- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একসঙ্গে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে এক অনন্য গৌরবের অধিকারী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন সহোদর। মুসআব মোহাম্মদ আজাদ, সাদ মোহাম্মদ আজাদ ও মুআজ মোহাম্মদ আজাদ নামের এই তিন ভাইয়ের অসামান্য অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। সিডনির ব্যাংকসটাউনে অবস্থিত 'দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়া' নামের একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাঁরা এই কোরআন হিফজের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। প্রবাসের মাটিতে জন্ম নিয়ে এবং পশ্চিমা আবহে বেড়ে ওঠার পরও তাঁদের এই অর্জন পরিবার ও কমিউনিটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১৭ অক্টোবর, শনিবার ব্যাংকসটাউনে মাগরিবের নামাজের পর দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে এক বিশেষ হিফজ সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আড়ম্বরপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে কোরআনের হাফেজ হওয়া তিন ভাইয়ের পাশাপাশি ইব্রাহিম খান নামের আরেক নবীন হাফেজকেও বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষক, অভিভাবক ও মুসলিম সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বক্তারা প্রবাসে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রসার ও মূল্যবোধ চর্চার ওপর জোর দেন। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠার পরও নিজেদের ধর্ম ও শেকড়ের প্রতি অবিচল থেকে তিন ভাইয়ের এই অসামান্য অর্জনকে প্রবাসীদের জন্য এক দারুণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পরিবারের সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিচর্যা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তাঁদের এই সাফল্য অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোকে কোরআন শিক্ষার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এলএসইউ) ক্যাম্পাসের কাছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এবং তাঁর ফায়ারফাইটার হবু স্বামী। রোববার ভোরে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় মদ্যপ এক তরুণী চালকের গাড়ির ধাক্কায় এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। ব্যাটন রুজ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নিহত ওই জুটির নাম লেয়া ফন্টে (২১) এবং শেন হার্স্টিয়াস (২১), যাঁরা একে অপরের সাথে বাগদান সম্পন্ন করেছিলেন। এই ঘটনায় মিয়া ডসন (২০) নামের এক তরুণী চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, বেপরোয়া ড্রাইভিং, হিট-অ্যান্ড-রান এবং গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ডসন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডান পাশের শোল্ডারে উঠে যান এবং সেখানে হাঁটতে থাকা ওই জুটিকে সজোরে ধাক্কা দেন। ঘটনাস্থলেই ফন্টের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হার্স্টিয়াসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রিভার রিজ ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক ফেসবুক পোস্টে শেন হার্স্টিয়াসকে স্মরণ করে জানিয়েছে, শেন কেবল একজন ফায়ারফাইটারই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী একজন মানুষ, যাঁর অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রবল আগ্রহ ছিল। অন্যদিকে, লেয়া ফন্টে ছিলেন লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট ওয়েড রুস এক বিবৃতিতে ফন্টের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এই শোকের মুহূর্তে তাঁদের ধৈর্য ধারণের প্রার্থনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার দায়ে কাভান বিষ্ণুভাই প্যাটেল (৩২) নামের এক কনভেনিয়েন্স স্টোর মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ই-বাইকে থাকা হান্টার রাসে নামের ওই কিশোরকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দেওয়ার পর সে মারাত্মক আহত অবস্থায় কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে ছিল। গত শনিবার রাতে পরিবারের সিদ্ধান্তে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হলে অভিযুক্ত প্যাটেলের বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনে রবিবার সকালে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাউথ উইকহ্যাম রোডের 'কর্নার স্টোর' নামের একটি দোকানে চুরির অ্যালার্ম বেজে ওঠে। দোকান মালিক প্যাটেল পুলিশকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজে তিনি হালকা রঙের হুডি পরা এক ব্যক্তিকে দোকানের ভাঙা দরজা দিয়ে বেরিয়ে ই-বাইকে করে পালিয়ে যেতে দেখেছেন। এরপর ড্রোন ও কে-৯ ইউনিটসহ পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি শুরু করলে রাস্তায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের অভিযোগ, প্যাটেল নিজের গাড়ি নিয়ে ওই কিশোরের পিছু নেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান। মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তায় প্রায় এক ঘণ্টা পড়ে থাকার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে নিহত কিশোরই সেই চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিল কি না, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। প্যাটেল ঘটনা ঘটিয়ে দোকানে ফিরে এলেও পুলিশের জেরার আগ পর্যন্ত তিনি কিশোরকে গাড়ি চাপা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত এবং আহত ব্যক্তিকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ আনা হলেও, কিশোরের মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন অযোগ্য অবস্থায় ব্রেভার্ড কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। এদিকে, এই মর্মান্তিক পরিণতির পরও নিহত কিশোরের পরিবার অন্যদের জীবন বাঁচাতে তার অঙ্গদানের মতো এক মহৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর উত্তর-পশ্চিম শহরতলি মান্ডেলিনের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওয়েলিংটন অ্যাভিনিউয়ের ২০০ ব্লকের ওই বাড়িতে একটি 'ওয়েল-বিং চেক' বা বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেওয়ার স্বাভাবিক কলে সাড়া দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভেতরে প্রবেশ করে তারা তিনজন পুরুষ ও দুজন নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। নিহত পাঁচজনই গুলিবিদ্ধ ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য অথবা কোনো পারিবারিক সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে দুটি হ্যান্ডগানও উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মান্ডেলিন পুলিশ, লেক কাউন্টি মেজর ক্রাইম টাস্ক ফোর্স এবং লেক কাউন্টি করোনারস অফিস যৌথভাবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম ও বয়স প্রকাশ করা হয়নি এবং ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। তবে পুলিশ আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হচ্ছে এবং এর ফলে সাধারণ জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি বা হুমকি নেই। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এই ঘটনা সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে মান্ডেলিন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো পরিপাটি পোশাক পরে একাধিক চিকিৎসা কেন্দ্রে (মেডিকেল অফিস) চুরির অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কার্লোস অ্যান্থনি মিচেল (৬৭) নামের ওই ব্যক্তি উডব্রিজ এলাকার বাসিন্দা। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চুরির সময় ওই ব্যক্তি ব্লেজার, সাদা শার্ট, গ্লাভস এবং টুপি পরে একদম পেশাদার ভদ্রলোকের বেশে ছিলেন। গত মে মাস থেকে শুরু করে সম্প্রতি পর্যন্ত মোট তিনটি বাণিজ্যিক চুরির ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম চুরির ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মে উইলো ওকস করপোরেট ড্রাইভ এলাকার একটি বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে ঢুকে ওই ব্যক্তি ক্যামেরা, ক্যামেরার সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ চুরি করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে চুরি যাওয়া সেসব সরঞ্জাম বন্ধক রাখার সূত্র ধরে তদন্তকারীরা মিচেলকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর গত ৩ ও ১১ সেপ্টেম্বর ম্যাকলিন এবং ফেয়ার ওকস এলাকার আরও দুটি মেডিকেল অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। উভয় জায়গার সিসিটিভি ফুটেজে ব্লেজার, সাদা শার্ট, নীল বাকেট হ্যাট, গ্লাভস এবং মেডিকেল মাস্ক পরা একই ব্যক্তির উপস্থিতি দেখতে পান গোয়েন্দারা। পোশাক ও চুরির ধরনের এই মিল থেকেই তিনটি ঘটনার যোগসূত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশের স্পেশাল ইউনিট মিচেলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে চুরি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সম্পত্তি ধ্বংস এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে চোরাই মাল রাখার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে এবং আগামী ২৮ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ভার্জিনিয়ার আইন অনুযায়ী, এই ধরনের চুরির অপরাধে এক থেকে বিশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অভিনব এই চোর আরও কোনো অপরাধের সাথে জড়িত কি না, তা নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনের বাসিন্দা স্টারলিন ও বিল ক্যাফেরাটা দম্পতি ভেবেছিলেন তাঁদের তিনজনের ছোট্ট পরিবারে নতুন আরেকজন অতিথি আসতে চলেছে। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করাতে গিয়ে এমন এক বিস্ময়কর সত্যের মুখোমুখি হলেন, যার জন্য তাঁরা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। একটি বা দুটি নয়, স্ত্রী স্টারলিনের গর্ভে বেড়ে উঠছে একসঙ্গে চারটি সন্তান! পেশায় পেডিয়াট্রিক ইমার্জেন্সি নার্স ৪২ বছর বয়সী স্টারলিন এবং ৪৩ বছর বয়সী বিল দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিতীয় সন্তানের চেষ্টা করছিলেন। আইভিএফ (IVF) পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের সর্বশেষ সংরক্ষিত ভ্রূণটি প্রতিস্থাপন করেন। কিন্তু তাঁদের অজান্তেই সেই একই চক্রে স্টারলিন প্রাকৃতিকভাবে আরও দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ করেন, যা নিষিক্ত হয়ে যায়। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে হঠাৎ করে শারীরিক অসুস্থতা, রক্তপাত ও পেটে ব্যথা দেখা দিলে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে ছোটেন এই দম্পতি। প্রথমে গর্ভপাতের আশঙ্কা করলেও, আলট্রাসাউন্ড শুরু হতেই চিকিৎসক জানান একটি থলিতে দুটি হৃদস্পন্দন শোনা যাচ্ছে। এরপর একে একে তৃতীয় ও চতুর্থ হৃদস্পন্দনের খোঁজ মিললে আনন্দে ও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান তাঁরা। পরিস্থিতি এতটাই আবেগঘন হয়ে ওঠে যে, স্টারলিনকে সামলে নেওয়ার সুযোগ দিতে চিকিৎসককে কিছুক্ষণের জন্য স্ক্যান বন্ধ রাখতে হয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন এই ক্যাফেরাটা দম্পতি। আইভিএফের মাধ্যমে স্থাপিত ভ্রূণের পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দুটি ভ্রূণও জরায়ুতে সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয়। এরপর এর মধ্যে একটি ভ্রূণ বিভক্ত হয়ে অভিন্ন যমজে পরিণত হয়। গর্ভাবস্থার সময়টি স্টারলিনের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ১৭ সপ্তাহেই তাঁর শরীর এতটাই ভারী হয়ে গিয়েছিল যে মনে হচ্ছিল তিনি ৪১ সপ্তাহের গর্ভবতী। শারীরিক নানা জটিলতায় তাঁকে পুরোপুরি বিছানায় বিশ্রামে থাকতে হয়। অবশেষে গর্ভাবস্থার ৩১ সপ্তাহে তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান—লেনন, ফ্রান্সেসকা, স্টেলা এবং এনজোর জন্ম দেন স্টারলিন। বর্তমানে এই দম্পতির প্রথম সন্তান জোয়ির বয়স আট বছর এবং চার জমজ সন্তানের বয়স পাঁচ। সাত সদস্যের এই বড় পরিবারটি এখন এক ছাদের নিচে আনন্দে সময় কাটাচ্ছে। একসঙ্গে নতুন নতুন রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া থেকে শুরু করে নানা জায়গায় ভ্রমণ—সব মিলিয়ে দারুণ এক জীবন উপভোগ করছেন তাঁরা। স্টারলিন জানান, তাঁর এই চার সন্তান একে অপরের ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বা সেরা বন্ধু হিসেবেই বেড়ে উঠছে, যা দেখে বাবা-মা হিসেবে তাঁরা এক অন্যরকম প্রশান্তি পান।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ম্যাসাচুসেটসের চেলসি-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কায়েম ফুডস ইনকর্পোরেটেডের ১৫ লাখ পাউন্ডেরও বেশি রেডি-টু-ইট (আরটিই) মাংস ও পোলট্রি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে। গুদামে খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মারাত্মক ত্রুটি এবং অনিরাপদ তাপমাত্রার কারণে এই বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাহার করা বিপুল পরিমাণ এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ডেলি হ্যাম, বিফ, বেকন, হটডগ, চিকেন মিটবল, টার্কি ব্রেস্ট এবং সসেজসহ নানা ধরনের মাংসজাত খাবার। