- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
48 News
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করা ব্যক্তিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। নতুন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড স্পনসরদের ক্রেডিট-সংক্রান্ত তথ্য ভোক্তা রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে সংগ্রহ করার সুযোগ পেয়েছে সংস্থাটি। পরিবর্তনটি মূলত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পরিবারের সদস্যকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করার ক্ষেত্রে এই ফর্মে স্বাক্ষর করে স্পনসরকে ওই অভিবাসীর আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়। নতুন ফর্মে যুক্ত করা হয়েছে একটি প্রাইভেসি রিলিজ বা তথ্য সংগ্রহের অনুমতিসংক্রান্ত ধারা। এর মাধ্যমে ইউএসসিআইএস এক বা একাধিক কনজিউমার রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে স্পনসরের তথ্য চাইতে পারবে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি। নতুন ব্যবস্থাটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে যারা এখন পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিচ্ছেন, তাদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট শুধু একটি সাধারণ ফর্ম নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এটি স্পনসর ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি আইনগতভাবে কার্যকর চুক্তি। স্পনসরকে নির্দিষ্ট শর্তে অভিবাসীর আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব নিতে হয়। স্পনসরকে সাধারণত নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। কেউ সেই আয়সীমা পূরণ করতে না পারলে যোগ্য জয়েন্ট স্পনসর ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, জয়েন্ট স্পনসরকে নিজস্ব আয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। স্পনসরশিপের দায়িত্বও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। সাধারণভাবে স্পনসর করা ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া, ৪০টি কোয়ালিফাইং কোয়ার্টারের কাজের ক্রেডিট অর্জন করা, স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব বহাল থাকতে পারে। শুধু বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্পনসরশিপের দায়িত্ব শেষ হয় না। নতুন ক্রেডিট-তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে আরও তথ্য ব্যবহারের পথ তৈরি করতে পারে। তবে বর্তমানে ইউএসসিআইএস প্রতিটি স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্ট কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেনি। ফলে গ্রিন কার্ডের জন্য পরিবারের সদস্যকে স্পনসর করতে যাওয়া ব্যক্তিদের নতুন ফর্মের সর্বশেষ সংস্করণ এবং ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই নারী সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিল্লির সাকেত এলাকায় ম্যাক্স স্মার্ট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে একটি নতুন উইং উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ তাদের। সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান ৪পিএম নিউজ নেটওয়ার্কের হয়ে অনুষ্ঠানটি কাভার করছিলেন। শাহীন খানের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করার পর পুলিশ তাদের আটক করে সাকেত থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। শাহীন আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা তাদের পরিচয় ও ধর্ম সম্পর্কে জানতে চান। তারা মুসলিম জানার পর মারধরের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে তার দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই সাংবাদিকের শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। তবে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, সাংবাদিকরা ভিভিআইপি চলাচলের নির্ধারিত পথে স্কুটি রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করেছিলেন এবং বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও তা সরাননি। এ কারণে তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অনন্ত মিত্তল অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও তথ্যগতভাবে ভুল বলে দাবি করেছেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, থানায় নেওয়ার পর ওই পথ আবার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সাংবাদিকদের চলে যেতে বলা হয়। তবে তারা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কর্পস, দিল্লি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস, প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এবং কেরালা ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস যৌথ বিবৃতিতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা, পুলিশি আচরণ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ওঠা পুলিশের অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে গুলি করার ঘটনায় তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। জানুয়ারিতে জুলিও সেসার সোসা-সেলিস নামে ওই ব্যক্তির পায়ে গুলি লাগার ঘটনায় কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করা হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো সিলগালা রয়েছে। একই ঘটনায় মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে হামলা এবং অপরাধের মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগও করেছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল এলাকায় চালানো ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযানের সময়। ওই অভিযানে হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছিল, যা তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সবচেয়ে বড় অভিবাসন অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়। মিনেসোটা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কাস্ত্রো এবং আরেক কর্মকর্তা এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ডুপ্লেক্সে যান। সেখানে কাস্ত্রো বাড়িটির সামনের দরজা দিয়ে গুলি চালিয়ে সোসা-সেলিসের উরুতে আঘাত করেন। পরে তিনি দাবি করেন, সোসা-সেলিস ও আরেক ব্যক্তি ঝাড়ুর হাতল ও তুষার সরানোর কোদাল দিয়ে এক আইসিই কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছিলেন। তবে পরে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে ওই ঘটনার বিষয়ে কর্মকর্তাদের দেওয়া বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা সোসা-সেলিস ও অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করেন এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। কাস্ত্রো ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন ছাড়া আইসিই থেকে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরে মে মাসে তাকে মিনেসোটার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের একটি জেলে রাখা হয়। মিনেসোটায় হস্তান্তরের জন্য টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। তবে অ্যাবট তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যর্পণ অনুমোদন না করায় কাস্ত্রোকে গত সপ্তাহে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন কাস্ত্রো। এই ঘটনায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা হিসেবে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। এদিকে সোসা-সেলিসের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগ যথেষ্ট নয় এবং গুলি চালানোর ঘটনাটি আড়াল করতেই তিনি তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তার পক্ষ থেকে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তবে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গুলি চালানোর ঘটনায় আরও গুরুতর নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে ফেডারেল তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার একটি কাউন্টি জেল থেকে মাত্র একটি পেন্সিল ব্যবহার করে সেলের দরজা খুলে পালিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী। তবে তার পালিয়ে থাকার সময় বেশি দীর্ঘ হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই তাকে জেল থেকে কিছু দূরে আটক করেন ডেপুটিরা। পুরো ঘটনার কিছু অংশ নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজেও ধরা পড়ে। ঘটনাটি ঘটে ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে। বন্দীর নাম চার্লস আলেকজান্ডার ডিটারিখ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেলের দরজাটি সামান্য ওপরে তুলে লকিং মেকানিজমের ভেতর পেন্সিল ঢুকিয়ে সেটি নাড়াচাড়া করেন। এরপর দরজাটি সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। সেল থেকে বের হওয়ার পর ডিটারিখ জেলের রান্নাঘর দিয়ে এগিয়ে একটি আনলকড দরজা দিয়ে বাইরে চলে যান। দরজাটি জেলের রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের ময়লা বাইরে নেওয়া এবং বড় একটি রেফ্রিজারেটরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। এরপরও তিনি পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না। জেলের বাইরের একটি সুরক্ষিত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ছিল। ডিটারিখ সেই বেড়া টপকে পালানোর চেষ্টা করেন এবং এতে শরীরে কেটে যায়। পরে তিনি জেল এলাকা থেকে দূরে চলে যান। প্রায় ২০ মিনিট পর নিয়মিত তল্লাশির সময় জেলকর্মীরা সেলের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। অন্য বন্দীরা ডিটারিখ পালিয়ে যাওয়ার কথা জানালে দ্রুত ডেপুটিদের খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডেপুটিরা তাকে জেল থেকে কিছু দূরে জোন্স রোড এলাকায় শনাক্ত করেন। তাকে আটক করার সময় তিনি এক ডেপুটিকে হামলা করেন বলে শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে। পরে কাঁটাতারের কারণে হওয়া আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর তাকে আবার চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ডিটারিখ এর আগে চুরি করা গাড়ি সংক্রান্ত অভিযোগ, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের সংকেত অমান্য করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৩ আগস্ট এসব মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং সময়ের সাজা পান। তবে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হোল্ড থাকায় তাকে হেফাজতেই রাখা হয়েছিল। পালানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এখন বেআইনিভাবে পালানো, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া, পুলিশ অফিসারের ওপর হামলা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসহ নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর চেস্টারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে সেল ও লকিং মেকানিজম ব্যবহার করে ডিটারিখ বেরিয়ে যান, সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। শেরিফ ক্যাম্বো স্ট্রিটার বলেছেন, ঘটনাটি জেলের নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি দুর্বলতা সামনে এনেছে। জেলের পুরোনো অংশের কিছু স্থাপনা ১৯৭২ সালের বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় ব্যতিক্রমী এক গাউন পরে নজর কেড়েছেন উগান্ডার প্রতিনিধি ট্রিভিয়া এল মুহোজা। ‘ল্যাপার্স অব লাইফ’ নামের গাউনটি শুধু সৌন্দর্যের প্রদর্শন নয়, বরং সিজারিয়ান সেকশনের সময় শরীরের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করা সাতটি স্তরের প্রতীকী উপস্থাপন। উগান্ডার ডিজাইনার কিশা আবদাল্লাহ গাউনটি তৈরি করেছেন মিস ওয়ার্ল্ডের ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ডের জন্য। ডিজাইনে সাদা, হলুদ, গোলাপি ও লাল রঙের বিভিন্ন স্তর ব্যবহার করে সিজারিয়ান প্রসবের শারীরিক প্রক্রিয়াকে পোশাকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ডিজাইনের পেছনে রয়েছে আবদাল্লাহর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও। নতুন মা হওয়ার পর সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়া তাকে এই ধারণা নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি সিজারিয়ান প্রসবের সঙ্গে জড়িত সাতটি অ্যানাটমিক্যাল স্তর নিয়ে গবেষণা করে সেগুলোকে কুট্যুর গাউনের নকশায় রূপ দেন। গাউনটির প্রতিটি স্তর সিজারিয়ান প্রসবের সময় অতিক্রম করা বিভিন্ন শারীরিক স্তরের প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্বক, চর্বি, ফ্যাসিয়া, রেক্টাস মাংসপেশি, পেরিটোনিয়াম, জরায়ুর পেশি এবং অ্যামনিওটিক স্যাক। আয়োজনে গাউনটি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ফ্যাশনের সঙ্গে মাতৃত্ব ও সন্তান জন্মদানের অভিজ্ঞতাকে যুক্ত করা হয়েছে। ডিজাইনারের উদ্দেশ্য ছিল একটি পরিচিত চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে তা শুধু পোশাকের সৌন্দর্য নয়, নারীর মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে। মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর ৭৩তম আসর ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আয়োজনের অংশ হিসেবেই ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ডে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের ডিজাইনারদের তৈরি বিশেষ পোশাক উপস্থাপন করছেন। তবে ‘ল্যাপার্স অব লাইফ’ গাউনটি ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বলে কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হলেও, পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে এটিকে পুরস্কারজয়ী হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। নিশ্চিত তথ্য হলো, গাউনটি ওই প্রতিযোগিতায় উগান্ডার প্রতিনিধির জন্য তৈরি ও প্রদর্শন করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ৬৮ বছর বয়সী ডন ওটেওয়েল তার ৩১ বছর বয়সী নাইজেরিয়ান স্বামী ব্রাইট এমোকপেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। ২০২২ সালে সাইপ্রাসে বিয়ে করা এই দম্পতির সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ব্রাইট যুক্তরাজ্যে স্পাউস ভিসায় আসেন এবং পরে নিখোঁজ হয়ে যান বলে ডনের অভিযোগ। এখন বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত করতে না পারায় নিজের সম্পত্তি ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। ডনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে একাকীত্বের সময় টিন্ডার ও প্লেন্টি অব ফিশ নামের ডেটিং অ্যাপে ব্রাইটের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শুরুতে ব্রাইট নিজেকে ‘ব্রায়ান থমাস’ নামে পরিচয় দেন এবং বয়স ত্রিশের কোঠায় বলে জানান। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তিনি নিজের আসল নাম ব্রাইট এমোকপে এবং নাইজেরিয়ার বেনিন সিটিতে ফ্যাশন নিয়ে পড়াশোনার কথা জানান। বয়সের বড় পার্থক্য এবং শুরুতে পরিচয় গোপনের বিষয়টি জানার পরও ডন সম্পর্কটি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালের ২২ মার্চ সাইপ্রাসের নিকোসিয়ায় একটি রেজিস্ট্রি অফিসে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ব্রাইট নাইজেরিয়ায় ফিরে যান এবং যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য স্পাউস ভিসার আবেদন করেন। প্রায় এক বছর পর ভিসা পেয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে গেলে ডন নিজেই হিথরো বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। ডনের ভাইয়ের সহায়তায় একটি দরজা তৈরির কারখানায় ব্রাইটের চাকরিও হয়। কিন্তু ডনের দাবি, যুক্তরাজ্যে আসার পরপরই তাদের সম্পর্কে পরিবর্তন দেখা দেয়। ডন অভিযোগ করেন, ব্রাইট তার কাছে বারবার টাকা চাইতেন, নাইজেরিয়ায় অর্থ পাঠাতেন এবং সংসারের খরচে নিয়মিত অংশ নিতেন না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তারা আলাদা হয়ে যান। প্রায় ছয় মাস পর ডন স্বাস্থ্যসেবাজনিত একটি সমস্যার জন্য ৬৩ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর তারা আবার একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। তবে সেই সম্পর্কও বেশি দিন টেকেনি। ডনের দাবি, ২০২৪ সালের বড়দিনের আগে ভাইয়ের সঙ্গে ক্যারিবিয়ান ক্রুজ থেকে ফেরার পর তিনি দেখতে পান ব্রাইট বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ডনকে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। ডনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে। তিনি মনে করেন, ব্রাইট বিবাহবিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করতে অনাগ্রহী, কারণ এতে তার যুক্তরাজ্যে থাকার ভিসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে ব্রাইটের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি বা বিয়ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ডনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ব্রাইট দাবি করেছেন যে তিনি ইতোমধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। সাত নাতি-নাতনির দাদি ডন আরও জানান, তিনি কোনো উইল তৈরি করেননি। তাই বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগে তার মৃত্যু হলে নিজের সম্পত্তি ও ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। ব্রাইটকে খুঁজে বের করে বিবাহবিচ্ছেদের নথি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দিতে ডন এখন সিটিজেনস অ্যাডভাইসের সহায়তা নিচ্ছেন। এদিকে ব্রাইট এমোকপের নামে যুক্তরাজ্যের কোম্পানি নিবন্ধন নথিতে ২০২৬ সালের জুনে স্কটল্যান্ডের হাওইকে ঠিকানায় একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে তার নাম পাওয়া গেছে। ডনের এই ঘটনা অনলাইন সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক বিয়ে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিচয় ও পরিস্থিতি যাচাইয়ের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তার ব্যক্তিগত অভিযোগ ও ব্রাইটের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি এখনো মূলত একটি ভেঙে যাওয়া দাম্পত্য সম্পর্ক ও চলমান বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত বিরোধ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কিশোরদের একটি অংশের গ্যাং সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোর ও তরুণদের বিরুদ্ধে মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র বহন ও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব বিচ্ছিন্ন মামলার ভিত্তিতে পুরো বাংলাদেশি তরুণ সমাজকে গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না। ঠিকানা নিউজের এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য ও কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির মামলার নথির বরাতে কিশোরদের সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরে সামগ্রিকভাবে গুলির ঘটনা কমলেও সহিংস অপরাধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৫ সালে নিউইয়র্কে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের ১৪ শতাংশের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে। একই বছরে গুলি চালানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তদের ১৮ শতাংশই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। ২০১৮ সালে এই তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এটি ছিল সর্বোচ্চ হার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কুইন্সে সাম্প্রতিক একটি মামলায় কথিত ব্লিটজ গ্যাং-৪-এর ২২ সদস্যের বিরুদ্ধে ৯৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে ওই গ্যাং ও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর সংঘর্ষে অন্তত ১১টি গুলির ঘটনা এবং একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ ক্যামব্রিয়া হাইটসের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লটে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ। ওই কিশোর প্রতিপক্ষের দিকে একাধিক গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলাটির অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কিশোরদের সহিংসতার আরও কয়েকটি ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ফ্লাশিংয়ের কিসেনা পার্কে দুই কিশোরকে মারধরের ঘটনায় সাতজন ১৭ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। একই বছরের আরেক ঘটনায় অ্যাস্টোরিয়ার একটি সাবওয়ে স্টেশনে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে একটি দল মারধর ও টেজার দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। চলতি বছরের এপ্রিলেও কুইন্সের রয় উইলকিনস পার্কে কিশোরদের একটি বড় জমায়েতে ১৫ বছর বয়সী জাদেন পিয়েরেকে দলবদ্ধভাবে হামলা এবং পরে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে হত্যা ও গ্যাং অ্যাসাল্টের অভিযোগ এবং ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোরের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগও আদালতে প্রমাণসাপেক্ষ। নিউইয়র্কের কিশোর গ্যাং সংস্কৃতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের মতে, ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, ভিডিও, গান এবং অনলাইনে প্রতিপক্ষকে অপমান বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা কখনো কখনো বাস্তব জীবনের সংঘর্ষকে উসকে দিতে পারে। বর্তমান সময়ের কিশোর গ্যাং সবসময় বড় কোনো সংগঠিত অপরাধী চক্রের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে না। একই স্কুল, মহল্লা, হাউজিং কমপ্লেক্স বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতদের নিয়ে তৈরি ছোট গ্রুপও ধীরে ধীরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা পরে পুরো গ্রুপের প্রতিশোধের লড়াইয়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোনো একটি লক্ষণ দেখেই কিশোরকে গ্যাং সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। স্কুলে অনুপস্থিতি, হঠাৎ নতুন ও গোপন বন্ধুমহল, রাতে বাড়ির বাইরে থাকা, অজানা উৎস থেকে টাকা বা দামি জিনিস পাওয়া, মারামারির ভিডিও ধারণ কিংবা অস্ত্র ও গ্যাং-সম্পর্কিত ছবি প্রকাশের মতো একাধিক পরিবর্তন একসঙ্গে দেখা দিলে অভিভাবকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে হলেই গুরুতর অপরাধের দায় থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্তি পাওয়া যায় না। রাজ্যের রেইজ দ্য এজ আইনের অধীনে সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে ফৌজদারি বিচারের বয়স ১৮ করা হলেও নির্দিষ্ট গুরুতর ও সহিংস অপরাধে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের বিরুদ্ধেও ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা চলতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অধিকাংশ কিশোর স্বাভাবিক শিক্ষা ও পারিবারিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাই কয়েকটি মামলার কারণে পুরো কমিউনিটিকে দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি কিশোরদের মধ্যে সহিংসতার ঝুঁকির ঘটনাগুলো উপেক্ষা করাও বিপজ্জনক। পরিবার, স্কুল ও কমিউনিটির সমন্বিত নজরদারি এবং সময়মতো সহায়তা কিশোরদের অপরাধের পথে যাওয়া ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: ঠিকানা নিউজ
নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে রোমানিয়ায় নতুন করে অভিযোগপত্র দিয়েছে দেশটির প্রসিকিউটররা। শুক্রবার রোমানিয়ার সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাস তদন্ত অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, টেট ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেছিলেন। ৩৯ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু টেট বর্তমানে তার ভাই ট্রিস্টান টেটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামির ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। যুক্তরাজ্যে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সংঘটিত কথিত অপরাধের অভিযোগে তাদের যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন রোমানিয়ান মামলায় ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে দুই ভাইই তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। রোমানিয়ার প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অ্যান্ড্রু টেট ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে প্রথমে নিজের প্রতি আবেগগতভাবে আকৃষ্ট করেন। পরে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে জোরজবরদস্তি, মানসিক চাপ ও শারীরিক আগ্রাসনের আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও রোমানিয়ায় ওই কিশোরীকে যৌনভাবে শোষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অ্যান্ড্রু টেট ওই কিশোরীকে যৌনভাবে স্পষ্ট ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করেন। পাশাপাশি তার মাধ্যমে ভিডিওচ্যাটভিত্তিক যৌন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম থেকে টেট ভাইয়েরা মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ আয় করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং টেটের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপরাধের রায়ও হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রিস্টান টেটও তার ভাইকে সহযোগিতা করেছিলেন এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাননি। তিনি ওই কিশোরীর ভিডিওচ্যাটের হিসাব পরিচালনা করতেন এবং তার কার্যক্রম নজরদারি করতেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কিশোরীটির ওপর ট্রিস্টান শারীরিক আগ্রাসন চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কথিত যৌন শোষণ থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ পরে বিলাসবহুল গাড়ি কেনায় ব্যবহার করা হয়। রোমানিয়ার তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ওই অর্থ ব্যবহার করে চারটি গাড়ি কেনা হয়েছিল। গাড়িগুলোর সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তদন্তকারীরা এসব গাড়ি জব্দ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর পাশাপাশি অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে আরেক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রোমানিয়ার দুটি সম্পত্তিতে ওই ঘটনা ঘটে। অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট ২০১৬ সাল থেকে রোমানিয়ায় বসবাস করছিলেন। দেশটিতে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, ধর্ষণ, সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠী গঠন ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে আগে থেকেই তদন্ত চলছিল। এরই মধ্যে নতুন অভিযোগপত্র দেওয়া হলো। যুক্তরাজ্যেও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের প্রত্যর্পণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াই চলছে। টেট ভাইদের আইনজীবী ইউজেন কনস্টান্টিন ভিদিনিয়াক বলেন, তার মক্কেলরা এখনো তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন অভিযোগপত্র দাখিলের অর্থ এই নয় যে অ্যান্ড্রু বা ট্রিস্টান টেট দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। তার দাবি, আগের অভিযোগপত্র নিয়ে আদালতে গুরুতর কিছু অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছিল, যার কারণে মামলাটি বিচারে এগোতে পারেনি। আইনজীবী আরও বলেন, নতুন অভিযোগপত্রের প্রতিটি বিষয় তারা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করবেন। কোনো প্রমাণগত, আইনি বা প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো চ্যালেঞ্জ করা হবে। তার মতে, মামলার আগের কার্যক্রমের ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি টেট ভাইদের জামিনে মুক্তির পক্ষেও যুক্তি দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি মিয়ামির একটি আদালতে অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেটকে হাতকড়া পরা অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে অ্যান্ড্রু টেট আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রোমানিয়ায় আটক থাকলে তিনি অন্যায্যভাবে দীর্ঘমেয়াদি বা যাবজ্জীবন সাজা পেতে পারেন। অন্যদিকে ট্রিস্টান টেট দাবি করেন, কারাগারে থাকায় তিনি নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। যুক্তরাজ্যে অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে মোট ৪২টি অভিযোগ রয়েছে এবং এসব অভিযোগ সাতজন ভুক্তভোগীকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে ধর্ষণ, পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে মানবপাচারে সহায়তা বা তা আয়োজনের অভিযোগ রয়েছে। গত জুলাইয়েও অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে শিশুদের অশালীন ছবি ও চরম পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত আরও ১৯টি অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোমানিয়ার নতুন অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট উভয়েই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মামলাটি এখনো বিচারাধীন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নথিবিহীন বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকা শিক্ষার্থীদের নতুন করে ভর্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডা বোর্ড অব গভর্নরসের ভোটে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা ভবিষ্যতে ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থানের প্রমাণ থাকতে হবে। সিদ্ধান্তটি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিবাসী পরিবার ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। তবে নিয়মটি মূলত নতুন করে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বর্তমানে ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করছেন এমন নথিবিহীন শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের কারণে তাদের বর্তমান পড়াশোনা হারাবেন না। কিন্তু ভবিষ্যতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাওয়া নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী আলেকজান্ডার ভ্যালেহোস। তিনি বলেন, খবরটি শুনে তার হৃদয় ভেঙে গেছে এবং পুরো বিষয়টি তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। ভ্যালেহোসকে মাত্র এক বছর বয়সে তার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। তিনি আগে পাম বিচ স্টেট কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং আগামী বসন্তে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে স্নাতক হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তে ভ্যালেহোসের নিজের পড়াশোনায় কোনো প্রভাব পড়ছে না। তবে তার চেয়ে কম বয়সী নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার আশঙ্কা, যারা এখনো উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, তারা ফ্লোরিডার সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হারাবে। ভ্যালেহোস বলেন, তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে তার খুব খারাপ লাগছে। ফ্লোরিডায় সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এটি সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া দ্বিতীয় বড় সিদ্ধান্ত। এর আগে গত জুনে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন ফ্লোরিডা কলেজ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি নিয়ে নতুন নিয়ম অনুমোদন করে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মার্কিন নাগরিক অথবা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থানরত হতে হবে। ফলে ফ্লোরিডার সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ফ্লোরিডার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ডেস্যান্টিসের বক্তব্য, ফ্লোরিডার বাসিন্দা এবং আমেরিকান নাগরিকদের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। ফ্লোরিডার লেফটেন্যান্ট গভর্নর জে কলিন্সও এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদেরই পড়াশোনার সুযোগ থাকা উচিত যারা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থান করছেন। ফ্লোরিডার করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের শিক্ষার সুযোগে ব্যয় করা উচিত নয়, যারা আইন ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডা ও আমেরিকার নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে, নথিবিহীন শিক্ষার্থী ভ্যালেহোস বলেছেন, তার মতো শিক্ষার্থীরা কোনো বিশেষ সুবিধা বা সরকারি সহায়তা চাইছেন না। তারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ চান এবং সেই সুযোগ পেলে নিজেদের পরিশ্রমে এগিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, তারা কারও কাছ থেকে দান বা বিনামূল্যের সুবিধা চাইছেন না। শুধু পড়াশোনা করার সুযোগ পেলে পরবর্তী পথ তারা নিজেদের যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়েই তৈরি করতে চান। এদিকে, বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্যের জন্য ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতটা সীমিত হবে, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে কোকা-কোলার একটি কারখানায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলাকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ‘স্পষ্ট বার্তা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভ অঞ্চলে টানা অষ্টম দিনের মতো রুশ হামলার সময় ব্রোভারি এলাকার কাছে কোকা-কোলার উৎপাদনকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দিনের হামলায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে কারখানাটিতে কর্মরত কোনো কর্মী আহত হননি বলে জানিয়েছে ইউক্রেনে থাকা আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স। বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ভালোভাবেই জানে যে কোকা-কোলা একটি আমেরিকান প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, কোকা-কোলার মতো একটি প্রতিষ্ঠানে রুশ ড্রোন হামলা চালানোকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বার্তা হিসেবেই দেখা উচিত। জেলেনস্কি আরও বলেন, “কোকা-কোলা এখন তাদের কাছে এমন এক শত্রু হয়ে গেছে যে তারা শাহীদ ড্রোন দিয়ে সেটিতেও হামলা চালাচ্ছে।” হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। হামলার পর ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে কারখানা এলাকায় আগুন নেভাতে জরুরি বিভাগের কর্মীদের কাজ করতে দেখা যায়। কারখানার ওপর ও আশপাশের মাঠের দিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতেও দেখা গেছে। ইউক্রেনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি হান্ডার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এদিকে হামলার পর ইউক্রেনের কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে কোকা-কোলার পণ্য দেশটির বাজার থেকে সাময়িকভাবে উধাও হয়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। একই দিনে ইউক্রেনের আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। ডিনিপ্রো শহরে নোভা পোশতার একটি ডিপো ও শাখায় ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন হামলায় একজন কর্মী নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। নোভা পোশতা এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়া আবারও বেসামরিক সরবরাহ ও লজিস্টিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের একজন সহকর্মীর প্রাণ গেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়াচ্ছে ইউক্রেন। শুক্রবার স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের স্টেরলিতামাকে একটি সামরিক-শিল্প স্থাপনায় হামলা হয়েছে। স্থানীয় রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর দাবি, স্টেরলিতামাক পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল। ওই কারখানায় বিমান জ্বালানিসহ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উৎপাদন করা হয়। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতেও রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় শহর সোচিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের নৌবাহিনী প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাশিয়ার সামুদ্রিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ‘নেফ্রিত’ নামের একটি জাহাজে নৌ-ড্রোন হামলার পরের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার মধ্যে কিয়েভের কাছে একটি মার্কিন কোম্পানির কারখানায় হামলার ঘটনা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া উত্তেজনার বিষয়টিকে সামনে এনেছে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের নয় দিন পর ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে আরও এক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একই দুর্যোগের পর একজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় শ্রমিকেরও জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় দীর্ঘদিনের উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। শুক্রবার নেপালি সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে শ্রমিক কবির মহার্জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। এর আগে উদ্ধার করা হয়েছিল আরেক শ্রমিককে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও মানুষ আটকা থাকতে পারেন—এমন আশায় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকারীরা। গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদীর উজানে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। বরফ, পাথর, কাদা ও পানির বিশাল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে নেমে আসে উপত্যকার দিকে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, সড়ক, স্কুল ও একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্যোগের সময় বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে। এরপর থেকেই নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে মরিয়া হয়ে অভিযান শুরু করেন নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল। নয় দিন ধরে টানেলের ভেতরে জীবিতদের সন্ধান চালানোর পর শুক্রবার উদ্ধারকারীরা সাফল্যের মুখ দেখেন। একটি সরু পথ দিয়ে কবির মহার্জনকে টানেল থেকে বের করে আনা হয়। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে উদ্ধার করা শ্রমিকের ক্ষেত্রেও একইভাবে দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর জীবনের সন্ধান পাওয়া যায়। ফলে একের পর এক শ্রমিক জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এর আগে উদ্ধার হওয়া শ্রমিক সঞ্জয় সাহ ওই প্রকল্পের যান্ত্রিক ফোরম্যান হিসেবে কাজ করতেন। দুর্ঘটনার সময় সহকর্মীদের দ্রুত নিরাপদে বেরিয়ে যেতে বললেও তিনি নিজে নিয়ন্ত্রণকক্ষে থেকে যান। অন্যদের বের হওয়ার সুযোগ করে দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনিও টানেলের ভেতরে আটকা পড়েন। দীর্ঘ সময় অন্ধকারের মধ্যে আটকে থাকা সঞ্জয় সাহ উদ্ধারকারীদের জানান, টানেলের ভেতরে তিনি প্রার্থনার মন্ত্র পাঠ করে সময় কাটিয়েছেন। তার দাবি, টানেলের আরও গভীরে কয়েকজন মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল। ফলে সেখানে এখনো কেউ জীবিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকারীরা। এই তথ্যের পর টানেলের ভেতরে নতুন করে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। নেপালি সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, তারও সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে দুর্যোগের নয় দিন পর একের পর এক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনা উদ্ধারকারীদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সময় যতই গড়াক, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ বেঁচে থাকতে পারেন—এই আশায় অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। নয় দিনের অন্ধকার পেরিয়ে একের পর এক জীবিত মানুষ ফিরে আসার ঘটনা যেন নেপালের বিধ্বস্ত উপত্যকায় নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী সরকারি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত নারী পথচারী ফিরোজা বেগম (৬০) মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ফিরোজা বেগম গুরুতর আহত হন। নিহত ফিরোজা বেগম গোপীনাথপুর এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। তাঁর সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন স্ত্রী নাজমা আরা বেগম। