লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা খারিজ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালত লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘সাংকচুয়ারি সিটি’ নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে। অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছিল যে লস অ্যাঞ্জেলেসের সাংকচুয়ারি সিটি নীতি ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা সীমিত করছে এবং এর ফলে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি এবং মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনকে সংশোধিত অভিযোগ দাখিলের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।
সাংকচুয়ারি সিটি নীতির আওতায় অনেক শহর ও স্থানীয় প্রশাসন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্দিষ্ট তথ্য বিনিময় বা অভিবাসন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ সীমিত রাখে। এ ধরনের নীতির সমর্থকদের দাবি, এতে অভিবাসী সম্প্রদায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বেশি আস্থা রাখতে পারে এবং অপরাধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত হয়।
অন্যদিকে নীতির সমালোচকদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের এ ধরনের সীমাবদ্ধতা ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কমিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও আইনি লড়াই নতুন নয়। বিশেষ করে সাংকচুয়ারি সিটি নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য কিংবা শহর প্রশাসনের মধ্যে বহুবার বিরোধ দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এই রায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সাংকচুয়ারি সিটি নীতি অনুসরণকারী শহর ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি অভিবাসন ইস্যুতে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে চলমান বিতর্কেও এ রায়ের প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreস্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউটায় মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসীর নজিরবিহীন অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে স্পেন ও ইতালির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিবাসী সংকটের জেরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার সীমান্ত সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে গত ৩১ জুলাই স্পেনের সঙ্গে সেনজেন চুক্তির অধীনে মুক্ত চলাচল এক মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে। ইতালির এই আকস্মিক পদক্ষেপে সামুদ্রিক ও আকাশপথের প্রবেশদ্বার বন্ধ করার পাশাপাশি স্থল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণও ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। ইতালির এই কড়া পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্পেন। স্প্যানিশ সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইতালির এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ‘অন্যায্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থের পরিপন্থী এবং স্প্যানিশ জনগণের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক’। মাদ্রিদ অবিলম্বে ইতালীয় সরকারকে এই হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার এবং স্প্যানিশ নাগরিকদের অন্যান্য ইউরোপীয় নাগরিকদের মতো সমান চোখে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি, আগামী রোববার (৯ আগস্ট)-এর মধ্যে ইতালি তাদের সীমান্ত চেক প্রত্যাহার না করলে স্প্যানিশ নাগরিকদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার্থে আনুপাতিক পাল্টা ব্যবস্থা বা ‘কাউন্টারমেসার্স’ গ্রহণের কড়া হুমকি দিয়েছে স্পেন। তবে সম্ভাব্য এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপগুলো ঠিক কী হতে পারে, সে বিষয়ে মাদ্রিদ এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিজের এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়ে একে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে এবং সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে একটি ‘অসাধারণ ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর আগে সেউটা সংকটের পরপরই তিনি অন্যান্য ইইউ নেতাদের সঙ্গে মিলে ভিসা-মুক্ত সেনজেন অঞ্চল থেকে স্পেনকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবিও জানিয়েছিলেন, যদিও আইনগতভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রায় অসম্ভব। স্পেনের দাবি, অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী ফায়দা লুটতেই ইতালির সরকার এ ধরনের দূরত্ব ও নিষ্ফল দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ভাবাবেগ, সাধারণ জ্ঞান এবং পারস্পরিক সদিচ্ছারই জয় হবে। উল্লেখ্য, অভিবাসী অনুপ্রবেশের এই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির খবরও পাওয়া গেছে। স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেউটায় পৌঁছানো ৭২ হাজার অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এরই মধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন এবং এই সংকটে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের সীমান্তে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ইউরোপের সেনজেন অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ও ঐক্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ডিম্বাণু দান করেছিলেন টাকার জন্য, ১১ বছর পর তার বাড়িতেই অতিথি সেই ফরাসি কিশোরী
থাইল্যান্ডে দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে কিশোর বন্দুকধারীর তাণ্ডব, শিক্ষক-ছাত্রসহ প্রাণ গেল ৭ জনের
সামরিক ঘাঁটিতে আবাসন পরিকল্পনা ঘিরে ব্রিটিশ শহরে খুঁজে খুঁজে আশ্রয়প্রার্থীদের বাড়িতে হা মলা
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যুগান্তকারী যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। মক্কায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এই চুক্তি অনুমোদন করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু তিন দেশের সামরিক সহযোগিতা জোরদারই করবে না, বরং পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ সম্মিলিতভাবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও বৈঠকে অংশ নেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, গাজা ও লেবাননের অস্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতেই এই চুক্তির গুরুত্ব বেড়েছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, আর তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান সামরিক সম্পর্ক এবার আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল। তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং কয়েক দশক ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রেখেছে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক দক্ষতার সমন্বয় এই জোটকে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিন দেশের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আগ্রহী অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগও উন্মুক্ত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে প্রধান কমান্ডার নিয়োগ
পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মসজিদ থেকে খুলে ফেলা হচ্ছে মাইক, শুভেন্দু বলছেন- ‘আদালতের নির্দেশ’
টক্সিক’ কর্মপরিবেশের অভিযোগ, ফ্রান্সের ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একের পর এক আত্নহত্যা
তীব্র তাপপ্রবাহে ইতালির সব বড় শহরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের হিট অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সিসিলির পালার্মো থেকে উত্তরের বোলজানো পর্যন্ত এই সতর্কতা কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমিলিয়া রোমানিয়া অঞ্চলের বাগনাকাভালোতে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। রেড অ্যালার্টের অর্থ, শুধু বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ নয়, পুরো জনগোষ্ঠীর জন্যই দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ তাপমাত্রা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দা ও পর্যটকদের দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না যেতে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে এবং সম্ভব হলে ঘরের ভেতর থাকার পরামর্শ দিয়েছে। রোমে পর্যটকদের অনেককে ছাতা ব্যবহার করে রোদ থেকে বাঁচতে দেখা গেছে। কেউ কেউ শহরের ফোয়ারার পানি ব্যবহার করে শরীর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছেন। তীব্র গরমের কারণে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ইতালির পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও ভয়াবহ তাপপ্রবাহের প্রভাব মোকাবিলা করছে। হাঙ্গেরিতে দানিয়ুব নদীর পানি রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে যাওয়ায় দেশের একমাত্র নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য পার্লামেন্ট, বুদা ক্যাসেল ও চেইন ব্রিজসহ বিভিন্ন সরকারি ও ঐতিহাসিক স্থাপনার রাতের আলোকসজ্জা বন্ধ করা হয়েছে। রোমানিয়াতেও বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে রাজধানী বুখারেস্টের রাস্তার বাতির আলো এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারি ভবন ও জাদুঘরের রাতের লাইট বন্ধ রাখা হচ্ছে। মলদোভায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পর সরকার নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে বলেছে। অন্যথায় পর্যায়ক্রমিক ব্ল্যাকআউটের আশঙ্কা রয়েছে। জার্মানিতে রাইন নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় নৌপরিবহনেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনেক পণ্যবাহী জাহাজ পুরো বোঝাই নিয়ে চলতে পারছে না, এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। একই সময়ে ফ্রান্স, স্পেন ও বলকান অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকিও বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি গ্রীষ্মে দাবানলের অর্থনৈতিক ক্ষতি ইতোমধ্যে ১৫ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। ইউরোপে এমন দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানল এখন আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন তারা।
বতসোয়ানায় পর্যটকবাহী নৌকার পিছু ধাওয়া, আতঙ্ক ছড়াল বিশাল জলহস্তী
থাইল্যান্ডের স্কুলে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত অন্তত ৬