- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
বিদেশে নির্মাণশ্রমিকের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষায়িত প্রতিক্রিয়া বাহিনীর (এসআরবি) প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, এভাবে রাশিয়ায় নেওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে অন্তত ২০ জন ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকা ট্রিবিউনের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঢাকার কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের প্রাথমিক তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণের পর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসআরবির তথ্য অনুসারে, গত ৭ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই বাংলাদেশিরা রাশিয়ায় যান। নির্মাণকাজের চাকরির আশ্বাসে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাঁদের সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়; পরে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এসআরবি জানিয়েছে, বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরেছেন।তাঁদের একজন রাজন ড্রোন হামলায় কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়ে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও দুজন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন বলে বাহিনীটি জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান ও আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। বিদেশে চাকরির নামে বিপুল অর্থ নেওয়া, চুক্তির বাইরে কাজে নিয়োগ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিদেশে কাজের জন্য টাকা দেওয়ার আগে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, কাজের চুক্তি, ভিসার ধরন এবং গন্তব্য দেশের শ্রম আইন যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি একদল ব্যক্তির রোষানল ও হেনস্তার শিকার হন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে সাবেক এই সরকারপ্রধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ প্রটোকল ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ড. ইউনূসের এই বিশেষ নিরাপত্তা বহাল থাকবে। জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সদস্য। দেশের একমাত্র নোবেলজয়ী এবং বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমন একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বিদেশে এ ধরনের অবমাননাকর আচরণ যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সরকারি বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ মিশন ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ শুরু করেছেন। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই হেনস্তার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে অবহিত করেছে। এর পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ এবং জেএফকে বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা পোর্ট অথরিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বর্তমানে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ও আইনি তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে সম্ভাব্য বন্দুক হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, অরোরা এলাকার কোনো হিন্দু উপাসনালয় তাঁর লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে। তবে নির্দিষ্ট স্থানটি এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়া ও বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখার গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্যালাটাইন পুলিশ জানিয়েছে, উদ্বেগজনক ইলেকট্রনিক বার্তার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর রোববার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাউন্ট প্রসপেক্ট ও প্যালাটাইন পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। বুধবার বিষয়টি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, গুলিভর্তি একাধিক ম্যাগাজিন এবং কয়েক শ অতিরিক্ত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বডি আর্মারসহ একটি ট্যাকটিক্যাল ভেস্টও পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, এতে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী উগ্রপন্থার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতীক ছিল। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা পাপোরাকিসের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ এবং তাঁর লেখা বলে চিহ্নিত একটি নথি পরীক্ষা করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নথিটিতে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ও উগ্রপন্থী বক্তব্যের পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, গ্রেপ্তারের দিনই হামলা চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে তাঁর। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, পাপোরাকিস এক সহকর্মীকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তাঁর বন্দুক আটকে গিয়েছিল এবং তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে এসেছেন। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট স্থান এখনো তদন্তাধীন। তদন্তে সহায়তা করছে এফবিআই। বুধবার কোর্ট হিয়ারিংয়ে বিচারক তাঁকে আটক রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারিত রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার এখনো হয়নি।