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের একটি গাড়িও তাঁদের সঙ্গে ছিল। গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছানোর সময় মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ফিরোজা বেগম। মহাসড়ক পার হওয়ার সময় হঠাৎ তিনি প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সামনে চলে আসেন। তাঁকে বাঁচাতে চালক দ্রুত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে সরকারি গাড়িটি সড়কের পাশের ধানখেতে নেমে যায় এবং ফিরোজা বেগম গুরুতর আহত হন। এ দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী ও তাঁর স্ত্রী নাজমা আরা বেগমও আহত হন। দুর্ঘটনার পর আহত ফিরোজা বেগমকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ফিরোজা বেগমের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম জানিয়েছিলেন, ওই নারীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন। এরপর গাড়িটি সড়কের পাশের ধানখেতে নেমে যায় বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর পর ঘটনাটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন এক রোগীর সঙ্গে গোপন যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী নারী থেরাপিস্ট মিশেল লুচাউ-রেবোরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি রোগীর সঙ্গে থেরাপি সেশনের সময়ও যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ওই রোগীকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে বিভিন্ন অজুহাত তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মিশেল লুচাউ-রেবোরা ফ্লোরিডার হোমস্টেডের নিউ হোপ কর্পস নামের মাদক ও অ্যালকোহল চিকিৎসাকেন্দ্রে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক থেরাপিস্ট হিসেবে শিক্ষানবিশ ছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন ৪২ বছর বয়সী এক পুরুষ রোগীর সঙ্গে তার প্রায় তিন মাসের যৌন সম্পর্ক ছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রোগীই পরে বিষয়টি তদন্তকারীদের জানান। আটকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ওই তিন মাসের সময়ে তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক চলেছিল। কখনো কখনো থেরাপি সেশনের মধ্যেও তারা যৌন সম্পর্কে জড়াতেন বলে রোগী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তবে এসব তথ্য বর্তমানে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কর্তৃপক্ষের আরও অভিযোগ, চিকিৎসাকেন্দ্রের কঠোর নিয়মের মধ্যে থাকা ওই রোগীকে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ করে দিতে লুচাউ-রেবোরা বিভিন্ন অজুহাত তৈরিতে সহায়তা করতেন। এর ফলে রোগী অনুমতি নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে বের হয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে পারতেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর সঙ্গে দেখা করার কয়েকটি স্থান ছিল লুচাউ-রেবোরার নিজের বাড়ি, তার মায়ের বাড়ি এবং একটি স্থানীয় হাসপাতাল। অর্থাৎ চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় তাদের দেখা হতো বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্যও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে। তদন্তকারীদের কাছে ওই রোগী আরও অভিযোগ করেন, লুচাউ-রেবোরা তাকে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ হলে থেরাপিস্ট হিসেবে তার চাকরিতে প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি রোগীকে সতর্ক করেছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে লুচাউ-রেবোরা ওই সম্পর্ক শেষ করে দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এরপর ৪২ বছর বয়সী ওই রোগী চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করেন। অভিযোগ জানার পর প্রতিষ্ঠানটি লুচাউ-রেবোরার শিক্ষানবিশ পদ বাতিল করে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। নিউ হোপ কর্পসের নির্বাহী পরিচালক স্টিফেন আলভারেজ জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোকে অবহিত করে। একই সঙ্গে লুচাউ-রেবোরার শিক্ষানবিশ পদ বাতিল করা হয় এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মিশেল লুচাউ-রেবোরা ১ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিনের অর্থ ৫ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেন। তার বিরুদ্ধে একজন রোগীর সঙ্গে অনুমতি ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে দ্বিতীয় মাত্রার গুরুতর অপরাধের মামলা করা হয়েছে। লুচাউ-রেবোরা অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। একইভাবে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিয়েছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে মামলাটিতে বর্তমানে পুলিশের অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যই সামনে রয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চিকিৎসক বা থেরাপিস্ট এবং রোগীর মধ্যকার পেশাগত সম্পর্কের সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর সঙ্গে থেরাপিস্টের যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ এবং তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ মামলাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। সূত্র: পিপল, এনবিসি মায়ামি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে যাচ্ছে—এমন খবর প্রকাশের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া দুটি পোস্টে তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গোলাবারুদ নেই—এমন দাবি করা সংবাদমাধ্যমগুলো ‘১০০ শতাংশ ভুল’। তার অভিযোগ, এসব সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জয় দেখতে চায় না। ট্রাম্প লেখেন, যারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে প্রচার করছে, তারা আসলে ‘বিশ্বাসঘাতক’। তার ভাষায়, এসব সংবাদমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক—এটাই যেন চায়। এর কিছুক্ষণ পর আরও কড়া ভাষায় আরেকটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সমালোচকদের ‘বিশ্বাসঘাতক আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘প্রায় সীমাহীন’ পরিমাণ মাঝারি থেকে উচ্চমানের গোলাবারুদ রয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রায় গোলাবারুদ মজুত করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই এই মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে থাকা ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের চেয়েও বেশি পরিমাণ গোলাবারুদ বিনামূল্যে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেন ও ন্যাটোকে শত শত বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে, যার মূল্য ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে নেওয়া যেত। ভবিষ্যতে মিত্রদের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।
জার্মান ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস ইসরায়েলের বাজারে চালু করা একক জুতা বিক্রির নতুন কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটন নামের এক সাবেক ইসরায়েলি সেনাসদস্যকে যুক্ত করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০২১ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় এক পা হারানো বিটনকে এই প্রচারণায় ব্যবহার করায় মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অ্যাডিডাসের ইসরায়েল শাখা সম্প্রতি ‘একক জুতা সেবা’ নামে এই কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় নিম্নাঙ্গের কোনো অংশ হারানো বা এমন শারীরিক অবস্থার মানুষ, যাদের একটির বেশি জুতার প্রয়োজন নেই, তারা পুরো জোড়ার বদলে একটি জুতা কিনতে পারবেন। একটি জুতার দাম রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ জোড়ার দামের অর্ধেক। এই কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটনকে বিভিন্ন অ্যাডিডাসের দোকানে দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালের মে মাসে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় গুরুতর আহত হওয়ার পর তার একটি পা কেটে ফেলতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি কৃত্রিম পা ব্যবহার করে হাঁটতে শেখেন। বিটনের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই একক জুতা বিক্রির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সাধারণত জুতা জোড়ায় বিক্রি হওয়ায় একটি পা হারানো ব্যক্তিদেরও দুটি জুতা কিনতে হয়। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে একটি জুতারই প্রয়োজন থাকায় অন্যটি অব্যবহৃত থেকে যায়। অ্যাডিডাসের নতুন কর্মসূচি সেই সমস্যার একটি বাণিজ্যিক সমাধান হিসেবে চালু করা হয়েছে। তবে বিটনের সামরিক পরিচয় সামনে আসার পরই প্রচারণাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একজন সাবেক সেনাসদস্যকে ব্যবহার করে অ্যাডিডাস তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ভাবমূর্তি তুলে ধরছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেছেন, পা হারানো ফিলিস্তিনিদের জন্যও অ্যাডিডাস একই ধরনের সুবিধা দিচ্ছে কি না। অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, অ্যাডিডাসের উচিত দ্বিতীয় জুতাটি গাজার শিশুদের দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। কেউ কেউ আবার অ্যাডিডাসের এই প্রচারণা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আপত্তির মূল বিষয় হলো, গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে কেন প্রতিষ্ঠানটির এই কর্মসূচির প্রচারণার মুখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাটিকে কেন্দ্র করে অ্যাডিডাসের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বর্জনের আহ্বানও দেখা গেছে। অ্যাডিডাসের একক জুতা বিক্রির কর্মসূচি অবশ্য শুধু ইসরায়েলেই শুরু হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই সেবা চালু করেছিল। পরে আগস্টে ইসরায়েলের বাজারেও কর্মসূচিটি চালু করা হয়। ইসরায়েলে অ্যাডিডাসের নিজস্ব দোকান ও ছাড়ের দোকানগুলোতে এই সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অ্যাডিডাসের এই উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত নিম্নাঙ্গের প্রতিবন্ধকতা বা অঙ্গহানির কারণে যাদের একটি জুতার প্রয়োজন, তাদের জন্য আলাদা করে জুতা কেনার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটনের অংশগ্রহণের কারণে বিষয়টি এখন মানবাধিকার ও ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। অ্যাডিডাসকে ঘিরে এ ধরনের বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠানটির একটি জুতার প্রচারণা থেকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছিল। সে সময় ইসরায়েলি সরকার ও ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের বিষয়টি সামনে এসেছিল। বর্তমান ঘটনাতেও একদিকে অঙ্গহানির শিকার মানুষের জন্য একক জুতা কেনার সুবিধার কথা সামনে এসেছে, অন্যদিকে সেই কর্মসূচির প্রচারণায় গাজা যুদ্ধে এক পা হারানো সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে যুক্ত করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ফলে অ্যাডিডাসের নতুন এই বাণিজ্যিক প্রচারণা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় ৩১ দশমিক ২ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় বাগডোগরা, পানিটঙ্কি, খড়িবাড়ি ও গালগালিয়া অংশের এই মহাসড়ক উন্নয়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৭৭ কোটি ১৮ লাখ রুপি। প্রকল্পটি জাতীয় মহাসড়ক ৩২৭-এর ওই অংশে বাস্তবায়ন করা হবে। ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নিতিন গড়করি বৃহস্পতিবার প্রকল্পটির অনুমোদনের কথা জানান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাগডোগরা থেকে পানিটঙ্কি, খড়িবাড়ি হয়ে গালগালিয়া পর্যন্ত ৩১ দশমিক ২ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি সড়ক উড়ালসেতু এবং দুই পাশে সেবা সড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পাঁচটি হাতি চলাচলের নিচপথ নির্মাণ। মহাসড়কের যেসব এলাকায় হাতির চলাচল রয়েছে, সেসব স্থানে এসব নিচপথ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অন্যদিকে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের জন্য শিলিগুড়ি করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এই এলাকায় সড়ক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যানজট কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিটঙ্কি এলাকার যান চলাচল সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাগডোগরা বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগও আরও উন্নত হবে। প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের দিকে যাতায়াতের পথও আরও কার্যকর করবে বলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই মহাসড়ক দিয়ে কৃষি, উদ্যানজাত পণ্য, চা এবং অন্যান্য স্থানীয় পণ্য বড় বাজারে দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় মহাসড়ক ৩২৭-এর এই অংশটি জাতীয় মহাসড়ক ২৭-এর একটি বিকল্প পথ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বাগডোগরার কাছে এই মহাসড়ক জাতীয় মহাসড়ক ২৭-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে শিলিগুড়ি করিডোরের ওপর যোগাযোগের চাপ কমানোর পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পটির জন্য বনভূমি ব্যবহারের প্রয়োজন হওয়ায় পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আপত্তির বিষয়ও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণীর চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পাঁচটি হাতি চলাচলের নিচপথ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মানুষ ও হাতির সংঘাত কমানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ভারত সরকারের এই অনুমোদনের ফলে শিলিগুড়ি করিডোরের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে বড় একটি প্রকল্প এগিয়ে গেল। ২ হাজার ৭৭ কোটি ১৮ লাখ রুপি ব্যয়ে চার লেনের এই মহাসড়কের পাশাপাশি সেতু, উড়ালসেতু, সেবা সড়ক ও হাতি চলাচলের নিচপথ নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ড সফরের সময় মদ্যপ অবস্থায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্যকে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রণতরীটি থাইল্যান্ডের একটি বন্দরে অবস্থান করছে। প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর অবকাশ কাটাতে থাইল্যান্ডে আসা সেনাসদস্যদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। ওই দুই সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাদের থাইল্যান্ডের পাতায়ায় রণতরীটির পাঁচ দিনের অবস্থানের বাকি সময় জাহাজেই থাকতে হবে। পাতায়া থাইল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী একটি জনপ্রিয় পর্যটননগরী এবং রাতের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১টার দিকে একজন থাই নাগরিক জরুরি নম্বরে ফোন করে জানান, শহরের একটি বারের কাছে দুই মার্কিন সেনাসদস্যের মধ্যে হাতাহাতি চলছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই সেনাসদস্যকে পাতায়ার হার্ড রক ক্যাফেতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের যৌথ পরিচালনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের রণতরীতে ফেরত পাঠানো হয়। থাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি, কারণ তারা থাইল্যান্ডের কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। এক থাই কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ছোটখাটো ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সেনাসদস্যই মদ্যপ ছিলেন এবং তারা মারামারির পাশাপাশি উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। জরুরি নম্বরে ফোন করা ব্যক্তি আশঙ্কা করেছিলেন, হাতাহাতির ঘটনা আরও বড় আকার নিতে পারে। সে কারণেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনার পর দুই সেনাসদস্যকে রণতরীতে ফেরত পাঠানো হলেও থাই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। রণতরীতে ফেরার পর তাদের পাতায়ায় অবস্থানের বাকি সময় জাহাজের মধ্যেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। রণতরীটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যের জন্য এটি ছিল দীর্ঘ সময় পর তীরে নামার সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে রণতরীটি মোট ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল এবং এর আগে টানা ২৬৪ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেছিল। রণতরীটির থাইল্যান্ড সফরটি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর নাবিক ও মেরিন সদস্যদের বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে এসেছে। তারা পাতায়াসহ আশপাশের এলাকায় অবকাশ কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যেই দুই সেনাসদস্যের মদ্যপ অবস্থায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং তাদের আবার রণতরীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। থাই পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হয়নি। তবে স্থানীয় একজন বাসিন্দার জরুরি ফোনের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বড় আকার নেওয়ার আগেই তা থামানো সম্ভব হয়। পরে দুই সেনাসদস্যকে রণতরীতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক প্রবাসীই জরুরি পরিস্থিতি মানেই ৯১১ মনে করেন। কিন্তু সব ধরনের সমস্যা ৯১১-এর আওতাভুক্ত নয়। জীবন বা সম্পদের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি না থাকলে স্থানীয় নন-ইমার্জেন্সি সেবা, পয়জন কন্ট্রোল বা মানসিক সংকটের জন্য ৯৮৮-এর মতো আলাদা নম্বর রয়েছে। সঠিক পরিস্থিতিতে সঠিক নম্বরে যোগাযোগ করলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া সহজ হয়। ৯১১ হলো জীবনহানির আশঙ্কা, গুরুতর অপরাধ চলমান থাকা, আগুন, গুরুতর মেডিকেল ইমার্জেন্সি বা বড় দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতির জন্য। কল করার সময় নিজের সঠিক লোকেশন, কী ঘটেছে এবং কেউ আহত বা বিপদে আছে কি না, তা পরিষ্কারভাবে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। ভাষাগত সমস্যা হলে ৯১১ কল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দোভাষী সহায়তা চাওয়া যায়। শহরের সাধারণ সমস্যা বা নন-ইমার্জেন্সি সেবার জন্য অনেক জায়গায় ৩১১ ব্যবহার করা হয়। তবে ৩১১ জাতীয় একটি সর্বজনীন নম্বর নয়, এটি স্থানীয় সরকারের সেবা। যেমন হিউস্টনে ৩১১ দিয়ে রাস্তার গর্ত, পানি বা স্যুয়ার লিক, আবর্জনা সংগ্রহের সমস্যা ও অন্যান্য নন-ইমার্জেন্সি