহ কমপক্ষে ২.০ গড় নম্বর অথবা দুই বছর সম্মানজনকভাবে পূর্ণকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনীতে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।   চাকরিতে নিয়োগের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব, বৈধ নিউইয়র্ক স্টেট ড্রাইভার লাইসেন্স এবং নির্ধারিত এলাকার মধ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক সক্ষমতা যাচাই, মাদক পরীক্ষা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।   বয়স নিয়ে একটি বিষয় আবেদনকারীদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রচারমূলক বিজ্ঞপ্তিতে ৪২ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। তবে বর্তমান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ নিয়োগের বয়সসীমা আলাদাভাবে উল্লেখ আছে এবং সামরিক চাকরির ক্ষেত্রে বয়সে ছাড়ের বিধান রয়েছে। তাই বয়সের বিষয়ে আবেদন করার আগে সরকারি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।   আবেদন করার শেষ সময় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে দেরি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৯:১১
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য আবেদন করার আগে জীবনবৃত্তান্তের ফরম্যাট ঠিক করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় চাকরি খোঁজার আগে রেজুমে-তে যে ১০টি বিষয় ঠিক করতে হবে, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য Resume পাঠানোর আগে এর ফরম্যাট, তথ্য ও শব্দচয়ন ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক প্রতিষ্ঠান Applicant Tracking System বা ATS ব্যবহার করে Resume স্ক্যান করে। এই সফটওয়্যার চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে থাকা নির্দিষ্ট Keyword, Skills ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রার্থীর Resume মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে আবেদন বাছাই করতে পারে। তবে ATS সব Resume একইভাবে যাচাই করে না এবং কোনো Resume-কে ‘১০০ শতাংশ পাস’ করানোর নিশ্চয়তাও নেই। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক Resume Guide এবং CareerOneStop-এর নির্দেশনায় ATS-এর উপযোগী সহজ ফরম্যাট ও চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিল রেখে তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   প্রথমত, Resume-তে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিন। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ চাকরির Resume-তে ছবি, বয়স, জন্মতারিখ, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা বা বাবার নাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে নিজের নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল, City ও State এবং প্রয়োজন হলে LinkedIn প্রোফাইল দিতে পারেন। পুরো বাসার ঠিকানা দেওয়াও সাধারণত প্রয়োজন হয় না।   দ্বিতীয়ত, Resume-এর দৈর্ঘ্য অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে ঠিক করুন। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক পৃষ্ঠা যথেষ্ট হতে পারে। তবে অভিজ্ঞ প্রার্থীর Resume প্রয়োজন অনুযায়ী দুই পৃষ্ঠা পর্যন্ত হতে পারে। CareerOneStop সাধারণত দীর্ঘ কর্মজীবনের ক্ষেত্রে গত ১২ থেকে ১৫ বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাই বহু বছর আগের অপ্রাসঙ্গিক চাকরির তথ্য দিয়ে Resume ভারী করার দরকার নেই।   তৃতীয়ত, Job Description ভালোভাবে পড়ুন। সেখানে যে Skills ও যোগ্যতাগুলো চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা মিললে একই ধরনের Keyword Resume-তে ব্যবহার করুন। যেমন Customer Service, Cash Handling বা Inventory Management। তবে এমন কোনো Skill লিখবেন না, যা আপনার আসলে নেই।   চতুর্থত, Resume-এর শুরুতেই নিজের পরিচয় ও পেশাগত যোগ্যতা পরিষ্কার করুন। নাম, যোগাযোগের তথ্যের পর একটি সংক্ষিপ্ত Professional Summary দেওয়া যেতে পারে। এতে আপনি কোন ধরনের কাজ করেন, কত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরুন। নতুন গ্র্যাজুয়েট বা অল্প অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে Summary প্রয়োজন না-ও হতে পারে।   পঞ্চমত, কাজের অভিজ্ঞতা শুধু দায়িত্বের তালিকা হিসেবে লিখবেন না। সম্ভব হলে কাজের ফলাফল সংখ্যা দিয়ে তুলে ধরুন। যেমন ‘প্রতিদিন ১০০-এর বেশি কাস্টমারকে সেবা দিয়েছি’ বা ‘প্রতিদিন ৫ হাজার ডলারের ক্যাশ লেনদেন পরিচালনা করেছি’। CareerOneStop-ও কাজের বর্ণনায় সংখ্যা, শতাংশ, বিক্রি বা সাশ্রয়ের পরিমাণ এবং অর্জন তুলে ধরার পরামর্শ দেয়।   