সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি, ফান্ডিং ২ কোটির বেশি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৬ সালের Fall সেমিস্টার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রোগ্রামে তিনি পূর্ণ অর্থায়ন পেয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই ফান্ডিংয়ের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকারও বেশি বলে জানানো হয়েছে।    ফাহমিদা ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০২৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্সে ভর্তি হন এবং পূর্ণ স্কলারশিপে সেই ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।    মাস্টার্সের পাশাপাশি গবেষণাতেও সক্রিয় ছিলেন ফাহমিদা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে তিনি নিজের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন এবং গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান।    মাস্টার্স শেষ করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির জন্য পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ পান তিনি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো পিএইচডি প্রোগ্রামের ফান্ডিংয়ের পরিমাণ দুই কোটি টাকারও বেশি।   ফাহমিদার উচ্চশিক্ষার পথচলায় পরিবারের সমর্থনের কথাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাবা ও স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে স্বামী চিকিৎসক রোমান খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন ফাহমিদা।    নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের মতো বিশেষায়িত একটি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া ফাহমিদার একাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: আজকের পত্রিকা  

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
খাবারজনিত অসুস্থতার একাধিক ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার বিনা মূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলের খাবার খেয়ে ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ, দেশজুড়ে ক্ষোভ

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনা মূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচির খাবার খেয়ে চলতি সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। দেশটির অন্তত চারটি অঞ্চলে এসব ঘটনা ঘটেছে। বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর শিশুদের অপুষ্টি দূর করার এই কর্মসূচি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।   সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের তানা তোরাজায় প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হন। স্থানীয় সরকারের প্রধান জাদরাক তমবেগ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে চলতি সপ্তাহে মধ্য জাভা, পূর্ব জাভা ও পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে আরও ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পূর্ব জাভার আরেকটি এলাকায় এর আগে ২৫৬ শিক্ষার্থী স্কুলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কমনাস হাম, পুলিশকে বিষয়গুলো তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, নিরাপদ খাবার পাওয়ার অধিকারও মানবাধিকারের অংশ। খাবার প্রস্তুত ও বিতরণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের পরিচালিত পুষ্টি কর্মসূচি তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন।   কমিশন একই সঙ্গে যেসব রান্নাঘর থেকে দূষিত বা অনিরাপদ খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুষ্টি সংস্থা কর্মসূচিটি পরিচালনা করে। সংস্থাটির প্রধান সুদারিয়োনো বৃহস্পতিবার বলেছেন, খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে শুক্রবার নির্ধারিত একটি সংবাদ সম্মেলন কোনো কারণ না জানিয়ে স্থগিত করা হয় এবং নতুন তারিখও জানানো হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি চালু করেন। শিশুদের অপুষ্টি কমানো এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সরকার দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক শিশুকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। তবে কর্মসূচি চালুর পর থেকেই খাবারের মান, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সামনে এসেছে।   সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার মধ্যে মধ্য জাভার লাসেমে ৭৫২ শিক্ষার্থী ও ২৫ শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় খাবার হিসেবে দেওয়া ভাজা মুরগি নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। খাবার ভোরে রান্না করে দুপুরে পরিবেশন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায়ও ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যায়। জাতীয় পুষ্টি সংস্থা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন একটি রান্নাঘর ৩০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে সরকারি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলোর সঙ্গে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দেরিতে স্কুলে পৌঁছানোর মতো কারণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।   তবে সমস্যার ব্যাপকতা সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার চেয়েও বেশি হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য চার্লস হনোরিস স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা নিয়ে সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কমনাস হামও এর আগে কর্মসূচিটির পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জুনে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় সংস্থাটি বলেছিল, বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সুপারিশও করেছিল কমিশন।   বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। তানা তোরাজার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মা এস্টার পাতানদুং রয়টার্সকে বলেছেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর প্রত্যাশা হলো কেন্দ্রীয় বা আঞ্চলিক সরকার যেন বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি বাতিল করে। জনসমর্থনের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং পরিচালিত এক জরিপে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইন্দোনেশীয় এই কর্মসূচির কার্যক্রমে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন। অসন্তুষ্টদের অনেকেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখে চালু হওয়া উদ্যোগটি বড় পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় খাবারের নিরাপত্তা, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, সংরক্ষণ এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের আহ্বানের পর সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের স্কুলে এক বছর এআই নিষিদ্ধের কঠোর নীতি
নিউইয়র্কের স্কুলে এক বছর এআই নিষিদ্ধের কঠোর নীতি, প্রভাবিত হবে ৬ লাখ শিক্ষার্থী

নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নীতিতে একই সঙ্গে ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর মেলিসা সামুয়েলসের ঘোষিত নীতিটি নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করবে, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।   নীতির আওতায় ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলের কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে পড়াশোনা, চিন্তাশক্তি ও শ্রেণিকক্ষের সরাসরি শেখার পরিবেশে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।   তবে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এআই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের এআই সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বা এআই লিটারেসি শেখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এআই কীভাবে কাজ করে, এর সম্ভাবনা ও ঝুঁকি এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে।   নতুন নীতিতে ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এআই নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন নিয়েও স্কুলগুলোতে নতুন করে নীতিমালা কার্যকর হবে।   কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে শেখার মৌলিক দক্ষতা শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় এআই দক্ষতা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।   নীতিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কার্যকর হবে। ফলে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলে ছোট শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি বড় শিক্ষার্থীদের জন্য এআই শেখার সুযোগ - দুই ধরনের নীতিই একসঙ্গে চালু হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব পড়ায় লজ্জায় আত্যহত্যা
