ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত

যেভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের কৌশলগত শক্তিতে পরিণত হলো
যেভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের কৌশলগত শক্তিতে পরিণত হলো

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু তার পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা।   সংঘাতের শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন, এটি ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল বা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযান। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।   তবে পরিস্থিতি জটিল হতে থাকলে ইরান তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। তারা সরাসরি সামরিক লড়াইয়ের বদলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার দিকে নজর দেয়। এই সংকীর্ণ জলপথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এখান দিয়ে পরিবাহিত হয়।   ফলে এই রুটে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। ইরানের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়, কারণ তাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকটাই এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বুঝতে পারে, এই গুরুত্বপূর্ণ পথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে প্রচলিত যুদ্ধের তুলনায় বেশি কৌশলগত সুবিধা অর্জন করা সম্ভব। ফলে জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে ফেলে ওয়াশিংটনকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করা হয়।   অবশেষে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় এই প্রণালির নিরাপত্তা ও পুনরায় চালু রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়। যদিও অতীতে ইরান বারবার হুমকি দিয়েছে প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার, বাস্তবে কখনো পুরোপুরি তা করা হয়নি—এমনকি ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালেও না।   বর্তমানে ইরানের ভেতরে এই প্রণালি ভবিষ্যতে কীভাবে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটির পার্লামেন্টের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাবও দিয়েছে। এমনকি প্রতি তিন ব্যারেল তেলের জন্য নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের প্রস্তাবও উঠেছে।   যুদ্ধবিরতির পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিজয়ের একটি বর্ণনা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, দেশটি বিদেশি চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। Fars News Agency জানিয়েছে, ইরানের পরিকল্পনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   তবে এই বিজয়ের চিত্রের আড়ালে বাস্তবতা বেশ জটিল। সংঘাতে ইরানের সামরিক বাহিনী ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে, যার ফলে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।   শান্তি আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান দাবি ছিল। এদিকে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।   পরে হোয়াইট হাউস জানায়, এই ধরনের বক্তব্যকে তারা গুরুত্বসহকারে দেখছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ খাতিবজাদেহ বলেন, প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে পরিস্থিতি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ওপর।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান এই প্রণালিতে শুল্ক আরোপ বা নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলকে মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখে—তাই এ ধরনের পদক্ষেপকে তারা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি জলপথ নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে। সূত্র: BBC Bangla

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে পারাপারের অনুমতি পেল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’; ফিরছে শারজায়

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বিরতির মাঝেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পারাপারের অনুমতি না মেলায় জাহাজটি পুনরায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা হয়ে শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে জাহাজটি। তেহরানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। ফলে বর্তমানে জাহাজটি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শারজার পথে রয়েছে।   বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, “কূটনৈতিকভাবে পারাপারের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিক নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।” তিনি আরও জানান, জাহাজে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে এবং নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ ‘ওয়ার অ্যালাউন্স’ দেওয়া হচ্ছে। তবে দীর্ঘ যাত্রায় পানির ব্যবহার রেশনিং করে দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।   উল্লেখ্য, ভারত ও কাতার থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল জাহাজটি। কিন্তু জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাসের পরই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে জাহাজটি ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জাহাজটিকে কুয়েতে না পাঠিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসসি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সিআইএ-র ‘গোস্ট মারমার’ প্রযুক্তিতে উদ্ধার মার্কিন পাইলট

