আমেরিকা

৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শ'ঙ্কায় ফ্রান্স, সরানো হলো দুই লাখের বেশি মানুষ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ৮:২৮
দাবানলের দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
দাবানলের দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

প্রচণ্ড খরা, শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র দাবদাহের কারণে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ফ্রান্সের দাবানল পরিস্থিতি। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিরোন্দ বিভাগে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনরাত কাজ করছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী। এর মধ্যেই আবহাওয়া বিভাগ নতুন তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

ফরাসি আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ বড় তাপপ্রবাহ শুরু হতে যাচ্ছে, যার ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম, শুষ্ক গাছপালা ও বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

 

ফরাসি ফায়ার ফাইটার্স ফেডারেশনের মুখপাত্র ব্রোকার্দি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ ধরনের অসম লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চারজন অগ্নিনির্বাপক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

 

শুধু জিরোন্দ এলাকাতেই বর্তমানে প্রায় দুই হাজার দমকলকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার একদিনেই ওই এলাকায় ১৪টি নতুন স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

 

দাবানলের কারণে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনে অন্তত ২৪০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী স্পেন ও পর্তুগালের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও দাবানলের প্রভাব দেখা দিয়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ঐতিহাসিক ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত বোর্দো অঞ্চল। আগুন শহরের কাছাকাছি প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছালেও এখনো সরাসরি নগর এলাকায় প্রবেশ করেনি। তবে পুরো অঞ্চল ঘন ধোঁয়া ও ছাইয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।

 

দূষিত বাতাসের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন। দাবানলের প্রভাবে পর্যটন কমে যাওয়ায় রেস্তোরাঁ ব্যবসা ও ওয়াইন শিল্পও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

 

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, দাবানলের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণ রয়েছে এমন অভিযোগে ৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বার অঞ্চলে আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

 

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং ঘরের ভেতরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বাতাসের গতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দাবানল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
দিন যাচ্ছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিম্ন পর্যায়ে নামছে, নির্বাচনের আগেই চিন্তায় রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ২০২৬ সালে নতুন করে চাপে পড়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক জাতীয় জনমত জরিপে দেখা গেছে, তার অনুমোদন কমে নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বেড়েছে।    নিউজউইক এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছরে Big Data Poll, Fox News, American Research Group, Economist/YouGov এবং Pew Research Center–এর বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং ধারাবাহিকভাবে কমেছে এবং অসন্তুষ্টির হার বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই প্রবণতা রিপাবলিকান পার্টির জন্য ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।    পিউ রিসার্চ সেন্টার–এর মে মাসের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং ৩৪ শতাংশে নেমে আসে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার সক্ষমতা নিয়েও জনমনে নেতিবাচক ধারণা বেড়েছে।    অন্যদিকে ইপসোস–এর মে ও জুনের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং ৩৫ শতাংশের আশপাশে ঘোরাফেরা করেছে। একই জরিপে অধিকাংশ উত্তরদাতা মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   সাম্প্রতিক আরেকটি রয়টার্স জরিপে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধেও জনসমর্থন কমছে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন এবং অধিকাংশেরই অভিযোগ, ট্রাম্প এখনো যুদ্ধের স্পষ্ট লক্ষ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেননি।   এদিকে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আবাসন ব্যয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের দাবি, তার নীতিগুলোর পূর্ণ প্রভাব সামনে আরও স্পষ্ট হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা কমে গেলে তা সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ অর্থনীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, তখন এমন জনমত পরিবর্তন রিপাবলিকানদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ৯:৩৯
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

লিন্ডসে গ্রাহামকে ‘আমেরিকার অনন্য দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিলেন ট্রাম্প

টেক্সাসের রিচার্ডসনে একটি বড় আকারের ব্যাপটিস্ট চার্চ কিনে ইসলামিক স্কুল ও মসজিদ বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে মুসলিম সংগঠন। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় গীর্জা কিনে মসজিদ-মাদরাসা বানাচ্ছেন মুসলিমরা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতকড়া। ছবি:সংগৃহীত

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীর পরিচয় চুরি করে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ আত্মসাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত
পুলিশের ধাওয়ার সময় উল্টে গেলো গাড়ি, আটক চালক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে পুলিশের ধাওয়ার সময় একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ একটি গাড়িকে অনুসরণ করছিল। ধাওয়ার একপর্যায়ে চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়।   দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ চালককে আটক করে। গাড়িটি উল্টে যাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা অপরাধের অভিযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধাওয়ার পরিস্থিতি এবং পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও তদন্ত চলছে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়িটি উল্টে যাওয়ার দৃশ্যটি বেশ আকস্মিক ছিল। তবে এ ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গাড়ি ধাওয়া করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও পুলিশের ধাওয়ার নীতিমালা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ৮:৫২
দাবানলের দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শ'ঙ্কায় ফ্রান্স, সরানো হলো দুই লাখের বেশি মানুষ

বহুজাতিক ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি ইউনিলিভার (Unilever)-এর বিশ্বব্যাপী প্রধান সদরদপ্তর। ছবি:সংগৃহীত

চাকরি হারানোর ভয় কমল,৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির পর ইউনিলিভার কর্মীদের দিল দুই বছরের নিশ্চয়তা

একজন শিশু। ছবি সংগৃহীত

টানা তৃতীয় বছর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষুধার্ত অঙ্গরাজ্য টেক্সাস

দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামকে। শেষকৃত্যে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা জানান। ছবি:সংগৃহীত
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্য, শীর্ষ নেতাদের শ্রদ্ধা

দক্ষিণ ক্যারোলাইনার দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) নিজ অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, কংগ্রেস সদস্য, সামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দিনব্যাপী স্মরণানুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়।    শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতার আগে গ্রাহামের মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে নেওয়া হয়, যেখানে সহকর্মী আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথেড্রালে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শোক বক্তব্য দেন এবং গ্রাহামের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।    স্মরণানুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন, কংগ্রেসের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। গ্রাহাম জীবদ্দশায় ইউক্রেন ও ইসরায়েলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়ায় এই দুই দেশের নেতাদের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।    ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ বিমানযোগে দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় নেওয়া হয়। সেখানকার কলম্বিয়া শহরে জনসাধারণের অংশগ্রহণে আরেকটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নিজ জন্মস্থান পিকেন্স কাউন্টিতে পারিবারিক আয়োজনে তাকে দাফন করা হয়। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সামরিক সম্মান প্রদর্শন এবং যুদ্ধবিমানের বিশেষ উড্ডয়নও ছিল।    লিন্ডসে গ্রাহাম ২০০৩ সাল থেকে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার প্রতিনিধিত্ব করে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে তিনি রিপাবলিকান দলের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক নানা সময় আলোচনায় থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হন।    চলতি মাসের ১১ জুলাই ৭১ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতায় লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারাই শোক প্রকাশ করেন এবং দেশের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে তার দীর্ঘ অবদানের কথা স্মরণ করেন। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ৭:২৪
আইফোন ও ম্যাক । ছবি: সংগৃহীত

আইফোন ও ম্যাক আর কিনতে হবে না, ভাড়ার সুবিধা আনছে অ্যাপল

অভিযুক্ত পুলিশের কাছে আটক। ছবি:সংগৃহীত

স্কুলের বাইরে ৭ ইঞ্চির ছুরি ও পেট্রোলের ক্যানসহ এসাইলাম আবেদন প্রার্থী গ্রেপ্তার

শিশু। ছবি:সংগৃহীত

পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলার সময় কান্না করায় ৩ বছরের ছেলেকে হত্যা

0 Comments