- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
সন্তান কোনো কারণে ভেঙে পড়লে বা আবেগ সামলাতে না পারলে অভিভাবকদের স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে তাকে বুঝিয়ে বলা। কী করা উচিত, কেন এমন আচরণ করা ঠিক নয় কিংবা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে—এসব বোঝানোর চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু শিশু যখন তীব্র মানসিক চাপ বা আবেগের মধ্যে থাকে, তখন দীর্ঘ উপদেশ সব সময় কাজে আসে না। বরং সে সময় অভিভাবকের শান্ত উপস্থিতি, পাশে থাকা এবং ছোট ছোট কিছু আচরণ শিশুকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করতে পারে। শিশুদের বিকাশ নিয়ে কাজ করা একজন বিশেষজ্ঞের মতে, সন্তান বিপর্যস্ত হলে তার মস্তিষ্কের চিন্তা ও যুক্তিনির্ভর অংশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। তখন আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া বেশি প্রাধান্য পায়। ফলে অভিভাবকের কথা শোনার বা যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। এমন সময়ে শিশুকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার চেয়ে তাকে শান্ত পরিবেশ দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা ওই বিশেষজ্ঞ একজন প্রশিক্ষিত চাইল্ড লাইফ স্পেশালিস্ট ও থেরাপিস্ট। তিনি জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া এক হাজারের বেশি শিশু ও কিশোরকে সহায়তা করেছেন। নিজের অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা থেকেও তিনি দেখেছেন, শিশুরা যখন আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন তাদের চিন্তাশক্তির চেয়ে অনুভূতি বেশি প্রভাব বিস্তার করে। শিশুর বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়াকে ‘কো-রেগুলেশন’ বা যৌথ আবেগ নিয়ন্ত্রণ বলে থাকেন। এর অর্থ হলো, শিশু যখন নিজের আবেগ সামলাতে হিমশিম খায়, তখন বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্কের শান্ত আচরণ থেকে সে স্থিরতা পেতে পারে। গবেষণাতেও শিশুদের মানসিক চাপ সামলানোর দক্ষতা গড়ে তুলতে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। শিশু কষ্টে থাকলে সে সব সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অভিভাবকের কথা অমান্য করে না। অনেক সময় তার মানসিক অবস্থা এমন থাকে যে ব্যাখ্যা, সমঝোতা বা সংশোধনের কথা গ্রহণ করার মতো পরিস্থিতিতে সে থাকে না। তখন প্রথম প্রয়োজন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির অনুভূতি ফিরে পাওয়া। অভিভাবক পাশে থাকলে শিশু বুঝতে পারে, কঠিন মুহূর্তে তাকে একা সামলাতে হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পাঁচটি সহজ আচরণ শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। প্রথমত, সন্তানের পাশে নীরবে বসুন। সন্তান মন খারাপ করে থাকলে তার পাশে বসে থাকা কিংবা সে নিজের ঘরে থাকলে দরজার বাইরে অবস্থান করাও তাকে নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। এতে সে বুঝতে পারে, প্রয়োজন হলে অভিভাবককে কাছে পাবে। তবে সন্তান যদি কিছুটা একা থাকতে চায়, সেই ইচ্ছাকেও সম্মান করা জরুরি। তাকে জোর করে কথা বলাতে হবে না। বরং কোথায় গেলে আপনাকে পাওয়া যাবে, তা জানিয়ে দিন। এতে তার মনে পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা নিশ্চয়তা তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, হাত বাড়িয়ে দিন বা কোমল স্পর্শের সুযোগ রাখুন। মন খারাপের সময় সব শিশু স্পর্শ পছন্দ করে না। তাই সন্তানের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সে স্বচ্ছন্দ বোধ করলে হাত ধরা, পিঠে আলতো করে হাত রাখা কিংবা নিজের হাত তার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া সহায়ক হতে পারে। সন্তান হাত ধরতে চাইলে ধরবে, না চাইলে তাকে চাপ দেওয়া যাবে না। তার ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখালে সে বুঝতে পারে, তার অনুভূতি ও পছন্দ অভিভাবকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয়ত, একসঙ্গে ধীরে শ্বাস নিন। সন্তানকে বারবার ‘শান্ত হও’ বা ‘গভীর শ্বাস নাও’ বলার বদলে অভিভাবক নিজেই ধীরে ও দৃশ্যমানভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস দেখাতে পারেন। চাইলে শ্বাস নেওয়ার শব্দও স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন। শিশু অনেক সময় অজান্তেই কাছের মানুষের শ্বাসের ছন্দ অনুসরণ করে। শান্ত পরিবেশে এভাবে কিছুক্ষণ থাকা তার শরীর ও মনকে স্থির হতে সাহায্য করতে পারে। চতুর্থত, শান্ত হতে সাহায্য করে এমন খেলনা বা উপকরণ কাছে রাখুন। অনেক শিশুর পছন্দের নরম খেলনা বা অন্য কোনো পরিচিত জিনিস থাকে, যা তাকে স্বস্তি দেয়। এমন কিছু শিশুর কাছে রেখে দেওয়া যেতে পারে, যাতে সে প্রস্তুত হলে নিজেই সেটি ব্যবহার করতে পারে। এ ছাড়া রঙিন কাগজের পাখা দিয়ে ধীরে শ্বাস ছাড়ার অনুশীলন কিংবা হাতে চেপে ধরা যায় এমন স্ট্রেস বল ব্যবহার শেখানো যেতে পারে। তবে এসব কৌশল শিশুর মন শান্ত থাকার সময় শেখানো ভালো। তাতে চাপের মুহূর্তে সেগুলো ব্যবহার করা তার জন্য সহজ হতে পারে। পঞ্চমত, পাশাপাশি থেকে কোনো কাজে যুক্ত হন। সব সময় কথা বলেই শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, এমন নয়। ছোট শিশুদের সঙ্গে বসে ছবি আঁকা, রং করা, ব্লক দিয়ে কিছু তৈরি করা কিংবা খেলনার সাহায্যে কোনো পরিস্থিতি অভিনয় করে দেখানো যেতে পারে। বড় শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ধাঁধা মেলানো, বই পড়ে শোনানো, কোনো অনুষ্ঠান দেখা কিংবা ভিডিও গেম খেলার মতো কাজও কাজে আসতে পারে। এতে শিশুকে নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করার জন্য চাপ দিতে হয় না, অথচ অভিভাবকের সঙ্গে তার সংযোগ বজায় থাকে। এই পাঁচটি আচরণের মূল কথা হলো, সন্তানের আবেগকে অস্বীকার না করে তাকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করা। তবে সব শিশু একইভাবে সাড়া দেয় না। কারও কাছে পাশে বসে থাকাই যথেষ্ট, আবার কেউ কিছুটা সময় ও ব্যক্তিগত পরিসর চাইতে পারে। তাই সন্তানের প্রয়োজন বুঝে আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের সহায়ক অভিজ্ঞতা শিশুদের নিজের আবেগ চিনতে, মানসিক চাপ সামলাতে এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শেখাতে পারে। অভিভাবক সব সময় সন্তানের পাশে থাকতে পারবেন না, কিন্তু শান্ত ও সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে তাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত সন্তান হয়তো অভিভাবকের বলা প্রতিটি কথা মনে রাখবে না। কিন্তু কঠিন সময়ে সে কতটা নিরাপদ, বোঝা হয়েছে এবং সমর্থন পেয়েছে—সেই অভিজ্ঞতা তার মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর (ICE) কর্মকর্তারা কোনো মার্কিন নাগরিককে অন্যায়ভাবে আ টক বা হেফাজতে রাখলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অন্তত ৫ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে কংগ্রেসে। নতুন একটি বিলে বলা হয়েছে, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ৫ লাখ ডলারের পাশাপাশি হেফাজতে থাকার অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; কার্যকর হয়নি। নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ গত ১৫ অক্টোবর ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইন্ড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামের বিলটি উত্থাপন করেন। নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বনি ওয়াটসন কোলম্যান এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। বিলটি উত্থাপনের পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পাস হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বা তার পর থেকে কোনো মার্কিন নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা কিংবা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা পরোয়ানা বা যথাযথ সন্দেহের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি কারণ ছাড়াই গ্রে প্তার বা হেফাজতে রাখলে তিনি ফেডারেল আদালতে মামলা করতে