- প্রচ্ছদ
- কমিউনিটি
কমিউনিটি
যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে এককালীন ৯০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রবীণদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি 'মেডিকেয়ার'-এর মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা লাঘব করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই অর্থায়নের জন্য কংগ্রেস মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ডে ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। আসন্ন নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রিপাবলিকান নেতার দেওয়া ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির সর্বশেষ সংযোজন হলো এই ৯০ ডলারের অনুদান। বর্তমানে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রেটিং বেশ নিম্নমুখী। হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যমতে, যোগ্য প্রবীণরা অক্টোবরের শুরুতেই এই ৯০ ডলার সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) পেয়ে যাবেন। যাদের ডাইরেক্ট ডিপোজিট সুবিধা নেই, তাদের মেডিকেয়ারে নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে চেক পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে গত মাসে ট্রাম্প প্রস্তাব করেছিলেন, রিপাবলিকান দল মিডটার্ম নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে চেক পাঠাবেন। যদিও অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের পাশাপাশি স্বয়ং কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তাঁর ওই বিশাল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর অধীনে অতিরিক্ত ফি দেওয়া প্রায় ১০ লাখ মার্কিনিকে আলাদাভাবে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক প্রবীণের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নগদ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক আবু সালেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জর্জিয়ার আটলান্টার বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী সালেহকে বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ক্রসভিলের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লট থেকে আটক করেন তদন্তকারীরা। কারাগারের নথিতে তাঁর নাগরিকত্ব বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী এর আগে দুই দফায় মোট ৫১ হাজার ডলার তুলে দিয়েছিলেন। পরে আরও ১৪ হাজার ডলার সংগ্রহের জন্য আসা ব্যক্তিকে ধরতে অভিযান সাজান তদন্তকারীরা। সালেহ ওই অর্থ রয়েছে মনে করে একটি সাজানো নগদ প্যাকেট সংগ্রহ করার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ফাঁস হয়েছে, কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে এবং তাঁর ব্যাংকের একজন কর্মী হ্যাকারদের সহায়তা করছেন। এরপর নতুন ল্যাপটপ কিনে সেটিতে দূর থেকে প্রবেশের অনুমতি দিতে এবং অর্থ নিরাপদে রাখার নামে নগদ টাকা একজন কুরিয়ারের হাতে তুলে দিতে বলা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউভিএলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত শুরু করে শেরিফের কার্যালয়। অভিযানে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সাইবারক্রাইম ইউনিটও সহায়তা করে। সালেহর বিরুদ্ধে ১০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তি চুরি, একই ধরনের চুরির চেষ্টা এবং প্রবীণ ব্যক্তির আর্থিক শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। জর্জিয়ায় একই ধরনের অর্থ সংগ্রহের অভিযোগসংক্রান্ত একটি গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁর মোট বন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। কারাগারের নথিতে ১ অক্টোবর তাঁর নামে আইসিই হোল্ড যুক্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি জেনারেল সেশনস কোর্টে তাঁর হাজির হওয়ার কথা। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এস ইসলাম। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক বার্তায় তাদের সদস্য ইসলামের পদোন্নতির খবর জানিয়েছে। এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটিও তাঁকে নতুন পদে অভিনন্দন জানিয়েছে। মোহাম্মদ এস ইসলাম বর্তমানে ব্রুকলিনে এনওয়াইপিডির ৬২তম প্রিসিঙ্কটের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিঙ্কটের আওতায় রয়েছে বেনসনহার্স্ট, ম্যাপলটন ও বাথ বিচ এলাকা। এনওয়াইপিডির প্রিসিঙ্কট পরিচিতি পাতায়ও তাঁকে কমান্ডিং অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাপার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনওয়াইপিডিতে তাঁর কর্মজীবন ১৮ বছরের। এই সময়ে তিনি হাউজিং, প্যাট্রল ও ডিটেকটিভ ব্যুরোসহ বিভাগের বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন। পদোন্নতিকে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে তুলে ধরে ইসলাম ও তাঁর পরিবারকে অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনটি। এনওয়াইপিডির ওয়েবসাইটে শুক্রবার পর্যন্ত ইসলামের নামের পাশে আগের পদবি ‘ক্যাপ্টেন’ লেখা ছিল। তবে তাঁর ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতির কথা জানিয়েছে বাপা ও এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটি। পদোন্নতি কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ সংগঠনগুলোর পাওয়া ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। শরীয়তপুরের এই সন্তান ২৮ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি পান। তখন তিনি এনওয়াইপিডির ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন হুমায়ুন কবির। ২০০৫ সালে পুলিশ ক্যাডেট হিসেবে এনওয়াইপিডিতে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ম্যানহাটনের বারুক কলেজ থেকে ২০০৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি পুলিশ অফিসার হন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটন ট্রানজিট পুলিশে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হুমায়ুন। ওই সময়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা তিনবার তিনি ‘অফিসার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। পরে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এনওয়াইপিডির ১১৩ প্রিসিঙ্কটের ডিটেকটিভ স্কোয়াডে কাজ করেন। সার্জেন্ট পদে পদোন্নতির পর সপ্তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর যোগ দেন এনওয়াইপিডির ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি ডিভিশনে। ২০২২ সালে সার্জেন্ট এরশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের নিরাপত্তা বিভাগে যোগ দেন হুমায়ুন। ওই বিভাগে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম দুই বাংলাদেশি কর্মকর্তা ছিলেন তাঁরা। ২০২৪ সালে ডিটেকটিভ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পান হুমায়ুন। পুলিশে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হুমায়ুন কবিরের পদোন্নতিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাপার সভাপতি একেএম প্রিন্স আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামিল সরোয়ার। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রী তানজিলা খান, ছেলে তাসিন কবির ও মেয়ে তাসমিয়া কবিরকে নিয়ে তিনি লং আইল্যান্ডে বসবাস করেন।
জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জর্জিয়ার বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান। মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন তার বাবা-মা। নাওয়ারের মায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন পোস্টের পর জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তাকে ও তার পরিবারকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। নাওয়ারের মা তার পোস্টে জানান, গত সপ্তাহে মেয়ে তাদের জানায় যে সে জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর এই সপ্তাহে পরিবারের সদস্যরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে দেখেন। এর মধ্য দিয়ে আইনজীবী হিসেবে নাওয়ারের পেশাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। মেয়ের এই অর্জনকে পরিবারের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তার মা বলেন, আইনজীবী হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে নাওয়ারকে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। দীর্ঘ সেই পথ পেরিয়ে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে শপথ নিতে দেখা বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। পোস্টে তিনি আরও জানান, মেয়ের আইন পড়া এবং একদিন আইনজীবী হয়ে ওঠা ছিল বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। তবে নাওয়ার সেই স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নে পরিণত করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। মেয়ের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি নাওয়ারের জীবনের আরও অনেক অর্জনের কেবল শুরু। নাওয়ারের বাবা নাহিদুল হক খান সাহেল জর্জিয়া তথা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ এবং তিনি জর্জিয়া স্টেট বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক। রাজনৈতিক ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত নাহিদুল হক খান সাহেল। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম পরিচিত সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার সঙ্গেও তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০২৫ সালে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানার ৩৯তম সম্মেলনের কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাহিদুল হক খান সাহেল। নাওয়ারের সাফল্যের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বিভিন্ন মন্তব্যে নাওয়ারের ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি তার বাবা-মাকেও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। একজন বাংলাদেশি আমেরিকান তরুণীর আইন পেশায় প্রবেশের এই অর্জনকে অনেকেই নতুন প্রজন্মের জন্য আনন্দ ও গর্বের একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাওয়ার খান এখন আইন পেশায় তার নতুন যাত্রা শুরু করলেন। পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের এই মুহূর্তে নাওয়ারের সাফল্যে আনন্দিত তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জর্জিয়ার বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির শুভকামনাও।
বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে এনওয়াইপিডি (NYPD) ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করায় পিটিইএ-টু (PTEAII) মোহাম্মদ আল মোর্শেদকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শুধু কোর্স সম্পন্ন করাই নয়, অসাধারণ মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে তিনি তার ব্যাচের 'ক্লাস ভ্যালেডিক্টোরিয়ান' বা শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। পুরো ব্যাচের মধ্যে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া একটি অত্যন্ত বিরল ও উল্লেখযোগ্য অর্জন। এটি মূলধারার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে তার অসামান্য নিষ্ঠা, কঠোর শৃঙ্খলা, একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং পেশার প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। বাপার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অসাধারণ সাফল্য প্রমাণ করে যে পুরো প্রশিক্ষণ চলাকালীন আল মোর্শেদ কতটা কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন। তার এই অনন্য অর্জন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে ২০২১ সালে সরিয়ে নেওয়া ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামের সম্মানসূচক সড়ক নামফলক পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মেরিল্যান্ড বিএনপি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি আবারও উপস্থাপন করা হবে। ২০২১ সালের ২০ জুন বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ লেখা একটি সম্মানসূচক সড়ক নামফলক উন্মোচন করা হয়েছিল। ওই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি করেছেন মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কয়েক শ বাংলাদেশি-আমেরিকান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ড স্টেট ডেলিগেট রবিন টি. লুইস নামফলকটি উন্মোচন করেন। স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এতে অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি এ উদ্যোগের জন্য বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ ও মোহাম্মদ কাজলকে ধন্যবাদ জানান। তবে নামফলক উন্মোচনের কয়েক মাসের মধ্যেই এর নামকরণ নিয়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসহ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে নামটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। আপত্তিকারীদের বক্তব্য ছিল, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের একজন সামরিক শাসক ছিলেন এবং তাঁর ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া নিয়ে গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ সম্মানসূচক নামফলকটি সরিয়ে নেয়। অন্যদিকে, মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতারা নামফলক অপসারণের উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে নামটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নামফলক অপসারণের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের প্রত্যেকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সমসাময়িক প্রতিবেদনে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানানো এবং নামফলক সরানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নতুন করে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাজা মোহাম্মদ কাজল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান তারা। অর্থাৎ নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে মেরিল্যান্ড বিএনপির। তবে সড়কটির সম্মানসূচক নাম পুনরায় স্থাপন করা হবে কি না, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য আইন, নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের ওপর। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার এককভাবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।
নিউইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডের সাউথ শোর এলাকায় নতুন একটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার চালু হয়েছে। মুসলিমদের নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে নতুন এই কেন্দ্র। শনিবার হুগেনটন অ্যাভিনিউয়ের নতুন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আয়োজন করে মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি (এমএএস)। অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন অংশ নেন। স্টেটেন আইল্যান্ডে এটি সংগঠনটির দ্বিতীয় কেন্দ্র। সাবেক নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির একটি ভবন সংস্কার করে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারটি তৈরি করা হয়েছে। ভবনটি হুগেনটন স্টেশন থেকে খুব কাছেই অবস্থিত। মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির রাজনৈতিক ও জনসংযোগবিষয়ক পরিচালক আবদুল্লাহ আকল বলেন, সাউথ শোর এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এতদিন স্থানীয় অনেক মুসল্লিকে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রমে অংশ নিতে ডংগান হিলস এলাকার মসজিদে যেতে হতো। হুগেনটন এলাকার অনেক বাসিন্দাকে সেখানে যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট গাড়ি চালাতে হতো। এমএএস একটি জাতীয় সংগঠন, যার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫০টির বেশি শাখা রয়েছে। নিউইয়র্ক শাখার অধীনে বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাতটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। স্টেটেন আইল্যান্ডে সংগঠনটির প্রথম কেন্দ্রটি বার্গার অ্যাভিনিউয়ে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ওই কেন্দ্রটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি সেখানে নির্মাণকাজ হয়েছে এবং আগামী মাসে কেন্দ্রটির পুনরায় উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আকল। নতুন হুগেনটন কেন্দ্রটি শুধু মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। স্থানীয় সব ধর্মের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম উন্মুক্ত থাকবে। কেন্দ্রটিতে কারাতে ও ফুটবল প্রশিক্ষণ, সপ্তাহের মাঝামাঝি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সাপ্তাহিক খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। আকল বলেন, নতুন কেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্য শুধু মসজিদ পরিচালনা করা নয়। মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এখানকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির হুগেনটন শাখার সঙ্গেও নতুন কেন্দ্রটির সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় শিশুদের পড়াশোনা ও বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে সাক্ষরতা ও পাঠাভ্যাসভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। ভবনটি আগে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শাখা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নতুন জায়গায় লাইব্রেরি স্থানান্তরের সময় কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় এমএএস কর্তৃপক্ষ তাদের আগের ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কয়েক সপ্তাহ আগে লাইব্রেরিটি নতুন স্থানে চলে যাওয়ার পর ভবনটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের কাজ শেষ করা হয়। আকল জানান, লাইব্রেরির নতুন জায়গায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে তাদের পুরোনো ভবনে লাইব্রেরির সেবা চালু রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিল এমএএস। নতুন কেন্দ্রটির সরকারি ধারণক্ষমতা ৩০০ জন। শুরুতে সেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ জন মুসল্লি ও অংশগ্রহণকারীকে সেবা দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রায় এক বছর আগে ভবনটি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর প্রায় দুই মাসের সংস্কারকাজে লাইব্রেরির তাক সরানো, ভবন পরিষ্কার করা এবং নামাজের জন্য কার্পেট বসানোসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শৌচাগার ও ভবনের অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রটি সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকবে। শুক্রবার দুপুরের জুমার নামাজ হবে সাপ্তাহিক প্রধান ধর্মীয় আয়োজন। এছাড়া মুসলিমদের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ব্যবস্থাও থাকবে। আকলের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেটেন আইল্যান্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুরোনো কমিউনিটি কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি মানুষের চাহিদা সামাল দিতে হচ্ছে। এমনকি সংগঠনটির পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতেও প্রতি সপ্তাহে খাবার শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি। এমএএস স্টেটেন আইল্যান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও শিশু, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, ক্রীড়া ও সামাজিক কার্যক্রমের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি আগে থেকেই স্থানীয় মুসলিম ও বৃহত্তর কমিউনিটির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। নতুন কেন্দ্র চালুর উদ্যোগটি স্টেটেন আইল্যান্ডে এমএএসের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। সংগঠনটির আগের কেন্দ্রটি জায়গার সংকটে একাধিক জুমার জামাত, বিভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক স্কুল এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে বলে তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: স্টেটেন আইল্যান্ড অ্যাডভান্স/সিলাইভ, মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি স্টেটেন আইল্যান্ড
নিউইয়র্ক সিটিতে গত তিন মাসে তিনজন ইয়েলো ক্যাবচালককে নিজ নিজ ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ভিলেজে ৫৩ বছর বয়সী ক্যাবচালক জগজিৎ সিংয়ের মৃত্যুর পর চালকদের স্বাস্থ্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জগজিৎ সিং প্রায় ২০ বছর ধরে নিউইয়র্কে ক্যাব চালাতেন। ১১ সেপ্টেম্বর যাত্রী নামিয়ে ওয়েস্ট ভিলেজের সেভেনথ অ্যাভিনিউ সাউথ ও চার্লস স্ট্রিটের কাছে তার ট্যাক্সি থামানোর পর দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে বন্ধুরা গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে ট্যাক্সির ভেতরে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান এবং ৯১১-এ ফোন করেন। জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে অপরাধমূলক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের বিষয়টি অফিস অব চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্তের আওতায় ছিল। সহকর্মীদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হৃদ্যন্ত্রজনিত সমস্যার কথা বলা হলেও সেটিকে এখনো সরকারি চূড়ান্ত কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। সিং স্ত্রী ও ১০ বছর বয়সী যমজ সন্তান রেখে গেছেন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ৫৩ বছর বয়সী খলিফা এইচ. সিওয়াকে ম্যানহাটনের হেনরি হাডসন পার্কওয়ের কাছে তার ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি তানজানিয়ার নাগরিক ছিলেন। পরিচিতজনদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনাতেও মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত হয়েছিল, তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তার মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। এই ধারাবাহিকতার প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২ জুলাই। ৭৩ বছর বয়সী রিচার্ড কুলিবালিকে হারলেমের ফ্রেডেরিক ডগলাস বুলেভার্ডে পার্ক করা তার ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি আইভরি কোস্টের অভিবাসী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ক্যাব চালিয়েছেন। তার মৃত্যুর সময় শহরে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল। তবে গরমের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি নিশ্চিত করার মতো তথ্য নেই। পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল এক্সামিনার তার মৃত্যুকে ন্যাচারাল কজ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। পরপর তিনজন ক্যাবচালকের মৃত্যুতে নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স চালকদের কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, নিউইয়র্কের অনেক ক্যাবচালক দীর্ঘ সময় কাজ করেন এবং আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। সংগঠনটি চালকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানোর দাবি তুলেছে। তবে তিনটি মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে এমন প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। তিনজনের মৃত্যুর পরিস্থিতিও এক নয় এবং তাদের জাতীয় পরিচয়ও ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনজনের কেউই বাংলাদেশি ছিলেন না। একজন ছিলেন আইভরি কোস্টের, একজন তানজানিয়ার এবং জগজিৎ সিং ছিলেন ভারত থেকে আসা একজন অভিবাসী। নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী চালক ট্যাক্সি ও পরিবহন খাতে কাজ করেন। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো চালকদের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রতিটি মৃত্যুর কারণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আপাতত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনাকে একই কারণের মৃত্যু বা কোনো অপরাধমূলক ঘটনার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
নিউইয়র্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হলেও দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে আরও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি। কোথাও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি, কোথাও মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষা, আবার কোথাও ব্যবসা ও পেশাজীবী নেটওয়ার্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমন পরিবেশ, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের ভাষা, খাবার, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন অনেকটাই ধরে রাখতে পারছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণে নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টনের মতো মেট্রোপলিটন এলাকার নাম এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের তথ্যভিত্তিক ওই তালিকায় আটলান্টিক সিটিও ছিল শীর্ষ ১০-এর মধ্যে। এখানে ‘ছোট বাংলাদেশ’ কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নাম নয়। এটি এমন এলাকাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, গ্রোসারি, মসজিদ, সামাজিক সংগঠন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সেবা মিলিয়ে একটি দৃশ্যমান কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান: নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির কথা উঠলে মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিশেষ করে হ্যামট্রাম্যাকের কন্যান্ট অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ডেট্রয়েটের পর্যটন সংস্থা ভিজিট ডেট্রয়েটের তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাক ও উত্তর ডেট্রয়েট এলাকায় আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন বলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মেট্রো ডেট্রয়েটের হিসাব। এলাকাটিতে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি গ্রোসারি ও হালাল খাবারের দোকানও রয়েছে। হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধর্মীয় অবকাঠামোরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরে মাদ্রাসা বা ইসলামিক স্কুলের কার্যক্রমও চালু করা হয়। কন্যান্ট স্ট্রিটে ফ্যামিলি বাজার, মেঘনা বাজার, মারহাবা বাজার ও হেরা ফিশ মার্কেটের মতো দোকানে বাংলাদেশি গ্রোসারি, মসলা, সবজি, হালাল মাংস ও মাছ পাওয়া যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া: লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ সম্ভবত নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা চার ব্লকের এই এলাকাটি ২০১০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। এলাকায় রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, আবাসিক এলাকা ও বাংলাদেশি কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। লিটল বাংলাদেশের রাস্তায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি গ্রোসারি, বিউটি সেলুন, মোবাইলের দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা দেখা যায়। বাংলা ভাষার কথাবার্তা, দেশি খাবারের গন্ধ এবং বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করা দোকান এলাকাটিকে অন্য অনেক আমেরিকান এলাকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। থার্ড স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্য পাওয়া যায়। কিছু ব্যবসায় একই সঙ্গে গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটন মেট্রো, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড: ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির আরেকটি বড় কেন্দ্র। এই কমিউনিটি শুধু ডিসি শহরে সীমাবদ্ধ নয়; নর্দার্ন ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে আছে। পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক বাংলাদেশি জনসংখ্যা বিশ্লেষণে নিউইয়র্ক ও ডেট্রয়েটের পর ওয়াশিংটন মেট্রোকে বড় বাংলাদেশি কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার এবং এর ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পেশাজীবীদের শক্ত উপস্থিতি। সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, মসজিদ ও কমিউনিটি সংগঠনও রয়েছে। ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া: পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের বিশ্লেষণে ফিলাডেলফিয়া মেট্রোতে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশির বসবাসের হিসাব পাওয়া যায়। শহর ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, হালাল খাবারের ব্যবসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এই কমিউনিটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আটলান্টা, জর্জিয়া: দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র আটলান্টা মেট্রো। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস এবং বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে আটলান্টা এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারির বিস্তৃত তালিকা পাওয়া যায়। স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসা ডিরেক্টরিতে রুচি বাংলাদেশি কুইজিন, দেশি স্ট্রিট ফুড, আলিফ ক্যাফে, আল-আমিনসহ একাধিক বাংলাদেশি খাবারের ব্যবসা এবং একাধিক গ্রোসারি ও হালাল মাংসের দোকানের তালিকা রয়েছে। ডোরাভিলের আল-আমিনের ও জমজমের মতো কিছু ব্যবসায় একই ছাদের নিচে বাংলাদেশি খাবার, গ্রোসারি ও হালাল মাংসের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একজন বাংলাদেশি পরিবারের জন্য রেস্টুরেন্টে খাওয়া এবং দেশি বাজার করা দুটোই একই জায়গায় সম্ভব। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস: টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায়ও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মেট্রো বিশ্লেষণে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল। এই অঞ্চলের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি খাবার ও গ্রোসারি ব্যবসাও তৈরি হয়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের পাশাপাশি টেক্সাসের হিউস্টনেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। হিউস্টন, টেক্সাস: হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। রুপশি বাংলা গ্রোসারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নিজেদের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং মিলনস্থল হিসেবে পরিচয় দেয়। হাইওয়ে ৬ এলাকার এই ব্যবসায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে হিউস্টন মেট্রোতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল। মিয়ামি, ফ্লোরিডা: দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চের একই মেট্রো বিশ্লেষণে মিয়ামিতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির হিসাব পাওয়া যায়। এখানে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, হালাল খাবার, গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে দূরত্বের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগ ধরে রাখছেন অনেকে। বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস: নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র বোস্টন। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে বোস্টন মেট্রোতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল। তবে জনসংখ্যার সংখ্যা দিয়ে কমিউনিটির সাংগঠনিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বোস্টনে কয়েক দশকের বাংলাদেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ডও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি: নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় আটলান্টিক সিটিতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল। এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাসজিদ আল-হেরা নিজেদেরকে আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রথম মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করে এবং সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি শিশুদের ইসলামিক স্কুল ও প্রাপ্তবয়স্কদের কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটি শুধু জনসংখ্যার হিসাব নয়: যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি নিয়ে কথা বলার সময় শুধু কতজন বাংলাদেশি কোথায় থাকেন, সেই সংখ্যা দিয়ে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। একটি কমিউনিটি কতটা প্রতিষ্ঠিত, সেটি বোঝার জন্য সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসা, গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী নেটওয়ার্ক কতটা গড়ে উঠেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। একই বিশ্লেষণে মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিকে বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকাভিত্তিক তথ্য দেখায়, নিউইয়র্কের বাইরেও ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, বোস্টন ও আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশিদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। এই এলাকাগুলোর কোথাও হয়তো নিউইয়র্কের মতো বিশাল বাংলাদেশি জনসংখ্যা নেই। কিন্তু দেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট, বাংলাদেশি বাজার, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক অনুষ্ঠান আর বাংলায় আড্ডার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রবাসী জীবনে এসব জায়গা নিজেদের মতো করে একেকটি ‘ছোট বাংলাদেশ’-এর রূপ নিয়েছে। নিউইয়র্ক তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি জীবনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও, বাংলাদেশি আমেরিকানদের গল্প এখন আর একটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে হাজার হাজার মাইল দূরে, আমেরিকার নানা প্রান্তে তৈরি হয়েছে এমন কিছু কমিউনিটি, যেখানে একটি রেস্টুরেন্টের টেবিলে বসে দেশি খাবার খাওয়া, পাশের দোকান থেকে বাংলাদেশের মাছ-মসলা কেনা এবং পরিচিত মানুষের সঙ্গে বাংলায় কয়েক ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া এখন প্রবাসী জীবনেরই স্বাভাবিক অংশ।
উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর ফেডারেশন ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। এতে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান এবং ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব নির্বাচিত হয়েছেন। রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে ফোবানার বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে নতুন কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফোবানার ৪০তম সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক বছরের জন্য ২০২৬–২৭ মেয়াদের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব রেজা রহিমের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোবানার নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেন অ্যাটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর ও ডিউক খান। নির্বাচনে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান, আবীর আলমগীর ভাইস চেয়ারম্যান, ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব, অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি এবং নাহিদা নাসের ইয়াসমিন ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন। ফোবানার নতুন নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এম. রহমান জহির ফ্লোরিডার, ভাইস চেয়ারম্যান আবীর আলমগীর নিউইয়র্কের, নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার ও জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ ভার্জিনিয়ার এবং ট্রেজারার নাহিদা নাসের ইয়াসমিন হিউস্টন, টেক্সাসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। নতুন কমিটির পাশাপাশি নয়জনকে আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন রবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদীন, মো. ইকবাল, শামসুদ্দোহা সাগর, মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর ভূঁইয়া, মকবুল এম. আলী, বাবুল হাই এবং ড. আব্দুস সাত্তার। তারা পেনসেলভেনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, ইলিনয়, ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ ছাড়া ফোবানার সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্য থেকে ১৭ জনকে এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার কানসাস সিটির