- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
বাড়ি থেকে কাজের সুবিধা নিয়ে একসঙ্গে পাঁচটি ফুলটাইম চাকরির তথ্য গোপনের অভিযোগে লন্ডনের সাউদার্ক ক্রাউন কোর্টে বিচার চলছে কাশিম চৌধুরীর। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের ৫৫ বছর বয়সী এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে প্রতারণার নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিচার শুরুর সময় রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিবরণ তুলে ধরে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে কাশিম মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ পাউন্ড পেয়েছেন বলে আদালতে জানানো হয়। দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক চাকরি একই সময়ে চলমান থাকার সময় তাঁর পাওয়া বেতনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৩ পাউন্ড। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, একপর্যায়ে পাঁচটি চাকরির চুক্তিতে তাঁর সাপ্তাহিক কাজের সময় দাঁড়ায় ১৮৩ ঘণ্টা। অথচ সাত দিনে মোট সময় থাকে ১৬৮ ঘণ্টা। চাকরির আবেদন করার সময় অন্য কর্মসংস্থানের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লুসি অর্গান। আদালতে জানানো হয়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে এবং ২০২১ সালের এপ্রিলে ডেফরায় যোগ দেন কাশিম। এক বছরের বেশি সময় দুটি চাকরি একসঙ্গে করার পাশাপাশি ২০২২ সালে চার মাস ইস্ট লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্টেও কাজ করেন বলে অভিযোগ। কাউন্সিলের চাকরি ছাড়ার পর ডেফরায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরও পাঁচটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। এগুলো হলো ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার, ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি, ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড, ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি ও হোম অফিস। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে বলে নিয়োগদাতাদের জানিয়েছিলেন কাশিম। পরে কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ। ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি পাঁচটি ফুলটাইম চাকরি থেকে বেতন পাচ্ছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়। ওই মাসে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির ম্যানেজার আলিশা অ্যাডামস তাঁর ছুটি নিয়ে ভিডিও মিটিং করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য, নিজেকে অসুস্থ দেখাতে কাশিম মুখে সাদা মেকআপ ব্যবহার করেছিলেন। মুখ ও ঘাড়ের রঙে অমিল এবং কপালের মেকআপ সরে যাওয়ার বিষয়টি ম্যানেজারের নজরে আসে বলে আদালতে জানানো হয়। একই মিটিংয়ে ডেফরার ইমেইল দিয়ে লগইন করেছিলেন কাশিম। সেটি পুরোনো ঠিকানা হতে পারে বলে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ন্যাশনাল ফ্রড ইনিশিয়েটিভ ডেফরাকে সতর্ক করার পর অভিযোগগুলো সামনে আসে। রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাশিমের তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ পাউন্ডের বেশি জমা এবং প্রায় আড়াই লাখ পাউন্ড ডেবিট লেনদেন হয়েছে। মামলার বিচার অব্যাহত রয়েছে।
জার্মানির কোলন শহরে রোবট ব্যবহার করে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌ ন হয় রা নির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী সঙ্গী ঘটনাটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আলামত হিসেবে রোবট ও সন্দেহভাজনদের দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। কোলন পুলিশের ১২ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে মধ্যরাতের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় কিশোরী তাঁর দুই বান্ধবীর সঙ্গে শহরের একটি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁর বাইরে ছিলেন। প্রায় ১ দশমিক ২০ মিটার উঁচু রোবটটি পেছন থেকে এগিয়ে এসে তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে এবং যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। পরে একটি ফক্সওয়াগন গাড়ির ট্রাংক থেকে লাল ও সোনালি রঙের রোবটটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, রোবটের মালিক সেটি গাড়িতে রেখেছিলেন। তদন্তের মূল বিষয় হলো, ঘটনার সময় রোবটটি কীভাবে কাজ করছিল এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না। আগে থেকে প্রোগ্রাম করা নির্দেশনা নাকি তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে এসব আচরণ ঘটেছে, তা পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। কোলন পুলিশের মুখপাত্র ক্রিস্টফ বেরমেল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। এমন ঘটনা তদন্তের অভিজ্ঞতা তাঁদের আগে ছিল না বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুপযুক্ত মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা তা নিয়ে ঠাট্টা করা ভুক্তভোগীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়াতে পারে।
চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনে নিজের নির্মাণশৈলী তুলে ধরতে কাজ করছেন নির্মাতা মেহেদী হাসান (রাজু)। পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। এবার তাঁর পরিচালিত কাজ ‘ক্ষত’ প্রচারিত হতে যাচ্ছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিতে। আগামী ১৫ অক্টোবর রাত ৯টা ৩০ মিনিটে দর্শকেরা কাজটি দেখতে পারবেন। নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গল্পকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন মেহেদী হাসান রাজু। তাঁর কাজের ক্ষেত্রে পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনা—এই তিনটি দিকই গুরুত্বপূর্ণ। গল্পের দৃশ্যায়ন থেকে শুরু করে দৃশ্যগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সম্পাদনার মাধ্যমে গল্পের আবহ ফুটিয়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এই নির্মাতা। একটি নির্মাণে শুধু গল্প বলাই নয়, সেই গল্প কীভাবে দৃশ্যের মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। চিত্রগ্রহণের মাধ্যমে গল্পের দৃশ্যগত রূপ তৈরি এবং সম্পাদনার মাধ্যমে দৃশ্যগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজটি নির্মাণপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেহেদী হাসান রাজু পরিচালনার পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রেও কাজ করায় নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর আগে তাঁর পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে ‘নরপিশাচ’, ‘বাঘের ডেরা’ ও ‘কথার গল্পকথা’। বিভিন্ন নামের এসব কাজের মধ্য দিয়ে নির্মাতা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। নতুন কাজ ‘ক্ষত’ প্রচারের মধ্য দিয়ে সেই যাত্রায় যুক্ত হচ্ছে আরেকটি নির্মাণ। তবে কাজটির গল্প, অভিনয়শিল্পী কিংবা নির্মাণের অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নির্মাতা হিসেবে মেহেদী হাসান রাজুর লক্ষ্য নিজস্ব গল্প বলার ধরন তৈরি করা এবং দর্শকদের কাছে মানসম্মত কাজ পৌঁছে দেওয়া। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের কাজে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে চলচ্চিত্র নির্মাণের আগ্রহ রয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার এবং সৃজনশীল সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতেও আগ্রহী তিনি। ‘ক্ষত’ প্রচার উপলক্ষে দর্শকদের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন নির্মাতা। আগামী ১৫ অক্টোবর রাত ৯টা ৩০ মিনিটে এনটিভিতে কাজটি দেখার জন্য দর্শকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। নির্মাতার জন্য একটি নতুন কাজ প্রচারিত হওয়া দর্শকদের সামনে নিজের কাজ তুলে ধরার সুযোগ। ‘ক্ষত’ সেই সুযোগের মধ্য দিয়ে কতটা সাড়া পায়, তা জানা যাবে প্রচারের পর। আপাতত নির্ধারিত সময়েই কাজটি এনটিভির পর্দায় দেখার অপেক্ষা।