নতুন আমদানি শুল্ক ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ ঘোষিত আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে একযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে আগের শুল্কনীতির আইনি ভিত্তি বাতিল হওয়ার পর প্রশাসন নতুন নামে একই ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছে, যা আইনসম্মত নয়।
সোমবার দায়ের করা মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউস নতুন শুল্ক আরোপের যে আইনি যুক্তি দেখিয়েছে, তা মূলত আগের বাতিল হওয়া নীতিকে ভিন্ন উপায়ে কার্যকর করার প্রচেষ্টা।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বে আরোপ করা অনেক শুল্কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আইনি ভিত্তি প্রেসিডেন্টকে ওই ধরনের কর আরোপের ক্ষমতা দেয় না। সেই রায়ের পরই নতুন শুল্ক ঘোষণাকে ঘিরে আইনি বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও প্রশাসন আবারও পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে নতুন করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।”
গত মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউস নতুন শুল্কের ঘোষণা দেয়। প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যায্য আচরণ এবং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রেসিডেন্টের বিদ্যমান ক্ষমতার আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। তাই বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী আরোপিত শুল্ক বৈধ এবং প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদ থেকেই এটি কার্যকর ও টেকসই একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্কের হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর প্রযোজ্য হবে, যেগুলো মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ সরবরাহ করে।
নতুন ব্যবস্থায় কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো ও তাইওয়ানের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
এটি নতুন শুল্ককে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা নয়। গত ২৩ জুলাই শুল্ক ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও পৃথক দুটি মামলা করে। সেসব মামলায়ও অভিযোগ করা হয়, নতুন শুল্ক কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং হোয়াইট হাউস ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, কীভাবে এই ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে জোরপূর্বক শ্রম কমাতে কার্যকর হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াই শুধু শুল্ক নীতির বৈধতাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য-সংক্রান্ত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি কার্যকর থাকবে কি না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট এলাকায় আকাশে দুটি গ্লাইডার বিমানের সংঘর্ষে এক পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সারাটোগা কাউন্টির এডিনবার্গ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর একটি গ্লাইডার নিরাপদে বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারলেও অন্যটি প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৬ মিনিটের দিকে এডিনবার্গের হুইলার রোডের কাছে দুই উড়োজাহাজের সংঘর্ষের খবর পায় কর্তৃপক্ষ। এলাকাটি গ্রেট স্যাকানডাগা লেকের কাছাকাছি এবং সারাটোগা স্প্রিংস থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে। সংঘর্ষের পর একটি গ্লাইডার কাছের প্লেটু স্কাই র্যাঞ্চ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ওই গ্লাইডারের পাইলট আহত হননি। তবে সংঘর্ষে বিমানটির সামনের অংশে কিছুটা ক্ষতি হয়। বিমানবন্দরের মালিক এলেইন ওয়েড দ্য টাইমস ইউনিয়নকে জানিয়েছেন, পাইলট দুর্ঘটনায় মানসিকভাবে বিচলিত হলেও শারীরিকভাবে নিরাপদ ছিলেন। অন্য গ্লাইডারটি সংঘর্ষের পর একটি দুর্গম ও ঘন বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। সেটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেতে উদ্ধারকারী দলকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালাতে হয়। বিকেল প্রায় ৪টা ৫৪ মিনিটে স্যান্ড লেক রোডের কাছের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেখানে পৌঁছে একমাত্র আরোহী পাইলটকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত পাইলটের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার পর পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযানে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের বিমান ইউনিট, স্টেট ফরেস্ট রেঞ্জার, সারাটোগা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়সহ স্থানীয় বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা অংশ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপদে অবতরণ করা গ্লাইডারের পাইলটও পরে অন্য গ্লাইডারটির সন্ধানে সহায়তা করতে আকাশে ফিরে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি গ্লাইডারের একটি ছিল Schempp-Hirth Ventus-2B এবং অন্যটি Schleicher ASW-24 বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)। গ্লাইডার সাধারণত ইঞ্জিনবিহীন উড়োজাহাজ, যা বায়ুর উত্থান ও অন্যান্য বায়ুগত শক্তি কাজে লাগিয়ে আকাশে অবস্থান করে। এখন পর্যন্ত কী কারণে দুটি গ্লাইডার আকাশে সংঘর্ষে জড়াল, তা জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেউ থাকলে তাদের ৫১৮-৪৫৭-৬৮১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ABC News, The Times Union
আইসিইর অভিযানের ভয়ে ২৯ স্কুলে ১,৭০০ শিক্ষার্থী কমেছে, জানালেন শিক্ষকরা
মিশিগানে গর্ভবতী মায়েদের নগদ সহায়তা নিয়ে রিপাবলিকানদের আপত্তি