রেহান রেজা এবং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির আবু রুমি রয়েছেন। এ তালিকায় আরও রয়েছেন ভার্জিনিয়ার বিএআইটিপিওর শামসুদ্দিন মাহমুদ, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি ডিএমভির আক্তার হোসাইন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার শফিকুল ইসলাম জুয়েল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের হাশমত মবিন, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ মেলা ইনকের তৌফিক সুলেমান খান তুহিন এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নুরুল আমিন। এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের দিলশাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন হিউস্টনের আজমল খান, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি হিউস্টনের নাদিম ভূঁইয়া, ভার্জিনিয়ার সুন্দরবনের করিম সালাউদ্দিন, বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সায়েদুল হক এবং জর্জিয়ার বেঙ্গলি বয়েজ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের রাসেল ভূঁইয়াও এক্সিকিউটিভ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। ফোবানার অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ মেয়াদে রবিউল করিম বেলাল চেয়ারম্যান এবং এম. রহমান জহির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জহির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসছেন এবং সংগঠনটির নেতৃত্বে নতুন এক বছরের মেয়াদ শুরু হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনটি ফোবানার ৪০তম কনভেনশন গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন নির্বাহী কমিটি আগামী এক বছর ফোবানার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংগঠনটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রয়েছে
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পদে নির্ধারিত মনোনয়ন ফি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। সভাপতি পদে প্রার্থী হতে ৬ হাজার ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলার দিতে হবে। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও মনোনয়ন ফি ৫ হাজার ডলার। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এবারের নির্বাচন। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন ফি ৪ হাজার ৫০০ ডলার, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ৩ হাজার ৫০০, ট্রেজারার ৩ হাজার এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি পদে ২ হাজার ৫০০ ডলার। এছাড়া একাধিক সম্পাদকীয় পদে ফি ২ হাজার ডলার এবং ছয়টি এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদের প্রত্যেকটির জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ফি নগদে জমা দিতে হবে এবং অর্থ গ্রহণের পর প্রার্থীকে অফিসিয়াল রসিদ দেওয়া হবে। কমিশন ও নির্বাহী কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে এসব মনোনয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কমিশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। বাংলাদেশ সোসাইটি নিজেদের পরিচিতিতে সংগঠনটিকে নন-পলিটিক্যাল, নন-প্রফিট ও নন-রিলিজিয়াস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির ২০২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ প্রকাশ্য ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ওই বছর সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারারের কমপেনসেশন শূন্য ডলার দেখানো হয়েছে। একই ফাইলিংয়ে সংগঠনটির মোট আয় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬০৭ ডলার এবং ব্যয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫ ডলার দেখানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মনোনয়ন ফি এর পরিমাণ নিয়ে কমিউনিটিতে মূল আলোচনা হচ্ছে, নন-প্রফিট সংগঠনের নির্বাচিত নেতৃত্বের পদগুলো বেতনভুক্ত না হলে প্রার্থী হতে এত বেশি অর্থ নির্ধারণের কারণ কী এবং এই অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মতামত আসছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিত অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল ও ইমিগ্রেশন লয়ার মইন চৌধুরী এক ফেসবুক পোস্টে সভাপতি পদে ৬ হাজার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলারের মনোনয়ন ফি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, নিউইয়র্কের অলাভজনক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির মনোনয়ন ফি হিসেবে এই পরিমাণ অর্থ তাঁর কাছে অনৈতিক মনে হয়। কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও নিউইয়র্কের পরিচিত মুখ তারিকুল ইসলাম মিঠুও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ সোসাইটির দুই বছর মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়ানোর জন্য শুধু মনোনয়ন পেপারের ফি হিসেবে ৬ হাজার ডলার দিতে হচ্ছে। তিনি নির্বাচনে মোট খরচ কত হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এত অর্থ ব্যয় করেও নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা নেই। একই পোস্টের শেষদিকে তিনি প্রশ্ন করেন, “এর মধ্যে কি মধু আছে ভাই?” এদিকে মনোনয়ন ফি নির্ধারণের কারণ ও এ অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে আমেরিকা বাংলা থেকে যোগাযোগ করা হলে কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশ সোসাইটির সর্বশেষ ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সংগঠনটির ১০০ শতাংশ আয় কনট্রিবিউশন হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং এক্সিকিউটিভ কমপেনসেশন ছিল শূন্য ডলার। সংগঠনটির ওই বছরের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৬৭৪ ডলার। এদিকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা, ৯ সেপ্টেম্বর আপিল, ১০ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর। মনোনয়ন ফি নিয়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটির অনেকের আগ্রহ এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে এই অর্থের ব্যবহার ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেদিকে।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয় নিয়ে যে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, চার দশকের মাথায় এসে সেই ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা’ বা ফোবানা এখন চার ভাগে বিভক্ত। বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা ও প্রবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বদলে সংগঠনটি এখন নেতৃত্বের কোন্দল ও সাংগঠনিক বিভক্তির কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছে। এবারের লেবার ডে উইকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চার শহর—নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, অরল্যান্ডো এবং টরন্টোতে একই সময়ে পৃথক চারটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আয়োজকদের প্রায় প্রতিটি পক্ষই নিজেদের আয়োজনকে ‘৪০তম ফোবানা সম্মেলন’ হিসেবে দাবি করছে, যা সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে চরম বিস্ময় ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। চার শহরে আয়োজিত এই সম্মেলনগুলোর প্রতিপাদ্য ও আয়োজন ভিন্ন। নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ায় ‘এনআরবি অ্যাসোসিয়েশন’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে ৫৪টি নিবন্ধিত সংগঠনের অংশগ্রহণে দ্বিতীয় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফ্লোরিডার কিসিমি এলাকায় তৃতীয় আয়োজনে থাকছে চলচ্চিত্র ও সংগীত তারকাদের অংশগ্রহণে জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। আর কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত চতুর্থ সম্মেলনে জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ ও অভিনেত্রী ববিতাসহ বিশিষ্টজনদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিনোদন ও উৎসবের আমেজ থাকলেও এই দৃশ্যমান বিভক্তি ফোবানার মূল উদ্দেশ্যকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সচেতন প্রবাসীদের অভিযোগ, ফোবানা এখন কেবলই সামাজিক মর্যাদা ও প্রভাব প্রদর্শনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। নেতৃত্বের এই প্রতিযোগিতার নেপথ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত অহমিকা। এর পাশাপাশি ‘দাওয়াত বাণিজ্য’ নিয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ। ফোবানা সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে অনেকেই দাবি করছেন। যদিও আয়োজকরা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের স্বচ্ছতার কথা জানিয়েছেন। ১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে যে ঐক্যের বার্তা নিয়ে ফোবানার জন্ম হয়েছিল, তা আজ ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বন্দ্বে ম্লান। উৎসবের আমেজে প্রবাসীরা সাময়িক আনন্দ পেলেও, সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ফোবানা কি আবারও তার পুরনো জৌলুস ফিরে পেয়ে প্রবাসীদের সত্যিকারের ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম হতে পারবে?
