সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নতুন আমদানি শুল্ক ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২১:৮
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ ঘোষিত আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে একযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে আগের শুল্কনীতির আইনি ভিত্তি বাতিল হওয়ার পর প্রশাসন নতুন নামে একই ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছে, যা আইনসম্মত নয়।

 

সোমবার দায়ের করা মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউস নতুন শুল্ক আরোপের যে আইনি যুক্তি দেখিয়েছে, তা মূলত আগের বাতিল হওয়া নীতিকে ভিন্ন উপায়ে কার্যকর করার প্রচেষ্টা।

 

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বে আরোপ করা অনেক শুল্কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আইনি ভিত্তি প্রেসিডেন্টকে ওই ধরনের কর আরোপের ক্ষমতা দেয় না। সেই রায়ের পরই নতুন শুল্ক ঘোষণাকে ঘিরে আইনি বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও প্রশাসন আবারও পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে নতুন করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।”

 

গত মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউস নতুন শুল্কের ঘোষণা দেয়। প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যায্য আচরণ এবং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রেসিডেন্টের বিদ্যমান ক্ষমতার আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

 

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। তাই বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী আরোপিত শুল্ক বৈধ এবং প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদ থেকেই এটি কার্যকর ও টেকসই একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

 

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্কের হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর প্রযোজ্য হবে, যেগুলো মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ সরবরাহ করে।

নতুন ব্যবস্থায় কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো ও তাইওয়ানের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।

 

এটি নতুন শুল্ককে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা নয়। গত ২৩ জুলাই শুল্ক ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও পৃথক দুটি মামলা করে। সেসব মামলায়ও অভিযোগ করা হয়, নতুন শুল্ক কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং হোয়াইট হাউস ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, কীভাবে এই ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে জোরপূর্বক শ্রম কমাতে কার্যকর হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াই শুধু শুল্ক নীতির বৈধতাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য-সংক্রান্ত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি কার্যকর থাকবে কি না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল, তবু এইচ-১বি অনুমোদনের হার ৯৭ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল, তবু এইচ-১বি অনুমোদনের হার ৯৭ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত তিন লাখেরও বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে। গত ১ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এই রেকর্ড সংখ্যক ভিসা বাতিলের তথ্যটি প্রকাশ করে।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে এই নজিরবিহীন পর্যালোচনার ফলে গত ১০ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাতিলকৃত ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসার সংখ্যাটি লাফিয়ে লাফিয়ে তিন লাখের ঘরে পৌঁছায়। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব ভিসা মূলত অপরাধমূলক কার্যকলাপ, জননিরাপত্তা উদ্বেগ, অভিবাসন লঙ্ঘন এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানের কারণে বাতিল করা হয়েছে।   বিশেষ করে 'বার্থ ট্যুরিজম' বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে চার হাজারেরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭০০টিরও বেশি চীনা নাগরিকদের ভিসা।   কঠোর এই অভিবাসন নীতির কারণে ভিসা বাতিলের হিড়িক পড়লেও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসার ক্ষেত্রে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (৩০ জুন পর্যন্ত) এইচ-১বি ভিসা অনুমোদনের হার ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ!   এ সময় ২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫০টি আবেদনের মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪১৯টি আবেদনই অনুমোদন পেয়েছে এবং বাতিল হয়েছে মাত্র ৮,২৩১টি আবেদন। এর পাশাপাশি আরও ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪০৪টি আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।   এইচ-১বি ভিসা অনুমোদনের এই বিশাল সংখ্যার পেছনে মূলত পুরনো কর্মীদের অবদানই বেশি। ইমিগ্রেশন ডেটা ট্র্যাকার ‘লেঅফএআই’ (LayoffAI)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট অনুমোদিত ভিসার মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশই (১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩টি) ছিল ‘কন্টিনিউয়িং এমপ্লয়মেন্ট’ বা বিদ্যমান এইচ-১বি কর্মীদের মেয়াদ বৃদ্ধি, সংশোধন বা অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে বদলির আবেদন।   অন্যদিকে, নতুন নিয়োগের জন্য অনুমোদিত ভিসার পরিমাণ ছিল ৩২ শতাংশ। ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক দিক, কারণ তারা এইচ-১বি কর্মীবাহিনীর একটি বড় অংশ দখল করে আছেন। তবে তিন লাখ ভিসা বাতিলের তালিকায় ঠিক কতজন এইচ-১বি ভিসাধারী বা ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, সে সম্পর্কে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখনও সুস্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:৫৮
বাঁয়ে ওপরে আবদুল এল-সায়েদ, নিচে বারাক ওবামা। ডানে মাইক জনসন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