নিউইয়র্কে তুষার পরিষ্কার কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে ৩০ ডলার করলেন মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম মেয়াদে গঠিত স্পেস ফোর্সের আদলে কাজ করবে। একই সঙ্গে এআই কার্যক্রমের জন্য একজন নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নতুন এআই ফোর্সের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশের ওপর নজর রাখা হবে। তবে নতুন বাহিনীটি ঠিক কোন দপ্তরের অধীনে থাকবে, এর বাজেট কত হবে বা এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। ট্রাম্প নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাক্স ট্রাম্প প্রশাসনের এআই ও ক্রিপ্টো ‘জার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন। নতুন উদ্যোগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। ট্রাম্প কয়েক দিন আগে এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগকে ‘হোক্স’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু নেতা উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। ট্রাম্পের ঘোষণায় এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এআইকে বাধাগ্রস্ত না করে এর বিকাশে সহায়তা করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে চীন ও বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রাখতে চান। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। জুনে হোয়াইট হাউস জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উন্নত এআই দ্রুত ব্যবহারের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ‘এআই ফোর্স’ ঘোষণার পরও এর বাস্তব কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। এটি স্পেস ফোর্সের মতো একটি স্বতন্ত্র সামরিক শাখা হবে, নাকি প্রশাসনের অধীনে একটি নতুন সমন্বয়কারী বা তদারকি কাঠামো হবে—এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো বিস্তারিত জানাননি। ফলে ঘোষণাটি আপাতত একটি নতুন ফেডারেল উদ্যোগের পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে। এদিকে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ট্রাম্প বলেছেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা তার প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন ‘এআই ফোর্স’ ও এআই ‘জার’ নিয়োগের মাধ্যমে সেই নীতিকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতগামী ফ্লাইটে অহেতুক হুইলচেয়ারে যাত্রীর ভিড়
অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে আপত্তির সুযোগ দিতে হবে: মার্কিন আদালত
ট্রাম্পের হাত থেকে কেনেডি সেন্টার বাঁচাতে মানববন্ধন, হাতে হাত রাখলেন শত শত মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশের পরিবর্তে আফ্রিকার দেশে বহিষ্কারের পর আইনি অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কয়েকজন লাতিন আমেরিকান অভিবাসী। তাদের কয়েকজনের দাবি, গন্তব্য দেশ সম্পর্কে তাদের আগে জানানো হয়নি এবং সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তাদের হাতে ছিল না। এ অবস্থাকে একজন অভিবাসী বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবার ৩২ বছর বয়সী ইয়াসমানি মোরেনো দে আরমাস প্রায় ১০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। মিয়ামিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পাশাপাশি তিনি একটি মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় কাজ করছিলেন। অ্যাসাইলামের মাধ্যমে বৈধ অবস্থান পাওয়ার চেষ্টা চলার মধ্যেই গত মে মাসে তাকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে রাখার পর তাকে লুইজিয়ানার একটি কেন্দ্র থেকে বিমানে তোলা হয়। মোরেনোর ভাষ্য, বিমানে ওঠার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পাঠানো হচ্ছে। প্রথমে তিনি বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারেননি। তার মতো আরও কয়েকজন লাতিন আমেরিকান অভিবাসীকেও একইভাবে সেখানে পাঠানো হয়েছে। এই ধরনের বহিষ্কারকে ‘থার্ড-কান্ট্রি ডিপোর্টেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ কোনো অভিবাসীকে তার নিজ দেশের পরিবর্তে এমন একটি তৃতীয় দেশে পাঠানো, যার সঙ্গে তার নাগরিকত্ব বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এ ধরনের তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে। আফ্রিকার দেশ হিসেবে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ছাড়াও লাইবেরিয়া, ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশকে তৃতীয় দেশের গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের সুযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়ার পরিধি বাড়ানো এবং অনেক ক্ষেত্রে অল্প সময়ের নোটিশে অভিবাসীদের পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পাঠানো আরেক কিউবান অভিবাসী অ্যারিস্টিদেস ফার্নান্দেজ গার্সিয়া জানান, তাদের কাছে সেখানে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা বা কাগজপত্র নেই। তার দাবি, তারা দেশটির বাইরে যেতে পারছেন না। নিজের পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’ এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস বলেছে, মোরেনো ও এবিসি নিউজের সঙ্গে কথা বলা অন্য অভিবাসীদের একটি নিরাপদ দেশে পাঠানো হয়েছে এবং সরকার আইন অনুযায়ী কাজ করছে। ফলে অভিবাসীদের অভিযোগ এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের প্যানেল রায় দেয়, কোনো অভিবাসীকে তার সঙ্গে সম্পর্কহীন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত নোটিশ দিতে হবে এবং সেখানে নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে তা চ্যালেঞ্জ করার অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। আদালত ডিএইচএসের দ্রুত তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। আদালতের মতে, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে তা না জানিয়ে তাকে আপত্তি জানানোর সুযোগ না দিলে সেই ব্যক্তির নিপীড়নের আশঙ্কা তুলে ধরার আইনি অধিকার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। তবে ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং আদালতের রায়টি আরও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে। তৃতীয় দেশে বহিষ্কার নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার মতো তৃতীয় দেশে পাঠানো অভিবাসীদের ক্ষেত্রে গন্তব্য দেশ সম্পর্কে আগাম নোটিশ, নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ এবং সেখানে পৌঁছানোর পর আইনি অবস্থান—এই তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।
সান দিয়েগো মসজিদে হামলার পর হামলাকারীর আত্নহত্যা! এক বছর ছিলেন পুলিশের নজরে
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারলেন না সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা