সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
শিক্ষক আবুসালি রহমান
ইংল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের গোপনে ছবি তোলার দায়ে বাঙালি বংশোদ্ভূত শিক্ষকের ছয় বছরের কারাদণ্ড

ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারে স্কুলছাত্রীদের পোশাকের নিচের অংশের ছবি গোপনে তোলা এবং শিশুদের ছবি ব্যবহার করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এআই ছবি তৈরিসহ একাধিক অপরাধে সাবেক সাপ্লাই শিক্ষক আবুসালি রহমানকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বল্টন ক্রাউন কোর্ট এ সাজা ঘোষণা করেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সালফোর্ডের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী রহমান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক।    রহমান বল্টন, বুরি ও সালফোর্ডের সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাপ্লাই শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ক্লাস চলার সময় এবং স্কুলের অন্য স্থানেও আইফোন ব্যবহার করে ছাত্রীদের অজান্তে ছবি তুলতেন। তদন্তে এ ধরনের শতাধিক ছবি পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা ছবিও তিনি এআই দিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবিতে রূপান্তর করেছিলেন।    গত ২৮ মে রহমান আদালতে মোট ২১টি অপরাধের দায় স্বীকার করেন। এর মধ্যে শিশুদের গোপনে তোলা অশালীন ছবিসংক্রান্ত ১২টি অভিযোগ ছাড়াও এআই ছবি তৈরি ও প্রকাশ এবং একটি ছবি অন্যের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। অপরাধগুলো ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।    এক অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সন্তানের স্কুলের পোশাক পরা ছবি ছড়িয়ে পড়তে দেখে উদ্বেগ জানানোর পর তদন্ত শুরু হয়। ২০২৫ সালের জুনে রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কোনো স্কুলে কাজ করেননি বলে জানিয়েছে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে যৌন অপরাধীদের নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২০ বছরের জন্য স্কুলে কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ২০:৬
নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরতে হয়েছে ১২ হাজার ৭০০ প্রযুক্তিকর্মী
নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরতে হয়েছে ১২ হাজার ৭০০ প্রযুক্তিকর্মী

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরেছেন প্রায় ১২ হাজার ৭০০ প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী। জনবল নিয়োগ প্রতিষ্ঠান এক্সফেনোর তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ খবর জানিয়েছে ভারতের ইকোনমিক টাইমস। পুরো বছর শেষে ফেরত আসা কর্মীর সংখ্যা গত বছরের ১৫ হাজার ১০০ জনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির ধারণা।    এক্সফেনোর হিসাবে, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরেছিলেন ৭ হাজার ২০০ প্রযুক্তিকর্মী। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি বেড়ে হয় ৯ হাজার ৮০০। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের হিসাব এরই মধ্যে ২০২৪ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়েছে।    একই সময়ে ভারত থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ প্রযুক্তিকর্মী যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যে কর্মীদের যাতায়াত অব্যাহত থাকলেও ভারতে ফেরার সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেড়েছে। এক্সফেনোর এই হিসাবে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিকর্মী রয়েছেন; এটি শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের সংখ্যা নয়। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৯:২৫
যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলারে প্রাইভেট আইল্যান্ডসহ বাড়ি, রয়েছে ১৮০০ সালের খামারবাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলারে প্রাইভেট আইল্যান্ডসহ বাড়ি, রয়েছে ১৮০০ সালের খামারবাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের মিডলসেক্স এলাকায় ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলার দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে প্রায় ২৩ একর জমির একটি সম্পত্তি। এতে রয়েছে র‍্যাপাহ্যানক নদীর তীরে বালুকাময় সৈকত, ১৮০০ সালের একটি খামারবাড়ি এবং নিজস্ব প্রায় এক একরের প্রাইভেট আইল্যান্ড।    রিয়েল এস্টেটবিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েল্টর ডটকমের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্পত্তিটিকে সপ্তাহের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাড়ির তালিকায় শীর্ষে রাখা হয়েছে। সম্পত্তিটির মূল আকর্ষণ ‘অয়েস্টার হাউস’ নামের প্রাইভেট আইল্যান্ড। নদীর মাঝখানে অবস্থিত দ্বীপটিতে রয়েছে একটি দোতলা বাড়ি। ওপরের তলায় দুটি শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, বসার ঘর ও একটি বাথরুম রয়েছে। নিচের তলাটিও আংশিকভাবে নির্মিত, সেখানে বাথরুম তৈরির প্রাথমিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সম্পত্তিতে ছোট নৌকা নামানোর জন্য একটি বোট র‍্যাম্পও রয়েছে।   মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত ১৮০০ সালের খামারবাড়িটির সঙ্গে রয়েছে পুরোনো পোস্ট অফিস ও দোকানঘর। প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট নদীতীরজুড়ে বিস্তৃত এই সম্পত্তিতে বালুকাময় সৈকত ছাড়াও রয়েছে ব্যক্তিগত পুকুরে যাওয়ার পথ। নদীর তীরবর্তী অবস্থান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে সম্পত্তিটি সাধারণ আবাসিক বাড়ির তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করছে।   তবে সম্পত্তিটি কেনার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। দ্বীপে যাওয়ার সংযোগপথটি আগে গাড়ি চলাচলের উপযোগী থাকলেও বর্তমানে সেটি মেরামত করা প্রয়োজন। ভাটার সময় পথটি ব্যবহার করে দ্বীপে যাওয়া সম্ভব বলে বিক্রির বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মূল খামারবাড়িটি থেকে আগের ভাড়াটিয়ার জিনিসপত্র সরানোর কাজ চলায় সেটি পরিদর্শনের জন্য সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ থাকতে পারে।   রিয়েল্টর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটি আগে ভাড়া দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে ভবিষ্যতে ভাড়ার মাধ্যমে আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের আয় নিশ্চিত নয়। সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়ির বর্তমান অবস্থা, সংস্কার ব্যয়, দ্বীপে যাতায়াতের সুবিধা এবং সম্পত্তি ব্যবহারের প্রযোজ্য বিধিনিষেধ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।   ২৯৭৭ বুটিলো রোডের এই সম্পত্তিটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলার দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রাইভেট আইল্যান্ড, ঐতিহাসিক খামারবাড়ি এবং নদীতীরবর্তী বিস্তৃত জমির সমন্বয়ে তৈরি এই সম্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসনবাজারে ব্যতিক্রমী একটি বিক্রয়প্রস্তাব হিসেবে নজর কেড়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৯:৫
বিশ্ববিদ্যালয় ডব্লিউইউএসটি
পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রে ষষ্ঠ বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ডব্লিউইউএসটি