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও হংকংয়ের বিভিন্ন রিটেইল ও ফুড সার্ভিস স্টোরগুলোতে এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল। ইউএসডিএ জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে ৭ অক্টোবরের মধ্যে এই খাবারগুলো উৎপাদন করা হয় এবং ৭ জুন থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে তা বাজারজাত করা হয়েছিল। গত ১ অক্টোবর এক ক্রেতা তাঁর কাছে সরবরাহ করা পণ্যগুলো অস্বাভাবিক গরম অবস্থায় পেয়েছেন বলে অভিযোগ জানালে সংরক্ষণের এই মারাত্মক ত্রুটির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই ইউএসডিএ-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস) তড়িঘড়ি করে পণ্যগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব নষ্ট বা অনিরাপদ মাংস খেয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া না গেলেও, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ক্রেতাদের এগুলো গ্রহণ করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ক্রেতাদের অবিলম্বে এসব খাবার ডাস্টবিনে ফেলে দিতে অথবা যেখান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউএসডিএ পরিদর্শনের সিল বা মার্কের ভেতরে থাকা “EST. M/P 7839,” “EST. P 20935A,” এবং “EST. M 9520” নম্বরগুলো মিলিয়ে ক্রেতারা খুব সহজেই ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যগুলো শনাক্ত করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর কায়েম ফুডসের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ম্যাট মনকিউইচ গ্রাহকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ক্রেতাদের সর্বোচ্চ মানের নিরাপদ খাবার সরবরাহ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তাই অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে স্বেচ্ছায় পণ্যগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী এই পারিবারিক প্রতিষ্ঠানটি পুরো ঘটনার দায়ভার স্বীকার করে নিয়েছে এবং ইতিমধ্যে তাদের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে নষ্ট পণ্যগুলো ধ্বংস করার নির্দেশনা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। আর এই সম্ভাব্য সংঘাত শুরু হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাত যদি ফের মাথাচাড়া দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার প্রস্তুত রাখার দাবি করেছেন ইরানের সামরিক কমান্ডাররা। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল কাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টার এবং আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়ংকর বিকল্পগুলোর কথা বলা হচ্ছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি গত মাসের শেষের দিকে সতর্ক করে বলেন, “বিশ্ব অবাক হয়ে যাবে। আমাদের এমন অনেক নতুন লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেখানে এখনো হামলা চালানো হয়নি।” প্রায় নয় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলা এই যুদ্ধ বর্তমানে একপ্রকার অচলাবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানকে মাথানত করতে বাধ্য করার জন্য নতুন নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নিলেও, তেহরান তীব্রভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। হোসেইন মোহেব্বি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য নিজেদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেছে। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারাও সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য রণকৌশল সাজাচ্ছেন। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য 'মাদার অফ অল বম্বস' (MOAB) বা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ইরানও কেবল আত্মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তারা আগেভাগে আক্রমণ করার মতো একটি নতুন আক্রমণাত্মক সামরিক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি তারা একসাথে ৩০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ইউরোপে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানের অত্যাধুনিক এআই-চালিত ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইলের নিশানায় পরিণত হতে পারে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় জর্জরিত সাধারণ ইরানিরাও নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই পাওয়ার ব্যাংক চার্জ করে এবং খাবার ও পানি মজুত করে যেকোনো মুহূর্তে বোমাবর্ষণের প্রহর গুনছেন। এর পাশাপাশি, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওই অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উভয় পক্ষই যখন নিজ নিজ অবস্থান থেকে মরণপণ প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে নতুন একটি ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেসে ফের অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বখ্যাত 'ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ফ্যাশন শো'। আদ্রিয়ানা লিমা ও আলেসান্দ্রা আমব্রোসিওর মতো প্রবীণ মডেলদের পাশাপাশি কাইলি জেনার ও নাতালিয়া ব্রায়ান্টের মতো নতুন মুখের উপস্থিতিতে এবারের আসরটি ছিল তারকায় ভরপুর। রোববার রাতের এই জমকালো আয়োজনে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন কাইলি জেনার। রানওয়েতে নিজের অভিষেকে তিনি পরেছিলেন বিখ্যাত 'ফ্যান্টাসি ব্রা', যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার। জ্যাকব অ্যান্ড কোং-এর নকশা করা এই ব্রা-টিতে ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরার পাশাপাশি কেন্দ্রে রয়েছে একটি ৭৫ ক্যারেটের হলুদ হীরা। এটি এই শোয়ের ইতিহাসে পরিধান করা সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফ্যাশন শো-তে কাইলির চমকের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু মুহূর্ত নজর কেড়েছে দর্শকদের। মা হওয়ার মাত্র ছয় সপ্তাহ পরই রানওয়েতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছেন মডেল বারবারা প্যালভিন; দর্শকসারিতে বসে