সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পুলিশের ধাওয়ার সময় উল্টে গেলো গাড়ি, আটক চালক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ৮:৫২
ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত
ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে পুলিশের ধাওয়ার সময় একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ একটি গাড়িকে অনুসরণ করছিল। ধাওয়ার একপর্যায়ে চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়।

 

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ চালককে আটক করে। গাড়িটি উল্টে যাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা অপরাধের অভিযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধাওয়ার পরিস্থিতি এবং পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও তদন্ত চলছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়িটি উল্টে যাওয়ার দৃশ্যটি বেশ আকস্মিক ছিল। তবে এ ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গাড়ি ধাওয়া করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও পুলিশের ধাওয়ার নীতিমালা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা না থাকলে গলফে ‘চিট’ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গলফ খেলার সময় তার চারপাশে সিক্রেট সার্ভিসের বিপুলসংখ্যক সদস্য থাকায় তিনি নিয়ম ভাঙার সুযোগ পান না। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে শনিবার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রসিকতা করে বলেন, “আমি চিট করতাম না তা নয়”, কিন্তু এত নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিতে বল সরিয়ে খেলা সম্ভব নয়।   ট্রাম্প জানান, একবার গলফ খেলার সময় তার সঙ্গে প্রায় ২৫০ জন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট পুরো মাঠে ছড়িয়ে ছিলেন। তখন কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি গলফে নিয়ম ভাঙেন কি না। ট্রাম্পের ভাষ্য, এত নিরাপত্তাকর্মী থাকায় বল সরানোর সুযোগই থাকে না। তার এই মন্তব্যে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়।   ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গলফের প্রতি তার আগ্রহের জন্য পরিচিত। একই সঙ্গে গলফে নিয়ম ভাঙার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে রয়েছে। ক্রীড়া লেখক রিক রাইলি ২০১৯ সালে Commander in Cheat নামে একটি বইয়ে ট্রাম্পের গলফ খেলার আচরণ নিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে সেসব অভিযোগকে ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক দিন আগেই ফোর্বস তার গলফ সফর ও সিক্রেট সার্ভিসের ব্যয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম প্রায় ৬০০ দিনের মধ্যে ট্রাম্প প্রায় ১৬৫ দিন নিজের গলফ সম্পত্তিতে কাটিয়েছেন এবং এসব সফরে মোট সময় ১ হাজার ৪০০ ঘণ্টার বেশি হয়েছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য বলেছে, গলফ ক্লাবে ট্রাম্প শুধু খেলেন না; সেখানে বৈঠক, মধ্যাহ্নভোজ ও অন্যান্য সরকারি কাজও করেন।   ফোর্বস আরও দাবি করেছে, ট্রাম্পের ভার্জিনিয়ার গলফ ক্লাবে তিনি সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের জন্য হট ডগ অর্ডার করতেন এবং পরে সেই খাবারের বিল ক্লাব থেকে সিক্রেট সার্ভিসকে দেওয়া হতো। এই তথ্য একজন সাবেক ক্লাব কর্মীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের সম্পদ নিয়ে রহস্য, ৩ কোটি ডলার থেকে ১ লাখে নামার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ওয়াচডগ গ্রুপ

যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের সম্পদ নিয়ে রহস্য, ৩ কোটি ডলার থেকে ১ লাখে নামার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ওয়াচডগ গ্রুপ

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ও থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

১৫ সেপ্টেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের হার্ভার্ডের জরুরি পরামর্শ

হাসপাতালের বেডে গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপ পরে বসে থাকা মিনেসোটার ‘মিরাকেল বেবি’ অ্যাডোনিস। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্ম, হাসপাতালে ৩৩৪ দিনের লড়াই শেষে বাড়ি ফিরল ‘মিরাকেল বেবি’

মেরিল্যান্ডে আয়োজিত রাজ্যের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী ইতালীয় মেলার একটি উৎসবমুখর দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
মেরিল্যান্ডে বসছে সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা, ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঘিরে জমজমাট প্রস্তুতি