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশি মালিকানাধীন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ২০২৬ সালের ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাপী ১১০টি দেশের ২ হাজার ১৬টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রকাশিত এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ১,১২৯তম। মোট ১০ হাজার নম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ৫ হাজার ২৩৭ দশমিক ৫ নম্বর।   বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা আবুবকর হানিপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ করেন। এর আগে এটি আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটি নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে নাম পরিবর্তন করে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটির এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি উদ্যোক্তার মালিকানাধীন একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে অবস্থান অর্জনের ঘটনা হিসেবে গুরুত্ব বহন করছে।   ইউআই গ্রিনমেট্রিক ইন্দোনেশিয়ার ইউনিভার্সিটাস ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোগে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিং কার্যক্রম। এর মূল লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশগত দায়বদ্ধতা, ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম মূল্যায়ন করা। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাগত মান, ডিগ্রির মর্যাদা কিংবা গবেষণার সামগ্রিক উৎকর্ষের র‌্যাঙ্কিং নয়। বরং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।   ২০২৬ সালের মূল্যায়নে সাতটি বিভাগ বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো অবস্থান ও অবকাঠামো, জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, শিক্ষা ও গবেষণা এবং পরিচালনা ও ডিজিটালায়ন। এসব বিভাগের আওতায় জ্বালানি সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, পানি সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত, টেকসই উন্নয়নবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনাব্যবস্থার মতো বিষয় মূল্যায়ন করা হয়।   বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তনে পঞ্চম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অষ্টম, শিক্ষা ও গবেষণায় চতুর্থ এবং পরিচালনা ও ডিজিটালায়নে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। এ ছাড়া পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন বিভাগে সপ্তম এবং অবস্থান ও অবকাঠামো বিভাগে ১৪তম স্থান পেয়েছে বলে প্রকাশিত ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়টির টেকসই উন্নয়নবিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউআই গ্রিনমেট্রিক র‌্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জমা দেওয়া হয়। গত ৩০ জুন আবেদন জমা দেওয়ার সময় সাতটি মূল্যায়ন বিভাগের আওতায় ৩০০ পৃষ্ঠারও বেশি প্রমাণপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টির টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের নথিপত্র প্রস্তুত ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় গবেষণা কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করেছে।   বিশ্ববিদ্যালয়টির এই অবস্থান পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের একটি আন্তর্জাতিক তুলনামূলক মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে র‌্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ষষ্ঠ স্থান অর্জনের অর্থ এই নয় যে বিশ্ববিদ্যালয়টি সামগ্রিক শিক্ষাগত মানের দিক থেকে দেশটির ষষ্ঠ সেরা প্রতিষ্ঠান। এই তালিকায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশগত কার্যক্রম ও নির্ধারিত সূচকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।   উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইউআই গ্রিনমেট্রিকের এই মূল্যায়ন আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম তুলনা করার সুযোগ তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলটির জন্যও এই ফলাফল ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মূল্যায়নভিত্তিক মানদণ্ড হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৯:২৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে হিন্দু মন্দিরে
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে হিন্দু মন্দিরে গু লি ব র্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে একটি হিন্দু মন্দিরে ব্যাপক গুলিবর্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পালাটাইনের বাসিন্দা ওই তরুণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়া এবং বেআইনিভাবে ছোট ব্যারেলের রাইফেল রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।    পুলিশ জানায়, পাপোরাকিসের পাঠানো উদ্বেগজনক বার্তার কথা এক ব্যক্তি মাউন্ট প্রসপেক্ট পুলিশকে জানান। সেখান থেকে খবর পেয়ে গত রোববার (১১ অক্টোবর) তাঁকে গ্রেপ্তার করে পালাটাইন পুলিশ। তদন্তে গুলিবর্ষণের পরিকল্পনা তুলে ধরে লেখা একটি নথির সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, কয়েক শ গুলি এবং শরীরের সুরক্ষাবর্মসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নথিতে দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতার কথা রয়েছে। উদ্ধার করা একটি ভেস্টে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী চরমপন্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীকও পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।    বৃহস্পতিবার পুলিশ নতুন করে জানায়, পাপোরাকিসের নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি রোববার দুপুরে অরোরার একটি হিন্দু মন্দিরের পার্কিংয়ে ঢুকে প্রায় ১৩ মিনিট পর বেরিয়ে যায়। তবে পুলিশ মন্দিরটির নাম প্রকাশ করেনি। অরোরার শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুমকির পর সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।    বুধবার কুক কাউন্টির আদালত পাপোরাকিসকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর। তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করছে এফবিআই।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৮:২৮
বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশি মানুষের দীর্ঘ সারি
নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার নিতে বাংলাদেশিদের দীর্ঘ সারি, কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের উপস্থিতি নিয়ে কখনো কখনো কমিউনিটির মধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়। সম্প্রতি বাফেলো শহরের ইস্ট সাইডে অবস্থিত রেসপন্স টু লাভ সেন্টারের খাদ্যসহায়তা কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ সারির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। ছবিটি ঘিরে কেউ কেউ বাংলাদেশি কমিউনিটির আত্মসম্মান ও সামাজিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসীদের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মানুষ, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বসবাস রয়েছে। বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করে। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন পটভূমির মানুষ অংশ নেন। তবে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি অন্যদের তুলনায় বেশি এমন দাবি করেন কমিউনিটির কেউ কেউ।   ছবিটি ঘিরে কমিউনিটির একাংশের প্রশ্ন, যাঁদের খাবার কেনার সামর্থ্য রয়েছে, তাঁরাও কি শুধু বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন? তাঁদের মতে, প্রকৃত প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কেউ খাদ্যসহায়তা নিলে অভাবী মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকা সম্পদের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, এমন দৃশ্যের কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটি সম্পর্কে অন্যদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।   তবে অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ বিল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। বাইরে থেকে স্বচ্ছল মনে হলেও তাদের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই বিনামূল্যে খাবার নিতে লাইনে দাঁড়ানো মানেই কেউ অপ্রয়োজনীয় সুবিধা নিচ্ছেন এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। প্রকৃত প্রয়োজনের সময় খাদ্যসহায়তা গ্রহণ লজ্জার বিষয়ও নয়।   