ঢাকার ধানমন্ডিতে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর সূত্র ধরে মারধরের শিকার ব্যক্তি ও তাঁকে মারধরকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হাসপাতালের কাছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে আরেক ব্যক্তি চড়-থাপ্পড় মারছেন এবং কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। মারধরের সময় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক তরুণীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদমাধ্যমকে ওই তরুণী জানান, ব্যক্তি তাঁর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরও তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরে তিনি আত্মীয় খালিদ হাসানকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, খালিদ হাসান (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান। অন্যদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ আল মাসুদ (৪৮) নামের মারধরের শিকার ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন বলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল হাই। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব। ঘটনাটি জনসমক্ষে হয়রানির অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারও বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি। একইভাবে অভিযোগের জবাবে মারধর বা অপমানজনক শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাধারণ ও ‘ভালো মনের মানুষ’ এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখতে চান না বলেই এটি জনসমক্ষে সম্প্রচার করা হবে না। তবে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বরের ওই মর্মান্তিক হামলায় নিহতদের পরিবার এবং ভুক্তভোগীরা চাইলে বিশেষ ব্যবস্থায় এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখতে পারবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কেমন আচরণ করে তা বিশ্ববাসীকে দেখাতে এই সরাসরি সম্প্রচার একটি জোরালো সতর্কবার্তা হতে পারত। কিন্তু অনেক ভালো মনের মানুষ কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে এই দৃশ্য দেখতে ইচ্ছুক নন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমেই নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তবে তা সম্প্রচারিত হবে না। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ পিট হেগসেথ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি জনসমক্ষে সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তার ওই ঘোষণার পরপরই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, ১৯৩০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আর কোনো নজির নেই।
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর হামলার শিকার হয়ে মারা গেছেন শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামে বিএনপির এক নেতা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোররাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, মাদক, জুয়া ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। নিহত শুক্কুর আলী ব্যাপারী বরিশালের মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শরীয়ত উল্লাহর ভাতিজা বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার আগে মঙ্গলবার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদকের আড্ডা, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে গাছুয়া ইউনিয়নের ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকায় সালাউদ্দীনের দোকানে চা পান করার সময় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী অভিযোগ করেছেন, রহমত ফরাজী, বারেক ফরাজী, মুজাম্মেল ফরাজীসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বারেক ফরাজী। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, লঞ্চঘাট এলাকার দোকানের সামনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। শুক্কুর আলীকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, মারধরের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে মাদক ও জুয়ার আসর এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় বিরোধ ও সহিংসতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের ঘোষণা দেওয়াই হত্যার কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই করা জরুরি।
বড় ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি উপলক্ষে পরিবার নিয়ে প্রথমবার একসঙ্গে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। কিন্তু সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবর হুতি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পরদিন মারা যান তিনি। তাঁর দুই ছেলে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরব নিউজকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ইউসুফের আত্মীয় ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আকবর হাশমি। হাশমির ভাষ্য অনুযায়ী, মদিনার ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকার সময় বড় ছেলেকে নিয়ে জুস কিনতে গিয়েছিলেন ইউসুফ। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময় হামলায় বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও ইউসুফকে বাঁচানো যায়নি। ইউসুফ সৌদি আরব ও ভারতে কাজ করতেন। বড় ছেলের শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে স্ত্রী, দুই ছেলে, মেয়ে ও পরিবারের এক নারী স্বজনকে নিয়ে ওমরাহযাত্রার পরিকল্পনা করেন তিনি। আরব নিউজের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত দুই ছেলে হাসপাতালে রয়েছে। মেয়ে ও ওই নারী স্বজন অপেক্ষাকৃত কম আহত হওয়ায় চিকিৎসা শেষে ছাড়া পেয়েছেন। ইউসুফের স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। তিনিই এখন আহত সন্তানদের দেখাশোনা করছেন। হাশমি জানিয়েছেন, বড় ছেলের দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে। ভাঙা কাচের আঘাতে পেটেও অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তাকে আরও প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। বাবার মৃত্যুর খবর সন্তানদের জানানো হয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। হতাহতদের মধ্যে ওমরাহযাত্রীরাও ছিলেন।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে সড়ক দুর্ঘটনায় বড় ভাইয়ের মৃত্যুর দশ দিনের ব্যবধানে মারা গেছে তার ১০ বছর বয়সী ছোট ভাইও। বাংলাদেশি পরিবারটির বড় ছেলে আরদি গত ৩ অক্টোবর দুর্ঘটনায় নিহত হন। পরে ছোট ছেলে শাহ মো. ওয়ার্দির মৃত্যু হয়।