বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং জামিননামা জালিয়াতি রোধে দেশের বিচার বিভাগে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পর এবার তৃতীয় ধাপে দেশের আরও সাতটি জেলায় ডিজিটাল জামিননামা বা ‘ই-বেইলবন্ড’ পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়। সেবার আওতায় আসা নতুন জেলাগুলো হলো: বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এসব জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হতে পারে। ইতিপূর্বে দেশের ৯টি জেলায় এই পদ্ধতি চালু করে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গেছে। সরকারি তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ১৮৫ জন বিচারপ্রার্থী সরাসরি এই ডিজিটাল সেবার সুফল ভোগ করেছেন। ভোগান্তি ও জালিয়াতির অবসান প্রচলিত পদ্ধতিতে আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর সেই নথি বা বেইলবন্ড কারাগারে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লেগে যেত। মাঝপথে আইনজীবী, ক্লার্ক বা পিয়নের মাধ্যমে ফাইল আদান-প্রদানে যেমন সময়ক্ষেপণ হতো, তেমনি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও জামিননামা জালিয়াতির ঝুঁকিও থাকত প্রবল। নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিচারক অনলাইনে স্বাক্ষর করার সাথে সাথেই বেইলবন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যায়। আগে যেখানে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে ১৩টি ধাপ পার হতে হতো, এখন ‘ই-বেইলবন্ড’ পদ্ধতিতে মাত্র তিনটি প্রধান ধাপেই আসামি মুক্তি পাচ্ছেন। এতে করে জামিন পাওয়ার পর আসামিকে আর অনর্থক অতিরিক্ত সময় কারাগারে থাকতে হচ্ছে না। আইনি কাঠামো ও আধুনিকায়ন বিচার ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে ইতোমধ্যে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির মাধ্যমে অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিলের আইনি বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার সভাপতিত্বে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বিচারক ও আইনজীবী নেতাদের সাথে এ বিষয়ে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস জানান, জনবান্ধব বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারা দেশে এই কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিচার বিভাগে ডিজিটাল রূপান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথ হবে কণ্টকমুক্ত।
সরকার চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এক গেজেটের মাধ্যমে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (সংশোধন) অর্ডিনেন্স, ২০২৬’ জারি করার বিষয়টি প্রকাশ করে। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১’-এর ১৪১ ধারার (সি) উপ-দফায় সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে, চেকে উল্লিখিত টাকার পরিমাণ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে সেই মামলাটি শুধুমাত্র মেট্রোপলিটন যুগ্ম দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে শুনানি করা যাবে। অন্য সব চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার বিচার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পন্ন হবে। অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল নিজের দায়িত্বকালের দুই বছরের গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিবরণ সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টায় তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘আসিফ নজরুল কি করেছে?’ শিরোনামে পোস্টে এ সব তথ্য তুলে ধরেন। আসিফ নজরুল জানান, মন্ত্রণালয়ে তিনি সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে না থাকলেও প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং গভীর রাতে পর্যন্ত অফিসে থাকেন, সপ্তাহান্তেও কাজ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমালোচনা করতে চাইলে করুক, তবে আগে কার্যক্রমগুলো জেনে নিক। কী কাজ করা হয়েছে? ১. আইনি সংস্কার: আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ: গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা, সাক্ষীর সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা প্রবর্তন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ: যোগ্যতা ও সুযোগের ভিত্তিতে বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বিচার বিভাগের হাতে। বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ: দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ভার্চুয়াল শুনানি, অনলাইন মামলা ব্যবস্থাপনা। মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন: OPCAT বাস্তবায়ন, কমিশনার নিয়োগে স্বচ্ছতা। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ: তদন্ত, শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের সংজ্ঞা নির্ধারণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ: প্রতিরোধকারীদের সুরক্ষা, মামলা প্রত্যাহার ও নতুন মামলা দায়ের নিষিদ্ধ। দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন সংশোধন: গ্রেফতার, রিমান্ড ও বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন: পৃথক ট্রাইব্যুনাল, সাক্ষী সুরক্ষা ও দ্রুত বিচার। সাইবার সুরক্ষা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বিবাহ নিবন্ধন, DCC, পুলিশ সংস্কার, টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনীসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২. প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া উন্নয়ন। তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন, অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ ও ই-কজলিস্ট কার্যক্রম। ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন বেইলবন্ড, আদালতের নাম সংশোধন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথকীকরণ। নিবন্ধন অধিদপ্তরের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণ। ৩. হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার: জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ও সাইবার আইনের আওতায় দায়ের প্রায় ২৪,০০০ মামলা প্রত্যাহার। রাজনৈতিক, হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি পায় লক্ষাধিক মানুষ। ৪. গণহত্যার বিচার ও প্রসিকিউশন সহায়তা: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের নিয়োগ, বিচার প্রক্রিয়ার তদারকি। চারটি মামলার রায়, আরও ছয়টি মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে। ৫. দৈনন্দিন কার্যক্রম: দুই বছরে মন্ত্রণালয়ে ২,২৮১টি নথি নিষ্পত্তি। ৫৭৮টি বিষয়ে আইনি মতামত প্রদান। ১২৭টি অধ্যাদেশ ও এক আদেশ কোডিফাই করা হয়েছে। প্রায় ৫,৫০০ আইন কর্মকর্তাকে নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি সহ নতুন বিচারক নিয়োগ। আসিফ নজরুলের পোস্টের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইন মন্ত্রণালয় এই দুই বছরে আইনি সংস্কার, ডিজিটালাইজেশন ও জনগণের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।