সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘ তদন্তের পর তিনজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্র

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৯:১৭
ক্যালিফোর্নিয়ার নিউবেরি পার্কে কয়েক মাসব্যাপী তদন্তের পর তিন বাসিন্দাকে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে ভেনচুরা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। অভিযানে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার নিউবেরি পার্কে কয়েক মাসব্যাপী তদন্তের পর তিন বাসিন্দাকে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে ভেনচুরা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। অভিযানে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরা কাউন্টির নিউবেরি পার্ক এলাকায় কয়েক মাস ধরে চলা বহুধাপের অপরাধ তদন্তের পর তিন বাসিন্দাকে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার ভেনচুরা কাউন্টি 

 

শেরিফের দপ্তর জানায়, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত চালানো হচ্ছিল। তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি, তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

অভিযানের সময় কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাদক বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। জব্দ করা সামগ্রীর ফরেনসিক পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ চলছে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই নিউবেরি পার্কের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে মাদক রাখার, বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদক সংরক্ষণের, অবৈধ অস্ত্র রাখার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় অতিরিক্ত অভিযোগ যুক্ত হতে পারে।

 

ভেনচুরা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লাম্পকিন কাউন্টিতে একটি স্কুল বাসের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে হাইল্যান্ড ট্রেস অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের নামানোর সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, নিয়ম ভেঙে বাসে প্রবেশ করা এবং চালকের কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, কট্রেল এলিমেন্টারি স্কুল থেকে ছেড়ে আসা ২২-৩৬ নম্বর বাসে যাত্রা শুরুর আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা চিৎকার, মারামারি ও জিনিসপত্র ছুড়ে বিশৃঙ্খলা করছিল। বাসের চালক ছিলেন একজন বদলি কর্মী, যিনি ওই রুটে নতুন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তার নিয়ম মানতে বাধ্য করতে তাকে পথিমধ্যে বেশ কয়েকবার বাস থামাতে হয়েছিল।   বাসটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের প্রথম স্টপেজে পৌঁছালে, দ্বিতীয় স্টপেজের এক শিক্ষার্থী নেমে পড়ে। চালক তাকে বাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে সেখানে উপস্থিত কিছু অভিভাবকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।   বাসচালক যখন সব শিক্ষার্থীকে তাদের আসনে বসানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন কয়েকজন অভিভাবক সেখানে জড়ো হয়ে তাদের সন্তানদের নামিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। চালক তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নামানোর সুযোগ নেই।   কিন্তু অভিভাবকরা বাইরে থেকে জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থী বাসের জরুরি দরজা খুলে দিলে অভিভাবকরা ভেতরে ঢুকে জোরপূর্বক তাদের সন্তানদের নামিয়ে আনেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চালককে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চাইতে হয়েছিল।   পরবর্তীতে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে, চালক শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ মিনিট বাসে আটকে রেখেছিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ এসি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে পুলিশি তদন্তে চালকের কোনো অপরাধ বা গাফিলতি পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা যায়, পাহাড়ি খাড়া রাস্তায় বাসের ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে কেবল সাময়িকভাবে এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল।   সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাসে প্রবেশ করে চালককে হেনস্তা করার দায়ে এপ্রিল মিশেল ডিসপেইন, টনি রে চ্যাস্টেইন এবং মারিয়া কুইনোনেস নামের ওই তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, বাসের কাজে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৬:১০
মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার

মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত

নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান

নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান

'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড
'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে শিশু পর্নোগ্রাফি ও যৌন নিপীড়ন চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে লিংকন এরিকসন নামের ৩২ বছর বয়সী এক সাবেক চিকিৎসককে ৯ বছরের (১০৮ মাস) কারাদণ্ড দিয়েছে ফেডারেল আদালত। ডেট্রয়েট মেডিকেল সেন্টারের রিহ্যাবিলিটেশন ইনস্টিটিউট অফ মিশিগানে কর্মরত এই চিকিৎসক মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে অন্যান্য শিশু নির্যাতনকারীদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   সেখানে তিনি গর্ব করে নিজেকে 'পেডোফাইল' দাবি করতেন এবং নিজের বিকৃত যৌন লালসার কথা অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে প্রকাশ করতেন।   গত ১০ ডিসেম্বর এফবিআই এজেন্টরা এরিকসনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারীরা তার ফোন থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতনের বিভিন্ন ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে তৈরি বিকৃত শিশু পর্নোগ্রাফি উদ্ধার করেন। এফবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, এরিকসন একটি বৃহত্তর শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।   এমনকি তিনি অন্য এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তার সন্তানদের গোসল করানোর অনুমতির জন্য রীতিমতো পীড়াপীড়ি ও পরিকল্পনাও করেছিলেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি এরিকসনকে এখন থেকে তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী (সেক্স অফেন্ডার) হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে।   এরিকসনের গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে এই চক্রের আরও ভয়ংকর কিছু তথ্য সামনে আসে, যা জেরেমি ব্রায়ান ট্যাকন এবং জোশুয়া রনবাউম নামের আরও দুই ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পথ তৈরি করে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে এরিকসন এবং রনবাউমের মধ্যকার ভয়ংকর ও বিকৃত সব চ্যাটের তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে তারা নবজাতক থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত শিশুদের গ্রুমিং ও নির্যাতনের জঘন্য ফ্যান্টাসি নিয়ে আলোচনা করতেন।   এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে এই চক্রের আরেক সদস্য টুম্যানকে ছদ্মবেশী এফবিআই এজেন্টের সাহায্যে গ্রেপ্তার করা হয়। এফবিআই ডেট্রয়েট ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট জেনিফার রুনিয়ান জানিয়েছেন, শিশুদের ওপর এমন নির্মম নির্যাতনকারীদের সমাজ থেকে নির্মূল করতে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১২:৫৮
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫

লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫

ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, দীর্ঘ বিরোধের অবসান

অ্যামাজনে কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার

অ্যামাজনে কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার, মিলছে নতুন সুবিধা

দুই মাস পর নিখোঁজ ছেলেকে শনাক্ত করলেন মা
স্কুলের চিমনিতে পচা মরদেহ, দুই মাস পর নিখোঁজ ছেলেকে শনাক্ত করলেন মা

নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি সরকারি স্কুলের চিমনিতে জুনে পাওয়া পচনধরা মরদেহের পরিচয় প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকা ২৯ বছর বয়সী ম্যাথিউ কোলাডো হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। তবে কীভাবে তিনি স্কুলের ভেতরে ঢুকলেন, কীভাবে চিমনিতে পৌঁছালেন এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, তার কোনো উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর কারণ, সময় ও ধরন এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।    কোলাডো কুইন্সের একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী র‌্যাপার ছিলেন এবং A.K. Nash নামে গান করতেন। তাঁর মা সোফিয়া উডের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ মে ভোর ৩টা ২২ মিনিটের দিকে তাকে জামাইকার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায়। এর পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার আগে মাকে তিনি জানিয়েছিলেন, কয়েক দিন পর পরিবারের সঙ্গে মাদার্স ডে উদযাপন করবেন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে তিনি আর উপস্থিত হননি।    ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উড পুলিশে নিখোঁজের রিপোর্ট করেন। পাশাপাশি নিজেও বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে ও অনলাইনে তথ্য ছড়িয়ে ছেলের সন্ধান চালান। কোলাডোর অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে তিনি তাঁর ফোন ও ওয়ালেট পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। দরজাটিও ডেডবোল্ট দিয়ে এমনভাবে খোলা ছিল, যা দেখে তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর কোলাডোর একটি নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বলেও তাঁর মা জানিয়েছেন।    এরপর ৩০ জুন সকালে কুইন্সের গ্লেনডেল এলাকার P.S./I.S. 113 Anthony Pranzo School-এ দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে এক এক্সটারমিনেটর চিমনির ভেতর মরদেহটি দেখতে পান। তখন স্কুলটি গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বন্ধ ছিল এবং ভবনে সংস্কারকাজ চলছিল। এক্সটারমিনেটর চিমনির ছাই বের করার অংশ খুলে প্রথমে একটি জুতা দেখতে পান। পরে ভেতরে হাত দিয়ে তিনি একটি পায়ের অংশ অনুভব করেন।    মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রকাশের পর কোলাডোর মা বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর ছেলে নিখোঁজ থাকায় তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথমদিকে তাঁকে জানানো হয়েছিল, চিমনি থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাঁর ছেলের বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর তদন্তকারীরা উডের ডিএনএ সংগ্রহ করেন। ২৯ জুলাই নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে মরদেহটি কোলাডোর বলে নিশ্চিত করে বলে তাঁর মা জানিয়েছেন।    পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও রহস্যের সমাধান হয়নি। তদন্তকারীদের হাতে কোলাডো কীভাবে স্কুলে ঢুকেছিলেন বা কীভাবে চিমনির ভেতরে পৌঁছেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো নজরদারি ভিডিও নেই বলে তাঁর মা জানিয়েছেন। স্কুলটির সঙ্গে কোলাডোর কোনো পরিচিত সম্পর্কও পরিবারের জানা ছিল না। ফলে তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে এখনো একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।    কোলাডোর মা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে উচ্চতার ভয় পেতেন এবং আগুন ও ধোঁয়াও অপছন্দ করতেন। তাই কীভাবে তিনি একটি চিমনির ভেতরে গেলেন, সেটি তাঁর কাছে আরও বিস্ময়কর। তবে তিনি কোনো অনুমান বা অভিযোগ করতে চান না। তাঁর ভাষায়, তিনি শুধু ঘটনার সত্যতা ও নির্ভুল ব্যাখ্যা চান।    কোলাডো পূর্ব এলমহার্স্টে বেড়ে ওঠেন এবং সংগীত তৈরি করতেন। তাঁর মা জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন গান ও বিট তৈরি করতেন এবং অনলাইনে তাঁর কিছু গানও রয়েছে। এখন ছেলের কণ্ঠ শোনার জন্য সেই গানগুলোর কাছেই ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁকে।    কোলাডোর পরিবার এখনো তাঁর মৃত্যুর কারণ ও স্কুলের চিমনিতে পৌঁছানোর ঘটনাটি জানতে চাইছে। তাঁর মা এ ঘটনার সত্য উদঘাটনে একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। অন্যদিকে মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ ও ধরন সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৯:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে, চাপে গ্র্যাজুয়েটরা

৫০০ কলেজে ৪০%–এর বেশি শিক্ষার্থী ঋণখেলাপি

কলেজের পড়াশোনায় ফেডারেল ঋণ, পরিশোধে ব্যর্থ শিক্ষার্থীর হার কোথাও ৮০%

কারাগারে থেকেও রিমোট কাজ, ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতনের সুযোগ

কারাগারে থেকেও ঘণ্টায় ২৫ ডলার আয়, ব ন্দি দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি

0 Comments