- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি গান হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি বার চালিয়ে ৮০ লাখ ডলারের বেশি রয়্যালটি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তিকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাইকেল স্মিথ নামের ৫৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা। সংগীত স্ট্রিমিংয়ে জালিয়াতির এ ঘটনায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি দুই বছর তত্ত্বাবধানে মুক্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর স্মিথের সাজা ঘোষণা করা হয়। তাকে ৮০ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৩ ডলার ৬৪ সেন্ট বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১৯ মার্চ তিনি তারের মাধ্যমে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত ও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্মিথ অ্যামাজন মিউজিক, অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাই ও ইউটিউব মিউজিকে হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন গান চালাতেন। এসব অ্যাকাউন্ট তৈরিতে ভুয়া ইমেইল ঠিকানা ও প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের সাহায্যে অ্যাকাউন্টগুলো থেকে বারবার গান চালানো হতো। এতে প্রকৃত শ্রোতা না থাকলেও প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে গানগুলোর বিপুল জনপ্রিয়তার কৃত্রিম চিত্র তৈরি হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জালিয়াতি আড়াল করতে স্মিথ একটি বা দুটি গানে বিপুলসংখ্যক স্ট্রিম জমা না করে হাজার হাজার গানের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতেন। এভাবে অস্বাভাবিক স্ট্রিমের কারণে সহজে শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়। ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে নিয়মিত চালানোর জন্য স্মিথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কয়েক লাখ গান তৈরি করেন। পরে এসব গান বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করে স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চালানো হতো। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে স্মিথের ব্যবহৃত বট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা একসঙ্গে ১০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার এআই-তৈরি গানগুলো কয়েক বিলিয়ন বার চালানো হয়। এর ফলে তিনি ৮০ লাখ ডলারের বেশি রয়্যালটি পান, যা প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। জালিয়াতির ব্যাপকতা বোঝাতে তদন্তকারীরা ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের একটি উদাহরণ তুলে ধরেছেন। ওই মাসে ইউটিউব মিউজিকের পারিবারিক পরিকল্পনার আওতায় টেলর সুইফটের সম্পূর্ণ গানের তালিকা ৯৩ লাখ বার চালানো হয়েছিল। একই সময়ে স্মিথের বট অ্যাকাউন্টগুলো তার এআই-তৈরি গান ৮ কোটি ৯ লাখ বার চালায়। একজন বিশ্বখ্যাত শিল্পীর সম্পূর্ণ গানের তালিকার তুলনায় অজানা ও এআই-তৈরি গানগুলোর এমন অস্বাভাবিক স্ট্রিম তদন্তকারীদের কাছে জালিয়াতির ব্যাপকতা তুলে ধরে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে গান চালানোর ভিত্তিতে শিল্পী, গীতিকার ও স্বত্বাধিকারীরা রয়্যালটি পেয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মের মোট আয়ের একটি অংশ থেকে প্রকৃত স্ট্রিমের অনুপাতে এই অর্থ বণ্টন করা হয়। এ কারণে ভুয়া স্ট্রিমের মাধ্যমে রয়্যালটি আদায় করলে প্রকৃত শিল্পী ও গীতিকারদের প্রাপ্য অর্থের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, স্মিথের কর্মকাণ্ডে প্রকৃত সংগীতশিল্পীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই মামলাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গান তৈরির বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া শ্রোতা তৈরি, কৃত্রিমভাবে গান চালানো এবং সেই কার্যক্রমের ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মামলাটিকে এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত সংগীত স্ট্রিমিং জালিয়াতির প্রথম ফৌজদারি মামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঘটনাটি ডিজিটাল সংগীতের বাজারে স্বচ্ছতা, রয়্যালটির ন্যায্য বণ্টন এবং স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার ঠেকানোর গুরুত্ব সামনে এনেছে।
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুসন্ধান করছে পুলিশ। হত্যার আগে কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তার ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা জৈবিক নমুনা ও পরিধেয় পোশাক ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনও ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমাই থানার উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, এসব আলামত পরীক্ষাগারে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তদন্তের কোনো দিক বাদ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা সোয়াবের নমুনা ও কিশোরীর পরিধেয় পোশাক পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য জৈবিক আলামত শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এসব আলামত থেকে পাওয়া তথ্য ঘটনার প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্তে সহায়ক হতে পারে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এ কারণে পরীক্ষার ফল ও তদন্তের আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া ১০ অক্টোবর কুমিল্লার আদালতে জবানবন্দি দেন। আদালত পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি হত্যার ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে এখন জৈবিক নমুনা, পোশাক ও মুঠোফোনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দির পাশাপাশি এসব আলামতের পরীক্ষার ফল মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর কুমিল্লায় ফেরার পথে জান্নাতুল তাজমিন বাড়ি পৌঁছানোর জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে। পরে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে চালক সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজমিন কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত এবং ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল। তার বাড়ি যশোরে। পুলিশের দাবি, হত্যার পর কিশোরীর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত চালক। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরীর মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার আগে তাজমিনের কক্সবাজারে যাওয়া এবং সেখানে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামের এক তরুণের সঙ্গে অবস্থানের বিষয়টিও তদন্তে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে রাজুকে আটক করে কুমিল্লায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তার ভূমিকা এবং কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলোও তদন্তসংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। তদন্তে পাওয়া তথ্য, প্রমাণ এবং আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে। তাজমিন হত্যা মামলায় এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা এবং ঘটনার আগে-পরে তার চলাচল ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা। মুঠোফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল তথ্য পাওয়া গেলে তদন্তের সময়রেখা তৈরি এবং যোগাযোগের সূত্র যাচাইয়ে সহায়তা মিলতে পারে। সিআইডির পরীক্ষাগারে নমুনা ও পোশাক পাঠানোর অনুমতি এবং পরীক্ষার ফল এখন তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব ফল প্রকাশের পরই ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো এলাকার সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর রোববার বিকেলে মেরিন কাউন্টির মিল ভ্যালির কাছের স্ট্রবেরি এলাকায় একটি বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। মারিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৫টা ৩ মিনিটের দিকে স্ট্রবেরি সার্কেলের ওই বাড়ি থেকে গুলির শব্দের খবর জানিয়ে জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শেরিফের