যুক্তরাষ্ট্রে শিশু যৌন নির্যাতনের ৭০ অভিযোগে গ্রেপ্তার ওহাইওর পুলিশ প্রধান
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বেথেল শহরের পুলিশ প্রধান চ্যাড এসার্টকে শিশু যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফ্লোরিডার সেমিনোল থেকে মঙ্গলবার রাতে তাকে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই হেফাজতে নেয় পিনেল্লাস কাউন্টি শেরিফ অফিস। ৪৪ বছর বয়সী এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্লেয়ারমন্ট কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি মোট ৭০টি অভিযোগ গঠন করেছেন, যার ফলে তাকে জীবনের বাকি সময়টা কারাগারেই কাটাতে হতে পারে।
ওহাইওর ব্লানচেস্টারের বাসিন্দা এসার্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে ৫৬টি যৌন নিপীড়ন এবং ১৪টি অপ্রাপ্তবয়স্কের সাথে বেআইনি যৌন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এই সবগুলোই থার্ড-ডিগ্রি ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। সবগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলে এই পুলিশ প্রধানের সর্বোচ্চ ২৮০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এই অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছিল। সে সময় এসার্ট 'ইয়ং মেরিনস'-এর একজন প্রশিক্ষক এবং ওহাইওর শ্যারনভিলে অবস্থিত স্কারলেট ওকস ক্যারিয়ার ক্যাম্পাসের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী ছিলেন এসার্টেরই একজন ছাত্রী এবং ক্লেয়ারমন্ট ও হ্যামিল্টন কাউন্টির একাধিক স্থানে এই জঘন্য অপরাধগুলো সংঘটিত হয়।
এই অভিযোগ গঠনের পর ক্লেয়ারমন্ট কাউন্টির শেরিফ ক্রিস স্ট্র্যাটন বলেন, "অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন পুলিশ বাহিনীতে থাকেন এবং ক্ষমতার অধিকারী হন, তখন একজন ভুক্তভোগীর মুখ খুলতে প্রচণ্ড সাহসের প্রয়োজন হয়। আজকের এই অভিযোগ গঠন প্রমাণ করে যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিটি ভুক্তভোগীর কথা শোনা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" প্রসিকিউটর মার্ক টেকুলভও একই মত পোষণ করে বলেন, অপরাধীর নাম বা পদবি যাই হোক না কেন, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান অভিযোগগুলো এসার্টের বিরুদ্ধে চলা অন্য কোনো তদন্তের সাথে সম্পর্কিত নয়। এর আগে ২০১০ সালে এলমউড প্লেস থেকে যৌন হয়রানি এবং সাক্ষীকে ভয় দেখানোর অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়া এড়াতে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ফক্স ১৯ এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।
বর্তমানে এসার্টকে পিনেল্লাস কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তাকে ক্লেয়ারমন্ট কাউন্টিতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত চলমান থাকায় এসার্টের দ্বারা এ ধরনের আরও কোনো ভুক্তভোগী থেকে থাকলে, তাদের অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে শেরিফ অফিস।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে জানাতে একটি স্প্যানিশ ভাষার ভিডিও প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ভিডিওটিতে তিনি অভিবাসীদের পরামর্শ দিয়েছেন, আইসিই এজেন্টরা ব্যক্তিগত বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে চাইলে কীভাবে আইনি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তবে এই ভিডিও প্রকাশের পর অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার অভিযোগে তিনি রিপাবলিকানদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ভিডিও বার্তায় মেয়র মামদানি অভিবাসীদের উদ্দেশে বলেন, নথিতে ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারকের স্বাক্ষর আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে দরজার নিচ দিয়ে পরোয়ানা দিতে বলতে পারেন। বৈধ বিচারিক পরোয়ানা না থাকলে দরজা বন্ধ রেখেই এজেন্টদের প্রবেশে অস্বীকৃতি জানানোর অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নীরব থাকার অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, রাস্তায় আটকালে এজেন্টদের কাছে জানতে চাইতে হবে যে স্থান ত্যাগের অনুমতি আছে কি না। অনুমতি পেলে শান্তভাবে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো নথিতে স্বাক্ষরের আগে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার ওপরও জোর দেন তিনি। এই ভিডিওর জেরে মেয়রের বিরুদ্ধে ‘ফেডারেল আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি ও অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার’ অভিযোগ এনেছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। টেক্সাসের কংগ্রেসম্যান ব্র্যান্ডন গিল সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক দশকেরও কম সময় আগে নাগরিকত্ব পাওয়া দেশের বৃহত্তম শহরের একজন মেয়র বিদেশি ভাষায় অবৈধ অভিবাসীদের আইনি ফাঁকফোকর শেখাচ্ছেন, যা আমেরিকানদের জন্য চরম অপমানজনক। উটাহর সিনেটর মাইক লি এবং সাউথ ক্যারোলিনার