দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক আলোচনা, বিতর্ক ও সমঝোতার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি “মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট” কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে ইউরোপজুড়ে এই নীতির বাস্তবায়ন শুরু হয়, যার মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করাই এই নতুন চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর ইউরোপজুড়ে যে রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটেই এই সংস্কার আনা হয়েছে।
নতুন নীতির আওতায় ইইউর বাহ্যিক সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে অভিবাসীদের পরিচয়, জাতীয়তা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই করা হবে। প্রাথমিক যাচাই সাধারণত সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা কম বলে বিবেচিত হবে, তাদের আবেদন সীমান্ত পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান আশ্রয় প্রক্রিয়া কমবে বলে আশা করছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ।
ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টার মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অভিবাসন চাপের মুখে ছিল। নতুন চুক্তির অধীনে অন্যান্য সদস্য দেশকে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ, আর্থিক সহায়তা অথবা প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে হবে। এই ব্যবস্থাকে “সংহতি প্রক্রিয়া” বলা হচ্ছে।
চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইউরোড্যাক ডাটাবেজ আরও উন্নত করা হয়েছে। এতে আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ছবি এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে একজন ব্যক্তি একাধিক দেশে একাধিকবার আশ্রয় আবেদন করতে না পারেন এবং প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়।
তবে নতুন ব্যবস্থার প্রথম দিনেই ইউরোড্যাক সিস্টেমে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়, যা কয়েকটি সদস্য দেশের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলে। ইউরোপীয় কমিশন একে প্রাথমিক প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন নীতির কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে অনেক আশ্রয়প্রার্থী যথাযথ আইনি সহায়তা ও ন্যায্য শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কার ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর দিকে নিয়ে যাবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে এটি অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreতুরস্কের হাতায় প্রদেশের ইস্কেন্দেরুনে অ্যাসিড হামলায় মুখ ও ডান চোখের গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন বারফিন ওজেক। হামলার প্রায় দুই বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেই সাবেক প্রেমিক কাসি ওজান চেলতিককেই বিয়ে করেন, যিনি তার মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। ১৯ বছর বয়সী বারফিন একটি কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার সময় তার কিছুদিন আগে বিচ্ছেদ হওয়া প্রেমিক কাসিম ওজান চেলতিকের অ্যাসিড হামলার শিকার হন। হামলায় তার মুখে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন তৈরি হয়। চিকিৎসার পরও মুখে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন থেকে যায় এবং তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। চোখের পাতা ও ঠোঁটেও পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার পর চেলতিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার অপরাধে ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মামলার পরবর্তী পর্যায়ে বারফিন তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন বলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। এরপর মামলার শেষ পর্যায়ে চেলতিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বারফিন ও চেলতিকের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হাতায়ের কুমলু জেলার একটি বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল, যে ব্যক্তির হামলায় বারফিন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলেন, আবার অনেকে এমন সম্পর্কের পেছনে মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বারফিনের বাবা ইয়াশার ওজেকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিয়ের খবর জানতে পেরেছিলেন এবং এই বিয়েতে তিনি সম্মতি দেননি। গার্হস্থ্য সহিংসতার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সবসময় সরল বা তাৎক্ষণিক হয় না। ভয়, মানসিক আঘাত, নির্ভরশীলতা, সামাজিক চাপ, অপরাধীর ওপর আবেগগত টান এবং সম্পর্কের জটিলতা একজন ভুক্তভোগীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বাইরে থেকে কোনো সিদ্ধান্তকে সহজভাবে বিচার না করে সহিংসতার শিকার ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। বারফিনের ঘটনাটি একই সঙ্গে অ্যাসিড সহিংসতার ভয়াবহতাও সামনে আনে। অ্যাসিড হামলার শারীরিক ক্ষতি অনেক সময় চিকিৎসার পরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। মুখের দাগ, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে। বারফিনের ক্ষেত্রেও হামলার পর মুখের গুরুতর ক্ষতি ও ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টি তুরস্কের একাধিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিয়ের খবর প্রকাশের পর বারফিনের গল্প আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিস্ময়কর বিয়ের গল্প হিসেবে দেখলে এর মূল বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুতর অ্যাসিড হামলা, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি, একটি ফৌজদারি মামলা এবং পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি গার্হস্থ্য সহিংসতার পর ভুক্তভোগীদের সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে।
রাশিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ঘাঁটিতে সেনা পাঠাচ্ছে জার্মানি, বাড়ছে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা!
