৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শ'ঙ্কায় ফ্রান্স, সরানো হলো দুই লাখের বেশি মানুষ
প্রচণ্ড খরা, শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র দাবদাহের কারণে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ফ্রান্সের দাবানল পরিস্থিতি। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত কাজ করছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এর মধ্যেই আবহাওয়া বিভাগ নতুন তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফরাসি আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ বড় তাপপ্রবাহ শুরু হতে যাচ্ছে, যার ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম, শুষ্ক গাছপালা ও বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
ফরাসি ফায়ার ফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র ব্রোকার্দি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ ধরনের অসম লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চারজন অগ্নিনির্বাপক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
শুধু জিরোন্দ এলাকাতেই বর্তমানে প্রায় দুই হাজার দমকলকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার একদিনেই ওই এলাকায় ১৪টি নতুন স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
দাবানলের কারণে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনে অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী স্পেন ও পর্তুগালের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও দাবানলের প্রভাব দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ঐতিহাসিক ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত বোর্দো অঞ্চল। আগুন শহরের কাছাকাছি প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছালেও এখনো সরাসরি নগর এলাকায় প্রবেশ করেনি। তবে পুরো অঞ্চল ঘন ধোঁয়া ও ছাইয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
দূষিত বাতাসের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন। দাবানলের প্রভাবে পর্যটন কমে যাওয়ায় রেস্তোরাঁ ব্যবসা ও ওয়াইন শিল্পও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, দাবানলের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণ রয়েছে এমন অভিযোগে ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বার অঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং ঘরের ভেতরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বাতাসের গতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দাবানল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের সম্পদের বিশাল ফারাক নিয়ে চলমান একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত সহজে মেনে নেয়নি অভিযোগকারী ওয়াচডগ গ্রুপ 'ন্যাশনাল লিগ্যাল অ্যান্ড পলিসি সেন্টার'। বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তারা এখন হাউজ এথিকস কমিটির কাছে ইলহান ওমরের বিস্তারিত আর্থিক নথিপত্র তলবের জোর দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি 'অফিস অব কংগ্রেশনাল কন্ডাক্ট' (ওসিসি) ৫-১ ভোটে এই তদন্ত খারিজ করার সুপারিশ করলে নতুন করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গত বছর নিজের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ডলার উল্লেখ করলেও এ বছর তা অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে ১ লাখ ডলারের নিচে দেখিয়েছেন ইলহান ওমর। তার সবশেষ নথিতে দাবি করা হয়েছে, ওয়াইনারি সাম্রাজ্য ও রোজ লেক ক্যাপিটাল ভেঞ্চার ফার্ম থেকে তার স্বামী টিম মাইনেটের আয় ছিল মাত্র ২০০ ডলার। সম্পদের এই বিশাল অসামঞ্জস্যের জন্য হিসাবরক্ষকের ভুলকে দায়ী করেছে ওমরের কার্যালয়। ওমরের মুখপাত্র জ্যাকলিন রজার্স জানান, শুরু থেকেই তারা স্পষ্ট করে বলেছেন যে কংগ্রেসওম্যান কোনো মিলিয়নেয়ার নন। তবে ওয়াচডগ গ্রুপের পল কামেনার এই অজুহাতকে 'হাস্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, হিসাবরক্ষক এতোটাই বোকা যে দায়ের কথা চিন্তা না করেই সম্পদের মূল্যায়ন করেছেন—এমন দাবি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। আগামী নির্বাচনের আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৬০ দিনের 'ব্ল্যাকআউট পিরিয়ড'-এর পরপরই তদন্ত বাতিলের এই সুপারিশ সামনে আসে। নিয়মানুযায়ী এই সময়ে এথিকস কমিটি নতুন করে কোনো তদন্ত শুরু করতে পারে না। পল কামেনার হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমারেরও সমালোচনা করেছেন; কারণ, কমার প্রথমে ওমরের স্বামী টিম মাইনেটকে তলব করার কথা বললেও পরে তা এথিকস প্যানেলের ওপর ছেড়ে দেন। অবশ্য ওসিসি-এর এই সুপারিশ হাউজ এথিকস কমিটির জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তিন জন রিপাবলিকান ও তিন জন ডেমোক্র্যাট সদস্য নিয়ে সমানভাবে বিভক্ত এই কমিটি নির্বাচনের পর তদন্তের বিষয়ে তাদের নিজস্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
১৫ সেপ্টেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের হার্ভার্ডের জরুরি পরামর্শ
মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্ম, হাসপাতালে ৩৩৪ দিনের লড়াই শেষে বাড়ি ফিরল ‘মিরাকেল বেবি’