ষষ্ঠত, Education অংশে বাংলাদেশের শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির জন্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করুন। ডিগ্রি, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রাসঙ্গিক হলে গ্র্যাজুয়েশনের বছর উল্লেখ করুন। বাংলাদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার যুক্তরাষ্ট্রে সমমান নির্ধারণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক credential evaluation করা থাকলে, চাকরির ক্ষেত্রে সেটি প্রাসঙ্গিক হলে উল্লেখ করা যেতে পারে। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে ভুলভাবে ‘High School Diploma’ বা অন্য কোনো মার্কিন ডিগ্রির নামে পরিবর্তন করা উচিত নয়।   সপ্তমত, Skills অংশে চাকরিটির সঙ্গে সম্পর্কিত Technical বা Job-specific Skills আগে রাখুন। যেমন POS, Excel, QuickBooks বা Forklift। Soft Skills-এর ক্ষেত্রেও শুধু সাধারণ শব্দের তালিকা না দিয়ে, সম্ভব হলে Professional Summary বা কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেগুলোর প্রমাণ দেখানো বেশি কার্যকর।   অষ্টমত, ATS-এর জন্য Resume-এর ডিজাইন যতটা সম্ভব সহজ রাখুন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বলছে, অনেক ATS টেবিল, কলাম, ছবি, চার্ট বা গ্রাফিক্স ঠিকভাবে পড়তে পারে না। তাই একটি পরিষ্কার Single-column Layout এবং প্রচলিত Section Heading ব্যবহার করা নিরাপদ। Resume-এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Header বা Footer-এর ভেতরে না রাখাও ভালো।   নবমত, Resume-এর File Format চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দিন। শুধু ATS-এর কারণে সবসময় PDF বাদ দিয়ে DOCX ব্যবহার করতে হবে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের গাইডে বলা হয়েছে, Job Posting-এ যে Format চাওয়া হয়েছে সেটিই অনুসরণ করতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট Format না দেওয়া থাকে, CareerOneStop সাধারণত PDF ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, কারণ এতে ফরম্যাট ঠিক থাকে। File Name-এ নিজের নাম ও প্রয়োজনে Job Title রাখা যেতে পারে।   দশমত, Resume-এর পাশাপাশি Cover Letter প্রয়োজন হলে সেটিও Job Description অনুযায়ী তৈরি করুন। কোন পদের জন্য আবেদন করছেন, আপনার কোন অভিজ্ঞতা ওই পদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে এবং কেন আপনি উপযুক্ত, তা সংক্ষেপে তুলে ধরা যায়। ChatGPT বা অন্য কোনো AI Tool দিয়ে খসড়া তৈরি করলেও তথ্য অবশ্যই নিজের হতে হবে এবং ভাষা নিজের মতো করে সম্পাদনা করা উচিত। CareerOneStop-ও Resume উন্নত করতে AI Tool ব্যবহারের সুযোগের কথা উল্লেখ করেছে।   সবশেষে, ATS পাস করানোর কোনো নির্দিষ্ট ‘৯০+’ বা ‘১০০%’ স্কোর নিশ্চিত করার পদ্ধতি নেই। বরং চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক Keyword মিল রাখা, সত্য তথ্য ব্যবহার করা এবং সহজে পড়া যায় এমন Resume তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ২০২৬ সালের Resume Guide অনুযায়ী, ATS অনেক ক্ষেত্রে Keyword ও Formatting দেখে প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে বাছাই করতে পারে। তাই সুন্দর ডিজাইনের চেয়ে সঠিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা এবং পরিষ্কার ফরম্যাটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১০:৪৯
পেনসিলভানিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ায় নতুন আসা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি থেকে স্বাস্থ্যসেবা, ১০টি জরুরী ঠিকানা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নতুন করে বসবাস শুরু করা বাংলাদেশি পরিবার ও অভিবাসীদের জন্য চাকরি, শিক্ষা, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় বসবাসকারীরা সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কমিউনিটি রিসোর্সের মাধ্যমে এসব সহায়তা নিতে পারেন।   এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স হলো পেনসিলভানিয়া ২১১। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জরুরি সেবার সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করে এই বিনামূল্যের সেবা। ২১১ নম্বরে ফোন করে অথবা নিজের এলাকার জিপ কোড ব্যবহার করে খাবার, বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং শিশুদের সহায়তাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।   চাকরি খুঁজতে পেনসিলভানিয়ার ক্যারিয়ারলিংকও গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাজ্যের সরকারি কর্মসংস্থান সেবা, যেখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে সহায়তা পাওয়া যায়। নিজের এলাকার কাছাকাছি সেবা খুঁজতে জিপ কোড ব্যবহার করা যায়।   