আন্তর্জাতিক

সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম, প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি থাকলেও লাগবে কাজের অনুমতি

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১২:৪৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (অনূর্ধ্ব বা স্থায়ী বিশেষ আবাসন সুবিধা) হোল্ডারদের জন্য এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিজিটাল শ্রম প্ল্যাটফর্ম ‘কিওয়া’ এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

 

স্থানীয় দৈনিক ওকাজ পত্রিকার বরাতে জানা গেছে, এই বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটটি পাওয়ার জন্য প্রতি আবেদনকারীকে ১০০ সৌদি রিয়াল ফি প্রদান করতে হবে। সম্প্রতি কিওয়া প্ল্যাটফর্মটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, কর্মীদের পদত্যাগ এবং ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার প্রক্রিয়া সহজ ও সুনির্দিষ্ট করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

 

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কিওয়া প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি বা নিবন্ধন মাশুল এক রকম হবে না। প্রতিষ্ঠানের আকার এবং কোম্পানির ইউনিফাইড নম্বরের অধীনে নিবন্ধিত মোট কর্মকর্তা-कर्मचारियों সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই ফি নির্ধারণ করা হবে। এই সেবামূল্য পরিশোধের জন্য গ্রাহকরা ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট নম্বর এবং কিওয়া ডিজিটাল ওয়ালেটের মতো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন।

 

এছাড়া, সৌদির জনপ্রিয় কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘তামহীর’-এর আওতাধীন চুক্তিগুলো এখন থেকে কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে নথিভুক্ত করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণ চুক্তিগুলো সৌদিকরণ বা নির্দিষ্ট হারে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের বাধ্যবতকতার হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। একই সাথে এটি কর্মসংস্থান চুক্তি ডকুমেন্টেশনের বর্তমান কমপ্লায়েন্স বা শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

 

কর্মীদের পদত্যাগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করার সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধাটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যদি উক্ত সাত দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি সেই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করে থাকে কিংবা সিদ্ধান্ত স্থগিত না রাখে। পাশাপাশি, চাকরি ছাড়ার আগের নোটিশ পিরিয়ড বা সময়সীমা কেমন হবে, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান চুক্তির শর্তাবলীর ওপর নির্ভর করবে এবং এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

 

ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কিওয়া স্পষ্ট করেছে যে একবার কোনো ভিসা ইস্যু হয়ে গেলে তার তথ্য আর সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাবে না। যদি ভিসায় কোনো ভুল তথ্য ইনপুট দেওয়া হয়ে থাকে, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেই ভিসাটি বাতিল করতে হবে এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আরেকটি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
পেরুর লিমায় বিশ্বকাপ মাসকট সেজে পুলিশের ছদ্মবেশী অভিযানে মাদক কারবারি আটক

পেরুর রাজধানী লিমায় মাদক চোরাকারবারিদের ধরতে এক অভিনব ও নাটকীয় অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির পুলিশ। ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপের মাসকটের ছদ্মবেশ ধারণ করে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ সদস্যরা।   পেরু পুলিশের অফিশিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাসকট ‘ক্লাচ দ্য ব্যাল্ড ঈগল’ এবং কানাডার মাসকট ‘ম্যাপল দ্য মুজ’-এর পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্যরা ভারী যন্ত্র দিয়ে একটি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করছেন। এরপরই সাদা টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে বেশ কিছু সাদা পাউডারের প্যাকেট এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।   টিকটকে প্রকাশিত ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ওয়ার্ল্ড কাপ মোড: পিচিচির পতনের মধ্য দিয়ে অভিযানের সমাপ্তি’। ‘পিচিচি’ হলো ওই মাদক কারবারির ডাকনাম, যা মূলত স্প্যানিশ ফুটবল লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারের নাম থেকে নেওয়া হয়েছে।   পুলিশের ‘গ্রিন স্কোয়াড’-এর প্রধান কর্নেল কার্লোস ফ্রেডি আলকানতারা ওব্রেগন জানান, তাদের লক্ষ্যবস্তু ওই ব্যক্তি ছিলেন একজন অন্ধ ফুটবল ভক্ত এবং তিনি বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ছিলেন। তাই কোনো ধরনের সন্দেহ তৈরি না করেই তার কাছাকাছি পৌঁছাতে গ্রিন স্কোয়াডের সদস্যদের বিশ্বকাপের মাসকট হিসেবে ছদ্মবেশ ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশের এই ব্যতিক্রমী কৌশলটি দারুণভাবে সফল হয়েছে।   পেরু পুলিশের এমন অভিনব কৌশল অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ভালোবাসা দিবসেও ‘ক্যাপিবারা’ প্রাণীর ছদ্মবেশে এক পুলিশ কর্মকর্তা লিমায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। মার্কিন ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএন-এর তথ্যমতে, এর আগে বিভিন্ন সময়ে পেরুর পুলিশ সদস্যদের মার্ভেল সুপারহিরোদের ছদ্মবেশ ধারণ করেও সফল অভিযান চালাতে দেখা গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১৭:৩৮
ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম, প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি থাকলেও লাগবে কাজের অনুমতি

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বিরোধ মেটাতে পাকিস্তানকে পূর্ণ সমর্থন দিল কাতার

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ

টিজুয়ানা স্টেডিয়াম | ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ভেন্যুর বাইরে গাড়ির ট্রাঙ্কে মিলল গলিত মরদেহ