শিক্ষার্থীর ওপর আইসিইর অ্যাঙ্কল মনিটর, ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব পড়ায় লজ্জায় আত্যহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে আইসিইর অ্যাঙ্কল মনিটর পরার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ২০ বছর বয়সী হাইতিয়ান শিক্ষার্থী পিয়ের দামাস বেল। পরিবারের দাবি, মনিটরটি পরার কারণে তিনি নিজেকে ‘অপমানিত’ ও ‘লজ্জিত’ বোধ করছিলেন।   সোমবার সকালে আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে বাবাকে ফোন করেছিলেন বেল। স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে ইন্টারস্টেট-৭০ মহাসড়কের পাশে গাড়িতে বসে বাবার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় মানসিক ও আবেগগতভাবে ভেঙে পড়ার কথা জানান।   বেলের বাবা তাকে বাড়ি ফিরে এসে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে জানায়, বেল একটি চলন্ত ট্রাকের সামনে ঝাঁপ দিয়েছেন। ওহাইও স্টেট হাইওয়ে প্যাট্রোল জানিয়েছে, গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   বেলের পরিবার ও স্থানীয় অভিবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, জুলাই থেকে পায়ে থাকা অ্যাঙ্কল মনিটর নিয়ে তিনি গভীরভাবে মানসিক চাপে ছিলেন। স্থানীয় যাজক ও অভিবাসন অধিকারকর্মী কার্ল রুবি বলেন, পরিবারটি চায় ঘটনাটিকে অভিবাসন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হোক।   ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বেল। তিনি তখনকার সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে স্প্রিংফিল্ডে বাবা-মা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।   পড়াশোনা ও খেলাধুলায়ও ভালো ছিলেন বেল। স্প্রিংফিল্ড হাইস্কুলে তিনি সম্মান তালিকায় ছিলেন এবং জেআরওটিসিতে যুক্ত ছিলেন। পরে উইটেনবার্গ ইউনিভার্সিটির ফুটবল দলে খেলার সুযোগ পান। ভবিষ্যতে মেডিকেল স্কুলে পড়ারও পরিকল্পনা ছিল তার।   তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিবাসন প্রক্রিয়া চলার সময় আইসিই তাকে ‘অলটারনেটিভস টু ডিটেনশন’ কর্মসূচির আওতায় এনে পায়ে জিপিএস অ্যাঙ্কল মনিটর পরিয়ে দেয়।   এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান বেল। তিনি লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে এসেছিলেন, কোনো অপরাধ করতে বা কাউকে আঘাত করতে নয়। কিন্তু এখন পায়ে জিপিএস মনিটর নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে এবং এতে তিনি এমন লজ্জা ও অপমানবোধ করছেন, যা কখনো কল্পনাও করেননি।   বেল ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রায় তিন লাখ হাইতিয়ান নাগরিকের একজন, যারা সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস হারিয়েছেন। এরপর স্প্রিংফিল্ডের হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।   বেলের টিপিএস হারানোর পর তিনি উইটেনবার্গের ফুটবল দলেও খেলতে পারছিলেন না বলে জানিয়েছে দলটি। পরে কাছের রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পর তাকে কটূক্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়।   ওহাইওর রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইন ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন অভিবাসীদের এভাবে আটক করে নির্বাসনের মুখে ঠেলে দেওয়া সত্যিই কাঙ্ক্ষিত নীতি কি না।   তবে বেলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চলায় আইসিই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে যাচাই না হওয়া কোনো দাবির বিষয়ে তারা অনুমান করবে না।   স্প্রিংফিল্ডের হাইতিয়ান সাপোর্ট সেন্টারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ভিলেস ডোরসেইনভিল বলেন, টিপিএস বাতিলের পর অনেক হাইতিয়ান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বেলের ঘটনা অভিবাসন নীতির কারণে তৈরি হওয়া সেই উদ্বেগের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেবে সরকার
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেবে সরকার

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সদ্য পাস করা ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ১ লাখ ১৬ হাজার ট্যাব দেওয়ার কথা চিন্তা করেছেন।   এ ছাড়া দেশের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে বিশেষ উপহার দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।   শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। শিক্ষক নিয়োগ, পরীক্ষা গ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ধরনের ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণমূলক কাজের অনুমোদনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই - এমন প্রশিক্ষণ বা ইন্টার্নশিপের অনুমোদন দিলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হবে।   ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, অর্থাৎ আইসিইর অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়েছে, কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিপিটি অবশ্যই শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে।   আইসিই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু সিপিটি অনুমোদন তাদের নজরে এসেছে, যেগুলো বিদ্যমান নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসব নিয়ম মেনে না চললে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।   নতুন নির্দেশনার পর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ধরনের সিপিটি অনুমোদনের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি।   ইউসিএলএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ফেডারেল নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু সিপিটি অনুমোদন স্থগিত রাখা হয়েছে।   ইউসি বার্কলির আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক দপ্তর বলেছে, ২৪ আগস্টের নির্দেশনাটি আগের নির্দেশনার তুলনায় আরও নির্দিষ্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি কঠোর। তাই নির্দিষ্ট কিছু কর্ম-অনুমোদনের আবেদন আপাতত স্থগিত থাকবে।   তবে ডিগ্রি অর্জনের জন্য বাধ্যতামূলক সিপিটি স্বাভাবিকভাবেই প্রক্রিয়া করা হবে। পাশাপাশি ডক্টরাল গবেষণা ও মাস্টার্স থিসিস গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত সিপিটিও চালু রাখার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন ফেডারেল নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নির্ধারণে আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছে।   এদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, এসব নিয়মে নতুন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বরং বিদ্যমান নিয়মের প্রয়োগ আরও কঠোর করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার আর সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেছে বিভাগটি।   বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ওপর নতুন কড়াকড়ি ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্ববিদ্যালয় ও অভিবাসননীতি কঠোর করার বৃহত্তর পদক্ষেপের অংশ। এর আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন এবং ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।   তবে নতুন নির্দেশনার অর্থ সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপ বা কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। মূলত শিক্ষার্থীর নির্ধারিত শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন বা নিয়মবহির্ভূত সিপিটি অনুমোদনের ওপরই নজরদারি ও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, অনুমোদনের আগে তাদের প্রশিক্ষণটি শিক্ষাক্রমের সঙ্গে কতটা সরাসরি সম্পর্কিত - সেটি আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
১৪ বছরের শিক্ষার্থীদের সামনে গর্ভপাত, যৌনতা ও টান্সজেন্ডার শিল্পকর্ম!