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম ভারতের তরুণদের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি দুই দেশের শিক্ষার্থীদের লড়াইয়ের মধ্যে মিল তুলে ধরেন। বুধবার, ১৪ অক্টোবর ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেহা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর হুমকি ও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে ভারতের শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতির তুলনা উঠে আসে। এসব বিষয়কে তিনি দুই দেশের তরুণদের অভিন্ন উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেন। দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন নেহা। উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষার্থীদের একে অন্যের সংগ্রাম থেকে শেখা এবং সংহতি জোরদার করার কথা বলেন তিনি। নেহার এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ভারতের তরুণদের বিক্ষোভে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বামপন্থি ছাত্রসংগঠন আইসার এই নেত্রী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, বেকারত্ব এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছেন। ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের যেতে পুলিশ বাধা দিলে নেহা তাঁদের দিল্লি হাটে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। সেখানে যাওয়ার পথে তাঁকেসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে সেদিনই তিনি ছাড়া পান। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন ওই বিক্ষোভে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির বক্তব্য, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ভুল প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ জন যাত্রী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাঁদের ফেরার কথা থাকলেও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় নির্ধারিত যাত্রা সম্ভব হয়নি। মক্কায় হোটেলে থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁদের আবাসন ও খাবার নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুর পাশাপাশি ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী প্রবীণরাও রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দলটির মোয়াল্লেম মোহাম্মদ আবু রায়হান জানান, মঙ্গলবার ৫০ জনের দেশে ফেরার কথা ছিল। ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় তাঁরা আটকা পড়েছেন। হোটেলে থাকার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় নতুন করে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সাগর সরদার মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওমরাহ করতে গেছেন। তিনি জানান, দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। আরেক যাত্রী ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রবীণদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় নতুন করে থাকার ব্যবস্থা করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবগামী বাংলাদেশের ৩২টি সরাসরি ও ৫০টি ট্রানজিটসহ মোট ৮২টি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রীসংখ্যা ১৩ হাজার ৭১ জন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ করছে বেবিচক। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা–রিয়াদ ও ঢাকা–দাম্মাম রুটে নিজেদের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সংশোধিত সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জরুরি যাতায়াতের জন্য জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ এবং টিকিটসংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানিয়েছেন, পাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আটকা পড়া যাত্রীদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইয়েমেনের হুতিদের ধারাবাহিক হা মলার মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কঠোর নিরাপত্তায় বাংকার সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। যুবরাজের চলাচল সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বিশেষভাবে বাছাই করা নিরাপত্তা দল তাঁর সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ অক্টোবর একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর যুবরাজকে তখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সংবাদমাধ্যমটি। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হা মলায় অন্তত ১৩ জন নি হত এবং ৩০০ জনের বেশি আ হত হন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওই হা মলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তা তদন্ত করছে সৌদি আরব। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আগে ড্রোন এবং পরে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক হা মলায় রিয়াদের বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। আগের পাঁচ দিনে কিং খালিদ বিমানবন্দরে চারবার হা মলা হয়। উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক তথ্যপ্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের হিসাবে, সোমবার বিমানবন্দরটির নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। হা মলা প্রতিহত করতে গিয়ে সৌদি আরবের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে আসছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা। গত মাসে এপিকে তাঁরা বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। এদিকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে সৌদি মন্ত্রিসভা হুতিদের ধারাবাহিক হা মলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানায়। একই রাতে ধাহরানে সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হা মলার পর সীমিত অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বুধবার সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই ঘটনায় কেউ হতা হত হননি। উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। গত রোববার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে ফোনালাপ হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে সহায়তার প্রস্তুতি থাকার কথা জানিয়েছেন আরাগচি। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপ করার পর হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হয়। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সাম্প্রতিক হা মলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানে দুই পক্ষের উত্তেজনা আবার বেড়েছে।