শিশুদের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে নিজের বাসার ঠিকানা অনুযায়ী স্থানীয় স্কুল জেলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ইংরেজি ভাষা শেখা শিক্ষার্থীদের জন্য পেনসিলভানিয়া শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে। প্রয়োজন হলে পরিবারগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ভাষাগত সহায়তা বা দোভাষীর সুবিধা সম্পর্কেও জানতে পারেন।   যারা ইংরেজি শিখতে চান বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও পেনসিলভানিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। রাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা ও পারিবারিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং চাকরি ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।   স্থানীয় গণগ্রন্থাগারও নতুন অভিবাসীদের জন্য কাজে লাগতে পারে। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে কম্পিউটার ব্যবহার, চাকরি খোঁজা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস বা কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সময়সূচি ও যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া ভালো।   খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভানিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র, খাদ্যভাণ্ডার ও বিনামূল্যের খাবারের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকেও খাবার বিতরণের কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   আইনি সমস্যায় কম আয়ের পরিবারগুলো পেনসিলভানিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সহায়তা খুঁজতে পারেন। এই নেটওয়ার্ক যোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন দেওয়ানি আইনি বিষয়ে সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করে। অভিবাসন, বাসস্থান বা কর্মক্ষেত্রসংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে বা কম খরচে আইনি সহায়তার সুযোগ রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে।   ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্টেট আইডির প্রয়োজন হলে পেনসিলভানিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলসের নির্ধারিত সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। কাছের লাইসেন্স বা ছবি তোলার কেন্দ্র খুঁজতে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করা যায়। নতুন লাইসেন্স, নবায়ন ও রিয়েল আইডির জন্য আলাদা নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে পারে।   এর পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার জায়গা হতে পারে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন, মসজিদ ও অন্যান্য কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার বিতরণ, শিক্ষা ও অন্যান্য সহযোগিতার তথ্য পাওয়া যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট সেবা বিনামূল্যে বা সবার জন্য উন্মুক্ত কি না, তা আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।   পেনসিলভানিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করলে একসঙ্গে সব তথ্য খোঁজার প্রয়োজন নেই। নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে প্রথমে ২১১-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। এরপর চাকরি, স্কুল, ইংরেজি শিক্ষা, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে আসবে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৯:৩৬
নিউইয়র্কে তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ, সঙ্গে অর্থ উপার্জনের সুযোগ
নিউইয়র্কে তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ, সঙ্গে অর্থ উপার্জনের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাজীবন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিনামূল্যে দুটি বৃহৎ যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শুধু কাজের অভিজ্ঞতাই নয়, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পারিশ্রমিক পাওয়ারও দারুণ সুযোগ থাকছে।   এর ফলে শিক্ষার্থীরা নতুন পেশার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও পড়াশোনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করছে।   শহরের যুব ও সম্প্রদায় উন্নয়ন বিভাগের অধীনে পরিচালিত ছয় সপ্তাহব্যাপী 'গ্রীষ্মকালীন যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচি'-তে প্রতি বছর ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় এক লাখ তরুণ অংশ নেয়।   ব্রঙ্কসের গ্যাব্রিয়েল পিটার্স নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও হিপহপ জাদুঘরের একটি যৌথ প্রকল্পে কাজের সুযোগ পায়।   পিটার্স জানায়, আগে সে শুধু অভিনয়শিল্পী বা গায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, এই কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংগীতের সমন্বয়ের বিষয়টি জেনে তার আগ্রহের পরিধি আরও বেড়েছে। এই চমৎকার অভিজ্ঞতার পর সে হিপহপ জাদুঘরে শিক্ষানবিশ হিসেবেও কাজের সুযোগ পেয়েছে।   