সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
হুতিদের হা মলায় সৌদি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের দাবি, নি হত ২
হুতিদের হা মলায় সৌদি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের দাবি, নি হত ২

সৌদি আরবের নাজরান অঞ্চলে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এর দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   বিবৃতিতে তিনি জানান, সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় একটি নজরদারি 'এএইচ-৬আই' (AH-6i) হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে।   তবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করার দাবি করে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিবরণ দাঁড় করিয়েছে।   সম্প্রতি সৌদি জোট এবং ইয়েমেনভিত্তিক এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকাটি হুতিদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, নাজরানের কাছে সীমান্ত বরাবর হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বৈরী কার্যক্রম চালানোর সময় তারা একটি সৌদি 'অ্যাপাচি' (Apache) হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।   হুতিদের এই দাবির বিষয়ে রবিবার সরাসরি মন্তব্য করেছেন সৌদি জোটের মুখপাত্র আল-মালিকি। তিনি সারির ওই দাবির প্রতিক্রিয়ায় এক্সে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো বেশ কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি হুতিদের উদ্দেশ্য করে লেখেন, "আপনারা এটিকে ভূপাতিত করার দাবি করছেন, তবে এটি খুব শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করবে"।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেন ও সৌদির মধ্যকার এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনারই আরেকটি নতুন ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৯:৪৮
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর ব্যাগ টান দেওয়ায় রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের মৃত্যু হয়। ছবি: সংগৃহীত
সংসদের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে শিক্ষিকার মৃত্যু: আসামি রাকিবের জামিন

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর ব্যাগ টান দেওয়ায় রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় মো. রাকিব হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার, ১৮ অক্টোবর ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় এ আদেশ দেন।   আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান মজুমদার জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া পর্যন্ত রাকিবের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সী এই আসামির বিরুদ্ধে অন্য মামলা না থাকায় তিনি শিগগির কারামুক্ত হবেন বলে আশা করছেন তাঁর আইনজীবী।    রাকিবের আইনজীবীর দাবি, মামলায় প্রথমে জব্দ করা মোটরসাইকেলটির মালিক তাঁর মক্কেল হলেও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সেটি ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে ছিল এবং এর সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পরে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট রাকিবকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। রিমান্ড শেষে ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দী ছিলেন।    গত ২৯ আগস্ট ভোরে স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসেন রনজিলা পারভিন। তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাসংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তাঁর হাতের ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বামী আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।    মামলাটির তদন্তে পরে নতুন দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডিবি জানায়, মো. খোকন ও মো. রাজিব মাতুব্বর ওই ছিনতাইয়ে জড়িত ছিলেন বলে তাদের তদন্তে উঠে এসেছে। এর আগে জব্দ করা মোটরসাইকেলটি ঘটনায় ব্যবহৃত হয়নি বলেও জানায় ডিবি। সূত্র: দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৯:৪১
এক টুকরো পলিথিনে মেসির নাম, আর তাতেই বদলে গেল আফগান শিশু মুরতাজার জীবন
এক টুকরো পলিথিনে মেসির নাম, আর তাতেই বদলে গেল আফগান শিশু মুরতাজার জীবন

আফগানিস্তানের ছোট্ট শিশু মুরতাজা আহমাদির কথা ফুটবল ভক্তদের নিশ্চয়ই মনে আছে। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির একটি আসল জার্সি কেনা তার জন্য ছিল শুধুই স্বপ্ন। কিন্তু দারিদ্র্য তার ভালোবাসাকে আটকে রাখতে পারেনি। বড় ভাইয়ের সহায়তায় নীল-সাদা ডোরাকাটা একটি পলিথিনের ব্যাগ কেটে সে বানিয়ে নেয় প্রিয় তারকার জার্সি।   এরপর মার্কার কলম দিয়ে তাতে পরম যত্নে লিখে দেয় ‘MESSI’ এবং আইকনিক ১০ নম্বর। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পলিথিনের সেই জার্সি গায়ে মুরতাজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায় এবং কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে।   ক্ষুদে এই ভক্তের নিখাদ ভালোবাসা নজর এড়ায়নি স্বয়ং লিওনেল মেসিরও। শিশুটির প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানিয়ে তিনি নিজের স্বাক্ষর করা দুটি জার্সি ও একটি ফুটবল উপহার হিসেবে পাঠান। স্বপ্ন পূরণের গল্প এখানেই শেষ হয়নি; ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কাতারের দোহায় প্রিয় তারকার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার অভাবনীয় সুযোগও পেয়ে যায় ছোট্ট মুরতাজা। মেসির কোলে চড়ে মাঠে প্রবেশ করার সেই আবেগঘন মুহূর্তটি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে।   তবে মুদ্রার উল্টোপিঠের মতো এই আকস্মিক খ্যাতির একটি বিষাদময় পরিণতিও ছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর আফগানিস্তানের তৎকালীন পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে মুরতাজার পরিবার। অপহরণ ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাদের।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৯:৩১
ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ত্রী জেসমিন গিলকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গুরিন্দর গিল গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
জেসমিনকে আইসিই নিয়ে গেছে বলে দাবি স্বামীর, অবশেষে হত্যা মামলায় তাকেই আটক করল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ স্ত্রীকে ইমিগ্রেশন এজেন্টরা আটক করে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছিলেন গুরিন্দর গিল। কিন্তু তদন্তে সেই দাবির সত্যতা মেলেনি। পরে উদ্ধার হওয়া দগ্ধ দেহাবশেষ তাঁর স্ত্রী জেসমিন গিলের বলে শনাক্ত হলে হত্যার অভিযোগে গুরিন্দরকে গ্রেপ্তার করা হয়।   স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ১৬ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৪ অক্টোবর গুরিন্দরকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। তাঁকে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি মেইন জেলে রাখা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিনের যোগ্য নন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।    শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেসমিনকে সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর নিজ বাসায় দেখা যায়। ৪ অক্টোবর তাঁর এক কাজিন নিখোঁজের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান।   প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরিন্দর দাবি করেন, বাসার চিঠিপত্র দেখতে যাওয়ার সময় ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের, সংক্ষেপে আইসিইর, এজেন্টরা জেসমিনকে আটক করে নিয়ে যান। তদন্তকারীরা আইসিইর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংস্থাটি জানায়, ওই বাসায় তাদের কোনো অভিযান বা আটকের ঘটনা ঘটেনি।   তদন্ত এগোতে থাকলে স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে গুরিন্দরের বক্তব্যে আরও কয়েকটি অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল। সন্তানের হেফাজত নিয়েও তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল।    এদিকে জেসমিনকে নিখোঁজ হিসেবে জানানোর তিন দিন আগে, ১ অক্টোবর এল ডোরাডো কাউন্টিতে দগ্ধ মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জেসমিনের বলে নিশ্চিত করা হয়।   তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুরিন্দরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেন গোয়েন্দারা। তাঁকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি বাসায় তল্লাশি পরোয়ানাও কার্যকর করা হয়।   জেসমিনের মৃত্যুর কারণ কিংবা উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি শেরিফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। গুরিন্দরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হলেও আদালতে তা প্রমাণিত হওয়ার তথ্য ওই বিজ্ঞপ্তিতে নেই।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৯:২৬
মিথ্যা অভিযোগের ঘটনায় কাউন্সিলর মতিন আলীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জিবি নিউজের উপস্থাপক। ছবি: সংগৃহীত
দাঙ্গার মিথ্যা অভিযোগে মামলা, মতিন আলীকে ক্ষতিপূরণ দেবেন জিবি নিউজের উপস্থাপক