বিষয় জানানো যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে হিউস্টন কর্তৃপক্ষও ৯১১-এ কল করতে বলেছে। কেউ ভুল করে ওষুধ, ক্লিনিং কেমিক্যাল বা অন্য কোনো সম্ভাব্য বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে ফেললে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পয়জন কন্ট্রোল নম্বর ১-৮০০-২২২-১২২২-এ যোগাযোগ করা যায়। পয়জন কন্ট্রোলের সেবা বিনামূল্যে, গোপনীয় এবং ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেলে, শ্বাস নিতে সমস্যা হলে, খিঁচুনি হলে বা জাগানো না গেলে অপেক্ষা না করে ৯১১-এ কল করতে হবে। মানসিক সংকট বা আত্মহত্যার চিন্তার ক্ষেত্রে ৯৮৮ সুইসাইড অ্যান্ড ক্রাইসিস লাইফলাইন গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে। এটি মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে সংকটের ধরন অনুযায়ী জরুরি শারীরিক ঝুঁকি থাকলে ৯১১-এর প্রয়োজন হতে পারে। পুলিশের এমন ঘটনায় যেখানে তাৎক্ষণিক বিপদ নেই, স্থানীয় পুলিশ বিভাগের নন-ইমার্জেন্সি নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। যেমন চুরি বা প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে কিন্তু অপরাধী ঘটনাস্থলে নেই, কিংবা কোনো নথি হারিয়ে গেছে। এই নম্বর শহর ও পুলিশ বিভাগের ওপর নির্ভর করে, তাই নিজের এলাকার অফিসিয়াল পুলিশ ওয়েবসাইট থেকে নম্বরটি সংরক্ষণ করে রাখা ভালো। হাইওয়েতে গাড়ি নষ্ট হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ৯১১, স্থানীয় ট্রাফিক সেবা বা গাড়ির ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স ব্যবহার করতে হয়। ৫১১ নম্বরটি অনেক অঙ্গরাজ্যে ট্রাফিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ব্যবহৃত হলেও এটি সব ধরনের জরুরি সেবার বিকল্প নয়। তাই ৫১১ সব জায়গায় একই ধরনের সেবা দেবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নতুন প্রবাসীদের জন্য আরও একটি ভালো অভ্যাস হলো ফোনে জরুরি কন্টাক্ট সংরক্ষণ করা এবং আইফোনের মেডিক্যাল আইডি বা অ্যান্ড্রয়েডের ইমারজেন্সি ইনফরমেশন সেটআপ করে রাখা। সেখানে জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তির তথ্য ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল তথ্য রাখা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জরুরি পরিস্থিতিতে আগে বুঝতে হবে সেটি জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করছে কি না। তাৎক্ষণিক বিপদ থাকলে ৯১১-ই প্রথম পছন্দ। আর নন-ইমার্জেন্সি সমস্যার ক্ষেত্রে নিজের শহর বা অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট সেবা নম্বর ব্যবহার করাই নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে সীমিত পরিসরে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ রাইড চালু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা। স্টিয়ারিং হুইল ও প্যাডেলবিহীন দুই আসনের এই গাড়ির মাধ্যমে রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় ওয়েমোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামার পথে আরও এক ধাপ এগোল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সাইবারক্যাব চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সোনালি রঙের সাইবারক্যাব প্রথমবার প্রদর্শন করা হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে। গাড়িটিতে প্রচলিত স্টিয়ারিং হুইল বা ব্রেক ও অ্যাক্সিলারেটর প্যাডেল নেই। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার জন্য গাড়িটি ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সরনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে। প্রথম ধাপে অস্টিনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাইবারক্যাব রাইড দেওয়া হচ্ছে। এর আগে টেসলা অস্টিনসহ কয়েকটি শহরে মডেল ওয়াই গাড়ি ব্যবহার করে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছিল। টেসলার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ টেক্সাসের কয়েকটি শহর এবং ফ্লোরিডার মিয়ামি, অরল্যান্ডো ও টাম্পায় তাদের রোবোট্যাক্সি সেবা চলছে। সাইবারক্যাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে টেসলার স্বয়ংক্রিয় পরিবহন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এই বিশেষভাবে তৈরি গাড়িকে তাদের রোবোট্যাক্সি বহরের মূল যান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। জুলাইয়ে টেসলা জানিয়েছিল, সাইবারক্যাবের উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং পাবলিক রোডে এর ইঞ্জিনিয়ারিং টেস্ট ড্রাইভও শুরু করা হয়েছিল। অন্যদিকে, চালকবিহীন রাইড-হেইলিং বাজারে ওয়েমো ইতিমধ্যেই বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ১ সেপ্টেম্বর ডেনভার, সান ডিয়েগো ও টাম্পায় পাবলিক রাইড চালু করে জানায়, এর মাধ্যমে ১৪টি শহরে তাদের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রাইড সেবা পৌঁছেছে। তবে টেসলার নতুন সেবার বিস্তার নিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএ জানিয়েছে, অস্টিনে সাইবারক্যাব চালুর বিষয়টি তারা মূল্যায়ন করছে। সাইবারক্যাবের যাত্রা শুরু হলেও টেসলা কত দ্রুত এই সেবা বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারবে এবং এটি কতটা লাভজনক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের আস্থাই রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় টেসলার ভবিষ্যৎ সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শেনেকট্যাডিতে পাঁচ বছরের মেয়ে শার্লট বাসকিকে অনাহার ও পানিশূন্যতায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় তার বাবা রবার্ট এস. বাসকি জুনিয়রকে ২৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা ও শিশুকে নিয়ন্ত্রিত মাদক দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আদালতে দোষ স্বীকার করেন ৩৫ বছর বয়সী বাসকি। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মেয়েকে বাড়ির একটি শোবার ঘরে আটকে রাখতেন। ঘরের বাইরে খাবার থাকলেও শিশুটিকে খাবার ও পানি দেওয়া হতো না। দীর্ঘদিন অবহেলা ও অপুষ্টির পর ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল পুলিশ তাকে ওই ঘর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে বাসকির তিন বছর বয়সী ছেলেকেও একটি অস্থায়ী খাঁচার মতো কাঠামোর মধ্যে পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা জানান, দুই শিশুকেই কয়েক মাস ধরে পরিবারের অন্য সদস্য ও বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। তারা চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিল না এবং স্কুলেও ভর্তি ছিল না। পরে দুই শিশুর শরীরে কোকেনের উপস্থিতিও পাওয়া যায়। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসকি মাদক ব্যবহার ও ভিডিও গেম খেলায় ব্যস্ত থাকতেন এবং শিশুদের দায়িত্ব নেওয়া এড়াতে তাদের আটকে রাখতেন। শার্লটের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তে তার শরীরে চরম অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় শার্লটের ওজন ছিল মাত্র ৩০ পাউন্ড। আড়াই বছর বয়সে তার ওজন ছিল ৪০ পাউন্ড। প্রসিকিউটর ক্রিস্টিনা ট্রেমান্তে-পেলহাম বলেন, শিশুটির অবস্থা কয়েক মাস ধরে খারাপ হচ্ছিল। জানুয়ারিতে দোষ স্বীকারের পর আদালত বাসকিকে হত্যা মামলায় ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে আরও দুই বছরের সাজা নির্ধারণ করে। ৩ এপ্রিল ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মোট ২৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার জীবিত ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করার আদেশও দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের বিয়াওরার ২০ বছর বয়সী সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত, নিজের উদ্যোগে দূষিত অজনার নদী পরিষ্কার করে আলোচনায় এসেছেন। নদীর পানিতে ও আশপাশে জমে থাকা প্লাস্টিক, বোতল ও নানা ধরনের বর্জ্য দেখে তিনি অন্য কারও অপেক্ষা না করে নিজেই পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। তার আগে ও পরের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিএসসি পড়ুয়া বিট্টু ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি বন্ধুদের নিয়ে নদী পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। পরে অন্যরা সরে গেলেও তিনি কাজ চালিয়ে যান। কোনো বড় আয়োজন বা সরকারি পরিচ্ছন্নতা দলের ওপর নির্ভর না করে নিজের অর্থে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে বর্জ্য সরাতে থাকেন। কিছু অংশ পরিষ্কার করতে তাকে কয়েক মাস ধরে নিয়মিত পরিশ্রম করতে হয়েছে। এই কাজ করতে গিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে বিট্টুকে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার জন্যই তিনি নদী পরিষ্কার করছেন। তবে এসব সমালোচনা তাকে থামাতে পারেনি। দীর্ঘ সময় দূষিত পানিতে কাজ করার কারণে তার হাতে সংক্রমণসহ স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দেখা দিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিট্টুর কাজের আগে ও পরের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে আসে ভারতের শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রারও। তিনি বিট্টুর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তাকে যদি বাস্তব ও অর্থবহ কাজে ব্যবহার করা যায়, সেটি ইতিবাচক বিষয়। বিট্টুর উদ্যোগ এখন শুধু একটি নদী পরিষ্কারের গল্প নয়, স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় একজন তরুণের ব্যক্তিগত উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। তার কাজ একই সঙ্গে নদী দূষণ এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
সৌদি আরবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনায় আসেন সাইমন কলিস। ২০১১ সালে স্ত্রী হুদা মুজারকেশকে বিয়ের আগে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৬ সালে সৌদি আরবের মক্কায় হজ পালন করে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। কলিস নিজেই জানিয়েছিলেন, মুসলিম সমাজে প্রায় ৩০ বছর বসবাস ও কাজের অভিজ্ঞতার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। কলিস ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে হজ পালনের সময় তাকে সাদা ইহরাম পরা অবস্থায় মক্কায় দেখা যায়। স্ত্রী হুদা মুজারকেশের সঙ্গে তাঁর হজ পালনের ছবিও সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তাঁর ইসলাম গ্রহণের খবর আগে থেকেই কিছু কূটনীতিক ও সাংবাদিকের মধ্যে জানা থাকলেও ২০১৬ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সৌদি লেখক ও শিক্ষাবিদ ফাওজিয়া আল-বাকর হজের সময় কলিস ও তাঁর স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে জানান, ইসলাম গ্রহণের পর তিনিই ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে হজ পালন করছেন। এরপর কলিস নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে কলিস মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ সরকারের জীবনী অনুযায়ী, তিনি বাহরাইন, তিউনিস, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, সিরিয়া, কাতার ও সৌদি আরবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তিনি আরবি ভাষাও শিখেছিলেন এবং ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসে যোগ দেন। তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কাতারে, ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়ায় এবং ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইরাকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেন। ২০২০ সালে তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হয়। ২০১৬ সালের হজের ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়, কারণ তখন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একজন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের হজ পালনের ঘটনা হিসেবে এটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। তবে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে প্রথম হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রতিবেদনে ‘সম্ভবত প্রথম’ বলেও সতর্কতা রাখা হয়েছিল।
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের নয় দিন পর রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। শুক্রবার উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার পর সেখানে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। নেপালি সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এখন টানেলের ভেতরে ঢুকে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করেছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত প্রকৌশলী এবং সংসদ সদস্য শ্রী রাম নিউপানে জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শুনেছেন। উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করলে ভেতর থেকে ‘ঠিক আছে’ ধরনের সাড়া পাওয়া যায়। বিষয়টিকে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আশার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর রাশুয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে। এরপর থেকেই এসব প্রকল্পের ভেতরে আটকে পড়া শত শত শ্রমিকের সন্ধানে অভিযান চলছে। ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। টানেলের প্রবেশপথের বড় অংশ কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে আছে এবং ভেতরে পানি প্রবেশের ঝুঁকিও রয়েছে। কয়েক দিন ধরে উদ্ধারকারী দল ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পথ পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। আগে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, টানেলের অন্য একটি অংশ দিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা চলছে। নেপালের অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিকের অবস্থান এখনো নিশ্চিত নয় এবং কয়েকটি টানেলে কয়েকশ শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। উদ্ধার অভিযানে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ দলও সহায়তা করছে। কাদা, পাথর, পানির প্রবাহ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ার খবর নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। টানেল বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্সও বলেছেন, ভূগর্ভস্থ টানেলের ভেতরে বিপর্যয়ের পরও মানুষ দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। তাই নেপালি উদ্ধারকারীরা এখনো অভিযানকে উদ্ধার অভিযান হিসেবেই চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে দেশটির ওপর নির্ভরতা কমাতে উৎপাদন খাতে ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। বৃহস্পতিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই বিনিয়োগকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তিশালী করার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ৪৭০ কোটি কানাডীয় ডলার বা প্রায় ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে ৩১৩টি রেলগাড়ি তৈরি করা হবে। দেশটির রেলব্যবস্থা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অন্টারিওর থান্ডার বে এলাকায় এসব রেলগাড়ি তৈরি করা হবে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, প্রকল্পটিতে কানাডার শ্রমিক ও দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে কানাডায় উৎপাদিত ইস্পাতও থাকবে। তিনি বলেন, যেসব রেলগাড়ি আগে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা হতো, সেগুলো এখন কানাডাতেই তৈরি করা হবে। কার্নির ভাষ্য অনুযায়ী, কানাডার প্রয়োজনের সময় কানাডার শ্রমিক ও উপকরণ ব্যবহার করেই এই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার বাণিজ্যিক নির্ভরতা অনেক বেশি। দেশটি প্রতিবছর প্রায় ৪০০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে, যা কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়তে থাকায় কানাডা এখন নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা গত সপ্তাহে ভেঙে যায়। প্রধানমন্ত্রী কার্নি ওয়াশিংটন থেকে কানাডার আলোচকদের দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু ছাড় চেয়েছিল, যা কানাডার সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে। এর মধ্যে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে কানাডা বাণিজ্য চুক্তি করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে এমন শর্তও ছিল বলে জানান তিনি। এদিকে আগামী ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর কানাডায় একটি বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে এই সম্মেলনে আলোচনা হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫০ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অংশ নিতে পারেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২০ ট্রিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্বে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন কার্নি। লুটনিক অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে দিয়েছেন। জবাবে কার্নি বলেন, তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত নন এমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন না। তিনি আরও বলেন, লুটনিক কানাডার রাজনীতি বোঝেন না। এ সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আসন্ন জি-২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে কার্নির মত জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, সম্মেলনের আয়োজক দেশ যাকে ইচ্ছা আমন্ত্রণ জানাতে পারে। তবে পুতিনের প্রতি কানাডার বার্তা কী হবে, সে বিষয়ে কার্নি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ইউক্রেন থেকে রাশিয়াকে সরে যেতে হবে। কানাডার নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রেলব্যবস্থা আধুনিকায়নে ৪৭০ কোটি কানাডীয় ডলারের এই প্রকল্পকে তাই দেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার ছিলেন। মোট বেকার মানুষের প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের মধ্যে ছিলেন। বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শুরুর দিক থেকে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেকার থাকা মানুষের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কোনো অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নেই। অতীতে এত বড়সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় বেকার থাকলে সাধারণত বেকারত্বের হারও বেশি থাকত এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকত বা সেখান থেকে বের হওয়ার পর্যায়ে থাকত। ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা জেরেমি স্পিগেলের অভিজ্ঞতা এই দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের একটি উদাহরণ। ২০২৪ সালে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের চাকরি হারানোর পর তিনি নতুন কাজের সন্ধান শুরু করেন। দুই দশকের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই বছর ধরে তিনি চাকরি খুঁজছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না পাওয়ার কারণে এখন তিনি নিজেকেও প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন। স্পিগেল জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তার মনে হয়েছে, হয়তো সমস্যাটি তার নিজের মধ্যেই রয়েছে। তার পরিবারের একজন সদস্য পর্যন্ত প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করেছেন সেখানে কারও সঙ্গে তার কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না। চাকরি খোঁজার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি কখনো কখনো সামাজিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে চলেন। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের কারণ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে দায়ী করছেন, কেউ বয়সভিত্তিক বৈষম্যের কথা বলছেন। আবার কেউ এমন চাকরির বিজ্ঞাপনের বিষয়টি সামনে আনছেন, যেগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে নিয়োগের উদ্যোগ নেই। তবে এসব বিষয়কে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের নিশ্চিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ওফার শ্যারোন দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তার মতে, চাকরিপ্রার্থীরা যখন দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার পেছনে কোনো স্পষ্ট বাহ্যিক কারণ খুঁজে পান না, তখন তারা নিজেদের মধ্যেই সমস্যার কারণ খুঁজতে শুরু করেন। এতে আত্মদোষারোপ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খোঁজার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে। ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা জন ম্যাককার্টিও দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০২২ সালে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরি হারানোর পর তিনি ১৮ মাস ধরে নতুন কাজ খুঁজেছেন। পরে তিনি পেশা পরিবর্তন করে কারিগরি কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে একটি খুচরা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। ম্যাককার্টি জানান, কয়েকটি চাকরির ক্ষেত্রে তিনি প্রাথমিক ফোন ও কারিগরি সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ভিডিও সাক্ষাৎকারের পর তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। একের পর এক প্রত্যাখ্যানের পর তার মনে হয়েছে, বয়স হয়তো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে তিনি নিজেই নিশ্চিত নন, বয়সকে কারণ হিসেবে ভাবাটা বাস্তবতা নাকি দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার একটি উপায়। ওফার শ্যারোন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য আশা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘমেয়াদি চাকরিসন্ধান একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কিন্তু সমস্যার কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সেই আশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দীর্ঘ সময় চাকরি খোঁজার পর কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত কাজে ফিরতে পারছেন। কিন্তু নতুন চাকরি পেলেও অনেকের ক্ষেত্রে আগের কর্মজীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরি গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ কাজ খোঁজা পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন। কিম্বারলি ম্যাকক্লেইন ২০২৪ সালে একটি ছোট অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে উপপরিচালকের চাকরি থেকে পদত্যাগ করার পর দ্রুত নতুন কাজ পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে কোনো চাকরির প্রস্তাব না পাওয়ায় তিনিও নিজের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানের অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ-নিষেধ তালিকায় তিনি আছেন কি না, সেটিও ভাবতে শুরু করেছিলেন। চাকরি খোঁজা শুরুর প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি একটি কল সেন্টারে পূর্ণকালীন গ্রাহকসেবা পেশায় চাকরি পেয়েছেন ম্যাকক্লেইন। তবে নতুন চাকরিতে তার আয় আগের চাকরির প্রায় অর্ধেক। তারপরও দীর্ঘ সময়ের প্রত্যাখ্যানের পর একটি চাকরির প্রস্তাব পাওয়াকে তিনি স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এখন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, জুলাইয়ে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা আগের মাসের ১৯ লাখ থেকে কিছুটা কমে ১৮ লাখে দাঁড়ালেও দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য। আগামী দিনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগে আরও আত্মবিশ্বাসী হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আবার অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হলে বর্তমান চাকরির বাজার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা অনেক মানুষকে পেশা পরিবর্তন, কম বেতনের কাজ গ্রহণ অথবা চাকরির সন্ধান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে এমন ১০টি পেশার ছয়টিই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর নতুন পূর্বাভাসে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে নার্স অনুশীলনকারীর পেশা। আগামী এক দশকে এই পেশায় প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির চাহিদা বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্যানসার, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যার ব্যাপকতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে আগামী বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে আরও কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। নার্স অনুশীলনকারীর পাশাপাশি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপকদের চাকরিও দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই পেশায় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। নতুন চাকরির সংখ্যার হিসাবে এটি দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি হতে পারে। দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের আরও কয়েকটি পেশা রয়েছে। জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বাড়তে থাকায় এসব পেশায় কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তালিকায় প্রযুক্তি ও গণিতভিত্তিক দুটি পেশাও রয়েছে। তথ্যবিজ্ঞানী এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীর চাকরি আগামী এক দশকে বাড়তে পারে। বড় পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন এবং তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধিকে এসব পেশায় কর্মসংস্থান বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যবিজ্ঞানীর পেশায় ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার ৪০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীর পেশায় প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি নতুন চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এই দুই পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করেছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকার বাকি দুটি চাকরি পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী এবং বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদের চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং তথ্যকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এসব পেশার প্রয়োজনও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পেশায় শতকরা হারে প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও নতুন চাকরির মোট সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী ও বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদের পেশা মিলিয়ে আগামী এক দশকে ১৫ হাজারের কম নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থান প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ১৭ কোটি ৩ লাখ চাকরি থেকে ২০৩৫ সালে তা প্রায় ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের ১০ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। জনসংখ্যার বয়স বাড়তে থাকায় আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়াও এর একটি কারণ। অনেক বয়স্ক কর্মী অবসরের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছেন এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে তাদের জায়গায় তরুণ কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। অন্যদিকে খুচরা বাণিজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। খুচরা বাণিজ্যে কর্মসংস্থান শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। তবে কোনো পেশায় কর্মসংস্থান কমার পূর্বাভাস থাকলেও সেখানে চাকরির সুযোগ একেবারে শেষ হয়ে যাবে, এমনটা নয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। তারপরও এই পূর্বাভাস থেকে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে কোন পেশাগুলোর কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে, তার একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের পেশাগুলো এই তালিকায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। সূত্র: সিএনবিসি
গুগলে বছরে ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের চাকরি করেও ৩৭ বছর বয়সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন ফ্লোরেন্স পয়রেল। চাকরি ছাড়ার সময় তার সঞ্চয় ছিল প্রায় ১৫ লাখ ডলার। ২০২৪ সালের এপ্রিলে চাকরি ছেড়ে তিনি নিজের ভাষায় ‘স্বল্পমেয়াদি অবসর’ শুরু করেন। চাকরি ছাড়ার প্রায় দেড় বছর পরও তিনি আবার পূর্ণকালীন কাজে ফিরবেন কি না, তা নিশ্চিত ছিলেন না। ফ্লোরেন্স সুইজারল্যান্ডে তার সঙ্গী জানের সঙ্গে থাকেন। জান তার চেয়ে ১৭ বছরের বড় এবং তিনিও গুগলে কাজ করতেন। দুজন একই সময়ে চাকরি থেকে সরে দাঁড়ান। ২০১৮ সালে জানের সঙ্গে পরিচয়ের পর ফ্লোরেন্স আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে শুরু করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, অবসর নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করলে জান তখন আরও অনেক বেশি বয়সী হয়ে যাবেন। তাই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় একসঙ্গে কাটানোর জন্য আগেই কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফ্লোরেন্স সবসময়ই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক ছিলেন। তিনি আয়ের বড় একটি অংশ সঞ্চয় করতেন, খুব কমই বাইরে খেতে যেতেন এবং বিনোদনে বেশি অর্থ ব্যয় করতেন না। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও তিনি তুলনামূলক কম খরচের উড়োজাহাজ বেছে নিতেন এবং সাধারণ মানের হোটেলে থাকতেন। পরে পরিবেশ ও টেকসই জীবনযাপন নিয়ে জানার পর তিনি নিরামিষভোজী হন এবং কোনো পণ্য কেনার সময় সেটির পরিবেশগত ও নৈতিক প্রভাব নিয়েও ভাবতে শুরু করেন। কোনো কিছু কেনার আগে ফ্লোরেন্স নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। পণ্যটি তার সত্যিই প্রয়োজন কি না, ভবিষ্যতে সেটি বর্জ্য হয়ে যাবে কি না, ব্যবহৃত পণ্য হিসেবে সেটি পাওয়া যায় কি না, সেটি প্রাণিজ উপাদানমুক্ত কি না, নৈতিকভাবে উৎপাদিত হয়েছে কি না এবং পণ্যটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য কি না, সেসব বিষয় বিবেচনা করেন তিনি। তার মতে, অর্থ খরচ করা হোক বা না হোক, ভালো কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অর্থ মানুষের ক্ষমতা বাড়াতে পারে। চাকরি ছাড়ার সময় ফ্লোরেন্সের ব্যাংকে প্রায় ১৫ লাখ ডলার সঞ্চয় ছিল। এই অর্থের কারণে দীর্ঘ সময় কাজ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে তিনি আর্থিকভাবে স্বস্তি অনুভব করেন। সুইজারল্যান্ড বিশ্বের ব্যয়বহুল দেশগুলোর একটি হলেও তিনি সেখানে সাধারণ জীবনযাপন করছেন। হাঁটা, জুরিখ হ্রদে সাঁতার কাটা এবং বাড়িতে রান্না করার মতো কাজেই তিনি সময় কাটাচ্ছেন। ফ্লোরেন্স জানান, এখন তিনি কোনো কিছু কেনার ক্ষেত্রে পরিমাণের চেয়ে প্রয়োজন ও মানকে বেশি গুরুত্ব দেন। ভালোভাবে তৈরি এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় এমন পণ্যের জন্য তিনি বেশি অর্থ খরচ করতেও রাজি। তার মতে, বিষয়টি সবকিছু বাদ দেওয়া নয়, বরং আরও সচেতনভাবে প্রয়োজনীয় জিনিস বেছে নেওয়া। কেনাকাটাকে তিনি কখনো মানসিক স্বস্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে দেখেননি। বরং তার কাছে কেনাকাটা বিরক্তিকর ও চাপের বিষয়। দীর্ঘদিন অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্থিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর ৩৭ বছর বয়সেই তিনি উচ্চ বেতনের চাকরি থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজের সময়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্র: সিএনবিসি
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আড়াই বছরের শিশু হাশেম আবু মুস্তাফা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জন্মগত মাংসপেশির জটিলতার সন্দেহ, তীব্র অপুষ্টি, বারবার খিঁচুনি ও উচ্চ জ্বরে ভুগছে শিশুটি। এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে নিজে মাথা সোজা করে রাখতে পারছে না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাকে গাজার বাইরে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি। সম্প্রতি নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে হাশেমের তীব্র অপুষ্টি ধরা পড়ে। ২৩ আগস্ট হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তার অসুস্থতার মূল কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তার আরও পরীক্ষা, বিশেষ করে এমআরআই ও রক্তের কালচার প্রয়োজন। কিন্তু গাজায় এসব পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসা-সুবিধা পর্যাপ্ত নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাশেমের মা সুহা আবু মুস্তাফা জানিয়েছেন, অপুষ্টির জটিলতায় শিশুটির চার অঙ্গের নড়াচড়াও মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে গেছে। গিলতে তার গুরুতর সমস্যা হচ্ছে। বিশেষভাবে তৈরি করে নরম খাবার দিতে হয়, কিন্তু একটি খাবার খেতেই তার দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। হাশেমের জন্ম গাজার রাফাহ এলাকায় একটি তাঁবুতে। তার মা জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায়ও পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার পাননি তিনি। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল দুই কেজিরও কম। গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসির জুলাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গাজার ১২ লাখের বেশি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তার সংকটপূর্ণ বা তার চেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ছিল। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করা হয়েছে। জাতিসংঘও জানিয়েছে, খাদ্য ও শিশু পুষ্টির পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হলেও তা অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা এখনো ব্যাপক। গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবস্থাও গুরুতর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জুলাইয়ের পর্যালোচনায় স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঘাটতি ও বাধার কথা উঠে এসেছে। ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হাশেমের মতো রোগীদের জন্য গাজার বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগস্টেও রাফাহ ক্রসিং দিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়ার কার্যক্রম চালু ছিল। তবে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং অনিশ্চিত মানবিক পরিস্থিতির কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার পথ এখনো কঠিন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডিলেতে আইসিইর সাউথ টেক্সাস ফ্যামিলি রেসিডেনশিয়াল সেন্টারে আটক অভিবাসী পরিবারগুলোর শিশুদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা দিচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গত বছর কেন্দ্রটি আবার চালু করার পর সেখানে আটক বাবা-মায়েরা খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার এবং ট্যাপের পানি পান করে শিশুদের বমি করার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পরই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন রেভকিন। রেভকিন ‘ইচ স্টেপ হোম’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিলেতে আটক পরিবারগুলোর কমিসারি অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিচ্ছেন। ওই অর্থ দিয়ে অভিভাবকেরা বোতলজাত পানি, নুডলসসহ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারছেন। গত সাত মাসে এভাবে তিনি শত শত পরিবারকে সহায়তা করেছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলার এক আটক মা এডগারিয়ান্নি কোর্তেস গেরভিস ও তাঁর মেয়েও এই সহায়তা পেয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় কোর্তেস গেরভিসের ওজন কমছিল এবং তিনি ক্যাফেটেরিয়ার দেওয়া ভাত ও মাংসের মিশ্র খাবার খেতে পারছিলেন না। তাঁর মেয়েও খুব কম খাচ্ছিল এবং ডায়রিয়ায় ভুগছিল। পরে রেভকিনের সহায়তায় তারা কমিসারি থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার ও বোতলজাত পানি কিনতে পারেন। রেভকিন জানান, ডিলের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পর তিনি মনে করেছিলেন, কিছু একটা করা দরকার। তাঁর ভাষায়, শিশুদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কিছুটা সহজ করতে পারছেন, এটিই তাঁকে স্বস্তি দেয়। ডিলেতে খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক পরিবারগুলোর কাছ থেকে খাবার, পরিষ্কার পানির অভাব এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। মার্চে এবিসি নিউজ জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিলের কেন্দ্র থেকে একাধিক জরুরি ৯১১ কল করা হয়েছিল। এসব কলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থার কথা উঠে আসে। অন্যদিকে, আইসিই এসব অভিযোগের বিষয়ে বলেছে, ডিলেতে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা, শিক্ষা, বিনোদন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়। কেন্দ্রটি বেসরকারি ঠিকাদার কোরসিভিক পরিচালনা করে। কোরসিভিকের দাবি, ডিলের পানির সরবরাহ শহরের অন্যান্য বাসিন্দাদের মতোই পরিষ্কার পানির ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। তবে অভিযোগের মধ্যেই রেভকিনের মতো বেসরকারি উদ্যোগগুলো আটক পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তায় পরিণত হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান শুধু খাবার নয়, শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্যও অর্থ দিচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মদিনের জন্য ক্যান্ডি থেকে শুরু করে ধুলোময় পরিবেশে থাকা শিশুদের নাকের স্প্রে পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য সময়মতো সংরক্ষণ ও সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়ে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়েছে ১৫টি স্থানীয় সরকারি সংস্থাকে। ওরেগনের কর্মী জোসে রদ্রিগেজের করা একাধিক সরকারি নথির অনুরোধের জেরে এসব সংস্থাকে মিলিয়ে ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়েছে। ফ্লক সেফটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরা বা এএলপিআর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো ব্যবহার করে। এসব ক্যামেরা সড়কে চলাচলকারী গাড়ির নম্বরপ্লেটের ছবি ধারণ করার পাশাপাশি গাড়ির অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন শহর ও স্থানীয় সরকারি সংস্থার কাছে মোট ৫৩টি সরকারি নথির অনুরোধ করেন। অনুরোধগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমিত পরিসরের ছিল। নির্দিষ্ট ক্যামেরা থেকে নির্দিষ্ট দিনে মাত্র ৩০ মিনিটের ছবি ও তথ্য চেয়েছিলেন তিনি। রদ্রিগেজের উদ্দেশ্য ছিল এসব ক্যামেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে, তা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। তিনি চেয়েছিলেন ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপ্তি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে। কিন্তু সব সরকারি সংস্থা সময়মতো এসব তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি। এর একটি বড় কারণ ছিল তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি। ক্যামেরাগুলো স্থানীয় সরকারি সংস্থার নিজস্ব কম্পিউটার ব্যবস্থায় তথ্য সংরক্ষণ করত না। বরং ফ্লক সেফটির ক্লাউড সার্ভারে এসব ছবি ও তথ্য রাখা হতো। আরও বড় সমস্যা ছিল, ফ্লকের ব্যবস্থায় তথ্য ৩০ দিনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার নিয়ম ছিল। ফলে কোনো সরকারি সংস্থা অনুরোধ পাওয়ার পর দ্রুত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণ না করলে ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি স্থায়ীভাবে মুছে যেতে পারত। রদ্রিগেজের অনুরোধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলো চাওয়া তথ্য দিতে পারেনি। কয়েকটি সংস্থা জানিয়েছিল, তথ্য তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় নেই এবং ফ্লক সেফটির সার্ভারে রয়েছে। কিন্তু আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তে এই যুক্তি যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়নি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্ক্যাগিট কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক এলিজাবেথ নিডজউস্কি রায় দেন, স্থানীয় সরকারি সংস্থার ব্যবহৃত ফ্লক ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সরকারি নথি হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো সরকারি সংস্থা তথ্যগুলো নিজের কম্পিউটারে ডাউনলোড করে রাখেনি, শুধু তৃতীয় পক্ষের সার্ভারে সংরক্ষণ করেছে, এমন কারণ দেখিয়েও সরকারি নথি আইনের দায়িত্ব এড়ানো যাবে না বলে আদালতের সিদ্ধান্তে উঠে আসে। এর ফলে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। রদ্রিগেজ যখন কোনো ছবি চেয়ে অনুরোধ করেছিলেন, তখন সেই ছবি সরকারি নথি হিসেবে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর ছিল। কিন্তু ৩০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মুছে ফেলার নিয়মের কারণে অনুরোধের জবাব দেওয়ার আগেই অনেক ছবি আর পাওয়া যায়নি। এরপর রদ্রিগেজ বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেন। কয়েকটি সরকারি সংস্থাও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলাগুলোর এক পর্যায়ে একাধিক স্থানীয় সরকার আদালতের বাইরে সমঝোতার পথ বেছে নেয়। এ পর্যন্ত ১৫টি স্থানীয় সরকারি সংস্থা রদ্রিগেজের সঙ্গে সমঝোতায় গেছে। প্রতিটি মামলায় অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলারের মধ্যে। এর মধ্যে সেড্রো-উলি ও স্ট্যানউড শহরকে মিলিয়ে ৮০ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এভারেট শহরও ২৫ হাজার ডলারের সমঝোতায় যায়। তবে অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া তথ্যগুলো আর ফেরত পাওয়া যায়নি। কারণ ফ্লক সেফটির নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যেসব ছবি মুছে গেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছেও আর ছিল না। ফলে মামলাগুলোর সমঝোতা মূলত সরকারি নথি সংরক্ষণে ব্যর্থতার দায় মেটানোর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রদ্রিগেজের আইনজীবী টিম হলের ভাষ্য, সরকারি সংস্থাগুলো শুরুতেই সঠিকভাবে অনুরোধগুলো প্রক্রিয়া করলে এসব মামলার প্রয়োজন হতো না। তার মতে, পুরো ঘটনায় করদাতাদের অর্থ আইনি লড়াইয়ে ব্যয় হয়েছে। তবে বিষয়টি শুধু অর্থদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এ ঘটনার পর ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার ফ্লক ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রদ্রিগেজের করা ৫৩টি অনুরোধের মধ্যে অন্তত ১৩টি স্থানীয় সরকারি সংস্থা পরে তাদের ফ্লক ক্যামেরার চুক্তি বাতিল করেছে অথবা ক্যামেরাগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে। আরও কয়েকটি সংস্থা সাময়িকভাবে ক্যামেরা বন্ধ রাখার পর আবার চালু করেছে। ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য শুধু সরকারি নথি আইনেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব ক্যামেরা দিয়ে মানুষের গাড়ির চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ব্যাপক নজরদারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। রদ্রিগেজও এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় মানুষ সম্পর্কে সরকারি সংস্থাগুলো কতটা তথ্য সংগ্রহ করছে, তা সাধারণ মানুষের জানা উচিত। এর মধ্যে ওয়াশিংটনে আইনও পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে গভর্নর বব ফার্গুসন এমন একটি আইন স্বাক্ষর করেন, যেখানে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত হয়। অর্থাৎ রদ্রিগেজের মামলাগুলো যে আইনি কাঠামোর মধ্যে শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই কাঠামোই বদলে গেছে। তবে তার আগের অনুরোধ ও মামলাগুলোর ক্ষেত্রে পুরোনো আইন এবং আদালতের রায়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই আইনি ব্যাখ্যার ফলেই ফ্লক ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য সংরক্ষণে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়ে নতুন নজির তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। কোনো তথ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষিত থাকলেও সেটি যদি সরকারি উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থে সংগ্রহ করা হয়, তাহলে সেই তথ্যের ওপর সরকারের নথি সংরক্ষণ ও জবাবদিহির দায়িত্ব কতটা থাকবে, ওয়াশিংটনের এই ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায় একটি টেসলা গাড়ি। এরপর পেছন থেকে আসা একটি বিশাল আকৃতির ফোর্ড এফ ৩৫০ পিকআপ ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান টেসলার চালক। সম্প্রতি মার্কিন ট্রাফিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নতুন নথিপত্র থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মেসা শহরের ইস্টবাউন্ড লুপ ২০২ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িটি ছিল ২০২০ সালের মডেল ৩ টেসলা। গাড়িটি যখন মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে পুরোপুরি থেমে যায়। সে সময় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি এবং টুয়েলভ নিউজ দুর্ঘটনার খবর প্রচার করলেও, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বা এনএইচটিএসএ কাছে টেসলার জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে চালকের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইলেকট্রিক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মারাত্মক ওই সংঘর্ষের সময় টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেম চালু ছিল। এটি টেসলার সাধারণ অটোপাইলট কিংবা ব্যয়বহুল ফুল সেলফ ড্রাইভিং বা এফএসডি সফটওয়্যার হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় শূন্য মাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লোরিডার একটি মহাসড়কে প্রায় একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও টেসলার ড্রাইভার অ্যাসিস্ট সফটওয়্যারে চলা একটি মডেল ৩ গাড়ি মহাসড়কের মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায় এবং পেছন থেকে অন্য একটি যানের ধাক্কায় টেসলার চালক নিহত হন। টেসলার গাড়িগুলোতে দীর্ঘকাল ধরেই ফ্যান্টম ব্রেকিং নামের এক অদ্ভুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। এই ত্রুটির ফলে সামনে কোনো বাধা ছাড়াই গাড়িগুলো হঠাৎ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। একটি গাড়ির ভিডিও, টেলিমেটিক্স এবং ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডারসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য টেসলার কাছে সংরক্ষিত থাকে। ফলে গাড়িটি কেন হঠাৎ থেমে গিয়েছিল, তা কোম্পানিটির কাছে খুবই স্পষ্ট। তবে ইলেকট্রিক জানিয়েছে, টেসলা এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তথ্য গোপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ এবং গাড়িটি অনুমোদিত এলাকায় চলছিল কি না সেই তথ্য। এই তথ্যগুলোকে গোপন ব্যবসায়িক তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টেসলা। জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রতিবেদনেই এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে। ফ্যান্টম ব্রেকিং ত্রুটি নিয়ে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছিল ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অটোপাইলট বা অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহারের সময় মহাসড়কের দ্রুতগতিতে গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছর ধরে চলা সেই তদন্তটি চলতি বছরের গত জুলাই মাসে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং তারা যান্ত্রিক ব্রেকের কোনো ত্রুটি বা অযৌক্তিক সংঘর্ষের ঝুঁকি খুঁজে পায়নি।
ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি পরিচয়ের পার্থক্য তাদের আলাদা করে রাখলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একই জায়গায় দাঁড়িয়েছেন দুই দেশের দুই মা। তাদের বার্তা, সন্তানদের যুদ্ধ, সহিংসতা কিংবা কারাগারের ভয় নিয়ে বড় হতে হবে না। তাদেরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের অধিকার রয়েছে। ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ এবং ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের নারীদের নিয়ে শান্তির পক্ষে কাজ করছেন। তারা যথাক্রমে ‘উইমেন অব দ্য সান’ এবং ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগ ‘মাদার্স কল’-এর মাধ্যমে তারা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীদের একসঙ্গে এনে সহিংসতার অবসান ও শান্তি আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি জেরুজালেমে ইসরায়েলি মায়েদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি নারীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা শান্তির দাবি তোলেন। তাদের অবস্থান ছিল, রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের মায়েদের উদ্বেগ একই। রিম ও ইয়ায়েলের এই যৌথ অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারী জেরুজালেম ও মৃত সাগর এলাকায় শান্তির দাবিতে সমবেত হয়েছিলেন। ওই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ ও ‘উইমেন অব দ্য সান’। তাদের লক্ষ্য ছিল রক্তপাতের চক্র বন্ধ করে দুই পক্ষের নেতৃত্বকে শান্তি আলোচনায় ফেরানো। কিন্তু ওই সমাবেশের মাত্র তিন দিন পর, ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলা এবং এরপর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সংঘাতের মধ্যে দুই পক্ষের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেও রিম ও ইয়ায়েল তাদের শান্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রিম আল-হাজাজরেহ ফিলিস্তিনি নারীদের সংগঠন ‘উইমেন অব দ্য সান’-এর প্রতিষ্ঠাতা। ইয়ায়েল আদমি ‘উইমেন ওয়েজ পিস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। দুই সংগঠন ২০২২ সালে ‘মাদার্স কল’ নামে একটি যৌথ শান্তির আহ্বানও প্রকাশ করেছিল। সেখানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীরা তাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, স্বাধীনতা, সমতা, অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি জানান। ২০২৬ সালেও তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চে রিম ও ইয়ায়েলের নেতৃত্বে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মায়েরা ইতালির রোমে খালি পায়ে শান্তির পদযাত্রায় অংশ নেন। ‘মাদার্স কল’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে তারা সহিংসতার অবসান এবং শান্তি আলোচনায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের দাবি জানান। রিম ও ইয়ায়েলের কাছে শান্তির প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নয়। তাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাদের মতে, কোনো মা চান না তার সন্তান যুদ্ধে মারা যাক, আহত হোক কিংবা সংঘাতের কারণে কারাগারে যাক। এই অভিন্ন মানবিক আকাঙ্ক্ষাই দুই সমাজের নারীদের একত্রিত করার শক্তি হয়ে উঠেছে। তাদের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৪ সালে রিম আল-হাজাজরেহ ও ইয়ায়েল আদমিকে টাইম ম্যাগাজিনের ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই বছর তাদের দুই সংগঠন শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং চলমান সহিংসতার মধ্যে দুই দেশের নারীদের এমন যৌথ অবস্থান হয়তো রাতারাতি কোনো রাজনৈতিক সমাধান এনে দেবে না। কিন্তু রিম ও ইয়ায়েলের মতো শান্তিকর্মীরা মনে করেন, বিভাজনের রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের কিছু মৌলিক চাওয়া একই। নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সন্তানদের জন্য একটি শান্ত ভবিষ্যৎ সেই চাওয়ারই অংশ।
হিলারিও রেইনোসার হাত দুটো রোদ আর বয়সের ভারে ক্লান্ত। কিন্তু মেক্সিকোর ভেরাক্রুজ রাজ্যের পোজা রিকা শহরের মোরেলোস এলাকায় তাদের বাড়িতে যখন বন্যার পানি ঢুকে পড়ে, তখন তার সেই হাত দুটোই ছিল পৃথিবীতে টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জীবনসঙ্গীকে বাঁচাতে নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। গলাসমান পানিতে দীর্ঘক্ষণ স্বামীকে আঁকড়ে ধরে বেঁচেও ফিরেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, বন্যার ঠিক ১৭ দিন পর সেই স্ত্রীরই দাফন করতে হলো স্বামী হিলারিওকে। সম্প্রতি আপসোকল নামের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাংবাদিক কৃষ্ণা মেদিনার এক প্রতিবেদনে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। মেক্সিকোর ক্যানজোনস নদীর পানি উপচে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, স্মৃতিবিজড়িত ছবি, পোশাক এবং বছরের পর বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা হাজারো পরিবারের স্বপ্ন। সেই প্রলয়ংকরী বন্যায় আটকে পড়েন হিলারিও এবং তার স্ত্রী ইলোডিয়া রেইস। ইলোডিয়া সাঁতার জানতেন না। চারদিকে যখন কেবলই ঘোলা পানির স্রোত, তখন বাঁচার কোনো উপায় না পেয়ে হিলারিও তার স্ত্রীকে নিজের গলা শক্ত করে ধরে রাখতে বলেন। কারণ এছাড়া সামনে এগোনোর আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তারা কোনোমতে একটি উঁচু স্থানে পৌঁছান এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন। তারা জানতেন না এভাবে কতক্ষণ তাদের থাকতে হবে। তবে একটি বিষয় তাদের কাছে পরিষ্কার ছিল, যদি মৃত্যু আসে তবে দুজনের একসঙ্গেই আসবে। বুকসমান ঘোলা পানিতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকা এই বৃদ্ধ দম্পতির একটি ছবি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায় পুরো বিশ্বে। বার্তা সংস্থা এএফপিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছিল যে ছবিটি ওই দিন ওই জায়গারই ছিল। টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকেই তাদের উদ্ধারের জন্য সাহায্যের আবেদন জানান। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রতিবেশী একটি ছোট নৌকায় করে তাদের সেই মৃত্যুপুরী থেকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে তারা তাদের জীবনের প্রায় সব সম্বল হারিয়ে ফেলেছেন। উদ্ধারের পর সবাই যখন এই দম্পতির বেঁচে ফেরার আনন্দে ভাসছিল, তখন কেউ জানত না তাদের জন্য সামনে কী অপেক্ষা করছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিটির রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৭ অক্টোবর মারা যান ইলোডিয়া। যে বাড়িটি তারা হারিয়েছিলেন, সেখান থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে নারাঞ্জোস আমাতলান এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। ২৬ বছর ধরে একে অপরের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন হিলারিও এবং ইলোডিয়া। আজ ইলোডিয়া নেই, হিলারিওর কাছে রয়ে গেছে কেবল সেই ছবিটি। এটি যেন সেই মুহূর্তের এক নীরব সাক্ষী, যা প্রমাণ করে যে বন্যার পানি তাদের আলাদা করতে পারেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইলোডিয়া তার স্বামীকে আঁকড়ে ধরেছিলেন, আর হিলারিও তাকে ছেড়ে যাননি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী মিশনে থাকা অবস্থায় নিহত এক মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যের স্ত্রী দাবি করেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কিছু অতিরিক্ত সামরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ইরানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করায় ওই সুবিধাগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে অযোগ্য বলে জানানো হয়েছিল। আলাবামার বাসিন্দা লিবি ক্লিনার হলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর জন ‘অ্যালেক্স’ ক্লিনারের স্ত্রী। গত ১২ মার্চ ইরাকে একটি জ্বালানি সরবরাহ মিশনের সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ছয় মার্কিন সেনাসদস্যের একজন ছিলেন অ্যালেক্স ক্লিনার। তার পরিবারের সুবিধা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে মার্কিন বিমানবাহিনী। সামরিক কর্মকর্তারা লিবি ক্লিনারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম NOTUS-এর প্রতিবেদনের বরাতে ডেমোক্রেসি নাউ জানিয়েছে, লিবি ক্লিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে তার স্বামীর মৃত্যুর পর কিছু সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান চালালেও কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করায় কিছু সুবিধার জন্য তার পরিবারকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। জন ক্লিনার ছিলেন বিমানবাহিনীর একজন মেজর। তিনি একটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের ওই মিশনের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ক্লিনারসহ ছয়জন বিমানসেনা নিহত হন। তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সহায়ক কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর লিবি ক্লিনার জানতে পারেন, কিছু সামরিক সুবিধা নিয়ে তার পরিবারের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর তা দ্রুত আলোচনায় আসে। তার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন ছিল, সামরিক সদস্যরা যখন ইরানসংক্রান্ত অভিযানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন, তখন কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি বলে তাদের পরিবারের প্রাপ্য সুবিধা কেন ভিন্ন হবে। ঘটনাটি সামনে আসার পর মার্কিন বিমানবাহিনী বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। সামরিক কর্মকর্তারা সোমবার লিবি ক্লিনারের সঙ্গে কথা বলেন বলে NOTUS-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারটি তাদের প্রাপ্য সব সুবিধা পাচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। লিবি ক্লিনারের বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রকৃতি এবং সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেন। এরপর কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের একটি বক্তব্য নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। ২ সেপ্টেম্বর সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে কোনো মার্কিন নাগরিক নিহত হয়নি এবং মূলত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইরান সংঘাতে ইতোমধ্যে ১৮ মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ফলে লুটনিকের বক্তব্য দ্রুত প্রশ্নের মুখে পড়ে। পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর লুটনিক নিজের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি জানান, তিনি ভুল বলেছিলেন এবং আসলে ভেনেজুয়েলা নিয়ে সামরিক অভিযানের কথা মাথায় রেখেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের ক্ষতির জন্য তিনি দুঃখিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও লুটনিকের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর মাথায় ভেনেজুয়েলার সামরিক অভিযান ছিল। ট্রাম্প একই সঙ্গে স্বীকার করেন যে ইরান সংঘাতে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। লিবি ক্লিনারের অভিযোগ এবং লুটনিকের ভুল বক্তব্য একই সময়ে সামনে আসায় ইরান অভিযানে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারগুলোর প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সামরিক অভিযানে নিহত সদস্যদের পরিবার কী ধরনের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী এবং সেই সুবিধা নির্ধারণে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে লিবি ক্লিনারের পরিবার শেষ পর্যন্ত কোন কোন সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বিমানবাহিনীর পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। মার্কিন সামরিক সদস্যদের মৃত্যুর পর তাদের পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়। তবে সুবিধার ধরন ও যোগ্যতা নির্ধারণে সামরিক সদস্যের দায়িত্বের প্রকৃতি, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ইরান অভিযানের মতো একটি চলমান সামরিক সংঘাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ হিসেবে কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে, তা পরিবারগুলোর জন্য বাস্তব আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে। জন ক্লিনারের মৃত্যুর ঘটনাটি তাই শুধু একটি সামরিক দুর্ঘটনার বিষয় নয়। তার পরিবারের সুবিধা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান অভিযান, সামরিক সদস্যদের স্বীকৃতি এবং তাদের পরিবারের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক নারীকে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে না। তদন্ত শেষে প্রসিকিউটররা বলেছেন, ঘটনার সময় ওই নারী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন এবং ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইনের সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য। ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুন নর্থ লডারডেলের একটি ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায়। নিহত ব্যক্তির নাম বার্ট ডিগুগলিয়েলমো। ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা একটি স্মারকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি পার্কিংয়ের একটি জায়গা নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হয় এবং পুরো ঘটনার বেশির ভাগ অংশই মুঠোফোন ও একটি টেসলা গাড়ির ক্যামেরাসহ একাধিক ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল। ফলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তদন্তকারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার তথ্য ছিল। স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের স্মারক অনুযায়ী, গুলি চালানো নারীকে মেলিসা পেইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি তার ভাতিজি ও ভাতিজির শিশুকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে ছিলেন। পেইন ও ডিগুগলিয়েলমো একই পার্কিং স্পটে গাড়ি রাখার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। এরপর ডিগুগলিয়েলমো নিজের গাড়িটি চলাচলের পথে রেখে দোকানের ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি গাড়িতে ফিরে আসেন। প্রসিকিউটরদের স্মারকে বলা হয়েছে, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী তাকে পেইনের গাড়ি নিয়ে ক্ষতি করার কথা বলতে শুনেছেন। এরপর তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে অন্য জায়গায় পার্ক করেন এবং হেঁটে পেইনের গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। একজন প্রত্যক্ষদর্শী তাকে তখন দৃশ্যত ক্ষুব্ধ অবস্থায় দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। পেইন তখন গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তার বাঁ হাতে ছিল মোবাইল ফোন এবং ডান হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ডিগুগলিয়েলমোকে সতর্ক করে বলেন, তিনি যদি তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকেন, তাহলে তিনি গুলি করবেন। কিন্তু ওই সতর্কবার্তার পরও ডিগুগলিয়েলমো তার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতেও তাকে পেইনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তদন্ত নথি অনুযায়ী, ডিগুগলিয়েলমো এগিয়ে আসার সময় পেইন পেছাতে থাকেন। ভিডিওতে ডিগুগলিয়েলমোকে তার পিছু নিতে এবং চাবি দিয়ে পেইনের গাড়ির ক্ষতি করার মতো অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি ফিরে গেলেও আবার পেইনের দিকে এগিয়ে আসেন। তখন পেইন গুলি চালান। গুলিটি ডিগুগলিয়েলমোর পেটে লাগে। গুলি চালানোর সময় পেইন তার স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। তার স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর পর পেইন তাকে পুলিশে ফোন করতে বলেন। পরে ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাকে অল্প সময়ের জন্য হেফাজতে নেন। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, পুলিশের কাছে পেইনের দেওয়া ঘটনার বিবরণ বিভিন্ন ভিডিওতে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। পরে আত্মরক্ষার দাবি করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর মামলাটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে যায়। প্রসিকিউটরদের পর্যালোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল, প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের সময় পেইন যুক্তিসংগতভাবে নিজের জীবন বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলেন কি না। ব্রোওয়ার্ড স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের হোমিসাইড ট্রায়াল ইউনিটের প্রধান স্টিফেন জ্যাকর বলেন, পেইন একটি জনসমাগমস্থলে ছিলেন এবং ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায় অবস্থান করার আইনগত অধিকার তার ছিল। তিনি কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীও নন এবং আইন অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার তার ছিল। ফলে গুলি চালানোর মুহূর্তে তিনি অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে ছিলেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দেয়। এই আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তি যদি যুক্তিসংগতভাবে মনে করেন যে তিনি মৃত্যু বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরে না গিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন। প্রসিকিউটরদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পেইনের ক্ষেত্রে তার ভয় অযৌক্তিক ছিল, এমন প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষের হাতে নেই। প্রসিকিউটর জ্যাকরের মতে, এই আইনের কারণে পেইনকে আগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। তার পক্ষে সরে যাওয়াও বাধ্যতামূলক ছিল না, যদি তার আশঙ্কা যুক্তিসংগত হয়ে থাকে এবং বিপরীত প্রমাণ না থাকে। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করেছে, এই ঘটনায় পেইনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো প্রমাণ নেই। ঘটনার কয়েক দিন পর ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছিল, পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে এবং পেইন দাবি করেছিলেন, তিনি আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছেন। সে সময় তদন্ত চলছিল এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিল। শেষ পর্যন্ত প্রসিকিউটররা পেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে শুরু হওয়া ওই বিরোধে ডিগুগলিয়েলমোর মৃত্যুর ঘটনায় পেইনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে না। ঘটনাটি আবারও ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ক্লিয়ারওয়াটারে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বিরোধের সময় গুলি করে একজনকে হত্যার ঘটনাতেও একই আইন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। তবে বর্তমান নর্থ লডারডেল ঘটনার ক্ষেত্রে প্রসিকিউটরদের সিদ্ধান্ত ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তদন্ত-তথ্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। সংবাদসূত্র: এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ বা গৃহঋণের সুদের হার এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মদদপুষ্ট মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মূল্যস্ফীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফ্রেডি ম্যাকের প্রাইমারি মর্টগেজ মার্কেট সার্ভের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার বেড়ে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের পর এটিই সর্বোচ্চ গড় হার। ওই সময় ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজের হার ছিল ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। এক বছর আগে এই গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ১৫ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে বেড়ে এই হার ৬ দশমিক ০৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সুদের হার বাড়লেও আবাসন বাজারের ক্রেতাদের আগ্রহে খুব একটা ভাটা পড়েনি। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটের বলেন, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া ক্রেতাদের অব্যাহত আগ্রহের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। মর্টগেজ রেট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যদিও মর্টগেজ রেট সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে এটি সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ড বা সরকারি বন্ডের আয়ের ওপর নির্ভর করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ট্রেজারি ইয়েল্ডের হার ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এই সুদের হার ক্রমশ বাড়ছে। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিয়াই শু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং তা ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, যখন মনে হচ্ছিল সংঘাতের সমাধান হতে চলেছে, তখন বন্ড ইয়েল্ড কমেছিল এবং মর্টগেজ রেটও নিম্নমুখী হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার কারণে তেলের দাম আবার বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির শঙ্কাকে উসকে দিয়েছে এবং ইয়েল্ড ও মর্টগেজ রেট আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র: ফক্স বিজনেস
জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তবে আলুর সঙ্গে দেশে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা এবং এতে জাপানের স্থানীয় আলুচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু সাধারণ বাজারে আমদানির অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়নের দ্বিতীয় ধাপে ২১ ধরনের রোগ ও পোকামাকড় চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো জাপানের কৃষিতে সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করতে পারে কি না এবং কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর অনলাইন ব্যাখ্যা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রতিটি রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি বিবেচনা করে আমদানির ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্ভিদ-স্বাস্থ্যবিধি বা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে কীটনাশক দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ, আলু পরীক্ষা এবং আমদানির আগে ও পরে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিদর্শনের মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠলেই যে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানের বাজারে ঢুকতে শুরু করবে, তা নয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জাপানের কৃষিমন্ত্রী নোরিকাজু সুজুকি বলেছেন, রোগ ও পোকামাকড়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আলোচনা করবে। জাপানে উদ্ভিদে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকাতে সাধারণভাবে বিদেশ থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলু আমদানির ক্ষেত্রে সীমিত একটি ছাড় দেওয়া হয়। সেই ছাড়ের আওতায় শুধু আলুর চিপস তৈরির জন্য ব্যবহৃত আলু আমদানি করা যায়। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য তাজা আলু আমদানির অনুমতি এখনো নেই। এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পর। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানে প্রবেশের অনুমতি দিতে ওয়াশিংটন অনুরোধ জানালে জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি বা এসপিএস চুক্তির কাঠামোর আওতায় বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করে। আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি মোট তিনটি ধাপে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর আমদানি নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে এমন রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করা হচ্ছে, যেগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এই ধাপেই ২১ ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের ব্যাখ্যা সভার পর প্রক্রিয়াটি তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার কথা রয়েছে। চিহ্নিত রোগ ও পোকামাকড়ের মধ্যে জাপানের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকায় আলুর সাদা সিস্ট কৃমি বা ‘পটেটো হোয়াইট সিস্ট নিমাটোড’ও রয়েছে। ২০১৫ সালে হোক্কাইডোর আবাশিরি এলাকায় প্রথমবার এটি শনাক্ত হয়েছিল এবং এরপর থেকে স্থানীয় আলু উৎপাদনে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জাপানের আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে হোক্কাইডো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট আলু উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই এই অঞ্চল থেকে আসে। ফলে বিদেশি আলু আমদানি বাড়লে শুধু রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি নয়, স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হোক্কাইডোর গভর্নর নাওমিচি সুজুকি গত ২১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকানো এবং স্থানীয় উৎপাদন সুরক্ষার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত প্রদেশটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া মেনে নিতে পারবে না। দেশটির কৃষি সমবায়গুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন জাপান অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভসের কেন্দ্রীয় ইউনিয়নও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় আলু উৎপাদক দেশ। দেশটির উৎপাদকরা দীর্ঘদিন ধরে জাপানের বড় ও লাভজনক তাজা আলুর বাজারে প্রবেশের সুযোগ চেয়ে আসছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগটি শুধু কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয় নয়, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত। তবে বর্তমান প্রক্রিয়াকে এখনই আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না জাপান। ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে দেশটি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর জন্য জাপানের বাজার পুরোপুরি খুলবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সংবাদসূত্র: দ্য জাপান টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্রুত জনবল বাড়াতে গিয়ে নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির ১৭ বছরের সাবেক এক কর্মকর্তা হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগে বলেছেন, কিছু প্রার্থী ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পরিচয়, ক্রেডিট ও পলিগ্রাফ যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগ পেয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রমের সময় আইসিইর ভেটিং কর্মকর্তাদের কিছু প্রার্থীর পূর্ণ নিরাপত্তা ফর্ম, ফিঙ্গারপ্রিন্টের ফলাফল কিংবা পলিগ্রাফের তথ্য হাতে না থাকলেও তাদের প্রাথমিক অনুমোদন দিতে বলা হয়েছিল। আগে এই প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীর পরিচয়, অপরাধের ইতিহাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করতে সাধারণত সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগত। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে কিছু নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক শেষ হওয়ার আগেই প্রশিক্ষণে যোগ দেন। পরে প্রশিক্ষণের সময়ও প্রায় ১০ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইসিইর প্রশিক্ষণ নিয়ে এর আগেও সাবেক কর্মকর্তা রায়ান শ্যাঙ্ক কংগ্রেসের এক শুনানিতে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে “ত্রুটিপূর্ণ ও ভেঙে পড়া” বলে বর্ণনা করেন। তবে প্রশিক্ষণের সময় কমানোর বিষয়ে আইসিইর বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর করতে কিছু বিষয় পুনর্বিন্যাস ও সময় কমানো হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়নি। আইসিই আরও জানিয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের ভেটিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়। নিয়োগ ও ভেটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পেছনে মেইনের বিডফোর্ডে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গুয়েরেরোর মৃত্যুর ঘটনাটিও আলোচনায় এসেছে। জুলাইয়ে ওই ঘটনায় গুলি চালানো আইসিই এজেন্ট হিসেবে ৩৭ বছর বয়সী ডেভিড ব্রুইলেটের নাম প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী প্রতিবেদনে তার সাবেক স্ত্রীর করা সুরক্ষা আদেশের আবেদন এবং ব্রুইলেটের অতীত আচরণ নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টের সঙ্গে ভেটিং প্রক্রিয়ার কথিত ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি এখনই করা যাচ্ছে না। আইসিইর নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে আরও তদন্ত ও সরকারি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির দ্রুত জনবল বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক কতটা কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে।