প্রতিনিধি ন্যান্সি মেসও মেয়রের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ভিডিওটিতে মার্কিন আইন মেনে চলার কোনো তাগিদ নেই এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীরা কখনোই নিউইয়র্কার হতে পারে না। জোহরান মামদানি দীর্ঘদিন ধরেই আইসিই-এর কার্যক্রমের ঘোর সমালোচক। গত জুলাই মাসে কাজের বৈধতা থাকা ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান যুবকের মৃত্যুর পর তিনি সংস্থাটি বাতিলের দাবি তুলেছিলেন। সম্প্রতি তিনি নিউইয়র্ক সিটির ‘স্যাংচুয়ারি’ বা আশ্রয়দান নীতি আরও জোরদার করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর আওতায় বিচারকের স্বাক্ষর করা বৈধ পরোয়ানা ছাড়া স্কুল, হাসপাতাল বা সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তিতে আইসিই এজেন্টদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সিটি এজেন্সিগুলোর সহযোগিতা সীমিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুলিশের চুক্তি বাতিলের দাবি, টেক্সাসে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা
নিউইয়র্কে বাসযাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরালের পর স্থগিত ভাড়া পরিদর্শকদের কার্যক্রম
রোবট নিয়োগ দাও, মানুষকে চাকরি থেকে বাদ দাও, তারপর আর পেছনে তাকানোর প্রয়োজন নেই: বিল গেটস
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত মামলায় একসময় সরকারের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেওয়া সোমালি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সালাহ ওসমান আহমেদ নামের ওই ব্যক্তি ২০০৯ সালে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তার অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। পরে তদন্তকারীদের সহযোগিতা ও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাঁর সাজা কমানোর সুপারিশ করেছিল সরকারই। কিন্তু প্রায় ১৩ বছর পর এবার তাঁর সেই পুরোনো অপরাধের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে বিচার বিভাগ। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই মামলার বিস্তারিত এবং এর সম্ভাব্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব। আদালতের নথি অনুযায়ী, সালাহ ওসমান আহমেদ ২০০৭ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়ার মাত্র চার মাস পর তিনি সোমালিয়ায় যান এবং সশস্ত্র সংগঠন আল শাবাবের কার্যক্রমে যুক্ত হন। সে সময় ইথিওপীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছিল সংগঠনটি। পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আল শাবাবকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে আহমেদ সন্ত্রাসীদের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সংগঠনটির জন্য অর্থ ও লোকবল সংগ্রহের পাশাপাশি সোমালিয়ায় গিয়ে সশস্ত্র কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। তবে আহমেদের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মার্কিন তদন্তকারীদের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা। গ্রেপ্তারের পর তিনি সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত তদন্তে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সহায়তা করেন এবং একটি আলোচিত মামলায় সরকারের সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হন। ২০১৩ সালের মে মাসে তাঁর সাজা ঘোষণার সময় প্রসিকিউটররা বিচারককে জানান, তদন্তে আহমেদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্য এবং আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কম সাজা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ৭ মে মিনেসোটার ফেডারেল আদালতে আহমেদের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য নতুন দেওয়ানি মামলা দায়ের করে মার্কিন বিচার বিভাগ। সরকারের যুক্তি, নাগরিকত্ব পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আল শাবাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের নীতিমালার প্রতি প্রয়োজনীয় আনুগত্য পোষণ করতেন না। প্রসিকিউটরদের দাবি, নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তাঁর দেওয়া অঙ্গীকার প্রকৃতপক্ষে সঠিক ছিল না। এ কারণে তাঁর ন্যাচারালাইজেশন বাতিল এবং নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছে। মামলাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক হলো, নাগরিকত্ব পাওয়ার পরের কর্মকাণ্ডকে ভিত্তি করে বহু বছর আগের নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা। সাধারণত ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের মামলায় নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয়গুলো সামনে আসে। কিন্তু আহমেদের ক্ষেত্রে সরকার একটি পুরোনো এবং খুব কম ব্যবহৃত আইনি বিধানের ওপর নির্ভর করছে। এই বিধান অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হওয়া বা সংশ্লিষ্টতা তৈরি হওয়ার ঘটনা নাগরিকত্ব গ্রহণের সময়কার আনুগত্যের