যুক্তরাজ্যের লিডসে ২০২৪ সালের দাঙ্গায় অংশ নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানোর ঘটনায় মুসলিম কাউন্সিলর মতিন আলীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জিবি নিউজের উপস্থাপক অ্যালেক্স আর্মস্ট্রং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষ্যকার বার্নাডেট স্পফোর্থ। মানহানির মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে তাঁরা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ দিতে সম্মত হয়েছেন। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর লন্ডনের হাইকোর্টে সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।   মতিন আলী লিডস সিটি কাউন্সিলের গিপটন অ্যান্ড হেয়ারহিলস এলাকার কাউন্সিলর। তিনি ২০২৫ সাল থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের গ্রিন পার্টির উপনেতার দায়িত্বও পালন করছেন। এক্সে প্রকাশিত পোস্টে তাঁকে দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরায় আর্মস্ট্রং ও স্পফোর্থের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি।   মতিনের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান বিন্ডম্যানস জানিয়েছে, বাস্তবে পুলিশের অনুরোধে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং উত্তেজনা কমাতে সারা রাত সেখানে ছিলেন। মামলা নিষ্পত্তির পর দুই বিবাদী তাঁর কাছে ক্ষমা চান এবং ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ দিতে সম্মত হন।    আদালতে পক্ষগুলোর সম্মতিতে পাঠ করা বিবৃতিতে জানানো হয়, একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা পরিস্থিতি শান্ত করতে মতিনের সহায়তা চেয়েছিলেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের বিপদ থেকে সরিয়ে নেওয়া, পুলিশ ও কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং আগুন নেভানোর কাজ করেন।   বার্তা সংস্থা পিএর আদালতবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্মস্ট্রংয়ের দুটি পোস্ট মোট ৩১ লাখের বেশি বার দেখা হয়। স্পফোর্থের পোস্ট দেখা হয় প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার বার। আর্মস্ট্রংয়ের দ্বিতীয় পোস্টে এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল যে মতিন অসৎভাবে দাঙ্গা থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।   দুই বিবাদীর পক্ষে আইনজীবী সামান্থা থম্পসন আদালতকে জানান, মতিনের সুনামের গুরুতর ক্ষতি ও মানসিক কষ্টের জন্য তাঁরা ক্ষমা চাইছেন।    মতিনের আইনজীবী আদালতে বলেন, অভিযোগগুলো অন্যরাও ছড়িয়ে দেওয়ায় তাঁকে একাধিকবার রাস্তায় থামিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলা হয়। অনলাইনেও তিনি বর্ণবাদী গালাগালের শিকার হন।   আদালতের বাইরে মতিন বলেন, কমিউনিটির ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কাজ করলেও তাঁকেই দাঙ্গায় জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর সততা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এসব পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর পরিবার আতঙ্কে ছিল এবং তাঁর গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান তিনি।   গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি মতিনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল কাউন্সিলরের মতোই তিনি উত্তেজনা কমাতে ও বিভেদ দূর করতে কাজ করেছিলেন। এই নিষ্পত্তিকে বর্ণবাদী হয়রানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মতিনসহ সংখ্যালঘু রাজনীতিকদের জন্য একটি জয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৯:১৯
পূর্বপুরুষের ভূমিতেই ইহুদিরা বাস করছে, তারা বিদেশি দখলদার নয়, ওবামাকে নেতানিয়াহুর জবাব
পূর্বপুরুষের ভূমিতেই ইহুদিরা বাস করছে, তারা বিদেশি দখলদার নয়, ওবামাকে নেতানিয়াহুর জবাব

ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় ফিলিস্তিনিদের জমি হারানো ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, পূর্বপুরুষের ভূমিতে ইহুদিরা বিদেশি দখলদার নয়।   দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংরেজিতে দেওয়া ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, নিজেদের ঐতিহাসিক মাতৃভূমিতে ইহুদিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার আপসযোগ্য নয়। ইসরায়েলের ইতিহাসকে ঔপনিবেশিক প্রকল্প হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে তিনি দাবি করেন, তাঁদের ভূমি চুরি করা নয়।    এর আগে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে এক অনুষ্ঠানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কথা বলেন ওবামা। তাঁর বক্তব্যে ইহুদিদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়নের ইতিহাস এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি, দুটি বিষয়ই উঠে আসে।   বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওবামা বলেন, হাজার হাজার বছর ধরে ইহুদিরা নিপীড়ন, বৈষম্য ও হত্যার শিকার হয়েছেন। ফলে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এমন একটি স্থানে তাঁদের আশ্রয় খোঁজা বোধগম্য। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে অন্য মানুষের জমি নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেই মানুষদের নিজেদের প্রতি অবিচার হয়েছে বলে মনে করা এবং জমি ফেরত চাওয়াও বোধগম্য।    বেলফাস্টের ওই আলোচনায় ওবামা সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির ওপর নির্ভর করে কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতিরও সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, শক্তির জোরে যা প্রয়োজন তা করা এবং যা চাই তা নেওয়ার অবস্থান স্বল্প মেয়াদে কার্যকর হতে পারে। তবে এমন অবস্থান নিলে ইসরায়েল তার নৈতিক ভিত্তি হারায়।   জবাবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, শান্তির পথে বাধা ইসরায়েল নয়। তাঁর ভাষ্য, যেকোনো সীমানার মধ্যে ইহুদিদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকার অধিকার মেনে নিতে প্রতিপক্ষের অস্বীকৃতিই মূল বাধা। ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার অস্বীকারকারীদের সন্তুষ্ট করতে দেশের টিকে থাকা নিয়ে ঝুঁকি নেবেন না বলেও জানান তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৮:৫৯
ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি আনিসা খান
ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি আনিসা খান

