আমেরিকা

জর্জিয়ায় সরাসরি এফবিআই অফিসে গিয়ে গোয়েন্দাগিরি শিখল শিক্ষার্থীরা

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৯:৪০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একদল হাই স্কুল শিক্ষার্থীর জন্য ক্লাসরুমের সাধারণ একটি দিন মুহূর্তেই রূপ নিল অপরাধ তদন্তের এক রোমাঞ্চকর বাস্তব অভিজ্ঞতায়। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর বার্ষিক 'টিন একাডেমি'র অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এই অনন্য সুযোগ লাভ করে। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস আটলান্টার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্জিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এফবিআই-এর আটলান্টা ফিল্ড অফিস পরিদর্শন করে। সেখানে তারা গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, অপরাধের আলামত সংগ্রহসহ এফবিআই-এর বিভিন্ন পেশা ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করে। পরবর্তীতে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদেরকে কৃত্রিম অপরাধের দৃশ্যপট বা মক ইনভেস্টিগেশন সিনারিওতে যুক্ত করে বাস্তব তদন্তের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

 

আরবিয়া মাউন্টেন হাই স্কুলের সদ্য স্নাতক পাস করা শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল ভিল জানান, এই অভিজ্ঞতা তার সামনে এমন কিছু ক্যারিয়ারের সুযোগ উন্মোচন করেছে যা তিনি আগে কখনো ভাবেননি। তিনি বলেন, "আমি মিডিয়া ও ফিল্মিংয়ের প্রতি খুব আগ্রহী এবং আজ বুঝতে পারলাম যে এফবিআই-তেও এই লাইনে কাজ করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।" ড্যানিয়েল আগামী শরতে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ক্রিমিনাল জাস্টিস এবং ফিল্ম বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করতে যাচ্ছেন। একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ হিসেবে এফবিআই-এর মতো জায়গায় এমন সুযোগ পেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

টিফ কাউন্টি হাই স্কুলের আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী গ্রেটা কোয়ার্সি জানান, ফরেনসিক ক্লাসের প্রতি আগ্রহই তাকে অপরাধের দৃশ্যপট তদন্তের (ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন) দিকে টেনে এনেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর এই যুগে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে দূরদর্শী গ্রেটা বলেন, "এআই-এর যেভাবে উত্থান হচ্ছে, তাতে আমি এমন একটি পেশা বেছে নিতে চেয়েছিলাম যেখানে আমাকে অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে না। এআই কখনো মানুষকে মানসিক স্বস্তি বা নিরাপত্তা দিতে পারে না, যা একজন মানুষ পারে।"

 

এফবিআই-এর কমিউনিটি আউটরিচ স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ফোরম্যান বলেন, অনেক শিক্ষার্থীই মনে করে এফবিআই মানেই শুধু স্পেশাল এজেন্টদের দল। কিন্তু এই একাডেমির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যুরোর মূল লক্ষ্যকে সচল রাখতে পর্দার আড়ালে যে আরও অসংখ্য পেশাদার মানুষ কাজ করে, সেই বিশাল কর্মক্ষেত্রের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

 

এফবিআই প্রতি বছরই এই টিন একাডেমির আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে জর্জিয়ার হাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এফবিআই-এর ভেতরের কর্মপরিবেশ কাছ থেকে দেখার এবং দেশের সুরক্ষায় বিভিন্ন আকর্ষণীয় পেশা বেছে নেওয়ার পথ তৈরি হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর হামলায় ২ শিক্ষক আহত

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের হারফোর্ড কাউন্টিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (এলিমেন্টারি স্কুল) এক শিক্ষার্থীর হামলায় দুই শিক্ষক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্কুল ছুটি হওয়ার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বাল্টিমোরের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, হারফোর্ড কাউন্টির হাভরে ডি গ্রেস এলাকার 'রয়-উইলিয়ামস এলিমেন্টারি স্কুল'-এ এক শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষকের মধ্যে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত কাউন্টি শেরিফ অফিসের ডেপুটিরা (পুলিশ সদস্য) ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এই হামলায় আহত দুই শিক্ষকের আঘাত অবশ্য গুরুতর বা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   শেরিফ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সহায়তায় ওই শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে আটকে বা হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় অন্য কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। মারামারির ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো স্কুল সাময়িকভাবে লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকস্মিক এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মনে যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব বা ট্রমা তৈরি না হয়, সেজন্য বুধবার (১৭ জুন) স্কুলে অতিরিক্ত কাউন্সেলিং বা মানসিক পরামর্শ সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১০:৩৫
ছবি: সংগৃহীত

ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে সিগারেট চোরাচালান, আমেরিকায় এক ব্যক্তির জেল ও জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় সরাসরি এফবিআই অফিসে গিয়ে গোয়েন্দাগিরি শিখল শিক্ষার্থীরা

ছবি: স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে প্রাইভেট বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১ আহত আর ৫

ছবি: সংগৃহীত
তদন্তের মুখে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, আলোচনায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং তার স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউজমের আনুমানিক ৩০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ ও ব্যবসায়িক সংযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে কর সংক্রান্ত বিষয়, সাবেক সহযোগীদের ভূমিকা এবং রাজ্য প্রশাসনের কিছু কর্মীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে।   মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এবং দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার একাধিক হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস অ্যাটর্নি অফিস এই তদন্ত পরিচালনা করছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন গভর্নর নিউজম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এফবিআই এবং ডিওজে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনীতিতে প্রবেশের আগেই গ্যাভিন নিউজম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০০৪ সালে সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র পদে নির্বাচন করার সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার। এই সম্পদের বড় অংশ আসে ওয়াইন ও হসপিটালিটি ব্যবসা থেকে।   তার ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু হয় প্লাম্পজ্যাক (PlumpJack) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে, যা তিনি গর্ডন গেটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে তোলেন। বিলি গেটির সঙ্গে অংশীদারিত্বে তিনি বালবোয়া ক্যাফে এবং প্লাম্পজ্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এই ব্যবসা ওয়াইনারি, রেস্তোরাঁ এবং হোটেল খাতে বিস্তৃত হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ব্যবসাগুলো সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ে। নিউজম দম্পতির মালিকানায় ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ার ওকসে ১২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি রয়েছে। এটি ২০১৮ সালে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়, যার বড় অংশ ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল।   পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শেষ দিকে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টির কেন্টফিল্ড এলাকায় ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের একটি বাড়ি কেনেন। পরিবারটি তাদের চার সন্তানের শিক্ষার সুবিধার্থে এই এলাকায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। গ্যাভিন নিউজম একাধিক বই লিখেছেন। তার সাম্প্রতিক আত্মজীবনী “ইয়াং ম্যান ইন আ হারি” থেকে তিনি এক লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি তার নিজের বই প্রচারের জন্য প্রায় ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, বই প্রকাশনা ও রয়্যালটি থেকে তার আয় এক লাখ ডলারের বেশি। তবে সরকারি দায়িত্বে থাকার কারণে তার পডকাস্ট থেকে কোনো আয় হয়নি।   তদন্তে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে জেনিফার সিবেল নিউজমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আয় কাঠামোর ওপর। তিনি “রিপ্রেজেন্টেশন প্রজেক্ট” নামের একটি নারীবাদী অলাভজনক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, যেখানে তার বার্ষিক আয় এক লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি। এছাড়া তিনি “গার্লস ক্লাব এন্টারটেইনমেন্ট” নামের একটি মিডিয়া প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানটি তার নন-প্রফিট সংস্থা থেকে বার্ষিক প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অর্থ পেয়ে থাকে।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিউজম “ক্যালিফোর্নিয়া পার্টনারস প্রজেক্ট” নামের একটি দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অনুদান প্রবাহে সহায়তা করেছেন। এসব অর্থ তার স্ত্রীর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সঙ্গে ওভারল্যাপ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আর্থিক কার্যক্রম আইনগতভাবে বৈধ হলেও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে নিউসম এবং তার স্ত্রী উভয়েই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। গভর্নর নিউজম অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই তদন্ত ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৫:৪৩
ছবি: সংগৃহীত