অভাবের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুক্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য হলে ভবিষ্যতের অন্য নাগরিকত্ব বাতিলের মামলাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ভিলানোভা ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ভিজিটিং অধ্যাপক ইরিনা মান্তা সিএনএনকে বলেন, মামলাটির গুরুত্ব শুধু একজন ব্যক্তির নাগরিকত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, সরকার এখানে আইনের এমন একটি বিধান প্রয়োগের চেষ্টা করছে, যার ব্যবহার অত্যন্ত বিরল এবং যার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ড দিয়ে অতীতে তাঁর আনুগত্যের অবস্থান নির্ধারণ করার চেষ্টা ভবিষ্যতে জটিল আইনি বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। আহমেদের আইনজীবী ড্যানিয়েল গার্ডস সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যে ব্যক্তি একসময় নিজের বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও সরকারের তদন্তে সহযোগিতা করেছিলেন, এখন সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইনজীবীর মতে, এতে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকা ব্যক্তিরা তদন্তকারীদের সহযোগিতা করতে অনাগ্রহী হতে পারেন। কারণ সরকারের হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার পরও নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকি থাকলে অনেকেই সামনে এগিয়ে আসতে চাইবেন না। আহমেদ নিজে আইনজীবীর মাধ্যমে সিএনএনের কাছে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদবিরোধী তদন্তে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন সাবেক এক ফেডারেল কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, এই ধরনের মামলা ভবিষ্যতে তদন্তকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব সংগঠন এখনো সক্রিয় রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়ার পর সাক্ষীর নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি হলে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারেন। তবে বিচার বিভাগ বলছে, প্রতিটি মামলায় তথ্যপ্রমাণ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত ইমিগ্রেশন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত ৫ অক্টোবর বিভাগটি আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার ঘোষণা দেয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করা, হত্যা, যৌন অপরাধসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে ১৭০টির বেশি দেওয়ানি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের হয়েছে বলে গবেষকদের হিসাবে উঠে এসেছে। তবে মামলার সংখ্যা বাড়লেও প্রত্যেকটি আবেদনের বিষয়ে আদালতকে পৃথকভাবে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। আহমেদের মামলায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে বিচারক পরিবর্তনের আবেদন ঘিরেও। মামলাটি মিনেসোটার ফেডারেল বিচারক প্যাট্রিক শিল্টজের আদালতে রয়েছে। গত ২০ অক্টোবর বিচার বিভাগ তাঁকে মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। সরকারের দাবি, মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিচারকের দেওয়া মন্তব্য তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিয়ে মন্তব্য করা বিচারকদের নৈতিক বিধিমালার আওতায় অনুমোদিত। আহমেদের আইনজীবীও বিচারককে সরানোর আবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। আদালতের হালনাগাদ নথি অনুযায়ী, বিচারককে সরানোর আবেদন নিয়ে আগামী ২৩ নভেম্বর শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নাগরিকত্ব বাতিলের মূল মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে আরও কয়েক মাস কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এই পর্যায়ে আহমেদের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়নি। আদালত সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিলেও তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করার জন্য আলাদা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীদের জন্য মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর সংঘটিত অপরাধ কিংবা নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে কত বছর পরও নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া যায়, সেই প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে। তবে এই মামলার অর্থ এই নয় যে সাধারণ কোনো অপরাধ বা রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সালাহ ওসমান আহমেদের মামলায় সেই আইনের প্রয়োগ কতদূর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে, তা এখন ফেডারেল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
জর্জিয়ায় গভর্নর প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমসকে সমর্থন জানাল ৪ মুসলিম সংগঠন
দোকান থেকে নয়, বাগদানের আংটি বানাতে কয়েক মাস ধরে নদীতে সোনা খুঁজলেন যুবক!