জানা গেছে, নিউমোনিয়াজনিত অসুস্থতায় শিশুটি মারা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন আরদি। ব্রঙ্কসের মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ছোট ভাই ওয়ার্দির মৃত্যুতে পরিবারটি আরেক দফা শোকের মুখে পড়ে। পরিবারের এক সদস্য জানান, বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে আরদি ছিলেন বড়। তাঁর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ছোট সন্তানকেও হারালেন তাঁরা। দুই ভাই হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের শাহ মো. আসাদ মিয়ার সন্তান। তাঁদের চাচা শাহ মো. ছাদেক মিয়া চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস করেন বা কাজ করেন, এমন যোগ্য ব্যক্তিরা বিনা খরচে ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করতে পারেন। শহরের এনওয়াইসি ফ্রি ট্যাক্স প্রেপ কর্মসূচিতে আইআরএস সার্টিফায়েড স্বেচ্ছাসেবকেরা এই সহায়তা দেন। বাংলাদেশিরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে সেবা নিতে পারেন। তবে বাংলায় সহায়তা প্রয়োজন হলে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগেই সংশ্লিষ্ট সাইটে ভাষাসেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশন বা ডিসিডব্লিউপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আয়ের ওপর ২০২৬ সালে ট্যাক্স রিটার্ন ফাইলের জন্য দুটি সাধারণ আয়সীমা প্রযোজ্য। যোগ্য সন্তান বা নির্ভরশীল ব্যক্তি থাকলে বার্ষিক আয় ৯৭ হাজার ডলার বা তার কম হতে হবে। যোগ্য সন্তান বা নির্ভরশীল ব্যক্তি না থাকলে একক ব্যক্তি কিংবা বিবাহিত দম্পতির আয়সীমা ৬৮ হাজার ডলার বা তার কম। শুধু বিবাহিত হওয়াই উচ্চতর আয়সীমা প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত নয়। এই আয়সীমা ২০২৫ সালের ট্যাক্স রিটার্নের জন্য। ওই রিটার্ন জমার সাধারণ সময়সীমা ছিল ১৫ এপ্রিল ২০২৬। তবে সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ফ্রি ট্যাক্স প্রেপের মাধ্যমে রিটার্ন ফাইল ও প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিছু সাইট বছরজুড়ে সেবা দেয়। তাই ট্যাক্স সিজন শেষ মানেই সহায়তা বন্ধ, এমন নয়। ২০২৬ সালের ট্যাক্স সিজনে শহরের পাঁচ বরো মিলিয়ে ১৪০টির বেশি ভলান্টিয়ার ইনকাম ট্যাক্স অ্যাসিস্ট্যান্স বা ভিটা এবং ট্যাক্স কাউন্সেলিং ফর দ্য এলডারলি বা টিসিই সাইটে সেবা দেওয়া হয়েছে। সব সাইটের সময়সূচি ও সেবার ধরন এক নয়। কাছের চালু সাইটের ঠিকানা ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট জানতে ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ট্যাক্স প্রিপারেশন’ সহায়তা চাইতে পারেন। বাংলাভাষীদের জন্য শহরের সরকারি ট্যাক্সসেবার তথ্যপত্র বাংলায় পাওয়া যায়। তবে বাংলায় তথ্যপত্র থাকা এবং কোনো সাইটে সরাসরি বাংলাভাষী ট্যাক্স প্রিপেয়ারার থাকা এক বিষয় নয়। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের অংশগ্রহণকারী সাইটে প্রয়োজনীয় ভাষার কর্মী না থাকলে আইআরএস অনুমোদিত ফোন ইন্টারপ্রেটার ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। যোগাযোগের সময় বাংলা দোভাষী পাওয়া যাবে কি না, তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। সশরীরে বসে রিটার্ন তৈরির পাশাপাশি কিছু সাইটে ড্রপ-অফ সেবা রয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে পরে প্রস্তুত রিটার্ন সংগ্রহ করা যায়। ভার্চুয়াল সেবায় নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবস্থায় নথি জমা দিয়ে ভিডিও কলে প্রিপেয়ারারের সহায়তা নেওয়া যায়। আবার অনলাইনে নিজে রিটার্ন তৈরি করার সময় ফোন বা ইমেইলে স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। অ্যাপয়েন্টমেন্টে সাধারণত ফটো আইডি, নিজের ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড অথবা আইটিআইএনসংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হয়। সঙ্গে রাখতে হয় ডব্লিউ-২, প্রযোজ্য ১০৯৯সহ আয়ের কাগজপত্র। গত বছরের ট্যাক্স রিটার্নের কপি এবং ডাইরেক্ট ডিপোজিটে রিফান্ড নিতে ব্যাংকের রাউটিং ও অ্যাকাউন্ট নম্বরও প্রস্তুত রাখা উচিত। নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি লাগতে পারে। এই কর্মসূচিতে আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট এবং এনওয়াইসি চাইল্ড কেয়ার ট্যাক্স ক্রেডিটসহ প্রযোজ্য সুবিধা দাবি করতে সহায়তা করা হয়। তবে ফ্রিতে রিটার্ন ফাইল করলেই নির্দিষ্ট অঙ্কের রিফান্ড বা ক্রেডিট নিশ্চিত হয় না। আয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস, সন্তান বা নির্ভরশীল ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে প্রাপ্য সুবিধা নির্ধারিত হয়। ফ্রিল্যান্সার, গিগ ওয়ার্কার ও ছোট ব্যবসার মালিকদের জন্যও বিশেষায়িত সেবা রয়েছে। তাঁদের এমন সাইট বেছে নিতে হবে, যেখানে সেলফ-এমপ্লয়েড ব্যক্তিদের রিটার্ন তৈরির সহায়তা দেওয়া হয়। আয়সীমার পাশাপাশি রিটার্নের জটিলতা ও সাইটের সক্ষমতাও বিবেচ্য। তাই যাওয়ার আগে নিজের কাজের ধরন, প্রয়োজনীয় নথি, ভাষাসেবা এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করলে সেবা নেওয়া সহজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইউএস মিন্টের তৈরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতিযুক্ত নতুন এক ডলারের মুদ্রা নিয়ে অভিনব প্রচারণায় নেমেছেন মার্কিন ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচ। গত ১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি মার্কিন নাগরিকদের এই মুদ্রাগুলো সংগ্রহ করে নিজেদের পছন্দের ‘লিবারেল’ বা ভিন্নমতের কফিশপগুলোতে খরচ করার আহ্বান জানান। রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতাবলম্বী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ট্রাম্পের এই নতুন মুদ্রা ব্যবহার করে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্যই তিনি মূলত এমন পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এটি নাগরিকদের প্রতি কোনো আনুষ্ঠানিক বা বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়, বরং নেহাতই একটি ব্যক্তিগত প্রচারণামূলক কৌশল। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে এক ডলার অভিহিত মূল্যের এই বিশেষ মুদ্রাগুলোর বিক্রি শুরু হয়। তবে বাজারে মুদ্রাগুলো সাধারণ মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ইউএস মিন্টের তালিকা অনুযায়ী, ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ ডলার। অর্থাৎ, ২৫ ডলার মূল্যের মুদ্রা কিনতে একজন সংগ্রাহককে প্রিমিয়াম হিসেবে অতিরিক্ত ৩৬ ডলার গুনতে হচ্ছে। একইভাবে ১০০টি মুদ্রার ব্যাগের দাম ধরা হয়েছে ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সংগ্রাহকদের জন্য ক্রয়মূল্য বেশি হলেও প্রতিটি মুদ্রার প্রকৃত বা লেনদেনযোগ্য মূল্য এক ডলারই এবং এগুলো দিয়ে সাধারণ কেনাকাটা করা সম্পূর্ণ আইনিভাবে বৈধ। বর্তমানে মুদ্রাগুলো অনলাইনে স্টক আউট থাকলেও আগামী মাস থেকে এগুলো আবারও পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ব্র্যান্ডন বিচ। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, গত ৪ জুলাই বিশেষ চিহ্নযুক্ত প্রায় আড়াই লাখ ট্রাম্প এক ডলারের মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল, যা অনলাইনে বিক্রির জন্য রাখা বিভিন্ন রোল ও ব্যাগে এলোমেলোভাবে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াই শতক পূর্তি উপলক্ষে চলতি বছর ডাইম, কোয়ার্টার, হাফ ডলার এবং এক ডলারের মুদ্রার নকশায় বিশেষ পরিবর্তন আনার যে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, এই বিশেষ মুদ্রাগুলো তারই একটি অংশ।
টাইটানিকের একমাত্র জাপানি যাত্রী মাসাবুমি হোসোনো লাইফবোটে উঠে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর তাঁর বেঁচে যাওয়াকেই প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়। ১৯১২ সালের সেই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া এই সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে পরবর্তী সময়ে ছড়িয়ে পড়া বয়ানে কিছু ভুল তথ্যও যুক্ত হয়েছে। হোসোনো রাশিয়ার রেলব্যবস্থা নিয়ে সরকারি গবেষণা শেষে দেশে ফিরছিলেন। ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে টাইটানিকে ওঠেন দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রী হিসেবে। তাঁর রেখে যাওয়া বিবরণ অনুযায়ী, বিপদের রাতে ওপরের ডেকে যাওয়ার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেখানে পৌঁছে তিনি কয়েকটি লাইফবোট ছেড়ে যেতে দেখেন। স্ত্রীকে লেখা চিঠিতে হোসোনো জানান, একপর্যায়ে আরও দুজনের জায়গা আছে বলে ডাক আসে। একজন পুরুষকে নৌকায় লাফিয়ে উঠতে দেখে তিনিও সেই সুযোগ নেন। পরে অন্যদের সঙ্গে বৈঠা চালান। গবেষকদের মূল্যায়নে, তিনি সম্ভবত ১০ নম্বর লাইফবোটে ছিলেন। এনসাইক্লোপিডিয়া টাইটানিকায় প্রকাশিত ইতিহাসবিদ মার্গারেট মেলের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর হোসোনো সমালোচনার শিকার হন। ১৯১৩ সালের মে মাসে সরকারি পদ হারালেও জুনেই তাঁকে চুক্তিভিত্তিক কাজে ফেরানো হয়। ১৯৩৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজে যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি কখনো প্রকাশ্যে টাইটানিকের অভিজ্ঞতা বলেননি, এমন দাবিও পুরোপুরি সঠিক নয়। মেলের গবেষণায় দেখা যায়, দেশে ফিরে তিনি ইয়োমিউরি সংবাদপত্রসহ কয়েকটি প্রকাশনাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে নীরব হয়ে যান। ১৯৯৭ সালে জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’ সিনেমা তাঁর কাহিনিকে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আনে। কিন্তু তাঁর চিঠি তখনই প্রথম প্রকাশিত হয়নি। মৃত্যুর পর সেটি প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১৯৮০ সালেও আবার ছাপা হয়। ফলে দীর্ঘদিন গোপন থাকা একটি চিঠি হঠাৎ আবিষ্কারের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় বদলে গিয়েছিল, এমন প্রচলিত বর্ণনা ইতিহাসের পুরো চিত্র তুলে ধরে না।
সোনালী ব্যাংকের এটিএম, কার্ড ও ডিজিটাল ব্যাংকিংসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোর ব্যাংকিং সিস্টেম আধুনিকায়নের কাজের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এই অনুমোদন দিয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে শনিবার, ১৭ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছে জাগো নিউজ ২৪। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অনলাইন ব্যাংকিং, এটিএম বুথ, কার্ড সার্ভিস ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকেরা লেনদেন করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের কারণে যেসব গ্রাহক নিয়মিত এটিএম থেকে টাকা তোলেন, কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন কিংবা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করেন, তাঁদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে জরুরি বিল পরিশোধ, ব্যবসায়িক লেনদেন ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংকিং সেবার ওপর নির্ভরশীল গ্রাহকদের আগেভাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেম আধুনিকায়নের উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নত করা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা। তবে সেবা পুনরায় চালুর নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ প্রয়োজনে ১৭ অক্টোবর শনিবার সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে সোনালী ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা বন্ধ থাকার নির্দিষ্ট সময়সীমা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাহকদের তাই জরুরি নগদ অর্থের প্রয়োজন থাকলে আগেই পরিকল্পনা করা, লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা যাচাই করা এবং ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেবা চালুর সময়সূচিতে পরিবর্তন এলে ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী ঘোষণাই হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন, তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী বোমা ফেলার বিকল্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন মাত্রার অভিযানের বিকল্প প্রস্তুত রাখেন, যার মধ্যে এই বিশাল আকারের বোমার ব্যবহার অন্যতম। এমওএবি বা জিবিইউ-৪৩/বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি অতিকায় অ-পারমাণবিক বোমা, যা ব্যাপক বিস্ফোরণ ও বিস্তৃত এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনায় এই বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা রাখা হয়েছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সন্দেহ করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার এই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে এই শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করলেই