শিক্ষার্থী

বনগ্রাম বেনিয়াজী দাখিল মাদ্রাসা, চাটমোহর, পাবনা।
প্রবেশপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বনগ্রাম বেনিয়াজী দাখিল মাদ্রাসায় প্রবেশপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এ নিয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।   সোমবার (২০ এপ্রিল) মাদ্রাসায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। এ সময় ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী লিখন, নাঈম, সিয়াম, সানজিদা জানায়, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র পেতে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এর আগে নির্বাচনী পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে প্রতি বিষয়ে ৩০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।   এদিকে ফয়জাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম নবী নামে কয়েকজন অভিভাবক জানান, এর আগে দাখিল পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফি ১ হাজার ৯৫০ টাকা হলেও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এখন যদি আবার ফরম ফিলাপের জন্য নেয়, তাহলে আগে নির্ধারিত ফির বাইরে এত টাকা কেন নেয়া হলো। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।   অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আফতাব উদ্দিন বলেন, ফরম ফিলাপের সময় শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র ফি পরে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে অনুযায়ী নির্ধারিত ফি নিয়েই ফরম ফিলাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। মাদ্রাসা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ বিভাগের জন্য ৪০০ এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ৪৫০ টাকা কেন্দ্র ফি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।   তবে বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পরিস্কার করে কিছু বলেননি তিনি। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।   চাটমোহর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম বলেন, ফরম ফিলাপের সময় কেন্দ্র ফি সহ টাকা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বোর্ডের অংশ বোর্ডে জমা দিয়ে বাকি টাকা প্রতিষ্ঠান তহবিলে রাখা হয় এবং পরে কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।   তিনি আরও বলেন, যদি রশিদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা ফেরত দিতে হবে এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।   এ ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ফটো।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসার নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করলে শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। দূতাবাস জানায়, পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া কিংবা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আপনি যদি পড়াশোনা ছেড়ে দেন, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে আপনার স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ান, তবে আপনার শিক্ষার্থী ভিসাটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।’ ভিসা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্যতা নিয়েও সাবধান করেছে দূতাবাস। বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও চিরতরে হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ছাত্র হিসেবে নিজের বৈধ অবস্থান (স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস) বজায় রাখতে সব সময় ভিসার শর্তাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ ও দিকনির্দেশনা সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা 'আইসিইএফ মনিটর'-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।  অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান 'ফ্র্যাগমেন'-এর সহযোগিতায় প্রকাশিত এই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের জন্য ভিসার জটিলতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদের প্রস্তাবিত পরিবর্তন। আগে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত 'ডিউরেশন অফ স্ট্যাটাস' (D/S) সুবিধার আওতায় থাকতে পারতেন। তবে নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (সাধারণত ৪ বছর) জন্য শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হতে পারে। কোর্সের মেয়াদ বেড়ে গেলে তাদের নতুন করে 'এক্সটেনশন অফ স্টে' (EOS) আবেদন করতে হবে, যার জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অতিরিক্ত ফি প্রদানের প্রয়োজন পড়বে। স্ক্রিনিং কোর্স শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার বা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আগে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত, যা এখন কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোতে (পোর্ট অফ এন্ট্রি) কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) কর্মকর্তাদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া আরও জোরালো করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের হাতে যথাযথ নথিপত্র এবং আই-২০ (I-20) ফরমের সকল তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথ (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় 'স্টেম ওপিটি' (STEM OPT) সুবিধাটি নিয়ে ২০২৬ সালে কড়াকড়ি বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক ওপিটি এবং এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। ফলে মাঝপথে পড়ালেখা