ইংল্যান্ডের জাতীয় নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আনিসা খান। ভারতের আহমেদাবাদে আসন্ন কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। তাঁর পৈতৃক বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামে।   প্রথম আলোর ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আনিসা। তাঁর বাবা ইয়াওর খানও সংবাদমাধ্যমটিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।    আনিসার কাবাডি খেলার শুরু ২০১৭ সালে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবাডি সোসাইটিতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। তখন খেলাটিতে একেবারেই নতুন ছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানিয়েছেন, নতুন একটি খেলা শেখার সিদ্ধান্ত তাঁকে একদিন জাতীয় দলের নেতৃত্বে নিয়ে যাবে, তা কখনো ভাবেননি।   বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে জায়গা করে নেন আনিসা। ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান বিচ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপেও ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্বকারী দলে ছিলেন তিনি।   খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনা, চাকরি ও ব্যবসায় যুক্ত আনিসা লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চারে কাজ করার পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন খাবারের ব্যবসা ‘বোম্বে পিৎজা’। ২০২৫ সালে বিবিসি ওয়ানের ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি অনুষ্ঠান ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ রানারআপ হয়ে পরিচিতি পান তিনি।   আনিসা জানিয়েছেন, পড়াশোনা, পেশা ও ব্যবসার ব্যস্ততার মধ্যেও কাবাডি তাঁর জীবনের অংশ হয়ে ছিল। এবার সেই খেলাতেই ইংল্যান্ডের নারী দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পেলেন তিনি।  সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৮:৫০
মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃ ত্যু দণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃ ত্যু দণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে 'অনৈতিক কাজ' করার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির এবং সিতি আক্তার নামের ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) কার্যকর করা হয়।   তবে দণ্ড কার্যকরের আগে বা পরে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পুরো বিষয়টি বাংলাদেশের নজরে আসে।   পূর্ব অবগতি ছাড়া এমন চরম পদক্ষেপের জেরে সার্বিক ঘটনার বিস্তারিত জানতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   পাশাপাশি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।   নিহত ওই দুই বাংলাদেশি সৌদি আরবে কী ধরনের ভিসায় অবস্থান করছিলেন এবং বিচারের সময় তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বা আপিলের কোনো আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৮:৩৯
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভ য়াবহ বি স্ফোরণ ও অ গ্নিকাণ্ড,  নি হত অন্তত ৭
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভ য়াবহ বি স্ফোরণ ও অ গ্নিকাণ্ড, নি হত অন্তত ৭

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি গোলাবর্ষণ প্রশিক্ষণের সময় গ্যাস পাইপলাইনে আঘাত লেগে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 'কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট' নামের এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজনের প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।   শনিবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একটি 'গুরুতর ঘটনা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি এই দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, পরিস্থিতি অত্যন্ত 'সক্রিয় ও স্পর্শকাতর' হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান বা দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেননি। বর্তমানে কানাডার সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।   অগ্নিকাণ্ডের পরপরই প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত সামরিক ঘাঁটির সীমানাপ্রাচীর পেরিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে বিপুলসংখ্যক আহতের চাপে এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালে জরুরি অবস্থা বা 'কোড অরেঞ্জ' ঘোষণা করা হয়েছে।   হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থিরস্ক পরিস্থিতিকে একটি ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, এমন বিপুল রোগীর চাপ এডমন্টনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার বাইরে এবং গত ১৫ থেকে ২৫ বছরে এমন মাত্রার সংকট আর দেখা যায়নি।   এই মর্মান্তিক ঘটনায় শুধু সামরিক বাহিনীই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওয়েনরাইট শহরের মেয়র ব্রুস পিউ দিনটিকে তার সম্প্রদায়ের জন্য একটি 'ভারী ও শোকাবহ দিন' উল্লেখ করে জানান, সামরিক সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের জীবন গভীরভাবে জড়িত।   আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এই অগ্নিকাণ্ডকে 'গুরুতর ও মর্মান্তিক' বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসায় সহায়তা করতে সাসকাচোয়ান এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়াসহ প্রতিবেশী প্রদেশগুলোও দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় ৬৯০ জন সামরিক ও ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী অধ্যুষিত এই ঘাঁটির ইতিহাসে একে অন্যতম ভয়াবহ এক গণহতাহতের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৮:৯
লন্ডনে ম্যাকলেমোরের কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক, অর্থ পাবে ৭ অক্টোবরের  হা ম লাকে সমর্থনকারী সংগঠন
লন্ডনে ম্যাকলেমোরের কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক, অর্থ পাবে ৭ অক্টোবরের হা ম লাকে সমর্থনকারী সংগঠন