নিউইয়র্কে ৩৫.৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প, বন্যার ঝুঁকি কমাতে বড় উদ্যোগ নগর কর্তৃপক্ষের
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হাজারের বেশি করদাতাকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ট্যাক্স রিফান্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)। সন্তান দত্তক নেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষ ট্যাক্স ক্রেডিটের নিয়ম পরিবর্তনের ফলে নির্দিষ্ট কিছু পরিবার এই অর্থ ফেরত পাচ্ছে। গত ১৬ অক্টোবর আইআরএস জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই রিফান্ড দেওয়া শুরু হয়েছে এবং অধিকাংশ যোগ্য করদাতার অর্থ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এটি সব করদাতার জন্য নতুন কোনো সরকারি স্টিমুলাস পেমেন্ট নয়। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই সুবিধা মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা আগে সন্তান দত্তক নেওয়ার কারণে ফেডারেল অ্যাডপশন ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্য হয়েছিলেন, কিন্তু পুরো সুবিধা ব্যবহার করতে পারেননি। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অব্যবহৃত থাকা ট্যাক্স ক্রেডিট ২০২৫ সালের ট্যাক্স রিটার্নে বহন করে আনা হয়েছে, এমন করদাতারা নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় আসতে পারেন। এতদিন করের পরিমাণ কম থাকায় অনেক পরিবার এই ক্রেডিটের পুরো সুবিধা নিতে পারছিল না। নতুন ব্যাখ্যার ফলে তাঁদের একটি অংশ সরাসরি রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফেডারেল অ্যাডপশন ট্যাক্স ক্রেডিট মূলত সন্তান দত্তক নেওয়ার যোগ্য খরচের বিপরীতে দেওয়া একটি কর সুবিধা। আগে এই ক্রেডিট ব্যবহার করে বকেয়া ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্স কমানো যেত, কিন্তু সব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে কোনো পরিবারের করের পরিমাণ কম হলে অব্যবহৃত ক্রেডিট পরবর্তী বছরের জন্য রেখে দিতে হতো। আইআরএসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ ট্যাক্স বছরের ক্ষেত্রে আগের বছরের অব্যবহৃত ক্রেডিটের একটি অংশ রিফান্ডযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। প্রতি যোগ্য সন্তানের জন্য এই রিফান্ডযোগ্য অংশের সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার ডলার। তবে আইআরএস স্পষ্ট করেছে, যোগ্য হলেই প্রত্যেকে ৫ হাজার ডলার পাবেন, এমন নয়। প্রকৃত রিফান্ড নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অব্যবহৃত ট্যাক্স ক্রেডিটের পরিমাণ, যোগ্য সন্তানের সংখ্যা, আয়, পূর্ববর্তী কর পরিশোধ এবং অন্যান্য ট্যাক্স সংক্রান্ত হিসাবের ওপর। কারও ক্ষেত্রে পুরো ৫ হাজার ডলার পাওয়া সম্ভব হতে পারে, আবার কেউ তার চেয়ে কম পেতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি অর্থ ফেরত না এসে বকেয়া করের পরিমাণ কমতে পারে। একইভাবে অন্য কোনো সরকারি পাওনা থাকলে রিফান্ডের সম্পূর্ণ বা আংশিক অর্থ সেই দেনা পরিশোধে সমন্বয় করা হতে পারে। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য ২০২৫ সালের ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের আগে রিটার্ন জমা দিয়েছেন এবং আইআরএসের রেকর্ডে তাঁদের অব্যবহৃত অ্যাডপশন ট্যাক্স ক্রেডিটের তথ্য রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব সংশোধন করা হচ্ছে। এর জন্য সাধারণত নতুন করে আবেদন কিংবা সংশোধিত ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যাঁরা সময় বাড়িয়ে রিটার্ন জমা দিয়েছেন অথবা যাঁদের ট্যাক্স অ্যাকাউন্টে পরিচয় যাচাই, নির্ভরশীল সন্তানের তথ্য বা অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে, তাঁদের হিসাব পরবর্তী পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হবে। আইআরএস আরও জানিয়েছে, আগে অ্যাডপশন ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করেছেন কিন্তু ২০২৫ সালের রিটার্নে অব্যবহৃত ক্রেডিটের সঠিক তথ্য দেননি, এমন কিছু করদাতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে আইআরএসের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকলে স্বয়ংক্রিয় সংশোধন সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সংশোধিত ট্যাক্স রিটার্ন এবং ফর্ম ৮৮৩৯ জমা দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তবে যাঁদের তথ্য আগে থেকেই সঠিকভাবে জমা রয়েছে, তাঁদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে নতুন রিটার্ন জমা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রিফান্ড সংক্রান্ত পরিবর্তন সম্পন্ন হলে সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে একটি নোটিশ পাঠাবে আইআরএস। সেখানে কত টাকা রিফান্ড দেওয়া হচ্ছে, ট্যাক্সের হিসাব কীভাবে সংশোধন হয়েছে এবং কোনো অর্থ বকেয়া দেনার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে কি না, তা উল্লেখ থাকবে। করদাতাদের এই নোটিশ ২০২৫ সালের ট্যাক্স রিটার্নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার এবং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইআরএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে ট্যাক্স রেকর্ড, রিফান্ডের অবস্থা এবং সরকারি নোটিশ যাচাই করা যাবে। আইআরএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেছেন, যোগ্য পরিবারগুলোকে সংশোধিত ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই রিফান্ড দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হচ্ছে। প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের ফলে সন্তান দত্তক নেওয়া পরিবারগুলো নিজেদের প্রাপ্য কর সুবিধা আরও সহজে এবং দ্রুত পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে করদাতাদের অতিরিক্ত কাগজপত্র ও আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা কমানো। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর মধ্যেও যাঁরা সন্তান দত্তক নিয়েছেন এবং ফেডারেল অ্যাডপশন ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করেছেন, তাঁরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। তবে শুধু সন্তান থাকা, নিয়মিত ট্যাক্স দেওয়া কিংবা ২০২৫ সালের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার কারণে কেউ এই অর্থ পাবেন না। এ ক্ষেত্রে আগের বছরের যোগ্য অব্যবহৃত অ্যাডপশন ট্যাক্স ক্রেডিট থাকা জরুরি। আইআরএস জানিয়েছে, অধিকাংশ যোগ্য করদাতাকে চলতি বছরের শেষ নাগাদ রিফান্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পেনসিলভানিয়ায় বন্ধুর ৬ সপ্তাহের শিশুকে বেবিসিট করতে গিয়ে হত্যা করেন পিএইচডি গবেষক
নিউইয়র্কে বাসাভাড়া রেকর্ড উচ্চতায়, বাড়ি কিনতে মাসে গুনতে হবে প্রায় ১১ হাজার ডলার