সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, পাল্টা ৫ শর্তে নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

Unknown প্রকাশ: মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৫:২৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে তারা যুদ্ধ বন্ধে রাজি নয়। এতে করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

কূটনৈতিক সূত্র ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হবে।

 

শর্ত না মানলে নয় যুদ্ধবিরতি

ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ, ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা, চলমান ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্তের কয়েকটি—বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে।

 

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। ইতোমধ্যে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে করে সংঘাত ধীরে ধীরে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

 

কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তবে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। পাকিস্তান ও তুরস্ক সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। বৈঠক পাকিস্তান বা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

 

ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে দ্বিমুখী প্রশ্ন উঠেছে। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ—দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ইংল্যান্ডের নিচে সন্ধান মিলল ১০ লাখ পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী প্রাচীন আগ্নেয়গিরির
ইংল্যান্ডের নিচে সন্ধান মিলল ১০ লাখ পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী প্রাচীন আগ্নেয়গিরির

ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের মাটির গভীরে ৪৫ কোটি বছরেরও বেশি পুরোনো একটি বিশাল সুপারভলকানোর অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে ও ইউনিভার্সিটি অব অসলো’র গবেষণায় জানা গেছে, প্রাচীন এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ছিল পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ঘটনা।    গবেষকদের ধারণা, সুপারভলকানোটির কেন্দ্র বর্তমান ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের দ্য ওয়াশ এলাকার গভীরে চাপা পড়ে আছে। প্রায় ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ বছর আগে এর ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে কয়েকশ থেকে এক হাজার ঘনকিলোমিটার পর্যন্ত শিলা ও আগ্নেয় পদার্থ বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। অগ্ন্যুৎপাতের শক্তি কয়েক হাজার হাইড্রোজেন বোমার সমান হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।    এই আগ্নেয়গিরির অস্তিত্ব এত দিন সরাসরি বোঝা যায়নি। গবেষকরা প্রায় ৮০ বছর আগে নরফোকের নর্থ ক্রেক ও লিংকনশায়ারের ক্ল্যাক্সবি এলাকায় খনন করা বোরহোল থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো শিলার নমুনা নতুন প্রযুক্তিতে পরীক্ষা করেন। সেখানে মানুষের চুলের ব্যাসের চেয়েও ছোট জিরকন ক্রিস্টাল বিশ্লেষণ করে আগ্নেয়গিরিটির বয়স নির্ধারণ করা হয়।    পরীক্ষায় দেখা যায়, নরফোক ও লিংকনশায়ারের নমুনাগুলোর জিরকন প্রায় একই সময়ে তৈরি হয়েছিল। এগুলোর বয়স প্রায় ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ বছর। একই বয়সের আগ্নেয় ছাইয়ের স্তর স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বিভিন্ন এলাকাতেও পাওয়া গেছে। রাসায়নিক বিশ্লেষণেও নমুনাগুলোর মধ্যে মিল পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বর্তমান ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে ওই সুপারভলকানোর অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছাই বাতাসে ভেসে প্রাচীন স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় পৌঁছেছিল।    ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের প্রধান গবেষক টিম ফ্যারো বলেন, নতুন বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের গভীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ওয়াশ ইগনিয়াস কমপ্লেক্স অব ইস্টার্ন ইংল্যান্ড’ শিরোনামের গবেষণাপত্রে।    তবে বর্তমান সময়ে এই আবিষ্কার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরিটি বহু কোটি বছর আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা নেই।    গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু একটি প্রাচীন সুপারভলকানোর সন্ধান নয়, বরং কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর ভূপ্রকৃতি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং ইংল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মধ্যকার প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৮:১৬
নেপালি শিক্ষকের বুদ্ধিতে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচল ১,৬৪৩ শিশু

নেপালি শিক্ষকের বুদ্ধিতে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচল ১,৬৪৩ শিশু

হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায়  ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের

হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায় ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের

'পায়ে ব্যথা, আর হাঁটতে পারছি না, জানি না কোথায় যাচ্ছি

'পায়ে ব্যথা, আর হাঁটতে পারছি না, জানি না কোথায় যাচ্ছি’: গাজার শিশু

ভেনিসে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিরোধ , বাংলাদেশিদের ধর্মঘটের হুমকি
ভেনিসে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিরোধ , বাংলাদেশিদের ধর্মঘটের হুমকি