বিখ্যাত র‍্যাপার ম্যাকলেমোরের আসন্ন যুক্তরাজ্য ট্যুরের আয়ের একটি অংশ এমন একটি গোষ্ঠীর তহবিলে যাচ্ছে, যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের জিম্মি করার ঘটনাকে 'বৈধ' এবং 'কার্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছিল। দ্য জিউইশ ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ অক্টোবর লন্ডনের ১২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার ওয়েম্বলি অ্যারেনায় ম্যাকলেমোরের একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে।   লাইভ নেশন পরিচালিত এই কনসার্টের আয় থেকে 'প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট'সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টের যুক্তরাজ্যের মুখপাত্র জেনিন হুরানি ৭ অক্টোবরের হামলা ও জিম্মি করার ঘটনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন এবং সংগঠনটি এই হত্যাযজ্ঞকে 'কারাগার ভাঙার' (prison break) সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছিল।   এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে দ্য জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল (জেএলসি)। তারা সতর্ক করে বলেছে, কনসার্টের আয়ের মাধ্যমে প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টকে অর্থায়ন করার অর্থ হলো ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতাকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়া।   জেএলসি কনসার্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান লাইভ নেশনের কাছে তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইহুদি কর্মী ও দর্শকদের সুরক্ষায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।   উল্লেখ্য, বেঞ্জামিন হ্যাগারটি, যিনি সংগীতাঙ্গনে ম্যাকলেমোর নামেই বেশি পরিচিত, সম্প্রতি পপ তারকা অ্যাড শিরানের মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুটি পারফরম্যান্সের সময় তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' স্লোগান দেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন।   যদিও ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তার এই মন্তব্যের পর জিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটসহ বেশ কয়েকজন ভেন্যু মালিক আয়োজকদের জানিয়ে দেন যে তারা ম্যাকলেমোরকে তাদের ভেন্যুতে পারফর্ম করতে দেবেন না। ফলশ্রুতিতে আয়োজক সংস্থা মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ তাকে ট্যুর থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়।   ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল। তারা একে 'ইহুদি-বিদ্বেষী বক্তব্য' থেকে হাজার হাজার দর্শককে বাঁচানোর একটি সঠিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটির মতে, বাকস্বাধীনতার অধিকার থাকলেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর কোনো অধিকার তার নেই।   তবে মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়ার পর ম্যাকলেমোর দমে যাননি, বরং নিজস্ব উদ্যোগে 'ম্যাকলেমোর অ্যান্ড ফ্রেন্ডস — ফ্রি প্যালেস্টাইন ট্যুর' নামের এই নতুন কনসার্ট সিরিজের ঘোষণা দিয়েছেন, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৭:৪৮
নিউইয়র্কে সোনার চেইন ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার মাকে ছু রি কা ঘাত
নিউইয়র্কে সোনার চেইন ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার মাকে ছু রি কা ঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বর্তমানে এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে মোটরচালিত বাইক বা স্কুটারে ঘুরে বেড়ানো ছিনতাইকারী চক্র। অবৈধ অভিবাসী গ্যাং সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই চক্রটি সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে খোদ পুলিশ সদস্যদের গলা থেকেও হাজার হাজার ডলার মূল্যের অলংকার ছিনিয়ে নিচ্ছে।   নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত ২০টির বেশি চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে অন্তত ১০টি রূপ নিয়েছিল সহিংসতায়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তার মতে, শহরের আনাচে-কানাচে এ ধরনের শত শত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, যা রেকর্ডের বাইরেই থেকে যাচ্ছে।   এই ছিনতাইয়ের পেছনে মূলত নব্বইয়ের দশকে রাইকার্স আইল্যান্ডে ডোমিনিকান বন্দীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কুখ্যাত 'ট্রিনিটারিওস' (Trinitarios) গ্যাং জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রঙ্কস এবং আপার ম্যানহাটনে এদের ব্যাপক আধিপত্য রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুটারে দুজন মিলে চেইন ছিনতাই করা এদের অন্যতম প্রধান কৌশল।   তারা প্রায়ই নিজেদের মুখ পুরোপুরি ঢেকে রাখে, ফলে নজরদারি ক্যামেরাতেও তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি এই গ্যাংয়ের দুই অবৈধ অভিবাসী সদস্য এক এনওয়াইপিডি গোয়েন্দার মায়ের দেওয়া চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তাকে ১০ বার ছুরিকাঘাত করে।   এর আগে ব্রুকলিনে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার গলা থেকেও ৮০০ ডলার মূল্যের একটি চেইন ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া গত জুলাইয়ে ম্যানহাটনে এক অফ-ডিউটি বর্ডার পেট্রোল এজেন্টকে গুলি করার ঘটনায় ‘অপারেশন সালভো’ চালিয়ে এই গ্যাংয়ের ৫৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।   ছিনতাইকারীদের এই বেপরোয়া আচরণের বড় শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি হোর্হে বেলত্রে নামের এক ব্যক্তি তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে স্কুল থেকে আনার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। নিজের ১৪ ক্যারেট সোনার চেইন বাঁচাতে গিয়ে তিনি পায়ে ছুরিকাঘাতের শিকার হন, তবে পথচারীদের সহায়তায় ১৭ বছর বয়সী এক ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলতে সক্ষম হন। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, ওই কিশোর মাত্র ৯০০ ডলার জামিনে দ্রুতই মুক্তি পেয়ে যায়।   পুলিশের মতে, নিউইয়র্ক একটি 'স্যাংচুয়ারি সিটি' হওয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (ICE) হাতে তুলে দেওয়া যায় না। বিচারকরাও অনেক সময় দ্রুত জামিন মঞ্জুর করায় অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।   সমালোচকরা এই পরিস্থিতির জন্য নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানির নীতিকে আংশিক দায়ী করছেন। ডেলিভারি অ্যাপ কর্মীদের সুবিধার্থে ই-বাইক চালকদের ওপর কড়াকড়ি কমানোর যে নীতি তিনি গ্রহণ করেছেন, তার সুযোগ নিচ্ছে এই অপরাধীরা।   জন জে কলেজ অফ ক্রিমিনাল জাস্টিসের অধ্যাপক ও সাবেক এনওয়াইপিডি গোয়েন্দা মাইকেল আলকাজার মনে করেন, এই মহামারি ঠেকাতে পুলিশের 'ব্রোকেন-উইন্ডো' থিওরি এবং সাধারণ পোশাকের অ্যান্টি-ক্রাইম ইউনিটগুলোকে পুনরায় মাঠে নামানো প্রয়োজন।   তবে এনওয়াইপিডির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতের পর সম্প্রতি ব্রঙ্কস এলাকায় চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা কিছুটা কমেছে। এছাড়া চলতি বছর শহরজুড়ে বড় ধরনের অপরাধ ৭ শতাংশ এবং ব্রঙ্কসে ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৭:৩৪
আলাস্কায় তুষারধসের ৫০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার কুকুর, পথ দেখাল এয়ারট্যাগ
আলাস্কায় তুষারধসের ৫০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার কুকুর, পথ দেখাল এয়ারট্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ভয়াবহ তুষারধসের কবলে পড়ে হারিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে একটি কুকুরকে। চার বছর বয়সী হাস্কিডুডল জাতের এই কুকুরটির নাম লুলু। বরফের নিচে কয়েক ফুট গভীরে চাপা পড়ার পরও তার এই বেঁচে ফেরার ঘটনাটি সবাইকে অবাক করেছে।   জানা যায়, লুলু তার মালিক ব্রায়ান এবং তার এক বন্ধুর সাথে অ্যাংরেজ শহরের চুগাচ স্টেট পার্কে হাইকিংয়ে গিয়েছিল। একলুতনা হ্রদের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ সেখানে প্রবল তুষারধস আঘাত হানে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ব্রায়ান ও তার সঙ্গী আহত হন। পরবর্তীতে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও দুর্ভাগ্যবশত লুলু বরফের রাজ্যে হারিয়ে যায়। ব্রায়ানের পার্টনার লরেন প্যাডাওয়ার সে সময় শহরের বাইরে ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ফিরে আসেন এবং লুলুকে খুঁজতে একটি নিবেদিত উদ্ধারকারী দল গঠন করেন।   প্রাথমিক অনুসন্ধান দলগুলো দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও কোনো সুসংবাদ দিতে পারেনি, তবে তারা হাল ছাড়েননি। টানা ৫০ ঘণ্টা পর লুলুর শরীরে থাকা এয়ারট্যাগ (AirTag) থেকে একটি লোকেশন সিগন্যাল পাওয়া যায়। সেই সিগন্যালের সূত্র ধরে অ্যামান্ডা বার্কার এবং ডেভ বেকেট নামের দুই উদ্ধারকর্মী একটি হেলিকপ্টার নিয়ে সরাসরি ওই দুর্গম এলাকায় ছুটে যান।   বরফ আচ্ছাদিত পাহাড়ের মাঝে দূর থেকে সাদা রঙের লুলুকে অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন তারা। এরপর হেলিকপ্টার থেকে নেমে প্রায় ২০ মিনিট ধরে তুষারের ওপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে লুলুর কাছে পৌঁছান এই দুই সাহসী উদ্ধারকর্মী।   উদ্ধারকর্মীদের দেখে লুলু প্রথমে কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে ডাকতে শুরু করলেও, পরম মায়ায় ডাকার পর সে শান্ত হয়। এরপর তারা সতর্কতার সাথে লুলুকে লিজ পরিয়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিরাপদে হেলিকপ্টারে ফিরিয়ে আনেন। প্রিয় পোষা প্রাণীকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে লরেন প্যাডাওয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সামরিক বাহিনীর প্যারারেসকিউ কর্মী এবং সাহায্যকারী সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আবেগাপ্লুত লরেন বলেন, এই ঘটনা তাকে নতুন করে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে যে মানুষ কতটা অসাধারণ হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৭:১৮
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী
তিন বছরের অপেক্ষা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী

তিন বছরের অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। শনিবার, ১৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ খবর জানান। স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ায় স্বস্তিও প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।    চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মৌসুমী। সেখানে মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও দেখাশোনায় সময় দিচ্ছেন তিনি।    গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার প্রমাণপত্র। প্রযোজ্য আইন ও শর্ত মেনে এই মর্যাদা বহাল রাখতে হয়। পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে স্থায়ী বাসিন্দারা মার্কিন নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করতে পারেন।    বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমায় কাজ করেছেন মৌসুমী। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী দর্শকদের কাছে ‘প্রিয়দর্শিনী’ নামেও পরিচিত।   সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্যসেবা ইউএসএগভ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৬:২৯
মেহরদাদ আখলাগিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন
মেহরদাদ আখলাগিকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দিল ইরানের সংসদ

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহরদাদ আখলাগি কেতাবচিকে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সংসদ। রোববার, ১৮ অক্টোবর আইনপ্রণেতারা তাঁকে আস্থাভোট দেন বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। তাঁর নিয়োগের মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নেতৃত্বে চলা মন্ত্রণালয়ে নতুন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এলেন।    আখলাগি ইরানের প্রতিরক্ষা খাতের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি দেশটির মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্রশিল্পে জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন দায়িত্বে তাঁকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও সংগ্রহসংক্রান্ত কার্যক্রম তদারক করতে হবে। প্রতিরক্ষা খাতে সংশ্লিষ্টতার কারণে তাঁর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।    প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অক্টোবরের শুরুতে আখলাগির নাম সংসদে পাঠান। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে দেওয়া চিঠিতে তাঁর যোগ্যতা ও প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনার অনুরোধ করেন প্রেসিডেন্ট। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, আস্থাভোটের আগে সংশ্লিষ্ট কমিশনে মনোনীত ব্যক্তির পরিকল্পনা পর্যালোচনার ব্যবস্থা রয়েছে।    সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান মাজিদ ইবনে আল-রেজা। এবার তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন আখলাগি।    আইনপ্রণেতাদের সামনে উপস্থাপিত পরিকল্পনায় আখলাগি সামরিক শিল্পের অবকাঠামো পুনর্গঠন, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।    সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৬:১১
ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা বাড়াল পাকিস্তান
ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল পাকিস্তান

ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে পাকিস্তান। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, পাকিস্তানের স্থানীয় সময় আগামী ২৪ নভেম্বর ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।   পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা উড্ডয়নসংক্রান্ত নোটিশ বা নোটামের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ভারতে নিবন্ধিত উড়োজাহাজ এবং ভারতীয় বিমান সংস্থা বা পরিচালনাকারীর মালিকানাধীন, পরিচালিত কিংবা ইজারা নেওয়া উড়োজাহাজ। ভারতীয় সামরিক উড়োজাহাজের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ প্রযোজ্য।    আগের ঘোষণায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছিল ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। শনিবার, ১৭ অক্টোবর নতুন নোটিশ জারি করে তা আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের করাচি ও লাহোর, উভয় ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়নে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।    ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাওর নথি অনুযায়ী, পাকিস্তান ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা বন্ধের প্রথম নোটাম জারি করে ওই বছরের ২৪ এপ্রিল। পরে ৩০ এপ্রিল পাকিস্তানি উড়োজাহাজের ওপর একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত।    এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পারায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে বিকল্প ও দীর্ঘ পথে চলতে হচ্ছে। এতে যাত্রার সময় এবং পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। নিষেধাজ্ঞা চালুর পর ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকাগামী কয়েকটি রুট পরিবর্তনের তথ্য জানিয়েছিল রয়টার্স।    সূত্র: পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ঘোষণা ও রয়টার্স।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৫:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশের সূচকে শীর্ষে টেক্সাসের ফ্রিসকো
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশের সূচকে শীর্ষে টেক্সাসের ফ্রিসকো, বাফেলো ৯৯তম