মূল্যস্ফীতি থেকে ইরান যু দ্ধ, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ৫ কারণ

রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?

রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?

কোভিড ত্রাণের দেড় লাখ ডলার আত্মসাৎ, ৩০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে মার্কিন কলেজ শিক্ষিকা

কোভিড ত্রাণের দেড় লাখ ডলার আত্মসাৎ, ৩০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে মার্কিন কলেজ শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সে আবারও বাড়ল ব্যাগেজ ফি
যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সে আবারও বাড়ল ব্যাগেজ ফি, প্রথম চেকড ব্যাগের ফি বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ ডলার

মার্কিন এয়ারলাইন্স কোম্পানি জেটব্লু তাদের পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানির বাড়তি দাম সামাল দিতে চেকড ব্যাগেজ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এই ফি বাড়াল নিউইয়র্কের কুইন্স-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে গত মার্চ মাসে তারা ব্যাগেজ ফি ৯ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশির ভাগ ইকোনমি ফ্লাইটের যাত্রীদের প্রথম চেকড ব্যাগের জন্য অফ-পিক বা সাধারণ সময়ে ৫০ ডলার (আগে ছিল ৩৯ ডলার) এবং পিক বা ব্যস্ত সময়ে ৫৫ ডলার (আগে ছিল ৪৯ ডলার) ফি গুনতে হবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।   সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেটব্লু জানিয়েছে, যাত্রীদের বেস ফেয়ার প্রতিযোগিতামূলক রাখতে এবং শুধুমাত্র প্রয়োজনে ব্যাগ নেওয়ার স্বাধীনতা দিতেই এই ফি বাড়ানো হয়েছে। তবে যাত্রীরা যদি ফ্লাইটের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে ব্যাগেজ যুক্ত করেন, তবে প্রথম ব্যাগের ওপর ১৫ ডলার পর্যন্ত ছাড় পাবেন।   এই বাড়তি খরচের হাত থেকে রেহাই পাবেন প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট কার্ডধারী ও বিশেষ সদস্যরা। জেটব্লু প্লাস, বিজনেস এবং প্রিমিয়ার কার্ডধারীরা নিজেদের ও তাদের তিন জন ভ্রমণসঙ্গীর জন্য একটি করে ব্যাগ বিনা মূল্যে চেক ইন করতে পারবেন। পাশাপাশি ট্রুব্লু মোজাইক সদস্যরা একটি এবং মোজাইক ২, ৩ ও ৪ সদস্যরা বিনা মূল্যে দুটি চেকড ব্যাগের সুবিধা পাবেন।   ব্যাগেজ ফি বাড়ানোর এই মিছিলে জেটব্লু অবশ্য একা নয়; গত এক বছরে জ্বালানির অস্থিতিশীল বাজারের কারণে ইউনাইটেড, ডেল্টা এবং সাউথওয়েস্টের মতো এয়ারলাইন্সগুলোও তাদের ফি বাড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের আগে এর দাম ছিল প্রতি গ্যালন ২.৩৯ ডলার, যা বর্তমানে ৪.৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   তবে ট্রাভেল বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম কমলেও বর্ধিত এই ব্যাগেজ ফি সম্ভবত আর কমানো হবে না।   সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসা পুনর্গঠনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে জেটব্লু। চলতি মাসেই তারা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য 'ভার্জিন ভয়েজেস'-এর সঙ্গে 'ডু নট ডিস্টার্ব' নামের একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যেখানে দুই জনের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২,৭৫০ ডলার। অন্যদিকে, নিজেদের ব্যবসায়িক মুনাফা বাড়াতে গত জুনে নেওয়ার্ক ও লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকে নিজেদের প্রধান কার্যক্রম গুটিয়ে ফ্লোরিডায় সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।   তবে এসবের বাইরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি চালিয়ে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে টিকিটের দাম নির্ধারণ বা 'সার্ভেইল্যান্স প্রাইসিং' করার অভিযোগে সম্প্রতি এয়ারলাইন্সটির বিরুদ্ধে একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:৩১
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির ক্রেতাদের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ তহবিল পাস