সাতক্ষীরার দেবহাটায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে গণপি টুনির শিকার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবকের মৃ ত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃ ত্যু হয়। নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার বড়শান্তা গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে শামীমের কিছু কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও সাহাবিদের নিয়ে তিনি অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে কয়েকজন ব্যক্তি শামীমের বাড়িতে যান। ওই সময় তিনি বিষপান করে আত্মহ ত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে উদ্ধার করে কুলিয়া এলাকার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে ভর্তি করেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন কুলিয়ায় অবস্থিত ওই চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মা রধর করেন। পরে তাঁকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় দফায়ও তাঁর ওপর হা মলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে পুলিশ পাহারায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃ ত্যু হয়। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন শামীমকে গণপি টুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি। শামীমের মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবহাটা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই ইব্রাহিম। তিনি জানান, মরদেহ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে শামীমের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতা এখনো তদন্তের বিষয়। অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত আইনগত প্রক্রিয়ায়। কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে গণপি টুনি দিয়ে হ ত্যা করা আইনবিরোধী অপরাধ।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ব্যাংক অব আমেরিকাকে অর্থপাচার প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। এই জরিমানাকে মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম জরিমানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আরও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ৭৫ কোটি ডলারের দেওয়ানি জরিমানাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থা ফিনসেনের অভিযোগ, ব্যাংকটি চীনা অর্থপাচার নেটওয়ার্ক এবং দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত, প্রতিরোধ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য যথাসময়ে জানাতে না পারার কারণেই বড় অঙ্কের এই জরিমানা করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক অব আমেরিকা পাঁচশ কোটি ডলারেরও বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য যথাসময়ে ফিনসেনকে জানাতে পারেনি। এসব লেনদেনের একটি অংশ জাতীয় নিরাপত্তা এবং অবৈধ অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটির গ্রাহক যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও ঘাটতি পাওয়া গেছে। ফিনসেনের পদক্ষেপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নিয়ন্ত্রক দপ্তরও ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ৭৫ কোটি ডলারের দেওয়ানি জরিমানা আরোপ করেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, ব্যাংকটির অর্থপাচার প্রতিরোধ ও ব্যাংকিং লেনদেন পর্যবেক্ষণের কর্মসূচি যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। এই জরিমানাকে সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৭৫ কোটি ডলারের জরিমানা ১২০ কোটি ডলারের ফিনসেন জরিমানার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। তাই দুটি অঙ্ক যোগ করে আলাদা মোট জরিমানা হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরও ব্যাংকটির সঙ্গে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের একটি সমঝোতা করেছে। ইরান, রাশিয়া, মাদক পাচার এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি লঙ্ঘনের অভিযোগ এই সমঝোতার আওতায় এসেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ব্যাংক অব আমেরিকা ১৯৭০ সালের ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্ট ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অর্থপাচার ও অন্যান্য অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা ঠেকানো। আইনের আওতায় ব্যাংকগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফিনসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটি এসব দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখতে পারেনি। ব্যাংকটির অর্থপাচার প্রতিরোধ কর্মসূচি নিয়ে আগেও উদ্বেগ জানিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। মুদ্রা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকটিকে তার অর্থপাচার প্রতিরোধ কর্মসূচির ঘাটতি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও সন্দেহজনক লেনদেন তদন্তের জন্য যথাযথভাবে সামনে আনা এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়ে যায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো বড় ব্যাংক অর্থপাচার প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার দায়িত্বে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে অবৈধ অর্থের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ব্যাংক অব আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যাংকগুলোর একটি এবং দেশটির আর্থিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেওয়া এই ব্যবস্থা শুধু একটি ব্যাংকের জরিমানার ঘটনা নয়; বরং বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন পর্যবেক্ষণ, গ্রাহক যাচাই এবং সন্দেহজনক অর্থের উৎস শনাক্ত করার দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবার সামনে এনেছে। তবে জরিমানার অঙ্ক ও অভিযোগের পাশাপাশি বিষয়টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংকটির নজরদারি ব্যবস্থা সংশোধন এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ব্যর্থতা ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোর নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চলায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৩৬টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইট বাতিলের ফলে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ইন্ডিগোর ফ্লাইট। এয়ারলাইনসটির মোট ২২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা সর্বাধিক। আর ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইন্ডিগো। সব মিলিয়ে সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের ফ্লাইট বাতিলের কারণে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের যাত্রাপথে অন্য বিমানবন্দরে সংযোগ ফ্লাইট ধরার কথা ছিল, তাঁদেরও নতুন করে সময়সূচি সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে পরবর্তী ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেক যাত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত কার্যক্রমের কারণেই ফ্লাইট পরিচালনায় এই বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিও বদলে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ অবস্থায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি ফ্লাইটে যাত্রা করা এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য বাতিলের এই পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনার সূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
চিহ্নিত উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন নাসার সাবেক নভোচারী চার্লস ডিউক। তাঁর দাবি, ইউএফও ভিনগ্রহীদের যান নয়; বরং এগুলো শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা হতে পারে। নিজের খ্রিষ্টীয় ধর্মবিশ্বাস এবং বাইবেলের একটি বাণীর ভিত্তিতে এমন ধারণা পোষণ করেন চাঁদে হেঁটে আসা এই সাবেক নভোচারী। তবে তাঁর এ বক্তব্য ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন, এর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। চার্লস ডিউকের বয়স এখন ৯১ বছর। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৬ অভিযানে অংশ নিয়ে চাঁদের বুকে হাঁটেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। চাঁদে পা রাখা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিচিত ডিউক এখন ইউএফও সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে নিজের ধর্মীয় ব্যাখ্যা সামনে এনেছেন। ডিউকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউএফও নিয়ে তাঁর এই বিশ্বাসের সঙ্গে বাইবেলের একটি অংশের সম্পর্ক রয়েছে। বাইবেলের দ্বিতীয় করিন্থীয় পুস্তকের ১১ অধ্যায়ের ১৪ নম্বর পদে বলা হয়েছে, শয়তানও নিজেকে আলোর দূত হিসেবে ছদ্মবেশ ধারণ করায়। ডিউক মনে করেন, এই বাণী ইউএফও সম্পর্কে তাঁর ধারণার সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের কাছে অজানা বা রহস্যময় বলে মনে হওয়া এসব ঘটনার পেছনে অশুভ কোনো শক্তি কাজ করতে পারে। তবে ইউএফও সম্পর্কে এমন ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। আকাশে দেখা কোনো অজ্ঞাত বস্তুকে ইউএফও বলা হয়; এর অর্থ এই নয় যে সেটি ভিনগ্রহের যান বা অতিপ্রাকৃত কোনো সত্তা। পর্যবেক্ষণের তথ্য অপর্যাপ্ত থাকলে কিংবা বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলে সেটিকে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাই ডিউকের ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ডিউক জানান, মহাকাশ অভিযানের সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন কোনো ঘটনার মুখোমুখি হননি, যাকে ইউএফওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সাক্ষাৎ বলা যায়। অর্থাৎ চাঁদে যাওয়া বা মহাকাশে থাকার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ইউএফও সম্পর্কে এই দাবি করছেন না; বরং তাঁর বক্তব্যের মূল ভিত্তি ধর্মীয় বিশ্বাস। ডিউক আরও জানান, একবার তিনি ঈশ্বরের কাছে কোনো সংকেত চেয়েছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিনই এক বন্ধু ইউএফও নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে চান। ঘটনাটিকে তিনি নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তবে এই অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধি; এটি ইউএফওর প্রকৃতি বা উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ নয়। ইউএফও নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা শুধু ডিউকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও চলতি বছরের মার্চে বেনি জনসনের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ইউএফওকে ভিনগ্রহীদের উপস্থিতির চেয়ে শয়তান বা অশুভ সত্তার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তাঁর বক্তব্যও এ বিষয়ে ব্যক্তিগত ধর্মীয় ধারণার প্রতিফলন। এদিকে, ইউএফও-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের আলোচনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য আনা পাউলিনা লুনাও আলোচনায় আসেন। ৮ মে ইউএফও-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রসঙ্গের সময় তিনি ডানাওয়ালা ‘ওফানিম’ নামের এক স্বর্গীয় সত্তার ছবি প্রকাশ করেন। বাইবেল ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে এ ধরনের সত্তার উল্লেখ থাকায় বিষয়টি ইউএফও নিয়ে চলমান ধর্মীয় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়। ইউএফও নিয়ে রহস্য, সরকারি নথি প্রকাশ এবং ভিনগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা—এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ রয়েছে। তবে অজ্ঞাত কোনো উড়ন্ত বস্তুর পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে ভিনগ্রহী যান কিংবা শয়তানের পাঠানো সত্তা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। চার্লস ডিউকের বক্তব্য তাই ইউএফও নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন একটি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এনেছে, যদিও তাঁর দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বর্ণনায় পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং মেজর জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ যুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এবং ২০২৪ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও পাঠ্যবইয়ে এ ইতিহাসের বর্ণনা বদলানো হয়েছিল। ফলে তিন সরকারের আমলে স্বাধীনতার ঘোষণার বিবরণে তিন ধরনের উপস্থাপন দেখা যাচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্যও বই প্রস্তুত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিমার্জনের কাজ শেষ করে বর্তমানে বই ছাপানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু বইয়ের মুদ্রণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের নাম ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণ-আন্দোলন’। এই অধ্যায়ে দেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার বিবরণ রয়েছে। নতুন বইয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা শুরু করে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার পর সেখান থেকে আক্রমণের খবর তারবার্তার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে জিয়াউর রহমান ‘উই রিভল্ট’ বলে বিদ্রোহ করেন। এরপর ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে ব্যাটালিয়নের বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে স্বাধীনতা ঘোষণা এবং যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেন বলে নতুন পাঠ্যবইয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপিত হলে ২৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জিয়াউর রহমান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বলে বইটিতে উল্লেখ রয়েছে। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির অস্থায়ী সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি আরেকটি ঘোষণা দেন বলেও বিবরণে বলা হয়েছে। নতুন বইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের খবর দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুক্তিকামী মানুষ উজ্জীবিত হয়। বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ২৪ বছরের শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে বর্ণনা ছিল ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারও পাঠ্যবই ও শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন এনেছিল। চলতি শিক্ষাবর্ষে পড়ানো সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা সম্পর্কে তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে। ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার খবর তারবার্তার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ওই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি করা হয়। এরপর বইটিতে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরদিন ২৭ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা হয়। নতুন শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এবার জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের ঘটনা, রাত ২টা ১৫ মিনিটে ঘোষণা দেওয়ার বিবরণ এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭ মার্চের ঘোষণার বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে লেখা ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বিবরণ ছিল আরও আলাদা। এনসিটিবির ওয়েবসাইটে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বই পাওয়া না গেলেও ২০২২ সালের বইয়ে এ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে। সেই বইয়ে বলা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে, অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। বইটিতে আরও বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি পাকিস্তানের ২৪ বছরের শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটায়। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অর্থাৎ, ২০২২ সালের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা সরাসরি তুলে ধরা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের বইয়ে ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কথা এবং পরদিন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তাঁর আরেকটি ঘোষণার উল্লেখ করা হয়। আর ২০২৭ সালের বইয়ে জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বেতার কেন্দ্র থেকে দেওয়া ঘোষণাগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বর্ণনা নিয়ে এ পরিবর্তন সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গবেষক আফসান চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্রের ইতিহাসের বর্ণনা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় এবং ভবিষ্যতেও বদলাতে পারে। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে অনেক সময় ইতিহাসের চেয়ে রাজনীতির চর্চাই বেশি প্রাধান্য পায়। পাঠ্যবইয়ে আরও যেসব পরিবর্তন আসছে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে আরও কয়েকটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্সের বিবরণ, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি নিবন্ধও পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ইতিহাসের বাইরে বাংলা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েও নতুন পাঠ্যবস্তু যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই চালু করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির নতুন বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্ত হচ্ছে ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ এবং ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামের দুটি বই। সব মিলিয়ে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বর্ণনা, বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতাদের ভূমিকা এবং নতুন শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্বাধীনতার ঘোষণার বিবরণে বিভিন্ন সরকারের সময়ে পরিবর্তন আসায় একই ঐতিহাসিক ঘটনা শিক্ষার্থীদের কাছে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের মানুষের কল্যাণের চেয়ে নিজের সম্পদ ও ব্যক্তিগত ব্যবসার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করেন অধিকাংশ মার্কিনি। শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি নিজের আর্থিক সুবিধা অর্জনে অনৈতিক কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলেও ধারণা অনেকের। নতুন এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এমন চিত্র। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন এমন উপায়ে, যা বেআইনি অথবা নৈতিকতার পরিপন্থী। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের যৌথ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মতামত নেওয়া হয়। নরকের আমেরিস্পিক প্যানেল থেকে অংশগ্রহণকারীদের নমুনা নির্বাচন করা হয়েছিল। জরিপে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং দেশের স্বার্থে তাঁর মনোযোগ নিয়ে মানুষের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রেসিডেন্টের পদে থেকে ট্রাম্প বেআইনি কিছু করছেন। আরও ২০ শতাংশের ধারণা, তাঁর কর্মকাণ্ড অনৈতিক হলেও তা বেআইনি নয়। অন্যদিকে, ২০ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প কোনো অন্যায় করছেন না। বাকি অংশের উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাঁদের জানা নেই। দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসায় বেশি গুরুত্ব জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প কোন বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন। উত্তরে ৫০ শতাংশের কিছু বেশি বলেছেন, ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের স্বার্থকে একই মাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা। নিজেদের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থে ট্রাম্পের যথেষ্ট মনোযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মাত্র ১০ শতাংশ উত্তরদাতা। অর্থাৎ, জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের বড় একটি অংশের ধারণা, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারের তালিকায় সাধারণ মানুষের কল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়েও একই ধরনের মনোভাব দেখা গেছে। জরিপে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসাকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। একইভাবে, ৫৪ শতাংশ মনে করেন, তিনি নিজের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে প্রায় ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে খুব সামান্য গুরুত্ব দিয়েছেন অথবা একেবারেই দেননি। এই মতের সমর্থকদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সংখ্যাও অর্ধেকের কম। ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, ট্রাম্প আইন ভেঙেছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই ধারণা পোষণ করেন প্রায় ৩০ শতাংশ। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার প্রায় ১০ শতাংশ। ট্রাম্পের আচরণকে অনৈতিক কিন্তু বেআইনি নয় বলে মনে করেন প্রায় ২০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ও রিপাবলিকান। ফলে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ যেখানে আইন ভাঙার অভিযোগ করছেন, সেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এমন অভিযোগে বিশ্বাস করার প্রবণতা অনেক কম। তবে জরিপে উঠে আসা এসব মতামতকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। এগুলো মূলত প্রেসিডেন্টের আচরণ, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মার্কিনিদের ধারণা তুলে ধরে। ক্রিপ্টো ব্যবসা ও বিদেশি চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বিতর্কের পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। গত জুনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে তাঁর বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে প্রায় ১২০ কোটি ডলার আয়ের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যবসাগুলোর প্রসার ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আর্থিক বিবরণীতে দেখানো আয়কে সরাসরি নিট মুনাফা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ ছাড়া, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসে। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর এই বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা চীনের এক ধনকুবের প্রতিষ্ঠিত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগঠনের সহায়তাও পেয়েছে। ওই ধনকুবের যুক্তরাষ্ট্রে আইনি জটিলতায় রয়েছেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেও ট্রাম্প পরিবারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম বছরে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বিদেশে আটটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে। এসব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক লেনদেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত তৈরি করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে, জরিপের ফল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। দেশের স্বার্থের তুলনায় নিজের ব্যবসাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ এবং তাঁর আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন—দুই বিষয়ই ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জনমতের আলোচনায় রয়েছে।
চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি। মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে বাহিনীটি। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত যুগান্তরের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, ওই চক্রের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজন দেশে ফিরতে পেরেছেন। আটকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যান এবং পরে যুদ্ধে পাঠান। তবে প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয়, মৃত্যুর সময় কিংবা বাকি আটজনের অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্যটি বাহিনীর বক্তব্য হিসেবেই উঠে এসেছে। চাকরির নামে বাংলাদেশিদের রুশ সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার অভিযোগ আগেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। চলতি বছরের ৩ মার্চ মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডসের যৌথ প্রতিবেদনে প্রতারণা, জবরদস্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়। সংস্থা দুটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, দালালরা বেসামরিক চাকরির মিথ্যা প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করতেন। অনেককে রুশ ভাষায় লেখা এমন চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়, যা তাঁরা পড়তে বা বুঝতে পারেননি। পরে তাঁদের সামরিক স্থাপনায় নিয়ে যুদ্ধের কাজে যুক্ত করা হয়। ওই অনুসন্ধানের জন্য ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ইউক্রেনে ২৪ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রুশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশি, পাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এই গবেষণা চাকরির নামে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগের পটভূমি তুলে ধরলেও সাম্প্রতিক ২০ জনের মৃত্যুর হিসাবটি নিশ্চিত করে না। ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস বাংলাদেশ সরকারকে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার, প্রতারণামূলক নিয়োগ বন্ধ এবং বেঁচে ফেরা ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাদি খানের সহপ্রতিষ্ঠিত মার্কিন ফিনটেক কোম্পানি এভেন বাড়ির ইক্যুইটিকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটি ১১ কোটি ডলারের সিরিজ ই বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। ওই বিনিয়োগের পর এভেনের মূল্যায়ন দাঁড়ায় ২২০ কোটি ডলারে। সাদির এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর শুরুর দিকের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার যোগ রয়েছে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পর তিনি মাইক্রোসফটে যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকায় প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে আর্থিক সেবা পেতে সমস্যায় পড়েছিলেন বলে জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফটের চাকরির চিঠির ভিত্তিতে ফার্স্ট টেক ক্রেডিট ইউনিয়নে তাঁর প্রথম ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, সাদি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং টরন্টো ও পরে ফ্লোরিডায় বেড়ে ওঠেন। তাঁর বাবা ও মা দুজনই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। ওয়াটারলুতে তিনি প্রথমে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও পদার্থবিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন, পরে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন। মাইক্রোসফটের পর ২০১৩ সালে ফেসবুকে যোগ দিয়ে সার্চ, ম্যাপ এবং ইন্টারনেট ডট অর্গ প্রকল্পে কাজ করেন। ২০১৯ সালে কলিন উইকম্যান ও মুর্তাদা শাহকে সঙ্গে নিয়ে এভেন প্রতিষ্ঠা করেন সাদি। তাঁদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পদের বিপরীতে ঋণ অনুমোদন ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া সহজ করা। কোম্পানির অন্যতম প্রধান পণ্য এভেন হোম ইক্যুইটি কার্ড মূলত একটি হোম ইক্যুইটি লাইন অব ক্রেডিট বা হেলক, যা কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। বাড়ির বাজারমূল্য থেকে মর্টগেজ ও বাড়ির বিপরীতে থাকা অন্যান্য ঋণ বাদ দিলে যে মূল্য অবশিষ্ট থাকে, সেটিই হোম ইক্যুইটি। সেই ইক্যুইটির বিপরীতে ঋণ দেওয়ায় জামানতবিহীন ক্রেডিট কার্ডের তুলনায় কম সুদে অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ফোরক্লোজারের মাধ্যমে বাড়ি হারানোর ঝুঁকি থাকে। এভেনের নিজস্ব ব্যাখ্যাতেও এই ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই এভেন ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের সিরিজ ডি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে ইউনিকর্ন মর্যাদা অর্জন করে। ওই রাউন্ডে যৌথ নেতৃত্ব দেয় খোসলা ভেঞ্চার্স ও জেনারেল ক্যাটালিস্ট। পরের বছরের সিরিজ ই রাউন্ডে নেতৃত্ব দেয় খোসলা ভেঞ্চার্স; জেনারেল ক্যাটালিস্টসহ আগের কয়েকটি বিনিয়োগকারীও অংশ নেয়। এই দুই রাউন্ড মিলিয়ে বিনিয়োগের অঙ্ক ২৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে মোট বিনিয়োগের হিসাব হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় এভেন দাবি করে, তখন পর্যন্ত তারা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রেডিট লাইন অনুমোদন করেছে এবং গ্রাহকদের ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি সুদ সাশ্রয়ে সহায়তা করেছে। এগুলো কোম্পানির প্রকাশিত হিসাব। অনুমোদিত ক্রেডিট লাইন এবং গ্রাহকদের বাস্তবে নেওয়া ঋণের পরিমাণও এক বিষয় নয়। এর পাশাপাশি হেভেন ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে যুক্ত হন সাদি। ফোর্বসের ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রতিবেদনে তিনি জানান, স্বাধীন এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ও এভেন কয়েক মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্রেডিট ইউনিয়ন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, হেভেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফেডারেল চার্টার পায়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকবে বলে ফোর্বস জানিয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল এভেন বিটকয়েনকে জামানত রেখে ব্যবহারযোগ্য ভিসা কার্ডও চালু করে। কোম্পানির ঘোষণা অনুযায়ী, যোগ্য গ্রাহকেরা বিটকয়েন বিক্রি না করে এর বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলারের ক্রেডিট লাইন পেতে পারেন। তবে বিটকয়েনের দাম কমলে জামানত বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সুদ, ফি ও ঋণের সীমা সংশ্লিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে। সাদি খানের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পদভিত্তিক ঋণ সহজলভ্য করা। কিন্তু কম সুদের সুবিধার সঙ্গে বাড়ি বা বিটকয়েনকে জামানত রাখার দায়ও যুক্ত থাকে। ফলে এভেনের পণ্যকে সাধারণ জামানতবিহীন ক্রেডিট কার্ডের সমতুল্য হিসেবে দেখলে ঋণের প্রকৃতি ও ঝুঁকির গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আড়ালে পড়ে যায়।
উত্তর কোরিয়ার নতুন প্রতিরক্ষা জাদুঘরে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর পাল্লার আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘হোয়াসং ২০’ প্রদর্শন করা হয়েছে। দেশটির নেতা কিম জং উন রোববার, ১১ অক্টোবর জাদুঘরের উদ্বোধনে অংশ নেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে ক্ষেপণাস্ত্রটি দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের কথা বলার মধ্যেই এই প্রদর্শন সামনে এল। কেসিএনএর তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স রেভল্যুশন মিউজিয়াম’ পরিদর্শনের সময় কিমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রি সল জু এবং মেয়ে জু এ ছিলেন। ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠার ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। সেখানে কিমের শাসনামলে তৈরি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠিন জ্বালানিচালিত হোয়াসং ২০ এবং এর বহন ও উৎক্ষেপণযান জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথম প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে সামরিক কুচকাওয়াজে। ফলে এবারের ঘটনাটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম উন্মোচন নয়, আগে প্রদর্শিত অস্ত্রকে স্থায়ী জাদুঘরে তুলে ধরার আয়োজন। হোয়াসং ২০-এর সামনে থাকা প্রদর্শনী বোর্ডে একাধিক ওয়ারহেডের নকশা এবং পাল্লা বোঝাতে বিশ্বমানচিত্র দেখা গেছে। কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের মহাসচিব শিন জং উ রয়টার্সকে বলেন, মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছানোর পাল্লা দেখানো হয়েছে। তবে প্রদর্শনীতে দেখানো নকশা নিজে থেকে একাধিক ওয়ারহেডের কার্যক্ষমতা প্রমাণ করে না। জাদুঘরে হোয়াসং ২০ ছাড়াও তরল জ্বালানিচালিত হোয়াসং ১৭, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০০ মিলিমিটারের বড় মাল্টিপল রকেট লঞ্চার প্রদর্শিত হয়েছে বলে ইয়োনহাপ জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন, এই আয়োজনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া দেশের ভেতরে ও বাইরে প্রতিরক্ষা খাতের অর্জন তুলে ধরতে চাইছে। এদিকে সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, আসন্ন এশিয়া সফরে কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। নভেম্বরের মাঝামাঝি চীনে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন বা অ্যাপেক সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠক নিশ্চিত হয়েছে, এমন ঘোষণা আসেনি। পৃথক ঘটনায় উত্তর কোরিয়া সোমবার একটি কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীও দেশটির পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য দিয়েছে। এই পরীক্ষাকে জাদুঘরে প্রদর্শিত হোয়াসং ২০-এর পরীক্ষা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
সমুদ্রে জমে থাকা প্লাস্টিক সংগ্রহ এবং নদী দিয়ে নতুন বর্জ্য পৌঁছানো ঠেকাতে দুই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা দ্য ওশান ক্লিনআপ। সংস্থাটির ১২ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জলজ পরিবেশ থেকে তারা ৬ কোটি ২০ লাখ কেজির বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছে। এই হিসাব নদী ও সমুদ্রসহ তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের সম্মিলিত সংগ্রহ, শুধু সমুদ্র থেকে সরানো প্লাস্টিকের পরিমাণ নয়। সমুদ্রে সংস্থাটি ব্যবহার করছে ‘সিস্টেম ০৩’ নামে বিশাল ভাসমান সংগ্রহব্যবস্থা। এটি হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে প্লাস্টিক জমে থাকা অঞ্চল ‘গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচে’ কাজ করছে। সমুদ্রের স্রোতে প্লাস্টিক কোথায় বেশি জমছে, তা শনাক্ত করে সেখানে সংগ্রহব্যবস্থা পরিচালনা করা হয়। সিস্টেমটি শুধু পানিতে স্থিরভাবে ভেসে থাকে না। সহায়ক জাহাজ এর গতি, দিক ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করে। প্লাস্টিকের সঙ্গে গতির পার্থক্য তৈরি করে বর্জ্য একটি নির্দিষ্ট সংগ্রহস্থলে জড়ো করা হয়। সেটি পূর্ণ হলে বর্জ্য জাহাজে তুলে নেওয়া হয়। পরে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক তীরে এনে পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। নদীতে ব্যবহার করা হয় ‘ইন্টারসেপ্টর’ প্রযুক্তি। এর উদ্দেশ্য পানিতে ভেসে আসা প্লাস্টিক সমুদ্রে পৌঁছানোর আগেই আটকে সংগ্রহ করা। তবে সব নদীতে একই যন্ত্র বসানো হয় না। নদীর প্রস্থ, গভীরতা, স্রোতের গতি, বর্জ্যের ধরন ও মৌসুমি পরিস্থিতি বিবেচনায় আলাদা ব্যবস্থা বেছে নেওয়া হয়। ইন্টারসেপ্টরের একটি সংস্করণে সৌরবিদ্যুৎচালিত যন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় সংগ্রহপ্রযুক্তি রয়েছে। দ্য ওশান ক্লিনআপের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিকের ৯০ শতাংশ অপসারণ করা। এটি সংস্থাটির ঘোষিত লক্ষ্য, অর্জিত ফল নয়। লক্ষ্যটিও সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক নিয়ে; সমুদ্রের তলদেশ বা পানির সব স্তরে থাকা সব ধরনের প্লাস্টিক পরিষ্কারের দাবি নয়। সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপত্তায় সিস্টেম ০৩-এ বিশেষ বের হওয়ার পথ রাখা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। সংগ্রহস্থলে কোনো প্রাণী শনাক্ত হলে এই ব্যবস্থা চালু করে নতুন প্রবেশ বন্ধ করা এবং প্রাণীটিকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়। কার্যক্রমের সময় প্রাণীর উপস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রযুক্তির পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। ১২ অক্টোবর তারা জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের সঙ্গে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। এতে নদী ও উপকূলে প্লাস্টিক সংগ্রহের পাশাপাশি নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সরকারি নীতি এবং বিনিয়োগকে একসঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য, পানিতে পৌঁছানো বর্জ্য সংগ্রহের সঙ্গে স্থলভাগ থেকে নতুন বর্জ্য প্রবেশ বন্ধের কাজও এগিয়ে নিতে হবে।
বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার কমার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি উচ্চ দাম, মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতার চাপও ভূমিকা রাখছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ বিপণন মৌসুমের হিসাবে চিনির ব্যবহার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমার চিত্র রয়েছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে চিনির ব্যবহার কমাকে শুধু মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে ইউএসডিএর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ২০২১-২২ মৌসুমে দেশে চিনির ব্যবহার ছিল ২৭ লাখ ৬৭ হাজার টন। অন্য প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য তা ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টনে নামার প্রাক্কলন উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই অঙ্কের ব্যবধান প্রায় ৩৩ শতাংশ। শেষের অঙ্কটি পূর্বাভাস হিসেবে প্রকাশিত হওয়ায় একে চূড়ান্ত ভোগের হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। চিনির উচ্চমূল্য এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যবহার কমার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ে উদ্বেগ, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং কম চিনিযুক্ত পণ্যের প্রতি আগ্রহও পরিবর্তনের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কোন কারণ কতটা প্রভাব ফেলেছে, তার পৃথক পরিমাপ এসব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের বোঝা বড়ই রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ডায়াবেটিস অ্যাটলাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখের এই হিসাব নির্দিষ্ট বয়সসীমার মানুষের জন্য প্রাক্কলন, সব বয়সের রোগীর সরাসরি গণনা নয়। জাতীয় পর্যায়ে চিনির ব্যবহার এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দুটি আলাদা সূচক। চিনির ব্যবহার কমলেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বা রোগীর সংখ্যা একই হারে কমবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা এবং তামাক পরিহার টাইপ টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বা এর শুরু বিলম্বিত করতে সহায়তা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাবার ও পানীয়তে যোগ করা চিনি এবং মধু, সিরাপ ও ফলের রসে থাকা মুক্ত শর্করা দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেয়। অতিরিক্ত উপকারের জন্য তা ৫ শতাংশের নিচে নামানোর কথাও বলা হয়েছে। তাই শুধু চায়ের চিনি কমানো নয়, মিষ্টি, কেক, বিস্কুট ও চিনিযুক্ত পানীয়সহ পুরো খাদ্যতালিকায় শর্করার পরিমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূত্র: sciencebee
