কসমেটিক সার্জারি করাতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক নারী পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু, মা-হারা হলো ৩ শিশু
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা ডোমিনিকান রিপাবলিকে স্তনের ইমপ্লান্ট অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর জটিলতায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা বা চিকিৎসাগত ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।
মৃত কর্মকর্তা রেবেকা ডি পাউলা (৩১) নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার ৪৬তম প্রিসিঙ্কটে কর্মরত ছিলেন। মাত্র দেড় বছরের কিছু বেশি সময় আগে তিনি এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে দায়িত্বনিষ্ঠা ও কমিউনিটির প্রতি অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘অফিসার অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট এবং ডোমিনিকান সংবাদমাধ্যম নোটিসিয়াস সিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোমিনিকান রিপাবলিকের রাজধানী সান্তো ডোমিঙ্গোর একটি ক্লিনিকে স্তনের ইমপ্লান্ট অপসারণের কসমেটিক অস্ত্রোপচার করান রেবেকা ডি পাউলা। অস্ত্রোপচারের পর তিনি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
রেবেকার মা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, মেয়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন এ খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ক্লিনিকে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার মেয়ে ইতোমধ্যেই মারা গেছেন।
এনওয়াইপিডির পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্যাট্রিক হেন্ড্রি এক বিবৃতিতে বলেন, “মাত্র ১৮ মাসের কর্মজীবন শেষে দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় আমাদের সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তা রেবেকা ডি পাউলাকে হারাতে হয়েছে। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য আমরা সবার কাছে প্রার্থনা কামনা করছি।”
রেবেকার প্রশিক্ষক ও অবসরপ্রাপ্ত এনওয়াইপিডি প্রশিক্ষক ডেভিড মারমল সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইতিবাচক ও আন্তরিক একজন মানুষ। তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল, কিন্তু সেটি অকালেই থেমে গেল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন সন্তানের জননী রেবেকা ডি পাউলা পুলিশি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বামীর সঙ্গে ধর্মীয় কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন এবং একজন পাস্টর হিসেবে মানুষের সেবা করতেন।
বর্তমানে তার মরদেহ ডোমিনিকান রিপাবলিকের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্সেসে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হবে।
এদিকে তার পরিবার ডোমিনিকান রিপাবলিকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় বা পরবর্তী চিকিৎসায় কোনো ধরনের চিকিৎসাগত অবহেলা বা ভুল ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হোক।
মার্কিন প্লাস্টিক সার্জনদের সংগঠন আমেরিকান সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জনসের তথ্য অনুযায়ী, স্তনের ইমপ্লান্ট অপসারণের অস্ত্রোপচার সাধারণত পূর্বের স্তন সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচার বা পুনর্গঠন-সংক্রান্ত ইমপ্লান্ট অপসারণের জন্য করা হয়। তবে এ ধরনের অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ, রক্ত জমাট বাঁধা, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতা, শরীরে তরল জমা এবং রক্তক্ষরণের মতো ঝুঁকি থাকতে পারে।
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ডোমিনিকান রিপাবলিকে কসমেটিক সার্জারি-সংক্রান্ত জটিলতায় অন্তত ৯৩ জন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে দেশটিতে চিকিৎসা-ভ্রমণ এবং সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচারের নিরাপত্তা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা কর্মকর্তা অ্যালিসিয়া স্টোনও কলম্বিয়ায় বিউটি সার্জারির পর জটিলতায় মারা যান। সাম্প্রতিক এ ঘটনাও বিদেশে কসমেটিক সার্জারির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে এনওয়াইপিডির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুতে জড়িত এক পলাতক ট্রাকচালককে উটাহ অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৩০ বছর বয়সী চমকৌর সিং নামের ওই ভারতীয় নাগরিককে গত ১ সেপ্টেম্বর মোয়াব পুলিশ স্পিড লিমিট অমান্য করার কারণে আটক করে। পুলিশ জানায়, ৩০ মাইল বেগের রাস্তায় তিনি ৫০ মাইল বেগে সেমি-ট্রাক চালাচ্ছিলেন। তাকে থামানোর পর পুলিশ তার ক্যালিফোর্নিয়ার কমার্শিয়াল ড্রাইভিং লাইসেন্স (সিডিএল) চেক করে জানতে পারে যে, গত ৪ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল তার বিরুদ্ধে নরহত্যার (ভেহিকুলার ম্যানস্লটার) অভিযোগে জামিন অযোগ্য একটি দেশব্যাপী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে গ্র্যান্ড কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে এবং তার ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) মতে, সিং একজন ভারতীয় নাগরিক যিনি অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। উটাহতে গ্রেপ্তারের পরদিন আইসিই তার বিরুদ্ধে একটি অভিবাসন পরোয়ানা জারি করে। ডিএইচএস জানিয়েছে, গত ২৯ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার অন্টারিওতে ওই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল যখন আগের একটি দুর্ঘটনার কাজ করছিল, তখন ধীরগতির লেনে চলা একটি সেমি-ট্রাক পিছন থেকে একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এতে একজন নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হন। ট্রাকটি এরপর অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে দ্বিতীয় আরেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ভয়াবহ সেই ঘটনায় মোট সাতটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এমন গুরুতর অপরাধের পরও ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সিংকে একটি কমার্শিয়াল ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করেছিল, যা এখনও সক্রিয় রয়েছে। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও তার বিরুদ্ধে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এবং ভুল লেনে গাড়ি চালানোর মতো তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। এই ঘটনার পর ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের 'স্যাংচুয়ারি' নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ভারত ছেড়ে বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে ২০২১ সালের আগস্টে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন সিং।