ক্যামব্রিজ, ম্যাসাচুসেটস: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার পর নিজের প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন বাফেলো, নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আসিফ মুকতাদির। হার্ভার্ডের অফিসিয়াল শপে গিয়ে নিজের জন্য হুডি ও টি-শার্ট কিনতে গিয়ে দাম দেখে তাঁর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটিই মজার ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন তিনি। আসিফ মুকতাদির একজন হেলথকেয়ার প্রফেশনাল ও লেখক। তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি হার্ভার্ডে মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ) পড়ছেন। পাশাপাশি তিনি দুইটি বইয়ের লেখক এবং বাফেলো, নিউইয়র্কে বসবাস করেন। ফেসবুকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ মুকতাদির লেখেন, “আমি সাধারণত ব্র্যান্ডেড কাপড়চোপড় কিনি না। আমার কাছে মনে হয়, কাপড় ভালো হলেই হলো। শুধু ব্র্যান্ডের নামের জন্য এত টাকা খরচ করার কোনো মানে নেই। তারচেয়ে এই টাকা জমিয়ে ট্যুর দেওয়া ভালো।” তবে হার্ভার্ডে নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার পর সেই ভাবনায় কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে জানান তিনি। নিজের অনুভূতি তুলে ধরে আসিফ আরও লেখেন, “কিন্তু হার্ভার্ডে পড়ার এক্সাইটমেন্ট বলে কথা! ভাবলাম, হার্ভার্ডের অফিসিয়াল শপ থেকে নিজের জন্য কয়েকটা হুডি আর টি-শার্ট কিনি।” দোকানে গিয়ে পোশাক পছন্দ করা পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু প্রাইস ট্যাগ দেখার পরই আসে চমক। আসিফ লেখেন, “দোকানে ঢুকে কাপড় পছন্দ করা পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল, কিন্তু প্রাইস ট্যাগ দেখার পর মনে হলো, একটা হুডির দামই বোধ হয় আমার সারা বছরের কাপড়ের বাজেটের সমান!” হার্ভার্ডের হুডি ও টি-শার্টের দাম দেখে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিতে। আসিফ আরও লেখেন, “বাংলাদেশে ভার্সিটিতে টি-শার্টের ডিজাইন করে চাঁদা তুলে তারপর ডিপার্টমেন্টের হুডি কেনার কথা মনে পড়ল। শীতের সময় প্রায় সব ডিপার্টমেন্টের নতুন হুডি।” বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভাগ, ব্যাচ কিংবা বিভিন্ন সংগঠনের নিজস্ব নকশার টি-শার্ট ও হুডি তৈরি করা পরিচিত একটি ক্যাম্পাস সংস্কৃতি। বন্ধুদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে শীতের মৌসুমে একই ডিজাইনের হুডি পরার স্মৃতিও অনেক শিক্ষার্থীর কাছে বিশেষ হয়ে থাকে। হার্ভার্ডের ক্ষেত্রে অবশ্য এই পোশাকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ১৬৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হার্ভার্ড যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ম্যাসাচুসেটসের ক্যামব্রিজে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় চার শতাব্দী ধরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। হার্ভার্ডের নাম ও প্রতীকযুক্ত পোশাক তাই অনেক শিক্ষার্থীর কাছে শুধু সাধারণ কাপড় নয়। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের পরিচয় এবং শিক্ষাজীবনের স্মৃতি বহন করার একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। তবে ‘দ্য হার্ভার্ড শপ’-এর বিশেষত্ব শুধু হার্ভার্ডের নাম ও প্রতীকযুক্ত পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি শিক্ষার্থীদের পরিচালিত একটি ব্যবসা। দোকানটির তথ্য অনুযায়ী, এর কার্যক্রমের সঙ্গে হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীরা সরাসরি যুক্ত থাকেন এবং ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের মজুরি, আর্থিক সহায়তা ও পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহার করা হয়। হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য দোকানটিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। হার্ভার্ডের ইমেইল ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীরা কেনাকাটায় ২৫ শতাংশ ছাড় পান। বাফেলোতে বসবাসকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আসিফ মুকতাদিরের কাছে তাই হার্ভার্ডের হুডি কেনার অভিজ্ঞতাটি শুধু দামের চমক নয়, বরং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্তও। বাংলাদেশের ক্যাম্পাসজীবনের হুডির স্মৃতির সঙ্গে হার্ভার্ডের হুডির দামের তুলনা করে করা তাঁর ফেসবুক পোস্টে সেই অভিজ্ঞতাই উঠে এসেছে। একদিকে বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরুর আনন্দ, অন্যদিকে পছন্দের একটি হুডির প্রাইস ট্যাগ দেখে বাজেটের হিসাব। আসিফ মুকতাদিরের সেই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে হার্ভার্ডের নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর ক্যাম্পাসজীবনের একটি মজার স্মৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো সংলগ্ন চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেম্বার বা কাউন্সিলম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পারভেজ রহমান। গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলীয় ভোটে ৪-২ ব্যবধানে তার এই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। সাবেক ডেমোক্র্যাট কাউন্সিল মেম্বার স্টিফেন নোইকির পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বের এক নতুন মাইলফলক রচিত হলো। পারভেজ রহমানের শেকড় বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আতাউর রহমানের সন্তান। পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মূলধারার রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তিনি প্রিন্সিপাল ফিন্যান্স বিজনেস পার্টনার হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর পারভেজ রহমান চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এই পদে অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর আগামী নভেম্বরে আসনটিতে স্থায়ী প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে তার এই অনন্য অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) গোয়েন্দা শাখায় ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। এনওয়াইপিডির দীর্ঘ ইতিহাসে এই শীর্ষ পদে পদোন্নতি পাওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি তিনি। সোমবার সকাল ১০টায় নিউইয়র্ক পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ইকবালের হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেন পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিস। তার এই সাফল্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসবের আমেজ ও গভীর গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের সন্তান ইকবাল হোসেন ১৯৯০ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা ইকবাল সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৬ সালের জুলাই মাসে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি ৩২ ও ২৬ প্রিসিনক্ট, সন্ত্রাসবিরোধী ব্যুরোর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমান্ড এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ব্যুরোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিভাগে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজের প্রতি একাগ্রতা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি ডিটেকটিভ থার্ড গ্রেড এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে ডিটেকটিভ সেকেন্ড গ্রেড পদে উন্নীত হন। বিশেষ করে এনওয়াইপিডির অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ‘ফোর্স ইনভেস্টিগেটিভ গ্রুপ’-এর ৫৪ নম্বর দলে কাজ করার সময় তার তীক্ষ্ণ মেধা ও পেশাদারিত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশংসা কুড়ায়, যার চূড়ান্ত স্বীকৃতি এই ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদোন্নতি। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী নিলুফা বেগম ও তিন ছেলেকে নিয়ে নিউইয়র্কের সাউথ ওজন পার্কে বসবাস করেন ইকবাল। পুলিশের কঠোর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। তার এই অনন্য অর্জন প্রবাসীদের জন্য শুধু গর্বের বিষয়ই নয়, বরং প্রবাসী তরুণ প্রজন্মের কাছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একাগ্রতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশনের পর ছবি বা ভিডিও তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এখন অনেকেরই স্বাভাবিক অভ্যাস। তবে এই প্রবণতা ঘিরে রেস্টুরেন্টের পরিবেশ, অন্য ক্রেতাদের গোপনীয়তা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করা হলে সেখানে নানা ধরনের মন্তব্য আসে। কেউ খাবারের ছবি বা ভিডিওকে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ারের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ মনে করছেন, রেস্টুরেন্টে ছবি বা ভিডিও করার সময় আশপাশের ক্রেতা ও কর্মীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। এ বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির একটি রেস্টুরেন্টের মালিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি তোলা বা ভিডিও করার বিষয়ে সরকারি কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বাস্তবে কিছু পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে বিড়ম্বনা তৈরি হতে পারে। তিনি আরও জানান, অনেক সময় কোনো কাস্টমার ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে আশপাশের অন্য কাস্টমারদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। আবার কেউ কেউ ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, যা রেস্টুরেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও রেস্টুরেন্টে কর্মরত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা রক্ষা করাও মালিকপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের ছবি বা ভিডিও ধারণের সময় কর্মীরা ক্যামেরায় চলে এলে কিংবা তাদের কাজের দৃশ্য অনুমতি ছাড়া ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে সেটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে খাবারের ছবি বা ভিডিও করা নিয়ে এর বাইরে বড় কোনো সমস্যা সাধারণত হওয়ার কথা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিউইয়র্কে খাবারের ছবি তোলা নিয়ে এমন আলোচনা নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ক্রেতাদের ছবি তোলা, ভিডিও করা কিংবা ফ্ল্যাশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজস্ব নিয়ম চালু করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বিষয়টিকে খাবারের প্রচারের সুযোগ হিসেবে দেখে, আবার কোনো রেস্টুরেন্ট অন্য ক্রেতাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে ছবি বা ভিডিও সীমিত করতে পারে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুড কনটেন্টের জনপ্রিয়তার কারণে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি ও ভিডিও করা আরও বেড়েছে। অনেক ক্রেতা নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, আবার ফুড ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা রেস্টুরেন্টের খাবার ও পরিবেশ নিয়ে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করছেন। এতে একদিকে রেস্টুরেন্টের প্রচার বাড়ছে, অন্যদিকে ছবি বা ভিডিও ধারণের ধরন নিয়ে নতুন করে কিছু প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নিজের খাবারের ছবি তোলার সময় আশপাশের অন্য ক্রেতা বা কর্মীরা যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিডিওতে না চলে আসেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে কোনো রেস্টুরেন্টের নিজস্ব ছবি বা ভিডিও নীতিমালা থাকলে সেটিও মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায়ও বিষয়টির দুই দিক উঠে এসেছে। কেউ মনে করছেন, খাবারের মান ও পরিবেশ সম্পর্কে অন্যদের জানাতে ছবি বা ভিডিও করা স্বাভাবিক। আবার কেউ মনে করছেন, ছবি বা ভিডিও করার সময় রেস্টুরেন্টে উপস্থিত অন্য মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য ও গোপনীয়তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। সব মিলিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি বা ভিডিও করা নিয়ে নিউইয়র্কে কোনো সাধারণ সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয় সামনে না এলেও, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং রেস্টুরেন্টের নিজস্ব নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়েই নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চলছে আলোচনা।
জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলা পার্কস ডেমোক্রেটিক গভর্নর প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমসের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বুধবার লরেন্সভিলের বাংলাদেশি মালিকানাধীন হালাল গ্রোসারি স্টোর আল হুদা গ্রোসারিতে বটমসের প্রচারণামূলক কর্মসূচিতে ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন নাবিলা। বিষয়টি তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও তুলে ধরেছেন। আল হুদা গ্রোসারিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বটমস জর্জিয়ার পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ কমানোর লক্ষ্যে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে গ্রোসারি পণ্যের ওপর স্থানীয় পর্যায়ের সেলস ট্যাক্স কমানো বা বাতিলের উদ্যোগ। পাশাপাশি ডায়াপার ও মাসিক স্বাস্থ্যসামগ্রীর ওপর জর্জিয়ার ৪ শতাংশ স্টেট সেলস ট্যাক্স বাতিলের প্রস্তাবও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে। বটমসের প্রচারণায় দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর ব্যয়ের চাপ কমাতে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের বোঝা কমানোর কথা বলছেন তিনি। তাঁর প্রচারণায় সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারের উদাহরণ হিসেবে ৫ ডলারের রোটিসেরি চিকেনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। নাবিলা পার্কস তাঁর পোস্টে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী হওয়া উচিত, কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরির কারণ হওয়া উচিত নয়। বটমসের পরিকল্পনায় তিনি তাঁর পরিবারের সমর্থনের কথাও জানান। বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে নাবিলা পার্কসের সম্পৃক্ততা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০২২ সালের নির্বাচনে নাবিলা পার্কস জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হন। তিনি জর্জিয়া স্টেট সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তাঁর সিনেট মেয়াদ ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছিল। চলতি বছর তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, তবে সেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। নাবিলার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কর্মজীবী পরিবার, হেলথ কেয়ার, নারীদের স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে বটমসের সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা সংক্রান্ত পরিকল্পনার অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি জর্জিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির দৃষ্টিতেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনকে সামনে রেখে বটমস ও রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসন দুজনই মেট্রো আটলান্টায় নিজেদের নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরছেন। বুধবার একই দিনে দুই প্রার্থীর কর্মসূচিকে ঘিরে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রচারণা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। নাবিলা পার্কসের আল হুদা গ্রোসারিতে উপস্থিতি এবং বটমসের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য সমর্থনের বিষয়টি জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার আরেকটি দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