যে কাঙ্ক্ষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হবে, তা নিয়ে খোদ মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ এমওএবি মূলত ভূপৃষ্ঠের বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টির জন্য তৈরি; এটি মাটির গভীরে প্রবেশ করে পুরু গ্রানাইট পাথর বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য নকশা করা হয়নি। জ্বালানি বা বেসামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এই বোমা ব্যবহার করা হলে আশপাশে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা রয়েছে। তবুও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরানের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই বোমা ব্যবহারের বিষয়টি মার্কিন পরিকল্পনায় জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। ছাত্রনেত্রী নেহা বোরার একটি ভিডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে বিজেপির এই অভিযোগের পক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো প্রমাণিত গোপন পরিকল্পনার তথ্য দেওয়া হয়নি। বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীরা বাংলাদেশে ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি ভারতে তৈরি করতে চাইছেন। তাঁর দাবি, বিরোধীদের লক্ষ্য শুধু সরকারের সমালোচনা বা রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়; বরং আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার পরিবর্তন করা। তিনি নেহা বোরার বক্তব্য এবং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতিকে এই অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা বলা এবং একই ধরনের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা ভারতের বিরোধী রাজনীতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তবে নেহা বোরার বক্তব্যকে রাহুল গান্ধীর ব্যক্তিগত অবস্থান বা কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কংগ্রেস ও নেহা বোরার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াও দ্যপ্রিন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বিতর্কের সূত্রপাত অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) নেত্রী নেহা বোরার একটি ভিডিও বক্তব্য থেকে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ভারতে যে তরুণদের আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূত্রপাত বাংলাদেশে। তিনি বাংলাদেশের তরুণদের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং দুই দেশের তরুণদের মধ্যে সংহতির কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্যে গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উঠে আসে। নেহা বোরার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের কিছু মিল তুলে ধরা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছিল, ভারতের তরুণদের আন্দোলনেও একই ধরনের অধিকার ও জবাবদিহির প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু বিজেপি তাঁর বক্তব্যকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে এটিকে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মতো ঘটনা ভারতে ঘটানোর ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছে। এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ চলছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আপত্তি রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকার পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন দেশটির জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এই ইস্যুতে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের নেতারা সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা জরুরি। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আক্রমণ করছে। ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ এবং বাংলাদেশ আন্দোলনের প্রসঙ্গ—দুটি বিষয়ই এখন ভারতের রাজনৈতিক বিতর্কে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। রাহুল গান্ধীও বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদকে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিকে আলাদা না দেখে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখার কথা বলেছেন। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশে সংঘটিত ঘটনার পুনরাবৃত্তির কোনো পরিকল্পনা সরাসরি যুক্ত—এমন প্রমাণ ওই প্রতিবেদনে নেই। বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা ঘটনা। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তা ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। প্রাণহানি ও দেশব্যাপী অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও তরুণদের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, আন্দোলনের পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো এক নয়। একটি দেশের আন্দোলন থেকে অন্য দেশের কর্মীরা অনুপ্রেরণা নিতে পারেন, কিন্তু তা থেকেই একই ধরনের সরকার পতন বা কোনো গোপন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় না। এ ক্ষেত্রে নেহা বোরার বক্তব্য, বিজেপির অভিযোগ এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি। বিজেপির অভিযোগের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, কারণ দলটি সরাসরি দেশের প্রধান বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতিবাদের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার। এই বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী বক্তব্য, আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি এবং নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগের প্রমাণ ও নিষ্পত্তির ওপর। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে বলা যায়, বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি ভারতে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু বিজেপির অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখানোর মতো স্বাধীন প্রমাণ এখনো প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। তাই ঘটনাটিকে নিশ্চিত কোনো সরকার পরিবর্তনের ছক হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের আন্দোলনের উত্তরাধিকার ও ভারতের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতকে ঘিরে তৈরি হওয়া একটি নতুন বিতর্ক হিসেবে উপস্থাপন করাই তথ্যনিষ্ঠ হবে।
ভারতশাসিত কাশ্মীরের মসজিদগুলোতে একই ধরনের বা অভিন্ন জুমার খুতবা চালুর একটি প্রস্তাব ঘিরে অঞ্চলটিতে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের এই উদ্যোগকে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুকৌশল চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা। তাদের মতে, এটি কাশ্মীরি মুসলিমদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতিনীতি ও স্বাধীনতায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও জম্মু-কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান দর্শন আন্দ্রাবি সম্প্রতি এই প্রস্তাবের কথা প্রকাশ্যে আনেন। বোর্ডের দাবি, সমাজ থেকে মাদকাসক্তি, আত্মহত্যা ও মানসিক চাপের মতো বিভিন্ন নেতিবাচক সমস্যা দূর করতে এই অভিন্ন খুতবা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। আন্দ্রাবির ভাষ্যমতে, ধর্মীয় আলেমদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি এই খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করবে এবং এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে গত রোববার কাশ্মীরের প্রায় দেড় হাজার আলেম ও ধর্মীয় বক্তাকে নিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কমিটিতে কারা থাকবেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি। উল্টো প্রস্তাবের বিষয়ে আলেমরা আপত্তি জানালেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কাছে অভিযোগ করেছেন এক অংশগ্রহণকারী আলেম। প্রস্তাবটি সামনে আসার পর থেকেই কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কাশ্মীরের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাঈম আখতার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মসজিদে খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণের অধিকার একান্তই ধর্মীয় নেতাদের; ওয়াকফ বোর্ডের দায়িত্ব মূলত ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত। অঞ্চলটির প্রধান মুসলিম ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুকও এই উদ্যোগকে সরাসরি ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন মুত্তাহিদা মাজলিস-ই-ওলামা এবং কাশ্মীরের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও এই প্রস্তাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তীব্র সমালোচনার মুখে ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান অবশ্য পরবর্তীতে তার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে জানান, খুতবায় সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার বিষয়টি স্বাধীন আলেম ও ধর্মীয় বক্তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসার পর থেকেই ওয়াকফ ব্যবস্থাপনাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে মসজিদগুলোর ইমাম ও খতিবদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশের ফরম বিতরণ এবং শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীরে ধর্ম ও রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে গভীরভাবে যুক্ত থাকায় এ ধরনের যেকোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি করে।
আফগানিস্তানে বারবার খরা, পানির সংকট ও খাদ্যাভাব দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। জীবিকা হারানো কিছু পরিবার সংসারের খাবার ও ঋণের অর্থ জোগাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, পানি ও খাবারের ঘাটতি পরিবারগুলোকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ১৫ অক্টোবর গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঋণ শোধে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর ১১ বছরের খাতিরা উদ্বেগে কাঁদে। মানবিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃপুন খরা, দীর্ঘ সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা আফগানিস্তানের খাদ্যসংকটকে জটিল করেছে। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতাও তাঁদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে বাল্যবিয়ে, কিশোরী মাতৃত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, আফগানিস্তানের ২০২২-২৩ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছরের আগে। কিছু এলাকায় এই হার প্রতি দুজনের একজন পর্যন্ত ছিল। এটি ওই জরিপের তথ্য, চলতি বছরের নতুন বাল্যবিয়ের হিসাব নয়। ইউনিসেফের আফগানিস্তান প্রতিনিধি তাজুদ্দিন ওয়েওয়ালে বলেন, বাল্যবিয়ে মেয়েদের পড়াশোনায় ছেদ ঘটায় এবং ভবিষ্যতের সুযোগ সীমিত করে। একই সঙ্গে সহিংসতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অল্প বয়সে গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্মদানের ঝুঁকি বাড়ায়। সংস্থাটি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অর্থসংকট সামলাতে কাউকে বাল্যবিয়ের আশ্রয় নিতে না হয়। পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির পর কিশোরীদের জন্য স্কুল খুলে দিতেও আফগানিস্তানের কার্যত শাসনকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।
১৮ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খোদার প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক এক দশকেরও কম সময়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বড় ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ২০২৪ সালে ব্ল্যাকস্টোনের নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারী জোটের অধিগ্রহণ চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু নির্ধারিত হয় ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি। ব্যবসার পাশাপাশি নারীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষায় বড় অনুদানের মাধ্যমেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন খোদা। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বিবরণে তাঁর ১৮ বছর বয়সে সিডনিতে আসা এবং সেখান থেকে বড় পরিসরের ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ার যাত্রার কথা উঠে এসেছে। ক্লাউড সেবা ও বিপুল তথ্য প্রক্রিয়াকরণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এয়ারট্রাঙ্কের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হয়। ব্ল্যাকস্টোন ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অধিগ্রহণ চুক্তির ঘোষণা দেয়। তাদের সঙ্গে ছিল কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড বা সিপিপি ইনভেস্টমেন্টস। বিক্রেতা ছিল ম্যাককুয়ারি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও পিএসপি ইনভেস্টমেন্টস। ঘোষণায় বলা হয়, এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ব্ল্যাকস্টোনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। চুক্তির সময় এয়ারট্রাঙ্কের অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরে উপস্থিতি ছিল। গ্রাহকদের জন্য প্রতিশ্রুত সক্ষমতা ছিল ৮০০ মেগাওয়াটের বেশি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এক গিগাওয়াটের বেশি সক্ষমতা গড়ার উপযোগী জমি ছিল প্রতিষ্ঠানটির হাতে। নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের পর অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জানায় এয়ারট্রাঙ্ক। প্রতিষ্ঠানটির বিবরণ অনুযায়ী, সে সময় এটি ছিল বিশ্বের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার অধিগ্রহণ এবং ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম লেনদেন। অধিগ্রহণের পরও প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে যুক্ত থাকেন খোদা। তবে ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু। এই অঙ্ককে খোদার ব্যক্তিগত সম্পদ বা তাঁর একার প্রাপ্ত বিক্রয়মূল্য হিসেবে দেখানো সঠিক হবে না। ব্ল্যাকস্টোনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিনিয়োগকারীরা খোদার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসাটি এগিয়ে নিচ্ছেন। এয়ারট্রাঙ্কের পরবর্তী সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় ভারতও রয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ জুন প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে পাঁচ গিগাওয়াটের বেশি ডেটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ঘোষণা, ইতিমধ্যে ব্যয় হয়ে যাওয়া অর্থের হিসাব নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে খোদার বড় উদ্যোগ আসে তাঁর পারিবারিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিভার্সিটি অব সিডনি জানায়, খোদা ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের ১০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের অনুদানে ২০ বছরের একটি কর্মসূচি পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির হিসাবে, এটি তাদের ইতিহাসের বৃহত্তম অনুদান। ওয়েস্টার্ন সিডনির মেয়েদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বা স্টেম বিষয়ে পড়াশোনা এবং পেশা গড়তে সহায়তা করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। সপ্তম শ্রেণি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনায় সহায়তা, মেন্টরিং ও স্কলারশিপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পথও তৈরি করবে উদ্যোগটি। ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব টেকনোলজিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফেলো নির্বাচিত হন রবিন খোদা। ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তিশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ তাঁর পেশাজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
পণ্য ও সেবার জন্য চীনা সরবরাহকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে তাইওয়ান। পোল্যান্ডের ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং এই কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, চীনের কর্তৃত্ববাদী আদর্শ ইউরোপের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে মৌলিকভাবেই সাংঘর্ষিক। ফলে বেইজিংয়ের ওপর এ ধরনের নির্ভরতা কেবল কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ইউরোপের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও সিদ্ধান্তের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি বড় আঘাত। লিন চিয়া-লুংয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার ঠিক দুই দিন পরেই ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। ওই সম্মেলনের কার্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বেইজিংয়ের ওপর অতিনির্ভরশীলতা হ্রাস করা। নিরাপত্তা ফোরামে তিনি মন্তব্য করেন, সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত একটি ইউরোপ প্রকারান্তরে নিজের স্বাধীনতারই একটি অংশ অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার শামিল। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও পোল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের বিদেশ সফরের কড়া বিরোধিতা করে থাকে বেইজিং। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার প্রশাসনের সঙ্গে যেকোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন। তবে প্রতিকূল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে তাইওয়ানের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্য উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। পাশাপাশি তাইওয়ানের সফল প্রযুক্তি মডেল যেমন সিলিকন ভ্যালিতে উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির বিকাশ ঘটিয়েছে, তেমনি তা ইউরোপের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে তাইওয়ান। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি এবং মস্কোর সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ইইউর উদ্বেগও দিন দিন বাড়ছে। যদিও পোল্যান্ডসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে, তবুও তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সমান মর্যাদায় স্বাধীন সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
