যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নিউপোর্টে এক শিক্ষিকাকে নিজের দুই দত্তক কিশোর পুত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকার নাম অ্যাম্বার সোয়েইন। তার বিচ্ছিন্ন স্বামী ওই শিক্ষিকা এবং এক দত্তক পুত্রের মধ্যকার কিছু আপত্তিকর খুদে বার্তা (টেক্সট মেসেজ) কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে এই গুরুতর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সোয়েইন তার ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই দত্তক পুত্রের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এক কিশোর জানায়, গত ডিসেম্বর মাস থেকে তার সঙ্গে সোয়েইনের এই সম্পর্ক শুরু হয়, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। সে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করে যে, তাদের মধ্যে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, অপর এক কিশোর তদন্তকারীদের জানিয়েছে, মায়ের বিছানায় ঘুমানোর এক পর্যায়ে তাদের মধ্যেও আপত্তিকর ঘটনা ঘটে এবং এক ভাই অন্য ভাইয়ের ঘরে মায়ের উপস্থিতি দেখে সন্দেহও পোষণ করেছিল। ফাঁস হওয়া মেসেজেও এক কিশোর পুনরায় মায়ের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। যদিও সোয়েইন প্রথমদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ঘুমের ঘোরের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে পরবর্তীতে তদন্তকারীদের জেরার মুখে তিনি ফেব্রুয়ারি থেকে এক কিশোরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।
অ্যাম্বার সোয়েইন পেশায় পেন্ড ওরেইল রিভার স্কুলের একজন শিক্ষিকা ছিলেন এবং ফস্টার শিশুদের সহায়তাকারী 'স্পোকেন অ্যাঞ্জেলস' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। জানা গেছে, ২০১৭ সালে নিজের ক্লাসরুমের এক শিশু শিক্ষার্থীকে তিনি প্রথম দত্তক নিয়েছিলেন।
অভিযোগ সামনে আসার পর ওয়াশিংটনের শিশু, যুব ও পরিবার বিভাগের কাছে টেক্সট মেসেজের প্রমাণ হস্তান্তরের ভিত্তিতে গত ২ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে। গত ৮ জুন আদালতে সোয়েইন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ৬ অক্টোবর এই মামলার বিচারকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ আবহাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে শক্তিশালী ঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন আগেই টর্নেডো, ধ্বংসাত্মক বাতাস এবং বড় আকারের শিলাবৃষ্টির কারণে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফক্স ফোরকাস্ট সেন্টার শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চল, ইলিনয়সের উত্তরাঞ্চল এবং ইন্ডিয়ানার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য চরম ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে, যেখানে আকস্মিক বন্যা এবং শক্তিশালী টর্নেডোর আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি, আইওয়া এবং ইলিনয়সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস ‘সিভিয়ার থান্ডারস্টর্ম ওয়াচ’ বা গুরুতর বজ্রঝড়ের সতর্কতাও জারি করেছে। গত সপ্তাহে একই অঞ্চলে ইএফ-০ থেকে ইএফ-৩ মাত্রার বেশ কয়েকটি টর্নেডো আঘাত হানে। ধ্বংসাত্মক বাতাসের তাণ্ডবে বহু বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গিয়ে হাজার হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। চলতি বছরের মার্চে দুর্যোগপূর্ণ মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে এই এলাকাগুলো লাগাতার প্রকৃতির রুদ্ররোষের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে ইলিনয়স অঙ্গরাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং এ বছর দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি টর্নেডো এখানেই আঘাত হেনেছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিক্ষিপ্ত কিছু ঝড়ের পর বুধবার একটি নিম্নচাপ সিস্টেম আরও শক্তিশালী হয়ে মধ্যপশ্চিমাঞ্চল থেকে গ্রেট লেকসের দিকে অগ্রসর হওয়ার কারণে আবহাওয়া চরম বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে। স্টর্ম প্রেডিকশন সেন্টার ইলিনয়সের উত্তর-মধ্যাঞ্চল এবং ইন্ডিয়ানার পশ্চিমাঞ্চলে ৫ মাত্রার মধ্যে ৪ মাত্রার গুরুতর ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, কানসাস সিটি থেকে সেন্ট লুইস হয়ে শিকাগো পর্যন্ত ৩ মাত্রার এবং কানসাস থেকে লুইসভিলে, ইন্ডিয়ানাপোলিস ও কলম্বাস পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ২ মাত্রার সতর্কতা বহাল রয়েছে। ফক্স ফোরকাস্ট সেন্টারের মতে, আবহাওয়ার এই চরম বিপর্যয় দুটি পর্যায়ে আঘাত হানতে পারে। প্রথম ধাপে সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে ধ্বংসাত্মক বাতাস ও ২.৫ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এরপর বিকেলের দিকে বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে দ্বিতীয় ধাপের তাণ্ডব শুরু হবে। শক্তিশালী ‘উইন্ড শিয়ার’ বা বায়ুপ্রবাহের কারণে এই সময়ে দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ টর্নেডো (ইএফ-৩ বা তার চেয়ে শক্তিশালী) তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সন্ধ্যার দিকে এই ঝড়গুলো একীভূত হয়ে ঘণ্টায় ৭৫ মাইলের বেশি বেগে ধ্বংসাত্মক বাতাস নিয়ে পুরো অঞ্চলে তাণ্ডব চালাতে পারে। একই সঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে এবং উত্তর ইলিনয়স থেকে দক্ষিণ মিশিগান পর্যন্ত বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়াইনে মুলিন প্রকাশ্যে নিউইয়র্কবাসীর উদ্দেশে “বোধোদয়” হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে মেয়র মামদানিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ১১ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং “স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি” নীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুলিন মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি তাকে “র্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্ট”, “পুলিশবিরোধী” এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিকারী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। মুলিন