ফ্লোরিডার টাম্পায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঘুমিয়ে থাকা ৯৩ বছর বয়সী এক নারী ঘুম থেকে উঠে বিছানার পায়ের কাছে এক অচেনা যুবককে দেখতে পান। ঘটনাটি ঘটে ৩০ আগস্ট সকালে। পরে অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের সহায়তায় ২৪ বছর বয়সী কনর নরক্রসকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ’স অফিসের গোয়েন্দারা। শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই নারী ঘুম থেকে উঠে নরক্রসকে তার বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তিনি তাকে নিজের নাতি মনে করে কাছে ডাকেন। পরে বুঝতে পারেন, লোকটি তার পরিচিত কেউ নন। ওই নারী জানান, তাকে উঠতে হবে এবং ওষুধ খেতে হবে। তখন নরক্রস তার হাত ঘষতে শুরু করেন এবং তাকে ওষুধ এনে দেওয়ার কথা বলেন। নারীটি তাকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চলে যেতে বললে তিনি পেছনের কাচের স্লাইডিং দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। তবে কিছুক্ষণ পর নরক্রস আবার ফিরে এসে সামনের দরজা দিয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকার চেষ্টা করেন। দরজাটি তখন লক করা ছিল। পরে তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নরক্রসকে শনাক্ত করেন। ১ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বসবাসরত ব্যক্তিসহ বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তির ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনা ঘটলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নরক্রসকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ফিলিপাইনের এক যুগল প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় ইচ্ছা ও ভালোবাসার কাছে প্রাকৃতিক দুর্যোগও হার মানে। প্রবল বর্ষণ ও বন্যার কারণে চারপাশ যখন তলিয়ে গেছে, ঠিক তখনই ম্যানিলার উত্তরাঞ্চলীয় হাগোনয় শহরের সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্ট গির্জায় কোমরসমান ঘোলা পানিতে দাঁড়িয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন লেইন লিজা গালাং এবং গিলবার্ট চিকো। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত এক মাস ধরে টানা মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে ফিলিপাইনের এই অঞ্চলটি ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। আগস্ট মাসে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় ওই গির্জাটিও প্রায় এক মাস ধরে আংশিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে আছে। এ কারণে গির্জা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই যুগলকে বিয়ের অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটুট থেকে এই দুর্যোগের মাঝেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। কনে লেইন লিজা বন্যার পানিতে হাঁটার সুবিধার্থে তার বিয়ের গাউনটির নিচের অংশ কেটে কিছুটা ছোট করে নিয়েছিলেন। উঁচু কাঠামোর একটি রিকশায় চড়ে তারা গির্জার প্রাঙ্গণে পৌঁছান, যাতে পানিতে নামার আগে পোশাক ভিজে বা নষ্ট না হয়। বিয়ের চিত্রগ্রাহক মিক্কো রে আলফোনসো জানান, এই যুগলের ভালোবাসার কাছে কোনো বাধাই টিকতে পারেনি। গির্জার ভেতরে ১৫ জনেরও কম অতিথির উপস্থিতিতে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। গির্জার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্লাস্টিকের ফুলে সাজানো ফাঁকা বেঞ্চের সামনে কনেকে জড়িয়ে ধরে আছেন তার বাবা-মা। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে হেঁটে বিয়ের আংটি হাতে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এক কিশোর। মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী বর গিলবার্ট চিকো জানান, তাদের বিয়েটি মূলত ডিসেম্বরে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ার কারণে তিনি বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ছুটি নিয়ে দেশে ফেরায় বিয়ের তারিখ এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও খারকিভ শহরের শিশুদের জন্য এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। যুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষতে শহরের উপরিভাগের অনেক অংশ জর্জরিত থাকলেও, রুশ বোমাবর্ষণের সার্বক্ষণিক হুমকির মাঝেই শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা নিশ্চিতে মাটির নিচে তৈরি করা হয়েছে এক অভিনব স্কুল। ‘খারকিভ লাইসিয়াম নম্বর ২৪’ নামের এই নবনির্মিত ভূগর্ভস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের এই শহরটিতে প্রতিনিয়তই রাশিয়ান বাহিনীর হামলার আতঙ্ক বিরাজ করে। ভূপৃষ্ঠের ওপরে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা যখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই মাটির নিচের এই স্কুলটি শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কারণে যুদ্ধকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নিরাপদে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো এই স্কুলটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের শিশুদের জন্য এক নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে শপথ নিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক স্টেট সিনেটর আয়েশা ওয়াহাব। ৩৯ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। গত এপ্রিলে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগে সাবেক প্রতিনিধি এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনেই বিশেষ নির্বাচনে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়লেন আয়েশা। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করা আয়েশা পরবর্তীতে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমাজকর্মে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করা এই রাজনীতিকের শৈশব কেটেছে ফস্টার কেয়ার বা পালক পরিবারে। কংগ্রেসে তার প্রধান লক্ষ্য হবে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এরা আমাদেরই মানুষ। আমরা যদি বিভাজনের বদলে সাধারণ উদ্দেশ্য এবং রাজনীতির বদলে মানুষকে বেছে নিই, তবে আমেরিকার স্বপ্নকে আবারও সত্যি করে তুলতে পারব। কারণ এই স্বপ্ন কেবল রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটদের নয়, বরং উন্নত আগামীর প্রত্যাশা করা প্রতিটি আমেরিকানের।” ইস্ট বে ডিস্ট্রিক্টের এই বিশেষ নির্বাচনে বার্ট (BART) বোর্ড ডিরেক্টর মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করে কংগ্রেসের টিকিট নিশ্চিত করেন আয়েশা ওয়াহাব। তবে তাদের এই রাজনৈতিক লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী নভেম্বরে পূর্ণাঙ্গ দুই বছর মেয়াদের জন্য আবারও ব্যালট যুদ্ধে মুখোমুখি হবেন এই দুই প্রার্থী।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো সংলগ্ন চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেম্বার বা কাউন্সিলম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পারভেজ রহমান। গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলীয় ভোটে ৪-২ ব্যবধানে তার এই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। সাবেক ডেমোক্র্যাট কাউন্সিল মেম্বার স্টিফেন নোইকির পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বের এক নতুন মাইলফলক রচিত হলো। পারভেজ রহমানের শেকড় বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আতাউর রহমানের সন্তান। পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মূলধারার রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তিনি প্রিন্সিপাল ফিন্যান্স বিজনেস পার্টনার হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর পারভেজ রহমান চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এই পদে অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর আগামী নভেম্বরে আসনটিতে স্থায়ী প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে তার এই অনন্য অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পরিধি সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মেরিল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক ডেবোরাহ এল. বোর্ডম্যান। বুধবারের এই রায়ে বিচারক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগটি সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক এবং এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। বিচারক বোর্ডম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত ফেডারেল বিচারক। তিনি এর আগে ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ নির্বাহী আদেশ কার্যকরেও বাধা দিয়েছিলেন। এবার ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সংশোধিত আদেশের বিরুদ্ধেও তিনি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বা প্রিলিমিনারী ইনজাংশন জারি করলেন। গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে আগের আদেশের তুলনায় নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আদেশে বিশেষ করে বিদেশি সরকারের কর্মী, নির্দিষ্ট বিদেশি শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তান এবং তথাকথিত বার্থ ট্যুরিজম বা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পরিস্থিতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নতুন আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে যেসব সীমিত ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর আওতায় কিছু শিশুকে বার্থরাইট সিটিজেনশিপ থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে। তবে বিচারক বোর্ডম্যান সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তাঁর মতে, যে শ্রেণির শিশুদের নিয়ে মামলাটি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে নতুন কোনো নির্বাহী আদেশ দিয়ে সেই সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করা যাবে না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিচারকের এই রায় ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশকে স্থায়ীভাবে বাতিল করেনি। বরং মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট শ্রেণির শিশুদের ওপর আদেশটি কার্যকর করা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে মামলার পরবর্তী ধাপ এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে। গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ উদ্যোগ নিয়ে রায়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে যাদের বাবা-মা অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তারাও সাধারণভাবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মের সময় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই রায়ের পরই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে অপেক্ষাকৃত সীমিত পরিসরে বার্থরাইট সিটিজেনশিপের নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। বুধবারের রায়ে বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এমন শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাদের নাগরিকত্বের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মামলার আওতাভুক্ত শিশুদের নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দিতে বা নাগরিকত্বের নথি আটকে দিতে সরকারি সংস্থাগুলো ট্রাম্পের নতুন আদেশ ব্যবহার করতে পারবে না। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আদালতের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নির্বাহী আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের রায় বিবেচনা করেই তৈরি করা হয়েছে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বার্থরাইট সিটিজেনশিপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতের আইনি দ্বন্দ্ব আরও দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
১৯৯৯ সালের কথা। চীনের লুওয়াং শহরে তখন ইংরেজি পড়াতেন মার্কিন শিক্ষক রোনাল্ড সাকোলস্কি। একদিন টেলিভিশনে তিনি ইন ইউজেন নামের এক বৃক্ষপ্রেমী নারীর খবর দেখেন, যিনি মু উস মরুভূমির বিস্তার ঠেকাতে কেবল নিজের হাতেই গাছ লাগাচ্ছিলেন। ইউজেনের এই অদম্য সংগ্রাম সাকোলস্কির হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি বোস্টনভিত্তিক একটি সংগঠনের মাধ্যমে ৫ হাজার ডলার তহবিল সংগ্রহ করে চারাগাছ কেনার জন্য ইউজেনের কাছে পাঠিয়ে দেন। ২০০০ সালে সাকোলস্কি যখন ইউজেনের সঙ্গে দেখা করতে যান, মু উস এলাকাটি ছিল অত্যন্ত রুক্ষ, বালুকাময় এবং দুর্গম। কিন্তু ইউজেন তার লড়াই থামাননি। সেই অনুদানের টাকায় কেনা চারাগুলো কয়েক দশকের ব্যবধানে আজ ৫০ হাজারেরও বেশি গাছের এক সুবিশাল অরণ্যে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে ইউজেনের পরিবার ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সহায়তায় ওই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আরও বিপুল পরিমাণ গাছ রোপণ করে মরূদ্যান গড়ে তোলা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ২০২৬ সালে এসে সেই মার্কিন শিক্ষকের খোঁজে অনলাইনে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন ইউজেন। দ্রুতই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে এবং সাকোলস্কির সাবেক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাদের দুজনের মধ্যে আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হয়। অবশেষে গত আগস্টে সাকোলস্কি আবার চীনে ফিরে যান। অরডোস শহরে ইউজেনের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি সেই বিশাল জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটেন, যা তৈরিতে একদিন তার ওই ছোট্ট অনুদানটি বীজ হিসেবে কাজ করেছিল। ছোট্ট একটি সহায়তার উদ্যোগ কীভাবে সময়ের সঙ্গে বিশাল রূপ নিতে পারে, এটি তারই এক বিরল দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) গোয়েন্দা শাখায় ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। এনওয়াইপিডির দীর্ঘ ইতিহাসে এই শীর্ষ পদে পদোন্নতি পাওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি তিনি। সোমবার সকাল ১০টায় নিউইয়র্ক পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ইকবালের হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেন পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিস। তার এই সাফল্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসবের আমেজ ও গভীর গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের সন্তান ইকবাল হোসেন ১৯৯০ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা ইকবাল সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৬ সালের জুলাই মাসে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি ৩২ ও ২৬ প্রিসিনক্ট, সন্ত্রাসবিরোধী ব্যুরোর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমান্ড এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ব্যুরোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিভাগে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজের প্রতি একাগ্রতা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি ডিটেকটিভ থার্ড গ্রেড এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে ডিটেকটিভ সেকেন্ড গ্রেড পদে উন্নীত হন। বিশেষ করে এনওয়াইপিডির অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ‘ফোর্স ইনভেস্টিগেটিভ গ্রুপ’-এর ৫৪ নম্বর দলে কাজ করার সময় তার তীক্ষ্ণ মেধা ও পেশাদারিত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশংসা কুড়ায়, যার চূড়ান্ত স্বীকৃতি এই ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদোন্নতি। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী নিলুফা বেগম ও তিন ছেলেকে নিয়ে নিউইয়র্কের সাউথ ওজন পার্কে বসবাস করেন ইকবাল। পুলিশের কঠোর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। তার এই অনন্য অর্জন প্রবাসীদের জন্য শুধু গর্বের বিষয়ই নয়, বরং প্রবাসী তরুণ প্রজন্মের কাছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একাগ্রতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক শিক্ষিকা আদালতে অঝোরে কেঁদেছেন। গত সোমবার রিভারসাইড সুপিরিয়র কোর্টে শুনানিকালে ভুক্তভোগী ওই কিশোরের মা তাদের পারিবারিক ট্রমা ও মানসিক বিপর্যয়ের বর্ণনা দেওয়ার সময় কাঠগড়ায় থাকা ৩৪ বছর বয়সী আমান্ডা লেই কুইনোনেজ কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রায় চার বছর আগে নিজের ওই ছাত্রের সঙ্গে জঘন্য এই সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। আমান্ডা কুইনোনেজ রিভারসাইডের এলেনর রুজভেল্ট হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষিকা এবং ওয়াটার পোলো ও সাঁতারের কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বিকৃত যৌন নিপীড়ন এবং তাকে যৌন উদ্দীপক সামগ্রী সরবরাহের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতে ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা-মায়ের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষমা চেয়ে আমান্ডা স্বীকার করেন যে, একজন শিক্ষিকা হিসেবে তিনি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালতে ওই কিশোরের মা অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, শিক্ষিকার এমন ঘৃণ্য আচরণের কারণে তার ছেলেকে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অন্য শিক্ষার্থীদের কটূক্তি ও উপহাসের কারণে ভুক্তভোগী কিশোর ও তার বড় ভাইকে স্কুলের বেসবল দল ছাড়তে হয় এবং শেষ পর্যন্ত অন্য স্কুলে ভর্তি হতে বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোর জানিয়েছিল, অভিযুক্ত শিক্ষিকা তাকে বারবার বলতেন এই সম্পর্ক গোপন রেখে তাকে (শিক্ষিকাকে) রক্ষা করতে হবে। ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে জামিনে মুক্ত থাকা এই সাবেক শিক্ষিকাকে মঙ্গলবার পুনরায় আইনি হেফাজতে নেওয়ার কথা রয়েছে। মানসিক মূল্যায়নের জন্য আপাতত তাকে স্টেট প্রিজনে পাঠানো হবে এবং আগামী ১০ নভেম্বর চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার জন্য তাকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গাড়ি চাপা দিয়ে এক বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগে অপর এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে তাদের আরেক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনাটি স্থানীয় কমিউনিটিতে গভীর শোক ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী অনিলা বেবির বিরুদ্ধে ৩৫ বছর বয়সী অঞ্জনা হরিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে মিলপিটাসের মিল ক্রিক অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের কাছে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি অনুযায়ী, অঞ্জনা হরি হাসিমুখে একটি ব্যাগ হাতে অনিলার ব্লু টয়োটা হাইল্যান্ডার গাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সে সময় তাদের মধ্যে কোনো ধরনের ঝগড়া বা দ্বন্দ্বের লক্ষণ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই অনিলা তীব্র বেগে গাড়ি চালিয়ে অঞ্জনাকে চাপা দেন এবং তিনটি পার্ক করা গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া অঞ্জনাকে দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা বা ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ হিসেবে ধারণা করা হলেও, পরে তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে মিলপিটাস পুলিশ। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক মাইল দূরে একটি ওয়ালগ্রিনস পার্কিং লট থেকে অনিলা বেবিকে অসংলগ্ন অবস্থায় আটক করে পুলিশ। এ সময় তার হাত ও পায়ে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে সান জোসে পুলিশের কাছে আরও একটি জরুরি কল আসে। লিন্ডা ভিস্তা স্ট্রিটের একটি বাড়ি থেকে ৪০ বছর বয়সী অ্যান মেরি ম্যাথিউ নামের আরেক নারীর ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করে তারা। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। নিহত দুই নারীই অভিযুক্ত অনিলার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন বলে জানা গেছে। তিন নারী একই কমপ্লেক্সে থাকতেন বলে শুরুতে গুজব ছড়ালেও, পুলিশ জানিয়েছে এই দুটি মৃত্যুর ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা স্থানে ঘটেছে। কিছু সংবাদমাধ্যমে দুই হত্যাকাণ্ডের জন্যই অনিলাকে দায়ী করা হলেও, পুলিশ এখন পর্যন্ত জনসম্মুক্ষে এই দুটির মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত করেনি। চাকরি হারানো বা বিষণ্ণতার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন তাদের পরিচিতরা। সান্তা ক্লারা কাউন্টি জেলে বিনা জামিনে আটক অনিলা বেবিকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।