হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ৩৫ দেশের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাজ্য
ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকট নিরসনের দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নিল। বৃহস্পতিবার লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩৫টি দেশ অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় থাকছে না।
বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান এই পথটি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে সমুদ্রপথকে মাইনমুক্ত করা এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সহজ হবে না; এর জন্য সামরিক শক্তি এবং কূটনৈতিক তৎপরতার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। ইউরোপীয় দেশগুলো শুরুতে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চাইলেও তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে তারা এখন ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই নৌপথটি উন্মুক্ত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে সামরিক পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে এ বিষয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more১৯০৬ সালে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শুরু হওয়া ভয়াবহ বর্ণবাদী হত্যাযজ্ঞ বা ‘আটলান্টা রেস ম্যাসাকার’-এর ১২০ বছর পূর্ণ হলো। এই মর্মান্তিক ইতিহাস স্মরণ করার পাশাপাশি এর সাথে বর্তমান সময়ের মিথ্যা তথ্যের ভয়াবহতার যোগসূত্র নিয়ে পর্যালোচনা করছেন মরিস ব্রাউন কলেজের একদল শিক্ষার্থী। ১৯০৬ সালের ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা ওই তাণ্ডবে শ্বেতাঙ্গদের হামলায় বহু কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক নিহত ও নির্যাতিত হন এবং অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। সে সময় স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ ছাপানোর পর এই সহিংসতা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রাউনসভিল, ফাইভ পয়েন্টস, সামারহিল ও অবার্ন অ্যাভিনিউয়ের মতো এলাকাগুলো এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বলছেন, তখনকার পত্রিকা আর আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। মরিস ব্রাউন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ডেনিম চেম্বারস জানান, তিনি আগে এই গণহত্যার কথা জানতেন না। তবে এখন তিনি বুঝতে পারছেন, সে যুগে যেভাবে ভুয়া খবরের জেরে সহিংসতা ছড়িয়েছিল, বর্তমান যুগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিক একইভাবে মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোর্সটির অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর সানি ব্রাউন জানান, অতীতের ইতিহাস শুধু পড়ার জন্য নয়, বরং বর্তমানের সঙ্গে এর যোগসূত্র খুঁজে বের করাই এই পাঠের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এবং গুজবের বাস্তব পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হন, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সেই হত্যাযজ্ঞে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে আটলান্টার অ্যাপেক্স মিউজিয়ামের ইতিহাসবিদ কাইলার উইনস্টন-ক্যান্ড্রিকস জানান, এই ঘটনাকে নিছক দাঙ্গা নয়, বরং গণহত্যা বলা উচিত। কারণ এতে ৪০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত মানুষ হতাহত হয়েছিলেন। রাস্তা, ট্রলি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের টেনেহিঁচড়ে বের করে হত্যা করা হয়েছিল। বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ বুদ্ধিজীবী ডব্লিউ.ই.বি. ডু বোইস সে সময় আটলান্টা ইউনিভার্সিটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং মর্মান্তিক এই ঘটনা নিয়ে তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘এ লিটানি অব আটলান্টা’ রচনা করেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক জে. ম্যাক্স বারবার প্রাণভয়ে শিকাগো পালিয়ে গিয়ে এই গণহত্যার প্রকৃত সত্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন, যার ফলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশের গণমাধ্যমেও এই খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছিল। ভয়াবহ সেই ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে বর্তমানে অবার্ন অ্যাভিনিউ রিসার্চ লাইব্রেরি এবং অ্যাপেক্স মিউজিয়াম বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। সেখানে নিহতদের স্মৃতিচিহ্ন, পুরনো সংবাদপত্র, মাটির নমুনা এবং বেঁচে যাওয়া মানুষদের দুর্লভ অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে। প্রদর্শনীতে এমন অডিও রেকর্ডিংও রয়েছে, যেখানে জানা যায় কীভাবে কৃষ্ণাঙ্গরা নিজেদের রক্ষার জন্য সে সময় শহরে অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। অবার্ন অ্যাভিনিউ লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক জন অস্টিন জানান, মানুষ যত বেশি অতীত ইতিহাস ও এ ধরনের গণহত্যার পেছনের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে জানবে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কলঙ্কজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা ততটাই কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ধ্বংসস্তূপে