আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ছাত্রীদের চুম্বনে বাধ্য করার অভিযোগে শিক্ষিকা বরখাস্ত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১৩:৫২
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে শ্রেণিকক্ষে নাটকে অভিনয়ের সময় শিক্ষার্থীদের একে অপরকে চুম্বন করতে বাধ্য করার অভিযোগে জেনিফার হোনকা নামের এক ফরাসি ভাষার শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই অভিনয়ের ওপর ক্লাসের গ্রেড বা নম্বর নির্ভর করায় তারা বাধ্য হয়েই এতে অংশ নিতেন। সম্প্রতি ডেনভার পাবলিক স্কুলস বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

 

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ মে স্কুল বোর্ডের সদস্যরা ৭-০ ভোটে নর্থইস্ট আর্লি কলেজের ওই শিক্ষিকাকে 'অযোগ্যতা এবং দায়িত্বে অবহেলার' দায়ে বরখাস্ত করেন। ৩০ এপ্রিলের একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ওই শিক্ষিকা অভিনয়ের সময় সমলিঙ্গের শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদেরই চুম্বনের জন্য বেশি চাপ দিতেন। এক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষিকার নির্দেশে বাধ্য হয়ে অন্য এক ছাত্রীকে চুম্বন করার পর তিনি মানসিকভাবে চরম অস্বস্তিতে পড়েন এবং তার স্কুলে উপস্থিতির হারও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

 

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ওই শিক্ষিকাকে নিয়ে ‘তিনি মেয়েদের চুম্বন করতে বাধ্য করেন’—এমন ক্যাপশন যুক্ত একটি মিমও ছড়িয়ে পড়ে।

 

তদন্তে আরও দেখা যায়, ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় সমান থাকা সত্ত্বেও অভিনয়ের জন্য শিক্ষিকা সবসময় মেয়েদেরই বেছে নিতেন। গ্রেড বা নম্বরের ভয় থাকা সত্ত্বেও এক ছাত্রী এই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শূন্য নম্বর দেওয়া হয়। অভিনয়ের জন্য শিক্ষিকা ‘দ্য নেইবারস সও এভরিথিং’ এবং ‘দ্য বোরিং কিস’ নামের রোমান্টিক চিত্রনাট্য ব্যবহার করতেন।

 

শিক্ষার্থীদের অভিনয়ে রাজি করাতে তার ক্লাসে একটি অলিখিত নিয়ম ছিল যে, যেকোনো নির্দেশেই 'হ্যাঁ' বলতে হবে। একাধিক শিক্ষার্থী এই অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ নিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের দ্বারস্থ হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে।

 

এর পাশাপাশি, হোনকা ক্লাসে তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা সংবেদনশীল তথ্য, যেমন—উর্বরতা সমস্যা, আত্মহত্যার প্রবণতা এবং শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শেয়ার করতেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বাস স্থাপনের জন্যই তিনি এগুলো বলতেন এবং সরাসরি কাউকে চুম্বনে বাধ্য করেননি; তবে প্রশাসনিক আইন বিচারক কিথ জে. কিরচুবেল তার রায়ে জানান, শিক্ষিকার এমন আচরণ ছিল সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অনুচিত।

 

ডেনভার পাবলিক স্কুলসের মুখপাত্র স্কট প্রিবল জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবেগ ও মানসিক সুস্থতা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এ কারণেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডোনাল্ড ট্রাম্প
' ব্রিটেন আসলে দেউলিয়া' উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরামর্শ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে ‘দেউলিয়া দেশ’ আখ্যা দিয়ে উত্তর সাগরে (নর্থ সি) তেল ও গ্যাস উত্তোলন আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, উত্তর সাগরের জ্বালানি সম্পদ আরও বেশি কাজে লাগাতে পারলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নীতি ও জলবায়ু ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যের উচিত উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা। তার ভাষ্য, অতিরিক্তভাবে বায়ুশক্তির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো হলে ব্রিটেন অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম এ বিষয়ে বাস্তববাদী অবস্থান নেবেন।    তবে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, সরকার উত্তর সাগরের বিদ্যমান তেল ও গ্যাস সম্পদের ব্যবহার নিয়ে ‘বাস্তববাদী’ নীতি অনুসরণ করবে। তবে তিনি নতুন অনুসন্ধান লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি। বরং লেবার পার্টির পূর্বঘোষিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান প্রকল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।    উত্তর সাগরের জ্বালানি সম্পদ নিয়ে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। একদিকে জ্বালানি শিল্প ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো নতুন প্রকল্প অনুমোদনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি, এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, দেশীয় জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। অন্যদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, নতুন তেল-গ্যাস প্রকল্প অনুমোদন যুক্তরাজ্যের জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।    ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, উত্তর সাগরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদ রয়েছে। তবে জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে পরিমাণ সম্পদের কথা বলেছেন, তা বিদ্যমান শিল্প মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমান উৎপাদন ও মজুতের ভিত্তিতে উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা সীমিত এবং আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।    বার্নহাম সরকারের জন্য বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চাপ রয়েছে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে উত্তর সাগরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও পরিবেশ নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৬:৩০
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের

ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা

ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা, ‘এখনই চুক্তি না হলে সুযোগ শেষ’

নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা

নিউইয়র্কে এখন নিজের মৃত্যুর সিদ্ধান্তও নেওয়া যাবে? নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা

নতুন বিতর্কে মুখ খুললেন নিউইয়র্কের মামদানি
আমেরিকায় বাজার করতে কি আইডি লাগবে? নতুন বিতর্কে মুখ খুললেন নিউইয়র্কের মামদানি

নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী মূল্যের সরকারি মুদির দোকানে কেনাকাটায় পরিচয়পত্র লাগবে কি না—এ প্রশ্নকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, প্রস্তাবিত শহর-পরিচালিত মুদির দোকানে কেনাকাটার জন্য কোনো পরিচয়পত্র, বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ বা আয়ের তথ্য দেখাতে হবে না। দোকানগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।    বিতর্কের সূত্রপাত হয় নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির পরিকল্পিত সরকারি মুদির দোকান প্রকল্প নিয়ে। সমালোচকদের একটি অংশ দাবি করেন, ভোটার পরিচয়পত্রের বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা করলেও মুদির দোকানে পরিচয়পত্র চাওয়া হবে। তবে সিটি হল জানিয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়।    কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানগুলোতে একটি স্বেচ্ছাসেবী সেভিংস কার্ড বা ছাড় কার্ড কর্মসূচি থাকতে পারে, যা মূলত পণ্য মজুত ও অতিরিক্ত পরিমাণে কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। এই কার্ড নিতে নিউইয়র্কের বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণও লাগবে না এবং কারও কেনাকাটার জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়।   মেয়র মামদানি প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের পাঁচটি সরকারি মুদির দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি নির্ধারিত তালিকা বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হবে। প্রথম দোকানটি ২০২৭ সালে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   এদিকে বিরোধীরা বিষয়টিকে ভোটার পরিচয়পত্র বিতর্কের সঙ্গে তুলনা করে রাজনৈতিক সমালোচনা চালিয়ে গেলেও, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন পুনরায় জানিয়েছে মুদির দোকানে কেনাকাটার জন্য কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে হবে না এবং বাসিন্দা, আয় বা পরিচয় যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৪:৩
ইন-এন-আউট কর্মীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার

কাজে গিয়েই আর ফেরা হলো না, ইন-এন-আউট কর্মীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার

গ্রিন কার্ড পেলেই কি বাবা-মাকে আমেরিকায় আনা যায়

গ্রিন কার্ড পেলেই কি বাবা-মাকে আমেরিকায় আনা যায়? অনেক প্রবাসীরই অজানা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

ডি.সিতে ঘণ্টায় ১৮.৪০$, টেক্সাসে এখনো ৭.২৫$

একই আমেরিকায় এত বেতনের পার্থক্য কেন? ডি.সিতে ঘণ্টায় ১৮.৪০$, টেক্সাসে এখনো ৭.২৫$

বন্ধ হতে যাচ্ছে কানাডা, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিদেশি কূটনৈতিক কার্যালয়
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ! বন্ধ হতে যাচ্ছে কানাডা, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিদেশি কূটনৈতিক কার্যালয়

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কানাডা, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ক্যামেরুন ও গ্রেনাডায় অবস্থিত পাঁচটি কূটনৈতিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনা করেছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়েছে বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতি কমানোর অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, কানাডার উইনিপেগ, জাপানের নাগোয়া, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, ক্যামেরুনের দৌয়ালা এবং গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেসে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক কার্যালয়গুলো বন্ধ করা হতে পারে। এর মধ্যে সেন্ট জর্জেসে একটি দূতাবাস, উইনিপেগ, নাগোয়া ও মেদানে কনস্যুলেট এবং দৌয়ালায় একটি দূতাবাসের শাখা কার্যালয় রয়েছে।    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে সরকারি ব্যয় কমানো এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যয়বহুল বিদেশি মিশনগুলো বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।    তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। সাবেক কূটনীতিক, জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ডেমোক্র্যাট নেতাদের একটি অংশের আশঙ্কা, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমে গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির প্রভাব দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো তাদের প্রভাব বিস্তারের আরও সুযোগ পেতে পারে।    এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কার্যালয় বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকর ও দক্ষ করতে তারা নিয়মিত মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে অবহিত করার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।    গত বছরও ট্রাম্প প্রশাসন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিভিন্ন ব্যুরো পুনর্গঠন এবং শতাধিক পদ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সে সময় কোনো বিদেশি কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করা হয়নি। বর্তমান পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১:২১
৬.৬৬% সুদে ৪ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বাড়ি কিনতে কত টাকা আয় প্রয়োজন

মর্টগেজ হিসাব: ৬.৬৬% সুদে ৪ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বাড়ি কিনতে কত টাকা আয় প্রয়োজন

এআই কি আগেই বলে দেবে কে হতে পারে পরবর্তী অপরাধী?

এআই কি আগেই বলে দেবে কে হতে পারে পরবর্তী অপরাধী? এফবিআইয়ের নতুন উদ্যোগ

আমেরিকায় বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি খোঁজার সহজ গাইড

আমেরিকায় বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি খোঁজার সহজ গাইড

0 Comments