মেরিল্যান্ডে বসছে সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা, ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঘিরে জমজমাট প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যারিফ থেকে সরকারের আয় ফেরত দেওয়া অর্থের চেয়ে বেশি হয়েছে। আগস্টে সরকার ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ট্যারিফ ফেরত দিয়েছে, বিপরীতে ট্যারিফ থেকে আয় হয়েছে ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এপ্রিলের পর আগস্টেই প্রথমবারের মতো ট্যারিফ আয়ের হিসাবে ফেরতের চেয়ে বেশি অর্থ জমা পড়েছে। এতে আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলারের ট্যারিফ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগোচ্ছে। শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ট্যারিফ ফেরতের পরিমাণ আগের দুই মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুলাইয়ে সরকার ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ট্যারিফ ফেরত দিয়েছিল। এর আগে জুনে ফেরতের পরিমাণ ছিল ৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ফলে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ট্যারিফ ফেরতের মাসিক পরিমাণ দ্রুত কমেছে। চলতি বছরের শুরুতে আদালতের সিদ্ধান্তের পর বড় অঙ্কের এই অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বিস্তৃত ট্যারিফের একটি বড় অংশ বাতিল করে। এসব ট্যারিফ ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের সিদ্ধান্তের পর প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুদ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ আসে। সরকার এপ্রিলের শেষ দিকে ট্যারিফ ফেরতের জন্য একটি বিশেষ অনলাইন ব্যবস্থা চালু করে। এরপর মে মাস থেকে ট্যারিফ ফেরত দেওয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সরকার মোট প্রায় ১১৫ বিলিয়ন ডলার ট্যারিফ ফেরত দিয়েছে। এর বড় অংশই অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে আদায় করা ট্যারিফ ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে দিতে ব্যয় হয়েছে। আগস্টে ট্যারিফ আয় ফেরতের চেয়ে বেশি হলেও চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক ট্যারিফ আয়ের চিত্র এখনও আগের তুলনায় দুর্বল। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মোট ১৬৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার নিট ট্যারিফ আয় করেছে। মাসিক হিসাবে ট্যারিফ আয় গত বছরের অক্টোবরে সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। এরপর তা কমতে থাকে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্যারিফ আয় কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। টানা পাঁচ মাস ধরে প্রতি মাসে ট্যারিফ থেকে ২০ বিলিয়ন থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে অর্থ এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর ট্যারিফ আয় কিছু সময় প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও এখন আবার তা বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে ট্যারিফ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতিও বড় আকার ধারণ করেছে। ২০২৬ অর্থবছর শেষ হতে আর মাত্র এক মাস বাকি থাকতেই সরকারের বাজেট ঘাটতি ১ দশমিক ৯৬৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। জুলাইয়ের শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৭৯৯ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসে ঘাটতি ১৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেড়েছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস সম্প্রতি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি প্রায় ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটি চলতি বছরের শুরুতে তাদের ঘাটতির পূর্বাভাস প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়েছিল। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে প্রত্যাশার তুলনায় কম ট্যারিফ আদায়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতের ট্যারিফ আয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যয় করার পরিকল্পনার কথা বলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে প্রস্তাব দিয়েছেন, রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই অর্থ ট্যারিফ থেকে পাওয়া রাজস্বের মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে। তবে এই ধরনের অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে ট্যারিফ আয় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের মোট ব্যয় প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মোট জাতীয় ঋণের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে আগস্টের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া ট্যারিফ ফেরতের চাপ ধীরে ধীরে কমছে। মাসিক ফেরতের পরিমাণ জুনের ৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে আগস্টে ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ট্যারিফ থেকে সরকারের আয় ফেরতের চেয়ে বেশি হওয়ায় এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো এই হিসাবে নিট ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হয়েছে। সূত্র: ইয়াহু ফাইন্যান্স
উল্টে যাওয়া বোটের ওপর রাত কাটিয়ে আলাস্কায় প্রাণে বাঁচল ১৫ বছরের কিশোর
এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে ট্রাম্প বললেন ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’