মেরিল্যান্ডে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বসছে রাজ্যের সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা। হারফোর্ড কাউন্টির অ্যাবারডিনে রিপকেন স্টেডিয়ামের পার্কিং লটে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে চলছে প্রস্তুতি। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত অ্যাভেনা মেরিল্যান্ড ইতালিয়ান ফেস্টিভ্যালে ২০ হাজারের বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। ১৫টিরও বেশি অঙ্গরাজ্য থেকে দর্শনার্থীরা এই উৎসবে আসবেন বলেও জানানো হয়েছে।   ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে খাঁটি ইতালীয় খাবার, সরাসরি সংগীত পরিবেশনা, কার্নিভ্যাল রাইড ও বিভিন্ন খেলা। পাশাপাশি থাকছে কারুশিল্পের পণ্য কেনাকাটা, রান্নার প্রদর্শনী, ওয়াইন টেস্টিং, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী এবং আতশবাজি।   অ্যাবারডিনে এবার দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। শহরের মেয়র প্যাট্রিক ম্যাকগ্র্যাডি বড় এই আয়োজনকে স্থানীয় ব্যবসাগুলোর জন্য ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, অ্যাবারডিনের ভৌগোলিক অবস্থান দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হওয়ায় মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পেনসিলভানিয়া, ডেলাওয়্যার এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে মানুষ সহজেই এখানে আসতে পারেন।   মেলাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসাগুলোও প্রস্তুতি নিচ্ছে। আয়োজকদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। অ্যাবারডিনের একটি ট্রপিক্যাল স্মুদি ক্যাফের স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এরিক মেটজ জানিয়েছেন, বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে তারা প্রস্তুত। মেলায় আসা মানুষদের জন্য নিজেদের পার্কিং সুবিধাও ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   বেল এয়ারের ব্রে অ্যান্ড এম বুটিকের মালিক অ্যাশলি ওউয়েন্সও এবার মেলায় বিক্রেতা হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি এবার আগের চেয়ে বড় পরিসরে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর দোকান থেকে মেলার জন্য বিশেষ কিছু ইতালীয় পণ্যও আনা হবে, যেগুলো সাধারণ সময়ে দোকানে পাওয়া যায় না। গতবার এসব বিশেষ পণ্য পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় এবার অতিরিক্ত পণ্য মজুত করা হচ্ছে।   শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় মেলার কার্যক্রম শুরু হবে এবং চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা এবং রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে।   মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এক দিনের সাধারণ প্রবেশ টিকিটের মূল্য ১২ ডলার। তবে ১২ বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা একজন প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে। অনলাইনে অথবা মেলাস্থলে সরাসরি টিকিট কেনা যাবে।   এই আয়োজনের সঙ্গে দাতব্য কার্যক্রমও যুক্ত রয়েছে। মেলা থেকে পাওয়া নিট অর্থ সোসাইটি অব ইতালিয়ান আমেরিকান বিজনেসমেনের সহায়তায় পরিচালিত আঞ্চলিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যয় করা হবে। আয়োজকদের সংগঠনটি মেরিল্যান্ডে ইতালীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমে সহায়তা করার সঙ্গে যুক্ত।   মেরিল্যান্ডের পর্যটন বিভাগের তথ্যেও ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর অ্যাবারডিনে এই ইতালীয় মেলার আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকেরা বড় দর্শকসমাগমের প্রত্যাশা করছেন এবং তিন দিনের আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা ও বিক্রেতাদের মধ্যেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১০:৩৩
একটি জনসভায় বিভিন্ন দেশের ওপর ট্যারিফ বা শুল্কের তালিকা প্রদর্শন করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যারিফ আয় ফেরতের চেয়ে বেশি, আগস্টে ফেরত ১০.৫ বিলিয়ন ডলার

আলাস্কার উপকূলে বরফশীতল পানিতে উল্টে যাওয়া বোটের ওপর বসে সাহায্যের অপেক্ষা করছে এক কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

উল্টে যাওয়া বোটের ওপর রাত কাটিয়ে আলাস্কায় প্রাণে বাঁচল ১৫ বছরের কিশোর

এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে ট্রাম্প বললেন ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’