সামান্য দাঁতের ব্যথা থেকে ওপেন হার্ট সার্জারি! শরীরে ধরা পড়ল ‘নীরব ঘাতক’ রোগ
ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে গরুর মাংস বলে শুকরের মাংস বিক্রি, কসাইয়ের ১০ বছরের কারাদণ্ড
পৃথিবী থেকে বহু দূরে থাকা বুধ গ্রহের একটি গর্তের নাম রাখা হয়েছে বাংলাদেশের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামে। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা (আইএইউ) ২০০৯ সালে বুধের ওই গর্তটির নাম দেয় ‘আবেদিন’। ফলে মহাকাশের মানচিত্রেও স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের এই মহান শিল্পীর নাম। বুধ গ্রহে এখন পর্যন্ত ৭৬৩টি গর্ত বা ক্রেটার শনাক্ত করা হয়েছে। এসব গর্তের অনেকগুলোর নাম রাখা হয়েছে বিশ্বের বিখ্যাত শিল্পী, সংগীতজ্ঞ ও লেখকদের সম্মানে। এর মধ্যে রয়েছে ইয়েটস, বাখ, বালজাক, বিটোফেন ও পাবলো নেরুদার মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিদের নাম। সেই তালিকায় বাংলাদেশের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামও যুক্ত হয়েছে। জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ। বিশেষ করে ১৯৪০-এর দশকের দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা নিয়ে আঁকা তাঁর চিত্রকর্মগুলো তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে। বাংলাদেশের আধুনিক শিল্প আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তাঁকে ‘বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলার জনক’ বলা হয়। ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের কাছাকাছি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন জয়নুল আবেদিন। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় তৎকালীন সরকারি আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট নামে পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘সংগ্রাম’ ও ‘দুর্ভিক্ষ ১৯৪৩’। বুধের ‘আবেদিন’ নামের এই গর্তটি নাসার মেসেঞ্জার মহাকাশযানের অভিযানে শনাক্ত ও ছবি তোলা হয়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, বুধের উত্তরাঞ্চলের উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থিত এই গর্তটির নাম বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের সম্মানে রাখা হয়েছে। গর্তটিতে মসৃণ তলদেশ, দেয়ালের ধাপ এবং মাঝখানে শৃঙ্গের মতো একটি কাঠামো রয়েছে। নাসার ফটোজার্নাল অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৬ অক্টোবর মার্কারি ডুয়াল ইমেজিং সিস্টেমের (এমডিআইএস) ন্যারো অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা দিয়ে ‘আবেদিন’ ক্রেটারের ছবি তোলা হয়। গর্তটির ব্যাস প্রায় ১১০ কিলোমিটার এবং ছবি তোলার সময় মহাকাশযানটি বুধের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার উচ্চতায় ছিল। নাসা জানিয়েছে, বুধের পুরো গ্রহের একটি মোজাইক ছবিতে ‘আবেদিন’ ক্রেটারটি ওপরের দিকে দেখা যায়। এর কাছেই রয়েছে একটি দর্শনীয় রশ্মিযুক্ত গর্ত। এভাবেই পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নাম পৌঁছে গেছে সৌরজগতের একটি গ্রহের বুকে।
মৃত্যুর আগে ১ হাজার প্রতিষ্ঠানে ছুটলেন বাবা, অটিজম ছেলের জন্য খুঁজলেন নিরাপদ আশ্রয়
এআই চাকরি কেড়ে নিতে পারে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী
নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী
বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই জাল সনদ নিয়ে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখানোর একটি চক্রের চিত্র উঠে এসেছে যমুনা টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুমোদনহীন বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহার করে অনেকে চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছেন। এমনকি বিএমডিসির ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেও রোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। যমুনা টিভির অনুসন্ধানে দেখানো হয়েছে, ভুয়া এমবিবিএস সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ হতে পারে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এক সাংবাদিক ছদ্মবেশে কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ২২ হাজার ভারতীয় রুপির বিনিময়ে একটি এমবিবিএস সনদ সংগ্রহ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সনদ সংগ্রহই নয়, ভুয়া চিকিৎসকের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করছেন, আবার কেউ এমন প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিচ্ছেন যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। রোগীদের কাছে নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পরিচয়ও দেখানো হচ্ছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশে প্রায় ১০ হাজার ভুয়া চিকিৎসক থাকতে পারেন। তবে এই সংখ্যাটি যমুনা টিভির প্রতিবেদনে উত্থাপিত একটি অনুমান বা দাবি হিসেবে এসেছে। এর স্বাধীন সরকারি যাচাই বা নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলে সংখ্যাটিকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ সরাসরি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চিকিৎসা বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকা কোনো ব্যক্তি চিকিৎসকের পরিচয়ে রোগী দেখালে ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল ওষুধ দেওয়া কিংবা চিকিৎসা জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বাংলাদেশে বৈধভাবে চিকিৎসা পেশা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বা বিএমডিসির নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি চিকিৎসক হিসেবে দাবি করলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বিএমডিসির নিবন্ধন যাচাই করা যায়। তবে অনুসন্ধানে ভুয়া বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের জন্য এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক প্রতারণার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি। একজন রোগী চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই না করে চিকিৎসা নিলে তার স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জটিল রোগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তির পরামর্শে চিকিৎসা নেওয়া পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে। যমুনা টিভির অনুসন্ধানে উঠে আসা এই চিত্রের পর ভুয়া চিকিৎসক শনাক্তকরণ, সনদের সত্যতা যাচাই এবং বিএমডিসি নিবন্ধন ব্যবস্থার কার্যকর তদারকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: যমুনা টিভি
৪.০ জিপিএতে ১২৬ কলেজে আবেদন, সবগুলোতেই চান্স; বৃত্তি ৯০ লাখ ডলারের বেশি
“সে উধাও হয়ে আমাদের অসহায় করে গেছে”: মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সম্পর্ক ছিন্ন করল সেনাসদস্য