ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা
ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’ হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটির শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পের ভাষণকে ‘নিন্দনীয়’, ‘ভয়াবহ’ এবং ‘অশুভ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেন। তবে চলমান যুদ্ধের অবসান কবে হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি তিনি।
এ অবস্থায় মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় ধরনের ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প কৌশল নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন, মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটকে উপেক্ষা করছেন।
একই সুরে সমালোচনা করেছেন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন। তিনি ট্রাম্পকে ‘বিভ্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব—উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে বলেন, একটি দেশের কোটি কোটি মানুষকে ধ্বংসের হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে Council on American-Islamic Relations ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘মুসলিমবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী’ বলে সমালোচনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। এদিকে ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলার মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে স্বামীর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউতে গিয়ে আইসের হাতে আটক হয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক মা। কেনটাকির লুইসভিলে ১২ আগস্ট ঘটে এ ঘটনা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন নাগরিক স্বামী এবং তাদের দেড় বছরেরও কম বয়সী শিশু সন্তান। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক নারীর নাম আর্মেল বন্ডোঙ্গা। তিনি মূলত ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর নাগরিক। ২০১৩ সালে শিশু বয়সে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন তিনি।তার আইনজীবী আরিয়ানিত ওসমানি জানান, বন্ডোঙ্গা ও তার স্বামী টেরেন্স ব্র্যাডশ তাদের বিয়ের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তারা নির্ধারিত ইন্টারভিউতে উপস্থিত হয়েছিলেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারভিউ শেষে বন্ডোঙ্গাকে আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষকে এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বন্ডোঙ্গা নিজেই নিয়ম অনুযায়ী ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউতে হাজির হয়েছিলেন। বন্ডোঙ্গার স্বামী মার্কিন নাগরিক। তাদের ছোট সন্তানও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। স্ত্রী আটক হওয়ার পর শিশুসন্তানের দেখাশোনাসহ পরিবারের দৈনন্দিন দায়িত্ব এখন একাই সামলাচ্ছেন ব্র্যাডশ।তবে আইস এই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটি নিউজউইককে জানিয়েছে, বন্ডোঙ্গা ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয় ২০১৪ সালের মার্চে। এরপর তিনি অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। আইসের দাবি, ২০২৫ সালের নভেম্বরে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক বন্ডোঙ্গার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিমুভাল অর্ডার দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের একটি কার্যকর আদেশ আগে থেকেই ছিল। এ কারণে ঘটনাটি শুধু একটি সাধারণ গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউতে গিয়ে হঠাৎ আটকের বিষয় নয়। বন্ডোঙ্গার বিরুদ্ধে আগে থেকেই চূড়ান্ত রিমুভাল অর্ডার থাকার বিষয়টি মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কোনো বিদেশি নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ স্ট্যাটাস বা গ্রিন কার্ড পান না। ইউএসসিআইএসের নীতিমালায়ও বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যের করা ইমিগ্রেশন পিটিশন নিজে থেকে কোনো ব্যক্তিকে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না এবং সেটি রিমুভাল