১৪ বছরের শিক্ষার্থীদের সামনে গর্ভপাত, যৌনতা ও টান্সজেন্ডার শিল্পকর্ম! অভিভাবকদের ক্ষোভ

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাঙ্গার হাই স্কুলের ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত একটি কলেজ পর্যায়ের শিল্পকলা কোর্সে গর্ভপাত, যৌনতা ও ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ক গ্রাফিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনের ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিডলি কলেজের সঙ্গে স্যাঙ্গার হাই স্কুলের দ্বৈত-ভর্তি কর্মসূচির আওতায় গ্রীষ্মকালীন এই কোর্সটি পরিচালিত হয়।   জানা গেছে, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ‘দৃশ্যসংস্কৃতির পরিচিতি’ নামে ওই কোর্সে অংশ নেয়। কোর্সের অংশ হিসেবে তাদের এমন কিছু শিল্পকর্ম ও প্রদর্শনী দেখানো হয়, যেখানে গর্ভপাত, যৌন আচরণ এবং ট্রান্সজেন্ডার বিষয়কে অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়েছিল।   এর মধ্যে ‘নারী-পুরুষের ঘর ২০২২’ নামের একটি শিল্পস্থাপনার বিভিন্ন অংশও শিক্ষার্থীদের দেখানো হয়। এর একটি অংশে ‘বাড়িতে নিজে গর্ভপাত’ নামে একটি কক্ষে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে থাকা এক নারীর ভাস্কর্য এবং তার পাশে গর্ভপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধাতব হ্যাঙ্গার দেখানো হয়।   আরেকটি অংশে ‘ট্রান্সজেন্ডার বাথরুম’ নামে একটি স্থাপনা ছিল। সেখানে টেস্টোস্টেরন ইনজেকশন দেওয়ার স্থান নির্দেশকারী একটি চিহ্ন এবং শরীরের আকৃতি পরিবর্তনে ব্যবহৃত বিশেষ চাপযুক্ত পোশাক প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীর বিভিন্ন অংশে যৌনতা সম্পর্কিত স্পষ্ট ভাষার লেখা ও বার্তাও ছিল।   এ ধরনের বিষয়বস্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের একটি কলেজ পর্যায়ের কোর্সে দেখানো কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকদের কেউ কেউ। তাদের উদ্বেগের মূল বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়বস্তু দেখানোর আগে পরিবারগুলোকে যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না।   ঘটনার পর স্যাঙ্গার ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট ডেনিস উইখম্যান জানান, কোর্সের পাঠ্যক্রম রিডলি কলেজ নির্ধারণ করে এবং হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য সেটি আলাদাভাবে পরিবর্তন করা হয় না।   তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোর্সে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার আগে অভিভাবকদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আরও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন বলে তিনি স্বীকার করেন। ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দ্বৈত-ভর্তি কর্মসূচির কোনো কোর্সে প্রাপ্তবয়স্ক বা সংবেদনশীল বিষয়বস্তু থাকার সম্ভাবনা থাকলে ভর্তি প্রক্রিয়ার সময় অভিভাবকদের তা জানানো হবে। পাশাপাশি কোর্সের পাঠ্যসূচি পাওয়া গেলে তা দেখার সুযোগও আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   দ্বৈত-ভর্তি কর্মসূচির মাধ্যমে স্যাঙ্গার হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা রিডলি কলেজ, ফ্রেসনো সিটি কলেজ ও ক্লোভিস কমিউনিটি কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কলেজ পর্যায়ের কোর্স করার সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে তারা হাই স্কুলে পড়ার পাশাপাশি কলেজের ক্রেডিট অর্জন করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য এসব কোর্স বিনামূল্যে হওয়ায় কর্মসূচিটি অনেক পরিবারের কাছে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।   তবে সাম্প্রতিক ঘটনাটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজ পর্যায়ের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ, সংবেদনশীল বিষয়বস্তু সম্পর্কে অভিভাবকদের আগাম অবহিত করা এবং এ ধরনের কোর্সে পরিবারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কতটা থাকা উচিত, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুসলিম অধিকারকর্মী, এবার ফেডারেল মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষামূলক সফরে মসজিদে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার পর ফেডারেল মামলায় নাম এসেছে মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর। ২০২৫ সালের শরতে স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে নেওয়া হয়েছিল। ওই সফরকে কেন্দ্র করে পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থী। মামলায় বিলুর ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে।    ৮ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। ‘কমিউনিটি মেম্বার্স ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামে একটি গ্রুপের সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবক ও বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী মামলাটি করেছেন। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ওই সফরে শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়া হয়, মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। শিক্ষার্থীদের ইসলামি ধর্মীয় যুব কর্মসূচির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন ধারণার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছিল যে ইসলাম বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সফরের সময় শিক্ষার্থীদের ছবি তোলা এবং অভিভাবকদের যথাযথ অনুমতি ছাড়া সেসব ছবি অনলাইনে প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় নিরপেক্ষতা, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা এবং বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।    এই মামলায় জাহরা বিলুর নাম আসার কারণ হলো, তিনি ওই সফরের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বিলু কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা CAIR-এর সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক। নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, তাকে একজন আমেরিকান মুসলিম নারী হিসেবে তার নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।    বিলু মামলাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, পাবলিক স্কুলে ধর্ম নিয়ে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু নিরপেক্ষতার অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে দূরে রাখা নয়। তিনি বলেন, মসজিদ পরিদর্শন, মুসলিমদের নামাজ দেখা কিংবা ইসলাম সম্পর্কে শেখা আর শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্ম পালনে বাধ্য করা এক বিষয় নয়।    পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, ধর্ম বিষয়ে স্কুলের শিক্ষা একাডেমিক হতে হবে, ধর্মীয় আচার পালনের উদ্দেশ্যে নয়। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রচার বা অবমূল্যায়ন করাও স্কুলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলা চলমান থাকায় ডিস্ট্রিক্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি এবং জানিয়েছে, তারা নিজেদের প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করছে।    অন্যদিকে, মামলাকারীরা বলছেন, সফরটি শুধু ধর্ম সম্পর্কে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না এবং ইসলামকে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাবলিক স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করতে পারে।    তবে সফরে অংশ নেওয়া অন্তত একজন শিক্ষার্থী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে, এটি ছিল ধর্ম সম্পর্কে একটি বৃহত্তর শিক্ষামূলক ইউনিটের অংশ, যেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানানো হচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদ সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম সম্পর্কে শেখা, কাউকে ধর্মান্তরিত করা নয়।    ফলে মামলাটিকে ঘিরে মূল প্রশ্ন এখন দাঁড়িয়েছে, পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় অনুশীলনে সম্পৃক্ত করার মধ্যে আইনগত সীমারেখা কোথায়। ফেডারেল আদালতে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমে সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিহত শিক্ষার্থী অ্যালি রেনি সিং
ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্লিফ থেকে সাগরে গাড়ি পড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে ক্লিফ থেকে গাড়ি সাগরে পড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৯ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম অ্যালি রেনি সিং। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা ক্রুজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তার তৃতীয় বর্ষ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।    ঘটনাটি ঘটে ১৩ আগস্ট রাত প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে সান্তা ক্রুজের ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভে, স্টিমার লেনের কাছে। জরুরি বিভাগে খবর আসে একটি গাড়ি ক্লিফ থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে পড়ে গেছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, গাড়িটি পানিতে ডুবে রয়েছে এবং ভেতরে একজন আটকা পড়েছেন।    সান্তা ক্রুজ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা একজন ব্যক্তি নিজে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন এবং তিনি সামান্য আহত হন। অন্যদিকে অ্যালি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে ছিলেন। চারজন ওশান রেসকিউ সুইমার পানিতে নেমে ডুবে থাকা গাড়ির কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    সান্তা ক্রুজ পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি একজন নারী চালাচ্ছিলেন এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রী ছিলেন একজন পুরুষ। তবে দুর্ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।    