বাফেলোর রেসপন্স টু লাভ সেন্টার স্থানীয় মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা ও রান্না করা খাবার সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে খাবার সংগ্রহ করে এবং স্থানীয় ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও অনুদান পায়। তবে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়, আর্থিক অবস্থা কিংবা বিতরণ করা খাবারের নির্দিষ্ট উৎস স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   কমিউনিটির সদস্যদের মতে, যাঁদের সত্যিই সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো যেমন জরুরি, তেমনি যাঁদের সামর্থ্য রয়েছে, তাঁদের উচিত অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সম্ভব হলে এসব প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া। একই সঙ্গে কয়েকজন মানুষের উপস্থিতি বা আচরণের ভিত্তিতে পুরো বাংলাদেশি কিংবা মুসলিম কমিউনিটিকে বিচার করাও অন্যায়। বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি তাই আত্মসম্মান, আর্থিক বাস্তবতা ও সামাজিক দায়িত্ব এই তিনটি দিক থেকেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৯:২৬
খরচের চাপে বাড়িওয়ালা
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়ার চাপে ভাড়াটিয়া, খরচের চাপে বাড়িওয়ালাও

নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নতুন বাসা খোঁজা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরে সিটিজুড়ে ভাড়ার বিজ্ঞাপনে মধ্যম চাওয়া ভাড়া ছিল মাসে ৪ হাজার ১৫০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ভাড়াটিয়ারা সামর্থ্যের মধ্যে বাসা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে কোনো বাসা খালি থাকলে মর্টগেজ, সম্পত্তি কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়িওয়ালাকে বহন করতে হচ্ছে।    স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া উদাহরণে গত পাঁচ বছরে ভাড়ার পরিবর্তন স্পষ্ট। আগে যে বেসমেন্ট ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে পাওয়া যেত, সেটির জন্য এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ডলার চাওয়া হচ্ছে। দুই রুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে কোথাও ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে। একটি রুমের জন্য আগে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার দিতে হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার লাগছে। এগুলো বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতার উদাহরণ; এলাকা ও বাসার ধরনভেদে ভাড়া আলাদা।   ভাড়াটিয়াদের জন্য শুধু মাসিক ভাড়াই সমস্যা নয়। বাসা বদলাতে গেলে নতুন বাসার জামানত, স্থানান্তরের খরচ এবং সম্ভাব্য বাড়তি ভাড়াও হিসাবে রাখতে হচ্ছে। কারও কারও অভিজ্ঞতায় পুরোনো বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় উঠলে মাসে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার গুনতে হতে পারে। ফলে বর্তমান বাসার ভাড়া কষ্টকর হলেও অনেকে সেখানেই থেকে যাচ্ছেন।   বাড়িওয়ালাদের চাপের ধরন ভিন্ন। ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর বাসা খালি থাকলে ভাড়া থেকে আয় বন্ধ হয়, কিন্তু মর্টগেজের কিস্তি, সম্পত্তি কর, বিমা ও মেরামতের খরচ থেমে থাকে না। এ কারণে কেউ কেউ বেশি ভাড়ার অপেক্ষায় থাকার পরিবর্তে নিয়মিত ভাড়া দেবেন এমন ভাড়াটিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের পক্ষ থেকে মেরামত, পানি ও হিটিংয়ের ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের কথাও উঠে আসছে।   রুম ভাড়া ও রুমমেট খোঁজার ক্ষেত্রেও বাজেটের সঙ্গে উপলব্ধ বাসস্থানের মিল পাওয়া কঠিন হচ্ছে বলে বাসিন্দাদের বর্ণনায় এসেছে। একটি অ্যাপার্টমেন্টের পুরো ভাড়া বহন করতে না পেরে অনেকে খরচ ভাগাভাগি করেন। রুম খালি থাকলে সেই খরচ আবার একজনের ওপরই পড়ে।   তবে কিছু বাড়িওয়ালার ভাড়াটিয়া পেতে দেরি হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে পুরো সিটিতে ভাড়ার চাহিদা কমেছে বলা যায় না। স্ট্রিটইজির হিসাবে, সেপ্টেম্বরে তাদের প্ল্যাটফর্মে ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত বাসার সংখ্যা এক বছর আগের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম ছিল। সিটির সর্বশেষ সরকারি আবাসন জরিপেও, যা ২০২৩ সালে করা হয়েছিল, ভাড়ার জন্য খালি বাসার হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাসা বা রুম খালি থাকার সমস্যা থাকলেও সিটিজুড়ে সাশ্রয়ী বাসার সংকট রয়ে গেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৭:২৪
অনলাইন নজরদারি
অনলাইন বিজ্ঞাপনের আড়ালে নজরদারির প্রমাণ মিলেছে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ঘিরে

ইসরায়েলভিত্তিক বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান ডিসকভার-টেক অনলাইন বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও অনুসরণ করেছে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির ডিভাইসে স্পাইওয়্যার পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত পৃথক গবেষণায় কানাডার সিটিজেন ল্যাব ও যুক্তরাষ্ট্রের কনফিয়ান্ট এ তথ্য জানিয়েছে। গবেষকদের মতে, হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তির বিজ্ঞাপনে ক্লিক করারও প্রয়োজন ছিল না।    সিটিজেন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট এবং ৭৫ হাজার অ্যাপে প্রদর্শিত হয়েছে। বিজ্ঞাপন লোড হওয়ার সময় ব্যবহারকারীর ডিভাইসের কিছু শনাক্তকারী তথ্য প্রতিষ্ঠানটির সার্ভারে পৌঁছাত। গবেষকদের অভিযোগ, নির্বাচিত ডিভাইসে একই ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিকর কোড পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপে বিজ্ঞাপনটি দেখা গেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর ডিভাইস স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে, এমন নয়।    গবেষণায় সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ডিভাইসে চালানো হামলার ক্ষেত্রে। সিটিজেন ল্যাব জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ৪৫টি ডিভাইসকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। আল জাজিরার দেওয়া নেটওয়ার্ক তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকটি ডিভাইসে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা ক্যান্ডিরুর সফটওয়্যার সংক্রমণের প্রমাণও পেয়েছেন গবেষকেরা। আল জাজিরা কর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং তাদের ডিভাইস ও তথ্য সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে।    গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ, ন্যাটো এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কেও ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। তবে এসব নেটওয়ার্কে বিজ্ঞাপন পৌঁছানোর তথ্য থেকে সেখানে কারও ডিভাইসে স্পাইওয়্যার সংক্রমণ হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।    প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তদন্তে সহযোগিতা করে গুগল ডিসকভার-টেককে তাদের বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞাপন খাতের সংগঠন আইএবি ইউরোপও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ডিসকভার-টেকের অবস্থান স্থগিত করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে ডিসকভার-টেক ও ক্যান্ডিরুর পক্ষ থেকে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৬:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টেই প্রায় বছরের আয়