ইতালির ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রস্তাবিত মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ তীব্র হয়েছে। ৮ হাজার বর্গমিটার জমিতে প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে যাওয়ার পর আন্দোলন ও ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছে।   মেস্ত্রের ভিয়া জিউস্তিজিয়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত করাতকলের জমিতে মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি। জমিটি কিনে সেখানে একটি বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছিল।   তবে গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া ভেনিসের নতুন কেন্দ্র-ডানপন্থি মেয়র সিমোনে ভেনতুরিনি প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে দেন। মেয়রের বক্তব্য, প্রস্তাবিত স্থাপনাটি আকারে অনেক বড় এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক একীভূত হওয়ার বিষয়েও আরও অগ্রগতি প্রয়োজন। ইতালীয় ভাষা শেখা, নারীদের সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর মতো বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।    মেয়রের অবস্থানে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বলছেন, ভেনিস ও মেস্ত্রে এলাকায় বসবাসরত মুসলিমদের জন্য একটি স্থায়ী ও উপযুক্ত নামাজের স্থান প্রয়োজন। তাদের দাবি, আগের প্রশাসনের সময় থেকেই ভিয়া জিউস্তিজিয়া এলাকার জমিটি ধর্মীয় কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে আলোচনায় ছিল। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য বলছে, আগের পর্যায়ে কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি।    কমিউনিটির প্রতিনিধি প্রিন্স হাওলাদার জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামতে পারেন। এমনকি ধর্মঘটের মাধ্যমে ফিনক্যানতিয়েরি শিপইয়ার্ডসহ স্থানীয় পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় প্রভাব ফেলার কথাও তিনি বলেছেন। ভেনিস, মেস্ত্রে ও মারঘেরার বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কারণে এমন কর্মসূচি স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কমিউনিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।    তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিআইএল ধর্মঘটের এমন উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন করলেও ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের দাবিতে এ ধরনের ধর্মঘটকে সমর্থন করছে না।    এদিকে বিরোধের মধ্যেই ৩০ আগস্ট দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়র ও বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে প্রস্তাবিত মসজিদের আকার ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। প্রকল্পের নকশা আরও ছোট করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।    মসজিদ প্রকল্পটি নিয়ে ইতালির রাজনীতিতেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ও দ্য লিগ দলের নেতা মাত্তেও সালভিনি মসজিদ নির্মাণের দাবিতে ধর্মঘটের হুমকির সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে কেন্দ্র-বামপন্থি রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ বাংলাদেশি মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।    দীর্ঘদিন ধরে ভেনিস অঞ্চলে বসবাস ও কাজ করা বাংলাদেশিরা রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ক্যাফে এবং শিল্প খাতসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত। মেস্ত্রের প্রস্তাবিত মসজিদ তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের বিষয় নয়, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অবস্থান, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।   সূত্র: বিডিনিউজ ২৪

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৩:৩
মায়ের ইচ্ছায় সৈনিক, এরপর ডাক্তার - নিজের স্বপ্ন পূরণে শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী!

মায়ের ইচ্ছায় সৈনিক, এরপর ডাক্তার - নিজের স্বপ্ন পূরণে শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী!

শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার কারণে দীর্ঘদিন পুকুরের পানিতে থাকতেন মুর্শিদাবাদের কিশোর ইকবাল শেখ। ছবি: সংগৃহীত

শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া, পাঁচ বছর পুকুরের পানিতে দিন কাটানো কিশোরের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন অনন্ত আম্বানি

প্রত্নতাত্ত্বিকদের দাবি, এল-আরাজ এলাকাতেই ছিল যিশুর সময়ের প্রাচীন বেথসাইদা শহর। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে যিশুর অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী সেই হারানো শহরের সন্ধান পেলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা

ফ্রিডম এজ নামের এই বহুমাত্রিক মহড়ায় নৌ, বিমান ও সাইবার অভিযানের ওপর জোর দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত
জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু ৭ সেপ্টেম্বর, ক্ষুব্ধ হতে পারে উত্তর কোরিয়া

জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ‘ফ্রিডম এজ ২৬’ নামের এই মহড়া ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে।   তিন দেশের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়ায় সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রসহ একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, বিমান প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সমুদ্রপথে বাধাদানের মতো সামরিক কার্যক্রমও মহড়ার অংশ হবে। ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া প্রথম শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৪ সালের জুন ও নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এর আয়োজন করা হয়। এবার চতুর্থ দফায় তিন দেশ একসঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, মহড়াটি নিয়মিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে মহড়াটির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ আগস্ট শুরু হওয়া ওই মহড়া ১১ দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনেই শেষ করা হয়। ট্রাম্পের নির্দেশেই এর সময় কমানো হয়েছিল বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে বড় আকারের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যেই জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে মহড়াটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হলে পিয়ংইয়ং এটিকে সামরিক চাপ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টার গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   তবে তিন দেশের যৌথ মহড়াকে শুধু উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় মহড়াগুলো মূলত উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর জোর দিলেও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় মহড়ার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। এটি পূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক প্রভাব মোকাবিলায়ও একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা দিতে পারে। এবারের ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়ায় তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় এবং তিন দেশের বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক ও বিমান সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহার, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা পরিস্থিতির অনুশীলন এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণও থাকবে।   মহড়ার নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম, জাহাজ বা বিমানসংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের আয়োজনগুলোর মতো এবারও এর সময়কাল প্রায় পাঁচ দিন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চলতি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া চলাকালে পিয়ংইয়ং প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রিপক্ষীয় মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। একদিকে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রাখছে। এই দুই ধারার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২১:৪৫
হিমবাহ ধসের পর নদীগুলোর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণ ভূমিকম্প নয়, ভেঙে পড়েছিল হিমবাহ; ফের বন্যার আশঙ্কা

নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার

0 Comments