আমেরিকার ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল পেরিয়ে শিকড়ের টানে একত্রিত হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফেনী জেলার প্রবাসীরা। প্রবাসে ফেনীবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’র প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ২০২৬। “একসাথে মিলি বন্ধন গড়ি, আমরা সবাই ফেনীবাসী”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক সংগঠন ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত মনোরম ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই মহা মিলনমেলার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান শুরু হবে দুপুর ১২টায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসে ফেনীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখা, শৈশব ও কৈশোরের বন্ধুদের সঙ্গে পুরোনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ফেনীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। দিনব্যাপী এই পুনর্মিলনীতে প্রবাসী ফেনীবাসীদের জন্য থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। থাকবে স্মৃতিময় আড্ডা, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ এবং ছোট-বড় সবার জন্য আনন্দঘন পরিবেশ। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে থাকছে বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য থাকবে ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময় খাবারের আয়োজন। পুনর্মিলনীর অন্যতম আকর্ষণ হবে জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ড. সীমা খান ও জহির। ফেনীর মাটি ও মানুষের গানসহ ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত পরিবেশন করবেন কণ্ঠশিল্পী ইসরাত শর্মী। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় সাজাবেন জনপ্রিয় সঞ্চালিকা রূপা। আয়োজকরা জানান, কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের মাঝেও ফেনীর মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’র পরিচালনা ও অ্যাডমিন প্যানেল পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল ফেনী প্রবাসী, তাঁদের স্বজন ও পরিবারবর্গকে সপরিবারে এই পুনর্মিলনীতে অংশ নেওয়ার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাটির টান ও নাড়ির বন্ধনে সাড়া দিয়ে বিপুলসংখ্যক ফেনীবাসী এই মিলনমেলায় অংশ নেবেন এবং দিনটি প্রবাসে ফেনীবাসীদের জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চার বাংলাদেশি। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত হয়েছেন ইউসুফ রাজু, টেনেসিতে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন শাহেদ রানা মোহসিন। আর মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা বাংলাদেশি মা-মেয়ে মুসাম্মাত শামীমা বেগম ও তাঁর ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আরিবা জাহিন। পরপর এসব ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে গুলির ঘটনায় নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু। তিনি ওই রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। রাজু প্রায় তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে জানা গেছে। তাঁর মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক। টেনেসির ক্রকেট কাউন্টির বেলস এলাকায় ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হন ৩৬ বছর বয়সী শাহেদ রানা মোহসিন। তদন্তের পর এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সবশেষ ২৯ আগস্ট মেরিল্যান্ডের আই-২৭০ হাইওয়েতে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ভুল পথে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী মুসাম্মাত শামীমা বেগম এবং তাঁর মেয়ে আরিবা জাহিন। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অন্য গাড়িটির চালক ভুল পথে দক্ষিণমুখী লেনে প্রবেশ করেছিলেন। দুর্ঘটনায় একই গাড়িতে থাকা আরও দুজন আহত হন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সময় অন্য গাড়িটির চালকের অ্যালকোহলের প্রভাবে থাকার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। মা-মেয়ের জানাজায় স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ অংশ নেন। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে নিউইয়র্ক, টেনেসি ও মেরিল্যান্ডে চার বাংলাদেশির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে প্রবাসী সমাজে। ভিন্ন তিন ঘটনায় প্রাণ হারালেও চারটি পরিবারই হারিয়েছে আপনজন। কর্মস্থলে গুলির ঘটনা থেকে শুরু করে হাইওয়ের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, পরপর এসব মৃত্যু আবারও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মেরিল্যান্ডের আই-২৭০ মহাসড়কে শনিবারের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। নিহতরা হলেন ৪৬ বছর বয়সী মুসাম্মাত শামিমা বেগম ও তার ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আরিবাহ জাহিন। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা ভার্জিনিয়ার বার্ক ও আলেকজান্দ্রিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আগামীকাল সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জোহরের নামাজের পর গেইথার্সবার্গের ইসলামিক সেন্টার অব মেরিল্যান্ডে মা ও মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে ফ্রেডেরিকের আল-ফিরদাউস মেমোরিয়াল গার্ডেনসে। ২৯ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটের দিকে বেথেসডায় ডেমোক্রেসি বুলেভার্ডের দক্ষিণে আই-২৭০-এর দক্ষিণমুখী লেনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একটি ফোর্ড মুস্তাং ভুল পথে উত্তরমুখী হয়ে দক্ষিণমুখী লেনে ঢুকে পড়ে। পরে সেটি একটি টয়োটা ক্যামরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শামিমা বেগম ও আরিবাহ জাহিন ওই টয়োটা ক্যামরির যাত্রী ছিলেন। গাড়িটিতে আরও ছিলেন ৬২ বছর বয়সী ওই পরিবারের কর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, এবং ৮ বছর বয়সী তাদের ছোট মেয়ে। দুর্ঘটনার পর তাদের দুজনকেই অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে ফোর্ড মুস্তাংয়ের চালক হিসেবে ৩২ বছর বয়সী জার্মানটাউনের বাসিন্দা হোসে কাবায়েরো নোলাসকোকে শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা ব্যাহত হওয়া দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নোলাসকোর বিরুদ্ধে দুইটি গ্রস নেগলিজেন্ট ম্যানস্লটার, অ্যালকোহলের প্রভাবে মোটরযান চালিয়ে মৃত্যুর অভিযোগে দুইটি মামলা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে এমন আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কোর্ট কমিশনারের সামনে হাজিরার অপেক্ষায় রয়েছেন। মা ও মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হওয়ায় তাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য কমিউনিটির সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।