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেপ্টেম্বরের মধ্যম দামের একটি পুরোনো একক পরিবারের বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট লাগবে ৮৪ হাজার ৫৪০ ডলার। এটি দেশটির একটি পরিবারের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক আয়ের প্রায় ৯৭ শতাংশ। তরুণদের বাড়ি কেনার বাধা নিয়ে ফক্স নিউজে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধের হিসাব সর্বশেষ আবাসন তথ্য দিয়ে মিলিয়ে দেখলে এই চিত্র পাওয়া যায়।    ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এ ধরনের বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৭০০ ডলার। অন্যদিকে, আদমশুমারি বিভাগের হিসাবে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ডাউন পেমেন্টের হিসাবটি জাতীয় মধ্যম দাম ও আয় দিয়ে করা তুলনা; কোনো নির্দিষ্ট ক্রেতার খরচ এতে বোঝানো হচ্ছে না।    আশির দশকে মর্টগেজের সুদ বেশি ছিল বলে সে সময় বাড়ি কেনাও কঠিন ছিল। তবে বাড়ির দাম ও আয়ের অনুপাত ছিল ভিন্ন। সরকারি আবাসন তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে পুরোনো একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম দাম ছিল ৭২ হাজার ৪০০ ডলার। এর ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৪ হাজার ৪৮০ ডলার, ছিল তখনকার পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ। একই ধরনের বাড়ির জন্য এখন সেই অনুপাত প্রায় ৯৭ শতাংশ।    বাড়ির জন্য টাকা জমানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তিও ক্রেতাদের হিসাবে রাখতে হচ্ছে। ফ্রেডি ম্যাকের ১৫ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদি নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর সঙ্গে সম্পত্তিকর, বিমা ও বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যোগ হয়।    তবে বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বাধ্যতামূলক নয়। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ক্রেতারা কিছু ঋণ কর্মসূচিতে ৩ শতাংশ দিয়েও বাড়ি কিনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ বাড়ে এবং সাধারণত মাসিক প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচ দিতে হয়। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৬:২৫
২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ
২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা এখনো অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি বা গ্রিন কার্ড লটারি চালু করতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় লটারিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জিনসুক ওহতা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের অনুরোধে নিবন্ধন ও ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের তারিখ ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে।   কেন আদালতের নির্দেশ দিতে হলো? ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল গত ১৯ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, প্রতিবছর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকা এই কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় আবেদনকারীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত অর্থবছরের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন লটারি পরিচালনা করা আইনগতভাবে জটিল। দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার পর বিচারক ওহতা ১৪ অক্টোবর আবেদনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে ২০২৭ সালের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যদিও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।   আবেদন কবে শুরু হবে, ফলাফল কবে জানা যাবে? আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের শুরু ও শেষের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। এরপর ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে এবং নিবন্ধনের সময়কাল হবে ৩০ দিন। আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জানানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, ১ নভেম্বর একটি নির্ধারিত সময়সীমা; পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত উদ্বোধনের তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন চালু হলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।   বাংলাদেশিরা কি এবার আবেদন করতে পারবেন? বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ২০২৭ সালের লটারিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না। সর্বশেষ প্রকাশিত ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির নির্দেশনায় বাংলাদেশকে অযোগ্য দেশের তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৭ সালের লটারির জন্য যোগ্য দেশের নতুন তালিকা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হয়েছে, কিংবা বাংলাদেশ এবারও অযোগ্য থাকবে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ মূলত লটারি চালু করা নিয়ে; এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা নিশ্চিত করে না। নতুন তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।   নতুন আবেদনে কী কী পরিবর্তন থাকতে পারে? ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তনের বিধান রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের বৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া পাসপোর্টের তথ্য এবং পাসপোর্টের পরিচিতিমূলক ও স্বাক্ষরসংবলিত পাতার স্ক্যান জমা দিতে হবে, যদি তাঁরা নির্ধারিত কোনো ব্যতিক্রমের আওতায় না পড়েন। এ ছাড়া নিবন্ধনের সময় এক ডলার ফি দেওয়ার বিধানও রয়েছে। অতীতে ডিভি লটারিতে নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা যেত; তাই নতুন আবেদনকারীদের পুরোনো নির্দেশনার ওপর নির্ভর না করে ২০২৭ সালের আনুষ্ঠানিক নিয়ম পড়ে নেওয়া জরুরি।    বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসার সুযোগ: যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন হয়েছে এমন দেশগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হলেও তাঁদের শিক্ষা বা নির্ধারিত কাজের অভিজ্ঞতা, পরিচয় এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। নির্বাচিত হওয়ার পরও ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশি আবেদনপ্রত্যাশীদের জন্য তাই যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদন শুরুর সরকারি ঘোষণা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনকারীদের প্রতি সতর্কতা: পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন চালু হয়েছে বলে দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ অর্থের বিনিময়ে আগাম আবেদন, নিশ্চিত নির্বাচন কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দিলে সেই দাবি বিশ্বাস করা উচিত নয়। সরকারি নির্দেশনা ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট এবং সরকারি ডিভি আবেদন পোর্টাল অনুসরণ করতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৫:৪০
বিএমএএনএ-জিএর সহযোগিতায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে বিএমএএনএ-জিএর সহযোগিতায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি স্বাস্থ্যবিমাহীন বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা, জর্জিয়া চ্যাপ্টারের (বিএমএএনএ-জিএ) সহযোগিতায় এই ফ্রি ক্লিনিক পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডোরাভিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   ক্লিনিকটির ঠিকানা ২০০০ ক্লিয়ারভিউ অ্যাভিনিউ, স্যুইট ২০৫, ডোরাভিল, জর্জিয়া ৩০৩৪০। স্বাস্থ্যবিমা নেই এমন রোগীরা জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী এই সেবা পাওয়ার যোগ্য হবেন। ক্লিনিকে চিকিৎসক দেখানোর জন্য কোনো ফি নেওয়া হবে না। তবে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়ার আগে যোগ্যতার শর্ত ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ক্লিনিকে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের নিয়মিত ব্যবস্থাপনা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। তবে এখানে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগসংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয় না। রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করাই এই ক্লিনিকের সেবার অন্যতম উদ্দেশ্য।   