বিশ্ব

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডম সংকট, দাম বাড়তে পারে ৫০%

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৬:৩১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারত-এর কনডম বাজারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, কাঁচামালের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে কনডম সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

খাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়; বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া, পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ কমে যাওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় লুব্রিকেন্টের ঘাটতির সরাসরি ফল। বিশেষ করে সিলিকন তেল, যা কনডম উৎপাদনে অপরিহার্য, বর্তমানে সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচা ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

ভারতে প্রতিবছর ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এই খাতে HLL Lifecare Limited, Mankind Pharma এবং Cupid Limited-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে শুধু HLL Lifecare-ই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।

 

উৎপাদকদের মতে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলসহ প্যাকেজিং উপকরণের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার বিঘ্ন উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

বর্তমানে ভারতের কনডম বাজার মূলত উচ্চ উৎপাদন ও কম মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, যাতে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি সাশ্রয়ী রাখা যায়। তবে চলমান সংকটে এই মডেলটি বড় চাপে পড়েছে। গত মার্চে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, জ্বালানি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দেশীয় পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে, যা কাঁচামালের সংকট আরও বাড়াবে।

 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটের গুরুতর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব থাকতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে কনডম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ব্যবহার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বড় শহরগুলোতে এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মুম্বাই ও দিল্লি-এর বিভিন্ন ওষুধের দোকানে কনডম সরবরাহে অনিয়মিততা লক্ষ্য করা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে জমি ও বাড়ি দখলের ঘটনাও। ছবি: সংগৃহীত
নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ফিলিস্তিনির বাড়ি দখলে নিলো ইহুদি দখলদাররা

ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি ও বাড়ি দখলকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নিজের পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নির্মাণাধীন একটি বাড়ি তৈরি করছিলেন ফিলিস্তিনি বাসিন্দা মোহাম্মদ সালামাহ। ছেলের বিয়ের পর নতুন সংসার শুরু করার কথা ছিল সেই বাড়িতে। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাড়িটি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স যাচাই করা ভিডিও এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে এমন তথ্য উঠে এসেছে।   রয়টার্সের যাচাই করা চলতি সপ্তাহের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত দুই তলা নির্মাণাধীন বাড়িটির ছাদে কয়েকজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী অবস্থান করছেন। ভিডিওটি ধারণের সময় অন্তত ছয়জনকে বাড়িটির ছাদে চলাফেরা করতে দেখা যায়। ঘটনাটি পশ্চিম তীরের নাবলুস এলাকার জালুদ গ্রামের কাছে ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মোহাম্মদ সালামাহ জানান, বাড়ি দখলের পর তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি। তার ভাষায়, চারপাশে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইসরায়েলি বসতি ও নিরাপত্তা চৌকি গড়ে ওঠায় বাড়িটি ফেরত পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। সালামাহ বলেন, যদি একটি নির্মাণাধীন বাড়ি দখল করে নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে আশপাশের অন্য বাড়িগুলোর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পুরো এলাকাই ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনিদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।   রয়টার্স জানায়, অভিযুক্ত বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেয়নি। ইসরায়েলি পুলিশও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   নতুন উদ্বেগের কারণ   জালুদ গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল বা বসতি সম্প্রসারণের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার যে বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তা হলো নির্মাণাধীন একটি বাড়ি দখলের অভিযোগ। গ্রাম কাউন্সিলের প্রধান রায়েদ আল-হাজ মোহাম্মদ বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা এখন গ্রামের সর্বশেষ বসতবাড়ির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তার দাবি, গত কয়েক বছরে জালুদ অন্তত পাঁচবার বড় ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, যানবাহন ভাঙচুর এবং জলপাইসহ বিভিন্ন গাছপালা উপড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।   কেন বাড়ছে উত্তেজনা?   পশ্চিম তীরে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি এবং প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ এবং জাতিসংঘ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে। তাদের মতে, দখলকৃত ভূখণ্ডে দখলদার রাষ্ট্রের বেসামরিক নাগরিকদের স্থানান্তর চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির দাবি, পশ্চিম তীর একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড এবং সেখানে ইহুদিদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে।   হামলা বেড়েছে বলে জাতিসংঘের দাবি   জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের পর থেকে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম ও কৃষিজমিতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে হামলার হার প্রায় ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব হামলার কারণে বহু ফিলিস্তিনি পরিবার নিজ বাড়ি ও জমি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ আরও গতি পেয়েছে। কারণ জোট সরকার টিকিয়ে রাখতে বসতি-সমর্থক কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনের ওপর সরকার অনেকটাই নির্ভরশীল। একই কারণে বসতি সম্প্রসারণ ও সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা ভবিষ্যতেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।   মোহাম্মদ সালামাহ জানান, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তার ছেলে চাকরি হারান। আর্থিক সংকটের কারণে বাড়ির নির্মাণকাজও দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। অনেক কষ্টে আবার কাজ শুরু করলেও এখন সেই বাড়িটিই হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ২১:১২
ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল আমিরাত

ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল আমিরাত, সুবিধা বাড়ল প্রবাসী ও পর্যটকদের

ঘানায় ভয়াবহ বন্যা: মৃত বেড়ে ৩৪, বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯০ হাজার মানুষ

ঘানায় ভয়াবহ বন্যা: মৃত বেড়ে ৩৪, বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯০ হাজার মানুষ

দোনেৎস্কে কৌশলগত শহর দখলের দাবি রাশিয়ার

দোনেৎস্কে কৌশলগত শহর দখলের দাবি রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ পেতে থাই বিমানকর্মীদের দিয়ে মাদক পাচার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়ে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্র থাইল্যান্ডের বিমানসংস্থাগুলোর পাইলট, কেবিন ক্রু ও অন্যান্য বিমানকর্মীদের টার্গেট করছে। আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক, বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ কিংবা সহজ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের একটি অংশকে মাদক বহনে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।   সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারকারী চক্রগুলো প্রথমে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ধাপে ধাপে বিশ্বাস অর্জন করে বিদেশে ছোট প্যাকেট বা লাগেজ বহনের প্রস্তাব দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্যাকেটে যে অবৈধ মাদক রয়েছে, তা শুরুতে বহনকারীদের জানানো হয় না।   থাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদেশি বিমানবন্দরে একাধিক থাই বিমানকর্মী মাদক বহনের অভিযোগে আটক হয়েছেন। এসব ঘটনার পর তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার যোগসূত্র সামনে আসে।   নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানকর্মীরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে সহজে প্রবেশাধিকার থাকায় অপরাধচক্র তাদের ব্যবহার করতে আগ্রহী। তবে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, চাকরি হারানো এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মতো কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থাই কর্তৃপক্ষ বিমানকর্মীদের জন্য সতর্কতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে আসা সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাব বা লাগেজ বহনের অনুরোধ সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৪:৩১
সংযুক্ত আরব আমিরাত ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুদ্ধের উত্তেজনা কমতেই উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন, রেকর্ড গড়ল আমিরাত

চার মাস পর খামেনির দাফন ৯ জুলাই

চার মাস পর খামেনির দাফন ৯ জুলাই, মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন

জুনের তাপপ্রবাহে ইউরোপের তিন দেশে ৩৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যু

জুনের তাপপ্রবাহে ইউরোপের তিন দেশে ৩৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যু

ইরানি শোকানুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, কাঁদলেন স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানি শোকানুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত, কাঁদলেন স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের আবেগঘন উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।   অনুষ্ঠানে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে প্রকাশ্যে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠান ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।   ইরান প্রশাসনের ধারণা, কয়েক দিনব্যাপী এই বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। ইতোমধ্যে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে গ্র্যান্ড মোসাল্লার ফটক সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে এর আগেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।   খামেনির মৃত্যুর পর আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক পরিসরেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি প্রতিনিধি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এটি একটি বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশে পরিণত হয়েছে।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই এবং এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি। এছাড়া রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইমোমালি রাহমনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ থেকে সরকারি প্রতিনিধি দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সমর্থন জানিয়েছে—এমন ইউরোপের কয়েকটি দেশকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির বিদায় শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করছে। তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে যে বিপুল জনসমাগম ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাবের প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ০:২৭
আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত গ্র্যান্ড মোসাল্লা

আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত গ্র্যান্ড মোসাল্লা, খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখল করলো রাশিয়া, নিরাপত্তা বলয় বাড়ানোর ইঙ্গিত পুতিনের

ছবি: নৃত্যশিক্ষক লরা পিনহো এবং সালেম আবু আমরা (সংগৃহীত)

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে গাজার ব্যক্তিকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পরিকল্পনার কথা জানালেন মার্কিনশিক্ষিকা

0 Comments