পারবেন। মামলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিবাদী করা যাবে। বিলে বলা হয়েছে, আদালত অভিযোগকারীর পক্ষে রায় দিলে তাকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর সঙ্গে গ্রে প্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মামলার যুক্তিসংগত আইনজীবী ফি ও অন্যান্য খরচও পরিশোধ করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিতে বা আইনি অধিকার ঘোষণা করতে পারবেন। প্রস্তাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অভিযুক্ত অভিবাসন কর্মকর্তারা যেন মামলায় দায় এড়াতে ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’ বা ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’র মতো আইনি সুরক্ষার যুক্তি দেখাতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সার্বভৌম দায়মুক্তি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিযোগের কারণ তৈরি হওয়ার পর পাঁচ বছরের মধ্যে মামলা করার সুযোগ থাকবে। অন্য কোনো আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার থাকলে নতুন আইনের ক্ষতিপূরণ তার অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের অব্যবহৃত অংশের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থায়ীভাবে বাতিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। ফলে এটি শুধু অন্যায়ভাবে আ টক হওয়া নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; অভিবাসন আইন প্রয়োগের অর্থায়ন নিয়েও প্রভাব ফেলতে পারে। আইসিইর আ টক নিয়ে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদেরও অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আ টক হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি অনুসন্ধানে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিককে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে হেফাজতে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ করা, কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। শিকাগোর প্যারালিগ্যাল ও মার্কিন নাগরিক ডায়ানে ফিগুয়েরোয়া অভিযোগ করেছেন, বর্ডার প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা তাকে জোর করে গাড়ি থেকে বের করে আনেন। ঘটনার ভিডিও সরকারের বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিসে চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন আরেক মার্কিন নাগরিক আলিয়া রহমান। একই শহরে আ টক হওয়া ব্র্যান্ডন সিগুয়েঞ্জা বলেছেন, হেফাজতে থাকা অবস্থায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিষয়ে তথ্য দিতে ফেডারেল কর্মকর্তারা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। টেক্সাসের ব্রায়ান গার্সিয়া মোরালেস নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করার পরও আইসিই তাকে মেক্সিকোতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। পরে জন্মের নথি দেখিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে মার্কিন নাগরিক হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হতে পারে। তার ভাষ্য, যুক্তিসংগত সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে সাময়িকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি মার্কিন নাগরিক বলে নিশ্চিত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী হেফাজতে রাখা হয় বলেও দাবি করেছে বিভাগটি। ডিএইচএসের মুখপাত্র আরও বলেছেন, আইসিইর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ বা মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কেউ যদি কার্যক্রমে বাধা দেন বা কর্মকর্তাদের ওপর হা মলা করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিভাগটির দাবি, মার্কিন নাগরিকদের গ্রে প্তার ও বহিষ্কারের অভিযোগ মিথ্যা। অন্যদিকে, বিলটির উদ্যোক্তা লেগার ফার্নান্দেজ বলেছেন, আইসিই যেন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে দায়মুক্তি না পায়, সেটি নিশ্চিত করাই তার উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তার মতে, অন্যায়ভাবে আ টক হওয়া নাগরিকদের ন্যায়বিচার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মৃ ত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মিনিয়াপোলিসে রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি, টেক্সাসের সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ডে ২৩ বছর বয়সী রুবেন রে মার্টিনেজ এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪৩ বছর বয়সী কিথ পোর্টার জুনিয়র—এদের মৃ ত্যুর ঘটনায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা বা আইসিই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আইসিইর ক্ষমতা সীমিত করার একাধিক প্রস্তাব আনা হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেগুলোর পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন বিলটি বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলীয় নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে। তবে বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিলটি আইনে পরিণত না হলে পরবর্তী কংগ্রেসে এটি নতুন করে উত্থাপন করতে হতে পারে।
প্রায় ৮ লাখ পর্যটকের ভোটে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকা। বড় প্রমোদতরিতে সমুদ্রভ্রমণের জন্য কোন কোম্পানিগুলো যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ পেয়েছে, তা উঠে এসেছে বার্ষিক পাঠক জরিপে। বিশাল জাহাজের বিভাগে প্রথম স্থান দখল করেছে প্রিন্সেস ক্রুজেস। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট বড় জাহাজের বিভাগে শীর্ষে রয়েছে ভার্জিন ভয়েজেস। ২০২৬ সালের রিডার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসে বিভিন্ন আকারের জাহাজ পরিচালনাকারী ক্রুজ কোম্পানিগুলোকে মূল্যায়ন করেছেন পর্যটকেরা। এতে সবচেয়ে বড় জাহাজগুলোর জন্য আলাদা বিভাগ রাখা হয়। চার হাজারের বেশি যাত্রী বহন করতে পারে, এমন জাহাজকে ‘মেগাশিপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই বিভাগে প্রিন্সেস ক্রুজেস পেয়েছে ৯২ দশমিক ৩৫ স্কোর। প্রিন্সেস ক্রুজেসের বহরে নতুন যুক্ত হওয়া সান প্রিন্সেস ও স্টার প্রিন্সেস জাহাজ দুটি কোম্পানিটিকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিয়েছে। সান প্রিন্সেস যাত্রা শুরু করে ২০২৪ সালে, আর স্টার প্রিন্সেস চালু হয় ২০২৫ সালে। প্রতিটি জাহাজে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ যাত্রী বহন করা সম্ভব। এগুলোই বর্তমানে কোম্পানিটির বহরের সবচেয়ে বড় জাহাজ। মেগাশিপ বিভাগের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ৮৬ দশমিক ৪৫ স্কোর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় নয়টি ক্রুজ জাহাজই এই কোম্পানি পরিচালনা করে। এর সবচেয়ে বড় জাহাজগুলোতে পূর্ণ ধারণক্ষমতায় সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬০০ যাত্রী থাকতে পারেন। জাহাজগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে ওয়াটার পার্ক থেকে শুরু করে সরাসরি মঞ্চে পরিবেশিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এই বিভাগে তৃতীয় হয়েছে এমএসসি ক্রুজেস, যার স্কোর ৮৫ দশমিক ২৩। চতুর্থ স্থানে রয়েছে কার্নিভাল ক্রুজ লাইন, পেয়েছে ৮১ দশমিক ০৫। পঞ্চম স্থানে থাকা নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের স্কোর ৮০ দশমিক ৩০। এমএসসি ক্রুজেসের বড় জাহাজগুলোতে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ থেকে ৬ হাজার ৭০০ যাত্রী বহন করা যায়। কার্নিভালের বড় জাহাজগুলোতে সমুদ্রের ওপর রোলার কোস্টারের মতো আকর্ষণীয় বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের জাহাজগুলোতেও ওয়াটার পার্ক, গো-কার্ট রেসিং এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি গেমিংয়ের মতো সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে বড় জাহাজের প্রতিযোগিতায় শুধু যাত্রী ধারণক্ষমতা নয়, ভ্রমণের সময় বিনোদনের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আকারে কিছুটা ছোট বড় জাহাজের