পরজীবী সংক্রমণে আক্রান্ত ১১ হাজার মার্কিনি, সমালোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের খাদ্য নিরাপত্তা নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা নামের একটি আণুবীক্ষণিক পরজীবীর সংক্রমণে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গত মে মাস থেকে দেশটির ৪১টি অঙ্গরাজ্যে ১১ হাজারের বেশি মানুষ এই ভয়ংকর পরজীবীর কারণে মারাত্মক ডায়রিয়া ও পেটের পীড়াসহ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ধারণা করছে, মেক্সিকো থেকে আমদানি করা এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'টেইলর ফার্মস'-এর মাধ্যমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আইসবার্গ লেটুস থেকেই এবারের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবটি ঘটেছে। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এফডিএ-এর খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুসান মেইনের মতে, এটি একটি নজিরবিহীন ও রেকর্ডভাঙা সংক্রমণ। লেটুস পাতায় মানুষের মলমূত্র, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা বা দূষিত পানির মাধ্যমে এই পরজীবী মিশে থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
খাদ্যবাহিত অসুস্থতার প্রায় অর্ধেকই আসে ফলমূল ও শাকসবজি থেকে, কারণ এগুলো সাধারণত কাঁচা খাওয়া হয়। এ ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন কঠোর সুরক্ষা প্রোটোকল মেনে চললেও, উন্মুক্ত পরিবেশে চাষাবাদের কারণে প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবীর সংক্রমণ পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারির বিকল্প নেই।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এফডিএ-এর প্রায় ২০ শতাংশ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ২৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। সিডিসিতে আগে ১১ জন বিজ্ঞানী খাদ্যের পরজীবী নিয়ে কাজ করলেও, বর্তমানে সেই সংখ্যা মাত্র ৩ জনে এসে ঠেকেছে। বাতিল করা হয়েছে মেক্সিকোর সঙ্গে কাজ করা যৌথ দল এবং জাতীয় উপদেষ্টা কমিটিও।
সরকারি এই কর্মী ও বাজেট ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে পুরো খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেই। এফডিএ, সিডিসি ও ইউএসডিএ-এর যৌথ নজরদারি কর্মসূচি 'ফুডনেট', যা আগে ৮টি ভয়ংকর অণুজীব ট্র্যাক করত, তা কমিয়ে এখন মাত্র ২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে সাইক্লোস্পোরা নেই। এছাড়া ২০১১ সালে পাস হওয়া ট্রেসিবিলিটি রুল বা সরবরাহ চেইন নজরদারি আইনের বাস্তবায়ন এ বছর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফলে আগামী বছরগুলোতে এমন সংক্রমণ হলেও তার উৎস খুঁজে বের করা কঠিন হবে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা (এইচএইচএস) পরিচালক রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এই বাজেট কর্তনকে 'অতিরিক্ত নজরদারি' কমানোর পদক্ষেপ বলে দাবি করলেও, সাবেক এফডিএ কর্মকর্তা সুসান মেইন একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি জাতীয় সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে বর্তমান সময়ে ভোক্তাদের প্যাকেটজাত সালাদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কার্যালয় (এইচএইচএস-ওআইজি) ৯৩ মিলিয়ন ডলারের জেনেটিক টেস্ট জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক খাদের খান মোহাম্মদকে খুঁজছে। ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদের সম্ভাব্য অবস্থান ভারতের হায়দরাবাদ বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোহাম্মদ মেডিকেয়ারের কাছে জেনেটিক পরীক্ষার নামে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক ক্লেইম জমা দেওয়ার একটি পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। এসব পরীক্ষার অনেকগুলো অনুমোদিত চিকিৎসক অর্ডার করেননি এবং রোগীদের চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মোহাম্মদ চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য তাদের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে জেনেটিক টেস্টের ক্লেইম জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচএইচএস-ওআইজি। এসব চিকিৎসকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেয়ার রোগীদের কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত সম্পর্কও ছিল না। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ টেক্সাসের রিচার্ডসনে অবস্থিত আমেরিকান প্রিমিয়ার ল্যাবসের মালিক ছিলেন। তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার ক্লেইম জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মেডিকেয়ার অন্তত ৬৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু ২০২৩ সালের একটি ১০ দিনের সময়েই সন্দেহজনক এসব ক্লেইমের বিপরীতে মেডিকেয়ার প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার জব্দ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে হেলথ কেয়ার ফ্রডের অভিযোগে ফেডারেল ইনডাইটমেন্ট দাখিল করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ তখন জানিয়েছিল, জেনেটিক টেস্টের নামে এমন বিল জমা দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল না, যথাযথভাবে অর্ডার করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষাগুলো আদৌ সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। বর্তমানে এইচএইচএস-ওআইজির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় মোহাম্মদের নাম রয়েছে। কর্তৃপক্ষ তার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে ভারতের হায়দরাবাদের কথা উল্লেখ করেছে এবং তাকে শনাক্ত বা তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, অভিযোগ কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একদিনেই দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে হত্যার দায়ে বিচারের মুখোমুখি ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ভুয়া দলিলে ৪০ লাখ ডলারের বাড়ি দখল, ৭ বার মালিকানা বদলের চেষ্টা