৩০ বছর পর প্রথমবার ‘স ন্ত্রাসী আদালত’ ব্যবহার করে আফগান নারীকে ডিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের
৩০ বছর পর প্রথমবার ‘স ন্ত্রাসী আদালত’ ব্যবহার করে আফগান নারীকে ডিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ বছর আগে তৈরি করা বিশেষ ‘এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’ প্রথমবারের মতো ব্যবহার করে এক আফগান নারীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী নাজিরা হাজি জাদাকে ‘এলিয়েন টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে ডিপোর্ট করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। তবে তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত হননি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনায় পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করেছিলেন।   নাজিরা হাজি জাদা টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে বসবাসকারী যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয় ১৫ জুলাই ২০২৬। এর আগে জুলাই মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৩০ জুলাই বিশেষ আদালতের প্রথম শুনানিতে হাজির করা হয়। এই আদালত ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলেও এরপর প্রায় তিন দশক ধরে কোনো মামলায় ব্যবহার করা হয়নি।   এই বিশেষ আদালত তৈরির উদ্দেশ্য ছিল এমন অ-মার্কিন নাগরিকদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা, যাদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে এবং সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়। প্রচলিত অভিবাসন আইনের আওতায় কাউকে বহিষ্কার করতে যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, এই আদালতে তার কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। বিশেষ করে সরকারের কাছে থাকা গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পুরোপুরি অভিযুক্ত ব্যক্তির সামনে প্রকাশ না করেই তা ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।   নাজিরার মামলায় তাঁর আইনজীবীরা শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত শ্রেণিবদ্ধ প্রমাণ তাঁরা পুরোপুরি দেখতে বা পরীক্ষা করতে পারছেন না। ফলে নাজিরার বিরুদ্ধে সরকারের অভিযোগ যথাযথভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। প্রতিরক্ষা পক্ষ আদালতের এই প্রক্রিয়াকে যথাযথ আইনি অধিকার বা ‘ডিউ প্রসেস’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিরা তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমাদ তাওহেদির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আইএস-অনুপ্রাণিত হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা করেছিলেন। পরিকল্পনাটি ছিল ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের দিন ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলা চালানো। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে ও জামাতা পরে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ এবং তাওহেদি ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। তদন্তকারীদের অভিযোগ ছিল, তারা নির্বাচনের দিন হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। আবদুল্লাহ তখন ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। পরে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং ১৫ বছরের কারাদণ্ড পান। তাঁর জামাতা তাওহেদিও আইএসকে সহায়তার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র সংগ্রহসংক্রান্ত সন্ত্রাসবাদী অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   নাজিরার বিরুদ্ধে অবশ্য কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অভিবাসন ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত এই বিশেষ আদালতের মাধ্যমে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সরকারের হাতে থাকা প্রমাণের মধ্যে প্রায় অর্ধ টেরাবাইট নথি নাজিরার আইনজীবীদের দেওয়া হয়েছিল। তবে মামলার সঙ্গে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যও জড়িত ছিল, যা পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।   মামলাটি শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে যায়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, নাজিরা গত আগস্টে নিজেকে ‘এলিয়েন টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং আপিলের অধিকারও ছেড়ে দেন। এরপর বিশেষ আদালতের প্রধান বিচারক জোয়ান এন. এরিকসেন ২০ আগস্ট তাঁর বহিষ্কারের আদেশ অনুমোদন করেন। আদেশটি নাজিরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পৌঁছানোর পর ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।   নাজিরার আইনজীবীরা স্পষ্ট করেছেন, তাঁর বহিষ্কারে সম্মতি দেওয়াকে এই বিশেষ আদালতের বৈধতার প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের এমন একটি আদালতের সামনে হাজির করা হচ্ছে যেখানে সরকারের ব্যবহৃত সব প্রমাণ তাদের বা তাদের আইনজীবীদের দেখানো হয় না। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে এই আদালতের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠলে এটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।   অন্যদিকে, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা প্রশ্রয় দেয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা উচিত নয়। তাঁর মতে, এই প্রথম মামলাটি দেখিয়েছে যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় সব আইনি উপায় ব্যবহার করতে পারে।   নাজিরার মামলার মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশক নিষ্ক্রিয় থাকা এই বিশেষ আদালত কার্যত প্রথমবারের মতো ব্যবহার হলো। তবে এই আদালত ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মামলাটি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালতের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও গোপন প্রমাণ ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে যে দীর্ঘ আইনি লড়াই হতে পারত, সেটিও আপাতত হয়নি।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৩:৫৮
আমেরিকান পণ্য বয়কটে কানাডার সুপারমার্কেটে বদলে যাচ্ছে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা

আমেরিকান পণ্য বয়কট করছেন কানাডিয়ানরা, নতুন দেশ থেকে পণ্য আনছে সুপারমার্কেটগুলো

আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে ট্রাম্প, মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় পুরোনো বিতর্ক

আয়ারল্যান্ড এক হবে, দাবি ট্রাম্পের! পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মোড়

হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধের দাবি ট্রাম্পের

ট্রাম্পকে হুতিদের অনুরোধ, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবেন না’

0 Comments