শোকাহতদের টার্গেট করে দীর্ঘদিনের প্রতারণা, টেক্সাস দম্পতির বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের মিশ্র চিত্র জর্জিয়া নির্বাচনে, রিপাবলিকান রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ‘রেন্ট ফ্রিজ’ দাবিতে বিক্ষোভ, ২৪ লাখ ভাড়াটিয়ার জন্য ভাড়া না বাড়ানোর আহ্বান

হোয়াইট হাউসে ইউএফসি ইভেন্টে হামলার ছক ভেস্তে দিল এফবিআই, পাঁচজন গ্রেপ্তার
হোয়াইট হাউসে ইউএফসি ইভেন্টে হামলার ছক ভেস্তে দিল এফবিআই, পাঁচজন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপ্রচারিত ইউএফসি (আল্টিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ) ইভেন্টকে ঘিরে পরিকল্পিত বড় ধরনের হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এ ঘটনায় চারটি অঙ্গরাজ্য থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বহুস্তরীয় হামলার পরিকল্পনা করেছিল। প্রথম ধাপে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশের ভবনগুলোতে আঘাত হানার পরিকল্পনা ছিল। এরপর বিশৃঙ্খলার মধ্যে আতঙ্কিত জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো এবং স্নাইপারদের সামনে ঠেলে দেওয়ার কৌশল নির্ধারণ করা হয়। শেষ ধাপে হোয়াইট হাউসের প্রধান ফটকে হামলা চালানোরও পরিকল্পনা ছিল তাদের।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ওহাইওর ১৯ বছর বয়সী টাইসেন সি প্রোপার, ক্যালিফোর্নিয়ার ব্রায়ান ওমর রোয়া (২৪) ও মাইকেল অ্যালান থমাস (৩২), মিসৌরির ড্যানিয়েল কে এস্ক্রিজ (৩২) এবং নেব্রাস্কার আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজ (৩১)। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। যদিও তাদের সবাই ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত হয় টাইসেন প্রোপারকে কেন্দ্র করে। গত ১০ জুন তার মা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ফোন করে জানান, ছেলে অস্বাভাবিকভাবে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং অনলাইনে সাবেক সামরিক সদস্য ও ধর্মভিত্তিক একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে—যা তাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়।   এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা নিজেদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে দেখালেও তারা বিশ্বাস করত যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে এবং বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে নতুন কাঠামো গড়া প্রয়োজন। সরকারি দুর্নীতি, আলোচিত এপস্টাইন ফাইলস, ডেটা সেন্টারের কারণে জলসংকটসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।   তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রথমে টিকটকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ শুরু হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তারা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ ‘সিগন্যাল’-এ ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়। ডিওজের দাবি, আব্রাহাম আলভারেজ হামলার সমন্বয় এবং ড্রোন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তারা ওয়াশিংটনের মানচিত্রে সম্ভাব্য স্নাইপার অবস্থান, ড্রোন উড্ডয়নের স্থান এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদানও করেছিল।   এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, হামলা কার্যকর হওয়ার আগেই তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি সিক্রেট সার্ভিসের উপপরিচালক ম্যাট কুইন।   এদিকে জি-৭ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই শোনেননি।   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে রোববার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে ‘দ্য ক্ল’ নামে একটি উন্মুক্ত মঞ্চে ইউএফসির বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমন্ত্রিত প্রায় ৪ হাজার ৩০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন, আর আশপাশে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।   দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে। এছাড়া টাইসেন প্রোপারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সহিংসতার ষড়যন্ত্রের অতিরিক্ত অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ জুন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ২:১
ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু: যে ঘটনায় স্তব্ধ হয়েছিল পুরো যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের ইউএফসি আয়োজনকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও স্নাইপার হামলার পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার দুই ক্যালিফোর্নিয়া বাসিন্দা

ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাটিক লেফটেন্যান্ট গভর্নর প্রাইমারিতে হেরে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ পার্কস

0 Comments