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মেক্সিকোর টিজুয়ানায় একটি স্টেডিয়ামের বাইরে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ট্রাঙ্ক থেকে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে স্টেডিয়ামে বর্তমানে ইরান জাতীয় ফুটবল দল অনুশীলন করছে, তার অদূরেই এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় গাড়ির ট্রাঙ্কে রাখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে লাশে গুরুতর সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   স্টেডিয়ামের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার বাইরে এমন ঘটনা সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত চলছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি বেশ কিছু সময় ধরে একই স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গাড়ির ট্রাঙ্ক খুলে প্লাস্টিকে মোড়ানো মরদেহটি উদ্ধার করে।   ঘটনার পর ইরান জাতীয় ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।   মেক্সিকান প্রশাসন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা মাদক কার্টেলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১০:১৫
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ | ফাইল ছবি

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় হাঙ্গরের কামড়ে তরুণী গুরুতর আহত, বাঁচালেন লাইফগার্ড

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মার্কিন গবেষককে গ্রেপ্তার করল চীন, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথে ইউক্রেন, শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক আলোচনা

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। শুক্রবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের এক বৈঠকে আগামী সপ্তাহে ইউক্রেন এবং মলদোভার সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।   মলদোভাকেও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বলয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। বিশ্বের বৃহত্তম এই ট্রেডিং ব্লকে যুক্ত হওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই আলোচনাটি আগামী সোমবার লুক্সেমবার্গে শুরু হবে। ইউক্রেন মনে করে, রাশিয়ার সাথে চলমান সংঘাতের অবসানের পর একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য ইইউ সদস্যপদ তাদের জন্য একটি বড় 'নিরাপত্তা গ্যারান্টি' হিসেবে কাজ করবে।   ন্যাটো সদস্যপদ ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় হতে পারলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আপাতত তা সম্ভব নয়। তাছাড়া, যুদ্ধ চলমান অবস্থায় ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অন্যান্য মিত্রদেরও ঘোর আপত্তি রয়েছে। রাশিয়া এর তীব্র বিরোধী এবং ২০২২ সালে তাদের পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন চালানোর পেছনে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের চেষ্টাকেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিল মস্কো।   তবে, কিয়েভের ইইউ সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রে রাশিয়া সরাসরি কোনো আপত্তি জানায়নি। ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এক যৌথ বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে ইউরোপজুড়ে "শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি" জোরদার করার একটি কৌশলগত পছন্দ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা উভয় দেশের দৃঢ়তা, সাহস ও পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের মুখেও সংস্কারমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন।   ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হতে ইচ্ছুক দেশগুলোকে কৃষি থেকে শুরু করে বাণিজ্য পর্যন্ত মোট ৩৫টি নীতিগত ক্ষেত্রে (যাকে 'চ্যাপ্টার' বলা হয়) দীর্ঘ আলোচনা সম্পন্ন করতে হয়, যা অনেক সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। সোমবারের আন্তঃসরকারি সম্মেলনে এই ব্লকের প্রতিষ্ঠা ও মূল নীতি-সম্পর্কিত প্রধান চ্যাপ্টার বা 'ক্লাস্টার'গুলোর দ্বার উন্মোচন করা হবে।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউতে যোগদানের আবেদন করেছিল। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ইউক্রেন বেশ কিছু সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে সক্ষম হওয়ায় ইইউ কমিশন দেশটির প্রশংসা করেছে, তবে দুর্নীতি ও বিচার ব্যবস্থার মান নিয়ে এখনো কিছু গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে।   এদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ সম্প্রতি তার ইইউ মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনকে 'অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপ' বা সহযোগী সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে করে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে একটি নতুন গতি আনা যায়। ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসও পূর্ণ সদস্যপদের বদলে দ্রুত ইউক্রেনকে ব্লকের আওতায় আনার বিকল্প পথের প্রস্তাব দিয়েছে।   মার্জের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ইউক্রেন ভোটাধিকার ছাড়াই ইইউর বিভিন্ন বৈঠক, ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে। বর্তমানে আমেরিকার মনোযোগ ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের দিকে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা শান্তি আলোচনা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।   এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সরাসরি নিজস্ব আলোচনা শুরুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। ইইউর নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো নতুন নীতিগত চ্যাপ্টার খোলা ও বন্ধ করার ক্ষেত্রে ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত সম্মতি প্রয়োজন।   উল্লেখযোগ্যভাবে, হাঙ্গেরি দীর্ঘদিন ধরে এই আলোচনার পথ আটকে রেখেছিল, তবে বুদাপেস্টে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তাদের সেই কঠোর অবস্থানে নমনীয়তা এসেছে, যা ইউক্রেন ও মলদোভার জন্য এই ঐতিহাসিক আলোচনার পথ সুগম করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১৯:১৫
ছবিঃ এ বি সি

কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে বন্দি আফগান কিশোরী, পেছনে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি

ছবিঃ এ এফ পি

ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির পথে বড় বাধা, ইউরেনিয়াম ও হরমুজ ইস্যুতে অনড় ইরান

ইরানি সেনাবাহিনীর সমন্বয়-বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি। ছবি: সংগৃহীত

পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট, একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে কঠোর সতর্কবার্তা জারি

0 Comments