ছুটিতে গিয়ে নৃশংস কুকুরের হামলা, ৯ বছরের মার্কিন শিশুর শরীরে শতাধিক কামড়
পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়ে ৯ বছর বয়সী এক মার্কিন শিশু ভয়াবহ কুকুরের হামলার শিকার হয়েছে। একদল বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে তার শরীরজুড়ে প্রায় ১০০টিরও বেশি কামড়ের ক্ষত সৃষ্টি হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচারে তার প্রাণ রক্ষা পায়।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি বাহামাসের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টের কাছাকাছি এলাকায় ঘটে। শিশুটি পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল। একপর্যায়ে কয়েকটি কুকুর তাকে ঘিরে ধরে এবং ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালায়। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও উদ্ধারকারীরা ছুটে এসে কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মাথা, মুখ, হাত, পা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করতে হয়। বর্তমানে সে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, আনন্দের ছুটি মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। তারা ছেলের দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে প্রার্থনা চেয়েছেন এবং এমন ঘটনা যাতে আর কারও সঙ্গে না ঘটে, সে জন্য পর্যটন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কুকুরগুলো কীভাবে পর্যটন এলাকার আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো রিসোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটন এলাকায় বেওয়ারিশ প্রাণী নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা জোরদার করা না হলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ ঘোষিত আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে একযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে আগের শুল্কনীতির আইনি ভিত্তি বাতিল হওয়ার পর প্রশাসন নতুন নামে একই ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছে, যা আইনসম্মত নয়। সোমবার দায়ের করা মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউস নতুন শুল্ক আরোপের যে আইনি যুক্তি দেখিয়েছে, তা মূলত আগের বাতিল হওয়া নীতিকে ভিন্ন উপায়ে কার্যকর করার প্রচেষ্টা। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বে আরোপ করা অনেক শুল্কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আইনি ভিত্তি প্রেসিডেন্টকে ওই ধরনের কর আরোপের ক্ষমতা দেয় না। সেই রায়ের পরই নতুন শুল্ক ঘোষণাকে ঘিরে আইনি বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও প্রশাসন আবারও পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে নতুন করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।” গত মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউস নতুন শুল্কের ঘোষণা দেয়। প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যায্য আচরণ এবং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রেসিডেন্টের বিদ্যমান ক্ষমতার আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। তাই বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী আরোপিত শুল্ক বৈধ এবং প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদ থেকেই এটি কার্যকর ও টেকসই একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্কের হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর প্রযোজ্য হবে, যেগুলো মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ সরবরাহ করে। নতুন ব্যবস্থায় কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো ও তাইওয়ানের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এটি নতুন শুল্ককে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা নয়। গত ২৩ জুলাই শুল্ক ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও পৃথক দুটি মামলা করে। সেসব মামলায়ও অভিযোগ করা হয়, নতুন শুল্ক কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং হোয়াইট হাউস ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, কীভাবে এই ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে জোরপূর্বক শ্রম কমাতে কার্যকর হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াই শুধু শুল্ক নীতির বৈধতাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য-সংক্রান্ত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি কার্যকর থাকবে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রে জলাতঙ্ক আক্রান্ত র্যাকুন শনাক্ত, বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান
কসমেটিক সার্জারি করাতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক নারী পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু, মা-হারা হলো ৩ শিশু
ছুটিতে গিয়ে নৃশংস কুকুরের হামলা, ৯ বছরের মার্কিন শিশুর শরীরে শতাধিক কামড়
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও শহর নতুন বাসিন্দা আকৃষ্ট করতে নগদ অর্থ, আবাসন সম্পর্কিত সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে। বিশেষ করে দূরবর্তী বা রিমোট কর্মীদের আকৃষ্ট করতে এসব কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ওই সব স্টেট ও সিটির প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এমন পাঁচটি জনপ্রিয় কর্মসূচির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ‘অ্যাসেন্ড ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া’ কর্মসূচি। এর আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা ১২ হাজার ডলার নগদ অর্থসহ মোট ২৩ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের সুবিধা পেতে পারেন। এছাড়া বিনামূল্যে কো-ওয়ার্কিং স্পেস, আউটডোর সরঞ্জাম ভাড়ার সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার বাইরে অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন রিমোট চাকরিতে থাকতে হবে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্ডিয়ানার নোবলসভিল শহর। ‘মেকমাইমুভ’ কর্মসূচির মাধ্যমে এখানে ১৫ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের প্রণোদনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ডলার অনুদান, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা ভাতা, কো-ওয়ার্কিং স্পেসের সদস্যপদ, স্থানীয় রেস্তোরাঁর গিফট কার্ডসহ আরও বিভিন্ন সুবিধা। ওকলাহোমার তুলসা শহরের ‘তুলসা রিমোট’ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য রিমোট কর্মীরা ১০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা পেতে পারেন। তবে আবেদনকারীকে ওকলাহোমার বাইরে বসবাসকারী হতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হবে এবং অনুমোদনের পর ১২ মাসের মধ্যে তুলসায় স্থানান্তরিত হতে হবে। কেন্টাকির মেফিল্ড ও গ্রেভস কাউন্টিতে স্থানান্তরকারীদের জন্য প্রায় ৮ হাজার ৮০০ ডলারের সুবিধা রয়েছে। এতে ৫ হাজার ডলার নগদ অর্থের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য, ওয়াইএমসিএ সদস্যপদ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ কর্মসূচির জন্য আবেদনকারীকে বছরে অন্তত ৬০ হাজার ডলার আয়কারী রিমোট কর্মী হতে হবে এবং স্থানান্তরের আগে কেন্টাকির বাইরে বসবাস করতে হবে। এছাড়া আলাস্কার ‘পার্মানেন্ট ফান্ড ডিভিডেন্ড’ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী বাসিন্দারা প্রতিবছর অঙ্গরাজ্যের খনিজ সম্পদ থেকে অর্জিত বিনিয়োগ আয়ের একটি অংশ পান। এটি স্থানান্তরের জন্য দেওয়া বোনাস নয়; বরং যোগ্য আলাস্কা বাসিন্দাদের জন্য বার্ষিক লভ্যাংশ। ২০২৫ সালে এই কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক যোগ্য বাসিন্দা ১ হাজার ডলার পেয়েছিলেন। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দক্ষ কর্মীদের আকৃষ্ট করা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। তবে প্রতিটি কর্মসূচির জন্য যোগ্যতার শর্ত আলাদা। কোথাও রিমোট চাকরি বাধ্যতামূলক, কোথাও ন্যূনতম আয়ের শর্ত রয়েছে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট সময় বসবাসের অঙ্গীকার করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্তাবলি ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের বাড়ি কেনা কমলেও ফ্লোরিডা, জর্জিয়াসহ ৫ অঙ্গরাজ্যেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ
একটি বার্তা, তারপর চিরবিদায় ১৮ বছরের চার্লির মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার
ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘ তদন্তের পর তিনজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্র
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৪ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস বলেছেন, তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তার ভাষায়, বর্তমানে তার প্রধান মনোযোগ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচন এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নির্বাচনী প্রস্তুতি। গত ৩১ জুলাই টেনেসির ন্যাশভিলে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল আরবান লিগ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মার্ক মরিয়ালের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে হ্যারিস এ মন্তব্য করেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নতুন করে জাতীয় আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান। হ্যারিসের এই অবস্থান এমন সময় সামনে এলো, যখন ২০২৮ সালের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন জরিপে তার অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে জরিপগুলোর ফল একরকম নয়, যা দলটির ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইয়েল ইয়ুথ পোলের ২০২৬ সালের বসন্তকালীন জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের তালিকায় কমলা হ্যারিস ২০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। তার ঠিক পেছনেই রয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, যার সমর্থন ১৯ শতাংশ। সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজেজ পেয়েছেন ১৪ শতাংশ এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ ১৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। একই জরিপে দেখা যায়, ৩৫ বছরের কম বয়সী ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ওকাসিও কর্টেজের জনপ্রিয়তা বেশি হলেও সব বয়স মিলিয়ে হ্যারিস অল্প ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে, জুলাই ২০২৬ এ প্রকাশিত এমারসন কলেজ পোলিংয়ের জাতীয় জরিপে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে পিট বুটিজেজ ১৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। গ্যাভিন নিউসম পেয়েছেন ১৭ শতাংশ, জন অসফ ১৩ শতাংশ, আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ ১৩ শতাংশ এবং কমলা হ্যারিস রয়েছেন ৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে পঞ্চম স্থানে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন এখনো অনেক দূরে থাকায় এসব জরিপ মূলত ভোটারদের বর্তমান পরিচিতি, জনপ্রিয়তা ও সম্ভাব্য সমর্থনের একটি প্রাথমিক চিত্র তুলে ধরে। তাই এগুলোকে চূড়ান্ত নির্বাচনী পূর্বাভাস হিসেবে দেখা উচিত নয়। সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় হ্যারিস আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইলেকটোরাল কলেজ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো এবং ওয়াশিংটন ডিসি ও পুয়ের্তো রিকোকে অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়েও জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য অবশ্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ২০২৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কমলা হ্যারিস বলেন, “আমি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমি আন্তরিকভাবে আগামী মিডটার্ম নির্বাচনেই মনোযোগ দিচ্ছি।”
৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিকে অপহরণ করে হত্যা, ক্যালিফোর্নিয়ায় জীবিত সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে মামলা
তিন সন্তান হত্যার মামলায় আদালতে পড়া হলো মায়ের হৃদয়বিদারক ডায়েরি