যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে সিগারেট চোরাচালান এবং জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স বা কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে সাদ আল কুতাইবি (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাথে আদালত তাকে রাজ্য সরকারকে ৬৮ হাজার ডলারেরও বেশি (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বাল্টিমোরের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাল্টিমোরের বাসিন্দা সাদ আল কুতাইবি রাজ্যে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সিগারেট আমদানি এবং কর জاليةতির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ট্যাক্স স্ট্যাম্প জাল করা এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট মজুত রাখার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের এই জরিমানা করেন।
তদন্তকারীরা জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে আল কুতাইবি নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে ট্যাক্স ছাড়া কম দামে সিগারেট কিনে মেরিল্যান্ডে নিয়ে আসতেন। এরপর সেখানে আসল ট্যাক্স স্ট্যাম্পের মতো দেখতে শত শত নকল বা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে প্রতি প্যাকেটে ৫ ডলার করে সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি দিতেন। পরবর্তীতে সেই সিগারেটগুলো সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে তিনি বিপুল টাকা হাতিয়ে নিতেন। গোয়েন্দা পুলিশ বাল্টিমোরে তার প্রধান আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে ৮ হাজারেরও বেশি ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের প্যাকেট এবং প্রচুর জাল স্ট্যাম্প উদ্ধার করে।
মেরিল্যান্ডের অ্যালকোহল, টোব্যাকো অ্যান্ড ক্যানাবিস কমিশনের (এটিসিসি) নির্বাহী পরিচালক জেфরি এ. কেলি বলেন, "সিগারেটের ওপর ট্যাক্স ধরা হয় মূলত জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে, যাতে অপ্রাপ্তবয়স্করা সহজে তামাকজাত পণ্য কিনতে না পারে এবং ধূমপানজনিত রোগের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা খরচ চালানো যায়। এই সফল অভিযানের ফলে জاليةতি করে ব্যবসায়ীদের ঠকানোর পথ বন্ধ হলো।"
অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্থনি ব্রাউন সতর্ক করে বলেন, যারা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ও জালিয়াতি করে নিজেদের পকেট ভারী করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন সবসময় কঠোর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রক্ষণশীল নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন সংস্কারপন্থীদের একাংশের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থায় জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থের তুলনায় পারিবারিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা শ্রমবাজার, অর্থনীতি এবং সামাজিক অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় তারা শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অবদানকে ভিত্তি করে একটি মেরিটভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বর্তমান মার্কিন অভিবাসন কাঠামোর ভিত্তি গড়ে ওঠে ১৯৬৫ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে। এই আইনের ফলে পারিবারিক পুনর্মিলনকে অভিবাসনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রিন কার্ড পান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনের স্পন্সরশিপের মাধ্যমে। সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থায় আবেদনকারীর শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে গৌণ হয়ে পড়ে। অভিবাসন সংস্কারের সমর্থকরা বলছেন, একটি দেশের অভিবাসন নীতির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তাদের মতে, পরিবার একত্রিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রত্যেক অভিবাসীর বিস্তৃত পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের নীতি কাঠামোর অংশ হওয়া উচিত নয়। তারা আরও দাবি করেন, বর্তমানে চালু কিছু কর্মসূচি এই চাপ আরও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ডাইভার্সিটি ভিসা লটারির সমালোচনায় বলা হচ্ছে, প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ শুধুমাত্র ভাগ্যের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান, যেখানে দক্ষতা বা অর্থনৈতিক অবদান রাখার সক্ষমতার মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক নয়। অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের একটি বড় অংশকে নির্বাচিত করা হয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে, দক্ষতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়। তাদের দাবি, এর ফলে নিম্নদক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি সেবার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা উল্লেখ করেন, বহু সফল উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং ব্যবসায়ী প্রথমে পরিবারভিত্তিক ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরবর্তীতে দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তবুও মেরিটভিত্তিক অভিবাসনের পক্ষে আলোচনা ও চাপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বয়স এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অবদানের ভিত্তিতে পয়েন্ট নির্ধারণের কথা বলা হচ্ছে। সর্বোচ্চ পয়েন্টপ্রাপ্ত আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরনের পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা দাবি করেন, এতে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণ করা সহজ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই মেরিটভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দেন, আধুনিক অর্থনীতির জন্য উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ অভিবাসী প্রয়োজন, যারা দ্রুত শ্রমবাজারে যুক্ত হয়ে কর প্রদান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় নিম্নদক্ষ অভিবাসন সীমিত করা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেওয়া, আমেরিকান মূল্যবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার প্রদান এবং বিদেশি শ্রমিকের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের প্রতিস্থাপনের সুযোগ কমানোর বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে আশ্রয়, শরণার্থী এবং অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচির সংস্কারের কথাও আলোচনায় রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এসব কর্মসূচি মানবিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সীমিত থাকা উচিত এবং অর্থনৈতিক অভিবাসনের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়। অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে মানুষকে মূল্যায়ন করা যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক অভিবাসন নীতির মানবিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তার বৈচিত্র্য, পরিবারভিত্তিক সামাজিক কাঠামো এবং মানবিক মূল্যবোধের মধ্যেই নিহিত। কংগ্রেস ভবিষ্যতে কোনো বড় অভিবাসন সংস্কার গ্রহণ করলে, সেখানে মূল বিতর্কের কেন্দ্রে থাকবে একটি মৌলিক প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি পরিবারভিত্তিক অভিবাসন কাঠামো বজায় রাখবে, নাকি মেরিটভিত্তিক ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন নীতি গঠন করবে। এই সিদ্ধান্তই আগামী দশকে দেশটির জনসংখ্যা, শ্রমবাজার এবং অভিবাসন নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'এক্সেল এনার্জি' গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর একটি নতুন প্রস্তাব করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রাহকদের স্পষ্ট দাবি, নিয়মিত চড়া বিল পরিশোধ করলেও তারা কোনো নির্ভরযোগ্য বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না। গত মঙ্গলবার কলোরাডো পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের এক গণশুনানিতে সাধারণ মানুষ এই ক্ষোভের কথা জানান। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডোর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্সেল এনার্জি শুরুতে রাজ্য সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৩৫৫.৬ মিলিয়ন ডলার বাড়তি রাজস্ব আদায়ের আবেদন করেছিল। তবে গ্রাহকদের প্রবল আপত্তির মুখে একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সেই প্রস্তাব প্রায় ৩৭ শতাংশ কমিয়ে ২২৪.৯ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে কলোরাডোর একজন সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৫.৮৬ শতাংশ বা মাসে গড়ে ৬.১৩ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যাবে। কলম্বাইন নোলস এলাকার বাসিন্দা ক্যারি কার্টার শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে, সেখানে কেন বাড়তি বিল দেওয়া হবে? তিনি জানান, ২০২৫ সালের শেষ ছয় মাসে তাদের এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২ বার কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো কয়েক ঘণ্টা, আবার কখনো পুরো সপ্তাহান্ত জুড়ে বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে তাদের। এতে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়া, ক্যাম্পিং স্টোভে রান্না করা এবং তীব্র গরমে বরফ কিনে খাবার তাজা রাখার মতো বাড়তি মানসিক ও আর্থিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। এমনকি অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল এক বৃদ্ধ প্রতিবেশীকে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘর ছাড়তে হয়েছিল। গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বলেন, এক্সেল এনার্জি যেহেতু এই অঞ্চলে একচেটিয়া ব্যবসা করছে, তাই সেবার মান উন্নত না করে তাদের বিল বাড়ানোর কোনো অধিকার নেই। এদিকে এক বিবৃতিতে এক্সেল এনার্জি জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে তারা কলোরাডোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার পোল পরিবর্তন, ৪০০ মাইলের বেশি নতুন সঞ্চালন লাইন এবং নতুন সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, এই বিল বৃদ্ধির হার বর্তমান মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম এবং কলোরাডোর মানুষের বিদ্যুৎ বিল এখনো আমেরিকার অন্যান্য রাজ্যের গড় বিলের চেয়ে কম রয়েছে। তবে গ্রাহক ক্যারি কার্টারের মতে, এটি এখন স্রেফ বিশ্বাসের বিষয়। তিনি বলেন, "আমি তাদের কথা বিশ্বাস করি না, কারণ আমাদের এলাকায় সেবার কোনো উন্নতিই চোখে পড়েনি।" বিল বৃদ্ধির এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বর্তমানে পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের পর্যালোচনায় রয়েছে এবং চলতি গ্রীষ্মের শেষের দিকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি প্রাইভেট বিমান হাইওয়ের ওপর বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে লারেডো শহরের লুপ ২০ হাইওয়ের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি উল্টে গিয়ে হাইওয়ের ওপর পড়ে আছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনে পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণের আশঙ্কাও তৈরি হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। ল্যারেডো পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানে মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বাকি পাঁচজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতরা বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় দুই ব্যক্তি, একজন হাতুড়ি এবং অন্যজন শাবল ব্যবহার করে বিমানের ককপিটের কাঁচ ভেঙে ভেতরে আটকে পড়াদের বের করার চেষ্টা করেন। বিমানটি নেটজেটস পরিচালিত একটি সেসনা সাইটেশন ল্যাটিচিউড মডেলের প্রাইভেট জেট ছিল। এটি মেক্সিকোর সান হোসে দেল কাবো থেকে উড্ডয়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনের দিকে যাচ্ছিল। পরে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বিমানটি লারেডোর দিকে ডাইভার্ট করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লারেডো বিমানবন্দরের কাছে পৌঁছানোর সময় পাইলট যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানান এবং কিছুক্ষণ পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানটি লুপ ২০ হাইওয়ের ওপর জরুরি অবতরণের চেষ্টা করে। এ সময় এটি চলন্ত একটি গাড়িকে আঘাত করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাটিকে “হলিউড সিনেমার দৃশ্যের মতো” বলে বর্ণনা করেন। তারা জানান, আগুন ও ধ্বংসাবশেষের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ল্যারেডো পুলিশের মুখপাত্র জোসে বায়েজা বলেন, “দুঃখজনকভাবে এই ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এটি একটি ট্র্যাজিক ঘটনা।” পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং পরিবারের সদস্যদের জানানো না পর্যন্ত কারও নাম প্রকাশ করা হবে না। বিমান কোম্পানি নেটজেটস জানিয়েছে, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। লারেডো শহরের মেয়র ড. ভিক্টর ত্রেভিনো বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমান থেকে বিরত থাকা উচিত।যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনার পর লুপ ২০ হাইওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন সড়কের একটি অংশ আংশিকভাবে বন্ধ থাকবে।