মাইলের পর মাইল দূর থেকে নিখুঁতভাবে মানুষের হৃদস্পন্দন শনাক্ত করতে সক্ষম এক অত্যাধুনিক গোয়েন্দা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করেছে সিআইএ। নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও ‘ফিউচারিস্টিক’ প্রযুক্তির ব্যবহারের তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ প্রথমবারের মতো সরাসরি অভিযানে ‘গোস্ট মারমার’ (Ghost Murmur) নামক একটি অতি গোপনীয় সিস্টেম ব্যবহার করেছে। দক্ষিণ ইরানের দুর্গম পাহাড়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর আত্মগোপন করা পাইলটকে খুঁজে পেতে এই প্রযুক্তিটি অবিশ্বাস্য ভূমিকা রাখে। এটি মূলত ‘লং-রেঞ্জ কোয়ান্টাম ম্যাগনেটোমেট্রি’ ব্যবহার করে মানুষের হৃদস্পন্দনের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগন্যাল শনাক্ত করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে চারপাশের সব শব্দ থেকে সেই নির্দিষ্ট সংকেতটিকে আলাদা করে ফেলে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, সিআইএ প্রায় ৪০ মাইল দূর থেকে ওই পাইলটের অবস্থান শনাক্ত করেছে। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ জানান, প্রযুক্তিটি শত্রুর চোখে অদৃশ্য ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে সক্ষম। লকহিড মার্টিনের অত্যন্ত গোপনীয় ‘স্কাঙ্ক ওয়ার্কস’ বিভাগে তৈরি করা এই প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানেও যুক্ত করা হতে পারে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, জনমানবহীন মরুভূমি এলাকা হওয়ায় সেখানে অন্য সংকেত কম ছিল, যা এই প্রযুক্তির প্রথম ব্যবহারের জন্য ছিল আদর্শ পরিবেশ। ‘গোস্ট মারমার’ নাম রাখার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এটি এমন কাউকে খুঁজে পায় যে দৃশ্যত পৃথিবী থেকে ‘উধাও’ বা অদৃশ্য হয়ে গেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুদ্ধের লক্ষ্য অপূর্ণই রইল, ইরান থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যেসব লক্ষ্য সামনে রেখে এই সংঘাত শুরু হয়েছিল, তার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তবে যুদ্ধের কয়েক সপ্তাহ পরেও এসব লক্ষ্য পূরণের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং মার্কিন পক্ষের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়েছে।   সংঘাতের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরও দেশটির ক্ষমতার কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। বরং নতুন নেতৃত্ব আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়; এটি কেবল একটি সাময়িক বিরতি। কারণ সংঘাতে জড়িত কোনো পক্ষই তাদের মূল লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন কার্যত ইরানের হাতে রয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে একাধিক দাবি সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে থাকা সম্পদ মুক্ত করা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। এসব দাবি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।   এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ও চীনের সমর্থন ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে বলেও মত দেওয়া হচ্ছে।   সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বরং এটি নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। সামনে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব। সেই আলোচনাই নির্ধারণ করতে পারে, এই সংঘাত থামবে, নাকি আবারও নতুন মাত্রায় ফিরে আসবে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর তেহরানের একটি রাস্তায় লোকজন চলাচল করছে । ছবি: রয়টার্স
চুক্তি ভাঙলে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের, ইরানের আশপাশে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের আশপাশে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করবে।   বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনারা অতিরিক্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ প্রস্তুত থাকবে, যতক্ষণ না চুক্তির সব শর্ত কার্যকর হয়। তিনি ‘বাস্তব চুক্তি’ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।   ট্রাম্প আরও বলেন, যদি কোনো কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা দেখা যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বড়, শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে।   এদিকে, চলমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই লেবাননে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।   ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে অগ্রসর হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।   অন্যদিকে, পারমাণবিক ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী তারা এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।   সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। চুক্তি বাস্তবায়ন, লেবানন পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি—এই তিন ইস্যু এখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আবারও মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের!

ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির মধ্যাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এর পাইলটের পরিণতি সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো মার্কিন স্টিলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করল তেহরান। এর আগে গত ১৯ মার্চও একটি এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান, যদিও ওয়াশিংটন তখন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে শুক্রবারের এই চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করারও দাবি করেছিল ইরান।   যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে চলছে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাতের প্রলেপ এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ: পাকিস্তানে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক

ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে অবশেষে শান্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসন ও পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।   পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আজ প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্দেশ্যেই এই দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে।   উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল। চার দেশের এই যৌথ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।   সূত্র: আল জাজিরা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (সিভিএন ৭২) | ছবি: সংগৃহীত
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে পালিয়েছে মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’!

মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে আরব সাগর থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব হিসেবে পরিচিত বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানি সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইরানি সেনাদের আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে রণতরীটি বর্তমানে ইরানের জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে অবস্থান করছে।   ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান শাহরাম ইরানি আজ রোববার এক হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার (ফায়ারিং রেঞ্জ) মধ্যে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপ হবে গত ৪ মার্চ লঙ্কান উপকূলে মার্কিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’র শহীদ নাবিকদের রক্তের প্রতিশোধ। উল্লেখ্য, সেই হামলায় ইরানের অন্তত ৮০ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছিলেন।   ইরানি নৌ-কমান্ডারদের মতে, তারা বর্তমানে মার্কিন বাহিনীকে তাদের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নাগালে আসার জন্য অপেক্ষা করছেন। সমুদ্রের দানব খ্যাত এই মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরে মোতায়েন করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছিল। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী, তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে টিকতে না পেরে মার্কিন বাহিনী কৌশলগতভাবে পিছু হটেছে। এই ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালিসহ ওই অঞ্চলে ইরানের সামরিক আধিপত্য আরও জোরালো হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির সুযোগ এখনো আছে, সিদ্ধান্ত ইরানের ওপর: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে তা নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি ইরানকে ‘দক্ষ আলোচক, কিন্তু দুর্বল যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ধ্বংস করছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকেও কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যেখানে ধারণা করা হয়েছিল ইরান কয়েক সপ্তাহ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, সেখানে বাস্তবে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে।   তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।   সূত্র: আল–জাজিরা

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, পাল্টা ৫ শর্তে নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে তারা যুদ্ধ বন্ধে রাজি নয়। এতে করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্র ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হবে।   শর্ত না মানলে নয় যুদ্ধবিরতি ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ, ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা, চলমান ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্তের কয়েকটি—বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে।   সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। ইতোমধ্যে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে করে সংঘাত ধীরে ধীরে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।   কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তবে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। পাকিস্তান ও তুরস্ক সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। বৈঠক পাকিস্তান বা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে।   ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে দ্বিমুখী প্রশ্ন উঠেছে। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ—দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
সংঘাতের মাঝেই শান্তির ফর্মুলা? যুদ্ধ থামাতে ইরানকে ১৫ দফার প্রস্তাব পাঠালেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের চার সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে ইরানকে ১৫ দফার একটি বিশদ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সীমাবদ্ধ করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, এই জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষ সম্মত হলে তারা সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে, তবে ইরান সরাসরি এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে—তারা কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পেয়েছে, কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও বিমান চলাচলেও চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৫ দফার এই প্রস্তাবটি যুদ্ধের ময়দানে একটি কূটনৈতিক জানালা খুলে দিলেও, এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে ইসরায়েলের অবস্থান এবং ইরানের চূড়ান্ত সম্মতির ওপর।   সূত্র: আনাদোলু

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে মার্কিনিদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে বিশ্বব্যাপী মার্কিন ও ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর আক্রোশ ও হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন তার নাগরিকদের সুরক্ষায় একের পর এক জরুরি সতর্কবার্তা জারি করছে। সোমবার (২৩ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি হালনাগাদ বার্তায় বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের ‘বাড়তি সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।   পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তায় বলা হয়েছে, চলমান উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কেবল মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে যে, ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কেন্দ্র অথবা আমেরিকানদের সমাগম ঘটে এমন স্থানগুলোতে হামলা চালাতে পারে।   সূত্র অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিবিসি-র প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বহুমুখী অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে থাকা পশ্চিমাদের জন্য এক চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সিএনএনের জরিপ: ৫৯ শতাংশ মার্কিনি ইরান যুদ্ধের বিরোধী

ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিএনএন ও এসএসআরএস-এর সাম্প্রতিক এক যৌথ জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে হামলার ঘোর বিরোধী। বিপরীতে মাত্র ৪১ শতাংশ নাগরিক এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা এখন মার্কিন রাজনীতির অভ্যন্তরীণ সংকটে রূপ নিয়েছে।   জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ নাগরিক আশঙ্কা করছেন যে এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং লক্ষ্য অর্জনে তারা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছেন। তবে জনমত বলছে অন্য কথা—৬০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্টের কাছে আসলে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এছাড়া স্থল সেনা পাঠানোর প্রশ্নেও মার্কিনিরা অনড়; মাত্র ১২ শতাংশ নাগরিক ইরানে সেনা পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে ৬০ শতাংশই এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন।   রাজনৈতিক মেরুকরণের চিত্রটিও এই জরিপে অত্যন্ত স্পষ্ট। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ এই হামলার সমর্থক হলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমর্থনের হার মাত্র ১৮ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৬২ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন পরবর্তী যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে ট্রাম্পের উচিত কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং শত শত মানুষের হতাহতের পর তৈরি হওয়া এই নেতিবাচক জনমত আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট । ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বেসেন্ট পরিষ্কারভাবে জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এসব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী পিছু হটবে না।   সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বর্তমান যুদ্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের ধরনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না। তার মতে, গণমাধ্যমগুলোতে প্রকৃত ঘটনার পরিবর্তে ভিন্ন পরিস্থিতি চিত্রায়িত হচ্ছে।   অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন যে, সরকার বর্তমানে যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মারফির এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে বেসেন্ট বলেন, সিনেটরের দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি সংগৃহীত
ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরানকে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে দেশটির প্রধান তেল অবকাঠামো হাব ‘খারগ দ্বীপ’ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই বিষয়ে অবগত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ না করে, তবে ট্রাম্প এই কৌশলগত দ্বীপে সরাসরি আঘাত হানার হুমকিও দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে খারগ দ্বীপে একটি বড় ধরনের সূক্ষ্ম লক্ষ্যভেদী হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মার্চ পরিচালিত ওই অভিযানে তেল অবকাঠামোর ক্ষতি না করেই দ্বীপের ভেতরে থাকা ৯০টিরও বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই হামলায় ইরানের নৌ-মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করার বাঙ্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।   তেল সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, খারগ দ্বীপ অবরোধ বা দখল করলে ইরান চাপের মুখে পড়বে এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের আধিপত্য কমাতে বাধ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পরিকল্পনা সংঘাতের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথমবার ইরানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার

বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও ব্যয়বহুল স্টিলথ যুদ্ধবিমান মার্কিন এফ-৩৫ লাইটনিং-২ সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ছোঁড়া ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্কিন সামরিক আধুনিক ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তি ও স্টিলথ সক্ষমতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।   মার্কিন সেন্টকমের নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ওপর একটি কমব্যাট মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ বিমান আঞ্চলিক বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। বিভিন্ন ওপেন সোর্স ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ কোটি ডলার মূল্যের এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি মাত্র ৩ হাজার ডলার ব্যয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ ইরানি প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর বিমানের পেছনে আগুনের শিখা দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন অনেক বিশ্লেষক।   সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার প্রভাব কেবল একটি বিমান হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই সফল অভিযানের মাধ্যমে ইরান এফ-৩৫ বিমানের ‘ইনফ্রারেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বা হিট সিগনেচার ডাটা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, যা মস্কো ও বেইজিংয়ের মতো প্রতিপক্ষের জন্য অমূল্য তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর ফলে মার্কিন আকাশসীমার শ্রেষ্ঠত্ব বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং এফ-৩৫ পাইলটরা এখন থেকে আর নিজেদের ‘অদৃশ্য’ মনে করতে পারবেন না।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক বিমান হারানো গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল এবং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাঙ্কারের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল সরঞ্জাম। এই ঘটনাটি মার্কিন সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: প্রেস টিভি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0