গড়ে উঠল ১৪ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন এবং অভাবনীয় রেকর্ড তৈরি হয়েছে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটিকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের অর্থ দান করেছেন সিটাডেলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিন। রয়টার্স ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত দানের ঘটনা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সাহায্যে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে কার্নেগি মেলনের একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি মূল ক্যাম্পাসের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আরও বৃদ্ধি করা হবে। ঐতিহাসিক এই দানের ৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারই ব্যয় করা হবে মিয়ামির উইনউড এলাকায় কার্নেগি মেলনের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজে। ৩৫ একরের বেশি জমির ওপর প্রস্তাবিত এই ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৮ সাল নাগাদ সেখানে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু হওয়ার পর এই অত্যাধুনিক ক্যাম্পাসে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি প্রায় তিন শ শিক্ষক এবং ছয় শতাধিক কর্মী থাকবেন। গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নির্দিষ্ট বিভাগভিত্তিক পড়াশোনার বদলে এই ক্যাম্পাসটি মানবস্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা এবং শিল্প প্রযুক্তির মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণার কাঠামো সাজাবে। অন্যদিকে, দানের অবশিষ্ট ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে কার্নেগি মেলনের ঐতিহ্যবাহী পিটসবার্গ ক্যাম্পাসের জন্য। এর মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি ব্যয় হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে। এই বিপুল বিনিয়োগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কেনেথ সি. গ্রিফিন স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’ রাখা হয়েছে। বাকি ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা সম্প্রসারণের মতো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে নতুন ক্যাম্পাসের পাশাপাশি পুরোনো ক্যাম্পাসের গবেষণার ভিতও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি এমনিতেই রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং গবেষণায় বিশ্বজোড়া খ্যাতির অধিকারী। কেন গ্রিফিনের এই যুগান্তকারী বিনিয়োগ তাদের সেই সক্ষমতাকে শিল্প ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করবে। এর আগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান করা গ্রিফিন এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। কার্নেগি মেলনের প্রেসিডেন্ট ফারনাম জাহানিয়ান মনে করেন, এই বিপুল অর্থায়ন কেবল একটি নতুন ক্যাম্পাসই তৈরি করবে না, বরং মিয়ামি ও পিটসবার্গের মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা পুরোপুরি বাতিল চান জেডি ভ্যান্স, উঠছে সস্তা শ্রমের অভিযোগ
অভিবাসী পরিবারের মেয়ে আনুম জেহরা, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে হা মলা, ইটের আঘাতে ভাঙল জানালার কাচ
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা টম ক্রুজ কেবল পর্দায় অ্যাকশন হিরো নন, বাস্তবেও যে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল—তারই একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া এক অপরিচিত কিচেন কর্মীকে বিষণ্ণ ভেবে নিজে থেকেই তার খোঁজ নিতে এগিয়ে আসেন এই সুপারস্টার। ছোট্ট অথচ আন্তরিক এই ঘটনাটি নেটিজেনদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। জানা গেছে, ক্লেমেন্টিনা নামের ওই নারী কর্মী তার কাজের বিরতির সময় একা বসে মোবাইল ফোনে মগ্ন ছিলেন। ঘাড় নিচু করে ফোন স্ক্রল করার কারণে তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি কোনো কারণে বিপর্যস্ত। সেই পথ দিয়েই যাচ্ছিলেন টম ক্রুজ। মেয়েটির এমন ভঙ্গি দেখে তিনি আর নিজের গন্তব্যে এগিয়ে না গিয়ে থমকে দাঁড়ান এবং ফিরে এসে তার খোঁজ নেন। তিনি মেয়েটির হাতে হালকা টোকা দিয়ে জানতে চান, সবকিছু ঠিক আছে কি না। আচমকা হলিউড তারকাকে সামনে দেখে রীতিমতো চমকে যান ওই কর্মী। তিনি টম ক্রুজকে জানান যে, তার মন খারাপ নয়; বরং তিনি কেবল আপন মনে ফোনে 'ডুমস্ক্রলিং' করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে টম হাসিমুখে তার সাথে 'ফিস্ট বাম্প' করেন এবং সে যাত্রায় বিদায় নেন। তবে চমকের এখানেই শেষ ছিল না; কিছুক্ষণ পর তিনি আবারও ফিরে আসেন এবং ওই কর্মীর সাথে হাসিমুখে একটি ছবিও তোলেন। পরবর্তীতে ক্লেমেন্টিনা নিজেই টিকটকে এই পুরো ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেন, যা মুহূর্তেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা টম ক্রুজের এই সাধারণ অথচ মানবিক আচরণের ব্যাপক প্রশংসা করছেন। ব্যস্ত জীবনে একজন অপরিচিত মানুষের প্রতি এমন ছোট একটি সহানুভূতির মুহূর্ত যে কারও দিনটি কতটা সুন্দর করে দিতে পারে, এই ঘটনাই যেন তার প্রমাণ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৮ হাজারের বেশি ধ র্ষণের অভিযোগ, শীর্ষে ইউনিভার্সিটি অব উটাহ
হ্যালোউইনে নিউইয়র্কের ১৬০ সড়ক গাড়িমুক্ত, শিশুদের জন্য থাকছে মিষ্টি, খেলাধুলা ও নানা বিনোদন