যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সুপ্ত ও গোপনীয় যুদ্ধনীতির বিপরীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উম্মুক্ত ও প্রচারণামূলক যুদ্ধকৌশল মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করেছে। ইরানের সঙ্গে ৩২ দিনের সংঘাতকে ঐতিহাসিক যুদ্ধের দীর্ঘ মেয়াদের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প একে নগণ্য দাবি করলেও, এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং সংঘাতের পেছনে ‘ইসরায়েল লবি’র প্রভাবের অভিযোগ তুলে ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন।
হোয়াইট হাউসের ভাষণ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের ভিডিও প্রচারকে বিশ্লেষকরা প্রথাগত সংঘাতের চেয়ে বরং সস্তা ‘কনটেন্ট’ বা উপাদানের মতো দেখছেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে জেমস পক বা ডোনাল্ড রামসফেল্ডের মতো সাম্রাজ্যবাদ এবং বাধাহীন বিমান যুদ্ধের রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এমআইটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যাডাম জে. বেরিনস্কির মতে, যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত আসলে যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনার চেয়ে রাজনীতিকদের দলীয় কাদা-ছোড়াছুড়ির ওপর বেশি নির্ভর করে।
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ১৯ ও ২০ শতকের অধিকাংশ সময় কোনো না কোনো যুদ্ধে জড়িত থাকলেও আধুনিক সশস্ত্র ড্রোনের যুগে যুদ্ধের ঝুঁকি ও খরচ সাধারণ মানুষের আড়ালে চলে গেছে। রিচার্ড নিক্সন থেকে ওবামা প্রশাসন পর্যন্ত সবাই যুদ্ধের প্রাণহানি ও প্রকৃত ব্যয় গোপন করার নীতি অনুসরণ করেছিলেন। সশস্ত্র ড্রোনের মাধ্যমে নিজেদের ঝুঁকি ছাড়াই মৃত্যু ডেকে আনার সক্ষমতা যুদ্ধের নৈতিকতাকেই বদলে দিয়েছে। তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘প্যালান্টির’-এর প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার কার্পের মতে, প্রযুক্তি নির্মাতা ও রাজনৈতিক এলিটরা এখন যুদ্ধক্ষেত্রের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব মূলত নাগরিকদের সঙ্গে যুদ্ধের বাস্তব সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার এক চরম রূপ। যখন যুদ্ধের খরচ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি সাধারণ মানুষের সরাসরি ওপর পড়ে না, তখন দেশ ও যুদ্ধ নিয়ে যেকোনো মনগড়া গল্প বিশ্বাস করানো সহজ হয়ে পড়ে। হোয়াইট হাউসের বানানো ইরান যুদ্ধের ভিডিওগুলো এখন কেবল ডিজিটাল প্রহসনে পরিণত হয়েছে, যা নাগরিকদের কাছে একটি ‘ক্লিক’ ছাড়া আর কিছুই দাবি করে না।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
২০২০ সালে মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির ভাগ্নিকে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আজ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, কাসেম সোলেইমানির ভাগ্নি আফশার এবং তার কন্যাকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হেফাজতে নিয়েছে। বর্তমানে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত আফশার দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বসে ইরান সরকারের প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার প্রশংসা করা, নতুন ইরানি সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বড় শয়তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, তিনি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত ‘ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন ব্যক্ত করে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আফশার এবং তার মেয়ের গ্রিন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। রুবিও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো বিদেশি নাগরিককে এই দেশে আশ্রয় দেবে না, যারা আমেরিকা-বিরোধী সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে।"
চলতি বছ্রের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও রেস্তোরাঁ, কারখানা ও হাসপাতালগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। শুক্রবার মার্কিন শ্রম বিভাগ-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত মাসে নিয়োগকর্তারা ১ লাখ ৭৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি করেছেন যা পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি এবং ফেব্রুয়ারির বড় ধরনের চাকরি হ্রাসের পর একটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধার নির্দেশ করে। মার্চে বেকারত্বের হার ৪.৪ শতাংশ থেকে কমে ৪.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এর একটি বড় কারণ হলো প্রায় ৪ লাখ মানুষ শ্রমবাজার থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। গত ছয় মাস ধরে শ্রমবাজার মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। নিয়োগকর্তারা একদিকে নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক, অন্যদিকে ছাঁটাইতেও অনিচ্ছুক ছিলেন। ২০২৬ সালের শুরুতে চিত্রটি ছিল মিশ্র—জানুয়ারিতে শক্তিশালী চাকরি বৃদ্ধি, ফেব্রুয়ারিতে বড় কাটছাঁট এবং মার্চে আবার পুনরুদ্ধার। শ্রমশক্তির আকারও প্রায় স্থবির রয়েছে। এর পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বিপুল সংখ্যক ‘বেবি বুমার’ প্রজন্মের অবসর গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মার্চে কাজ করছেন বা কাজ খুঁজছেন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের হার সামান্য কমেছে। এ সপ্তাহে প্রকাশিত ব্যবসায়িক অর্থনীতিবিদদের এক জরিপে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে ইরান যুদ্ধ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করে দিতে পারে এবং বেকারত্ব বাড়াতে পারে। যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে, গ্যাসোলিনের গড় মূল্য ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। মাসিক চাকরির এই হিসাব মার্চের প্রথমার্ধে করা হয়েছিল, তাই যুদ্ধের পূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাব এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তেলের দাম বেড়ে গেলেও তেল ও গ্যাস খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। খাতভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবা খাত আবারও চাকরি বৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল এ খাতে ৭৬ হাজার নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। এর প্রায় অর্ধেকই ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে আগের মাসের ধর্মঘট শেষে কাজে ফিরে আসা কর্মীদের কারণে হয়েছে। নির্মাণ খাত মার্চে ২৬ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছে, যা তুলনামূলকভাবে অনুকূল বসন্তের আবহাওয়ার সুবিধা নিয়েছে। অন্যদিকে, ফেডারেল সরকার কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রেখেছে গত মাসে ১৮ হাজার চাকরি কমানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখী মেলা। আগামী রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, আটলান্টার লিলবার্ন শহরের বার্কমার হাই স্কুল প্রাঙ্গণ (৪০৫ প্লেজেন্ট হিল রোড, লিলবার্ন, জিপ-৩০০৪৭)-এ দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ এবং বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে এই বিশেষ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে থাকছে বৈশাখী মেলার বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্টল, দেশীয় খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্পসহ নানা আয়োজন। শিশু ও পরিবারদের জন্য থাকবে বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থা, যা পুরো অনুষ্ঠানকে করে তুলবে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। এছাড়াও, আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত ও প্রবাসী শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করবেন। আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যদের এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে বাঙালিয়ানার এই মিলনমেলাকে সফল করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দেশ থেকে দূরে থেকেও বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দকে একসাথে ধারণ করার এই আয়োজন প্রবাসীদের হৃদয়ে নিয়ে আসবে এক টুকরো বাংলাদেশ।