চিকিৎসাসেবা নিতে আগ্রহীদের বিএমএএনএ-জিএর ওয়েবসাইট www.bmanaga.org-এর মাধ্যমে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হবে। কারিগরি সমস্যার কারণে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া সম্ভব না হলে নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টায় ক্লিনিকে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন আয়োজকেরা।    ক্লিনিকের তারিখ পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সময়সূচি নিশ্চিত করে নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   ক্লিনিকটির সঙ্গে কোয়েস্ট ডায়াগনস্টিকসের চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় রোগীদের রক্ত পরীক্ষার জন্য একটি ভাউচার দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে জর্জিয়ার কোয়েস্ট ডায়াগনস্টিকস কেন্দ্রে ছাড়ের মূল্যে পরীক্ষা করানো যায়। তবে রক্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য খরচ ও শর্ত সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।   এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি মোহাম্মদ আরেফিন (বাবুল) এর সঙ্গে ৪০৪-৫৫২-৩২৪১ নম্বরে এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আহসান শান্তর সঙ্গে ৪০৪-৫৪২-০৭১৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। ক্লিনিকের সময়সূচি, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও অন্যান্য তথ্যের জন্য আয়োজকদের ওয়েবসাইটেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৯:২৬
ড. ফয়জুল ইসলামের উদ্যোগে পরিচালিত এসব কার্যক্রম
গ্রামের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, কম্পিউটার শিক্ষা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কেএআইএফ ফাউন্ডেশন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা কেএআইএফ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাংলাদেশের একটি গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড. ফয়জুল ইসলামের উদ্যোগে পরিচালিত এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো গ্রামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।   ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত জহিরউদ্দিন–হরমুজা ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা দুটি বিভাগ রয়েছে। নিয়মিত বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে সপ্তাহে চার দিন এসব ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হতে পারে।   ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে রয়েছে জহিরউদ্দিন–হরমুজা কম্পিউটার সেন্টার। এখানেও নিয়মিত বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে সপ্তাহে চার দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার যেসব শিক্ষার্থীর নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ সীমিত, তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে কাজে আসতে পারে।   শিক্ষা ও প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এই উদ্যোগে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে রয়েছে জহিরউদ্দিন–হরমুজা মেডিকেল সেন্টার। কেন্দ্রটিতে বিনামূল্যে বহির্বিভাগের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। প্রতি শুক্রবার, অর্থাৎ স্থানীয় হাটের দিনে, চিকিৎসাকেন্দ্রটি খোলা থাকে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান। তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, কোন কোন স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে কতজন রোগী সেবা নেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   কেএআইএফ ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের লর্টন ও স্প্রিংফিল্ড এলাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অলাভজনক সংস্থা। সংস্থাটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা ও ধর্মীয় দাতব্য কর্মকাণ্ডে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয় বলে জানানো হয়েছে। ফাউন্ডেশনটির অর্থায়নে পরিচালিত ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কম্পিউটার সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার একই এলাকার মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।   ড. ফয়জুল ইসলাম প্রায় ৩০ বছর ধরে দাতব্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফাউন্ডেশনের অর্থায়নের পরিমাণ, প্রকল্পগুলোর বার্ষিক ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা এবং কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে উদ্যোগগুলোর প্রকৃত ব্যাপ্তি ও প্রভাব মূল্যায়নের জন্য এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।   গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার একটি উদাহরণ। কেএআইএফ ফাউন্ডেশনের এসব উদ্যোগ কতসংখ্যক শিক্ষার্থী ও রোগীর কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা নির্দিষ্ট তথ্যের মাধ্যমে জানা গেলে এর সামাজিক প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।   স্যাম রিয়া ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিনিধি 

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৫:৩৬
বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানা সর্বনিম্ন
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় পাঁচ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানা সর্বনিম্ন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার দক্ষিণ এশীয় পাঁচটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বনিম্ন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের ১ মে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি-প্রধান পরিবারের মাত্র ৫১ শতাংশের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। একই তুলনায় শ্রীলঙ্কান পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার ৬৪ শতাংশ, ভারতীয় পরিবারের ৬২ শতাংশ, পাকিস্তানি পরিবারের ৬০ শতাংশ এবং নেপালি পরিবারের ৫৫ শতাংশ। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার এশীয় পরিবারগুলোর সামগ্রিক হারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।   বাড়ির মালিকানার এই ব্যবধানের পাশাপাশি বাংলাদেশি পরিবারের আয়ের চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-প্রধান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৭৮ হাজার ৪০০ ডলার। একই সময়ে এশীয়-প্রধান পরিবারের সামগ্রিক মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলার। অর্থাৎ, দুই শ্রেণির পরিবারের মধ্যম আয়ের ব্যবধান ২৭ হাজার ২০০ ডলার। মধ্যম আয় বলতে বোঝায়, সংশ্লিষ্ট পরিবারের অর্ধেকের আয় নির্ধারিত অঙ্কের নিচে এবং বাকি অর্ধেকের আয় তার ওপরে। এটি গড় আয়ের সমতুল্য নয়।   দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য জনগোষ্ঠীর আয়ের পরিসংখ্যানেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতীয়-প্রধান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ২০০ ডলার এবং শ্রীলঙ্কান-প্রধান পরিবারের ক্ষেত্রে তা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ডলার। পাকিস্তানি-প্রধান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ১০০ ডলার। এসব পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাড়ির মালিকানার হার তুলনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আয় ও আবাসন পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। তবে শুধু আয়ের পরিসংখ্যান দিয়ে বাড়ির মালিকানার ব্যবধানের সম্পূর্ণ কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না।   