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত রিপাবলিকানরা, সন্দিহান ভোটাররা
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুয়া নাগরিকত্বে ৩০ বছর সামরিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী
২১ বছরের নিচে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক: মার্কিন বিচার বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লাম্পকিন কাউন্টিতে একটি স্কুল বাসের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে হাইল্যান্ড ট্রেস অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের নামানোর সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, নিয়ম ভেঙে বাসে প্রবেশ করা এবং চালকের কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কট্রেল এলিমেন্টারি স্কুল থেকে ছেড়ে আসা ২২-৩৬ নম্বর বাসে যাত্রা শুরুর আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা চিৎকার, মারামারি ও জিনিসপত্র ছুড়ে বিশৃঙ্খলা করছিল। বাসের চালক ছিলেন একজন বদলি কর্মী, যিনি ওই রুটে নতুন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তার নিয়ম মানতে বাধ্য করতে তাকে পথিমধ্যে বেশ কয়েকবার বাস থামাতে হয়েছিল। বাসটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের প্রথম স্টপেজে পৌঁছালে, দ্বিতীয় স্টপেজের এক শিক্ষার্থী নেমে পড়ে। চালক তাকে বাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে সেখানে উপস্থিত কিছু অভিভাবকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। বাসচালক যখন সব শিক্ষার্থীকে তাদের আসনে বসানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন কয়েকজন অভিভাবক সেখানে জড়ো হয়ে তাদের সন্তানদের নামিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। চালক তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নামানোর সুযোগ নেই। কিন্তু অভিভাবকরা বাইরে থেকে জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থী বাসের জরুরি দরজা খুলে দিলে অভিভাবকরা ভেতরে ঢুকে জোরপূর্বক তাদের সন্তানদের নামিয়ে আনেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চালককে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চাইতে হয়েছিল। পরবর্তীতে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে, চালক শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ মিনিট বাসে আটকে রেখেছিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ এসি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে পুলিশি তদন্তে চালকের কোনো অপরাধ বা গাফিলতি পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা যায়, পাহাড়ি খাড়া রাস্তায় বাসের ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে কেবল সাময়িকভাবে এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাসে প্রবেশ করে চালককে হেনস্তা করার দায়ে এপ্রিল মিশেল ডিসপেইন, টনি রে চ্যাস্টেইন এবং মারিয়া কুইনোনেস নামের ওই তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, বাসের কাজে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত
নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে শিশু পর্নোগ্রাফি ও যৌন নিপীড়ন চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে লিংকন এরিকসন নামের ৩২ বছর বয়সী এক সাবেক চিকিৎসককে ৯ বছরের (১০৮ মাস) কারাদণ্ড দিয়েছে ফেডারেল আদালত। ডেট্রয়েট মেডিকেল সেন্টারের রিহ্যাবিলিটেশন ইনস্টিটিউট অফ মিশিগানে কর্মরত এই চিকিৎসক মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে অন্যান্য শিশু নির্যাতনকারীদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানে তিনি গর্ব করে নিজেকে 'পেডোফাইল' দাবি করতেন এবং নিজের বিকৃত যৌন লালসার কথা অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে প্রকাশ করতেন। গত ১০ ডিসেম্বর এফবিআই এজেন্টরা এরিকসনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারীরা তার ফোন থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতনের বিভিন্ন ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে তৈরি বিকৃত শিশু পর্নোগ্রাফি উদ্ধার করেন। এফবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, এরিকসন একটি বৃহত্তর শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এমনকি তিনি অন্য এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তার সন্তানদের গোসল করানোর অনুমতির জন্য রীতিমতো পীড়াপীড়ি ও পরিকল্পনাও করেছিলেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি এরিকসনকে এখন থেকে তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী (সেক্স অফেন্ডার) হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে। এরিকসনের গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে এই চক্রের আরও ভয়ংকর কিছু তথ্য সামনে আসে, যা জেরেমি ব্রায়ান ট্যাকন এবং জোশুয়া রনবাউম নামের আরও দুই ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পথ তৈরি করে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে এরিকসন এবং রনবাউমের মধ্যকার ভয়ংকর ও বিকৃত সব চ্যাটের তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে তারা নবজাতক থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত শিশুদের গ্রুমিং ও নির্যাতনের জঘন্য ফ্যান্টাসি নিয়ে আলোচনা করতেন। এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে এই চক্রের আরেক সদস্য টুম্যানকে ছদ্মবেশী এফবিআই এজেন্টের সাহায্যে গ্রেপ্তার করা হয়। এফবিআই ডেট্রয়েট ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট জেনিফার রুনিয়ান জানিয়েছেন, শিশুদের ওপর এমন নির্মম নির্যাতনকারীদের সমাজ থেকে নির্মূল করতে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫
ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, দীর্ঘ বিরোধের অবসান