স্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন স্বামী ডিলান স্প্রাউস। অন্যদিকে, পায়ের চোটে ক্রাচে ভর করা সুপারমডেল জিজেলে বুন্ডশেন শো শুরুর আগে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সারপ্রাইজ ক্যামিও দেন এবং ভবিষ্যতে ব্র্যান্ডটির সাথে আরও কাজ করার ইঙ্গিত দেন। এছাড়া, প্রয়াত বাস্কেটবল কিংবদন্তি কোবি ব্রায়ান্টের মেয়ে নাতালিয়া ব্রায়ান্টেরও এদিন ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের রানওয়েতে জমকালো অভিষেক ঘটে। রানওয়ের বাইরে দর্শকসারিতেও ছিল তারকাদের ছড়াছড়ি। মেগান থি স্ট্যালিয়ন, টেট ম্যাক্রে এবং কাটসেইয়ের মতো শিল্পীদের পারফরম্যান্সের তালে মেতে উঠেছিলেন সামনের সারিতে বসা তারকারা। বিশেষ করে হলিউড অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান দর্শকসারিতে সবার নজর কাড়েন। মেগান থি স্ট্যালিয়নের গানে তাঁর নাচ এবং 'নিকোল কিডম্যান' শিরোনামের একটি গান বাজার সময় তাঁর লাজুক হাসির মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ডিজিটাল প্রতারণা এবং চরম একাকীত্ব যে কতটা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তার এক করুণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো ব্রাজিলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নারীর প্রেমে পড়ে বিয়ের আশায় নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন এদিমার মার্তিন্স নামের ৪৯ বছর বয়সী এক রাজমিস্ত্রি। কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তিনি যে ভয়ংকর সত্যের মুখোমুখি হলেন, তা যেকোনো কল্পবিজ্ঞানের গল্পকেও হার মানায়। তিনি জানতে পারেন, যাঁর টানে তিনি ছুটে এসেছেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই; ওই নারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র মাত্র। জানা যায়, ২০২০ সালে মায়ের মৃত্যুর পর চরম একাকীত্বে ভুগছিলেন এদিমার। সেসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় তিন লাখেরও বেশি অনুসারী থাকা 'জেসিকা অলিভেইরা' নামের একটি অ্যাকাউন্টের খোঁজ পান তিনি। ভিডিওগুলোতে মনোরম গ্রামীণ জীবনের দৃশ্য তুলে ধরে পুরুষদের খামারে আসার আমন্ত্রণ জানানো হতো, দেওয়া হতো আর্থিক সহায়তা ও বাসস্থানের প্রলোভন। এই ফাঁদে পা দিয়ে গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মারানহাও থেকে বেলো হরিজন্তের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। স্বপ্নের শহরে পৌঁছে হবু স্ত্রীর ছবি হাতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকেন এদিমার। কিন্তু কেউ ওই নারীকে চিনতে না পারায় বাধ্য হয়ে স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে যান তিনি। সেখানেই তাঁর মোহ ভাঙে এবং তিনি পুরো সত্যটি জানতে পারেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ঘটনার পর ওই ভুয়া অ্যাকাউন্টের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরো দায় এড়াতে সেই এআই চরিত্রের মাধ্যমেই একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, প্রোফাইলটি কেবল রিচ বাড়ানোর জন্য খোলা হয়েছিল এবং কাউকে সরাসরি আসতে বলা হয়নি। এদিকে পকেটের সব টাকা খুইয়ে অপরিচিত শহরে আটকে পড়া সর্বস্বান্ত এদিমারকে শেষমেশ উদ্ধার করেন স্থানীয় সমাজকর্মীরা। তাঁরাই তাঁকে খাবার ও শহর ছাড়ার বাসের টিকিট কিনে দেন। তবে অবাক করা তথ্য হলো, গত ছয় মাসের মধ্যে একই 'এআই সুন্দরী'র খোঁজে এসে ধোঁকা খেয়েছেন আরও দুজন ব্যক্তি। এত কিছুর পরও এদিমারের মনে প্রেমের আশা ফুরায়নি; তিনি জানিয়েছেন, সত্যিকারের রক্তমাংসের মানুষের খোঁজে একদিন আবারও এই শহরে ফিরে আসবেন তিনি।
সম্প্রতি সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে 'অনৈতিক' কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির (একজন নারী ও একজন পুরুষ) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় দেশের সরকার তাদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও, নিহত যুবকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় বলে নিশ্চিত করেছে তাঁর পরিবার। গত বুধবার সৌদি সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর ওই যুবকের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং আকস্মিক এই খবর শুনে তাঁর ফুফু স্ট্রোক করে মারা যান। নিহত যুবকের মা রহিমা বেগম জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্র তিন দিন আগেও ছেলের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল, কিন্তু এমন কোনো পরিণতির আভাস তিনি দেননি। বর্তমানে পরিবারটি শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখতে তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাচ্ছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় ২০২২ সালের নভেম্বরে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে গিয়েছিলেন আনুমানিক ২২ বছর বয়সী ওই যুবক। সেখানে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় ২০২৩ সালে তাঁকে পুলিশ আটক করে। জেলে থাকা অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হলেও, আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি পরিষ্কার করে বোঝাতে পারেননি। তবে তিনি জানিয়েছিলেন যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই নারীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আটকের পর স্থানীয় প্রশাসন বা দালাল—কারো কাছ থেকেই কোনো সাহায্য পায়নি দরিদ্র এই পরিবারটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি ওই জেলারই কি না, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। এই ঘটনার বিস্তারিত জানতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াকে তলব করে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের জানান, ২০২৩ সালে তাঁদের আটকের বিষয়টি সরকার অবগত ছিল এবং বর্তমানে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপির জন্য চিঠি দিয়ে অপেক্ষা করা হচ্ছে। সৌদি আরব থেকে নিয়মিত বন্দিদের তালিকা পাঠানো হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে যাওয়া প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তবে এই ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের চরম গাফিলতির দিকে আঙুল তুলেছেন যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. রায়হান রশীদ। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশে আটক যেকোনো নাগরিকের কনস্যুলার সুবিধা পাওয়া অধিকার। কিন্তু সরকার ও দূতাবাস আটকের খবর জানার পরও তিন বছর ধরে ওই দরিদ্র শ্রমিকদের কোনো আইনি সহায়তা দেয়নি বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। প্রবাসীদের প্রতি দূতাবাসের এই চরম অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার বিষয়টিই এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সূত্রঃ বিবিসি নিউজ বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের 'বিদেশি চুক্তিবদ্ধ দাস' বলে আখ্যা দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন টিসিএস, ইনফোসিস, কগনিজ্যান্ট ও মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। মূলত বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রথম ধাপ এই কর্মসূচি। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে ভ্যান্স মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি ‘দাস’ আমদানি বন্ধ করে আমেরিকান কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। তবে তাঁর এই অবমাননাকর মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সমালোচনার মুখে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নামেন জে ডি ভ্যান্স। ঢাল হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন নিজের ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী ও দক্ষিণ ভারত থেকে আসা শ্বশুর-শাশুড়িকে। বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, নিজের অভিবাসী শ্বশুরবাড়ি ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি চরম গর্বিত। ভ্যান্সের দাবি, বিদেশিদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আমেরিকান কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি ‘ভারসাম্য’ থাকা দরকার। কোনো কোম্পানি আমেরিকান কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি কর্মী আনলে তা কখনো ন্যায্য হতে পারে না। তবে ভ্যান্সের এই ‘ভারসাম্য’ তত্ত্ব কিংবা শ্বশুরবাড়ির আবেগি গল্পে মন গলেনি ভারতের। ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের 'দাস' বলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে 'অযৌক্তিক ও অত্যন্ত আপত্তিকর' বলে আখ্যা দিয়েছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা কোনো দাস নন; বরং তাঁরা উচ্চশিক্ষিত, অত্যন্ত দক্ষ এবং মার্কিন অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।
আমেরিকায় আগামী ট্যাক্স সিজনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাংলাদেশি করদাতাদের প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে, তাঁরা কোন ট্যাক্স বছরের রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। ২০২৭ সালে সাধারণত ২০২৬ সালের আয়ের রিটার্ন জমা দেওয়া হবে। আইআরএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সিঙ্গেল ফাইলারের জন্য ১৬ হাজার ১০০ ডলার এবং বিবাহিত দম্পতির যৌথ রিটার্নের ক্ষেত্রে ৩২ হাজার ২০০ ডলার। পুরোনো বছরের অঙ্ক ব্যবহার করলে হিসাব ভুল হতে পারে। আমেরিকায় থাকলেই সামান্য আয় থেকে সবার ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন বাধ্যতামূলক হয় না। আয়, বয়স, ফাইলিং স্ট্যাটাস, অন্যের ডিপেনডেন্ট কি না এবং করের হিসাবে রেসিডেন্ট বা ননরেসিডেন্ট হওয়ার ভিত্তিতে নিয়ম আলাদা হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালে ৬৫ বছরের কম বয়সী, অন্যের ডিপেনডেন্ট নন এমন সিঙ্গেল করদাতার সাধারণ ফাইলিং সীমা ছিল ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়ে কম আয়েও রিটার্ন জমা দিতে হয়। বিশেষ করে স্বনিযুক্ত কাজ বা ছোট ব্যবসা থেকে নিট আয় বছরে ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণভাবে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ফলে সাধারণ আয়ের সীমার নিচে থাকলেও ব্যবসা বা স্বাধীনভাবে কাজ করার আয় উপেক্ষা করা যাবে না। ননরেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। আইটিআইএন নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। এটি ফেডারেল ট্যাক্সের কাজে ব্যবহৃত শনাক্তকরণ নম্বর। আইটিআইএন পাওয়া মানে আমেরিকায় কাজ করার অনুমতি পাওয়া নয়, এটি অভিবাসন স্ট্যাটাসও পরিবর্তন করে না। কারও ট্যাক্স ফাইল করার দায়িত্ব এবং বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি দুটি পৃথক বিষয়। বাংলাদেশে আয় থাকলেও তা বিবেচনায় নিতে হবে। আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক ও করের হিসাবে রেসিডেন্টদের সাধারণভাবে বিশ্বব্যাপী আয় রিটার্নে দেখাতে হয়। বাংলাদেশের ব্যাংকের সুদ বা বাড়িভাড়া থেকে আয় থাকলে সেটি প্রযোজ্য নিয়মে রিপোর্ট করতে হতে পারে। বিদেশি আয় রিপোর্ট করা এবং বিদেশি অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দেওয়া পৃথক দায়িত্ব। বিদেশি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ফিনসেনের এফবিএআর নিয়ম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযোজ্য মার্কিন ব্যক্তির বিদেশি আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সম্মিলিত মূল্য ক্যালেন্ডার বছরের কোনো সময়ে ১০ হাজার ডলার ছাড়ালে এফবিএআর জমা দিতে হয়। সীমাটি শুধু একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জন্য নয়। একাধিক রিপোর্টযোগ্য অ্যাকাউন্টের মোট মূল্য বিবেচনায় নিতে হয়। এটি ফিনসেন ফর্ম ১১৪ দিয়ে আলাদাভাবে জমা দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশে নিজের নামে সরাসরি জমি বা ফ্ল্যাট থাকলেই সেই সম্পত্তি এফবিএআর কিংবা ফর্ম ৮৯৩৮ এ দেখাতে হবে, এমন নয়। সরাসরি মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশি আর্থিক অ্যাকাউন্ট এক বিষয় নয়। সম্পত্তি কোনো বিদেশি কোম্পানি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাখা হলে সেই প্রতিষ্ঠানে মালিকানার অংশের জন্য আলাদা রিপোর্টিংয়ের প্রশ্ন আসতে পারে। ফ্যাটকার আওতায় ফর্ম ৮৯৩৮ এর শর্তও এফবিএআর থেকে আলাদা। নির্দিষ্ট বিদেশি আর্থিক সম্পদের মূল্য, ফাইলিং স্ট্যাটাস ও করদাতা কোথায় বসবাস করেন, তার ওপর এই ফর্ম জমা দেওয়ার সীমা নির্ভর করে। একটি ফর্ম জমা দিলেই অন্যটির দায়িত্ব শেষ হয় না। আবার তথ্য রিপোর্ট করার প্রয়োজন মানেই একই অঙ্কের ওপর নতুন করে ট্যাক্স ধার্য হওয়া নয়। সন্তানসংক্রান্ত ট্যাক্স ক্রেডিটের ক্ষেত্রেও সঠিক বছরের নিয়ম দেখা জরুরি। আইআরএসের হিসাবে ২০২৫ সালে যোগ্য প্রতিটি শিশুর জন্য চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের সর্বোচ্চ অঙ্ক ছিল ২ হাজার ২০০ ডলার। ২০২৬ সালের জন্যও সর্বোচ্চ অঙ্ক ২ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারিত রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ ক্রেডিট মানেই সবাই সমপরিমাণ নগদ রিফান্ড পাবেন না। আয়, শিশুর যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের শর্ত পূরণ করতে হবে। আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিটের অঙ্কও সবার জন্য এক নয়। ২০২৬ সালে তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকা করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ক্রেডিট ৮ হাজার ২৩১ ডলার। ২০২৫ সালে এই সর্বোচ্চ অঙ্ক ছিল ৮ হাজার ৪৬ ডলার। আয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস, যোগ্য সন্তানের সংখ্যা ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের শর্ত অনুযায়ী প্রাপ্যতা নির্ধারিত হয়। রিটার্ন তৈরির আগে প্রযোজ্য আয়ের কাগজপত্র এবং ক্রেডিট বা ডিডাকশনের প্রমাণ সংগ্রহ করা প্রয়োজন। মার্কেটপ্লেস থেকে হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া থাকলে ফর্ম ১০৯৫ এ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিটের সঙ্গে আগাম পাওয়া সহায়তার হিসাব মিলিয়ে নিতে হয়। অভিবাসনসংক্রান্ত স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রেও তিন বছরের ট্যাক্স রিটার্ন সব সময় জমা দিতেই হবে, এমন সাধারণ নিয়ম নেই। ইউএসসিআইএসের ফর্ম আই ৮৬৪ এর নির্দেশনায় সর্বশেষ ট্যাক্স বছরের রিটার্ন বা ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা বোঝাতে প্রয়োজন অনুযায়ী আগের বছরের তথ্যও দেওয়া যায়। সবশেষে ট্যাক্স প্রিপেয়ারার বাছাইয়ের সময় যোগ্যতা ও পরিচয় যাচাই করা জরুরি। আইআরএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে রিটার্ন প্রস্তুতকারীকে রিটার্নে সই করতে এবং নিজের পিটিআইএন দিতে হয়। ফাঁকা রিটার্নে সই করা যাবে না। জমা দেওয়ার আগে আয়, দাবি করা খরচ, ক্রেডিট ও রিফান্ডের ব্যাংক তথ্য নিজে পড়ে দেখে রিটার্নের কপি সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি জটিল হলে সিপিএ বা এনরোলড এজেন্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় যোগ্য যাত্রীদের আর ই গেটের রিডারে পাসপোর্ট রাখতে হবে না। ক্যামেরায় তোলা মুখের ছবি দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটির বর্ডার ফোর্স। গত ৬ অক্টোবর ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দরে শুরু হওয়া এই সুবিধা পর্যায়ক্রমে মোট ১৩টি বিমানবন্দরে সম্প্রসারণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে শুধু ব্রিটিশ নাগরিকেরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বর্ডার ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রী ই গেটের সামনে গেলে ক্যামেরা তাঁর মুখের ছবি তুলবে। সেই ছবি আগে থেকে যাচাই করা অভিবাসন, ভ্রমণ ও পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই সফলভাবে শেষ হলে গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। তবে এই সুবিধা চালুর অর্থ পাসপোর্ট ছাড়া ভ্রমণের অনুমতি নয়। যাত্রীদের অবশ্যই বৈধ পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হবে। মুখের ছবি দিয়ে যাচাই সম্পন্ন না হলে বা বাড়তি পরীক্ষা প্রয়োজন হলে রিডারে পাসপোর্ট রাখতে বলা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তার কাছেও যেতে হবে। সরকারি তালিকায় ইস্ট মিডল্যান্ডসসহ মোট ১৩টি বিমানবন্দর রয়েছে। বাকি ১২টি হলো বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, কার্ডিফ, এডিনবরা, গ্যাটউইক, গ্লাসগো, হিথ্রো, লন্ডন সিটি, লুটন, ম্যানচেস্টার, নিউক্যাসল ও স্ট্যানস্টেড। অর্থাৎ একটি বিমানবন্দরে শুরু হওয়া ব্যবস্থা আরও ১২টিতে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ডার ফোর্স জানিয়েছে, ধাপে ধাপে প্রযুক্তিটি চালু করে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বিমানবন্দরগুলোর সব ই গেট হালনাগাদ করার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বর্তমানে ই গেট ব্যবহারের যোগ্য অন্য দেশের নাগরিকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। নতুন প্রযুক্তির কারণে ই গেট ব্যবহারের বিদ্যমান যোগ্যতা পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আমাডেউসও ১৯ অক্টোবর জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের ১৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের ব্যবস্থার মাধ্যমে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য চালুর পর পর্যায়ক্রমে যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ব্রিটিশ সরকারের দাবি, পরীক্ষায় নতুন ব্যবস্থাটি পাসপোর্ট রিডারে রেখে ই গেট ব্যবহারের তুলনায় সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ দ্রুত কাজ করেছে। তবে অভিবাসন ও নিরাপত্তার সব পরীক্ষা বহাল থাকবে। ই গেটগুলোও বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দিতে আবেদন আহ্বান করেছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান এবং ২০২৫ সালের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ যোগ্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। শুরু হবে ২৫ অক্টোবর, চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। বোর্ডের ৮ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন করতে হবে শুধু অনলাইনে। সরাসরি বা ডাকযোগে পাঠানো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অনলাইন পোর্টালে নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে। যেসব প্রবাসী কর্মী বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গেছেন অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ নিয়েছেন, তাঁদের সন্তানরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে পারবেন। একজন প্রবাসী কর্মীর সর্বোচ্চ দুই সন্তান শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। এসএসসি ও সমমান ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীকে ২০২৬ সালে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ বা সমমান শ্রেণি অথবা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত থাকতে হবে। এইচএসসি ও সমমান ক্যাটাগরিতে ২০২৫ সালে উত্তীর্ণ হয়ে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে পড়াশোনা করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৫ সালে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ ৫ থাকতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রয়োজন ন্যূনতম জিপিএ ৪ দশমিক ৭৫। তবে প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে উভয় বিভাগে ন্যূনতম জিপিএ ৪ নির্ধারণ করা হয়েছে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ন্যূনতম জিপিএ ৪ দশমিক ৮০ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য জিপিএ ৪ দশমিক ৫০ প্রয়োজন। প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে উভয় বিভাগে ন্যূনতম জিপিএ ৪ থাকলেই আবেদন করা যাবে। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরিতে সাধারণ আবেদনকারীর ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ৭৫ এবং প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানের ক্ষেত্রে জিপিএ ৩ হতে হবে। আবেদনের সঙ্গে পিতা বা মাতার প্রবাসী কর্মী হওয়ার প্রমাণ হিসেবে বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র অথবা বোর্ডের সদস্যপদের প্রমাণসহ পাসপোর্টের কপি আপলোড করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের মোবাইল নম্বরসহ অধ্যয়নরত থাকার প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের দেওয়া মৃত্যু সনদের কপি প্রয়োজন হবে। শিক্ষার্থীর ছবি, স্বাক্ষর এবং জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও আপলোড করতে হবে। শিক্ষার্থীর নিজের নামে কোনো তফসিলি ব্যাংকের হিসাব নম্বর ও ব্যাংক রাউটিং নম্বরসংবলিত স্টেটমেন্ট দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাব গ্রহণযোগ্য নয়। বৃত্তির মেয়াদ শিক্ষার স্তর অনুযায়ী আলাদা। এসএসসি ও সমমান ক্যাটাগরিতে একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দুই বছর এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার বছর বৃত্তি দেওয়া হবে। এইচএসসি ও সমমান ক্যাটাগরিতে ডিগ্রি পাস কোর্সের জন্য তিন বছর, স্নাতক সম্মানের জন্য চার বছর এবং এমবিবিএস, বিডিএস, ডিভিএম ও বি আর্কসহ অন্য প্রযোজ্য কোর্সে পাঁচ বছর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিপ্লোমা শেষে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে বৃত্তির মেয়াদ চার বছর। বোর্ড জানিয়েছে, প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টে থাকা নামের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সনদে উল্লিখিত পিতা বা মাতার নামের গরমিল থাকলে আবেদন বাতিল হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যসংবলিত আবেদনও গ্রহণযোগ্য হবে না। বৃত্তি দেওয়া হবে কর্তৃপক্ষের যাচাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ একটি মাসেও সব বিল পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেন না। কিছু বিল বকেয়া রাখতে হয় অথবা আংশিক অর্থ দিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে হয় তাঁদের। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই চিত্র। গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণে দুটি জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। একটি পরিচালিত হয় ২০ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট এবং অন্যটি ২৪ থেকে ৩০ আগস্ট। উভয় জরিপে অংশ নেওয়া ৫ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের উত্তর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মাসিক বিল পুরোপুরি পরিশোধ করতে না পারার হার ২০২০ সালের এপ্রিলে ছিল ২৪ শতাংশ। সর্বশেষ জরিপে তা ২৭ শতাংশ হলেও ২০২৫ সালের নভেম্বরেও একই হার ছিল। ফলে এই নির্দিষ্ট সূচক মহামারির শুরুর সময়ের তুলনায় বেশি থাকলেও গত নভেম্বরের তুলনায় বাড়েনি। জরিপে ৬০ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের কাঙ্ক্ষিত জীবনযাপন চালানোর মতো পর্যাপ্ত আয় তাঁদের নেই। অসুস্থতা, চাকরি হারানো বা অন্য জরুরি পরিস্থিতিতে তিন মাসের খরচ চালানোর মতো সঞ্চয় নেই ৫৩ শতাংশের। তবে এই দুটি প্রশ্নে যথাক্রমে পছন্দের জীবনযাপন এবং জরুরি সঞ্চয়ের সামর্থ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। আয়ভেদে সংকটের মাত্রায় বড় পার্থক্য রয়েছে। নিম্ন আয়ের প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৯ শতাংশ মাসের সব বিল মেটাতে পারেন না। মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে এই হার ২২ শতাংশ এবং উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যে ৭ শতাংশ। গত এক বছরে ৪৪ শতাংশ চিকিৎসা, দৈনন্দিন যাতায়াত বা বাসাভাড়া ও মর্টগেজের খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়েছেন, অথবা ফুড ব্যাংক থেকে খাবার সংগ্রহ করেছেন। ব্যয় সামলাতে রেস্তোরাঁয় খাওয়া, স্ট্রিমিং সেবা ও বিনোদনের মতো বাড়তি খরচ কমিয়েছেন ৭০ শতাংশ। ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করতে পারেননি ৫৪ শতাংশ। সূত্র: পিউ রিসার্চ সেন্টার
কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা কিংবা ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতেন নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধান করতেন তিনি। গত ১৫ অক্টোবর দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত হওয়ার পর তাঁর ঝুঁকিপূর্ণ সাংবাদিকতা ও আগে পাওয়া হুমকির বিষয়গুলো সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এবং আলিফের ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পেজের প্রকাশনা পর্যালোচনা করে এশিয়া পোস্ট জানিয়েছে, অপরাধচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে তিনি বিভিন্ন ছদ্মবেশ নিতেন। সংগৃহীত তথ্যের পাশাপাশি অপরাধসংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ করতেন। আলিফের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ডিটপুর গ্রামে। তিনি মোহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। সাবেক এই সেনাসদস্য অবসরের পর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ‘গোয়েন্দা তথ্য’ ও আইপি টেলিভিশন রূপসী বাংলার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অনুসন্ধানের বড় অংশজুড়ে ছিল সীমান্তের মাদক ও গরু চোরাচালান। এসব বিষয়ে তথ্য প্রকাশের কারণে তিনি হুমকি পেয়েছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরিবারের ধারণা, অপরাধচক্র নিয়ে তাঁর কাজের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য হিসেবে এই অভিযোগ এখনো তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এর আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীতে সংবাদ সংগ্রহের সময় তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ঢাকায় দীর্ঘ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি। গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় একটি দোকানের সামনে তাঁকে গুলি করা হয়। পুলিশ ও পরিবারের তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলটি তাঁর বসবাসের বাড়ির কাছে। মরদেহে ছয়টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা অজ্ঞাত আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন। পরে হত্যায় জড়িত সন্দেহে অপূর্ব নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল এবং কেন আলিফকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, তা তদন্তের বিষয়। সূত্র: যুগান্তর
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মান্ডেলিনে একটি বাড়িতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ওয়েলিংটন অ্যাভিনিউয়ের ২০০ ব্লকের ওই বাড়ি থেকে তদন্তকারীদের অন্তত তিনটি মরদেহ সরিয়ে নিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এবিসি সেভেন শিকাগো। তবে মৃত্যুর কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। শিকাগোর উত্তরের এই উপশহরের বাড়িটিতে পুলিশ সদস্যদের প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত দৃশ্যে বাড়ির চারপাশে হলুদ টেপ দিয়ে এলাকা ঘিরে রাখতে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি অবস্থান করতে দেখা গেছে। মান্ডেলিন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নেই। পুলিশের বক্তব্যের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তদন্তে মান্ডেলিন পুলিশকে সহায়তা করছে লেক কাউন্টি শেরিফস অফিস। আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজে লেক কাউন্টি মেজর ক্রাইমস টাস্কফোর্সের বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত রয়েছেন। কী পরিস্থিতিতে এসব মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তখনো বিস্তারিত জানায়নি। ফলে ঘটনাটিকে হত্যা, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ধরনের ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিশ্বজুড়ে বছরের প্রথম নয় মাসে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গতি ফিরছে না। ফেডারেল ট্যাক্স ক্রেডিট বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি গাড়ির বেশি দাম ও চার্জিং সুবিধার সীমাবদ্ধতা ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে রয়েছে। ফোর্বসের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের এই চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক মিনারেল ইন্টেলিজেন্সের তথ্য উদ্ধৃত করে ফোর্বস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বে প্লাগ ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৩ শতাংশ বেশি। মোট বিক্রির অর্ধেকের বেশি হয়েছে চীনে। তবে বছরের সম্মিলিত প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সেপ্টেম্বরের চিত্র আলাদা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মাসে বৈশ্বিক বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কমেছে। ইউরোপে রেকর্ড বিক্রি হলেও উত্তর আমেরিকা ও চীনের পতন তা পুষিয়ে দিতে পারেনি। সেপ্টেম্বরে উত্তর আমেরিকায় বিক্রি কমেছে ৪৪ শতাংশ। এই তুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ট্যাক্স ক্রেডিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অনেক ক্রেতা গাড়ি কেনেন। ফলে ওই মাসের তুলনামূলক উঁচু বিক্রির বিপরীতে চলতি বছরের পতন বড় দেখাচ্ছে। ইউরোপে একই মাসে প্রায় ছয় লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে। আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কেনা বা অধিগ্রহণ করা গাড়ির জন্য নতুন, ব্যবহৃত ও যোগ্য বাণিজ্যিক ক্লিন ভেহিকল ট্যাক্স ক্রেডিট আর প্রযোজ্য নয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাড়ি অধিগ্রহণ করে পরে ব্যবহার শুরু করার ক্ষেত্রে অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আর্থিক সহায়তা হারানো যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির দুর্বলতার একটি কারণ। তবে চীন ও ইউরোপের বাজারের তুলনায় বেশি ক্রয়মূল্য এবং পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামোর অভাব আরও বড় বাধা। তাই শুধু ট্যাক্স ক্রেডিটের পরিবর্তন দিয়ে মার্কিন বাজারের পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।
নিউইয়র্কের রাজনীতি, নীতিনির্ধারণ ও জনপরিসরে কাজ করা উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন জেমি কাজী। গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত সিটি অ্যান্ড স্টেট নিউইয়র্কের ‘২০২৬ এনওয়াইসি ফর্টি আন্ডার ফর্টি’ তালিকায় তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কুইন্সে বেড়ে ওঠা কাজী বর্তমানে শ্রমিক সংগঠন থার্টি টু বিজে এসইআইইউর স্টেট অ্যান্ড ফেডারেল পলিটিক্যাল কোঅর্ডিনেটর। সংগঠনটির নির্বাচনী প্রার্থী সমর্থন ও রাজনৈতিক কৌশল তদারক করেন তিনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভবন রক্ষণাবেক্ষণকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে সংগঠনটি। সিটি অ্যান্ড স্টেটের প্রকাশিত পরিচিতিতে বলা হয়েছে, অভিবাসী কমিউনিটির সংগঠিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটির দাবি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে গুরুত্ব দেন তিনি। শ্রমিক সংগঠনে যোগ দেওয়ার আগে কাজী নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামসের প্রথম মেয়াদে এবং স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য ডেভিড ওয়েপ্রিন ও ক্যাটালিনা ক্রুজের দপ্তরে কাজ করেছেন। ক্রুজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং আইন ও বাজেটবিষয়ক পরিচালক হিসেবে ক্লিন স্লেট অ্যাক্ট ও ওয়েজ থেফট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট এগিয়ে নিতে জোট গঠনে ভূমিকা রাখেন। কুইন্সের অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর ডেমোক্র্যাটিক স্টেট কমিটির নির্বাচিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন কাজী। তাঁর কাজের মূল ভাবনা হলো, কমিউনিটির সম্মিলিত কণ্ঠকে আইন ও নীতির মাধ্যমে মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তনে রূপ দেওয়া। সূত্র: সিটি অ্যান্ড স্টেট