দেশজুড়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করার কয়েক মাসের মধ্যে নারীদের বৈজ্ঞানিক মেধা বিকাশে জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। ‘হাকিলি মুসো’ নামের এই উদ্যোগের প্রথম আসরের চূড়ান্ত পর্বে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে অংশ নেন ৮৪ তরুণী। বিজয়ীদের নগদ অর্থ, স্কলারশিপ ও শিক্ষাসহায়তা দেওয়া হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মকানুন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুনে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার যুক্তি দেওয়া হয়। এটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির অপেক্ষায় নেওয়া স্থগিতাদেশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট হাকিলি মুসো প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানী ওয়াগাদুগুতে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাছাই করা প্রতিযোগীরা এতে অংশ নেন। ফলে আগস্টে উদ্যোগটির ঘোষণা এলেও মূল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় সেপ্টেম্বরে। বুরকিনা ফাসোর উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিযোগিতাটি ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সর্বোচ্চ ২১ বছর বয়সী তরুণীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ধারিত ফলের শর্তও পূরণ করতে হয়েছে তাঁদের। ১৯ সেপ্টেম্বর ওয়াগাদুগুতে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরের প্রতিনিধিত্ব করে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী রিমতালবা জ্যঁ ইমানুয়েল ওয়েদ্রাওগো। সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, প্রতিটি বিষয়ের প্রথম পাঁচজন পুরস্কার পান। পুরস্কারের মধ্যে ছিল পাঁচ লাখ থেকে ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঁ নগদ অর্থ, কম্পিউটার, মোটরসাইকেল, স্কলারশিপ এবং আবাসন, খাবার ও যাতায়াতের সহায়তা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজ্ঞানে মেয়েদের অংশগ্রহণে বাধা তৈরি করা প্রচলিত ধারণা ভাঙার ওপর গুরুত্ব দেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে বিজয়ীদের উৎসাহিত করেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশটির বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের অংশ ছিল ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ। নারী শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক মেধার স্বীকৃতি ও এসব বিষয়ে আগ্রহ বাড়ানোই উদ্যোগটির ঘোষিত লক্ষ্য। সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
সন্তানকে নিয়ে সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা অনেক পরিবারের কাছেই আনন্দের। সঙ্গে একটি তোয়ালে, সানগ্লাস আর প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিলেই চলে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উইল রিজো ও তাঁর স্ত্রী ইয়েনির কাছে ছেলেকে নিয়ে বাইরে বের হওয়া মানে গাড়িভর্তি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসামগ্রী গুছিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ, তাঁদের ছোট্ট ছেলে ইজাইয়া জন্ম থেকেই লড়ছে এক দুর্লভ ও জটিল স্নায়বিক রোগের সঙ্গে। ইজাইয়া আক্রান্ত ‘ডব্লিউওআরইই’ (WOREE) সিনড্রোমে। ডব্লিউডব্লিউওএক্স (WWOX) জিনের ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত এই বিরল রোগ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ইজাইয়ার ক্ষেত্রে এর কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র খিঁচুনি, শারীরিক বিকাশের জটিলতা এবং নানা ধরনের চিকিৎসাগত চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিনের জীবন সামলাতে তাকে নির্ভর করতে হয় বিশেষ যত্ন ও চিকিৎসাসহায়তার ওপর। ইজাইয়ার চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার প্রয়োজন। তার শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তায় রয়েছে বিশেষ রেসপিরেটরি সাপোর্ট। এ ছাড়া প্রয়োজন হয় সাকশন ডিভাইস, খাওয়ানোর সরঞ্জাম এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর। ফলে বাড়ির বাইরে কোথাও যাওয়ার আগে তার বাবা-মাকে নিশ্চিত করতে হয়, প্রয়োজনীয় সবকিছু সঙ্গে রয়েছে কি না। সাধারণ একটি ভ্রমণও তাঁদের জন্য হয়ে ওঠে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও বাড়তি দায়িত্বের সমন্বয়। তবে ছেলের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তার পুরো জীবন নির্ধারণ করতে দিতে চান না উইল ও ইয়েনি। তাঁদের বিশ্বাস, চিকিৎসা ও বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন থাকলেও ইজাইয়ার আনন্দ উপভোগ করার অধিকার রয়েছে। অন্য শিশুদের মতো তারও প্রকৃতি দেখা, নতুন জায়গায় যাওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় স্মৃতি তৈরি করার সুযোগ থাকা উচিত। এই ভাবনা থেকেই তাঁরা শুরু করেছেন ‘ফাউন্ড নোমডস’ (Found Nomads) নামের একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে তাঁরা ইজাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করছেন। কখনো সমুদ্রসৈকতে, কখনো সবুজ পাহাড়ে ঘেরা জাতীয় উদ্যানে—ছেলেকে নিয়ে নতুন নতুন জায়গা দেখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। অবশ্য এসব ভ্রমণ সহজ নয়। ইজাইয়ার শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী যাত্রার প্রস্তুতি নিতে হয়, সঙ্গে রাখতে হয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী এবং তার পরিচর্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। প্রতিটি ভ্রমণে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে ছেলের প্রয়োজনের সমন্বয় করতে হয়। তারপরও থেমে থাকতে চান না এই বাবা-মা। তাঁরা দেখাতে চান, বিশেষ চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন এমন শিশুর পরিবারও নানা বাধা পেরিয়ে ভ্রমণ করতে পারে এবং একসঙ্গে সুন্দর স্মৃতি তৈরি করতে পারে। তাঁদের এই উদ্যোগ শুধু নিজেদের পরিবারের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা অন্য পরিবারগুলোর জন্যও উৎসাহের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। ইজাইয়াকে নিয়ে উইল ও ইয়েনির এই যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর স্বপ্ন পূরণে অনেক সময় বাড়তি প্রস্তুতি ও পরিশ্রম প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নতুন জায়গা দেখা, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং স্মৃতি তৈরি করার চেষ্টা থেমে থাকতে হয় না।