বা প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় প্রবেশাধিকার পাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সময় (যেমন এফ-১ থেকে ওপিটি বা এইচ-১বি) দেশের বাইরে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো আবেদন পেন্ডিং থাকা অবস্থায় দেশ ত্যাগ করলে তা আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হলেও ২০২৬ সালের নতুন এই নীতিগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। যারা ২০২৬ সালের সেশনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা (Financial Proof) এবং একাডেমিক লক্ষ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালায় অভ্যস্ত হতে অভিজ্ঞ শিক্ষা পরামর্শক বা আইডিপি (IDP) এর মতো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তথ্যসূত্র: আইসিইএফ মনিটর ও ফ্র্যাগমেন (Fragomen) রিপোর্ট।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
এক তরুণীর সাফল্য
হাসপাতালের ঝাড়ুদার থেকে সেই হাসপাতালেরই ডাক্তার, ভাইরাল হল এক তরুণীর সাফল্য

একটি অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যি গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। যুক্তরাষ্ট্রের এক মেডিকেল শিক্ষার্থী, শে টেইলর-অ্যালেন, জীবনের এক পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করতে চলেছেন — যে হাসপাতালে তিনি জন্মেছিলেন এবং এক সময় ঝাড়ুদারের কাজ করেছিলেন, সেই একই হাসপাতালে এবার তিনি ডাক্তার হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন।   গত শুক্রবার তিনি জানতে পারেন যে তিনি তার প্রথম পছন্দের রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম, ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনে সুযোগ পেয়েছেন। খবরটি জানার পর নিজের আনন্দের মুহূর্তের একটি ভিডিও তিনি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন, যা খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং কয়েক মিলিয়নের বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখেছে।   ৩২ বছর বয়সী টেইলর-অ্যালেন জানান, তিনি শুধু ইয়েল নিউ হ্যাভেন হাসপাতালে জন্মই নেননি, ১৮ বছর বয়সে তিনি সেখানে ঝাড়ুদার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। তখন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে একদিন একই হাসপাতালে তিনি ডাক্তার হিসেবে ফিরে আসবেন।   তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর তিনি এতটাই আনন্দিত হয়ে পড়েছিলেন যে লাফাতে লাফাতে মনে হচ্ছিল মাটি ভেঙে যাবে। বর্তমানে তিনি হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের শিক্ষার্থী এবং মে মাসে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগে রেসিডেন্সি শুরু করবেন।   টেইলর-অ্যালেন জানান, ছোটবেলায় তিনি ডাক্তার হওয়ার কথা ভাবেননি। কলেজে পড়ার সময় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মাকে সাহায্য করতে গিয়ে চিকিৎসকদের কাজ কাছ থেকে দেখেন, তখনই তার মনে হয় তিনি ডাক্তার হতে চান।   মায়ের অসুস্থতার সময় তিনি ইয়েল হাসপাতালেই ঝাড়ুদারের কাজ করতেন। সেই সময় তিনি হাসপাতালের এক কর্মকর্তার সঙ্গে নিজের পরিবারের সমস্যার কথা বলেন, এবং সেই কর্মকর্তা তাদের সাহায্য করেন। সেই ঘটনাই তাকে অনুপ্রাণিত করে অন্য মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখতে।   তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছিল যে একজন মানুষ অন্যের জীবনে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, আর তখনই তিনি ঠিক করেন যে তিনি একদিন ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।   ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের চেয়ার ডা. লিসা লেফার্ট এক বিবৃতিতে জানান, তারা ডা. শে টেইলর-অ্যালেনকে তাদের দলে পেয়ে খুবই আনন্দিত এবং তিনি ভবিষ্যতে রোগীদের সেবা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।   এই সাফল্যের গল্প অন্য তরুণীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। টেইলর-অ্যালেন বলেছেন, কেউ যদি স্বপ্ন দেখে, তাহলে তাকে থামানো উচিত নয়। তিনি বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাদের খুব প্রয়োজন, এবং তারা চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় বড় সুখবর: শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথে ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর হতে চলেছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, বিশেষ করে যারা জাপান, কোরিয়া, চীন বা জার্মানির মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান, তাদের ব্যাংক গ্যারান্টির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী এই ঋণের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। এই ঋণ কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতিমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের মূল পয়েন্টগুলো: শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ: বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি সহায়তায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাষার দক্ষতা: প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে তারা বিদেশের মাটিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে ভালো বেতনে কাজ করতে পারেন। ভিসা জটিলতা নিরসন: ইউরোপের দেশগুলোর কনস্যুলার সেবা বা ভিসা অফিস যেন বাংলাদেশেই নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বাজার অনুসন্ধান: মালয়েশিয়াসহ বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালুর পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0