বলেন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ দেশের অন্যতম দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হলেও তাদের এমন একজন নেতা রয়েছে, যিনি তাদের কাজের পরিধি সীমিত করে দিচ্ছেন। তার ভাষায়, “এনওয়াইপিডির সদস্যরা তাদের কাজ করতে চান, কিন্তু তাদের এমন একজন নেতা রয়েছে যিনি তাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন।” তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্কবাসী আগামী কয়েক বছরের মধ্যে “প্রকৃত নেতৃত্ব” বেছে নেবে বলে তিনি আশা করেন। মুলিনের এই মন্তব্যকে শুধু প্রশাসনিক সমালোচনা হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মেয়র মামদানির মধ্যে অতীত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে দুই পক্ষের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প ওভাল অফিসে মামদানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সহযোগিতার সুযোগ দিয়েছিলেন, তবে বৈঠকের পর মামদানির অবস্থান ভিন্ন দিকে যায়। অন্যদিকে মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ওই বৈঠকের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পকে “ফ্যাসিস্ট” বলে উল্লেখ করেন এবং একই সঙ্গে নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোসহ কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ থাকার কথাও বলেন। অভিবাসন নীতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। মামদানি দীর্ঘদিন ধরে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন এবং সংস্থাটির ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আইস-এর ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পক্ষে। এর আগেও মুলিন অভিযোগ করেছিলেন যে মেয়র মামদানির অভিবাসন নীতি নিউইয়র্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তবে মামদানির সমর্থকরা বলছেন, তিনি অভিবাসী সম্প্রদায়, শ্রমজীবী মানুষ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। তাদের মতে, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ মূলত অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার এবং স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে মতপার্থক্যের প্রতিফলন। নিউইয়র্কের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বাক্যবিনিময় কেবল ব্যক্তিগত বা দলীয় দ্বন্দ্ব নয়, বরং ফেডারেল সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নিউইয়র্ক সিটির প্রগতিশীল প্রশাসনের মধ্যে বৃহত্তর আদর্শিক সংঘাতের প্রকাশ। আগামী দিনে অভিবাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং ফেডারেল-স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার প্রশ্নে এই বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি, যিনি প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত এবং একই সঙ্গে রক্ষণশীল মহলের সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদের রিপাবলিকান প্রার্থী ভিক্টর মার্ক্সের নির্বাচনী তহবিলে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ অনুদান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে নিজেকে নির্বাচনী দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে দাবি করলেও এখন তাকে হাজার হাজার ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কলোরাডোর রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কর্মী ডার্সি শোয়েনিং গত ৮ মাস ধরে ভিক্টর মার্ক্সের নির্বাচনী প্রচারণার শত শত পাতার আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই জালিয়াতি উন্মোচন করেছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি এককভাবে সর্বোচ্চ ১,৪৫০ ডলার অনুদান দিতে পারেন। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, ১৫২ জন দাতা নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ডলার বেশি অর্থ দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন দাতা সীমা লঙ্ঘন করে একাই ৬,০০০ ডলার দিয়েছেন এবং অপর এক দাতা চার বছর আগে মারা গেলেও তার নাম ব্যবহার করে ২,০০০ ডলার অনুদান দেখানো হয়েছে। ডার্সি শোয়েনিং এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই মার্ক্সের প্রচারণামূলক দল ৮৫টি অবৈধ অনুদানের বিষয়টি স্বীকার করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া বা যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে তাদের জীবনসঙ্গীর নামে সংশোধন করার কাজ শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী এই অবৈধ টাকা তারা নিজের কাছে রাখতে পারবে না। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সংগৃহীত তহবিলের সিংহভাগ টাকাই ভোটারদের পেছনে খরচ না করে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত বিলাসিতায় উড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে পরামর্শক ফি বাবদ ৮ লাখ ৬৬ হাজার ডলার, নতুন পোশাক কেনাকাটায় ১ লাখ ১২ হাজার ডলার, বিমান টিকিট ও হোটেলে ২৮ হাজার ডলার এবং আরও অর্থ তোলার প্রচারণায় ১৩ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছে। এছাড়া গত মাসে জমাদিয়া প্রতিবেদনে একই নাম ও ঠিকানার ভিন্ন ভিন্ন শহরের হাজার হাজার ভুয়া দাতার তালিকাও পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে তারা প্রত্যাহার করে নেয়। রিপাবলিকান দলের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় ১৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তর জানিয়েছে, ভুল সংশোধনের জন্য প্রার্থীকে আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পুরোপুরি প্রমাণিত হলে ভিক্টর মার্ক্সকে ২ লাখ ১৬ হাজার থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে, যা বর্তমানে তার ব্যাংকে থাকা মোট তহবিলের চেয়েও অনেক বেশি। ভিক্টর মার্ক্সের মুখপাত্র অবশ্য এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের প্রচারণা দল সমস্ত নির্বাচনী আর্থিক আইন মেনে চলেছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তরের সাথে কাজ করছে। কলোরাডোর গভর্নর পদের দলীয় মনোনয়নের জন্য ভিক্টর মার্ক্স ছাড়াও আরও দুই রিপাবলিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।