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির ক্রেতাদের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ তহবিল পাস, তবে সুবিধা পেতে রয়েছে শর্ত

মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সিনেটর হয়ে ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ বলে খোঁচা এল-সায়েদের

মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সিনেটর হয়ে ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ বলে খোঁচা এল-সায়েদের

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর দুর্গম পাহাড়ে নিখোঁজ দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পাহাড়ে হাইকিং এর সময় দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু, তদন্তে ভয়াবহ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুসহ দুই সন্তানকে হ ত্যা করে বাবার আ ত্মহ ত্যা
যুক্তরাষ্ট্রে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুসহ দুই সন্তানকে হ ত্যা করে বাবার আ ত্মহ ত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটসবার্গের মাউন্ট লেবানন এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে স্থানীয় একটি বহুতল পার্কিং গ্যারেজ থেকে দুই শিশু সন্তানকে নিচে ফেলে দিয়ে নিজেও ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক বাবা।   নিহতরা হলেন ৪২ বছর বয়সী প্যাট্রিক লিঞ্চ এবং তার দুই সন্তান— আট বছর বয়সী জেমস লিঞ্চ ও ছয় বছর বয়সী কন্যা ক্যারোলিন লিঞ্চ। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছালেও তিনজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। কাউন্টি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটিকে 'মার্ডার-সুইসাইড' বা হত্যা ও আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করেছে।   মাউন্ট লেবাননের পুলিশ চিফ জেসন হ্যাবারম্যান আবেগজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটিকে কোনোভাবেই নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং একটি অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে এর তদন্ত চলছে।   এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে একটি করুণ গল্প। জানা গেছে, নিহত শিশু ক্যারোলিন লিঞ্চ জন্ম থেকেই 'উইলিয়ামস সিনড্রোম' নামক একটি বিরল জিনগত বিকাশজনিত রোগে ভুগছিল, যা মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি, বুদ্ধিমত্তা এবং কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।   ২০২০ সালে মহামারির মধ্যে জন্মের পরপরই তার এই বিরল রোগ এবং হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতা ধরা পড়ে। নিহত শিশুদের মা আন্না লিঞ্চ এর আগে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রতিবন্ধকতার শিকার একটি শিশুকে বড় করে তোলার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা তাদের ছিল না, তাই শুরুতে তারা বেশ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।   তবে ঠিক কী কারণে এবং কোন মানসিক অবস্থা থেকে প্যাট্রিক লিঞ্চ তার নিজের সন্তানদের হত্যা করে এমন চরম পথ বেছে নিলেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো উদ্দেশ্য জানতে পারেনি পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটি ও স্কুলগুলোতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১২:১৫
ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক

দ্রুত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পাচ্ছে ২৩ দেশের নাগরিক, বাংলাদেশীদের জন্য দুঃসংবাদ

ছবি: শাজিয়া হক, মন্টেবেলো সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী। (সংগৃহীত)

নির্বাচনে জয় আসেনি, তবুও দমে না যাওয়ার প্রত্যয় বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী শাজিয়া হকের

যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান নাগরিকদের পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

আটক আফগানদের দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা আদালতে স্থগিত

0 Comments