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের ল্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ল্যাবে টিউশন ফি ও স্টাইপেন্ডসহ একজন পিএইচডি শিক্ষার্থী নেওয়া হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থী ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে গবেষণা শুরু করবেন। পূর্ণ বিবেচনার জন্য আগ্রহীদের আবেদন ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে পৌঁছাতে হবে বলে ল্যাবের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. ফা লির নেতৃত্বাধীন এই ল্যাব বন ও জলাভূমির মতো স্থলভাগের বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে মানুষের কর্মকাণ্ড এবং জলবায়ু ও পানিসংক্রান্ত বিপদের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় দাবানল এবং কার্বন, পানি ও শক্তির চক্রে। গবেষণার লক্ষ্য মানুষ ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য এসব ঝুঁকি আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস ও কমানোর উপায় তৈরি করা। এ কাজে মেশিন লার্নিং, স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিং, মাঠপর্যায়ের পরিমাপ এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থার মডেল ব্যবহার করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশভিত্তিক ডেটা সায়েন্স এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য সুযোগটি প্রাসঙ্গিক। বিজ্ঞপ্তিতে শক্তিশালী গাণিতিক বিশ্লেষণ ও প্রোগ্রামিং দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মেশিন লার্নিং, কার্যকারণ বিশ্লেষণ, ফাউন্ডেশন মডেল, রিমোট সেন্সিং, ভূস্থানিক ও পরিবেশগত ডেটা বিশ্লেষণ এবং দাবানল বা জলবায়ুসংশ্লিষ্ট ঝুঁকির মডেলিং। ল্যাবের সামগ্রিক গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকলে তালিকার বাইরের বিষয়েও গবেষণার প্রস্তাব দেওয়া যাবে। আবেদনের জন্য কভার লেটার, সিভি, তিনজন রেফারেন্স প্রদানকারীর যোগাযোগের তথ্য এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট একসঙ্গে একটি পিডিএফে জমা দিতে হবে। সেটি ড. ফা লির কাছে পাঠাতে হবে। ইমেইলের বিষয় হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে “PhD Application – Land Intelligence Lab” ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ভর্তির শর্তও পূরণ করতে হবে। ১৫ নভেম্বর পূর্ণ বিবেচনার জন্য নির্ধারিত তারিখ হলেও পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আবেদন পর্যালোচনা চলবে। শুধু সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য যোগাযোগ করা হবে। অর্থায়নে টিউশন ফি ও স্টাইপেন্ডের কথা উল্লেখ থাকলেও স্টাইপেন্ডের পরিমাণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।
চীনের শানসি প্রদেশের দাতং শহরে ইউনগাং গ্রোটোস পর্যটনকেন্দ্রের নারীদের টয়লেটে ডিজিটাল টাইমার বসানো নিয়ে ২০২৪ সালে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রতিটি কিউবিকলের দরজার ওপরে থাকা ডিসপ্লেতে কতক্ষণ ধরে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের দাবি, দর্শনার্থীদের চাপ সামলানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু দর্শনার্থী এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। সিএনএনের ২০২৪ সালের জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি কিউবিকল খালি থাকলে ডিসপ্লেতে সবুজ রঙে খালি থাকার বার্তা দেখা যায়। কেউ ভেতরে গিয়ে দরজা লক করলে লাল রঙে ব্যবহারের সময় গণনা শুরু হয়। সেখানে মিনিট ও সেকেন্ড দেখানো হয়। এটি নির্দিষ্ট সময় থেকে উল্টো গণনা করা কাউন্টডাউন নয়; দরজা কতক্ষণ ধরে বন্ধ রয়েছে, সেই সময় বাড়তে থাকে। এক দর্শনার্থীর ধারণ করা ভিডিও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পৌঁছানোর পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই দর্শনার্থী জানান, প্রযুক্তিটি দেখে প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, এতে কোন টয়লেট খালি আছে তা বুঝতে সুবিধা হবে এবং দরজায় ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজন কমবে। কিন্তু ব্যবহারের সময় অন্যদের সামনে দেখা যাওয়ায় তাঁর অস্বস্তিও হয়েছিল। পর্যটনকেন্দ্রের এক কর্মী স্থানীয় সংবাদপত্র শিয়াওশিয়াং মর্নিং হেরাল্ডকে জানিয়েছিলেন, টয়লেট ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নয়। পাঁচ বা দশ মিনিটের কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং কাউকে ব্যবহার শেষ হওয়ার আগে বের করে দেওয়া হবে না। নানচাং ইভনিং নিউজকে আরেক কর্মী জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ১ মে থেকে টাইমারগুলো চালু হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো দর্শনার্থী দীর্ঘক্ষণ ভেতরে থাকলে এবং জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তা নজরে আনতে এই ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত ইউনগাং গ্রোটোস প্রাচীন বৌদ্ধ গুহাশিল্পের জন্য পরিচিত। সেখানে টয়লেটের টাইমার নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। কেউ ব্যবহার ব্যবস্থাপনায় এর সুবিধা দেখেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন ব্যক্তিগত পরিসরে সময় প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তবে দর্শনার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সময়সীমা আরোপের কথা সে সময় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছিল।
গাজায় একটি ভবন কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে, এমন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়া লন্ডনের রেস্তোরাঁ মালিক হারমান সিং কাপুর এবার নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে মানুষের সহায়তা চেয়েছেন। সোমবার, ১২ অক্টোবর এক্সে দেওয়া পোস্টে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ব্যবসায়ী তাঁর ‘সিংস ডাইনিং’ রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করার আহ্বান জানান। বকেয়া রেন্ট ও নেতিবাচক অনলাইন রিভিউয়ের কারণে ব্যবসা চাপে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। কাপুরের অভিযোগ, গুগল তাঁর রেস্তোরাঁ সম্পর্কে ভুয়া এক তারকার রিভিউ গ্রহণ করছে, অথচ প্রকৃত গ্রাহকদের পাঁচ তারকার রিভিউ প্রকাশ করছে না। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে রিভিউ কারসাজি এবং গুগলের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। সহায়তার আবেদনে কাপুর বলেন, রেস্তোরাঁটি তাঁর জীবিকা এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান। রেন্ট বকেয়া থাকায় বাড়িওয়ালা আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। গ্রাহকদের রেস্তোরাঁয় আসার পাশাপাশি তাঁর আবেদন পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করার অনুরোধ জানান। একই পোস্টে তিনি রেস্তোরাঁয় হালাল খাবার পরিবেশন না করার নীতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর এই আবেদনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজা নিয়ে আগের ভিডিওটি আবার আলোচনায় আসে। দ্য কারেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে কাপুর একটি ভবনের আকাশ থেকে তোলা ছবি দেখিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেন, গাজায় ভবনটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে। সমালোচকেরা তাঁর বক্তব্যকে আরও ধ্বংসের আহ্বান হিসেবে দেখেছেন। তবে গাজা নিয়ে মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই রেস্তোরাঁটির আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে, এমন সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ব্যবসার সংকট ও অনলাইন রিভিউ নিয়ে অভিযোগগুলো মূলত কাপুরের নিজের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। ১৩ অক্টোবর আরেক পোস্টে কাপুর জানান, সিংস ডাইনিং এখনো চালু রয়েছে। ইন্ডিয়াটাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নিজে বন্ধের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন এবং গ্রাহকদের সরাসরি এসে খাবার খাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।