আমেরিকা

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মার্চ ২২, ২০২৬ ২৩:৪২
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট । ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট । ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বেসেন্ট পরিষ্কারভাবে জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এসব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী পিছু হটবে না।

 

সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বর্তমান যুদ্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের ধরনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না। তার মতে, গণমাধ্যমগুলোতে প্রকৃত ঘটনার পরিবর্তে ভিন্ন পরিস্থিতি চিত্রায়িত হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন যে, সরকার বর্তমানে যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মারফির এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে বেসেন্ট বলেন, সিনেটরের দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডায় গাড়ির ভেতরে ২৩ মাসের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
স্কুলে নামাতে ভুলে যান বাবা, ফ্লোরিডায় গাড়ির ভেতরে ২৩ মাসের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্ল্যান্টেশন শহরে একটি গাড়ির ভেতরে ২৩ মাস বয়সী এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার বিকেলে একটি প্রিস্কুলের পার্কিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, কীভাবে শিশুটি দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরে ছিল এবং মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   প্ল্যান্টেশন পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটের দিকে A World of Discovery Academy নামের একটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে গাড়ির ভেতরে একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন পুলিশের গোয়েন্দারা।   স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল WSVN-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কুলটির মালিক লেসলি নোভোয়া জানান, বিকেলে শিশুটির বাবা তাকে নিতে স্কুলে আসেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, সকালে শিশুটিকে স্কুলে নামানোই হয়নি। পরে বাবা ও স্কুল কর্তৃপক্ষ গাড়ির পেছনের আসনে শিশুটিকে দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়।   নোভোয়া বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পরিবারটি বহু বছর ধরে আমাদের স্কুলের সঙ্গে যুক্ত। এই শিশুটির আগেও তাদের আরও দুই সন্তান এখানে পড়াশোনা করেছে। তারা খুবই স্নেহশীল একটি পরিবার।”   ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে পার্কিং এলাকাটি ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। তদন্তের স্বার্থে গাড়িটির চারপাশে একটি অস্থায়ী তাঁবুও স্থাপন করা হয়।   মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্ল্যান্টেশন পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গরমের সময় গাড়ির ভেতরে শিশু রেখে যাওয়ার কারণে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের গাড়িতে রেখে যাওয়া এড়াতে অভিভাবকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা জরুরি। গাড়ি থেকে নামার আগে পেছনের আসন ভালোভাবে পরীক্ষা করা, মোবাইলে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা এবং শিশুকে স্কুল বা ডে-কেয়ারে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা—এ ধরনের পদক্ষেপ অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।   পুলিশের তদন্ত শেষ হলে শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ০:১৪
মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আটটি এটিএম থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এটিএম হ্যাক করে ৫ লাখ ডলারের বেশি চুরি, গ্রেফতার ৪ জন

টেক্সাসে ড্রাইভিং লাইসেন্সের নিয়ম বদলাতে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে ড্রাইভিং লাইসেন্সের নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব, বিপাকে পড়তে পারেন বৈধ ভিসাধারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের নিয়মে বড় পরিবর্তন। ছবি: সংগৃহীত

১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের নতুন নিয়ম কার্যকর, প্রভাব পড়বে লাখো শিক্ষার্থীর ওপর