বিভাগে ফলাফল আলাদা। আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার ৯৯৯ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম জাহাজগুলোকে এই বিভাগে রাখা হয়েছে। এখানে ভার্জিন ভয়েজেস ৯১ স্কোর নিয়ে প্রথম হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডিজনি ক্রুজ লাইন, যার স্কোর ৯০ দশমিক ৭৫। তৃতীয় হয়েছে হল্যান্ড আমেরিকা লাইন, পেয়েছে ৯০ দশমিক ৫৭। এই বিভাগের চতুর্থ স্থানে রয়েছে সেলিব্রিটি ক্রুজেস, যার স্কোর ৮৫ দশমিক ৭৪। পঞ্চম স্থানে থাকা প্রিন্সেস ক্রুজেস পেয়েছে ৮৪ দশমিক ২৭। অর্থাৎ, প্রিন্সেস ক্রুজেস মেগাশিপ বিভাগে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি বড় জাহাজের বিভাগেও শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে। দুটি বিভাগের শীর্ষ পাঁচের তালিকা একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, যাত্রীদের পছন্দ অনুযায়ী ক্রুজ কোম্পানিগুলোর অবস্থান জাহাজের আকারভেদে বদলে যাচ্ছে। মেগাশিপ বিভাগে প্রিন্সেস ক্রুজেস এগিয়ে থাকলেও তুলনামূলক ছোট বড় জাহাজে ভার্জিন ভয়েজেস প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ডিজনি ক্রুজ লাইন ও হল্যান্ড আমেরিকা লাইনও এই বিভাগে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মেগাশিপ বিভাগের সেরা পাঁচ ক্রুজ লাইন হলো: প্রিন্সেস ক্রুজেস (৯২.৩৫), রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল (৮৬.৪৫), এমএসসি ক্রুজেস (৮৫.২৩), কার্নিভাল ক্রুজ লাইন (৮১.০৫) এবং নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইন (৮০.৩০)। বড় জাহাজের বিভাগের সেরা পাঁচ ক্রুজ লাইন হলো: ভার্জিন ভয়েজেস (৯১.০০), ডিজনি ক্রুজ লাইন (৯০.৭৫), হল্যান্ড আমেরিকা লাইন (৯০.৫৭), সেলিব্রিটি ক্রুজেস (৮৫.৭৪) এবং প্রিন্সেস ক্রুজেস (৮৪.২৭)। এবারের বার্ষিক পুরস্কারে শুধু বিশাল ও বড় জাহাজ নয়, মাঝারি ও ছোট জাহাজ এবং নদীপথে চলাচলকারী ক্রুজ লাইনগুলোকেও মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের সমুদ্রভ্রমণ ও নদীভ্রমণের জন্য যাত্রীদের পছন্দ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রায় ৮ লাখ ভোটের এই জরিপে উঠে আসা ফলাফল পর্যটকদের ক্রুজ ভ্রমণের পছন্দ সম্পর্কে একটি চিত্র তুলে ধরেছে। তবে কোন ক্রুজ লাইন বেছে নেওয়া হবে, তা নির্ভর করতে পারে জাহাজের আকার, বিনোদনের সুযোগ এবং ভ্রমণকারীর ব্যক্তিগত চাহিদার ওপরও।
মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে ধ র্ষ ণের দায়ে বাবা এবাদত মীরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়া শেষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। সোমবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ তাহসিন ইফতেখার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা কাজের প্রয়োজনে আশুলিয়ায় থাকতেন। মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজ বাড়িতে মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধ র্ষ ণ করতেন তার বাবা। এভাবে শিশুটির ওপর চলা অপরাধের একপর্যায়ে ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে আসে। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার দক্ষিণ চারিগাঁও আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নিজ বাড়িতে এবাদত মীরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এলাকাবাসী। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনার পর একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রতিবেশী ইউনুস ফরাজী বাদী হয়ে লৌহজং থানায় মামলা করেন। এরপর শুরু হয় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার সময় আসামির দেওয়া জবানবন্দি এবং সাক্ষীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিচার চলাকালে আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এসব সাক্ষ্য ও জবানবন্দি পর্যালোচনার পর আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। ঘটনাটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সামনে এলেও মামলার চূড়ান্ত রায় পেতে প্রায় ১১ বছর সময় লেগেছে। দীর্ঘ এই বিচারপ্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালতের রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের সময় আসামির উপস্থিতি এবং পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে মামলার এই পর্যায়ের কার্যক্রম শেষ হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুন্সীগঞ্জ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। তবে মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা আসামিপক্ষের আপিলের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের এই মামলায় আদালতের রায় দীর্ঘদিনের বিচারপ্রক্রিয়ার পর এসেছে। অভিযোগের বিবরণে পরিবারের ভেতরে শিশুটির নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি উঠে এসেছে। মায়ের কাজের কারণে অন্য এলাকায় থাকার সুযোগে নিজ বাড়িতে মেয়েটির ওপর অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমকে বিয়ের সম্পর্কে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে নিজের সব ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে ১ হাজার ২০০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে তাঁর অপেক্ষায় ছিল চরম হতাশা। যাঁকে এত দিন নিজের স্বপ্নের নারী বলে বিশ্বাস করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। এডিমার মার্টিন্স নামের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তাঁর দাবি, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে জেসিকার প্রতি গভীর আবেগ তৈরি হয় তাঁর। ধীরে ধীরে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, এই নারীই তাঁর জীবনের কাঙ্ক্ষিত সঙ্গী, যাঁর সঙ্গে ভবিষ্যৎ কাটাতে চান তিনি। একাকিত্ব কাটিয়ে জীবনে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশায় মার্টিন্স এই সম্পর্ককে বাস্তব জীবনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, জেসিকার সঙ্গে দেখা করে বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্কটিকে স্থায়ী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের কাছে থাকা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে যাত্রার খরচ জোগাড় করেন। গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানহাও রাজ্য থেকে রওনা দেন মার্টিন্স। তাঁর গন্তব্য ছিল দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তে। সেখানে পৌঁছানোর পর ১১ অক্টোবর থেকে জেসিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা এই ব্যক্তির আশা ছিল, অবশেষে স্বপ্নের মানুষটির সঙ্গে দেখা হবে এবং একসঙ্গে জীবন শুরু করার পথ খুলবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও জেসিকার দেখা পাননি মার্টিন্স। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, জেসিকা নামে ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এত দিন যাঁকে সত্যিকারের মানুষ মনে করে ভালোবেসেছিলেন, তিনি আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। এই খবর জানার পর মার্টিন্সের সামনে তৈরি হয় নতুন সংকট। যাত্রার জন্য নিজের সম্পদ বিক্রি করে ফেলায় তাঁর হাতে অর্থও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। বেলো হরিজন্তেতে অবস্থান করার মতো সামর্থ্য না থাকায় তিনি স্থানীয় সিটি হলে যান। সেখানে একজন সমাজকর্মীর কাছে নিজের পরিস্থিতি খুলে বলেন। পরে তাঁকে বাড়ি ফেরার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়। মার্টিন্স জানান, একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার আশাতেই তিনি এত দূরের পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু যে সম্পর্ককে সত্যি ভেবে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তা তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি পরিচয় এবং এআই-নির্ভর কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেসিকা অলিভেইরা নামের অ্যাকাউন্টটির অনুসারী ছিল প্রায় তিন লাখ। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এআই দিয়ে তৈরি নারী চরিত্রটিকে বলতে শোনা যায়, তিনি এমন একজন পুরুষের সন্ধান করছেন, যাঁকে নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে দেখাশোনা করবেন। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে অ্যাকাউন্টটি অনুসরণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা যায়। তবে মার্টিন্স ঠিক কোন বিষয়গুলো দেখে ওই চরিত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে অ্যাকাউন্টটির পরিচালনাকারী স্বীকার করেন, জেসিকা বাস্তব কোনো নারী নন; তিনি এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। মার্টিন্সের সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি যোগাযোগও হয়নি। অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীর দাবি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো এবং মানুষের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। এত কিছুর পরও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের সঙ্গে থাকছেন। তাঁর পরিকল্পনা, আবারও বেলো হরিজন্তে যাবেন। তবে এবার কোনো কাল্পনিক চরিত্রের পেছনে নয়, বাস্তব জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজতেই সেখানে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে মহাকাশ গবেষণা ও রকেট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। আগামী বছর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক এ ঘোষণা দেন। তবে কীভাবে শেয়ার বিতরণ করা হবে, কোন বয়সের শিশুরা এই সুবিধা পাবে কিংবা উদ্যোগটি বাস্তবায়নে কী ধরনের শর্ত থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। মাস্ক তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “এটি হবে এমন অনেক উদ্যোগের প্রথমটি।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরবর্তী পরিকল্পনাগুলো কী হতে পারে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ার বিতরণের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর আর্থিক পরিসর হতে পারে বিশাল। দেশটিতে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ শিশু রয়েছে বলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যেককে একটি করে শেয়ার দেওয়া হলে মোট শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখে। বর্তমান শেয়ারের মূল্য ধরে এই উদ্যোগের সম্ভাব্য আর্থিক মূল্য প্রায় ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক লাখ কোটি টাকার সমান, যদিও বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। তবে এই অর্থকে নিশ্চিত ব্যয় বা চূড়ান্ত অনুদানের মূল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, শেয়ার বিতরণের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং কোন সময়ের বাজারদর ধরে হিসাব করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শেয়ারের মূল্য পরিবর্তিত হলে পুরো উদ্যোগের আর্থিক মূল্যও কমবেশি হতে পারে। মাস্কের এই ঘোষণার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে স্পেসএক্সের ব্যবসায়িক অবস্থান এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার কারণে। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স রকেট উৎক্ষেপণ, মহাকাশ পরিবহন এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার জন্য পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মালিকানা পাওয়ার অর্থ হলো কোম্পানিটির মালিকানায় একটি অংশীদারত্ব অর্জন করা। তবে একটি শেয়ারের মালিক হওয়া মানেই কোনো শিশুর হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে যাওয়া নয়। শেয়ারটির আর্থিক মূল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ে কোম্পানির বাজারমূল্য ও শেয়ারের দামের ওপর। এর আগে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা গুইন শটওয়েল এবং তাঁর স্বামীও যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের জন্য কোম্পানিটির শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁদের পরিকল্পনায় ২০ লাখের বেশি শিশুর জন্য শেয়ার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ওই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল শিশুদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য তৈরি ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস কর্মসূচি। শটওয়েলের উদ্যোগটি ছিল নির্দিষ্টসংখ্যক শিশুকে লক্ষ্য করে নেওয়া একটি পরিকল্পনা। অন্যদিকে, মাস্কের নতুন ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। মাস্কের ঘোষণাটি তাই আগের উদ্যোগের তুলনায় অনেক বড় পরিসরের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে দুই পরিকল্পনা একই কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত হবে, নাকি আলাদাভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মাস্ক তাঁর পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি কর্মসূচির নাম উল্লেখ করেননি। ফলে শেয়ারগুলো শিশুদের বিদ্যমান বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে জমা হবে, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে, সে প্রশ্নের উত্তরও আপাতত অজানা। এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নয় এমন শিশুরা এই সুবিধা পাবে কি না, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, কিংবা শেয়ারের মালিকানা শিশুদের নামে সরাসরি নিবন্ধিত হবে কি না। এসব বিষয়ে মাস্ক এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, অভিভাবকের ভূমিকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিনিয়োগ পরিচালনার নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি বিষয় অবশ্য স্পষ্ট—এটি এখন পর্যন্ত ঘোষিত একটি পরিকল্পনা। শেয়ার বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত এবং বাস্তবায়নপদ্ধতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি শিশু নিশ্চিতভাবে একটি করে শেয়ার পাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। একইভাবে, প্রতিটি শিশুর হাতে কত ডলারের সম্পদ পৌঁছাবে, সেটিও এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মাস্কের ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে অংশগ্রহণের একটি বড় সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ নিলে তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত শর্ত, শেয়ার হস্তান্তরের পদ্ধতি এবং স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ বাজারমূল্যের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স করার জন্য ফালাক সুফি স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন যোগ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। এই বৃত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের টিউশন, উপবৃত্তি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয় ফি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে ভর্তির জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনের শেষ সময় ১৫ জানুয়ারি ২০২৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের অধীনে কেভর্কিয়ান সেন্টারের নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামের সঙ্গে এই বৃত্তি যুক্ত। ডন ও দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের সংরক্ষিত বিবরণে এসব তথ্য পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর এমন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা বৃত্তিটির লক্ষ্য, যাঁদের পক্ষে এই আর্থিক সহায়তা ছাড়া স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করা কঠিন। নির্বাচনে নারী আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি কেবল নারীদের জন্য সংরক্ষিত বৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক বিবেচনার মধ্যে পড়লেও শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া বা নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী হওয়াই বৃত্তি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা ও বৃত্তির নির্বাচনী শর্ত পূরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে উপবৃত্তির ন্যূনতম পরিমাণ ৩৭ হাজার ১৩২ মার্কিন ডলার। এটি একটি শিক্ষাবর্ষের উপবৃত্তি, দুই বছরের মোট অর্থ নয়। পাশাপাশি টিউশন, শিক্ষার্থীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন ও সার্ভিস ফি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বহনের কথা বলা হয়েছে। সহায়তা অব্যাহত রাখতে গ্র্যাজুয়েট স্কুলের নির্ধারিত একাডেমিক মান বজায় রাখতে হবে। আবেদন করতে আগ্রহীদের এনওয়াইইউর গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের অ্যাপ্লিকেশন রিসোর্স সেন্টারে গিয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অনলাইন আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি এবং বৃত্তি বিবেচনার নির্দেশনা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। মূল লেখায় জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট ও একাডেমিক নথির যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ আবেদনতালিকা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামভিত্তিক নির্দেশনাই প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারণ করবে। এই বৃত্তি এনওয়াইইউর সব বিষয়ের মাস্টার্সের জন্য প্রযোজ্য নয়। নির্বাচিত নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরাই এর আওতায় বিবেচিত হবেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সুবিধার বাইরে বিমানভাড়া, ভিসা ফি বা ব্যক্তিগত সব ব্যয়ও বহন করা হবে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
অস্ত্রোপচারের সময় টিউমারের টিস্যু আলাদা করে দেখতে সার্জনদের সহায়তার জন্য বিশেষ চশমা তৈরি করেছেন নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী স্যামুয়েল আচিলেফু ও তাঁর গবেষক দল। ‘মেডিক্যাল ভিশন গগলস’ নামের প্রযুক্তিটি বিশেষ রঞ্জক পদার্থের ফ্লুরোসেন্ট সংকেত শনাক্ত করে অস্ত্রোপচারের স্থানের ওপর দৃশ্যমান ছবি দেখায়। এর লক্ষ্য, খালি চোখে বোঝা কঠিন এমন টিউমারের অংশ শনাক্তে চিকিৎসককে বাড়তি সহায়তা দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রযুক্তির প্রাথমিক উন্নয়ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সাইটম্যান ক্যানসার সেন্টারে প্রথমবার অস্ত্রোপচারে এর একটি প্রাথমিক সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে এটি একেবারে নতুন উদ্ভাবন নয়; এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলছে। আচিলেফু বর্তমানে ডালাসের ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টারের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। সেখানে তাঁর দল বহনযোগ্য ইমেজিং যন্ত্র ও অস্ত্রোপচারে টিউমার শনাক্তের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এই পদ্ধতিতে রোগীর শরীরে একটি ফ্লুরোসেন্ট কনট্রাস্ট এজেন্ট দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট আলো পড়লে সংশ্লিষ্ট টিস্যু থেকে যে সংকেত আসে, চশমার ক্যামেরা তা শনাক্ত করে। প্রসেসর সেই সংকেতকে দৃশ্যমান ছবিতে রূপান্তর করে সার্জনের দেখার জায়গায় তুলে ধরে। এতে অস্ত্রোপচারের স্থান ও চিহ্নিত টিস্যুর ছবি একই সঙ্গে দেখা সম্ভব হয়। ক্যানসার অস্ত্রোপচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো টিউমারের সীমানা এবং অপসারণের পর অবশিষ্ট অংশ শনাক্ত করা। চশমাটি সেই সিদ্ধান্তে সহায়তার জন্য তৈরি। তবে এটি সব ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করার যন্ত্র নয়, আর কোনো সংকেত না দেখালেই শরীরে ক্যানসার নেই, এমন সিদ্ধান্তও দেওয়া যায় না। যন্ত্রটি সাশ্রয়ী করতেও কাজ করছেন গবেষকেরা। ইউটি সাউথওয়েস্টার্নে ২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি সংস্করণে দুই হাজার ডলারের বৈজ্ঞানিক ক্যামেরার পরিবর্তে ৫০ ডলারের কম দামের রাস্পবেরি পাই ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এটি শুধু ক্যামেরার দাম, পুরো চশমা বা চিকিৎসাপদ্ধতির মোট খরচ নয়। গবেষণায় প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা দেখা গেলেও ব্যাপক চিকিৎসা ব্যবহারের জন্য উন্নয়ন চলমান। ওই বিবরণে গবেষণাগারের যন্ত্রকে চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর এবং এফডিএর অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্পেসএক্সের স্টারলিংক বিভাগে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন তরুণ কায়রান কাজী। সেখানে প্রায় দুই বছর কাজের পর ২০২৫ সালের আগস্টে, ১৬ বছর বয়সে নিউইয়র্কের সিটাডেল সিকিউরিটিজে কোয়ান্টিটেটিভ ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেন তিনি। মহাকাশপ্রযুক্তি থেকে আর্থিক লেনদেনের প্রযুক্তিতে এই যাত্রার কথা উঠে এসেছে বিজনেস ইনসাইডারের সাক্ষাৎকারে। সিটাডেল সিকিউরিটিজের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সংরক্ষিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক ট্রেডিং অবকাঠামো তৈরিতে কাজ করার জন্য কায়রানকে নেওয়া হয়। কাজটিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও গাণিতিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ব্যবহার করে ট্রেডার ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সিটাডেল সিকিউরিটিজ একটি বৈশ্বিক মার্কেট মেকার প্রতিষ্ঠান, যা আর্থিক বাজারে শেয়ারসহ বিভিন্ন সম্পদের কেনাবেচা সহজ করতে ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য দেয় এবং লেনদেন সম্পন্ন করে। এটি কেন গ্রিফিনের হেজ ফান্ড সিটাডেল থেকে পৃথক প্রতিষ্ঠান। কায়রানের শিক্ষাজীবনও এগিয়েছে প্রচলিত সময়ের অনেক আগে। সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের জুনে মাত্র ১৪ বছর বয়সে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ১৭২ বছরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ স্নাতক হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের প্রকাশিত পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ১০ বছর বয়সে ইন্টেল ল্যাবসের হিউম্যান এআই ল্যাবে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান কায়রান। সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যোগাযোগে সহায়তার জন্য পূর্বানুমানভিত্তিক কথা তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। স্নাতক হওয়ার প্রায় এক মাস পর স্টারলিংকে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ফলে ২০২৩ সালের জুনে তাঁর চাকরি পাওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও সেটিকে ওই মাসেই কাজে যোগদানের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। বিজনেস ইনসাইডারকে কায়রান জানান, স্টারলিংকে তিনি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল বিম কোথায় পাঠানো হবে, তা নির্ধারণের সফটওয়্যার তৈরি ও বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুনিয়র প্রকৌশলী হয়েও প্রকল্পের ধারণা উপস্থাপন থেকে সফটওয়্যার চালু ও তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পেশা পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, স্পেসএক্সে দুই বছর কাটানোর পর নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে এবং ভিন্ন কর্মপরিবেশে নিজের দক্ষতা বাড়াতে চেয়েছিলেন। আর্থিক প্রযুক্তিতে কাজের ফল দ্রুত পরিমাপ করার সুযোগও তাঁকে আকৃষ্ট করেছে।
ফ্রান্সে বিক্ষোভের মধ্যে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের জন্য অভিবাসন ও মুসলমানদের দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার, ১৮ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ফ্রান্সকে সীমান্ত বন্ধ করে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে অস্থিরতার সঙ্গে অভিবাসনের সরাসরি যোগসূত্রের কোনো প্রমাণ পোস্টে তুলে ধরেননি। রয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দাবি করেন, অভিবাসনের কারণে ফ্রান্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপিও তাঁর এই বক্তব্যের খবর জানিয়েছে। ট্রাম্প অভিবাসনকে দায়ী করলেও ফ্রান্সের আন্দোলনের প্রকাশ্য দাবিগুলো মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় ঘিরে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, শিক্ষকসংকট ও অবকাঠামোর অবনতি নিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নেয় তা। শনিবার দেশজুড়ে কয়েক লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অনেকেই শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করলেও বিভিন্ন স্থানে সহিংস গোষ্ঠীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। দোকানপাটে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি ভবনে হামলার ঘটনাও ঘটে। রয়া নিউজ জানিয়েছে, ফরাসি কর্মকর্তারা সহিংসতার জন্য উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মুসলমান ও অপরাধীদের দায়ী করেছেন। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, শনিবারের অস্থিরতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আহত হন প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জঁদারম সদস্য, যাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। রোববারও প্যারিসে নতুন করে সংঘর্ষ হয় এবং আরও ১০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সহিংসতায় লিমোজ শহরের উনিশ শতকের ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিওঁ শহরেও একটি পর্যটন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ন্যায্য দাবি নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষ এবং ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের আলাদা করে দেখার ওপর জোর দেন তিনি। মাখোঁ জানান, শহর, সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন হলে কিছু সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে পারবে। তবে ওই ভাষণে জরুরি অবস্থা বা কারফিউ ঘোষণা করেননি তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতির ঘাটতি পর্যালোচনার কথাও জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নবজাতকদের সবচেয়ে প্রচলিত পদবি হিসেবে স্মিথের সঙ্গে খানের ব্যবধান কমে এসেছে। ২০২৫ সালে স্মিথ পদবিতে ৪ হাজার ১০২ শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হয়েছে। খান পদবিতে নিবন্ধিত হয়েছে ৩ হাজার ৭৭২ শিশু। দুই পদবির ব্যবধান এখন ৩৩০। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর ওএনএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালেই নবজাতকদের পদবির তালিকায় স্মিথকে ছাড়িয়ে যেতে পারে খান। তবে এটি সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফলাফল নয়। গত ১৩ অক্টোবর ওএনএস ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধনে ব্যবহৃত শিশুদের পদবির সংখ্যা ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। এই পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট বছরে নিবন্ধিত নবজাতকদের নিয়ে। পুরো যুক্তরাজ্যের সব বয়সী মানুষের মধ্যে কোন পদবি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত, সেই হিসাব এটি নয়। দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে খান পদবির তুলনায় স্মিথ পদবিতে নিবন্ধিত শিশুর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৬৪ বেশি ছিল। প্রায় তিন দশকে সেই ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক হিসাবে স্মিথ পদবিতে নিবন্ধন কমার এবং খান পদবিতে বাড়ার প্রবণতা থেকেই ২০২৭ সালের সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। অভিবাসন, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্মহারের পার্থক্য এবং কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে তুলনামূলক কমসংখ্যক পদবির ব্যবহার এ ধরনের তালিকায় প্রভাব ফেলতে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির গবেষক নুনি জর্গেনসেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ একই পদবি ব্যবহার করলে সেটির অবস্থানও তালিকায় ওপরে উঠতে পারে। তবে খান ও স্মিথের ক্ষেত্রে এই প্রভাব কতটা, তা নির্ধারণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। পদবির তালিকা থেকে কোনো শিশুর নাগরিকত্ব, জন্মস্থান বা ধর্ম নিশ্চিত করা যায় না। একইভাবে নবজাতকদের মধ্যে কোনো পদবির ব্যবহার কমার অর্থ সেই পদবি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নয়। এই পরিসংখ্যান মূলত জন্ম নিবন্ধনে পারিবারিক নাম ব্যবহারের পরিবর্তন তুলে ধরে।
ভবিষ্যতে আন্দোলনের প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে যোগ দিতে সমালোচকদের আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সোমবার, ১৯ অক্টোবর সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই পোস্টে ইশরাক জানান, দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে তাঁর ফেসবুক পোস্টের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সমালোচকদের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক লেখেন, ফেসবুকে কিছু মানুষকে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখেছেন তিনি। ভবিষ্যতে আন্দোলনের প্রয়োজন হলে তাঁরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে পোস্টে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করেননি। পদ ছাড়ার পরও রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক। তাঁর ভাষ্য, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আরও বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করার কথাও বলেছেন তিনি। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন ইশরাক। পোস্টের শেষাংশে মাদক নির্মূলের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানান তিনি। সূত্র: কালের কণ্ঠ
ঘরে থেকে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য সঙ্গিনী আজা ইয়াদাকে বছরে আড়াই লাখ ডলার দেওয়ার দাবি করেছেন উদ্যোক্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্ব ইয়াহদান ইয়াদা। প্রতিবার গর্ভধারণের জন্য আরও দেড় লাখ ডলার এবং সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তবে এসব অর্থ পরিশোধের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেনিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে ইয়াহদানের এই দাবি তুলে ধরা হয়। সেখানে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তান লালনপালন ও ঘরের দায়িত্ব পালনের জন্য দেওয়া অর্থসহ মোট বার্ষিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ডলার। পঞ্চম সন্তান আসার অপেক্ষায় থাকার সময় এই হিসাবের কথা বলেছিলেন তিনি। ফলে এটি সাম্প্রতিক কোনো নতুন ঘোষণার বিবরণ নয়। ইয়াহদানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অর্থ দেওয়ার উদ্দেশ্য মাতৃত্ব ও সন্তান লালনের শ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া। গর্ভধারণের শারীরিক চাপ, রাত জেগে শিশুর যত্ন এবং পরিবারের জন্য সময় দেওয়ার বিষয়গুলোকে তিনি আর্থিক সহায়তার যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর আগেও একই ধরনের দাবি করেছিলেন ইয়াহদান। ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত অ্যামেয়াও ডেবরাহর প্রতিবেদনে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়, আজাকে দেওয়া বার্ষিক আড়াই লাখ ডলার থেকে সংসারের বিল দিতে হয় না। ওই অর্থ তিনি নিজের ইচ্ছায় সঞ্চয়, বিনিয়োগ বা ব্যয় করতে পারেন বলে দাবি করেন ইয়াহদান। গৃহকর্মী ও রান্নার সহায়তার ব্যবস্থা রাখার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে আজাকে কেবল ঘরে থাকা মা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়েও ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। একই প্রতিবেদনে তাঁর নিজের লেখার বরাতে বলা হয়, তিনি মাতৃত্বের পাশাপাশি ব্যবসাও পরিচালনা করেন। সন্তান লালন ও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব বলে মনে করেন আজা। বার্ষিক ভাতা, গর্ভধারণের জন্য অর্থ এবং সন্তানপ্রতি সহায়তা মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলারের যে হিসাব প্রচারিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ বা লেনদেনের নথি প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নেই। তাই অর্থের অঙ্কগুলো ইয়াহদানের ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই বিবেচ্য।
আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে বর্তমানে বিদ্যুতের বিল কমানোর সুযোগ সরকারের হাতে নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। রোববার, ১৮ অক্টোবর দুপুরে বরগুনার বেতাগী উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে তাঁর এ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করেন নুরুল ইসলাম মনি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও সেগুলোর ভেতরে যন্ত্রপাতি নেই এবং অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এসব প্রকল্প করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে বিদ্যুতের বিল কমাতে না পারার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে কোন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। আগামী বছর বিদ্যুতের প্রাপ্যতা নিয়ে তাঁর মন্তব্যের সমর্থনে উৎপাদন বা চাহিদার কোনো পরিসংখ্যানও ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। সভায় নাগরিকদের সমান অধিকারের কথাও বলেন চিফ হুইপ। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে সবাই এ দেশের নাগরিক এবং সবার অধিকার সমান। এ সময় বেতাগীর ৩৭টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নগদ অর্থ ও জিআর চাল বিতরণ করেন তিনি। সূত্র: আরটিভি
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর আদায়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা এই অর্থ আপাতত পরিশোধ করতে হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটিকে। তবে কর দাবির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের মূল রায় স্থগিত করা হয়নি। রোববার, ১৮ অক্টোবর চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আগামী ১৩ ডিসেম্বর বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। রায়ের যথার্থতা নির্ধারণের আগে কর আদায়ের জন্য এনবিআরকে দেওয়া নির্দেশ স্থগিত চাওয়া হয়। আদালত সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে আদেশ দিয়েছেন। এই স্থগিতাদেশে করের দাবি বাতিল বা প্রতিষ্ঠানটির কর মওকুফ হয়নি। কর আদায়ের নির্দেশের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত থাকছে, আর মূল বিরোধের নিষ্পত্তি হবে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায়। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ কর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিটের রুল খারিজ করেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ে আইন অনুযায়ী বকেয়া কর আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। বিরোধটি ২০১২ থেকে ২০১৩ অর্থবছরের করবর্ষ থেকে শুরু করে ২০১৬ থেকে ২০১৭ অর্থবছরের করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের আয় নিয়ে। গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে চুক্তির আওতায় পাওয়া অর্থকে গ্রামীণ কল্যাণ লভ্যাংশ হিসেবে দেখালেও কর কর্তৃপক্ষ তা অন্যান্য উৎস থেকে আয় হিসেবে বিবেচনা করে কর নির্ধারণ করে। গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষের যুক্তি, সংশ্লিষ্ট আয়ের বিপরীতে আগেই উৎসে কর কাটা হয়েছে। একই অর্থের ওপর আবার কর দাবি করলে দ্বৈত করের পরিস্থিতি তৈরি হবে। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকম পৃথক আইনগত সত্তা। গ্রামীণ কল্যাণের নামে উৎসে কর কর্তন বা সরকারি কোষাগারে কর জমা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির পাওয়া অর্থকে অন্যান্য উৎস থেকে আয় হিসেবে বিবেচনা করে কর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন হাইকোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে এখন আপিল বিভাগে আইনি লড়াই চালাচ্ছে গ্রামীণ কল্যাণ। সূত্র: দৈনিক সমকাল
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর কলেরা প্রতিরোধে অবদান নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওটিতে সাশ্রয়ী মুখে খাওয়ার টিকার মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে এই গবেষকের কাজ তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় বিল গেটস বলেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ স্যানিটেশনের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিরোধযোগ্য রোগ কলেরাও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ফিরদৌসী কাদরীর গবেষণা দেখিয়েছে, সাশ্রয়ী মুখে খাওয়ার টিকা আরও বেশি মানুষকে সুরক্ষা দিতে এবং জীবন বাঁচাতে পারে। ফিরদৌসী কাদরী আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সাশ্রয়ী কলেরার টিকার ব্যবহার ও প্রাপ্যতা বাড়াতে তাঁর অবদান তুলে ধরেছেন বিল গেটস। নিজেদের গবেষণার কাজ বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানিয়েছে আইসিডিডিআরবি। কাদরীর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বুলেটিনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি টিকার চাহিদা পূরণে নতুন টিকা এবং উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সেখানে ঢাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত টিকার তুলনামূলক পরীক্ষার বিষয়ও উঠে আসে। এসব গবেষণা টিকা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তবে ফিরদৌসী কাদরীর কাজ নিয়ে বিল গেটসের আগ্রহ এবারই প্রথম নয়। ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর নিজের যাচাইকৃত ইউটিউব চ্যানেলে তাঁকে নিয়ে ‘হিরো ইন দ্য ফিল্ড’ সিরিজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই ভিডিওতেও কলেরার প্রাদুর্ভাব থেকে জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় সাশ্রয়ী টিকার পক্ষে কাদরীর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। সূত্র: প্রথম আলো
নৃত্যশিল্পী ও নিউইয়র্ক বোর্ড অব এডুকেশনের শিক্ষক তাসিন ফেরদৌস মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর। তিনি বিপার কর্ণধার এ্যানি ফেরদৌসের একমাত্র কন্যা। প্রদত্ত শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আজ সকালে তাসিন ফেরদৌসের মৃত্যু হয়। তবে বার্তায় মৃত্যুর কারণ ও স্থান উল্লেখ করা হয়নি। শোকবার্তায় তাঁর অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মা এ্যানি ফেরদৌসসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই বেদনা সইবার শক্তি দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
ভারতের বিহার রাজ্যের বৈশালী জেলায় প্রায় ৩৫ কেজি পেরেক বসানো একটি বিছানায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছে ১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিশা কুমারী। তাকে দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ ভিড় করছেন। নিশার পরিবারের দাবি, হিন্দুধর্মের পূজিত দেবী মা কালীর সঙ্গে তার আধ্যাত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, পেরেকের ওপর শুয়ে থাকলেও নিশা ব্যথা অনুভব করে না এবং তার শরীরে কোনো ক্ষতও দেখা যায়নি। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদন বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি বিহারের বৈশালী জেলার সহদেই বুজুর্গ এলাকার বাজিতপুর চকস্তুড়ি গ্রামের। নবরাত্রি উপলক্ষে নিশা এই ধর্মীয় আচার শুরু করে। কাঠের একটি পাটাতনে প্রায় আড়াই ইঞ্চি লম্বা পেরেক বসিয়ে বিছানাটি তৈরি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরিবার ও গ্রামবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, পেরেকের বিছানাটি প্রস্তুত করতে কয়েকজনের চার দিন সময় লেগেছিল। নিশাকে দেবী কালীর সাজে ওই বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার এই অবস্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। নিশার ভাষ্য উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শ্রাবণ মাসের পর এক রাতে স্বপ্নে দেবী কালীর দর্শন পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার। সেই স্বপ্নের পর দেবীর আরাধনায় এই কঠিন আচার পালনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে সে জানিয়েছে। তবে দেবীর আবির্ভাব বা অলৌকিক ক্ষমতার বিষয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ নেই। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিশা ব্যথা অনুভব করে না এবং পেরেকের কারণে তার শরীরে ক্ষতও হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। নিশার বাবা প্রকাশ মল্লিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁর মেয়ের শারীরিক অসুস্থতা চলছে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানোর পরও প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। ছোটবেলা থেকেই নিশার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নিশার কথা বলার ক্ষমতা হারানোর তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা, কথা বলতে না পারার কারণ কিংবা পেরেকের বিছানায় দীর্ঘ সময় থাকার ফলে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। নিশাকে দেখতে ভিড় বাড়তে থাকায় গ্রামের সরু রাস্তায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃষ্টিতে আলোচনা করছেন, আবার কেউ কিশোরীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের বিষয়ে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। নিশার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে কি না, কিংবা চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করেছেন কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। সূত্র: ইন্ডিয়া মিডিয়া, নিউজ৪নেশন।
পশ্চিম তীরের অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের অভিজ্ঞ আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। হামলার ঘটনাকে ‘কথিত’ হিসেবে উল্লেখ করায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লেভিন বলেন, হামলার প্রমাণ সামনে থাকার পরও এমন মন্তব্যে তিনি বিস্মিত ও অপমানিত বোধ করেছেন। গুরুতর আঘাত পেয়েও কাজে ফেরার প্রত্যয় জানিয়েছেন কয়েক দশক ধরে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ঘটনা নথিবদ্ধ করে আসা এই সাংবাদিক। গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের আবু ফালাহ গ্রামে ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের ঘটনা কাভার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন লেভিন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখোশধারী একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী জলপাই সংগ্রহ করতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় সাংবাদিক পরিচয় স্পষ্ট করে লেখা সুরক্ষাবর্ম ও হেলমেট পরা লেভিনকেও মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয় এবং তাঁর ক্যামেরা ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। হামলায় তাঁর চারটি মেরুদণ্ডের হাড় ও একটি পাঁজর ভেঙেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ছাড়াও তাঁর একটি হাতের আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে। লেভিন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাঁকে মারধর করে। তিনি নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর ভাষ্য, হেলমেট ও ‘প্রেস’ লেখা সুরক্ষাবর্ম তাঁকে আরও গুরুতর আঘাত থেকে বাঁচিয়ে থাকতে পারে। চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাঁকে রামাল্লার হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ইসরায়েলের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হামলার ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য তিনি পাননি বলেও জানিয়েছেন। হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয় এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে লেভিনের বক্তব্য, ঘটনার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একে ‘কথিত’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করা তাঁকে অপমানিত করেছে। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অনেক ক্ষেত্রে হুমকির মুখে থাকা ফিলিস্তিনিদের তুলনায় বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলে কাজ করা লেভিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি যতটা খারাপ হতে দেখছেন, আগে কখনো তেমন দেখেননি। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ হাসপাতালে লেভিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। লেভিন তাঁর প্রতিক্রিয়াকে আন্তরিক বলে বর্ণনা করেন। হামলার নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালন, সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান তামির পার্দো এবং সাবেক নিরাপত্তা সংস্থাপ্রধান আমি আয়ালনসহ এক ডজনের বেশি সাবেক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, তাঁদের সহায়তাকারীদের ওপর আক্রমণ এবং এসব ঘটনা নথিবদ্ধ করা সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনায় লজ্জা প্রকাশ করা হয়। তাঁদের মতে, এ ধরনের সহিংসতা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলবিষয়ক রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও লেভিনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে মুখোশধারী হামলাকারীদের চালানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে উল্লেখ করে দোষীদের দীর্ঘ কারাদণ্ডের দাবি জানান। এদিকে, পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম ঘিরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং জলপাইগাছ ধ্বংসের ঘটনা বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ের মধ্যে পশ্চিম তীরের একটি খ্রিষ্টান গ্রামে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও নিন্দা বাড়ছে। লেভিন বলেছেন, তিনি চান না তাঁর ওপর হামলাই মূল সংবাদ হয়ে উঠুক; বরং দীর্ঘদিন ধরে যেসব ফিলিস্তিনির জীবন ও দুর্ভোগ তিনি নথিবদ্ধ করছেন, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হোক। তাঁর মতে, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে এবং আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। পশ্চিম তীরে এ ধরনের হামলার ঘটনায় অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলছেন। গুরুতর আহত হলেও পেশায় ফেরার সিদ্ধান্তে অটল লেভিনের বক্তব্য, তাঁর হাড় ভেঙেছে, কিন্তু মনোবল ভাঙেনি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর পদে না থাকলেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লিখেছেন, দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। পোস্টে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন দেশে ফিরে অংশ নেন, সে আশাও প্রকাশ করেন তিনি। ইশরাক জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকলেও বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও বেশি উদ্যম নিয়ে কাজ করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদে থাকুন বা না থাকুন, মাদক নির্মূলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করার এবং প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এর আগে ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ১৮ অক্টোবর রাতে তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এক বিবৃতিতে এ খবরকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। ইশরাকও এক অডিও বার্তায় পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবর অস্বীকার করেছিলেন। পরে মধ্যরাতে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, তাঁর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে তা জানানো হবে। সোমবার সকালে দেওয়া নতুন পোস্টে দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ইশরাকের দাবি, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, প্রথম আলো ও জাগো নিউজ২৪।