সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
রাজনীতি

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৯:৩৯
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।

 

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘ডেইলি ওয়াদা’ জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের নাম রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

 

বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আরেক নেতাও ফখরুলের মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তবে বিএনপির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপরই নির্ভর করছে। তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম জানানো হয়নি বলেও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

 

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে রোববার (৯ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

 

এর আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করে।

 

সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থী নিয়ে শেষ মুহূর্তে বড় কোনো পরিবর্তন না হলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও বৈধ প্রার্থিতার ওপর।

 

নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। প্রয়োজন হলে ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই যদি একমাত্র বৈধ প্রার্থী হন, তাহলে সংসদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করতে পারে।

 

রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

 

বুধবার বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে। শেষ পর্যন্ত তিনি একক বৈধ প্রার্থী হলে ২০ আগস্টের ভোট ছাড়াই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়ার পথ তৈরি হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাজনীতি

View more
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত
গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত: শহীদ উদ্দীন এ্যানি

গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ওয়াপদা খালের তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।   এ্যানি বলেন, বিরোধী দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা তাঁর মতে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল নিজেরাই বলছে, ১১ দলের দাবি পূরণ না হলে বোমাবাজি ও ককটেলবাজি বন্ধ হবে না।   তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের বক্তব্য, কর্মকাণ্ড এবং ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে যেসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে মিল দেখা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, গাড়িতে আগুন দেওয়া, ককটেল হামলা ও ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।    দেশের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও রাজপথে থেকেই ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা করবে।   বিরোধী দলের সংসদীয় ভূমিকার সমালোচনা করে এ্যানি বলেন, সংসদের ভেতরে তারা সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখলেও সংসদের বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষা ব্যবহার করছে। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আলোচনা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও বিরোধী দলের বর্তমান কর্মকাণ্ডের মধ্যে সরকারকে আগামী পাঁচ বছর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না দেওয়ার মনোভাব রয়েছে।    এ্যানির বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলন। জোটটি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগস্টে জোটটি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে বিভিন্ন বিভাগীয় শহর অভিমুখে লং মার্চ এবং নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।    এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরে দেওয়া বক্তব্যেও এ্যানি বিরোধী দলের লং মার্চের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সংসদে সরকারকে সহযোগিতার কথা বলার পরও রাস্তায় লং মার্চের মতো কর্মসূচি নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মসূচিতে যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি হতে পারে।    তবে ১১ দলীয় জোট তাদের কর্মসূচিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছে। জোটের পক্ষ থেকে লং মার্চ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছিল।    শুক্রবারের অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি এবং সদর পূর্ব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১১:৫২
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, ডিএমপি কমিশনার

ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি কমিশনার

বিএনপির নেতা কর্মী

তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ, নিউইয়র্কে প্রবাসী বিএনপির ব্যতিক্রমী স্বাগত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ঘিরে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভারতে একাধিক আয়োজন, বিজেপি ও কংগ্রেস নেতাদের আমন্ত্রণ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
মুক্তিযুদ্ধকে ‘আলু-পটোলের’ মতো পণ্য হিসেবে বিক্রি করেছেন শেখ হাসিনা: রিজভী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আড়াল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর ভাষায়, শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে ‘আলু-পটোলের’ মতো পণ্য হিসেবে বিক্রি করেছেন।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় রিজভী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।   রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রিজভী বলেন, তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তবে রিজভীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করায় তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ও তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের কাছে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। রিজভী দাবি করেন, শেখ হাসিনার পক্ষে না থাকার কারণেই গাজীকে রিমান্ড ও কারাগারে থাকতে হয়েছিল। এগুলো রিজভীর রাজনৈতিক অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের পাল্টা বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।   বিগত সরকারের সময়ে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কে সরকারের পক্ষে আর কে বিপক্ষে—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল। তাঁর দাবি, সরকারের বিরোধিতা করলেই অনেককে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হতো। একই প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।   রুহুল আমিন গাজীর মৃত্যু নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর দাবি, কারাবাস ও পরবর্তী সময়ে গাজী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ তোলেন। এসব বক্তব্যও রিজভীর দাবি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।   জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় কিছু সাংবাদিক তৎকালীন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। বিপরীতে রুহুল আমিন গাজী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।   রিজভী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে ভিন্নমতের কারণে কাউকে নিপীড়নের শিকার হতে হয়। ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদ বা রাজনৈতিক নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।   বক্তব্যের শেষ দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিপীড়নের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের জন্য রাজনৈতিক পরিণতি ডেকে আনে। তাঁর পুরো বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকে কোনো একক দলের রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহার না করে জাতীয় ইতিহাস ও জনগণের সম্মিলিত অর্জন হিসেবে দেখার বিষয়টিই সামনে আসে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:৫০
মীর শাহে আলম

নাহিদ-হাসানাত-পাটওয়ারীকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক নামের প্রসঙ্গ টানলেন মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ফ্যামিলি কার্ডে ভিআইপি-সাধারণের ভেদ নেই, জুবাইদাও পাবেন: মীর শাহে আলম

রবিউল ইসলাম নয়ন।

‘ককটেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, কামানের মুখ পেরিয়েই রাজপথে এসেছি’: নয়ন

প্রধানমন্ত্রী'র তথ্য উপদেষ্টা।
ককটেল বিস্ফোরণে টলবে না সরকার, অস্থিরতা ছড়িয়ে লাভ হবে না: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘দু–একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না।’   বক্তব্যটির মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা সম্ভব নয়—এমন অবস্থানই তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট মন্তব্যটি কোথায় ও কখন করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত সূত্র এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন জাহেদ উর রহমান। গত ১ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।   এর আগে ২৫ আগস্ট সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সে সময় জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ ধরনের ঘটনা যত ঘটেছিল, তার তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে দু–একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটছে, সেটিও তিনি অস্বীকার করেননি।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়েও সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, দেশে মিথ্যা মামলা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যায্য পদক্ষেপের বিচ্ছিন্ন ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—সরকার এমন দাবি করছে না।   এই প্রেক্ষাপটে ককটেল বিস্ফোরণসহ যেকোনো ধরনের সহিংস ঘটনাকে ঘিরে সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটছে, সেটিও স্বীকার করা হচ্ছে।   তবে ‘দু–একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না’—এই বক্তব্যটির পূর্ণ ভিডিও, সরকারি ব্রিফিংয়ের নথি বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বক্তব্যটির সঠিক স্থান, তারিখ এবং কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি বলা হয়েছে, তা আরও নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:৭
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তেলের দাম বাড়লেও অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কম, দাবি রিজভীর

দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি

দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি - সফর ঘিরে সমালোচনা

খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, তারেক রহমান।

জাতিসংঘে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ, চার দশক পর জিয়া পরিবারের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

0 Comments