ক্রিপ্টো ব্যবসাই এখন ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। ছবি: সংগৃহীত
ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে এক বছরে ট্রাম্পের আয় প্রায় ১২০ কোটি ডলার, প্রকাশ্যে সরকারি নথি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর তাঁর ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবসা থেকে প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার (১.২ বিলিয়ন ডলার) আয় করেছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিকস (ওজিই)-এ জমা দেওয়া বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে একই সময়ে ট্রাম্প-সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ক্রিপ্টো সম্পদের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী লোকসানের মুখে পড়েছেন।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের সময় ট্রাম্পের ক্রিপ্টো উদ্যোগগুলো ছিল একেবারেই নতুন। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এসব ব্যবসা তাঁর দীর্ঘদিনের রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্যের অনেক সম্পত্তির আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধনকুবের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টোবান্ধব নীতির কারণে এসব ব্যবসার দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে।   সরকারি নথি অনুযায়ী, ট্রাম্পের ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল নামের প্রতিষ্ঠান নতুন ধরনের ক্রিপ্টো সম্পদ, বিশেষ করে গভর্ন্যান্স টোকেন বিক্রি করে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছে। এছাড়া ট্রাম্পের আরেক প্রতিষ্ঠান সিআইসি ডিজিটাল এলএলসি তাঁর ছবি সংবলিত মিম কয়েন বিক্রি করে ৬০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে।   তবে এসব টোকেন ও মিম কয়েন বিক্রির পর সেগুলোর বাজারমূল্য বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাজারে আসার পর ট্রাম্পের মিম কয়েনের দাম ৭৪ ডলারের বেশি উঠলেও বর্তমানে সেটির মূল্য নেমে এসেছে প্রায় ১ দশমিক ৬৮ ডলারে। অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের গভর্ন্যান্স টোকেনের মূল্য লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে।   ক্রিপ্টো ব্যবসার পাশাপাশি ট্রাম্প তাঁর নাম ব্যবহার করে বাজারজাত করা বিভিন্ন পণ্য থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, ট্রাম্প ব্র্যান্ডের বাইবেল, জুতা, ঘড়ি এবং অন্যান্য পণ্য বিক্রি করে তিনি কয়েক কোটি ডলার আয় করেছেন। শুধু ট্রাম্প ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি বিক্রি থেকেই তাঁর আয় হয়েছে প্রায় ৪৭ লাখ ডলার।   ৯২৭ পৃষ্ঠার আর্থিক বিবরণীতে আরও দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। ফোর্বস-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ২৩০ কোটি ডলার।   রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেও ট্রাম্পের আয় বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি প্রকল্প থেকে তিনি প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার, সৌদি আরবে একটি প্রকল্প থেকে প্রায় ৯০ লাখ ডলার, আর রোমানিয়া ও কাতারের দুটি প্রকল্প থেকে প্রায় ৫০ লাখ ডলার করে রাজস্ব পেয়েছেন।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত তাঁর বিখ্যাত মার-আ-লাগো সম্পত্তি থেকেও গত বছর প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। যদিও প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে আয়ের তথ্য থাকলেও প্রকৃত মুনাফার হিসাব উল্লেখ করা হয়নি।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প আগের প্রশাসনের তুলনায় ক্রিপ্টো শিল্পের প্রতি অনেক বেশি ইতিবাচক নীতি গ্রহণ করেন। এর ফলে শিল্পটির ওপর নিয়ন্ত্রক চাপ কিছুটা শিথিল হয়। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো শুরু থেকেই গভর্ন্যান্স টোকেন নিয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল। তাদের মতে, এসব টোকেন শেয়ারের মতো মালিকানার অধিকার দেয় না এবং এর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণও জটিল।   এদিকে, ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো প্রকল্পে চীনা ধনকুবের জাস্টিন সান বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি গভর্ন্যান্স টোকেনে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ট্রাম্পের মিম কয়েনে প্রায় ২০ কোটি ডলার ব্যয় করেন। তবে তিনি বরাবরই দাবি করে আসছেন, ট্রাম্পের ব্যবসায় তাঁর বিনিয়োগের সঙ্গে নিজের আইনি মামলার কোনো সম্পর্ক ছিল না। ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   হোয়াইট হাউসের দাবি, ট্রাম্প তাঁর ব্যবসায়িক সম্পদ একটি ট্রাস্টের অধীনে রেখেছেন, যা তাঁর ছেলেরা পরিচালনা করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি শুধুমাত্র দেশের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেন এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ তাঁর সরকারি দায়িত্বকে প্রভাবিত করে না।   তবে সমালোচকদের মতে, বিদেশে ট্রাম্পের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রকল্প এবং একই সময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে সরাসরি কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ২১:৪৫
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসন ধাক্কা খেলেও আশা ছাড়ছেন না জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘ভুল’ বললেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণে দেশ বদল করেছিলেন তারা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বাড়ি কেনা সম্ভব হয়নি, ইতালির ছোট্ট গ্রামে নগদ টাকায় মিলল নিজের বাড়ি

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কে ১২৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাজেট অনুমোদন, তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদরা

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় ১২ ফুট কুমিরের সঙ্গে লড়েও প্রেমিকাকে বাঁচাতে পারলেন না প্রেমিক, প্রাণ গেল তরুণীর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় লিটল বিগ ইকোন স্টেট ফরেস্টে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে কুমিরের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ব্রিটানি ক্লার্ক নামের ৩১ বছর বয়সী এক তরুণী। গত রবিবার ইকোনলকহ্যাচি নদীতে সাঁতার কাটার সময় ১২ ফুট লম্বা একটি বিশাল কুমির তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মঙ্গলবার ওই তরুণীর বেশ কিছু হাসিখুশি ছবি প্রকাশ্যে এলে অনলাইনে শোকের ছায়া নেমে আসে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, মাত্র কয়েক মাস আগেও লাল রঙের একটি সুন্দর পোশাকে হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন তিনি।   জানা গেছে, মাত্র তিন ফুট গভীর জলে সাঁতার কাটার সময় কুমিরটি হঠাৎ পানি থেকে উঠে এসে ব্রিটানিকে কামড়ে ধরে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার প্রেমিক চ্যান্স অ্যালিসন তাকে বাঁচানোর জন্য হিংস্র ওই প্রাণীটির সঙ্গে মরিয়া হয়ে লড়াই শুরু করেন। অ্যালিসন সাহসিকতার সঙ্গে ব্রিটানির এক হাত কুমিরের মুখ থেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হলেও, চোখের পলকে কুমিরটি তার অন্য হাতটি কামড়ে ধরে।   এই ভয়ংকর হামলার পর ৯১১ ইমার্জেন্সি কলের অডিওতে প্রেমিক অ্যালিসনের আর্তনাদ শোনা যায়। তিনি চিৎকার করে জানাচ্ছিলেন যে কুমিরটি ব্রিটানির দুটি হাতই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে এবং তিনি তীরে বসে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা ওই কুমিরটিকে ধরে মেরে ফেলেন (ইউথেনাইজড) এবং আলামত হিসেবে এর মাথাটি কেটে সংরক্ষণ করেন। নিহত ব্রিটানি প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন এবং তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট জুড়ে অ্যাডভেঞ্চার ও রোমাঞ্চকর সব ভ্রমণের ছবিতে ভরপুর ছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৮:২৪
১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা I ছবি: সংগৃহীত

১২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার, ১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

‘বর্ষসেরা অভিভাবক’ খেতাব পাওয়া আলাস্কার সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে শিশু নিপীড়নের ৪৭ অভিযোগ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রাক্তন প্রেমিকাকে পথে বসানোর অভিযোগে আদালতে নিউইয়র্কের সেলিব্রিটি জুয়েলার

0 Comments