বিশেষভাবে লক্ষণীয়, শ্রীলঙ্কান পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ভারতীয় পরিবারের তুলনায় কম হলেও তাদের বাড়ির মালিকানার হার বেশি। শ্রীলঙ্কান পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ৬৪ শতাংশ, আর ভারতীয় পরিবারের ক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ, আয়ের পরিমাণই বাড়ির মালিকানা নির্ধারণের একমাত্র বিষয় নয়। পরিবারের সঞ্চয়, বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা, মর্টগেজ পাওয়ার যোগ্যতা, ক্রেডিট স্কোর, ঋণের শর্ত এবং বসবাসের এলাকার বাড়ির দামও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব কারণের কোনটি বাংলাদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানতে আলাদা গবেষণা প্রয়োজন।   বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর বসবাসের ভৌগোলিক চিত্রেও উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শুধু বাংলাদেশি পরিচয় দেওয়া প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মধ্যে ১ লাখ ১৫ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ শতাংশ, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বসবাস করতেন। এ ছাড়া মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও  উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। নিউইয়র্ক মহানগর এলাকায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। তবে অঙ্গরাজ্য ও মহানগর এলাকাভেদে বাড়ির মালিকানার হার কতটা আলাদা, তা নির্ধারণের জন্য পৃথক আঞ্চলিক তথ্য প্রয়োজন।   আয়ের পাশাপাশি দারিদ্র্যের পরিসংখ্যানও বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে সহায়তা করে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর ১৪ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এশীয় জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান থেকে বাড়ির মালিকানা কম থাকার একমাত্র কারণ দারিদ্র্য বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণের শর্ত, আবাসন ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক দায়বদ্ধতা একসঙ্গে বাড়ি কেনার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।   এখানে বাড়ির মালিকানার পরিসংখ্যানটি কী বোঝায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ৫১ শতাংশ বলতে বাংলাদেশি-প্রধান পরিবারের মধ্যে কত শতাংশ পরিবারের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, তা বোঝানো হয়েছে। এটি মোট বাংলাদেশি ব্যক্তির মধ্যে কত শতাংশ বাড়ির মালিক, সেই হিসাব নয়। একইভাবে এই হার দিয়ে কোনো জনগোষ্ঠী কতজন নতুন বাড়ি কিনেছে, কত দ্রুত বাড়ি কিনছে কিংবা তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ কত, তা নির্ধারণ করা যায় না। পিউ রিসার্চ সেন্টার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর তুলনাযোগ্য তথ্য পেতে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণাটি ২০২৫ সালে প্রকাশিত হলেও এর পরিসংখ্যানকে ২০২৬ সালের সরাসরি বর্তমান হার হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার দক্ষিণ এশীয় পাঁচটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বনিম্ন এবং এশীয় পরিবারগুলোর সামগ্রিক হারের চেয়ে ১১ শতাংশ পয়েন্ট কম। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয়ও এশীয় পরিবারগুলোর সামগ্রিক মধ্যম আয়ের তুলনায় কম। এই তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পরিবারের আবাসন পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। তবে এই ব্যবধানের কারণ নির্ধারণ এবং কীভাবে আরও বেশি বাংলাদেশি পরিবার বাড়ির মালিক হতে পারে, তা বুঝতে মর্টগেজ পাওয়ার সুযোগ, সঞ্চয়, বাড়ির দাম, আয় ও সম্পদের ওপর আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:২৫
ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকার অস্বীকার করে টিকতে পারবে না ইসরাইল: ওবামা
ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকার অস্বীকার করে টিকতে পারবে না ইসরাইল: ওবামা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইসরাইলের বর্তমান নীতি ও সামরিক আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কেবল সামরিক ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।   বরং ফিলিস্তিনিদের কোনো ধরনের ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানানোর যে নীতি ইসরাইল গ্রহণ করেছে, তা দেশটিকে নৈতিকভাবে দুর্বল করে তুলবে। গত মঙ্গলবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে পুরস্কারজয়ী লেখক ও সাংবাদিক সুসান ম্যাকের সঙ্গে এক বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বেলফাস্ট টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।   গাজায় ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, এই ভয়াবহ সহিংসতা সবার জন্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক হওয়া উচিত। দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ক্ষোভ, অনমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং গভীর বিভাজনের ওপর ভিত্তি করেই এই ধ্বংসাত্মক চক্র টিকে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ইউরোপে ইহুদিদের দীর্ঘকাল ধরে নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঐতিহাসিক সত্যতা স্বীকার করে নিলেও সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিরাও তাদের নিজস্ব ভূমি হারানোর মাধ্যমে চরম মাত্রায় অবিচারের শিকার হয়েছেন। এটি এক অনস্বীকার্য সত্য যে, ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসন চালানো হয়েছে, যার ফলে ভুক্তভোগীরা আজ নিজেদের ভূমি ফেরত ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলছেন।   বারাক ওবামার মতে, সংঘাতের এই অমানবিক চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে ইসরাইলের দায়িত্ব অনেক বেশি। তিনি বলেন, ইসরাইল যদি মনে করে অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত হওয়ার কারণে তারা যা খুশি তাই করবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেবে না, তবে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।   এমন অবস্থান হয়তো স্বল্পমেয়াদে কাজ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইল তার নৈতিক ভিত্তি হারাবে। ইসরাইলের বর্তমান সরকার সম্ভবত এই ভুল পথটিই বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইসরাইলকে বাস্তব পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওবামা স্পষ্ট করে বলেন, ৭০ লাখ ফিলিস্তিনি এই অঞ্চলেই থেকে যাবে, তারা কোথাও যাচ্ছে না; তাই এই ধ্রুব সত্যকে মেনে নিয়েই সমাধানের পথে হাঁটা উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৩:১৬
পোশাকশ্রমিক
১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে সংসার চলে না, ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রাজপথে পোশাকশ্রমিক

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া বেতন পরিশোধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর সকালে আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়।    দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো উত্তরা এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন দেখা যায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা নিয়েও তাঁদের অসন্তোষ রয়েছে। এর আগে একই দাবিতে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন।    বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলার পর শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কর্মস্থলগামী মানুষ, গণপরিবহনের যাত্রী ও পথচারীরা এ সময় দুর্ভোগে পড়েন।    শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মনোনয়ন চেয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার পর বোর্ড গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।    বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন। তবে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি হিসেবে নির্ধারণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। মজুরি বোর্ডের আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।    বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কারখানার স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৩:১৫
শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার
মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শুরু হলো নতুন প্রক্রিয়া

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের সরকারি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ, ভিসাসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং কর্মীদের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।    মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরির চাহিদাপত্র বা জব অর্ডার সংগ্রহ করতে পারবে। এরপর বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসারে কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।   বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে। কর্মীদের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রও প্রয়োজন হবে।    বাংলাদেশের বহু মানুষের জন্য মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে প্রবাসে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশের রেমিট্যান্স খাতও উপকৃত হতে পারে। তবে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি পাওয়া আর সব কর্মীর আবেদন, নির্বাচন ও বিদেশযাত্রা সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। নিয়োগের বিস্তারিত সময়সূচি, যোগ্যতা, পেশাভিত্তিক চাহিদা এবং কর্মী নির্বাচনের চূড়ান্ত নিয়ম সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।    স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও চলমান বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন কোন কেন্দ্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো যাবে, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি।   চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘বিনা খরচে মালয়েশিয়া’ শিরোনামে কোনো দালাল বা অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কথায় টাকা না দেওয়া। সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা, চাকরির চুক্তিপত্র, ভিসা ও অন্যান্য শর্ত যাচাই না করে পাসপোর্ট জমা দেওয়া বা বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা উচিত নয়। বিনা খরচে নিয়োগের ঘোষণার আওতায় ঠিক কোন কোন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত হতে হবে।   সরকারের ঘোষিত উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বৈধ এজেন্সির অংশগ্রহণ বাড়ানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো। এখন আগ্রহী কর্মীদের নজর থাকবে আনুষ্ঠানিক আবেদনপদ্ধতি, নিয়োগের শর্ত এবং প্রথম ধাপের কর্মী নির্বাচনের ঘোষণার দিকে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৩:৪
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী প্রেমিকাকে হত্যার পর আ ত্মহ ত্যার নাটক, বিচারের মুখে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী প্রেমিকাকে হত্যার পর আ ত্মহ ত্যার নাটক, বিচারের মুখে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে গর্ভবতী প্রেমিকা স্যান্ড্রা বার্চমোরকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাথিউ ফারওয়েলের বিচারকাজ চলছে বোস্টনের ফেডারেল আদালতে। গত বুধবার এই মামলার শুনানিতে নিহত স্যান্ড্রার অগোছালো অ্যাপার্টমেন্ট ও অনাগত সন্তানের আল্ট্রাসাউন্ডের ছবি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।   প্রসিকিউটরদের দাবি, নিজেদের দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক ও স্যান্ড্রার গর্ভধারণের খবর স্ত্রীর কাছে ফাঁস হওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছিলেন তিন সন্তানের জনক ফারওয়েল। ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ক্যান্টন শহরের নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ২৩ বছর বয়সী স্যান্ড্রার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর সময় তিনি অন্তত আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন।   আদালতে উপস্থাপিত নথিতে ফারওয়েলের চরম অমানবিক আচরণের চিত্র উঠে এসেছে। প্রসিকিউটররা জানান, স্যান্ড্রার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, তখন থেকেই একটি শিশুতোষ কর্মসূচির আড়ালে ফারওয়েল তাকে প্রলোভন দেখাতে শুরু করেন এবং ১৫ বছর বয়স থেকে রীতিমতো যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন। এই সম্পর্কের একপর্যায়ে স্যান্ড্রা গর্ভবতী হয়ে পড়েন।   আদালতে জানানো হয়, খুনের ঠিক পরের দিনই ফারওয়েলের নিজের স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন। হত্যার আগে দুজনেই বিশ্বাস করতেন স্যান্ড্রার গর্ভের সন্তানটি ফারওয়েলের, যদিও হত্যার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে সেই ধারণাটি ভুল ছিল। আদালতে দেখানো অকুস্থলের ছবিগুলোতে স্যান্ড্রার ফ্রিজে চুম্বক দিয়ে আটকানো আল্ট্রাসাউন্ডের ছবি এবং মেঝেতে উল্টো করে রাখা একটি বেবি স্ট্রলারের বাক্স দেখা যায়, যা অনাগত সন্তান নিয়ে তার উচ্ছ্বাসের প্রমাণ দেয়।   স্যান্ড্রার সহকর্মী ও শ্যারনের ইস্ট এলিমেন্টারি স্কুলের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষিকা চেরিল কার্লসন আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, আত্মহত্যার এই সরকারি তত্ত্ব কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ স্যান্ড্রা তার সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন এবং শত বাধা সত্ত্বেও তিনি বাচ্চাটিকে জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।   অন্যদিকে, ফারওয়েলের আইনজীবীরা স্যান্ড্রার পুরোনো মানসিক অবসাদের ইতিহাস তুলে ধরে আদালতে এটিকে আত্মহত্যা প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রসিকিউটররা জোরালোভাবে জানিয়েছেন, স্যান্ড্রা মা হওয়ার আনন্দে আত্মহারা ছিলেন এবং অনাগত সন্তানের কথা ভেবে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি নিশ্চিতে চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১২:৫২
৪০০টি পরিবারের এক বছরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর খরচ বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। ছবি: সংগৃহীত
কঠিন সময়ে ৪০০ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাশমিকা মান্দানা; নিলেন পুরো এক বছরের খাবারের দায়িত্ব

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা ৪০০টি পরিবারের এক বছরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর খরচ বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের বাজারের খরচ জোগাবেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেছেন, তাঁর এই কাজ দেখে অন্যরাও সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন বলে আশা করেন তিনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা দেন রাশমিকা। সেখানে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। তবে আগে এসব কাজ প্রকাশ্যে আনতেন না। নিজের এবং তাঁর দলের কয়েকজন সদস্যের মধ্যেই বিষয়গুলো সীমাবদ্ধ থাকত।   রাশমিকা জানান, এবার উদ্যোগটি প্রকাশ্যে আনার কারণ অন্যদের অনুপ্রাণিত করা। তাঁর বিশ্বাস, একজন মানুষের ছোট উদ্যোগও অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে তিনি নিয়মিত এমন কাজ করে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন।   সহায়তা কর্মসূচির বিস্তারিত জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৪০০টি পরিবারকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ বহন করবেন তিনি। এতে পরিবারগুলো খাবারের পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।   ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত পোস্টে সহায়তার আওতায় কী কী খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, তার একটি তালিকাও তুলে ধরেছেন রাশমিকা। একই সঙ্গে অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হয় না। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি ভালো কাজও কারও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   নিজের পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাশমিকা জানান, অভিনয়জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ, কঠোর পরিশ্রম, শারীরিক আঘাত এবং মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবে সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর মুখে হাসি দেখে সেই কষ্টগুলো সার্থক মনে হয়েছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই আনন্দ তাঁর কাছে অমূল্য বলে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।   এদিকে রাশমিকার নতুন সিনেমা ‘রণবালি’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমাটিতে তিনি জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে নিজের সঙ্গে এই চরিত্রের মিলের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার দিক থেকে জয়াম্মার সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান বলে জানান রাশমিকা।   অভিনেত্রী বলেন, অনেকেই তাঁর কাছে জানতে চান, জয়াম্মা চরিত্রটির সঙ্গে বাস্তব জীবনে তাঁর কোনো মিল রয়েছে কি না। জবাবে তিনি জানান, অন্যের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি তাঁদের মধ্যে অন্যতম মিল।   ‘রণবালি’ সিনেমায় রাশমিকার সহশিল্পী বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এর পর এটি তাঁদের তৃতীয় যৌথ সিনেমা। রাহুল সাংকৃত্যায়ন পরিচালিত সিনেমাটির পটভূমি ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের গ্রেট মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘রণবালি’ আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগের দিন, ১৫ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার ২’ সিনেমার।   নতুন সিনেমা মুক্তির আগে ৪০০ পরিবারের এক বছরের খাদ্যসামগ্রীর দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাশমিকা। তবে কর্মসূচির আওতায় মোট কত অর্থ ব্যয় হবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১২:৫৮
নিহত নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস।
স্বামীর আগের বিয়ের খবর জানার পর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার দুইজন

চট্টগ্রামে স্বামীর আগের বিয়ের তথ্য জানার পর এক নারীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস তদন্তের পর এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত স্বামীসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।   নিহত নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁর বয়স ২৮ বছর। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংস্থাটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।   পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, জান্নাতুল একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট সিগন্যাল এলাকার বাসায় থাকতেন।   তদন্তকারীদের দাবি, রাজা মিয়া বিয়ের আগে নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর জান্নাতুল জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। এ তথ্য জানার পর তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিরোধের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা মিয়া এবং পরিচিত মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।   তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রথমে দাম্পত্য বিরোধ মেটাতে তাঁরা কালুরঘাট সেতুর কাছে এক কবিরাজের কাছে যান। সেখানে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে তাতেও বিরোধ না মেটায় জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পিবিআইয়ের দাবি।   ঘটনার দিন ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজা মিয়া ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই একটি সাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন মুসলিম উদ্দিন, আরমান এবং রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুক্কুর আহমেদ। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালের দিকে যায়।   পিবিআইয়ের দাবি, রাত আটটার দিকে নৌকার মধ্যে রাজা মিয়া ও জান্নাতুলের মধ্যে আবারও তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে রাজা মিয়া স্ত্রীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। এরপর তাঁর মুখ চেপে ধরা হয় এবং আরমান রশি দিয়ে তাঁর গলায় চাপ দেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এতে জান্নাতুলের মৃত্যু হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।   তদন্তকারীদের আরও দাবি, হত্যার পর জান্নাতুলের হাত-পা বেঁধে মরদেহ একটি বস্তায় ভরা হয়। পরে কর্ণফুলী থানার কালারপোল এলাকার কাছে শিকলবাহা খালে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   ২ আগস্ট কর্ণফুলী থানার অধীন শিকলবাহা খালে বস্তাবন্দি মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন। ঘটনার পর রাজা মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এরপর জান্নাতুলের মা সায়েরা খাতুন কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন।   প্রাথমিকভাবে সদরঘাট নৌ-পুলিশ মামলাটির তদন্ত করছিল। পরে ৬ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্র ব্যবহার করে পিবিআইয়ের একটি দল টেকনাফ থেকে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্কুর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা সাম্পান নৌকাটি জব্দ করা হয়।   পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মুসলিম উদ্দিন বুধবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত মামলার অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।   পিবিআই জানিয়েছে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাজা মিয়া ও আরমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার পরিকল্পনা, প্রত্যেকের ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১২:৩২
শিকাগোয় শপিং মলের পুকুরে নারীকে ডুবিয়ে হ ত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করলেন পথচারীরা
শিকাগোয় শপিং মলের পুকুরে নারীকে ডুবিয়ে হ ত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করলেন পথচারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর শহরতলিতে অবস্থিত একটি শপিং মলের পুকুরে এক নারীকে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সকালে স্কোকি এলাকার ওয়েস্টফিল্ড ওল্ড অরচার্ড মলে এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। স্কোকি পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী উইলিয়াম ডবস নামের ওই ব্যক্তি প্রথমে ওই নারীর পার্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন এবং পরে তাকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে ধরে রাখেন।   পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগী নারী একে অপরের পূর্বপরিচিত ছিলেন না। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মলের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই ডবস একটি ভারী ব্যাগ দিয়ে ওই নারীকে আঘাত করেন এবং ধাক্কা দিয়ে পুকুরে ফেলে দেন।   সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন কেউ হয়তো একা সাঁতার কাটছেন, কিন্তু কাছে গিয়ে দেখতে পান এক নারীকে পানির নিচে চেপে ধরা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত পানিতে নেমে ওই নারীকে উদ্ধার করেন।   পুলিশ আসার আগেই পথচারীদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে ওই নারী প্রাণে বেঁচে যান এবং তাকে গুরুতর নয়—এমন আঘাতসহ স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া উইলিয়াম ডবসের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং এক প্রবীণ নাগরিককে গুরুতর জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১২:৩১