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের শিক্ষা, আর্থিক অবস্থা ও বসবাসের পরিবেশ নিয়ে তৈরি একটি বেসরকারি সূচকে প্রথম হয়েছে টেক্সাসের ফ্রিসকো। দ্বিতীয় স্থানে একই অঙ্গরাজ্যের প্লানো এবং তৃতীয় স্থানে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইন। প্রথম চার শহরের তিনটিই টেক্সাসের।    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রোকেয়ার থেরাপি গত ৯ সেপ্টেম্বর ‘২০২৬ আমেরিকাস চাইল্ডহুড ওয়েল-বিয়িং ইনডেক্স’ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল ১০০টি শহর নিয়ে তৈরি এই সূচকে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যার হিসাব ও সিটি হেলথ ড্যাশবোর্ডের আর্কাইভ করা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।    মূল্যায়নে পাঁচটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতি, শিশুদারিদ্র্য, বাসাবাড়িতে সিসার সংস্পর্শের ঝুঁকি, পার্কে যাওয়ার সুযোগ এবং তৃতীয় শ্রেণির পড়ার দক্ষতা। প্রতিটি বিষয়ের স্কোর মিলিয়ে শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।   ফ্রিসকো পেয়েছে ১০০-এর মধ্যে ৮৯ দশমিক ৮। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত হিসাবে শহরটির শিশুদারিদ্র্যের হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং স্কুলে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অবস্থাসহ একাধিক ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো ফল শহরটিকে এগিয়ে রেখেছে।   চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাসের ম্যাককিনি। পঞ্চম থেকে দশম অবস্থানে পর্যায়ক্রমে রয়েছে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলার, আইডাহোর বোইসি, ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে, ভার্জিনিয়ার চেসাপিক, নেভাডার হেন্ডারসন ও ক্যালিফোর্নিয়ার চুলা ভিস্তা।   নিউইয়র্ক সিটির অবস্থান ৩৯তম। বস্টন রয়েছে ৮৮তম, শিকাগো ৮৯তম এবং ফিলাডেলফিয়া ৯৪তম স্থানে। বাফেলো ৯৯তম এবং ডেট্রয়েট সর্বশেষ। প্রকাশক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, নিচের অবস্থানে থাকার অর্থ কোনো শহরে শিশুদের ভালোভাবে বেড়ে ওঠা অসম্ভব, এমন নয়।   সিটি হেলথ ড্যাশবোর্ডের সংজ্ঞা অনুযায়ী, শিক্ষাবর্ষের অন্তত ১০ শতাংশ দিন স্কুলে না যাওয়াকে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতি ধরা হয়। পার্কে যাওয়ার সুযোগ বলতে বোঝানো হয়েছে বাসা থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য পার্ক থাকা। অন্যদিকে সিসার সংস্পর্শের ঝুঁকি নির্ধারণে বাড়ির বয়স ও দারিদ্র্যের তথ্য ব্যবহার করা হয়। এটি শিশুদের রক্তে সিসা শনাক্ত হওয়ার হিসাব নয়।   সূচকটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ২১টি শহরের সম্পূর্ণ তথ্য না পাওয়ায় সেগুলোর ক্ষেত্রে উপলব্ধ শহরগুলোর মধ্যক মান বসানো হয়েছে। এসব শহরকে মূল তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকে বাদ রাখা হয়েছে। ব্যবহৃত প্রতিটি তথ্যের বছরও প্রকাশিত পদ্ধতিবিবরণীতে আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। ফলে এটি নির্বাচিত কয়েকটি বিষয়ের তুলনামূলক চিত্র, শিশুদের জীবনমানের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৪:৪৯
সুমি আক্তার ওরফে মিশু নামে এক নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু
আশুলিয়ায় নারী শ্রমিকের মৃত্যু, ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ পরিবারের

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে কাজের সময় লুটিয়ে পড়ার পর সুমি আক্তার ওরফে মিশু নামে এক নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর বিকেলের এ ঘটনায় প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর পড়ে যাওয়ার আগে এক কর্মকর্তাকে মেশিনে আঘাত করতে ও তাঁর দিকে তেড়ে যেতে দেখা গেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অসুস্থ অবস্থায় ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে।  সুমি ডেকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠানটির সুইং অপারেটর ছিলেন। স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও দুই ছেলেকে নিয়ে আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।    বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে সিসিটিভি ফুটেজের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ১ মিনিটের দিকে সুমি নিজের মেশিনে কাজ করছিলেন। এ সময় এক কর্মকর্তা তাঁর দিকে এগিয়ে এসে মেশিনে চাপড় দেন এবং কয়েক দফা উত্তেজিত আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাজের কাপড়টি নিয়ে ফেলে দেন। এর কিছুক্ষণ পর সুমি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা এগিয়ে আসেন এবং প্রায় তিন মিনিট পর তাঁকে স্ট্রেচারে তোলা হয়।  বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু স্বজন ও সহকর্মীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেন, সুমি অসুস্থ বোধ করলেও ছুটি পাননি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তাঁকে কাজ করতে হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।    তবে কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের এক্সিকিউটিভ অফিসার হাসান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সুমি অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটি চাননি। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে প্রথমে কারখানার মেডিকেল সেন্টারে এবং পরে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালটির সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, সুমিকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আনা হয়েছিল। পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।  সুমির স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ডেইলি স্টারকে অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগে কারখানার এক কর্মকর্তা তাঁর স্ত্রীকে ভর্ৎসনা ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। প্রথমে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার কথা ভাবলেও পরে পরিবার ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। মরদেহ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।    এদিকে ডেকো গ্রুপের মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে শনিবার তিনি কারখানায় না আসায় চিঠি হস্তান্তর করা যায়নি। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে এক কর্মকর্তার খারাপ আচরণের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তিনি। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৪:১০
নতুন ব্যবস্থায় লাগেজ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষার সময় যাত্রীরা মনিটরে লাগেজ  কার্যক্রম দেখতে পারবেন
শাহজালালে লাগেজ ওঠানামার দৃশ্য সরাসরি দেখতে পারবেন যাত্রীরা, প্রবাসীদের জন্য নতুন উদ্যোগ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো থেকে বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের দৃশ্য সরাসরি দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য আটটি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৬৫ ইঞ্চির ১৮টি মনিটর স্থাপন করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। লাগেজের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   শনিবার, ১৭ অক্টোবর বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় লাগেজ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষার সময় যাত্রীরা মনিটরে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের কার্যক্রম দেখতে পারবেন।  কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে পরিবহন, বাছাই এবং সংগ্রহের বেল্টে পৌঁছানোর দৃশ্য মনিটরে সরাসরি দেখানো হবে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা লাগেজ পরিবহনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন। লাগেজের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কমানোও এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।    উদ্যোগটির পেছনে রয়েছে লাগেজ হারানো, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, কাটা ও মালামাল চুরির অভিযোগ প্রতিরোধের সুপারিশ। দ্য ডেলটা লেন্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি প্রদর্শনের সুপারিশ করেছিল। বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের মধ্যে এই ব্যবস্থাও ছিল।    বেবিচক আশা করছে, সরাসরি কার্যক্রম দেখানোর ফলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের জবাবদিহি ও দক্ষতা বাড়বে এবং যাত্রীদের আস্থা জোরদার হবে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক যাত্রীরা যাতে দেশে পৌঁছে স্বাচ্ছন্দ্যে লাগেজ সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৩:৪৪
বিদেশে ৩০ টি ফুল ফান্ড স্কলারশিপ
বিদেশে ৩০ টি ফুল ফান্ড স্কলারশিপ,  জেনে নিন আবেদনের সময় ও বিস্তারিত