৩০ বছর পর প্রথমবার ‘স ন্ত্রাসী আদালত’ ব্যবহার করে আফগান নারীকে ডিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই কানাডায় আমেরিকান পণ্য বয়কটের প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির অনেক ক্রেতা এখন সম্ভব হলে আমেরিকান পণ্য না কিনে কানাডার স্থানীয় পণ্য বেছে নিচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে সুপারমার্কেটগুলোতেও। ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দোকানগুলো কানাডার পণ্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কানাডার অন্টারিওর স্বাধীন মুদি দোকান প্রতিষ্ঠান ভিন্সেস মার্কেটের প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো ত্রিমার্কি জানান, আমেরিকান পণ্য রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে সম্প্রতি অনেক ক্রেতা তাদের কাছে ই-মেইল ও মন্তব্য পাঠিয়েছেন। এর জবাবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাদের দোকানের বেশিরভাগ কৃষিপণ্যই কানাডায় উৎপাদিত। ত্রিমার্কির চারটি দোকানে এখন প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষিপণ্যই কানাডার। আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা স্ট্রবেরির পরিবর্তে তারা এখন কুইবেক থেকে স্ট্রবেরি সংগ্রহ করছেন। তবে স্থানীয় পণ্য সংগ্রহের কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিজ্ঞাপনের বাজেটও কমাতে হয়েছে। তিনি বলেন, আগে দোকানগুলোকে পণ্যের মান ও দামের মধ্যে ভারসাম্য করতে হতো। এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পণ্যটি কোন দেশের—সেই বিষয়টিও। কানাডার সবচেয়ে বড় খাদ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান লব্লও আগস্টে তাদের ফল ও তাজা খাবারের বিভাগে কানাডিয়ান পণ্য চিহ্নিত করতে ম্যাপল পাতার বড় সাইন আবার চালু করেছে। পাশাপাশি শুল্কের আওতায় পড়া পণ্য চিহ্নিত করতে ‘টি’ ট্যাগও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম মুদি বিক্রেতা মেট্রোও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কানাডার স্থানীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেবে। কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট গ্রোসার্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গ্যারি স্যান্ডস বলেন, কানাডার মানুষের চিন্তাভাবনায় স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্প কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপের পর গত বছরের শুরু থেকেই ‘বাই কানাডিয়ান’ বা কানাডিয়ান পণ্য কেনার আন্দোলন শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর সেই প্রবণতা আরও বেড়েছে। কানাডা বিশ্বের অন্যতম বড় তাজা সবজি আমদানিকারক দেশ। দেশটির তাজা সবজির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী এখনো যুক্তরাষ্ট্র। তবে কানাডার মোট সবজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ জুলাইয়ে কমে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের একই সময়ে এই হার ছিল ৬৯ শতাংশ। কানাডার ফল আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। তবে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কানাডার ব্যবসায়ীরা এখন বিকল্প উৎস খুঁজছেন। টরন্টোর সফটওয়্যার প্রকৌশলী জন অ্যামবার্ড বলেন, তিনি যতটা সম্ভব আমেরিকান পণ্য এড়িয়ে চলছেন এবং কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডকে সমর্থন করছেন। কোনো পণ্য কেনার আগে তিনি লেবেল দেখছেন এবং সেটি কানাডায় তৈরি কি না, তা জানতে অনলাইনেও খোঁজ করছেন। কানাডার শীতকাল দীর্ঘ ও কঠিন হওয়ায় সারা বছর স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কৃষিপণ্য উৎপাদন করা সহজ নয়। এ কারণে এতদিন দেশটির সুপারমার্কেটগুলো শীতের সময়ে গ্রিনহাউসের পণ্য, সংরক্ষিত সবজি কিংবা আমদানির ওপর বেশি নির্ভর করত। আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর একটি। তবে আমেরিকান পণ্য বয়কটের কারণে এখন স্পেন, ব্রাজিল ও হন্ডুরাসের মতো দেশ থেকেও বেশি পণ্য আনছে কিছু কানাডিয়ান দোকান। মাইক ডিন লোকাল গ্রোসারের মালিক গর্ডন ডিন বলেন, নতুন সরবরাহব্যবস্থা তৈরি হয়ে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা আবার সহজে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো সরবরাহব্যবস্থায় ফিরে যাবেন—এমনটা মনে হচ্ছে না। বরং বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের ফলে সরবরাহব্যবস্থা আরও বৈচিত্র্যময় ও নিরাপদ হয়েছে। কানাডা সরকারও স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগ করছে। বিশেষ করে শীতের সময়ে উৎপাদন বাড়াতে গ্রিনহাউস তৈরিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি খাদ্যের মূল্যস্ফীতি কমাতে দেশের অভ্যন্তরে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের আলাদা নিয়মকানুন এবং খাদ্য পরিবহনের কিছু বিধিনিষেধের কারণে দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউনিভার্সিটি অব গেলফের অধ্যাপক মাইক ভন ম্যাসো বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা কমলে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে। কারণ অনেক আমেরিকান পণ্য এখনো অন্যান্য দেশের বিকল্পের তুলনায় সস্তা। তবে তার মতে, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে গেলেও কানাডিয়ানদের আমেরিকান পণ্যের প্রতি আগের নির্ভরতা আর নাও ফিরতে পারে।
আয়ারল্যান্ড এক হবে, দাবি ট্রাম্পের! পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মোড়
ট্রাম্পকে হুতিদের অনুরোধ, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবেন না’