ডেপুটিরা। বাড়ির ভেতরে প্রবেশের আগে তাঁরা নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেন। পরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জরুরি ফোন করা ব্যক্তি নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। অ্যান ম্যানিক্স সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগের ইতিহাসে অগ্রগামী নারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বিভাগের সোয়াট দলে যোগ দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সেই দলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম নারী ছিলেন। পরে তিনি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযান বিভাগের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, কেভিন ম্যানিক্স ২০১৮ সালে অবসরের সময় সহকর্মী ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর পুলিশ বিভাগের সদস্যদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি লুইস ওং এক বিবৃতিতে অ্যান ম্যানিক্সকে বিভাগের একজন অগ্রগামী কর্মকর্তা হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সহকর্মীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। মারিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সব পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ঘটনাটির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য চলমান কোনো হুমকি রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন না। নিহতদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নির্ধারণের জন্য ময়নাতদন্তের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) দশম বার্ষিক সম্মাননা নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তা, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব, পেশাগত সাফল্য, জনসেবা ও কমিউনিটির প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়। নিউইয়র্কের কুইন্সে ডিএ মাইকেল ইলাজিও পার্টি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছয় শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এটি বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগ ও প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের কমিশনার জেসিকা এস. টিশ বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও অবদানের প্রশংসা করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আত্মত্যাগের জন্য স্মরণ করা হয় পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে। নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক শহরে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যরা কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এ অনুষ্ঠানে তাঁদের নির্দিষ্ট অবদানের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। বাপার সভাপতি ক্যাপ্টেন এ কে এম প্রিন্স আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি পুলিশ বিভাগ ও কমিউনিটির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সার্জেন্ট এসডিএস এরশাদুর সিদ্দিকী সদস্যদের ঐক্য, পেশাগত উন্নয়ন ও কমিউনিটির কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাপার সাধারণ সম্পাদক ডিটেকটিভ জামিল সরওয়ার স্পনসর, সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবক ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের শিল্পী শুভ্রদেব এবং প্রবাসের শিল্পী রাজীব ভট্টাচার্য ও শশী। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। বাপার দশম বার্ষিক সম্মাননা আয়োজন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের পেশাগত অর্জন ও নেতৃত্বকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিদের একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচিতি, সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে পেশাগতভাবে যুক্ত হওয়ার আগ্রহও উৎসাহিত হতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাব; অনুষ্ঠানের ফলে এমন পরিবর্তন ঘটেছে—এমন কোনো পরিমাপযোগ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্টিল মিলের লোহা বিক্রির পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মাকসুদা বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে রাসেল ও অভিযুক্ত সাদ্দাম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাকসুদা বেগম ওই এলাকার মৃত নাজির সরদারের স্ত্রী।নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাকসুদা বেগমের ছেলে জজ মিয়া একটি স্টিল মিলের জন্য সাদ্দামের কাছে দুই ট্রাক লোহা বিক্রি করেছিলেন। ওই লোহা বিক্রির বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ টাকা বকেয়া ছিল বলে পরিবারের দাবি। সোমবার রাতে জজ মিয়া তাঁর মা মাকসুদা বেগম ও ভাই রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে সাদ্দামের কাছে পাওনা টাকা চাইতে যান। টাকা পরিশোধ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় মাকসুদা বেগম ও রাসেল ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। অন্যদিকে, রাসেলের আঘাতে সাদ্দামও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাকসুদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।রাসেল ও সাদ্দামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ভারতীয় নাগরিক এক চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা, অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র আটকে রাখা এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় ভেঙ্কটেশ সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৩৮ বছর বয়সী সাত্তারু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক জন এ রস এ সাজা ঘোষণা করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে ভুক্তভোগী ছিলেন সাত্তারুর চাচাতো ভাই, যিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তাঁকে সাত্তারুর বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ, বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজ এবং তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সেন্ট লুইসে পৌঁছান। পরে তিনি মিসৌরির ও’ফ্যালন এলাকায় সাত্তারুর বাড়িতে বসবাস করেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে সংস্কারাধীন একটি বাড়িতে এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে অন্য একটি সংস্কারাধীন বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সময় তাঁকে বাড়ির কাজকর্ম, বাইরে বিভিন্ন কাজে যাতায়াত এবং সাত্তারুর প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সাত্তারুর দোষ স্বীকারের চুক্তিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, কাজ করতে ব্যর্থ হলে তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে শাস্তি দেওয়া হতো। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে না দেওয়া, খাবার সীমিত করা, গোসল ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার মতো আচরণের শিকার হতে হয়। তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়। আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্যাতনের কিছু ঘটনায় বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে ভুক্তভোগী গুরুতর শারীরিক আঘাত পান। সাত্তারু নিজে কিছু নির্যাতনে অংশ নেন। অন্য সময় তাঁর শ্যালক নিকিল পেনমাতসা ও শ্রবণ পেনুমেচা ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করেন বলে সাত্তারুর দোষ স্বীকারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো ঘটনায় তাঁরা সাত্তারুর নির্দেশে এবং কোনো কোনো ঘটনায় নিজেদের উদ্যোগে নির্যাতন করেন। সাত্তারুর বিরুদ্ধে আরেকটি ফৌজদারি অপরাধ ছিল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের একটি কর্মসূচির আওতায় পরিচর্যাকারীর জন্য দেওয়া অর্থ বাড়াতে নিজের শারীরিক অক্ষমতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করেছিলেন বলে মার্কিন প্রসিকিউটররা জানান। ওই কর্মসূচিতে যোগ্য সাবেক সেনাসদস্য ও সামরিক সদস্যদের পরিচর্যাকারীরা মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, সাত্তারুর দেওয়া মিথ্যা তথ্যের কারণে তাঁর পরিচর্যাকারী অতিরিক্ত ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় সাত্তারুকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরকে ৭৪ হাজার ৬৩৪ ডলার বাজেয়াপ্ত অর্থ হিসেবে এবং ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরকে ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। ভুক্তভোগীকেও সমঝোতাভিত্তিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়। গত ৮ অক্টোবর ঘোষিত রায়ে সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মিসৌরির অঙ্গরাজ্য আদালতে দ্বিতীয় মাত্রার পারিবারিক নির্যাতনের অপরাধে পাওয়া পাঁচ বছরের সাজা একই সময়ে কার্যকর হবে। ফলে দুই সাজা পরপর যোগ করে ভোগ করতে হবে না। ফেডারেল রায়ে আগের আটকাবস্থায় কাটানো সময়ের জন্যও সমন্বয়ের নির্দেশ রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং সেন্ট চার্লস কাউন্টি পুলিশ। মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ডায়ানা এডওয়ার্ডস। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রেখে শ্রম আদায় ও শারীরিক নির্যাতনের একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলার উদাহরণ। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তার অর্থের অপব্যবহারসংক্রান্ত অভিযোগও এতে উঠে এসেছে।
নিউইয়র্কের কুইনসে নিজের বাড়িতে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে লোহার সাবল দিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাত আড়াইটার দিকে ফ্লাশিংয়ের হোরেস হার্ডিং এক্সপ্রেসওয়েতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ক্রিস জানিয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে তিনি মৃতের মতো পড়ে থাকার অভিনয় করেন। ক্রিস বলেন, এক মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে বাড়িতে থাকার সময় সদর দরজায় শব্দ শুনতে পান। এরপর চার মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালায়।তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীরা মুখে আঘাত করার পর জিপ টাই দিয়ে পেছনে হাত ও পা বেঁধে ফেলে। মুখের ওপর কোট চাপা দেয়। তখন তিনি মৃতের অভিনয় করেন। ক্রিস জানান, তাঁর রোলেক্স ঘড়িসহ মূল্যবান গয়না নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তাঁর পরনে থাকা চেইনটির মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার ডলার বলে দাবি করেন তিনি।এ সময় ওপরতলায় লুকিয়ে ছিলেন তাঁর নারী বন্ধু। হামলাকারীদের অজান্তে তিনি পুলিশকে ফোন করেন। ক্রিস বলেন, ওই বন্ধুর পদক্ষেপই তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে। পুলিশ আসার পর তিন সন্দেহভাজন পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। পুলিশ ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে। ক্রিস বলেছেন, তিনি তাকে তিনি কখনোই দেখেননি।কেউ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলেছে বলে সন্দেহ করছেন ক্রিস। ঘটনার পর বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কার্যালয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সংকটের সূত্রপাত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক সায়েম ২৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, অল্প সময়ের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা দাবি করছেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।তবে সরকার কেন সাবেক উপাচার্যকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং নিজের কার্যালয়ে যান। এর আগে চলমান আন্দোলনের কারণে তিনি ক্যাম্পাসে নিয়মিতভাবে প্রবেশ করতে পারেননি এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। নতুন উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে তাঁকে দুপুরের মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রবেশপথে আবার তালা লাগিয়ে দেন। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করেন, উপাচার্য তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে, উপাচার্য কীভাবে ভবনে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। তাই ঘটনাটির প্রতিটি বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ১২ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করেন।শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, নতুন উপাচার্যকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালাবেন। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় তাঁর সঙ্গে বহিরাগত ও রাজনৈতিক কর্মীরা ছিলেন। এ ছাড়া শহর থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা দুটি বাসে হামলার অভিযোগও তাঁরা উত্থাপন করেন এবং ঘটনাটির তদন্ত দাবি করেন।তবে বাসে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলও প্রকাশিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার বিশেষ সুযোগ পাচ্ছেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে যোগ্য টেক্সাসের বাসিন্দারা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন বিনা আবেদন ফিতে। টেক্সাসের উচ্চশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আর্থিক বাধা কমানো এবং আরও বেশি শিক্ষার্থীকে কলেজে আবেদন করতে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে যাঁরা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চান, তাঁদের জন্য এটি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই কর্মসূচিতে দুই লাখ ষাট হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কারা আবেদন করতে পারবেন? এই কর্মসূচির আওতায় টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন। প্রথমবার কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ভর্তি হতে আগ্রহীরাও এই সুযোগ পেতে পারেন। আবেদনকারীর টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্যতা যাচাই করা হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিংবা টেক্সাসে পড়াশোনা করার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার যোগ্য হবেন না। কর্মসূচিটি মূলত স্নাতক পর্যায়ের আবেদনের জন্য। সাধারণ নিয়মে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের আবেদন এই ফি মওকুফের আওতায় পড়ে না। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে। কীভাবে আবেদন করবেন? শিক্ষার্থীদের প্রথমে ApplyTexas ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে অথবা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এরপর পছন্দের কলেজ, শিক্ষাবিষয় এবং ভর্তির সময় নির্বাচন করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের চাওয়া অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট সেন্ট্রাল ডে-লাইট টাইমের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, শেষ সময়টি হবে ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টা ৫৯ মিনিট। আবেদন তৈরি করে রেখে দিলে হবে না; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার প্রমাণ থাকতে হবে।যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ApplyTexas-এর মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদনের ফি মওকুফ হবে। আবেদনপ্রক্রিয়ায় ফি বা অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেখা গেলেও যোগ্য আবেদনকারীদের এই সপ্তাহে জমা দেওয়া আবেদনের জন্য অর্থ দিতে হবে না বলে প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে। আবেদনের ওয়েবসাইট: https://www.applytexas.org/ কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে? কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদন ফি আলাদা। কোনো শিক্ষার্থী একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চাইলে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে। এই কর্মসূচিতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন। তবে সাশ্রয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আবেদন ফি এবং শিক্ষার্থী কতটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন তার ওপর। আবেদন ফি মওকুফের অর্থ এই নয় যে টিউশন ফি, ভর্তি-পরবর্তী অন্যান্য খরচ বা আবাসনের খরচও মওকুফ হবে। বাংলাদেশি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী নিয়ম? যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত নয়। সুবিধাটি টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেই কেউ এই সুবিধা পাবেন না। যাঁরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান অথবা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদন করতে চান, তাঁদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আবেদন ফি মওকুফের নিয়ম যাচাই করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদনের ফি, যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নিয়ম আলাদা হতে পারে।
বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটে টানা ২৩ বছর কাজ করার পর অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশল কর্মকর্তা কেশবন শানমুগাম। ভারতের নিজ দেশে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ দায়িত্ব ছেড়ে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শানমুগাম মাইক্রোসফটের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক্সেল কোপাইলট ও এজেন্টিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের কর্মজীবন শেষে তাঁর অবসরের ঘোষণা প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে। নিজের লিংকডইন পোস্টে কেশবন শানমুগাম জানান, মাইক্রোসফটে ২৩ বছর কাজ করার পর তিনি অবসর নিচ্ছেন, যাতে ভারতের বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন। তিনি লেখেন, মাইক্রোসফটে তাঁর কাজ এবং সহকর্মীদের ছেড়ে আসা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। বিশেষ করে এক্সেল কোপাইলটের মতো আকর্ষণীয় প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ থেকে সরে আসা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তবে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য নিজের সময় ও মনোযোগ ব্যয় করাকে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। নিজের পোস্টে তিনি মাইক্রোসফটের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ এবং বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীদের সহযোগিতার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সহকর্মীদের কারণে দীর্ঘ কর্মজীবনটি আনন্দদায়ক, রোমাঞ্চকর ও পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শানমুগামের অবসরের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহার বাড়াতে প্রতিযোগিতা করছে। মাইক্রোসফটের এক্সেল কোপাইলট ব্যবহারকারীদের স্প্রেডশিটের তথ্য বিশ্লেষণ, কাজ সহজ করা এবং বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, এজেন্টিক এআই বলতে এমন প্রযুক্তিকে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধাপের কাজ পরিকল্পনা ও সম্পাদনে সহায়তা করতে পারে। এই প্রযুক্তিগুলোর উন্নয়নে যুক্ত থাকা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবসরের ঘোষণাটি তাই বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাঁর বিদায়ের ফলে মাইক্রোসফটের কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। শানমুগামের অবসরের ঘোষণার পর লিংকডইনে বহু ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকে বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। একজন ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, সম্প্রতি একজন অভিভাবককে হারানোর পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, মা-বাবাকে কাছে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ব্যবহারকারীরাও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শানমুগামের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও অনেক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ভারতের উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)। এর অংশ হিসেবে ১১ অক্টোবর, রোববার, আজমগড়ে জনসভা করে দলটির প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেসের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। জনসভায় ওয়াইসির মূল বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য দলের নেতাদের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের আর কোনো গান্ধী বা নেহরুর প্রয়োজন নেই, আমাদের নিজেদের নেতা প্রয়োজন।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংখ্যালঘু ভোটারদের দীর্ঘদিনের সমর্থন এবং সেই সমর্থনের বিনিময়ে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন সামনে আনেন। আজমগড়কে সমাজবাদী পার্টির শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তির একটি হিসেবে দেখা হয়। এই এলাকায় দাঁড়িয়ে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, দলটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটের সমর্থন পেলেও তাদের অধিকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং উন্নয়নের প্রশ্নে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমাজবাদী পার্টির শাসনামলে আজমগড়ের শিবলি ন্যাশনাল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়নি কেন। তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় শিক্ষা, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ও উঠে আসে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াইসির বক্তব্যই প্রধান সূত্র; জনসভায় উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ওয়াইসি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুধু নির্বাচনের সময় ভোটার হিসেবে বিবেচনা না করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সুযোগ দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের মধ্য থেকে নেতা তৈরি করা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো সম্ভব। জনসভায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারকেও সমালোচনা করেন এআইএমআইএম প্রধান। তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বিভাজনের পরিবর্তে দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। ওয়াইসি দাবি করেন, উত্তর প্রদেশ সরকারের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দরিদ্র মানুষের সংখ্যার বিচারে আজমগড় রাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এই তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা। তবে তাঁর উল্লেখ করা পরিসংখ্যানের মূল সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া যোগী আদিত্যনাথ ও অখিলেশ যাদবকে পরস্পরের রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জ জানান ওয়াইসি। এটি ছিল তাঁর নির্বাচনী জনসভার রাজনৈতিক বক্তব্য; দুই নেতার পক্ষ থেকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কোনো নিশ্চিত তথ্য উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি। এআইএমআইএমকে নিয়ে উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর কিছু নেতা ও সমর্থক অভিযোগ করেন, নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এআইএমআইএম বিরোধী ভোট ভাগ করতে পারে এবং এর ফলে বিজেপি সুবিধা পেতে পারে। আজমগড়ের জনসভায় ওয়াইসি এই অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিজেদের রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার অধিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও রয়েছে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এআইএমআইএমের নির্বাচনী উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি উত্তর প্রদেশের বিরোধী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হিসেবে রয়েছে। উত্তর প্রদেশের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে। এআইএমআইএমের জন্য আজমগড়ের জনসভাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এলাকাটি সমাজবাদী পার্টির প্রভাবশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওয়াইসি সেখানে নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে প্রচলিত দলগুলোর প্রতিনিধিত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইএমআইএম উত্তর প্রদেশে আরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা, জোটের সিদ্ধান্ত এবং আসনভিত্তিক নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দলটির পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাবে না। ওয়াইসির এই প্রচারের মূল বিষয় তিনটি—সংখ্যালঘুদের নিজস্ব রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি, শিক্ষা ও উন্নয়নের প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর জবাবদিহি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া। তাঁর বক্তব্য ঘিরে উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে নির্বাচনে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা ভোটের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের ইসলামি আলেম ও মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ মুফতি মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বাদরপুরী। পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় এ হামলার শিকার হন তিনি। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। পরে আহতদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। মুফতি নাসরুল্লাহ বাদরপুরী কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাদরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। পরিবারের সদস্যদের বরাতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি ৪৫ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দা হয়ে মক্কায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু রিয়াদ বিমানবন্দরের টার্মিনাল এলাকায় অপেক্ষা করার সময়ই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শনিবার বিকেল প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হামলাটি হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের একটি অংশে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। পরিবারের বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, হামলার পর নাসরুল্লাহ তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে ফোনে তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়নি। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পর রোববার তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা। নাসরুল্লাহর মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর বড় সন্তানের বয়স সাত বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স দুই বছর বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মোহাম্মদ শহীদ আহমেদ। তিনি সৌদি আরবে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী ও প্রবাসী কর্মী রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনকে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার পর রিয়াদে আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদের সহায়তায় বাংলাদেশ দূতাবাস কাজ শুরু করে। সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীর সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের মধ্যে যাঁরা ওমরাহ পালনের জন্য জেদ্দায় যেতে চেয়েছিলেন, তাঁদের পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হয় বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানায়, হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। পরে আহত এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলে মোট নিহতের সংখ্যা ১৩-তে পৌঁছায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তবে হামলার দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনা সৌদি আরবে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক যাত্রী, বিশেষ করে ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি বিপণিবিতানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পার্কিং করার সময় একটি এসইউভি গাড়ি ফুটপাতের কিনারা পেরিয়ে বাবা ও শিশুকে ধাক্কা দিলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম নক্স স্কেলটন। তাঁর বাবা স্যামুয়েল স্কেলটন গেইনসভিল ফায়ার বিভাগের একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী। ঘটনাটি ঘটে ৭ অক্টোবর বুধবার, গেইনসভিল শহরের লাইমস্টোন মার্কেটপ্লেসে। স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্যামুয়েল সেদিন ছেলেকে কোলে নিয়ে একটি দোকানের জানালায় প্রদর্শিত জুতা দেখছিলেন। এ সময় ৬৮ বছর বয়সী এক নারী তাঁর এসইউভি গাড়িটি নির্ধারিত পার্কিং স্থানে রাখার চেষ্টা করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িটি হঠাৎ সামনের দিকে দ্রুত এগিয়ে ফুটপাতের কিনারা অতিক্রম করে বাবা ও শিশুকে আঘাত করে। গাড়িটি পরে বিপণিবিতানের একটি ভবনেও ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর নক্সকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশপাশের লোকজন তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে আটলান্টার একটি শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বাবা স্যামুয়েলও গাড়ির ধাক্কায় আহত হন, যদিও পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি। গেইনসভিল ফায়ার বিভাগ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্যামুয়েল ও তাঁর স্ত্রী কিয়ানা স্কেলটন অত্যন্ত যত্নশীল ও আন্তরিক মানুষ। এমন কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। নক্সের পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, ছোট্ট নক্স খেলনা দানব-ট্রাক নিয়ে খেলতে, বাইরে সময় কাটাতে এবং পার্কে দোলনায় দুলতে ভালোবাসত। বাবার কর্মস্থল ফায়ার স্টেশনেও সে পরিচিত মুখ ছিল। পরিবারের কাছে সে ছিল আনন্দের উৎস। ঘটনার পর পরিবারটির আর্থিক ও মানসিক সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনুদানের পরিমাণ ৬৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এদিকে, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে গেইনসভিল পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৬৮ বছর বয়সী টেরেসা পার্কার। তিনি ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন এবং তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জানানো হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে গাড়ির ব্রেক ও টায়ার পরীক্ষা এবং চালকের মুঠোফোনের তথ্য পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে সম্ভাব্য অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এই দুর্ঘটনা পার্কিং এলাকায় পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দোকানের সামনে ও গাড়ি চলাচলের পথের কাছাকাছি শিশুদের নিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কতটা গুরুতর হতে পারে, ঘটনাটি তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
গুয়াতেমালায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মৃত বলে ধরে নেওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর নিজের শেষকৃত্যের সময় কফিনের ভেতর নড়াচড়া করতে এবং উঠে বসতে দেখা গেছে। ঘটনাটি ঘটে দেশটির কিচে বিভাগের সাকাপুলাস এলাকার এল হোকোটে সম্প্রদায়ে। কিশোরীর নাম ইউলেইদি ইক্সকোটোয়াক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কফিনের ভেতর তাঁর নড়াচড়া এবং উপস্থিত স্বজনদের বিস্মিত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ঘটনাটি যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনি একজন মানুষকে মৃত বলে ধরে নেওয়ার আগে যথাযথ চিকিৎসা পরীক্ষা কতটা জরুরি, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শনিবার ভোরে ইউলেইদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর বাবা আব্রাহাম ইক্সকোটোয়াক তাঁকে গাড়িতে করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পথে কিশোরী অচেতন হয়ে পড়েন। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তখন মেয়ের শ্বাস-প্রশ্বাস ও কবজির নাড়ি অনুভব করতে পারেননি। সেই পরিস্থিতিতে তিনি মেয়েকে মৃত বলে ধরে নেন। তবে কোনো চিকিৎসক তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেননি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এরপর একটি কফিনের ব্যবস্থা করেন এবং বাড়িতে শেষকৃত্যের আয়োজন করেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা সেখানে জড়ো হয়ে শোক প্রকাশ করছিলেন। কিন্তু শোকের সেই পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে যায়, যখন কিশোরীর মা লেসভিয়া রিওস কফিনের ভেতরে নড়াচড়া লক্ষ করেন। মায়ের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি মেয়ের কাছে গিয়ে নড়াচড়া দেখতে পান। এরপর কফিনের ভেতর থেকে ইউলেইদি নড়েচড়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে উঠে বসেন। উপস্থিত স্বজনেরা তাঁকে সাহায্য করে কফিন থেকে বের করে আনেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কিশোরী নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ার আগের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অচেতন হওয়ার আগে বুকে বা হৃদ্যন্ত্রের স্থানে তীব্র ব্যথা অনুভব করেছিলেন। এরপর কী ঘটেছিল, তা তিনি স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর তিনি পরিবার ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে গুয়াতেমালার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন কিশোরী অচেতন হয়েছিলেন, কেন তাঁর বাবা নাড়ি ও শ্বাস-প্রশ্বাস অনুভব করতে পারেননি এবং পরে কীভাবে তাঁর জ্ঞান ফিরেছে—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও সামনে এনেছে। কেউ অচেতন হয়ে পড়লে বা তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও নাড়ি বোঝা না গেলে অনুমানের ভিত্তিতে তাঁকে মৃত ধরে নেওয়া বিপজ্জনক। দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মীদের মাধ্যমে যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। গুয়াতেমালার এই কিশোরীর ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত। পরিবারের কাছে এটি অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হলেও, এর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসাগত তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কিসিমিতে এক নারী অভিযোগ করেছেন, ছাদ মেরামতের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার পরও তাঁর বাড়িতে কাজ শুরু হয়নি। শুধু তিনিই নন, একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ৬-এর ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবাহ বেনকাব্বু নামের ওই নারী জানান, ২০২৪ সালে তাঁর বাড়ির ছাদে ঝড়ের কারণে ক্ষতি হওয়ার পর হ্যারিকেন রুফার নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরে বিমা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মালিক সমিতির অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করার পর তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাদ মেরামতের জন্য ১৫ হাজার ডলার অগ্রিম দেন। কিন্তু অর্থ দেওয়ার পরও ছাদ মেরামতের কাজ শুরু হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বারবার কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো কর্মী বাড়িতে আসেননি। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁর ফোন ও বার্তার জবাব দেওয়াও বন্ধ করে দেন। এদিকে ছাদ দিয়ে পানি পড়তে থাকায় বাড়ির ভেতরে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বিশেষ করে তাঁর মেয়ের শোবার ঘরের ছাদে পানির দাগ ও ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে বলে তিনি জানান। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ছত্রাক তৈরি হওয়া এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওই নারী। যুক্তরাষ্ট্রের বেটার বিজনেস ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে হ্যারিকেন রুফারের বিরুদ্ধে মোট ১২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কোনো জবাব নথিভুক্ত নেই। অভিযোগগুলোর মধ্যে সাতটি সেবা বা মেরামতসংক্রান্ত, তিনটি অর্ডারসংক্রান্ত এবং দুটি পণ্যসংক্রান্ত। প্রতিষ্ঠানটিকে সংস্থাটি সর্বনিম্ন ‘এফ’ মূল্যায়ন দিয়েছে। অভিযোগকারীদের কয়েকজন দাবি করেছেন, ছাদ মেরামতের জন্য হাজার হাজার ডলার অগ্রিম দেওয়ার পরও কাজ শুরু হয়নি। কেউ কেউ অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নিউজ ৬ জানিয়েছে, ফ্লোরিডার সরকারি নথিতে হ্যারিকেন রুফারের ব্যবসায়িক অবস্থা নিষ্ক্রিয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনের বার্তাবাক্স পূর্ণ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ পরিচিত ব্যবসায়িক ঠিকানায় অবস্থিত একটি যৌথ কর্মস্থলের কর্মী জানান, হ্যারিকেন রুফার ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেখান থেকে চলে গেছে। সাবাহ বেনকাব্বু এখনো জানতে চান, প্রতিষ্ঠানটি তাঁর বাড়ির ছাদ মেরামতের কাজ সম্পন্ন করবে, নাকি ১৫ হাজার ডলার ফেরত দেবে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবার বৃষ্টি হলেই অসমাপ্ত মেরামতের কারণে বাড়ির ক্ষতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনাটি বাড়ির মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন, অনুমোদন, কাজের চুক্তি, অর্থ পরিশোধের শর্ত এবং পূর্ববর্তী গ্রাহকদের অভিযোগ যাচাই করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের অগ্রিম অর্থ দেওয়ার আগে লিখিত সময়সীমা, কাজের ধাপ এবং অর্থ ফেরতের শর্ত স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৯ হাজারের বেশি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরের পাঁচটি বরোতে মোট ৯ হাজার ১১০টি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গাড়ি চুরির ঘটনা ১২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের অপরাধসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে নিউইয়র্ক সিটিতে ১০ হাজার ৩৯৪টি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ১ হাজার ২৮৪টি কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ৩ হাজার ২৫৫টি গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯২৭। অর্থাৎ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে গাড়ি চুরির ঘটনা কমেছে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। আগস্ট মাস পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে মোট ৮ হাজার ৪৯টি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। শুধু আগস্ট মাসেই নথিভুক্ত হয় ১ হাজার ১৩৬টি ঘটনা। গত বছরের আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫৬। সেই হিসাবে আগস্ট মাসে গাড়ি চুরির ঘটনা কমেছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। প্রথম নয় মাসের মোট হিসাব অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৩টি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গাণিতিক হিসাবে প্রতি ৪৩ মিনিটের কিছু বেশি সময়ে একটি গাড়ি চুরির ঘটনার সমতুল্য। তবে এটি কেবল গড় হিসাব, প্রকৃত চুরির ঘটনাগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের হিসাব নয়। গাড়ি চুরি কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে ব্রঙ্কসে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ব্রঙ্কসে ২ হাজার ৪৫১টি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে সেখানে ৩ হাজার ৩৭৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ ব্রঙ্কসে গাড়ি চুরি কমেছে প্রায় ২৭ শতাংশ। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোর মধ্যে শুধু ব্রঙ্কসেই গাড়ি চুরির ঘটনা বেড়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে সেখানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। শহরজুড়ে গাড়ি চুরির সামগ্রিক হার কমার ক্ষেত্রে ব্রঙ্কসের এই পরিবর্তন বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে গত বছরের তুলনায় গাড়ি চুরি কমলেও মহামারির আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের জননিরাপত্তাবিষয়ক শুনানিতে উপস্থাপিত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের একই পর্যায়ে শহরে গাড়ি চুরির ঘটনা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬২৩টি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৮ হাজার ৫২৪টিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ২০১৯ সালের তুলনায় গাড়ি চুরির ঘটনা এখনো অনেক বেশি। ওই শুনানিতে গাড়ি চুরি মোকাবিলায় পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানায়, কোন ধরনের গাড়ি বেশি চুরি হচ্ছে, কোন এলাকায় চুরির ঘটনা বেশি ঘটছে এবং চুরি হওয়া গাড়ি কোথায় উদ্ধার হচ্ছে, এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ব্রঙ্কসে চুরি হওয়া অন্তত ৪২২টি গাড়ি নিউইয়র্ক সিটির বাইরে উদ্ধার করা হয়েছে। এ কারণে গাড়ি চুরির তদন্তে নিউইয়র্কের বাইরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে শুধু গাড়ি চুরি নয়, নিউইয়র্ক সিটিতে সামগ্রিক গুরুতর অপরাধের সংখ্যাও কমেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সাতটি প্রধান অপরাধের শ্রেণিতে মোট ৮৬ হাজার ২৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৯২ হাজার ৫৭। অর্থাৎ গুরুতর অপরাধের ঘটনা কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ডাকাতি কমেছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনায় চুরির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে প্রবেশের ঘটনা কমেছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বড় অঙ্কের সম্পদ চুরির ঘটনা কমেছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে গুরুতর শারীরিক হামলার ঘটনা সামান্য বেড়েছে। ফলে সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে একই রকম উন্নতি দেখা যায়নি। নিউইয়র্কে বসবাসকারী গাড়ির মালিকদের জন্য এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত রাস্তার পাশে বা উন্মুক্ত পার্কিংয়ের স্থানে গাড়ি রাখেন, তাঁদের গাড়ির নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। গাড়ি পার্ক করার পর দরজা ও জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা, গাড়ির ভেতরে চাবি না রাখা এবং দৃশ্যমান স্থানে মূল্যবান জিনিসপত্র না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্টিয়ারিং হুইল আটকানোর তালা, চুরি প্রতিরোধী যন্ত্র এবং গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করার অনুসরণব্যবস্থা ব্যবহার করাও নিরাপত্তার জন্য সহায়ক হতে পারে। গাড়ি চুরি হলে দ্রুত পুলিশের কাছে অভিযোগ করা এবং বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিষয়টি জানানো জরুরি। পুলিশের কাছে অভিযোগ করার সময় গাড়ির নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য, নম্বরপ্লেটের নম্বর এবং গাড়ির শনাক্তকরণ নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে গাড়ি চুরির ঘটনা গত বছরের তুলনায় কমলেও নয় মাসে ৯ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফলে গাড়ির নিরাপত্তা এখনো শহরের বাসিন্দাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।পুলিশ জানিয়েছে, প্রকাশিত অপরাধের পরিসংখ্যান প্রাথমিক। পরবর্তী যাচাই ও সংশোধনের ভিত্তিতে এসব সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অ্যামাজনের একটি পণ্য বিতরণকেন্দ্রের বাইরে গুলিতে আহত হয়েছেন দুই কর্মী। স্থানীয় সময় রোববার, ১১ অক্টোবর রাতে রেড হুক এলাকার এ ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। তবে কারা গুলি চালিয়েছে এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের রেড হুক এলাকায় বে স্ট্রিটে হিকস স্ট্রিট ও কলাম্বিয়া স্ট্রিটের মধ্যবর্তী স্থানে অ্যামাজনের বিতরণকেন্দ্রের বাইরে এ গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ৭৬তম প্রিসিঙ্কটের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। গুলিতে আহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এক নারী ও ২৩ বছর বয়সী এক পুরুষ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী বুকে এবং পুরুষ কর্মী কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত সংবাদে দুজনের অবস্থাই স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলি চালানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজন পালিয়ে গেছেন। তাঁরা একটি সাদা রঙের গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়িটি নিসান আলটিমা হতে পারে বলে নিউজ ১২ ব্রুকলিনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রেড হুক স্টার-রিভিউ। তবে সন্দেহভাজনদের নাম-পরিচয় বা তাঁদের সঙ্গে আহতদের পূর্বপরিচয় ছিল কি না, তা নিশ্চিত হয়নি। অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ সহিংস ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং আহত কর্মীদের সহায়তায় মনোযোগ দিচ্ছে। তদন্তের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি এবং দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পুলিশের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এটি কর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো হামলা, ব্যক্তিগত বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা নিশ্চিত করার মতো তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তাই ঘটনাটিকে অ্যামাজনের কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করার আগে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এ ঘটনায় তথ্য থাকলে Crime Stoppers-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কেউ তথ্য দিতে চাইলে ১-৮০০-৫৭৭-টিআইপিএস (৮৪৭৭) নম্বরে ফোন করতে পারবেন। স্প্যানিশ ভাষায় তথ্য দেওয়ার জন্য রয়েছে ১-৮৮৮-৫৭-পি আই এস টি এ (৭৪৭৮২) নম্বর। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফোনে দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হয়।
ভারতের কেরালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৩৩ বছর বয়সী চিকিৎসক ডা. থারা কালারিক্কালের রক্তের ক্যানসার লিউকেমিয়া শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর ছোট বোন ডা. চিত্রা কালারিক্কালের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কঠিন রোগের খবর জানালেও দুই বোনের হাসিমুখ ও দৃঢ় মনোভাব অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ, মনোরমা অনলাইন ও মধ্যমমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার পর ডা. থারার লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়। পরিবারের সদস্যদের আগে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নতুন করে এই রোগের খবর তাঁদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দুই বোনের ভিডিওতে ‘চেস্ট নম্বর ৩’ কথাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা পরিবারে তৃতীয় সদস্যের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। রোগের খবরটি তাঁরা যেভাবে স্বাভাবিক ও দৃঢ় ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। ডা. থারা ও ডা. চিত্রার পরিবারের ক্যানসারের অভিজ্ঞতা বহুদিনের। তাঁদের নানি ও মা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তাঁদের বড় বোন ডা. সূর্য কালারিক্কাল স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তবে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বর্তমানে ক্যানসারজয়ী হিসেবে পরিচিত। পরিবারের এই অভিজ্ঞতার কারণে ক্যানসার চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ, রোগীর মানসিক চাপ এবং স্বজনদের উদ্বেগ সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে। মায়ের চিকিৎসার সময় তাঁরা হাসপাতালে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। বড় বোনের চিকিৎসার সময়ও পরিবারের সদস্য হিসেবে পাশে ছিলেন।এবার ডা. থারার রোগ শনাক্ত হওয়ার পর সেই পুরোনো অভিজ্ঞতাগুলো আবার সামনে এসেছে। তবে দুই বোনের বক্তব্যে হতাশার পরিবর্তে রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। মনোরমা অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যাওয়ার পর ডা. থারার আরও পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার সূত্র ধরেই লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়।রোগের খবর প্রথমে তাঁদেরও উদ্বিগ্ন করেছিল। ডা. চিত্রা জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফলাফল আসার অপেক্ষার সময় উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে একের পর এক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাটা কঠিন ছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁরা অস্থিমজ্জার পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। বিস্তারিত পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা।তবে ডা. থারার লিউকেমিয়ার নির্দিষ্ট ধরন, রোগের পর্যায় এবং চিকিৎসার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ডা. চিত্রার বক্তব্যে উঠে এসেছে, ক্যানসার শনাক্ত হলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। কিন্তু শুধু ভয় ও হতাশার মধ্যে আটকে না থেকে রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই গুরুত্বপূর্ণ।তাঁদের পরিবারে আগে ক্যানসারের অভিজ্ঞতা থাকায় রোগটির কঠিন দিকগুলো তাঁরা জানেন। একই সঙ্গে তাঁরা মনে করেন, ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই জীবনের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। রোগের ধরন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসার সুযোগ থাকে।তাঁরা ক্যানসারকে তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টা করছেন না। বরং রোগের গুরুত্ব স্বীকার করেই মানসিকভাবে শক্ত থাকা এবং চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের খবর সাধারণত উদ্বেগ ও শোকের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ডা. থারা ও ডা. চিত্রা তাঁদের ভিডিওতে হাসিমুখে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। এই ভিন্নধর্মী উপস্থাপন দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে। মনোরমা অনলাইনকে দেওয়া বক্তব্যে ডা. চিত্রা জানান, ভিডিওটি প্রকাশের একটি উদ্দেশ্য ছিল ক্যানসার নিয়ে মানুষের ভয় ও সামাজিক সংকোচ কমানো। অনেকেই ভয় বা অস্বস্তির কারণে রোগের কথা প্রকাশ করতে চান না। অথচ সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ভিডিও দেখার পর কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা জানিয়েছেন বলেও ডা. চিত্রা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাজে এসেছে—এমন প্রতিক্রিয়া পেয়ে তাঁরা আনন্দিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন এলাকার বাসায় সোমবার, ১২ অক্টোবর, ফেডারেল তদন্তকারীরা তল্লাশি চালিয়েছেন। আদালতের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত এ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ, কী কী নথি বা সামগ্রী খোঁজা হয়েছে এবং তল্লাশিতে কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, তল্লাশিটি ভোরের দিকে পরিচালিত হয়। তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার তদন্ত বিভাগ—হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস—নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং বিচার বিভাগ সহায়তা করছে। তদন্তের সঙ্গে ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রের বিষয়টি জড়িত বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেওয়া হয়নি। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন ইলহান ওমর। ২০১৮ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন তিনি। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর কিশোর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার পরিচিত মুখ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত অতীত নথি নিয়ে রিপাবলিকান নেতাদের অভিযোগ নতুন নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তবে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ওমর অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবারের তল্লাশির পরও বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে এমন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি যে তিনি অপরাধ করেছেন। তল্লাশির সময়টি নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যেখানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের রায় গুরুত্বপূর্ণ হবে। ওমরও পুনর্নির্বাচনের প্রার্থী। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একজন নির্বাচিত আইনপ্রণেতার বাসায় এ ধরনের তল্লাশি পরিচালিত হওয়ায় ডেমোক্র্যাটিক নেতারা তদন্তের সময় ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের নীতিতে নির্বাচনের ঠিক আগে এমন আইন প্রয়োগমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে, বিশেষ করে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী সম্ভাবনায় প্রভাব পড়তে পারে এমন পরিস্থিতিতে। তবে এই নীতি থাকলেই আদালতের অনুমোদনে পরিচালিত প্রতিটি তল্লাশি অবৈধ হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তল্লাশিটি চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ এবং আদালতের অনুমোদন নিয়েই পরিচালিত হয়েছে। তল্লাশির পর ওমর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, প্রশাসনের কর্মকর্তারা তদন্তের বিষয়ে আগে কথা বললেও অভিযানের পরও এর বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্তের প্রকৃত পরিধি এবং অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বাধীনতা, নির্বাচনের আগে তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। তদন্তকারীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, আদালতের নথি এবং ওমরের পক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে প্রথম ইউনিটে এই বিক্রিয়া শুরু হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর কমিশনিং দল প্রক্রিয়াটি শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন কারিগরি পরিমাপক নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানির পরমাণু বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ ব্যবহার করে পানি থেকে উচ্চচাপের বাষ্প তৈরি করা হয়। বাষ্পের চাপে টারবাইন ঘোরে এবং টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। চুল্লিতে স্বনির্ভর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া স্থিতিশীলভাবে বজায় থাকার প্রাথমিক পর্যায়কে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়। রূপপুরের প্রথম ইউনিট এখন এই পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে বিক্রিয়া শুরু হওয়া মানেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়ে যাওয়া নয়। প্রথম ইউনিটের বিক্রিয়া শুরুর আগে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ৮ অক্টোবর বি-২ পর্যায়ের অনুমোদন দেয়। এর আগে কমিশনিংয়ের সময় স্বয়ংক্রিয় চাপমুক্তকারী নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। রুশ বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় সমস্যাগুলো সমাধান এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এখন চুল্লির বিভিন্ন পরামাপক, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন চলতে পারে বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ধাপে ধাপে তাপীয় ক্ষমতা বাড়ানো হবে। রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত দুটি ভিভিইআর-১২০০ ধরনের পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের পরিকল্পিত উৎপাদনক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২৪০০ মেগাওয়াট। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি একটি লক্ষ্যমাত্রা, নিশ্চিত সময়সূচি নয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও অনুমোদনের অগ্রগতির ওপর প্রকৃত সময় নির্ভর করবে। বাংলাদেশে শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। রূপপুরের ইউনিটগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির পরিমাণের তুলনায় বিপুল শক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে প্রকল্পের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে নিরাপদ পরিচালনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর। একই সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় কঠোর নিরাপত্তা মান বজায় রাখা জরুরি। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া নিঃসন্দেহে বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। তবে প্রকল্পের সাফল্য চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করতে হলে দেখতে হবে, বাকি কমিশনিং ধাপগুলো কতটা নিরাপদে সম্পন্ন হয়, কখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হয় এবং বাস্তবে কতটা উৎপাদনক্ষমতা অর্জিত হয়।