কার্যক্রমও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে না। বন্ডোঙ্গার আইনজীবী অবশ্য তার আটকের পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য, বন্ডোঙ্গা যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করছিলেন এবং সেই উদ্দেশ্যেই স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সরকারি ইন্টারভিউতে গিয়েছিলেন। কেনটাকির ডেমোক্র্যাট স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ইমিগ্রেশন আইনজীবী নিমা কুলকার্নিও বন্ডোঙ্গার আটকের সমালোচনা করেছেন। তবে আইস বলছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বৈধ রিমুভাল অর্ডার ছিল এবং তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ঠিক করার চেষ্টা করছেন এমন পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো রিমুভাল অর্ডার, ভিসা ওভারস্টে বা ইমিগ্রেশন কোর্টের মামলা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা বা গ্রিন কার্ডের আবেদন চলমান থাকা নিজে থেকে আইসের আটক বা রিমুভাল ঠেকায় না।বন্ডোঙ্গা বর্তমানে ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজতে রয়েছেন। তার পরিবার ও আইনজীবীরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছেন।
টিকটকে মামদানিকে ট্যাগ করে দেখালেন দুই গর্ত, কাজ শেষে ফিরে দেখলেন দুটিই মেরামত
গির্জা, মসজিদ, মন্দিরে আইসের অভিবাসন অভিযান সীমিত রাখার আদেশ বহাল মার্কিন আপিল আদালতের
সুপারমার্কেটে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফেডারেল কোর্টে ক্রেতা
নিউইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগ জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রায় ১৭ হাজার ঠিকানায় চিঠি পাঠায়, যেগুলো সম্পত্তির মূল্য ও সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাড়ি হতে পারে। একই সময়ে শহর কর্তৃপক্ষ ৯ লাখের বেশি সম্পত্তির মূল্যসহ একটি তালিকা প্রকাশ করে। এরপর কিছু নিউইয়র্কবাসী অভিযোগ করেন, যে বাড়িতে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, সেটিও সম্ভাব্য করের আওতায় দেখানো হয়েছে। মামদানি প্রশাসন অবশ্য বলছে, ১৭ হাজার চিঠি পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিককে কর দিতে হবে - বিষয়টি এমন নয়। অর্থ বিভাগের কমিশনার রিচার্ড লি সিটি কাউন্সিলে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, প্রকাশিত সম্পূরক তালিকাটিও কারা শেষ পর্যন্ত কর দেবেন, তার চূড়ান্ত তালিকা নয়। বরং বাড়ির মালিকদের সম্পত্তির মূল্য বা করযোগ্যতার বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দিতেই প্রক্রিয়াটি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই কর মূলত উচ্চমূল্যের এমন আবাসিক সম্পত্তির ওপর প্রযোজ্য হবে, যেগুলো মালিকের প্রধান বাসস্থান নয়। এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ির ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যসীমা কমপক্ষে ৫০ লাখ ডলার। অন্যদিকে কন্ডো ও কো-অপের ক্ষেত্রে মূল্যসীমা ১০ লাখ ডলার থেকে শুরু। করটি ধাপে ধাপে বাড়বে এবং উচ্চমূল্যের সম্পত্তির ক্ষেত্রে হারও বেশি হবে। আইনটি চলতি বছরের মে মাসে অনুমোদিত হয়। মামদানি প্রশাসনের হিসাবে, নতুন কর থেকে নিউইয়র্ক সিটি বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার রাজস্ব পেতে পারে। এই অর্থ স্কুল, পার্ক, পরিচ্ছন্নতা, জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় ব্যবহারের কথা বলছে সিটি হল। কিন্তু বাস্তবায়ন শুরু হতেই ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডের কাউন্সিল সদস্য গেল ব্রিউয়ার জানিয়েছেন, উদ্বিগ্ন বাসিন্দাদের কাছ থেকে তার কার্যালয়ে বিপুলসংখ্যক অভিযোগ এসেছে। কারা কর দেবেন, কীভাবে প্রধান বাসস্থান প্রমাণ করতে হবে এবং ভুলভাবে তালিকাভুক্ত হলে কীভাবে আপত্তি জানাতে হবে - এসব নিয়ে সিটি কাউন্সিল সদস্যরা প্রশাসনের কাছে বহু প্রশ্ন তুলেছেন। ১৮ আগস্ট সিটি কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে জনশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে মামদানি প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রশ্নের উত্তর দেননি। অর্থ কমিশনার রিচার্ড লি লিখিত বক্তব্য জমা দিয়ে জানান, চলমান মামলার কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন না। মামলা নিষ্পত্তি হলে সিটি কাউন্সিলের সামনে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিতর্কের আরেকটি বড় জায়গা হলো ৯ লাখের বেশি সম্পত্তির তথ্য প্রকাশ। প্রশাসনের বক্তব্য, এসব সম্পত্তির মূল্য ও ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য নতুন বা গোপন কিছু নয় - বহু বছর ধরেই করসংক্রান্ত রেকর্ড হিসেবে সাধারণ মানুষের নাগালে রয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন করের প্রেক্ষাপটে এত বড় তালিকা প্রকাশ করায় অনেক বাড়ির মালিক অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিভ্রান্তি ও নজরদারির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি এখন আদালতেও গড়িয়েছে। ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কয়েকজন বাসিন্দা মামদানি প্রশাসনের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন। প্রথমে একজন বিচারক করটির বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। পরে আপিল আদালত সেই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে সিটি আবার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তবে মূল আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই মামলায় আরও চারজন বাদী যুক্ত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তারা নিউইয়র্কে নিয়মিত বসবাস করলেও ভুলভাবে সম্ভাব্য করদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন অথবা নোটিশ পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর সমস্যা হয়েছে। ফলে নতুন করটির উদ্দেশ্যের পাশাপাশি সেটি বাস্তবায়নের পদ্ধতিই এখন বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কে পরিণত হয়েছে। যেসব বাড়ির মালিক মনে করেন তাদের সম্পত্তি এই করের আওতায় পড়ার কথা নয়, তাদের আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কর ২০২৭ সালের বিলগুলোতে দেখা যেতে শুরু করবে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন ও আপিল সামলাতে অতিরিক্ত কর্মীও নিয়োগ করেছে শহরের অর্থ বিভাগ। ফলে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ১৭ হাজার নোটিশ পাওয়া মানেই ১৭ হাজার মালিকের ওপর চূড়ান্তভাবে নতুন কর বসে গেছে, এমন নয়। করটি মূলত উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বা প্রধান বাসস্থান নয় এমন সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে। কিন্তু কার সম্পত্তি সত্যিই সেই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে, সেটি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক চলছে। মামদানি প্রশাসনের জন্যও বিষয়টি এখন শুধু নতুন একটি কর কার্যকর করার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। ধনীদের উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ি থেকে বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করতে গিয়ে প্রশাসনকে এখন একই সঙ্গে বাড়ির মালিকদের ক্ষোভ, সিটি কাউন্সিলের প্রশ্ন এবং আদালতের আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আগামী ৩১ আগস্ট মামলার পরবর্তী আদালত কার্যক্রম এবং ১৮ সেপ্টেম্বর আপত্তি জানানোর সময়সীমা - এই দুই তারিখের পর নতুন করটির ভবিষ্যৎ আরও পরিষ্কার হতে পারে।
হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, সব মাইন সরিয়ে প্রণালি খোলার দাবি
স্কুলে নিয়মিত গেলেই সপ্তাহে ১০০ ডলার! ডেট্রয়েটে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির জন্য নগদ ইন্সেন্টিভস
আমেরিকায় ইউএসপিএসে চাকরির সুযোগ : আবেদন করার যোগ্যতা, সুবিধা এবং আবেদন করবেন যেভাবে