অন্যদিকে, 'লার্ন অ্যান্ড আর্ন' নামক অপর একটি কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের উচ্চবিদ্যালয়গুলোর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় এক হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পাশাপাশি পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়েই এটি পরিচালিত হয়।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, কর্মক্ষেত্রের আচরণ এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শেখানো হচ্ছে। এই দক্ষতাগুলো শুধু কর্মজীবনেই নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনেও ব্যাপক কাজে আসবে।   যুব কর্মশক্তি উন্নয়ন কর্মসূচির কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে কলেজে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া অনেকটাই চাকরির আবেদনের মতো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। তাই আবেদনপত্রে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা থাকাটা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই জরুরি।   বিনামূল্যে পরিচালিত এই উদ্যোগগুলোর সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো শিক্ষার্থীদের মানসিক ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন। লাজুক ও আত্মবিশ্বাসহীন অনেক তরুণ এই কর্মসূচি শেষে প্রবল আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করার এক অভাবনীয় সুযোগ পাচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৫:৫৪
নিউ অরলিন্সের সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডে চাকরির সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
নিউ অরলিন্সে সরকারি চাকরির সুযোগ, অফিস সহকারীসহ একাধিক পদে নিয়োগ

নিউ অরলিন্সের সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডে অফিস সহকারীসহ একাধিক পূর্ণকালীন সরকারি চাকরির সুযোগ রয়েছে। সংস্থাটির সরকারি ক্যারিয়ার পাতায় বর্তমানে বিভিন্ন পদে নিয়োগের তথ্য দেওয়া হয়েছে।    এর মধ্যে অফিস সহকারী পদটি সিটিওয়াইড শ্রেণির পূর্ণকালীন চাকরি। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, এ পদের বেতন ৩১ হাজার ৮৮৯ ডলার এবং আবেদনের শেষ তারিখ নির্ধারিত নেই।   অফিস সহকারী পদের কাজে মাঝারি ধরনের বিভিন্ন দাপ্তরিক ও কেরানিসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। এ পদের জন্য উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ বা সমমানের যোগ্যতার পাশাপাশি তিন বছরের পূর্ণকালীন কেরানি, প্রশাসনিক, কম্পিউটার, জনসেবা বা প্রেরণকেন্দ্রিক কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে।   তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পদভেদে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, সংস্থাটির আরেকটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন বিশ্লেষক পদের জন্য স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পদে বেতন ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও আলাদা।    সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ড জানিয়েছে, কর্মীদের জন্য বার্ষিক ও অসুস্থতাজনিত ছুটি, জীবনবীমা, স্বাস্থ্য, ডেন্টাল ও ভিশন বীমা, পেনশন, শিক্ষাব্যয় ফেরত এবং কর্মী সহায়তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। সংস্থাটি সমান সুযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়।   নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থাটির একাধিক ধাপের প্রক্রিয়া রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট পদের সর্বশেষ যোগ্যতা, বেতন ও অন্যান্য শর্ত দেখে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্যারিয়ার পাতায় চলমান পদগুলোর তালিকাও পাওয়া যাচ্ছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন করার সময় বর্তমানে বসবাসের নির্দিষ্ট শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তবে পূর্ণকালীন কর্মীদের নিয়োগের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অরলিন্স প্যারিশে বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এ শর্ত থেকে অব্যাহতির সুযোগও রয়েছে।   চাকরিপ্রার্থীদের তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে আবেদন করার আগে সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডের সরকারি চাকরির তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট পদের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৩:২২
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন

আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০