অ্যালি ২০২৪ সালের জুনে ইউসি সান্তা ক্রুজে ভর্তি হন। তিনি সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন আর. লুইস কলেজ কমিউনিটির সদস্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র স্কট হার্নান্দেজ-জেসন তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জানান, শিক্ষার্থীর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর সমবেদনা রয়েছে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সাপোর্ট রিসোর্স দেওয়া হচ্ছে।    অ্যালির খালা মনিকা সিং-স্ট্রোহমেয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন এবং পরিবারের এই কঠিন সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সময় দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে অ্যালিকে মেধাবী, ভালোবাসাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত তরুণী হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।    স্টিমার লেন সান্তা ক্রুজের পরিচিত একটি সার্ফিং স্পট। এলাকাটি ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভের পাশে প্রশান্ত মহাসাগরের খাড়া উপকূল বরাবর অবস্থিত। সেখানে শক্তিশালী ঢেউ ও খাড়া ক্লিফের কারণে উদ্ধার অভিযানও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলের ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভের একটি অংশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপকূলীয় ক্ষয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নতুন ভিসা নির্দেশনা, ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা-সংক্রান্ত নির্দেশনা সামনে এসেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   এই নির্দেশনা মূলত তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ভিসা, ভ্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে না পারলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যোগদান বা একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাননি, তাদের জন্য সময়সীমাটি গুরুত্বপূর্ণ।   হার্ভার্ডের এই নির্দেশনা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ও প্রবেশ-সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা এবং নিজেদের ভিসার শর্ত দুটিই ভালোভাবে অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে।   যেসব শিক্ষার্থীর ইতোমধ্যে বৈধ ভিসা রয়েছে, তাদেরও ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   এদিকে, হার্ভার্ডে পড়াশোনার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তাদের জন্য সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছানো শুধু ভ্রমণের বিষয় নয়—ক্লাস শুরু, আবাসন, ওরিয়েন্টেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গেও এটি সরাসরি যুক্ত।   তাই নতুন শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা ও ভ্রমণ নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   অর্থাৎ, হার্ভার্ডে নতুন শিক্ষাবর্ষে যোগ দিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভিসা ও ভ্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করেন। এতে দৈনন্দিন খরচের কিছুটা জোগান দেওয়ার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হয়। তবে দেশভেদে শিক্ষার্থীদের কাজের সময়সীমা ও নিয়ম ভিন্ন।   শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ মূলত সংশ্লিষ্ট দেশের স্টুডেন্ট ভিসার শর্তের ওপর নির্ভর করে।   যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই কাজ ক্যাম্পাসের ভেতরে করার নিয়ম রয়েছে।   যুক্তরাজ্যে ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়। আর নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকে।   কানাডায় ক্লাস চলাকালে ক্যাম্পাসের বাইরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। তবে সরকারি ছুটির সময়ে কাজের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য নয়।   আর জার্মানিতে বছরে সর্বোচ্চ ১৪০ পূর্ণ দিন বা ২৮০ অর্ধদিবস কাজের অনুমতি রয়েছে। সেমিস্টারের সময় সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার নিয়ম রয়েছে।   এবার আসা যাক সম্ভাব্য আয়ের হিসাবে।   যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি ও রেস্তোরাঁ-হসপিটালিটি খাতে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টায় প্রায় ১১ থেকে ১৪ পাউন্ড আয় করতে পারেন। তবে গণিত, বিজ্ঞান বা ইংরেজির মতো বিষয়ে দক্ষ শিক্ষার্থীরা টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৩০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতে পারেন।   কানাডায় সাধারণ খণ্ডকালীন কাজে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কানাডীয় ডলার আয় করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সহকারী হিসেবে এই আয় ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৪০ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণা সহকারী হিসেবেও ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩৫ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে কানাডায় ন্যূনতম মজুরি প্রদেশভেদে আলাদা।   অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের মজুরি তুলনামূলক বেশি। খুচরা বিক্রি ও হসপিটালিটি খাতে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ থেকে ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার আয় করা যায়। আর টিউশনের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে।   তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শুধু খণ্ডকালীন চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিক পরিকল্পনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   খণ্ডকালীন কাজের আয় দিয়ে বাজার-সদাই, যাতায়াত ও মোবাইল বিলের মতো নিয়মিত কিছু খরচ সামলানো সম্ভব হলেও টিউশন ফি ও বাসাভাড়ার মতো বড় ব্যয়ের জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি।   কারণ কাজের সুযোগ সবসময় নিশ্চিত নয়, আর ভিসার নির্ধারিত সময়সীমার বেশি কাজ করাও আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে।   তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম, কাজের অনুমোদিত সময় এবং শ্রম আইন ভালোভাবে জেনে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন পেপাল ও ভেনমো ব্যবহার করে সরাসরি টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষাবিষয়ক খরচ পরিশোধ করতে পারছেন। নতুন এই পেমেন্ট সুবিধা ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে এবং চলতি বছর আরও প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হতে পারে।  প্রথম দিকের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলামাইন ইউনিভার্সিটি, বাটলার ইউনিভার্সিটি, কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অনলাইন পেমেন্ট পোর্টাল থেকেই পেপাল বা ভেনমোকে পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিতে পারবেন।    এই সুবিধা চালু করতে পেপাল শিক্ষা খাতের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইলুমিয়া, নেলনেট ক্যাম্পাস কমার্স ও টাচনেটের সঙ্গে নতুন ইন্টিগ্রেশন করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থী বা পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেমের ভেতর থেকেই পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। পেমেন্টের অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড অথবা পেপাল ও ভেনমো অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স থেকে দেওয়া যাবে।    তবে এই সুবিধা ব্যবহার করলেই যে অতিরিক্ত খরচ থাকবে না, তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সার্ভিস বা প্রসেসিং ফি নেওয়া হতে পারে। যেমন, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে টিউশন পরিশোধ করলে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস ফি প্রযোজ্য হবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি ভিন্ন হতে পারে।    কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিও ২০ ডলারের বেশি পেপাল ও ভেনমো লেনদেনে কমপক্ষে ৩ ডলার সার্ভিস ফি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই বড় অঙ্কের টিউশন পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামো দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।    পেপাল ও ভেনমোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব লেনদেনে এনক্রিপশন ও জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নন-ব্যাংক পেমেন্ট অ্যাপে রাখা অর্থ সবসময় প্রচলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকে না।    পেপালের কিছু নির্দিষ্ট ব্যালেন্স প্রোগ্রাম ব্যাংকের মাধ্যমে এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্সের আওতায় পড়তে পারে। তবে সব পেপাল বা ভেনমো ব্যালেন্স এই সুরক্ষা পায় না। পেপাল নিজেও জানিয়েছে, এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেয়, পেপালের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে নয়।    নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য টিউশন পরিশোধের পদ্ধতি আরও বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। তবে টিউশনের মতো বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি, পেমেন্টের উৎস এবং অর্থের সুরক্ষা সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে  বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু ভিসা নীতির পরিবর্তন, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, পড়াশোনার খরচ এবং শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে এখন অনেকেই বিকল্প দেশ বিবেচনা করছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে দেশ বদলাচ্ছেন। বরং শিক্ষা, চাকরি, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, ব্যবসা ও তুলনামূলক সহজ অভিবাসন ব্যবস্থা মিলিয়ে নতুন গন্তব্যের তালিকা তৈরি হচ্ছে।    বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার নতুন শ্রমবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের পাশাপাশি রোমানিয়া, পর্তুগাল, সেশেলসসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। জাপানেও টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম রয়েছে।    জাপান এখন বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত বিকল্পগুলোর একটি। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা, নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ থেকে জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি রপ্তানির সরকারি প্ল্যাটফর্মেও জাপানের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।    দক্ষিণ কোরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা দেশটিকে এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় শ্রমবাজারে পরিণত করেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তরুণরাও দক্ষিণ কোরিয়াকে কাজের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।   ইউরোপে জার্মানি এখন দক্ষ কর্মীদের অন্যতম বড় বিকল্প। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পখাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা রয়েছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন গাইডেও জার্মানিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।    পর্তুগালও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকারও পর্তুগালকে বৈধ শ্রমবাজার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইউরোপে যেতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি ক্রমেই পরিচিত বিকল্পে পরিণত হচ্ছে।    ইতালি অবশ্য নতুন গন্তব্যের চেয়ে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বৈধ শ্রমবাজারের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই ইউরোপে অভিবাসনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে গেলে ইতালিকে বাদ দেওয়া যায় না।   আয়ারল্যান্ডও বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হচ্ছে। ইংরেজিভাষী দেশ হওয়া এবং প্রযুক্তি, ওষুধ ও আর্থিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় দেশটি যুক্তরাজ্যের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই প্রবণতায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে বিভিন্ন শিক্ষা-অভিবাসন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।    সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই পরিবর্তনের বড় অংশ। বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি ব্যবসা, প্রযুক্তি, পেশাদারি সেবা ও উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো স্থায়ী অভিবাসনের পথ নয়; কাজ ও ব্যবসার সুযোগের পাশাপাশি ভিসার ধরন ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের নিয়ম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়া নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটি তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে।    সিঙ্গাপুরও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও উচ্চ দক্ষতার চাকরিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মীরা দেশটির দিকে তাকাচ্ছেন। তবে ছোট শ্রমবাজার এবং তুলনামূলক উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এখানে বড় বিষয়।   নিউজিল্যান্ডও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাইরে ইংরেজিভাষী একটি বিকল্প। দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য দেশটির বিভিন্ন ভিসা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দূরত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকের জন্য বড় বাধা।   এশিয়ার বাইরে আফ্রিকার কিছু দেশও নতুন সুযোগের কারণে নজরে আসছে। নাইজেরীয়দের ক্ষেত্রে ঘানা, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কেনিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নাইরোবি আফ্রিকার প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় প্রযুক্তি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের আকর্ষণ করছে।   মরিশাসও বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের জন্য একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। পর্যটন, আর্থিক সেবা ও ব্যবসার পরিবেশ দেশটিকে আফ্রিকা অঞ্চলে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।   উত্তর আফ্রিকার মরক্কো এবং ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্কও ব্যবসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কারণে নতুন করে বিবেচনায় আসছে। তবে এসব দেশে সুযোগ থাকলেও ভাষা, ভিসা, স্থানীয় শ্রমবাজার এবং স্থায়ী বসবাসের নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন।   সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের অভিবাসনের চিত্রে একটি পরিবর্তন স্পষ্ট। মানুষ শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে তাকিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার পাশাপাশি জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, রোমানিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডার মতো দেশও বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসী ও শিক্ষার্থীর কাছে বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনের কারণ ও সুযোগ এক নয়।   আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দেশকে শুধু “সহজে যাওয়ার দেশ” হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভিসা পাওয়া, কাজের অনুমতি, বেতন, কর, বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশের সুবিধা থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেয় না।   অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের মানচিত্র এখন একমুখী নয়। নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা কোথায় বেশি সুযোগ, কম ঝুঁকি এবং ভালো ভবিষ্যৎ পাওয়া যেতে পারে, সেই হিসাবেই বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন

এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান, কিন্তু এখনো আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর নেই? সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা কোর্স এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। তবে এর অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট ইংরেজি কোর্স, নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে পরে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পাঁচটি সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয় হলো জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, যোগ্যতা ও প্রোগ্রামের শর্ত আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি।   কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। তবে শিক্ষার্থীরা এই নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে সেই শর্ত পূরণের পথ নিতে পারেন।   বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই কার্যক্রমে এফ-১ শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনার সুযোগ এবং আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। একই সময়ে স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা অবস্থায় শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্ধারিত উচ্চতর ইংরেজি স্তর সফলভাবে শেষ করার পর শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পূর্ণাঙ্গ ভর্তিতে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়।   অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাস শুরু করার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এগোনোর সুযোগ রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, ফ্লোরিডা   ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে আবেদন করতে পারেন।   এখানে শিক্ষার্থীর ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা নির্ধারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের অষ্টম স্তর সফলভাবে শেষ করার পর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো স্কোরের প্রয়োজন থাকে না।   ফলে এইচএসসি বা সমমানের স্কুল শিক্ষা শেষ করা কোনো শিক্ষার্থীর কাছে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর প্রস্তুত না থাকলেও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, টেক্সাস টেক্সাসের ডেন্টনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ইংরেজি প্রস্তুতির সুযোগ দেয়।   এখানে নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষায় শ্রবণ, পড়া, ব্যাকরণ ও লিখিত ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ স্তর সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। শর্তসাপেক্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ইংরেজি কোর্সের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কোর্সেও পড়তে পারেন।   অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি মূল্যায়ন ও নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।   টেম্পল ইউনিভার্সিটি, পেনসিলভানিয়া পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি শিক্ষা এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য কোনো শিক্ষার্থী যদি টোফেল বা আইইএলটিএস স্কোর জমা না দেন, তাহলে তাকে অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি হয়।   