গাড়ি চালানো হচ্ছে না, ইঞ্জিনও বন্ধ। তারপরও হঠাৎ আগুন ধরে যেতে পারে। এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর ১৫ লাখের বেশি গাড়ি রিকল করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে নির্দিষ্ট মডেলের গাড়ির মালিকদের বাড়ি, গ্যারেজ ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে খোলা জায়গায় পার্ক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে ১৭টি 'পার্ক আউটসাইড' রিকল ক্যাম্পেইন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এ ধরনের সতর্কতা দ্রুত বাড়ছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নির্দিষ্ট জিপ র্যাংলার, জিপ গ্ল্যাডিয়েটর, কিয়া টেলুরাইড এবং বিএমডব্লিউ ৫৩০ই এক্সড্রাইভসহ বেশ কিছু গাড়ির মালিককে বাড়ি বা অন্য গাড়ি থেকে দূরে পার্ক করতে বলা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সাম্প্রতিক রিকলগুলোর একটি জিপের। জুনে স্টেলান্টিস ২০২১ থেকে ২০২৫ মডেল ইয়ারের ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯৯টি জিপ র্যাংলার ও জিপ গ্ল্যাডিয়েটর রিকল করে। এসব গাড়িতে হাইড্রোলিক পাওয়ার স্টিয়ারিং পাম্পের বৈদ্যুতিক তারের সমস্যার কারণে আগুন লাগার ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়। এই সমস্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৫১টি অগ্নিকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় আহত হওয়ার তথ্যও রয়েছে। গাড়ি বন্ধ থাকার সময়ও আগুন লাগতে পারে বলে মালিকদের সতর্ক করা হয়। এরপর জুলাইয়ে কিয়া ২০২০ থেকে ২০২৪ মডেল ইয়ারের ৪ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৯টি টেলুরাইড রিকল করে। এনএইচটিএসএ জানায়, সামনের পাওয়ার সিটের মোটর অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে। কিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এ সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সাতটি সিটে আগুন লাগার ঘটনা এবং ১১টি সিট মোটর গলে যাওয়ার ঘটনা তাদের জানা রয়েছে। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এসব গাড়ি ভবন ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে বাইরে পার্ক করতে বলা হয়েছে। কিয়া টেলুরাইডের ক্ষেত্রে সামনের পাওয়ার সিটের স্লাইড কভার বা নব আঘাত পেলে সুইচ সরে যেতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে মোটর একটানা চলতে থেকে অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আগের রিকলের অধীনে সঠিকভাবে মেরামত না হলেও একই ঝুঁকি থাকতে পারে। এই রিকলের আওতাভুক্ত কিয়া টেলুরাইডে ডিলাররা বিনা খরচে একটি ইলেকট্রনিক ফিউজ অ্যাসেম্বলি বসাবে। নতুন ব্যবস্থাটি সিটের সুইচে সমস্যা হলে মোটরকে একটানা চলা থেকে রক্ষা করবে। এ ধরনের রিকলকে 'পার্ক আউটসাইড' রিকল বলা হয়। কারণ আগুনের ঝুঁকি শুধু গাড়ি চালানোর সময় নয়, গাড়ি পার্ক করা এবং ইঞ্জিন বন্ধ থাকার সময়ও থাকতে পারে। এ কারণেই মালিকদের সাধারণ গ্যারেজের পরিবর্তে ভবন ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে খোলা জায়গায় গাড়ি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাবেক এনএইচটিএসএ তদন্তকারী ফ্র্যাঙ্ক বরিসের মতে, আধুনিক গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও কিছু বৈদ্যুতিক সার্কিট সক্রিয় বা গরম থাকতে পারে। গাড়িতে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অল্প জায়গায় আরও বেশি প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। এতে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে অতিরিক্ত তাপ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পরিসংখ্যানেও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০টি 'পার্ক আউটসাইড' রিকল হয়েছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ১৯টি। আর ২০২৬ সালের শুধু জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যেই এমন ১৭টি রিকল হয়েছে। গাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের গাড়ি কোনো রিকলের আওতায় আছে কি না তা যাচাই করা। এনএইচটিএসএর রিকল ব্যবস্থায় গাড়ির ১৭ ডিজিটের ভেহিকল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ভিআইএন দিয়ে নির্দিষ্ট গাড়ির রিকল স্ট্যাটাস জানা যায়। কোনো গাড়ির জন্য 'পার্ক আউটসাইড' নির্দেশনা থাকলে মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেটি বাড়ির গ্যারেজে বা অন্য গাড়ির পাশে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ কিছু ক্ষেত্রে আগুন লাগার জন্য গাড়ির চলমান থাকা প্রয়োজন নেই। ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থাতেও বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরই প্যারালাইজড বৃদ্ধা, হাসপাতালের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ
রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৪ সেপ্টেম্বর