নিউইয়র্কে ৪ শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন মা ও নানি, টক্সিকোলজি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানা সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলে তিন দিনব্যাপী ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে চারজন সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ সেল কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রবাসীরা তাদের অভিযোগ ইমেইলের মাধ্যমে পাঠালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। বিনিয়োগের আগে তাদের প্রয়োজনীয় চেকলিস্ট দেওয়া হবে, যাতে প্রক্রিয়াটি সহজ হয় এবং অযথা সময় নষ্ট না হয়। প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। বিদেশে নতুন শ্রমবাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনে প্রবাসীরা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ফোবানার নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও জোরদারে সংগঠনটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল কাজী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তিন দিনের এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশীয় খাবার, পোশাক ও বিভিন্ন পণ্যের স্টলসহ নানা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সূত্র: প্রথম আলো
মেয়ে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি তবুও গ্রিন কার্ড থাকা নারীকে আটক করেছে আইসিই
মিশিগানে ৬ দিনের পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক, লাগবে না অ্যাপয়েন্টমেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম, ফি ও সাক্ষাৎকার নিয়ে যা জানা জরুরি, জেনে নিন
ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মিডটার্ম কনভেনশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট না দিলে তাদের ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে। ১০ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের ডালাসে আমেরিকান এয়ারলাইন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত কনভেনশনের শেষ দিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরে রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ট্রাম্প সমর্থকদের হাত তুলে নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করতে বলেন। এরপর রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ভোট না দিলে কী হবে, তা তারা জানেন এবং ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে। রিপাবলিকান পার্টির এই নজিরবিহীন মিডটার্ম কনভেনশন ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ডালাসে অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বড় জাতীয় রাজনৈতিক কনভেনশন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরেই অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের এমন জাতীয় কনভেনশন আয়োজন তাই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের জনপ্রিয় সমর্থকগোষ্ঠীকে সক্রিয় করা এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য ভোটারদের উৎসাহিত করা। সমাপনী বক্তব্যে ট্রাম্প শুধু ভোটের আহ্বানেই থামেননি। অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি আবারও প্রতিশ্রুতি দেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের একটি চেক দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও নতুন প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বড় হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে সেই অর্থ সরাসরি আমেরিকানদের দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের হেলথ কেয়ার খরচ মেটাতে পারেন। পাশাপাশি ট্যাক্স কাট স্থায়ী করা এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোর প্রচেষ্টার কথাও বলেন তিনি। ডালাসের এই কনভেনশনকে ঘিরে রিপাবলিকানদের মূল লক্ষ্য ছিল নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের আরও সক্রিয় করা। তবে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে পুরো নির্বাচনী কৌশল সাজানো নিয়ে দলের ভেতরেও কিছু উদ্বেগ রয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা মনে করছেন, ট্রাম্পের শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠীকে ভোটকেন্দ্রে আনতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বতন্ত্র ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা নির্বাচনী ফলাফলে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই রিপাবলিকানদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাই ডালাসের কনভেনশনে ট্রাম্পের বক্তব্যকে দলীয় ভোটারদের সংগঠিত করার পাশাপাশি নিজের প্রেসিডেন্সিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকে একটি গণভোটের রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিয়ের পথে দুর্ঘটনা, হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ে
গ্র্যাজুয়েশন শেষেই বাড়ি কেনার সুযোগ! যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী ৫ শহরের তালিকা জেনে নিন