২০২৭ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। বৃত্তি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেয়, কোনোটির অর্থায়ন সীমিত মেয়াদের। আবার আবেদনের সময়সীমা নির্ভর করে কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবেদনকারীর দেশের ওপর। আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকার কয়েকটি সময়সীমায় সংশোধনও প্রয়োজন। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ ও ইপিএফএলের বৃত্তিতে আবেদন করতে ডিসেম্বর কিংবা এপ্রিল পর্যন্ত সময় আছে ধরে অপেক্ষা করলে সুযোগ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।   ইটিএইচ জুরিখের এক্সেলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রামে ২০২৭ সালের শরৎকালীন মাস্টার্সের জন্য আবেদন নেওয়া হবে ২০২৬ সালের ১ থেকে ৩০ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের এই আবেদনপর্ব অনুসরণ করতে হবে। ফলে তালিকায় উল্লেখ করা নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়সীমাটি যথাযথ নয়।  ইপিএফএল মাস্টার এক্সেলেন্স ফেলোশিপের ২০২৭ সালের নির্দেশনায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। বৃত্তির বিবেচনায় আসতে মাস্টার্সের প্রথম আবেদনপর্বে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা, ফি পরিশোধ ও আবেদন চূড়ান্ত করতে হবে। পরে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন বিবেচিত হলেও এই ফেলোশিপের যোগ্যতা থাকবে না। বৃত্তিটিতে প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ দেওয়া হয়, সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত। এটিকে সব খরচ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।    যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট হেনেসি স্কলার্সের ২০২৭ সালের আবেদন ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকাশিত সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর। এই বৃত্তির পাশাপাশি স্ট্যানফোর্ডের সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামেও আলাদা আবেদন করতে হয়। অর্থাৎ বৃত্তিতে আবেদন করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন সম্পন্ন হয় না।  ইউরোপের ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্সের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ কোর্সে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হয়। তবে এটি সব কোর্সের অভিন্ন সময়সীমা নয়। প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ভর্তি ও বৃত্তির নির্দেশনা রয়েছে।    জার্মানির ডাডকে একটি নির্দিষ্ট বৃত্তি হিসেবে দেখাও বিভ্রান্তিকর। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে, যার একটি হলো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের ইপস বৃত্তি। ইপসের আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কোর্স অনুযায়ী আলাদা। তাই ডাডের জন্য আগস্ট থেকে নভেম্বর কিংবা ইপসের জন্য আগস্ট থেকে মার্চকে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সময়সীমা ধরা যাবে না।  ফ্রান্সের আইফেল এক্সেলেন্স বৃত্তিতে শিক্ষার্থী সরাসরি ক্যাম্পাস ফ্রান্সে আবেদন করেন না। ফরাসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে আবেদন জমা দেয়। ২০২৭ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন জমার শেষ সময় ৬ জানুয়ারি। তবে শিক্ষার্থী বাছাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সময়সীমা এর আগেই হতে পারে।    আইফেলের অর্থায়ন নিয়েও স্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন। ক্যাম্পাস ফ্রান্স জানিয়েছে, বৃত্তি থেকে সরাসরি টিউশন ফি দেওয়া হয় না। তবে নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ডিগ্রিতে ফরাসি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রযোজ্য নিয়মে টিউশন ফি থেকে ছাড় পেতে পারেন। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সব কোর্সের খরচ একইভাবে মওকুফ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।  নেদারল্যান্ডসের এনএল স্কলারশিপকে পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি বলা স্পষ্টতই ভুল। সরকারি উচ্চশিক্ষা তথ্যসেবা স্টাডি ইন এনএল জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহনকারী বৃত্তি নয়। আবেদনের শেষ সময়ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।  যুক্তরাজ্যের গ্রেট স্কলারশিপও সব খরচ বহন করে না। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে এক বছরের নির্দিষ্ট পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের টিউশন ফিতে ১০ হাজার পাউন্ড সহায়তা দেওয়া হয়। আবেদনের সময়সীমা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা।    হাঙ্গেরির স্টিপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম টিউশন ফি, ভাতা ও আবাসনসংক্রান্ত সহায়তা দিলেও আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই সুবিধা জীবনযাপনের সব খরচ মেটায় না। শিক্ষার্থীকে নিজের অর্থ থেকেও ব্যয় করতে হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরির বাইরে থাকলে আবাসন সহায়তা দিয়ে পুরো ভাড়া মেটানো নাও যেতে পারে।  আয়ারল্যান্ডের গভর্নমেন্ট অব আয়ারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন স্কলারশিপের প্রকাশিত কাঠামো অনুযায়ী, এক বছরের জন্য ১০ হাজার ইউরো ভাতা ও ওই বছরের পূর্ণ ফি মওকুফের সুবিধা রয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি পিএইচডির পুরো সময়ের অর্থায়ন নয়। ফলে ডিগ্রির মেয়াদ বেশি হলে পরবর্তী সময়ের অর্থের ব্যবস্থা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।  যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ল্যারেন্ডন বৃত্তিতে সাধারণত আলাদা আবেদন লাগে না। সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স বা ডিফিল কোর্সের ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারির অর্থায়নসংক্রান্ত সময়সীমার মধ্যে ভর্তি আবেদন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। তাই শুধু জানুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে ধরে না নিয়ে নিজের কোর্সের নির্দিষ্ট তারিখ দেখা প্রয়োজন।   কমনওয়েলথ মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির ক্ষেত্রে কমিশনের আবেদনপদ্ধতির পাশাপাশি মনোনয়নকারী সংস্থার প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হয়। কমনওয়েলথ শেয়ার্ড বৃত্তিতে আবার অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রার্থী বাছাই করে। তিনটি কর্মসূচিকে একই আবেদনপদ্ধতি বা সময়সীমার মধ্যে ফেলা যায় না।  যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামেও সব পর্যায়ের জন্য অভিন্ন পূর্ণ বৃত্তি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েট স্কুল জানিয়েছে, অধিকাংশ মাস্টার্স শিক্ষার্থী সেখান থেকে আর্থিক সহায়তা পান না এবং নিজ দায়িত্বে টিউশন ফি দেন। পিএইচডির অর্থায়ন কাঠামো আলাদা। ফলে ‘ইয়েল ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ’ নাম দেখেই মাস্টার্সে পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত ধরে নেওয়া যাবে না।    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের যোগ্যতা। আন্তর্জাতিক বৃত্তি মানেই সব দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন, এমন নয়। যেমন বেলজিয়ামের ভিএলআইআর ইউওএসের আইসিপি কানেক্ট বৃত্তিতে নির্ধারিত দেশের নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্ত রয়েছে। তাই অর্থায়ন ও সময়সীমা দেখার আগেই নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।  বৃত্তির প্রস্তুতিতে তাই নামের তালিকার চেয়ে প্রয়োজন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের তথ্য। কোন ডিগ্রির জন্য সুযোগ, বাংলাদেশিরা যোগ্য কি না, অর্থায়ন কত বছরের, টিউশন ও জীবনযাপনের কতটুকু খরচ মিটবে এবং ভর্তি ও বৃত্তির জন্য পৃথক আবেদন লাগবে কি না, এসব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আনুমানিক মাসভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতির ধারণা দিতে পারে, তবে আবেদন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমার বিকল্প হতে পারে না।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৩:২৫
মো. আল আমীন মিয়া
তিতুমীরের কলেজের গনিত বিভাগের  ছাত্র থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি আল আমীনের

সরকারি তিতুমীর কলেজের যে গণিত বিভাগে শিক্ষার্থী ছিলেন, বিসিএসের মাধ্যমে সেখানেই শিক্ষক হয়ে ফিরেছিলেন মো. আল আমীন মিয়া। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালিতে গণিত ও পরিসংখ্যানবিষয়ক প্রোগ্রামে পিএইচডি করছেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ অর্থায়নে পড়াশোনার পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। গবেষণার বিষয় স্বচালিত রোবটের নিরাপদ ও কার্যকর চলাচলের পথ নির্ধারণ।   ময়মনসিংহের ভালুকার ধলিয়া বহুলী উচ্চবিদ্যালয়ে আল আমীনের শিক্ষাজীবনের শুরু। এরপর পড়েছেন রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক শেষে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও পছন্দের বিষয় পাননি। গণিত পড়ার আগ্রহ থেকেই বেছে নেন ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ। আল আমীনের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই গণিতের কঠিন সমস্যা সমাধান করতে ভালো লাগত। দীর্ঘ চেষ্টার পর সমাধান খুঁজে পাওয়ার আনন্দ তাঁকে বিষয়টির প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে। তাই উচ্চশিক্ষার বিষয় বেছে নেওয়ার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচিতির চেয়ে নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   ছাত্রজীবনে তাঁর লক্ষ্য ছিল বিসিএস ক্যাডার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হওয়া। বিসিএসের প্রস্তুতিতে রুমমেটের উৎসাহও ভূমিকা রেখেছিল। পাশাপাশি প্রথম আলোর ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতায় প্রকাশিত সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প পড়তেন। অন্যদের অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের লক্ষ্য ধরে রাখতে সাহস জোগাত। ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন আল আমীন। সুযোগ পান নিজের পড়াশোনা করা তিতুমীর কলেজের গণিত বিভাগে শিক্ষকতার। কলেজের প্রকাশিত একটি অনাপত্তিপত্রের শিরোনামেও তাঁকে গণিত বিভাগের প্রভাষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  শিক্ষার্থী হিসেবে চেনা বিভাগে শিক্ষক হয়ে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ। যাঁদের কাছে একসময় পড়েছেন, তাঁদের সঙ্গেই সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সেই শিক্ষকদের কাছ থেকে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণের নানা দিক শেখার সুযোগ পেয়েছেন।   শিক্ষকতার সময় আল আমীন উপলব্ধি করেন, পাঠ্যবইয়ের বিষয় বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাও জরুরি। তাঁর ক্লাসে গণিত বিভাগের বাইরের শিক্ষার্থীরাও আসতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি। অন্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে হতাশ হওয়া শিক্ষার্থীদের নিজের অভিজ্ঞতা বলতেন আল আমীন। বোঝানোর চেষ্টা করতেন, একটি প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ না পাওয়াই ভবিষ্যতের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ নয়। নিজের বিষয়ে দক্ষতা অর্জন এবং লক্ষ্য অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিতেন। শিক্ষকতা করতে করতেই গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ে তাঁর। বিশেষ করে গণিতের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, গাণিতিক অপটিমাইজেশন ও কম্পিউটেশনাল সায়েন্সের সম্পর্ক তাঁকে আকৃষ্ট করে। এসব বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। আল আমীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বেছে নেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালি। বর্তমানে সেখানকার ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল সায়েন্সেস প্রোগ্রামে গবেষণা করছেন।   তাঁর গবেষণায় গাণিতিক অপটিমাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং ব্যবহার করে স্বচালিত মোবাইল রোবটের চলাচলের পথ নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো, পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে রোবট যেন নিরাপদে ও দক্ষতার সঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। আল আমীনের মতে, গবেষণায় কোনো পদ্ধতি প্রথমবার প্রত্যাশিত ফল না দিলেই থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করা, বিকল্প পদ্ধতি পরীক্ষা করা এবং ফলের ভিত্তিতে মডেল উন্নত করা গবেষণার নিয়মিত অংশ। এই প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করার অভ্যাস প্রয়োজন। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের গবেষণার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী তিনি। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অর্থায়ন, আধুনিক অবকাঠামো এবং অভিজ্ঞ গবেষকদের দিকনির্দেশনার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বিভাগের গবেষকদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নতুন ধারণা পরীক্ষা করতে সহায়তা করে।   বাংলাদেশে গণিত শিক্ষাকে গবেষণার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আল আমীন। এ জন্য স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সঙ্গে যৌথ কাজ বাড়ানো এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে গণিতের প্রয়োগ শেখানোর পরামর্শ দেন তিনি।   পিএইচডি শেষে গবেষণা চালিয়ে যেতে চান আল আমীন। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। একসময় অন্যের সাফল্যের গল্প পড়ে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। এখন নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে চান। সূত্র: পাবলিকিয়ান   

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২:৩৯