টেম্পলের আমেরিকান ভাষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের বিশেষ ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমও এমন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পথ, যাদের ইংরেজির স্কোর সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য যথেষ্ট নয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন ইংরেজি ক্লাস, একাডেমিক সহায়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে পারেন।   তবে টেম্পল ইউনিভার্সিটির সরাসরি স্নাতক ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার স্কোর রয়েছে। তাই “আইইএলটিএস ছাড়া ভর্তি” বলতে এখানে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাসে ঢুকে যাওয়া নয়; বরং অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তি এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগকে বোঝায়।   ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা, আলাবামা আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী একাডেমিক ভর্তির শর্ত পূরণ করেন কিন্তু ইংরেজি ভাষা দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন না, তারা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন।   এই ব্যবস্থায় আবেদনের সময় ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর তারা ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে পারেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটের ছয়টি স্তর রয়েছে। শিক্ষার্থীর শুরুতে থাকা ইংরেজি দক্ষতা এবং শেখার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে প্রোগ্রাম শেষ করতে কত সময় লাগবে তা নির্ধারিত হয়। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ষষ্ঠ স্তর সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট ফলাফল অর্জন করাও ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণের একটি স্বীকৃত পথ।   তবে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পেতে শুধু ইংরেজি ভাষার শর্ত পূরণ করলেই হবে না। একাডেমিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।   আইইএলটিএস বা টোফেল একেবারেই লাগবে না? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝতে হবে। “আইইএলটিএস বা টোফেল ছাড়াই” কথাটির অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীর ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা, দক্ষতা পরীক্ষা বা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবহার করা হতে পারে। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি নিয়ে প্রথমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে হয়।   অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিকল্প পথে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগ থাকতে পারে।   এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর থাকলে সেটি অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ভর্তি বা ভাষার স্তর নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা যায়। তাই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয় বলে আইইএলটিএস বা টোফেল সব পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয়, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।   এফ-১ ভিসা ও আই-২০-এর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হওয়া বা আই-২০ পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা নিশ্চিত নয়। এফ-১ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস প্রক্রিয়া, ভিসা আবেদন এবং সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে।   কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখে। তবে আই-২০ পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   ভিসা সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে। তাই আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও ইংরেজিতে নিজের পড়াশোনার পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   খরচ ও একাডেমিক যোগ্যতাও দেখতে হবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকার কারণে শুধু ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা নিশ্চিত হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে একাডেমিক যোগ্যতা, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, আর্থিক সক্ষমতা, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে।   এ ছাড়া নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আলাদা শিক্ষার ফি ও অন্যান্য খরচ থাকতে পারে। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার আগে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ইংরেজি শেখার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম আলাদা। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অষ্টম স্তর, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ষষ্ঠ স্তর, ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউট এবং কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের শর্ত এক নয়। টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও অস্থায়ী ভর্তি ও ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমের আলাদা নিয়ম রয়েছে।   তাই এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ও শর্তসাপেক্ষ ভর্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করে। তবে এগুলোকে আইইএলটিএস বা টোফেলের “বিকল্প পরীক্ষা” হিসেবে নয়, বরং ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের বিকল্প ভর্তি-পথ হিসেবে দেখা উচিত।   আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ভর্তি নীতি, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার ফি, আর্থিক যোগ্যতা এবং এফ-১ ভিসাসংক্রান্ত নির্দেশনা অবশ্যই যাচাই করা উচিত। ভর্তি ও ইংরেজি ভাষার শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলে নিয়মিত গেলেই সপ্তাহে ১০০ ডলার
স্কুলে নিয়মিত গেলেই সপ্তাহে ১০০ ডলার! ডেট্রয়েটে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির জন্য নগদ ইন্সেন্টিভস

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে চালু হচ্ছে। নির্ধারিত সপ্তাহে প্রতিদিন সব ক্লাসে উপস্থিত থাকলে হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ১০০ ডলার এবং মিডল স্কুল শিক্ষার্থীরা ৫০ ডলারের ভিসা গিফট কার্ড পাবে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ডেট্রয়েট পাবলিক স্কুলস কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট তাদের 'পারফেক্ট অ্যাটেনডেন্স পেইস' কর্মসূচিতে মিডল স্কুল শিক্ষার্থীদেরও যুক্ত করছে।   এই কর্মসূচি অবশ্য নতুন নয়। ডেট্রয়েটের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপস্থিতি কমাতে আগের দুই বছর ধরে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত পাঁচ দিনের প্রতিটি চক্রে শতভাগ উপস্থিতি ধরে রাখতে পারলে একজন হাইস্কুল শিক্ষার্থী ১০০ ডলারের গিফট কার্ড পেয়েছে। পুরো কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ ছিল।   ডিস্ট্রিক্টের তথ্য অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ হাইস্কুল শিক্ষার্থী অন্তত একবার ১০০ ডলারের গিফট কার্ড পেয়েছে। ডেট্রয়েটের ২৬টি হাইস্কুলে মোট ১৫ হাজার ২৪৭ শিক্ষার্থী ছিল। অর্থাৎ প্রায় ৮৪ শতাংশ হাইস্কুল শিক্ষার্থী অন্তত একটি পেমেন্ট পেয়েছে।   শুধু স্কুলে হাজির হলেই অবশ্য টাকা পাওয়া যায় না। নির্ধারিত পাঁচ দিনের চক্রে শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন স্কুলে থাকতে হয় এবং নির্ধারিত প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। উপস্থিতির তথ্য স্কুলের রেকর্ডের মাধ্যমে যাচাই করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীদের গিফট কার্ড দেওয়া হয়।   কর্মসূচিটির ফলাফলও নজরে পড়ার মতো। ডিস্ট্রিক্টের হিসাবে, হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার কর্মসূচি শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে হাইস্কুল পর্যায়ে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এপ্রিলের শেষ নাগাদ তা কমে প্রায় ৫৪ শতাংশে নেমে আসে।   যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে কোনো শিক্ষার্থী একটি শিক্ষাবর্ষের মোট স্কুল দিবসের অন্তত ১০ শতাংশ অনুপস্থিত থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিত শিক্ষার্থী হিসেবে ধরা হয়। ১৮০ দিনের একটি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১৮ দিন বা তার বেশি স্কুল মিস করলে এই শ্রেণিতে পড়তে পারে একজন শিক্ষার্থী।   ডেট্রয়েটে সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পুরো ডিস্ট্রিক্টের প্রায় ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির তালিকায় ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, বিশেষ করে হাইস্কুল পর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।   এই কারণেই জানুয়ারি থেকে মার্চের সময়কে আর্থিক প্রণোদনার জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শীতের এই সময়টিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সাধারণত কমে যায়। অথচ একই সময়ে নিয়মিত ক্লাস করা ক্রেডিট অর্জন এবং সময়মতো গ্র্যাজুয়েশনের পথে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরে ১৮ দিন বা তার কম স্কুল মিস করা শিক্ষার্থীরা স্টেট অ্যাসেসমেন্টে গ্রেড লেভেল বা তার ওপরে ফল করার ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি সম্ভাবনাময়। এ কারণেই শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সরাসরি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার কৌশল বেছে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   আগের কর্মসূচিটি শুধু নবম থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সেটি মিডল স্কুলেও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ উপস্থিতির সপ্তাহে ১০০ ডলারের প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে, আর যোগ্য মিডল স্কুল শিক্ষার্থীরা একইভাবে সপ্তাহে ৫০ ডলার পাবে।   'পারফেক্ট অ্যাটেনডেন্স পেইস' ডেট্রয়েট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বৃহত্তর উপস্থিতি উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অংশ। ডিস্ট্রিক্টের 'ব্লুপ্রিন্ট ২০২৭' পরিকল্পনায় গড় দৈনিক উপস্থিতি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতির হার ৪২ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   স্কুলে উপস্থিতির বিনিময়ে সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও ডেট্রয়েট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য স্পষ্ট - শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে ফিরিয়ে আনা, পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বাড়ানো এবং তাদের গ্র্যাজুয়েশনের পথে ধরে রাখা।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ
রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৪ সেপ্টেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব রকেট ডিজাইন, নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের সুযোগ নিয়ে আবারও শুরু হচ্ছে নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে কলেজ ও ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি যোগ্য মিডল ও হাইস্কুল পর্যায়ের দলগুলো আবেদন করতে পারবে। নাসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবেদন বা প্রপোজাল জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল টাইম।   নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ মূলত নয় মাসব্যাপী একটি ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। এতে নির্বাচিত শিক্ষার্থী দলগুলোকে একটি হাই-পাওয়ার রকেট ডিজাইন, তৈরি, পরীক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করতে হয়। রকেটের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বা ইঞ্জিনিয়ারিং পেলোডও তৈরি করতে হয়। ফলে এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব মহাকাশ ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ কাছ থেকে শেখার সুযোগ।   পুরো কর্মসূচিটি পরিচালনা করে আলাবামার হান্টসভিলে অবস্থিত নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অফিস অব স্টেম এনগেজমেন্ট। চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকৌশল বিষয় তৈরিতে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম এবং আর্টেমিস কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনাররা যুক্ত থাকেন।   নাসার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগে অংশ নেওয়ার জন্য প্রপোজাল জমা দিতে পারে। এটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ এবং প্রপোজাল যাচাইয়ের পর দল নির্বাচন করা হয়।   ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগ। তবে এই পর্যায়ে সরাসরি সব স্কুল আবেদন করতে পারবে না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আমেরিকান রকেট্রি চ্যালেঞ্জের শীর্ষ ২৫টি স্কুল এবং রকেটস ফর স্কুলস প্রতিযোগিতার ক্লাস টু বিভাগের শীর্ষ সাতটি স্কুল নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রপোজাল জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। একটি স্কুল থেকে সর্বোচ্চ একটি দল অংশ নিতে পারবে।   চ্যালেঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিক্ষার্থীদের কাজ অনেকটাই নাসার বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ার আদলে পরিচালিত হয়। নির্বাচিত দলকে ধাপে ধাপে প্রিলিমিনারি ডিজাইন রিভিউ, ক্রিটিক্যাল ডিজাইন রিভিউ, ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ এবং লঞ্চ রেডিনেস রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ করেই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হবে।   রকেট উৎক্ষেপণের পরও কাজ শেষ হবে না। শিক্ষার্থীদের রকেটের ফ্লাইট ও পেলোড থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে এবং পোস্ট লঞ্চ অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ডিজাইন, পরীক্ষা, উৎক্ষেপণ এবং ফলাফল বিশ্লেষণ পর্যন্ত পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফসাইকেলের অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করে নাসা।   ২০২৭ সালের স্টুডেন্ট লঞ্চের চূড়ান্ত আয়োজন হবে আলাবামার হান্টসভিলে। নাসার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, লঞ্চ ডে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ এপ্রিল ২০২৭। এখানেই বিভিন্ন দলের তৈরি হাই-পাওয়ার রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে।   নাসা বলছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের রকেট বানানো শেখানো নয়। ভবিষ্যতের স্টেম ও অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি তৈরির জন্য বাস্তব গবেষণা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আগ্রহী করে তোলার বিষয়টিও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।   আগ্রহী কলেজ ও ইউনিভার্সিটি এবং যোগ্য স্কুল দলগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ১৪ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার মধ্যেই নাসার কাছে প্রপোজাল জমা দিতে হবে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
২০ বছরের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সামা সাফি অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি কারাগারে
২০ বছরের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সামা সাফি অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি কারাগারে, মুক্তির দাবি রাশিদা তালিবের

ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সামা সাফিকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি সামরিক হেফাজতে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব। সামার মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   সামা সাফি পশ্চিম তীরের বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ২ জুন ভোরে রামাল্লার কাছে পরিবারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আটক করে। একই অভিযানে বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন নারী শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ওইদিন পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে মোট ৩১ জনকে আটক করা হয়েছিল।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সামা ও অন্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈরী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রচার এবং অন্যান্য সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তবে সামার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আইনজীবীও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।   সামার পরিবার জানিয়েছে, তার একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে এবং নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এ কারণে হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও তার আটকের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।   সামার মুক্তির দাবিতে এরই মধ্যে কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা সরব হয়েছেন। ১২ জুন দেওয়া এক বক্তব্যে রাশিদা তালিব বলেন, সামা একজন ২০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ও শিক্ষার্থী এবং তার একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। তার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন সরকারকে তাকে মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।   মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেনও সামার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ভোরে সামাকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে গেলেও তাকে কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তার পরিবার বা মার্কিন দূতাবাসকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি।   সামাকে প্রথমে পশ্চিম তীরের ওফার সামরিক কারাগারে নেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাকে জেরুজালেমের একটি ইন্টারোগেশন সেন্টারে স্থানান্তরের তথ্যও এসেছে। সামার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হেফাজতে রয়েছেন।   সামার ঘটনা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের আটকের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এসব আটকের পক্ষে অবস্থান নিলেও, ফিলিস্তিনি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ভার্জিনিয়ার একটি স্কুলে শিক্ষকের ওপর হামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ন্ত্রণে আনে সহপাঠীরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ওপর ছুরি হামলার ঘটনায় দ্রুত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হামলার পর তারা অভিযুক্ত সহপাঠীকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় শেরিফের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার লি কাউন্টির জোনসভিল মিডল স্কুলে। অভিযুক্ত ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ছুরি দিয়ে একজন শিক্ষককে আঘাত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। লি কাউন্টির শেরিফ গ্যারি পারসন্স জানান, শিক্ষককে আঘাত করার পরপরই কয়েকজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এগিয়ে আসে। তারা হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে ধরে রাখে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   শেরিফ পারসন্স বলেন, "শিক্ষার্থীরা প্রশংসার দাবিদার। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ সম্ভবত আরও বড় ক্ষতি ঠেকিয়েছে। অন্তত শিক্ষকের জীবন রক্ষা করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।" শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, আহত শিক্ষক প্রাণঘাতী নয় এমন আঘাত পেয়েছেন। তার ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও কর্মীরা নিরাপদ ছিলেন। হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের রান্নাঘর থেকে একটি রান্নার ছুরি নিয়ে এসেছিল। সেই ছুরি দিয়েই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ।   ঘটনার পর ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর জখমের উদ্দেশ্যে হামলা এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সম্ভাব্য কারণ এবং হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। ভার্জিনিয়ার এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক, ক্যাম্পাস লকডাউন

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক পাওয়ার পর তাকে আটক করেছে স্কুল পুলিশ। বুধবার সকালে সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেসের সান্টি হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় পুরো স্কুল লকডাউন রাখা হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্লাস আবার শুরু হয়।   লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি ঝামেলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিকভাবে তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশির সময় এক শিক্ষার্থীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়।   এরপর ওই শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেয় স্কুল পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর বয়স ও পরিচয় প্রকাশ করেনি।   ঘটনাটি ঘটে লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই। ফলে ক্যাম্পাসে বন্দুক পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুলের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।   পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সান্টি হাইস্কুল কিছু সময় লকডাউনে রাখা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে লকডাউন তুলে নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাসে ফিরে যায়।   ঘটনায় কাউকে গুলি করা হয়েছে বা কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দুকটি কী অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং সেটি আগে কোনোভাবে ফায়ার হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে বিপজ্জনক কোনো বস্তু নিয়ে আসা নিষিদ্ধ। এমনকি দেখতে অস্ত্রের মতো বা বিপজ্জনক বস্তু বলে মনে হতে পারে এমন জিনিসও স্কুলে না আনতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। অভিভাবকদেরও সন্তানদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং বিপজ্জনক কার্যকলাপ এড়িয়ে চলার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানানো হয়েছে।   স্কুলের প্রথম দিনেই এমন ঘটনা ঘটায় ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্কুলে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।   সান্টি হাইস্কুলে পাওয়া বন্দুকটি কোথা থেকে এসেছে, শিক্ষার্থী কেন সেটি স্কুলে এনেছিল এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি আনছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়
মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি আনছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। আগামী শরৎ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এই গ্রেডিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস-এ ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম সেমিস্টারে প্রচলিত লেটার গ্রেড পাবেন না। তাদের সরকারি একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টে শুধু কোনো কোর্সের ক্রেডিট অর্জিত হয়েছে কি না তা উল্লেখ থাকবে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, কলেজটির শিক্ষার্থীরাই মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট প্রায় ৮ হাজার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীর অর্ধেকের কাছাকাছি।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, কলেজজীবনের প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের নতুন পরিবেশ ও পড়াশোনার চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে গ্রেডের কারণে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ক্ষতির ভয় ছাড়াই শিক্ষার্থীরা নতুন বিষয় বা তুলনামূলক কঠিন কোনো কোর্স বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কোনো গ্রেডই থাকবে না। শিক্ষকেরা অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গ্রেড সংরক্ষণ করবেন। এসব তথ্য সম্মাননা, বৃত্তি ও অন্যান্য একাডেমিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে।   অন্যদিকে, সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টে প্রথম সেমিস্টারের লেটার গ্রেড না থাকায় শিক্ষার্থীদের জিপিএতেও ওই সেমিস্টারের গ্রেডের প্রভাব পড়বে না।   বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থাটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী শরৎকালে এর বিস্তারিত কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।   কেন এমন পরিবর্তন?   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কলেজের প্রথম বছর বিশেষ করে প্রথম সেমিস্টার অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের সময়। নতুন পরিবেশ, পড়াশোনার চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে অনেকেই মানসিকভাবে লড়াই করেন। ফলে একটি খারাপ গ্রেড যেন পুরো একাডেমিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব না ফেলে, সেই সুযোগ তৈরি করতেই নতুন পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তবে এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় গ্রেডের মান, গ্রেড বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা এবং কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্ক চলছে।   মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও গ্রেড বাড়ার প্রবণতা নিয়ে তথ্য সামনে এসেছে। এমলাইভের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ গ্রেড ‘এ’ পর্যায়ে ছিল। এক দশক আগে এই হার ছিল ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গ্রেডিং নিয়ে ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ রয়েছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মতো বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক নমনীয় গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য এক নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাদের একটি অংশ সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রথম সেমিস্টারের গ্রেড নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রেডের চাপ কমলে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলের পেছনে না ছুটে শেখার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।   তবে সমালোচকরাও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রথম সেমিস্টারে সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টে গ্রেড না থাকলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। কেউ কেউ এটিকে উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক মানদণ্ড আরও শিথিল করার প্রবণতা হিসেবেও দেখছেন।   সব মিলিয়ে, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় গ্রেড, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী শরৎ থেকে শুরু হওয়া পাইলট কর্মসূচির ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হয়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ও অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধ করা যাবে।   সোমবার (১০ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্মে কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে অনেক বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভর্তি প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের এমন সুবিধার চাহিদা বাড়ছিল।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষা ব্যয় বহনকারী ব্যক্তি বা অভিভাবকের নামে এসব আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করা যাবে। কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ পরিশোধ করা যাবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শিক্ষা-সংক্রান্ত এসব কার্ড লেনদেনকে বিদ্যমান ভ্রমণ কোটার বাইরে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অনুমোদিত শিক্ষা ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করবে।   তবে এই সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত আইন, নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে হবে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে কার্ডের মাধ্যমে শুধু অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয়ই পরিশোধ করা হচ্ছে।   এ ছাড়া প্রতিটি লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত ‘পারপাস কোড’ ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন করতে হবে।   নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ থেকে টিউশন ফি পাঠানোর প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্ম সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০